Category: প্রচ্ছদ

  • বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গতি আনতে সমন্বিত সংস্কারে অগ্রগতি

    বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে গতি আনতে সমন্বিত সংস্কারে অগ্রগতি

    অনলাইন  ডেস্ক:     বিনিয়োগ ও বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করতে বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর ফলে বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। এসব উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং আজ জানিয়েছে, এই অগ্রগতির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয় বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির সপ্তম বৈঠকে। বৃহস্পতিবার তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিনিয়োগ বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা কমানো, সেবা ডিজিটাল করা এবং সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করার নানা সংস্কার উদ্যোগ পর্যালোচনা করা হয়।

    বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত ও কমিটির চেয়ারম্যান লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, প্রক্রিয়াগত উন্নয়ন দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানে। শুল্কহার বা বৈদেশিক বাজারে প্রবেশাধিকার মতো বিষয়গুলো আমাদের নিয়ন্ত্রণে না থাকলেও নীতিমালা ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আমাদের হাতেই রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে দক্ষতা বাড়ালে দ্রুত ও দৃশ্যমান সুফল পাওয়া সম্ভব।

    বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিডা, বেজা ও পিপিপি কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সচিব ও প্রধানগণ।

    বৈঠকে আলোচিত গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ছিল- আগাম কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের সক্ষমতা দশ গুণ বাড়ানো, অনলাইনে সমন্বিত ব্যবসা শুরুর প্যাকেজ চালু, চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার ডিজিটাল পেমেন্ট সুবিধা এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বন্ড ব্যবস্থাপনা চালু করা।

    এ ছাড়া অনুমোদিত বিনিয়োগ প্রস্তাব যেন বাস্তব বিনিয়োগে রূপ নেয়, সে জন্য একাধিক সংস্থার সমন্বয়ে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হন কর্মকর্তারা।

    বৈঠকে সাম্প্রতিক কয়েকটি সফল সমন্বয় উদ্যোগের কথাও তুলে ধরা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীনে চালু হওয়া ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো (এনএসডব্লিউ) কয়েক মাসের মধ্যেই সরকারি দপ্তরে প্রায় ১২ লাখ সরাসরি যাতায়াতের প্রয়োজন কমিয়েছে বলে জানানো হয়। দীর্ঘদিনের আন্তমন্ত্রণালয় জটিলতা কাটিয়ে এ সিস্টেমটি চালু করা সম্ভব হয়েছে।

    চট্টগ্রাম বন্দরে চালু হওয়া স্বয়ংক্রিয় ট্রাক প্রবেশ ব্যবস্থায় প্রবেশের সময় অন্তত ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও নগদবিহীন লেনদেন স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়িয়েছে।

    বর্তমানে বিডা, বেজা, বেপজা ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে বিনিয়োগের পাইপলাইন নজরদারি করছে। কর্মকর্তারা জানান, জমি ইজারার চুক্তির সংখ্যাও রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। চীন, তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ায় সাম্প্রতিক বিনিয়োগ প্রচার কার্যক্রমের ফলেও বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা মিলেছে।

    তবে বৈঠকে কিছু স্থায়ী সমস্যার কথাও উঠে আসে। ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু থাকা সত্ত্বেও কিছু দপ্তরে এখনো সমান্তরালভাবে অফলাইন প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

    লুৎফে সিদ্দিকী জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোকে (বিএমইটি) একটি ভালো উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সেখানে কেবল ডিজিটাল আবেদন ও পেমেন্ট ব্যবস্থা চালু রয়েছে এবং ব্যবহারকারীদের সহায়তায় অন-সাইট হেল্পডেস্ক রাখা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষও অনলাইন ব্যবস্থায় অভ্যস্ত হতে ব্যবহারকারীদের সহায়তায় একই ধরনের ‘এজেন্ট ডেস্ক’ চালু করেছে বলে জানান বন্দর চেয়ারম্যান।

    বৈঠকে জানানো হয়, শিগগিরই বিডার উদ্যোগে বাংলাদেশ বিজনেস পোর্টালের প্রথম সংস্করণ চালু করা হবে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এআরএমএস) পরীক্ষামূলকভাবে চালুর প্রস্তুতি চলছে, যার মাধ্যমে পণ্যের শারীরিক পরীক্ষা কমানো হবে।

    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে সাম্প্রতিক অংশীজন বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে লুৎফে সিদ্দিকী আগাম কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স বাড়ানোর ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, নিয়ম ইতিমধ্যেই রয়েছে, ঘাটতি রয়েছে শৃঙ্খলাপূর্ণ বাস্তবায়নে। বর্তমানে পাঁচ শতাংশেরও কম পণ্য আগাম ছাড় পাচ্ছে, যেখানে এ হার ৫০ শতাংশের বেশি হওয়া উচিত।

    বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগ সমন্বয় কমিটির তথ্যভিত্তিক ও কাজমুখী কার্যপদ্ধতির প্রশংসা করেন। তারা বলেন, এটি সরকারি কাজের ধরনে এক ধরনের ‘শৈলগত সংস্কার’, যেখানে বাস্তবায়ন ও পরিমাপযোগ্য ফলাফলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

    বৈঠক এখন পর্যন্ত অর্জিত অগ্রগতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাই সন্তোষ প্রকাশ করেন।

  • চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ২,৮০০ টন পণ্যচালানের নিলাম সম্পন্ন

    চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসে ২,৮০০ টন পণ্যচালানের নিলাম সম্পন্ন

    অনলাইন ডেস্ক:     কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম স্মরণকালের সর্ববৃহৎ ২ হাজার ৮০০ টন পণ্যচালানের নিলাম সম্পন্ন করেছে।

    আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের  এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদ্যমান কন্টেইনার জট ও এর ফলে উদ্ভূত নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিরসন, ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তাসহ জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধ সর্বোপরি চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য বিভিন্ন পণ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রয়ের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।

    এরই ধারাবাহিকতায় কাস্টমসের নিলাম স্থাপনায় সংরক্ষিত ‘ব্যবহৃত ড্রেজার স্টিল পাইপ, রাবার হোস, সংযোজনী ও আনুষঙ্গিক সামগ্রী’ শীর্ষক প্রায় ২৮০০ টন পণ্য অনলাইন নিলামের মাধ্যমে বিক্রির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনলাইন নিলাম প্ল্যাটফর্মে গত ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ প্রতিযোগিতামূলক এই নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে মোট ১৩ জন দরদাতা অংশ নেন।

    নিলামে সর্বোচ্চ ৯ কোটি ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকায় পণ্যচালানটি বিক্রি হয়। পরবর্তী সময়ে দরমূল্য, মূল্য সংযোজন কর ও আয়করসহ মোট ১১ কোটি ৫৯ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধের পর দরদাতার অনুকূলে পণ্য খালাস সম্পন্ন করা হয়।

    কাস্টমস হাউস, চট্টগ্রাম জানায়, পণ্যের পরিমাণের দিক থেকে এটি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নিলাম। এই নিলামের ফলে একদিকে কাস্টমসের নিলাম স্থাপনার বড় অংশ খালি করা সম্ভব হয়েছে। অপরদিকে সরকারের উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আদায় নিশ্চিত হয়েছে। পাশাপাশি বন্দরের ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনায় গতিশীলতা ফিরে এসেছে।

    অখালাসকৃত ও নিলামযোগ্য পণ্য দ্রুত নিষ্পত্তির মাধ্যমে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অনলাইন নিলাম কার্যক্রম চলমান থাকবে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস।

  • বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিতের পর এবার চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য বাংলাদেশের

    বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিতের পর এবার চ্যাম্পিয়নের লক্ষ্য বাংলাদেশের

    অনলাইন ডেস্ক:    গতকাল সপ্তমবারের মত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ দল।

    নেপালে চলমান নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে সুপার সিক্সে নিজেদের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩৯ রানে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে থেকে বিশ্বকাপের টিকিট পায় বাংলাদেশ। নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বে আয়ারল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাওয়া জয়ের ৪ পয়েন্ট এবং সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচে পাওয়া জয়ের ২ পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে টাইগ্রেসরা।

    ২০১৪ সালে প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে নামে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত টানা ছয় আসরে বিশ্বকাপে খেলেছে টাইগ্রেসরা। আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে অনুষ্ঠেয় নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরটি হবে বাংলাদেশের জন্য সপ্তম।

    সপ্তমবারের মত বিশ্বকাপ নিশ্চিত হবার পর, বাছাই পর্বে বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন চ্যাম্পিয়ন হওয়া। চলমান বাছাই পর্বের সুপার সিক্সে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগামীকাল স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগে দলের স্পিন অলরাউন্ডার রাবেয়া খান বলেন, ‘বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত করা আমাদের জন্য খুব ভাল লাগার বিষয়। দলের সব খেলোয়াড় ভালো শেপে আছে। সবাই র‌্যাংকিংয়ে উপরের দিকে আসছে। ব্যাটার-বোলাররা ভাল ফ্লোতে আছে। এসব আমাদের কাজে দেবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অনেক বেশি খুশি। কোয়ালিফাইং টুর্নামেন্টে চ্যালেঞ্জিং হয়। জয়ের চিন্তা থাকে। তবে আমরা পাঁচটি ম্যাচে ভালভাবে জিতেছি। এবার আমরা স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে খেলব। আমরা এখানে এসেছি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য। এই দলকেও ছোট করে দেখছি না আমরা।’

  • তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে রংপুরবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা

    তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে রংপুরবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা

    অনলাইন ডেস্ক:    তারেক রহমানের আগামীকাল শুক্রবার রংপুর সফর উপলক্ষে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে অদম্য উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

    তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ (জেএস) নির্বাচন উপলক্ষে শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে নগরীর কালেক্টরেট ঈদগাহ ময়দানে দলটির বিভাগীয় পর্যায়ের বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন।

    বিএনপি নেতারা আশা করছেন যে, আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে এই সফর রংপুর বিভাগের আটটি জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য টনিক হিসেবে কাজ করবে। পাল্টে যেতে পারে ভোটের সমীকরণ।

    তারেক রহমানের রংপুর আসার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিএনপি নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দেয়।

    মাঠ ও মঞ্চ সাজানোর কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে মানুষের আগমন ও প্রস্থান নিরাপদ করার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    সরকারি সূত্রগুলো জানায়, নগরীর প্রবেশপথে যৌথ বাহিনী সন্দেহজনক যানবাহন এবং ব্যক্তিদের তল্লাশি করছে, যেখানে বিপুল সংখ্যক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

    নগরীর প্রবেশপথ এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়কের মোড়ে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    আয়োজকরা আশা করছেন, নির্বাচনী প্রচারণা জনসমুদ্রে পরিণত হবে, যেখান থেকে বিএনপি চেয়ারম্যান পিছিয়ে পড়া রংপুর অঞ্চলে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নসহ ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনার প্যাকেজ সম্পর্কে কথা বলবেন।

    তিনি আগামীকাল বিভাগীয় পর্যায়ে নির্বাচনী প্রচারণায় রংপরের আটটি জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনে ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দলের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন।

    শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং তিনবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান ২০০৪ সালে শীতার্তদের মধ্যে গরম কাপড় বিতরণের পর দুই দশকেরও বেশী সময়  পর রংপুর সফরে আসছেন।

    তারেক রহমানের সফরকে কেন্দ্র করে বিএনপি, জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল এবং অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত।

    নির্বাচনী বিধি ও আচরণবিধি বজায় রেখে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগামীকালের সফরকে সফল করার জন্য প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

    সুরভী উদ্যান, ডিসি মোড়, জেলা স্কুল, ডাকঘর, পুলিশ লাইন মোড়, সিটি বাজার এবং শহরের বিভিন্ন স্থানে ২ শতাধিক  লাউডস্পিকার স্থাপন করা হচ্ছে।

    তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু আজ রংপুর চেম্বার ভবনে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় অংশ নেন। রংপুরের ছয়টি আসনের জন্য বিএনপি মনোনীত ছয়জন প্রার্থী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

    পরে তিনি সেখানে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তারেক রহমানের রংপুর সফর উপলক্ষে প্রস্তুতি গ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিকট উপস্থাপন করেন ও নানা প্রশ্নের উত্তর দেন।

    অধ্যক্ষ আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, রংপুর বিভাগে তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ নানা সমস্যা, উন্নয়ন বঞ্চনা নিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে একাধিকবার কথা হয়েছে। তিনি আমাদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত। তিনি জনসভায় রংপুরের উন্নয়নে তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে যাবেন।

    এ জনসভা সফলভাবে সম্পন্ন করতে আমরা যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

    আজ আলাপকালে রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য-সচিব অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন বলেন, ২০০৪ সালের পর থেকে দুই দশকেরও বেশী সময় পর রংপুরে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানানো এবং সফরকে সফল করার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

    রংপুর মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কারমাইকেল কলেজ কেন্দ্রীয় ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম মিজু বলেন, তারেক রহমানের রংপুর সফর এবং সমাবেশ আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

    তিনি বলেন, সমাবেশে, তারেক রহমান রংপুর অঞ্চলের জন্য তার উন্নয়ন পরিকল্পনা উপস্থাপন করবেন এবং ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জন্য ধানের শীষ-এর জন্য ভোট চাইবেন। এতদিন পর তার আগমনে আমরা আনন্দিত ও উদ্বেলিত।

    রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের প্রার্থী মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সকল প্রস্তুতি চলছে।

    সফরকালে তারেক রহমান আগামীকাল বিকাল ৩টা ৪৫ মিনিটে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে ২০২৪ সালে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।

    পরে তিনি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে রংপুর শহরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে যোগ দেবেন।

    রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর-৩ আসনের প্রার্থী (সদর এবং রংপুর সিটির অংশ) মো. সামসুজ্জামান সামু বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রংপুরে আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

    বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী সমাবেশকে কেন্দ্র করে রংপুর মহানগর পুলিশ সকল ধরনের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। পোশাকধারী পুলিশ ছাড়াও সশস্ত্র ও সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা থাকবেন।

    জনসভাস্থল ছাড়াও সমগ্র শহরের চেকপোস্ট, গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ এবং মোড়ে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করা হবে। এছাড়াও, মাঠ এবং শহরজুড়ে পর্যাপ্ত সংখ্যক আইন প্রয়োগকারী কর্মী উপস্থিত থাকবেন।

    রংপুরে নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার পর তারেক রহমান বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।

    স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জনসভাকে ঘিরে উজ্জীবিত রংপুরের দলীয় নেতাকর্মীরা।

    তার রংপুর বিভাগে আগমনে পাল্টে যেতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই এলাকার ভোটের হিসাব।

    রংপুর মহানগর ওলামা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, তারেক রহমানের রংপুরে আসার জন্য দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম।

    এদিকে বিএনপি নেতাকর্মীরা বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠন করবে এবং তিনি রংপুরকে বৈষম্যমুক্ত করে উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় নিয়ে যাবেন।

    রংপুরে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, শিল্পায়নের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা-স্বাস্থ্যসহ সার্বিক উন্নয়নে বিএনপি রংপুর বিভাগের পক্ষ থেকে তারেক রহমানের কাছে নানা দাবি তুলে ধরা হবে।

    রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ দলে দলে এ জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন।

    বিএনপি দলীয় সূত্র জানায়, তারেক রহমান নির্বাচনী সফরে শুক্রবার বগুড়া থেকে রংপুরে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন।

    সেখান থেকে তিনি রংপুর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে বিএনপি আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখবেন।

    ওইদিন রাতে রংপুর থেকে বগুড়ায় ফিরবেন তিনি। সেখানে রাত্রিযাপন করে পরদিন শনিবার সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলে জনসভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান।

  • মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    মেক্সিকোতে ফুটবল খেলায় সশস্ত্র হামলা: নিহত ১১, গ্রেফতার ৩

    অনলাইন ডেস্ক:   মেক্সিকোর মধ্যাঞ্চলে একটি ফুটবল ম্যাচে সশস্ত্র হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই ভয়াবহ হামলায় ১১ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হয়।

    বুধবার দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

    মেক্সিকো সিটি থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    গত রোববার গুয়ানাজুয়াতো রাজ্যের সালামাঙ্কা শহরের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে। ছুটির বিকেলে সেখানে বিপুল সংখ্যক পরিবারের উপস্থিতিতে শৌখিন ফুটবল ম্যাচ চলছিল। খেলার শেষ দিকে একদল বন্দুকধারী মাঠে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায়।

    গুয়ানাজুয়াতোর নিরাপত্তা সচিবালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানায়, বেশ কয়েকটি সমন্বিত এবং সুনির্দিষ্ট অভিযানের পর এই তিন জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

    তবে তদন্তের গোপনীয়তার স্বার্থে গ্রেফতারকৃতদের পরিচয় কিংবা তাদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি সংস্থাটি।

    নিহতদের মধ্যে পাঁচ জন ওই ফুটবল মাঠের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন। তবে তারা সবাই নিরস্ত্র ছিলেন বলে জানা গেছে।

    প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিরাপত্তা প্রহরীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হতে পারে। কারণ তারা এমন একটি কোম্পানিতে কাজ করতেন, যার সাথে প্রভাবশালী ‘জালিসকো নিউ জেনারেশন কার্টেল’ (সিজেএনজি)-এর যোগাযোগ রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

    তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, হামলাকারীরা ‘সান্তা রোসা ডি লিমা’ কার্টেলের সদস্য।

    গুয়ানাজুয়াতো ভিত্তিক এই মাদক চক্রটির সঙ্গে সিজেএনজি-র দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে।

  • উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন

    উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন

    অনলাইন ডেস্ক:     উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ ও প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

    আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ, তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

    পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বলেন, বৈঠকে মোট ১১টি গুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা হয় এবং সেগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে— কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ- ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ- ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ- ২০২৬।

    এ ছাড়া প্রতি বছর ২৩ মার্চ ‘বিএনসিসি দিবস’ হিসেবে উদ্যাপনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নির্যাতন ও অন্যান্য নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ বা শাস্তি সংক্রান্ত জাতিসংঘের কনভেনশন (ক্যাট)-এর ১৪(১) অনুচ্ছেদের অধীনে বাংলাদেশ যে ঘোষণা দিয়েছিল, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাবও অনুমোদিত হয়েছে।

    বৈঠকে বাংলাদেশকে ১৯৮০ সালের ‘হেগ কনভেনশন অন দ্য সিভিল অ্যাসপেক্টস অব ইন্টারন্যাশনাল চাইল্ড অ্যাবডাকশন’-এর পক্ষভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এ ছাড়া ক্যারিবীয় অঞ্চলের দেশ গায়ানার রাজধানী জর্জটাউনে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বা ফার্স্ট সেক্রেটারি পর্যায়ের একটি নতুন কূটনৈতিক মিশন খোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাংলাদেশি দূতাবাস ও মিশন থেকে জনবল নিয়োগ করা হবে।

    বৈঠকে আমদানি নীতি আদেশ ২০২৫-২০২৮-এর খসড়াও অনুমোদন দেওয়া হয়।