Category: প্রচ্ছদ

  • মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশের প্রতি পশ্চিমা দেশের সমর্থন

    মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ অধ্যাদেশের প্রতি পশ্চিমা দেশের সমর্থন

    অনলাইন ডেস্ক:     মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের প্রণীত মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে ইতালি, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসের দূতাবাস।

    গতকাল বুধবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর অফিসে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এসব দেশের রাষ্ট্রদূত অধ্যাদেশটির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন বলে আজ সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে।

    বৈঠকে স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

    ভুয়া ভিসা আবেদনসংক্রান্ত সমস্যার মূল কারণ মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করেছে। এতে ভুয়া নথি ব্যবহারসহ অভিবাসী চোরাচালান ও সহায়তাকারীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    বৈঠকে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ের আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ ভুয়া নথি ব্যবহার রোধে যথেষ্ট আন্তরিক নয়, এমন একটি ধারণা ছিল। এর ফলে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে এবং ভিসা প্রক্রিয়াকরণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত অসাধু দালালচক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা চালালেও অতীতে এসব ঘটনায় মামলার সংখ্যা ছিল কম।

    বৈঠকে কয়েকটি উদাহরণ তুলে ধরা হয়। একটি দূতাবাস জানায়, তারা ৬০০টির বেশি ভিসা আবেদন পেয়েছে, যেখানে ভুয়া চাকরির প্রস্তাবপত্র সংযুক্ত ছিল। আরেকটি দূতাবাস একই এলাকা থেকে ৩০০টি পর্যটন ভিসার আবেদন পায়, যেখানে একই ব্যাংকের ভুয়া আর্থিক বিবরণী ব্যবহার করা হয়। আরেক ঘটনায় একটি ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ৭০ জন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হয়, পরে পেজটি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    এসব ঘটনায় এখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মামলা ও বিচারিক কার্যক্রম জোরদার করেছে। আলোচনায় জানানো হয়, গত বছর গড়ে প্রতিদিন ৪০ জনের বেশি যাত্রীকে ইমিগ্রেশন পুলিশ বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠিয়েছে।

    বৈঠকে ভিসা-অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দেওয়া বিমানবন্দরগুলোকে তৃতীয় দেশে অবৈধ যাত্রার ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও আলোচনায় আসে। একটি দেশ জানায়, গত বছর তারা বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে ৬ হাজারের বেশি আশ্রয় আবেদন পেয়েছে, যাঁরা মূলত শিক্ষার্থী বা কর্মভিসায় ওই দেশে প্রবেশ করেছিলেন।

    আস্থার ঘাটতির কারণে কিছু দেশে বাংলাদেশি নথিপত্র যাচাইয়ে ভিসা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে উদ্বেগ জানানো হয়। একটি দেশ চলমান তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে ভিসা আবেদন গ্রহণ স্থগিত রেখেছে বলেও আলোচনায় উঠে আসে।

    ইতিবাচক দিক হিসেবে ব্যাংক বিবরণী যাচাই সহজ করতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) কিউআর কোড চালু করায় প্রশংসা করা হয় এবং পুরো ব্যাংক খাতে এটি চালুর আহ্বান জানানো হয়।

    আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে সমন্বয় জোরদারে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়সংক্রান্ত সাম্প্রতিক অগ্রগতির কথাও আলোচনায় উঠে আসে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রিটার্নি কেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত সহায়তা আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। তবে অভিবাসন বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দ্রুত বদলির বিষয়টি একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

    বিএমইটি জানায়, তাদের অধিকাংশ কার্যক্রম এখন পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় এবং ইমিগ্রেশন পুলিশের সঙ্গে সংযুক্ত। ফলে প্রথমবারের মতো বিএমইটি কার্ডধারীদের বিদেশ যাওয়া ও ফেরার তথ্য পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে।

    আলোচনায় আরও বলা হয়, মূল রিক্রুটিং এজেন্টরা নিবন্ধিত ও নিয়ন্ত্রিত হলেও স্থানীয় পর্যায়ের সাব-এজেন্টরা এখনও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণের বাইরে। দালালচক্রের অপব্যবহার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেয়া হয়।

    হেগ অ্যাপোস্টিল কনভেনশনে বাংলাদেশের যোগদান নিয়েও আলোচনা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ইস্যু করা অ্যাপোস্টিল নথির উৎস ও বিষয়বস্তু যেন পুরোপুরি নির্ভরযোগ্য হয় সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

    বৈঠকের শেষে অংশগ্রহণকারীরা এসব ইস্যু স্বচ্ছতার সঙ্গে মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকারের দৃঢ় অবস্থান ও অঙ্গীকারের কথা স্বীকার করেন। পশ্চিমা দেশগুলোর দূতেরা বাংলাদেশের সহযোগিতাকে ‘অভূতপূর্ব’ বলে উল্লেখ করেন।

  • রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা

    রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান প্রত্যাবাসন : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া দশ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান।

    তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

    গতকাল বুধবার রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।

    তিনি বলেন, গতবছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’

    বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

    ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তাঁর পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

    তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’

    বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।

  • প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাড়িয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

    প্রযুক্তিগত অগ্রগতি বাড়িয়ে দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হবে : প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই।

    আজ বুধবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

    অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটাই বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের গতি বাড়াতে ও সামঞ্জস্য আনতে না পারি, তাহলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, তা ভেবে দেখা দরকার।’

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে— চিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং নিজেদের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে।

    তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই পিছিয়ে পড়া। আইসিটিকে তিনি ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি এই খাতের কথা বলছি, কারণ— এটি একটি প্রধান খাত। ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে।’

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকবে ঠিকই। তবে, প্রযুক্তি খাতই হবে চালিকাশক্তি— হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো; যা প্রতিটি খাতকে স্পর্শ করে নতুনভাবে রূপ দেবে।

    এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

    এক্সপো প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনগুলোতে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করি এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করি— দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।’

    প্রজন্মগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায় সহজাতভাবেই যুক্ত। প্রজন্মগুলোর মধ্যে এই বাড়তে থাকা দূরত্ব একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি করছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না— কোনো খারাপ উদ্দেশ্যের কারণে নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনার ধরন এক নয়।’

    বাংলাদেশের আইসিটি খাতেও এখনো পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা চালু করতে হবে। মানুষ সরকারের কাছে আসবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে যাবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।’

    চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

  • ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

    ডিজিটাল ডিভাইস ও ইনোভেশন এক্সপোর উদ্বোধন প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক: রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) আজ ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে তিনি ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন চ্যালেঞ্জ’-এর ওয়েবসাইট ও লোগো উন্মোচন করেন।

    এ প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। প্রদর্শনী চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

    অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘ক্রিয়েট হিয়ার, কানেক্ট এভরিহোয়ার’ শিরোনামে ভবিষ্যৎ ডিজিটাল উদ্ভাবন নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

    আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।

    পরে প্রধান উপদেষ্টা প্রদর্শনীর বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন।

    প্রযুক্তিখাতে উদ্ভাবন, সক্ষমতা বৃদ্ধি, সাফল্য ও বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই এই এক্সপোর মূল লক্ষ্য। প্রদর্শনীতে উদ্ভাবনী পণ্য, ডিজিটাল ডিভাইস, মোবাইল ও ই-স্পোর্টসসহ নানা প্রযুক্তি প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকছে পণ্যে বিশেষ ছাড় ও অফার।

    চারদিনের এই এক্সপোতে ডিজিটাল রূপান্তর, বৈশ্বিক বিনিয়োগ, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার, অর্থায়ন ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস, ইনোভেশন ইকোসিস্টেমে ব্যবধান কমানো, ডিপ-টেক ভ্যালু চেইন, উৎপাদন ও রপ্তানি ভিশন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল রূপান্তর—এসব বিষয়ে পাঁচটি সেমিনার ও চারটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

    অনলাইনে অথবা সরাসরি নিবন্ধনের মাধ্যমে সবার জন্য প্রবেশ উন্মুক্ত থাকবে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুরো ভেন্যুতে ওয়াই-ফাই সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিভিন্ন শিল্পখাত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শনের জন্য এই এক্সপোকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্ভাবনা নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সম্ভাবনা নেই : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.)  মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কোন  সম্ভাবনা নেই।

    আজ গাজীপুরের কাশিমপুর কারা ক্যাম্পাসে অবস্থিত কারা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬৩তম ব্যাচ মহিলা কারারক্ষী বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে এক  ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‘পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দিল্লিতে পালিয়ে থেকে তার নেতা-কর্মীদের  বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন উস্কানিমূলক কথা বলছে, এর ফলে জাতীয় নির্বাচনে দেশে কোন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে কিনা’- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশ অস্থিতিশীল করার কোন সম্ভাবনা নেই। তাদের যদি (কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ) সাহস থাকতো তারা দেশে এসে কথা বলতো। তারা আইনের আওতায় আছে। আইনের আশ্রয় নিয়ে এসে বলতো। যেহেতু সাহস নেই, এজন্য পালিয়ে থেকে বলছে।’

    তিনি বলেন, ‘এখানেও এখন তাদের ওই রকম সাপোর্টার নেই। তাদের যে সাপোর্টার ছিল ও যে সন্ত্রাসীগুলো ছিল তারা বিভিন্ন জায়গায় চলে গেছে। তারা বিভিন্ন দেশে চলে গিয়েছে, বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট জঙ্গি যেগুলো ছিল, এই জঙ্গিগুলো কিন্তু দেশ থেকে চলে গেছে। বিভিন্ন দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে। আমরা অনুরোধ করবো, এই  ফ্যাসিস্টদের অন্যান্য দেশ যেন আবার ফিরিয়ে দেয়।’

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, কাশিমপুর কারাগারের জায়গা স্বল্পতার জন্য  কেরানীগঞ্জে আরেকটি কারাগার করার চিন্তাভাবনা আছে।

    তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন বাহিনীর সদস্য নিয়োগ প্রক্রিয়া খুব স্বচ্ছভাবে করা হয়েছে। কোনরকম অনিয়ম হয়নি।’

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায় যেকোনো দিন

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ট্রাইব্যুনালের রায় যেকোনো দিন

    অনলাইন ডেস্ক:     বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে।

    উভয় পক্ষের শুনানি ও যুক্তি উপস্থাপন শেষে আজ মঙ্গলবার বিচারিক প্যানেলের সদস্য মো. মঞ্জুরুল বাছিদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখে আদেশ দেন।

    আদালতে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যুক্তি উপস্থাপন (আর্গুমেন্ট) করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি চাওয়া হয়। অন্যদিকে, আসামীদের খালাস চেয়েছেন তাদের আইনজীবীরা।

    এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামীম। অন্যদিকে, বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল গণি টিটো এবং পলাতক আসামিদের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সুজাদ মিয়া।

    এ মামলায় গত ৩০ জুন বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বিচারিক প্রক্রিয়ায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

    মামলার ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ৬ জন গ্রেফতার রয়েছেন। তারা হলেন- সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।

    ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। বর্তমানে জুলাই-আগস্টের সেই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কাজ দু’টি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে চলমান রয়েছে।