Category: গণমাধ্যম

  • নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি

    নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শিগগিরই দেশব্যাপী সচেতনতামূলক কর্মসূচি

    নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সরকার শিগগিরই দেশব্যাপী একটি সচেতনতামূলক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে। এই সামাজিক ব্যাধি দমনে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তোলা অপরিহার্য বলে মনে করছে সরকার।

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বাসস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো একটি চলমান প্রক্রিয়া, তবে মাঝেমধ্যে এই কার্যক্রমকে আরও জোরদার করতে হয়। মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব আমাদেরই।’

    তিনি আরও বলেন, মাদক, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও ভূমিদস্যুতার পাশাপাশি নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধেও সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

    সম্প্রতি দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করা নারী ও শিশু নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনার উল্লেখ করে ডা. জাহিদ বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় শিগগিরই জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করবে।

    তিনি জানান, ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে, এই কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সামাজিক সংগঠন, বিভিন্ন খাতের পেশাজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদেরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

    একই সঙ্গে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়েরও দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী ডা. জাহিদ জোর দিয়ে বলেন, এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়।

    তিনি সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক মূল্যবোধ শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

    মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মানুষকে আইন সম্পর্কে সচেতন করা, তাদের অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানানো ও কোনটা ভালো আর কোনটা মন্দ সে বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া জরুরী।’

    নারী নির্যাতন, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধের বিরুদ্ধে জনমত গঠনে গণমাধ্যমকে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

    সাংবাদিক ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি বলেন, ‘মূলধারার গণমাধ্যমের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও সচেতনতামূলক প্রচার কার্যক্রমকে জোরদার করতে হবে।’

    বিদ্যমান আইনি কাঠামোতে কোনো দুর্বলতা রয়েছে কি না- জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. জাহিদ বলেন, দেশের আইনগুলো মোটামুটি যথেষ্ট, তবে এটি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ই এখন বড় উদ্বেগের বিষয়।

    তিনি আরও বলেন, ‘আইনি কাঠামোতে বড় কোনো দুর্বলতা নেই। মূল সমস্যাগুলো রয়েছে আইন প্রয়োগ, মানুষের মানসিকতা ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্যে।’

    মানুষের মানবিকতাবোধ, ন্যায়বিচার ও সামাজিক দায়বদ্ধতা জোরদার করতে নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার আরও প্রসারের ওপরও জোর দেন তিনি।

    মন্ত্রী আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ করা কেবল কোনো একক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়, এর জন্য সরকার, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রয়োজন।

    তিনি বলেন, ‘একমাত্র ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টাই নারী ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে পারে।’

    এদিকে, শিশু রামিসাকে নির্মমভাবে হত্যার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা করেছেন যে আগামী এক মাসের মধ্যে রামিসার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

    তিনি বলেন, সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারীর ওপর সহিংসতা বরদাশত করবে না।

    প্রধানমন্ত্রী জাতীয় জীবনে দেশের দীর্ঘদিনের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

  • প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানের প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জাপানের অন্যতম বৃহৎ ট্রেডিং ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর একটি প্রতিনিধিদল।

    আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

    মিতসুই বৈশ্বিক পর্যায়ে লজিস্টিকস, অবকাঠামো, ধাতু, জ্বালানি ও খাদ্য বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে কার্যক্রম পরিচালনা করে।

    বৈঠকে খাদ্য, কৃষি, জ্বালানি ও তথ্যপ্রযুক্তিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সরকার প্রতিনিধিদলকে জানায়, বর্তমান সরকার বিনিয়োগবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও সম্প্রসারণে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দেবে।

    পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের জন্য ব্যবসা পরিচালনা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সেবা ‘ওয়ান-স্টপ সার্ভিস’-এর আওতায় একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। এর ফলে বিনিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত ও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

    সাক্ষাৎকালে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান এবং অর্থ সচিব মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন।

    মিতসুই প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানটির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মাকাতো সাতো।

    প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন, এশিয়া প্যাসিফিক বিজনেস ইউনিটের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার তাকানোবু মুরায়ামা, মিতসুই বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারপারসন কেনইচিরো কাওয়ামোতো এবং ঢাকা শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান।

  • জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আস্থা পুনর্গঠন ও সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার খলিলুর রহমানের

    জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের নবনির্বাচিত সভাপতি ড. খলিলুর রহমান সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য তৈরি ও জাতিসংঘের অভ্যন্তরে সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।

    এ বিশ্ব সংস্থাটি’র আগামী অধিবেশনের জন্য একটি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি এই প্রতিশ্রুতি দেন।

    গতকাল নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাধারণ পরিষদের আগামী ৮১তম অধিবেশনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কারণ এই অধিবেশনে সাধারণ পরিষদকে জাতিসংঘ সংস্কার, পরবর্তী প্রজন্মের বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডার প্রস্তুতি ও পরবর্তী মহাসচিব নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিবর্তনের মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের মুখোমুখি হতে হবে।

    পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নির্বাচনের পর নিজের প্রথম সংবাদ বিবৃতিতে ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আজ জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলো আমাকে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছে। আমি বিনম্রতা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

    ড. খলিলুর রহমান আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন বৈষম্যসহ বিশ্ব যখন বহুমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই সাধারণ পরিষদ তার কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

    এ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি ছয়টি অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র ঘোষণা করেছেন, যা তার সভাপতিত্বের মেয়াদকালে দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।

    অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রগুলো হলো: শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার; টেকসই উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন ত্বরান্বিত করা; জলবায়ু সহনশীলতা ও পরিবেশগত স্থায়ীত্ব; মানবাধিকার, মানবিক সহায়তা, শরণার্থী ও অভিবাসী; ডিজিটাল গভর্নেন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার নতুন উদ্যোগ, ইউএন-৮০ (জাতিসংঘের ৮০ বছর পূর্তি) সংস্কার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন।

    ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার এই সময়ে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার করা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন নবনির্বাচিত সভাপতি।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচিত হওয়ার পর আমি সাধারণ পরিষদকে বলেছি, আমি আস্থা পুনর্গঠন, ঐক্য গড়ে তোলা ও সদিচ্ছামূলক আলোচনার পথ উন্মুক্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করব। এর ফলে এমন ফলাফল আসবে, যা সবার জন্য কল্যাণকর হবে ও যাতে সবার অংশীদারিত্ব থাকবে।’

    নিরপেক্ষতা ও অন্তর্ভুক্তির প্রতি তার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ড. খলিলুর রহমান জানান, তিনি জাতিসংঘের সনদ সমুন্নত রাখবেন এবং এই পদের আচরণবিধি সম্পূর্ণভাবে মেনে চলে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমি সব সদস্য রাষ্ট্রের সভাপতি হব। আমার কাজের ক্ষেত্রে আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে সম্পৃক্ত করব।’

    ড. খলিলুর রহমান জানান, সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি নিজের ব্যক্তিগত মতামতকে কখনো প্রশ্রয় দেবেন না।

    মতানৈক্য সত্ত্বেও দেশগুলোর মধ্যে অভিন্ন মেলবন্ধন খুঁজে বের করার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি মতপার্থক্যগুলোকে উপেক্ষা না করেই সবার সাধারণ অবস্থান খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করব।’

    তিনি ঘোষণা করেন, তার কার্যালয় ভৌগোলিক, লিঙ্গ ও ভাষাগত ভারসাম্য বজায় রাখবে।

    এ ছাড়া, জাতিসংঘে ছোট প্রতিনিধি দলগুলোর চাহিদা পূরণে সভাপতির কার্যালয়ের ভেতরে একটি বিশেষ দল গঠনের পরিকল্পনার কথাও জানান ড. খলিলুর রহমান।

    সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত তহবিলের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ‘পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ড’-এ অনুদান দেওয়ার আহ্বান জানান।

    তিনি বলেন, ‘সভাপতির কার্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য আমি সব সদস্য রাষ্ট্রকে পিজিএ ট্রাস্ট ফান্ডে অবদান রাখার আহ্বান জানিয়েছি।’

    ড. খলিলুর রহমান আরও জানান, একটি শক্তিশালী ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের জন্য পর্যাপ্ত দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও তিনি কাজ করবেন।

    নবনির্বাচিত সভাপতি উল্লেখ করেন, তিনি সাধারণ পরিষদের সভাপতির দায়িত্বকে কোনো বিচ্ছিন্ন কাজ নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেন। বর্তমান সভাপতির শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলোকে তিনি এগিয়ে নেওয়ারও অঙ্গীকার করেন।

    জাতিসংঘের প্রতি জনগণের আস্থা বাড়াতে গণমাধ্যমের ভূমিকার কথা স্বীকার করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, এই সংস্থার অর্জন ও প্রভাবগুলো তুলে ধরার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সংবাদমাধ্যমগুলো একটি প্রধান অংশীদার হবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সংস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়ানোর একটি প্রধান উপায় হলো জাতিসংঘের মানুষের কাছে আমাদের সাফল্যের গল্পগুলো পৌঁছে দেওয়া। এই কাজ করার জন্য জাতিসংঘ কাভার সাংবাদিক সমাজই সবচেয়ে সেরা মাধ্যম।’

    তিনি তার পুরো মেয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার জন্য একটি কার্যকর যোগাযোগ দল গঠনেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

    জাতিসংঘের ১৯০টি ভোটদানকারী সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে অনুষ্ঠিত একটি গোপন ব্যালট নির্বাচনে সাইপ্রাসের প্রার্থী পেয়েছেন ৯১ ভোট। বিপরীতে ৯৯ ভোট পেয়ে সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন ড. খলিলুর রহমান।

    আগামী সেপ্টেম্বর মাসে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মাধ্যমে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতিত্ব করার গৌরব অর্জন করতে যাচ্ছেন।

  • ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল

    ক্ষমতা গ্রহণের ৩ মাসেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার : মির্জা ফখরুল

    এলজিআরডি মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সরকার প্রত্যেকটা নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

    আজ (বুধবার) দুপুরে জেলার রুহিয়া হাইস্কুল মাঠে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে এক জনাকীর্ণ গণসংবর্ধনায় তিনি একথা বলেন। উল্লেখ্য, গত ৭ মে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (এনআইসিএআর)-এর ১২০তম সভায় সরকার ‘রুহিয়া’কে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে গঠনের অনুমোদন দেয়ায় আজ এ গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

    গণসংবর্ধনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র তিন মাস হলেও এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকারের দেওয়া নানা অঙ্গীকারের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান হয়েছে। ইতোমধ্যেই ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু, ঠাকুরগাঁও বিমানবন্দর পুনরায় চালু এবং ইপিজেড নির্মাণ- ইত্যাদি উন্নয়নমূলক কাজের মধ্য দিয়ে সরকার তার সবগুলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

    মির্জা ফখরুল জানান, সরকার বিগত তিন মাসে ঠাকুরগাঁওয়ে বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৭২ কোটি টাকার উন্নয়ন সহযোগিতাও করেছে। জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে দেওয়া সকল শপথ বাস্তবায়নে দেশেজুড়ে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কাজ চালিয়ে যাবে সরকার।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ আগামী এক বছরের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে; যা এদেশের জন্য বিরল সম্মান বয়ে এনেছে। উন্নয়নের পথে বাংলাদেশ এভাবেই দৃপ্ত পদক্ষেপে অগ্রসর হতে থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, তবে এতো ভালো কাজের ভেতরেও একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র করছে- এদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে। তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে, সকল ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে আগামীর বাংলাদেশের নেতৃত্ব হাতে তুলে নিতে হবে। মাদক, আগ্রাসন, অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।

    এসময়, মির্জা ফখরুল বিএনপির জেলা সভাপতি তৈমুর রহমানসহ রুহিয়ার উন্নয়নে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে যারা অবদান রেখেছেন তাদের প্রত্যেককে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

    রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আজ এ আয়োজনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ আরও অনেকে।

    আধুনিক ঠাকুরগাঁওয়ের রূপকার হিসেবে আজ সভায় মির্জা ফখরুলকে সমাজের বিভিন্ন স্তরের ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল সংবর্ধনা দেয়া হয়।

    এর আগে, সকালে রুহিয়া চৌরাস্তার রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়টিকে অস্থায়ী রুহিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে উদ্বোধন করেন তিনি।

  • বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ইরাক

    বিশ্বকাপ দল ঘোষণা করেছে ইরাক

    গত ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে ইরাক। আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন ইরাকের হেড কোচ গ্র্যাহাম আর্নল্ড। অস্ট্রেলিয়ান এই ফুটবল ম্যানেজার ইন্টারকন্টিনেন্টাল প্লে—অফে খেলা খেলোয়াড়দের উপরই মূলত আস্থা রেখেছেন।

    দীর্ঘদিন ধরে দেশের ফুটবলের রোল মডেল অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড আয়মান হুসেইন এবারের আসরে ইরাককে নেতৃত্ব দিবেন। আক্রমনভাগে তার সাথে আরও আছে ইপসউইচ টাউনের আলি আল-হামাদি ও প্রতিভাবান তরুন প্রতিভা আলি জসিম ও ইউসেফ আমিন।

    আর্নল্ডের বিশ্বকাপ দল থেকে বড় নাম হিসেবে বাদ পড়েছেন ডিফেন্ডার ডারি নামো। সম্প্রতি এই ফুল-ব্যাক ইরাক ছেড়ে ফিনল্যান্ডের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন। ফিনল্যান্ডে তিনি জাতীয় যুব দলকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

    মধ্যমাঠে আর্নল্ডের বিবেচনায় ইউরোপীয়ান অভিজ্ঞতা সম্পন্ন খেলোয়াড়দেরই রাখা হয়েছে। যাদের মধ্যে জিদান ইকবাল ও আয়মার শের উল্লেখযোগ্য।

    সম্ভাব্য ইনজুরির বিরুদ্ধে সতর্কতার অংশ হিসেবে ট্রেনিং ক্যাম্পে গোলরক্ষক কামিল সাদিকে রেখে দিয়েছেন আর্নল্ড।

    এপ্রিলে বলিভিয়াকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ৪০ বছরের মধ্যে প্রথম বিশ্বকাপে খেলার টিকিট পায় ইরাক। গ্রুপ-আই’এ ইরাকের প্রতিপক্ষ ফ্রান্স, সেনেগাল ও নরওয়ে।

    স্কোয়াড :
    গোলরক্ষক : ফাহাদ তালিব, জালার হাসান, আহমেদ বাসিল

    ডিফেন্ডার : হুসেইন আলি, মানাফ ইউনিস, জাইদ তাহসিন, রেবিন সুলাকা, আকাম হাশেম, মার্চেস ডোস্কি, আহমেদ ইয়াহিয়া, জাইদ ইসমাইল, ফ্রান্স পুত্রোস, মুস্তাফা সাদুন

    মিডফিল্ডার : আমির আল আমারি, কেভিন ইয়াকুব, জিদান ইকবাল, আয়মার শের, ইব্রাহিম বায়েশ, আহমেদ কাসিম, ইউসেফ আমিন, মার্কো ফারাজি

    ফরোয়ার্ড : আলি জসিম, আলি আল হামাদি, আলি ইউসেফ, আয়মেন হুসেইন, মোহাম্মদ আলি।

  • চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

    চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটিতে রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং

    চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় কনটেইনার পরিচালনাকারী টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) গত মে মাসে পরিচালনার ইতিহাসে সর্বোচ্চ মাসিক কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড গড়েছে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, মে মাসে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা এনসিটির ইতিহাসে একক মাসে সর্বোচ্চ। এর মাধ্যমে টার্মিনালটি পূর্ববর্তী সব মাসিক রেকর্ড অতিক্রম করে নতুন মাইলফলক স্থাপন করেছে। এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এনসিটিতে একক মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল।

    বর্তমানে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল) বন্দর কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এনসিটি পরিচালনা করছে। মে মাস জুড়ে টার্মিনালটিতে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৮১ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।

    মোট হ্যান্ডলিং হওয়া কনটেইনারের মধ্যে ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউ ছিল আমদানি কনটেইনার এবং ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউ ছিল রপ্তানি কনটেইনার। যা আমদানি ও রপ্তানি উভয় বাণিজ্য কার্যক্রমেই উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন ঘটায়।

    চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালের ৭ জুলাই এনসিটির অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সিডিডিএল টার্মিনালটির কার্যক্রমে গতি এনেছে। জাহাজ পয়েন্ট, ডেলিভারি পয়েন্ট, অ্যাপ্রাইজ পয়েন্ট, সিএন্ডএফ শেড এবং বিভিন্ন প্রবেশ ও বহির্গমন গেটে দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের তৎপরতায় কনটেইনার খালাস ও লোডিং কার্যক্রম আরও দ্রুত ও কার্যকর হয়েছে।

    জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমানে সবচেয়ে বড় টার্মিনাল এনসিটি। প্রায় এক কিলোমিটার লম্বা এই টার্মিনালে একসঙ্গে ছোট-বড় মিলিয়ে পাঁচটি জাহাজ ভেড়ানো যায়। এই টার্মিনালে চারটি জেটি রয়েছে এবং বন্দরের মোট কনটেইনারের প্রায় অর্ধেক হ্যান্ডলিং করা হয় এই টার্মিনাল দিয়ে। এটিতে ব্যাকআপ ফ্যাসিলিটিজ হিসেবে রয়েছে উন্নত প্রযুক্তি সম্বলিত ইয়ার্ড। টার্মিনালে বন্দরের মালিকানাধীন জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠা-নামা করার জন্য রয়েছে ১৪টি গ্যান্ট্রি ক্রেন। এর পাশাপাশি কনটেইনার স্থানান্তরের যত যন্ত্র দরকার, সবই আছে টার্মিনালটিতে। এছাড়া চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থেও (জিসিবি) কনটেইনারবাহী জাহাজ পরিচালিত হয়। বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনা করছে সৌদি আরবভিত্তিক টার্মিনাল অপারেটর রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল। ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের তিনটি টার্মিনালে মোট ৩৪ লাখ ১০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে।

    নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালে সব বিনিয়োগ করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। আওয়ামী লীগ আমলে তাদের নেতাদের ব্যবহার করে কোনো প্রকার বিনিয়োগ ছাড়াই টার্মিনালটি থেকে সাইফ পাওয়ার টেক হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। দেশি কিংবা বিদেশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে তেমন সুযোগ দেওয়া হয়নি। তবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এনসিটি থেকে বিতর্কিত সাইফ পাওয়ারটেককে সরিয়ে দিয়ে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। তখন থেকে বন্দর বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন পক্ষ সরব হয়। আন্দোলনের মধ্যেই ২০২৫ সালের ৭ জুলাই থেকে এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় নৌবাহিনী পরিচালিত প্রতিষ্ঠান চিটাগাং ড্রাইডক লিমিটেডকে।

    বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং সিডিডিএলের চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এবং পেশাদারত্বের ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তাদের মতে, এই অর্জন দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করবে, বৈদেশিক বাণিজ্য সহজতর করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।