Category: প্রচ্ছদ

  • ইমনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল বাংলাদেশ

    ইমনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করল বাংলাদেশ

    অনলাইন ডেস্ক:    ডান-হাতি পেসার ইকবাল হোসেন ইমনের বিধ্বংসী বোলিংয়ে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ষোড়শ আসর জয় দিয়ে শেষ করল বাংলাদেশ।

    গতরাতে সুপার সিক্সে গ্রুপ-২’এ নিজেদের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ ৭৪ রানে হারিয়েছে জিম্বাবুয়েকে। প্রথম ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ৭ উইকেট হেরে যাওয়ায় সেমিফাইনালে খেলার স্বপ্ন ভঙ্গ হয় বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্ব থেকে যোগ হওয়া ২ ও সুপার সিক্সের ২ ম্যাচ মিলিয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে যুবারা। সেমিফাইনালে খেলতে হলে সুপার সিক্সের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ দুইয়ের মধ্যে থাকতে হত বাংলাদেশকে।

    জিম্বাবুয়ের হারারেতে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে দলীয় ২০ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ১৫ রান করে সাজঘরে ফিরেন ওপেনার রিফাত বেগ। এরপর অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের সাথে ৪০ রানের জুটি গড়ে থামেন আরেক ওপেনার জাওয়াদ আবরার। ১টি করে চার-ছক্কায় ২৫ রান করেন তিনি।

    মিডল অর্ডারে কালাম সিদ্দিকী ৮ রানে ফিরলে ৮০ রানে তৃতীয় উইকেট পতন হয় বাংলাদেশের। এ অবস্থায় দলের হাল ধরে ৭৩ রান যোগ করেন আজিজুল ও রিজান হোসেন।

    এবারের আসরে চতুর্থ ইনিংসের মধ্যে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়ে বিদায় নেন আজিজুল। ৬টি চারে ৮৭ বলে ৫৯ রান করেন তিনি। হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৪৭ রানে আউট হন রিজান।

    দলীয় ১৭৫ রানের মধ্যে আজিজুল-রিজান ফেরার পর, পরের দিকের ব্যাটারদের ছোট-ছোট ইনিংসের সুবাদে ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২৫৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় বাংলাদেশ। লোয়ার অর্ডারে আল ফাহাদ ১৩ বলে অপরাজিত ২৩ রান করেন।

    জবাবে ইমনের বোলিং তোপে ৫৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে লড়াইয় থেকে ছিটকে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইমন একাই ৪ উইকেট নেন।

    পরের দিকে আল ফাহাদের সাথে রিজান ও আজিজুলের বোলিং নৈপুন্যে জিম্বাবুয়েকে ৪৮.৪ ওভারে ১৭৯ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৭০ রান করেন অধিনায়ক সিমবারাসি মুদজেনগিরি।

    ১০ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরা হন ইমন। ফাহাদ ৩টি, রিজান ও আজিজুল ১টি করে উইকেট নেন।

    ২০২০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হবার পর টানা তিন আসরে সেমিফাইনালের গন্ডি টপকাতে পারল না বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

  • আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা লাখো মানুষের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ

    অনলাইন ডেস্ক:   নিজ দেশে দীর্ঘদিনের সংকট থেকে পালিয়ে আসা আফগানদের আশ্রয় দিয়ে আসা পাকিস্তান ও ইরান সম্প্রতি নির্বাসন জোরদার করেছে। এর ফলে লাখো মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে এমন এক দেশে ফিরতে হচ্ছে, যা তাদের ভরণপোষণ দিতেই হিমশিম খাচ্ছে। কাবুল থেকে বার্তাসংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    পরিবার-পরিজন নিয়ে কিংবা একা—যেভাবেই তারা সীমান্তে পৌঁছাক না কেন, আফগান প্রত্যাবাসনকারীদের নতুন করে জীবন শুরু করতে হচ্ছে দারিদ্র্য ও পরিবেশগত সংকটে জর্জরিত  কোনো এক দেশে।

    আফগানিস্তানে ফিরে আসা মানুষদের পরিস্থিতি ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেছে এএফপি।

    আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানায়, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ইরান ও পাকিস্তান থেকে অর্ধকোটির বেশি আফগান নিজ দেশে ফিরে এসেছেন।

    আইওএমের আফগানিস্তান কার্যালয়ের উপপ্রধান মুত্যা ইজোরা মাসকুন বলেন, এই সংখ্যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশের সমান।

    শুধু গত বছরই সীমান্ত পেরিয়ে দেশে ফিরেছেন প্রায় ৩০ লাখ মানুষ। তাদের অনেকেই কয়েক দশক কাটিয়েছেন বিদেশে।

    মাসকুন বলেন, এত বিপুল মানুষের আগমন সামাল দেওয়া যেকোনো দেশের পক্ষেই কঠিন।

    আইওএমের এক জরিপ অনুযায়ী, আফগানিস্তানে ফেরার কয়েক মাস পরও ৮০ শতাংশ মানুষের স্থায়ী বাসস্থান নেই। ১ হাজার ৩৩৯ জন অভিবাসীর ওপর জরিপটি ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে ফিরে আসা মানুষের উপর চালানো হয়।

    তারা বাধ্য হয়ে পাথর বা কাদামাটির মতো উপকরণে তৈরি অস্থায়ী ঘরে বসবাস করছেন।

    এর পর জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর গত বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ফেরা আফগানদের আবাসন পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলে।

    ১ হাজার ৬৫৮ জন প্রত্যাবাসনকারীর ওপর করা ওই জরিপে দেখা যায়, ভাড়াটিয়াদের চার ভাগের তিন ভাগই ভাড়া পরিশোধে অক্ষম। একই সঙ্গে অধিকাংশ পরিবারকে এক কক্ষে চার জন পর্যন্ত গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে।

    আইওএমের জরিপে দেখা গেছে, পাকিস্তান ও ইরান থেকে ফেরত আসা প্রাপ্তবয়স্কদের মাত্র ১১ শতাংশের পূর্ণকালীন কর্মসংস্থান রয়েছে।

    ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের প্রথম কয়েক মাসে যারা দেশে ফিরেছেন, তাঁদের গড় মাসিক আয় ছিল ২২ থেকে ১৪৭ মার্কিন ডলারের মধ্যে।

    আইওএম জানায়, প্রত্যাবাসনকারী পরিবারের অর্ধেকের বেশি স্থায়ী বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে বঞ্চিত।

    সংস্থাটি আরও জানায়, নারীপ্রধান পরিবারগুলো ‘উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ঝুঁকিতে’ রয়েছে। এসব পরিবারের প্রায় অর্ধেকই নিরাপদ পানির যোগান পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

    আফগান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত জানান, সারা দেশে প্রত্যাবাসনকারীদের মধ্যে তিন সহস্রাধিকের মধ্যে জমির প্লট বিতরণ করা হয়েছে।

    জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে সর্বোচ্চ নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া দ্রুততর করা হয়েছে।

    আফগানিস্তানে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসনকারীরা সাধারণত যাতায়াত সহায়তা, একটি সিম কার্ড ও সামান্য অর্থ সহায়তা পান।

  • যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পথে অগ্রগতি হয়েছে : ইরান

    অনলাইন ডেস্ক:   ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা শনিবার জানিয়েছেন, মার্কিন হামলার আতঙ্ক ও উত্তেজনার মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে অগ্রগতি হয়েছে। তবে একই সময়ে দেশটির সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াশিংটনকে যেকোনো ধরনের সামরিক হামলার বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

    প্যারিস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে দমন-পীড়নের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির প্রেক্ষিতে ইরানের উপকূলে বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-সহ একটি নৌ-বহর মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। এর ফলে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

    ইরানও সতর্ক করেছে যে, হামলা হলে তারা মার্কিন ঘাঁটি, জাহাজ এবং মিত্রদেশ, বিশেষ করে ইসরাইলের ওপর মিসাইল হামলা চালিয়ে জবাব দেবে।

    তবে ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, সামরিক সংঘাতের চেয়ে ইরান তাদের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে একটি চুক্তিতে আসতেই বেশি আগ্রহী হবে।

    তেহরানও বলেছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা যদি আলোচনার সূচিতে না থাকে, তবে তারা পারমাণবিক আলোচনায় বসতে প্রস্তুত।

    এদিকে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে মস্কোতে বৈঠকের একদিন পর ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি বলেন, ‘মিডিয়ায় যুদ্ধের প্রচারণা সত্ত্বেও আলোচনার কাঠামোগত প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

    এদিকে, ইরানের সেনাপ্রধান আমির হাতামি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে সতর্ক করে বলেন, তাদের বাহিনী সব ধরনের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে।

    তিনি বলেন, ‘শত্রুরা কোনো ভুল করলে তা তাদের নিজেদের নিরাপত্তা, এ অঞ্চলের নিরাপত্তা এবং জায়নবাদী শাসনের নিরাপত্তাকে বিপন্ন করবে।’

    তিনি আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব নয়।

    উত্তেজনার মধ্যেই শনিবার ইরানের বন্দরনগরী আব্বাসে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস একে গ্যাস লিকেজ বললেও নাশকতার গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে, যা কর্তৃপক্ষ অস্বীকার করেছে।

    এদিকে, রেভোল্যুশনারি গার্ডস (আইআরজিসি) তাদের কোনো স্থাপনায় হামলার খবর নাকচ করেছে। একইসঙ্গে তাসনিম নিউজ এজেন্সি তাদের নৌ-কমান্ডার আলী রেজা তাংসিরিকে হত্যার গুজবও মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

    শুক্রবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালীতে দুই দিনের সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া চালাবে আইআরজিসি।

    এক বিবৃতিতে সেন্টকম আইআরজিসিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর আশপাশে ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার আচরণ’ থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দেয়।

    এর সমালোচনা করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এক্স-এ লিখেন, ‘আমাদের উপকূলে এসে মার্কিন সামরিক বাহিনী এখন হুকুম দিচ্ছে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে মহড়া চালাবে।’

    ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র এবং গত বৃহস্পতিবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, যা তেহরানকে ক্ষুব্ধ করেছে।

    এর আগে গত জুনে ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের সময় ইরানের মূল পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। পরবর্তীতে গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে ইরানে বিক্ষোভ শুরু হয়, যা পরে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ৮ ও ৯ জানুয়ারি এই আন্দোলন তুঙ্গে ওঠে, যাকে কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের উসকানি বলে দাবি করেছে।

    সরকারি তথ্যমতে এই বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৭ জন। তবে মানবাধিকার সংস্থা ‘এইচআরএএনএ’ জানায়, তারা ৬ হাজার ৫৬৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে, যার মধ্যে ৬ হাজার ১৭০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১২৪ জন শিশু রয়েছে।

    শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাস্উদ পেজেশকিয়ান সরকারকে জনগণের কথা শোনার ও জনসেবা করার আহ্বান জানান।

    তুরস্ক সীমান্তে থাকা অনেক ইরানি বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের শাসন থেকে মুক্তি চান। শবনম ছদ্মনাম ব্যবহার করে এক নারী বলেন, ‘আমরাও মুক্তি চাই, তুরস্কের মতো পর্যটক দেখতে চাই। সবাই আমাদের সন্ত্রাসী ভাবে। মোল্লাদের শাসনে আমরা একশ বছর পিছিয়ে গেছি।’

    তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘ওরা আমাদের পিঠে গুলি করেছে, এমনকি জানালা দিয়ে লক্ষ্য করেও আমাদের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। সবাই প্রিয়জন ও বন্ধুদের হারিয়েছে।’

    রোজালিন নামে ২৯ বছর বয়সী এক নারী বলেন, আমেরিকার চাপ যথেষ্ট নয়। আমেরিকা সাধারণ মানুষের জন্য নয় বরং নিজেদের স্বার্থে তেলের জন্য আসবে।

    শনিবার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা রুহুল্লাহ খোমেনির মাজারে যান। সেখানে তিনি প্রার্থনা করেন। এ সময় ইসলামি বিপ্লবের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১০ দিনের উৎসব শুরু হয়।

  • ১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এখন দেশে

    ১ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি প্রবাসীর পোস্টাল ব্যালট এখন দেশে

    অনলাইন ডেস্ক:    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে প্রবাসী নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৯৮টি ব্যালট ইতোমধ্যে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে।

    আজ রোববার প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে এ তথ্য জানান।

    তিনি জানান, আজ বেলা ১১টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারীদের মধ্যে ৭ লাখ ৬৬ হাজার ৮৬২টি ব্যালট প্রবাসীদের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৫ লাখ ২০ হাজার ৫০১ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। ভোটদান সম্পন্ন করেছেন ৪ লাখ ৬১ হাজার ৬০৪ জন। এছাড়া ৪ লাখ ১৫ হাজার ৭৬২ জন প্রবাসী ভোটার তাদের ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশের পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

    বিদেশের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে (আইসিপিভি) অবস্থানরত ভোটারদের কাছেও পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে সারা দেশের ৫ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৮ জন নিবন্ধিত ভোটারের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো হয়েছে।

    ইসির তথ্য অনুযায়ী, আজ রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরে ২৪ হাজার ৯১ জন ভোটার তাদের ব্যালট গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৫৩ জন ভোটার ভোটদান সম্পন্ন করেছেন এবং ৯ হাজার ৮৪৩ জন তাদের ব্যালট পোস্ট অফিস বা ডাক বাক্সে জমা দিয়েছেন।

    সালীম আহমাদ খান আরও জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে দেশে ও প্রবাসে মিলিয়ে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৪ জন ভোটার ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে নিবন্ধন করেছেন।

  • কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে- নির্বাচন কমিশনার

    কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে- নির্বাচন কমিশনার

    অনলাইন ডেস্ক:  ‎বরিশালে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেছেন, যদি কারো বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া যায় তাহলে তার তার পরিণতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করবেন এবং অন্যায় ও পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেলে মিডিয়ায় প্রচার করে দেবেন।
    ‎‎
    আজ রোববার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে ‎বরিশাল জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের অনুষ্ঠিত সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করতে হবে। সবকিছু খোলামেলাভাবে করবেন, কোন লুকাছাপা নেই।

    নিরাপত্তার প্রশ্নে নির্বাচন কমিশন শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং নেবে। আমাদের পছন্দ-অপছন্দ ব্যক্তি নাগরিকের ভোট দেয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ। আর কোথাও নয়। আমি যখন পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করছি তখন শতভাগ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। আমার কাছে কোন ছোট দল বড় দল, হেভি ওয়েট প্রার্থী, লাইট ওয়েট প্রার্থী নেই। সবাইকে সমান ভাবে ট্রিট করতে হবে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে।

    এসময় তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, নির্দেশনার পরেও যদি কেউ তার পছন্দ অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠতে না পারেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন তা প্রমাণিত হয়, তাহলে পরিনতি খুব খারাপ হবে। নির্বাচন কমিশন খুব কঠিন হবে এ ব্যাপারে।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনি দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নেবে না। তবে শুধু বল প্রয়োগ নয়, মধ্যপন্থা অবলম্বন করতে হবে।

    এ সভায় সভাপতিত্ব করেন রিটার্নিং অফিসার খাইরুল আলম সুমন।

    জেলার পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ

    ব্যক্তিতান্ত্রিক শাসনের অবসানের জন্যই জুলাই সনদ : আলী রীয়াজ

    প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ব্যক্তিতান্ত্রিক স্বৈরাচারের জাঁতাকলে নিষ্পেষিত জাতি ১৬ বছর মুক্তির প্রহর গুনছিল; ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থান তাদের ফ্যাসিবাদের কবল থেকে আপাত মুক্তি পেয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের বিদ্যমান সংবিধানে স্বৈরাচার সৃষ্টির পথ রয়েছে। তাই আর কোনো স্বৈরাচার যাতে জনগণের ওপর চেপে বসতে না পারে সে জন্যই জুলাই সনদ প্রণীত হয়েছে এবং জুলাই সনদ কার্যকরের জন্যই আসন্ন গণভোটে হ্যাঁ-কে জয়যুক্ত করতে হবে।

    তিনি বলেন, অনেকেই জিজ্ঞেস করেন, ‘হ্যাঁ’ এর প্রার্থী কে? আমি বলি-হ্যাঁ এর প্রার্থী আপনি, আমি, আমরা সবাই। কারণ, হ্যাঁ আমাদের সবার জন্য একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথ খুলে দেবে।

    আজ রোববার সকালে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে আসন্ন গণভোট ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের লক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময়ে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন।

    ড. রীয়াজ বলেন, ফ্যাসিবাদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত এ জাতি আর কোন স্বৈরশাসন, দুঃশাসন চায় না। তারা একটি আলোকিত আগামী গড়তে চায়, নতুন দিন আনতে চায়; সে দিন হবে সাম্য, সমতা আর আনন্দের। যেখানে কোনো কোন অন্তরাত্মা কাঁপানো বাহিনীর হাতে গুম হবার ভয় থাকবে না, গায়েবী মামলায় গ্রেফতার হবার আতংক থাকবে না, যেদিনের স্বপ্ন দেখেছিল আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধারা, যেদিন আনতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অকাতরে জীবন বিনিময় করেছে আমাদের ছাত্র-জনতা।

    তনি আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাতির ইতিহাসে এক অসাধারণ অর্জন। এই অভ্যুত্থান অপ্রত্যাশিতভাবে দেশের জীবনে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ এনে দিয়েছে। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ইতোমধ্যে বেশ কিছু সংস্কার করা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

    তবে এসব উদ্যোগের পাশাপাশি আরও গভীর ও সুদূরপ্রসারী সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে রয়েছে জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সে কারণেই দেশের সব রাজনৈতিক দলের ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে।

    এই সনদ বাস্তবায়নের জন্য জনগণের সরাসরি সম্মতি প্রয়োজন, আর সে উদ্দেশ্যেই গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে। তিনি গণভোটে অংশ নিয়ে হ্যাঁ-তে রায় দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানান।

    ‘হ্যাঁ’- ভোটের অর্থ ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করে প্রধান উপদেষ্টার এ বিশেষ সহকারী বলেন, এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও নির্বাচন কমিশন গঠনে সরকার ও বিরোধীদল একসাথে কাজ করবে। ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছেমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না; গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য জনগণের সম্মতি নিতে হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হবেন। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না।

    তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে, যার ফলে বিচারের বাণী আর নিরবে নিভৃতে কাঁদবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয়ী হলে ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ হয়ে যাবে, যে পথ আমাদের সংবিধানের দুর্বলতায় তৈরি হয়েছে।

    অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন সিলেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. আলিমুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মো. নিজাম উদ্দিন, হবিগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. সায়েম উদ্দিন আহম্মদ প্রমুখ।