Category: প্রচ্ছদ

  • বন্ড বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের আহ্বান গভর্নরের

    বন্ড বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের আহ্বান গভর্নরের

    অনলাইন ডেস্ক:     বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুর আজ বাংলাদেশের কর্পোরেট বন্ড বাজারের উন্নয়নে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও শক্তিশালী আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

    তিনি বলেন, নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ বন্ড বাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেছে।

    রাজধানীতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যৌথভাবে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে বন্ড বাজার উন্নয়ন : চ্যালেঞ্জ ও সুপারিশ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর এসব কথা বলেন।

    গভর্নর বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কোনো করর্পোরেট ইস্যুকারী একটি কুপন পরিশোধে ব্যর্থ হলেও সেটিকে গুরুতর খেলাপি হিসেবে গণ্য করা হয়। ‘কিন্তু আমাদের দেশে কোনো কোম্পানি বন্ডের কুপন পরিশোধ না করলেও কার্যত কোনো পরিণতি হয় না। কেউই এর পরোয়া করে বলে মনে হয় না।’

    তিনি বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমেই বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

    মনসুর বলেন, বন্ড বাজারকে চাঙ্গা করার জন্য একটি ধাক্কা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক ব্যাংকঋণের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা নিরুৎসাহিত করতে পারে।

    তিনি বলেন, ‘কোনো কোম্পানি বা গ্রুপ যদি একক ঋণগ্রহীতার সীমা অতিক্রম করে ব্যাংকঋণ নিতে চায়, তাহলে আমরা তাদের বন্ড বা শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দিতে পারি।’

    গভর্নর কর্পোরেট ইস্যুকারীদের আকৃষ্ট করতে কয়েকটি ‘পুল ফ্যাক্টর’-এর কথাও উল্লেখ করেন, যার মধ্যে রয়েছে কর প্রণোদনা, বন্ড ইস্যুর সময়সীমা কমানো এবং ইস্যু ব্যয় হ্রাস।

    তিনি আরও বলেন,  ‘বন্ড বাজার উন্নয়নে সরকার ও ব্যবসায়ী সমাজকেই নেতৃত্ব দিতে হবে।’

    ড. মনসুর বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারে একটি কেন্দ্রীয় কমিটি এবং এর অধীনে একাধিক উপ-কমিটি গঠন করা প্রয়োজন। প্রধান কমিটি উপ-কমিটিগুলোর কাজ তদারকি ও দিকনির্দেশনা দিবে, যাতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত হয়।

    বিএসইসি চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ বলেন, বাংলাদেশে পুঁজিবাজারের তুলনায় ব্যাংকঋণ পাওয়া এখনো সহজ। তিনি বলেন, ঋণের মেয়াদ ও অর্থায়নের উৎসের মধ্যে অসামঞ্জস্যতার কারণেই মূলত খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেশি।

    তিনি বলেন, ‘আমাদের কনসেপ্ট নোটে কোম্পানি ও সরকার-উভয়কেই পুঁজিবাজারমুখী হওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর বন্ড বাজারসংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত করা হবে।’

    অর্থসচিব খায়রুজ্জামান মজুমদার বলেন, দ্বৈত করের সমস্যা সমাধান হলেও বন্ডের সেকেন্ডারি লেনদেনে মালিকানা বারবার পরিবর্তনের কারণে নতুন কর-সংক্রান্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে।

    তিনি বলেন, এই করসংক্রান্ত সমস্যাগুলো প্রতিটি ধাপে হাতে-কলমে সমাধান করা সম্ভব নয়, এটি সম্ভবত একটি সফটওয়্যার সংক্রান্ত বিষয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও বিএসইসির মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।

    তিনি আরও জানান, সরকার স্থানীয় মুদ্রাভিত্তিক বন্ডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে কাজ করছে এবং সঞ্চয়পত্রের সেকেন্ডারি লেনদেন চালুর জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

    জনসভায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহবুব আলমগীর আলো’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৬ আসনে দলটির প্রার্থী মো. মাহবুবের রহমান শামিম, জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান হাফিজসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

  • নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ ভূমিকার নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার

    নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষ ভূমিকার নির্দেশনা প্রধান উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনকে সকলের জন্য অংশগ্রহণমূলক, শঙ্কামুক্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের বিষয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    আজ সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ নিদের্শনা প্রদান করেন।

    আন্ত:বাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

    প্রধান উপদেষ্টা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাঁকে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লে: জেনারেল এস এম কামরুল হাসান অভ্যর্থনা জানান।

    সভার শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা দেশের বিভিন্ন প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর গৌরবোজ্জ্বল ও দায়িত্বশীল ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। একইসঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের সাথে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

    সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    মতবিনিময় সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাগণ, সংশ্লিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং গণমাধ্যম ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

  • মাদক ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে : তারেক রহমান

    মাদক ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে : তারেক রহমান

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে বিএনপি সরকার গঠনের সুযোগ পেলে মাদক ও দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা হবে। নারায়ণগঞ্জের কাঁচপুরে রোববার দিবাগত মধ্যরাতে নির্বাচনী জনসভায় দেয়া বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    তিনি বলেন, জনগণের ভোটের অধিকারের পাহাড়া জনগণকে দিতে হবে। ভোটের দিন এ সমাবেশের মতো উপস্থিত থেকে ভোট কেন্দ্রে যেতে হবে। ফজরের নামাজ ভোট কেন্দ্রের সামনে পড়ে, ভোটের লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন।  বিগত ১৫, ১৬ বছর ডামি নির্বাচন হয়েছে। এখন আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে ১২ তারিখ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে অধিকার বুঝে নিতে হবে। আপনারা পাশে থাকলেই আমরা সফল হতে পারবো।

    বিএনপির চেয়ারম্যান আরও বলেন, বিগত পনেরো ষোল বছর ধরে নারায়ণগঞ্জের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক খারাপ ছিল। সাধারণ মানুষ সহ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিরাপদ ছিলনা। এ বিষয়ে আমরা কঠোর হবো। সন্ত্রাসীরা যে দলের হোক না কেন, দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা আছে, যা দুর্নীতি ও মাদক। এগুলো নির্মূল করার জন্য ব্যবস্থা নিবো। নারায়ণগঞ্জ শহরে বিশটা স্পট আছে, যেখানে মাদক ব্যবসা হয়। এগুলো নিয়ন্ত্রণে আমরা ব্যবস্থা নিবো। দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরব।

    তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার ক্ষেত্রে নারীদের বিশেষ অবদান রাখতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় খেটে খাওয়া মানুষদের সন্তানদের জন্য বিশেষ করে মেয়ে সন্তানদের জন্য ফ্রিতে লেখাপড়ার ব্যবস্থা করেছিলেন। দেশনেত্রী  খালেদা জিয়ার সে পরিকল্পনার কারণে লক্ষ লক্ষ মা বোনেরা শিক্ষার আলো পেয়েছে। আমরা এখন একটি পরিকল্পনা করেছি, যেটার নাম, ফ্যামিলি কার্ড। গ্রাম থেকে শহরের খেটে খাওয়া মানুষদের পরিবারের নারী ও গৃহিনীদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই।

    তিনি বলেন, কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সাত থেকে ১০ দিনের সহায়তা দেব। নগদ অর্থ বা খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। যেই মেয়েরা গত পঁচিশ বছর ধরে শিক্ষার আলো পেয়েছে, এখন তাদের আমরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চাই। কারণ দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা যেখানে নারী, নারীদেরকে পিছিয়ে রেখে আমরা যতই উন্নয়ন করি না কেন, কোনভাবে সফল হওয়া যাবে না।  দেশের কৃষক ভাইদের কাছে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। এটার মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড মজবুত হবে।

    বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে তাদের দেশে ও দেশের বাহিরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব। সারাদেশের মসজিদ ও মাদরাসার ইমাম খতিবদের সম্মানী ও প্রশিক্ষণ দিবো, যেন তাদের হালাল আয় আরো বৃদ্ধি পায়।   এছাড়াও জলাবদ্ধতা সমস্যা নিরসন ও নদী-নালা রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ সহ  সারাদেশে খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করব।

    নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক মামুন মাহমুদের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম আহবায়ক মাশুকুল ইসলাম রাজীবের সঞ্চালনায় সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের প্রার্থী মনির কাসেমী, নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের প্রার্থী আবুল কালাম।

  • দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি: রিজভী

    দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি: রিজভী

    অনলাইন ডেস্ক: বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী রোববার রাতে রাজধানীর মহাখালী টিভি গেট এলাকায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) উদ্যোগে দুস্থদের মধ্যে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন, “জাতীয়তাবাদী শক্তির কর্মীরা ভয়াবহ সংকটে এবং ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের মধ্যেও অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বিএনপির মূল রাজনীতি।”

    রুহুল কবির রিজভী বলেন, “যখন শেখ হাসিনা তার প্রবল প্রতাপ দিয়ে বিরোধীদল নিশ্চিহ্ন করার কর্মসূচির ভিত্তিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিলেন যে, আমরা দলীয় বা এমনকি সামাজিক কোনো কাজও করতে পারতাম না। আমাদের সামাজিক সেবামূলক কাজগুলোতেও পুলিশ এসে বাধা দিত। কিন্তু তারপরও আমরা সেই কাজগুলো করে গেছি। গত ১৫-১৬ বছরের অন্যায় শাসনামলের সময় করোনা, বন্যা কিংবা প্রচণ্ড শীতে শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কর্মসূচি কোনো বছরই আমাদের বাদ যায়নি। সেই ধারাবাহিকতায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং এখনও করছি। যদিও হাসিনার পতন হয়েছে, তবুও সমাজের প্রতি আমাদের যে দায়িত্ব, সেই দায়িত্ব থেকে জাতীয়তাবাদী শক্তির কেউ কখনোই সরে যায়নি।”

    ড্যাবের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এরই ধারাবাহিকতায় চিকিৎসক সংগঠন ড্যাবও প্রতি বছর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করেছে। ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প, স্বেচ্ছায় রক্তদান, শীতবস্ত্র বিতরণ ও বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে তারা। বিএনপি ও তার আদর্শে বিশ্বাসী বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের একটাই উদ্দেশ্য, আর তা হলো, বড় বড় কথা বা ফাঁকা বক্তৃতা নয়, কাউকে হেয় করা নয়, ভিডিও ভাইরাল করে চরিত্র হনন নয়। আমরা এসব কখনোই করি না। আপনারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও দেখবেন কারা ভিডিও ভাইরাল করছে, কারা কুৎসা রটাচ্ছে, সেটা জনগণ বোঝে। বিএনপির ক্ষেত্রে এ সব দেখবেন না। বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো মানুষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াচ্ছে।”

    বিএনপির এ নেতা বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্ব ও আদর্শে বিশ্বাসী পেশাজীবী সংগঠনগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এটাই জাতীয়তাবাদী শক্তির বড় বৈশিষ্ট্য। আমরা কারও প্রতি বিষোদগার করি না, কারও বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাই না। আমরা বিশ্বাস করি- রাজনীতি মানেই সমাজসেবা, রাজনীতি মানেই মানুষের কল্যাণ সাধন।”

    তিনি আরও যোগ করে বলেন, “আপনারা দেখেছেন দেশব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণায় আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা ও আচরণবিধি মেনেই অংশ নিচ্ছেন। তিনি অত্যন্ত জনপ্রিয় একজন রাজনৈতিক নেতা। ফ্যাসিবাদী ও আওয়ামী দুঃশাসনের প্রবল আক্রমণের মুখে তারেক রহমানকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। আইন করে তার কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল, তার বক্তব্য যেন দেশে প্রচার না হয় সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।”

  • জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

    জুলাইযোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি

    অনলাইন ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংগঠিত রাজনৈতিক প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীদের ফৌজদারি দায়মুক্তি এবং আইনি সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। রোববার রাতে আইন মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে আধ্যাদেশের গেজেট জারি করা হয়েছে।

    এতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা বিধান অনুযায়ী প্রত্যাহার করা হবে। এ বিষয়ে নতুন কোনো দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের আইনত করা যাবে না।

    এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি উপদেষ্টা পরিষদ বৈঠকে অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

    অধ্যাদেশে বলা হয়, ছাত্র-জনতা ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করে, যা পরবর্তীকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হিসেবে স্বীকৃতি পায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালীন ফ্যাসিবাদী সরকারের নির্দেশে পরিচালিত নির্বিচার হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র আক্রমণ প্রতিরোধ এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করতে আত্মরক্ষাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অনিবার্য হয়ে ওঠে।এতে আরও বলা হয়, এ প্রতিরোধ কর্মে এবং জনশৃঙ্খলা পুনর্বহাল ও নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী গণঅভ্যুত্থানকারীদের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৪৬ অনুযায়ী সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন। তাই এ প্রেক্ষাপটে অধ্যাদেশটি করা হয়েছে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে দায়ের করা হলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকারনিযুক্ত কোনো আইনজীবীর প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন দাখিল করা হবে। আবেদন দাখিলের পর আদালত এ মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। এ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতি বা খালাস পাবে।

    অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো গণঅভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তবে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এ যা কিছু থাকুক না কেন, যেক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি কোনো প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে (পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী) কর্মরত ছিলেন, সেক্ষেত্রে কমিশন ওই প্রতিষ্ঠান বা বাহিনীতে বর্তমানে বা আগে কর্মরত কোনো কর্মকর্তাকে তদন্তের দায়িত্ব দিতে পারবে না।

    তদন্ত চলাকালে আসামিকে গ্রেপ্তার বা হেফাজতে নেওয়ার প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তা যুক্তিসংগত কারণ উল্লেখ করে কমিশনের অনুমোদন গ্রহণ করবেন বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

    কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়, অভিযোগটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে অপরাধমূলক অপব্যবহার ছিল, তাহলে কমিশন সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দেবে। আদালত সেটিকে পুলিশ প্রতিবেদন হিসেবে গণ্য করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে বলে অধ্যাদেশে জানানো হয়েছে।

    কমিশনের তদন্তে যদি দেখা যায়- অভিযোগে উল্লিখিত কাজ রাজনৈতিক প্রতিরোধের অংশ ছিল, সেক্ষেত্রে কমিশন উপযুক্ত মনে করলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সরকারকে আদেশ দিতে পারবে। এক্ষেত্রে আদালতে কোনো মামলা করা যাবে না কিংবা অন্য কোনো আইনগত কার্যধারা গ্রহণ করা যাবে না বলেও অধ্যাদেশে জানানো হয়।

    অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার প্রয়োজনে বিধি প্রণয়ন করতে পারবে।

  • মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে উড়িয়ে সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

    অনলাইন ডেস্ক:    প্রথমবারের মত আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশীপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ। আজ আসরের শেষ ম্যাচে মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলে বিধ্বস্ত করে শিরোপা জয় করেছে সাবিনা খাতুনের দল।

    শিরোপা জয়ে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    ছয় ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে সাত দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পেয়ে বাংলাদেশের নারী দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।

    থাইল্যান্ডের হুয়া মাক ইনডোর স্টেডিয়ামে শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তারই ধারাবাহিকতায় প্রথমার্ধে ৬-১ গোলে এগিয়ে যায় লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। অধিনায়ক সাবিনা খাতুন দুই অর্ধে দুটি করে চার গোল করেছেন। এছাড়া লিপি আক্তার করেছেন হ্যাটট্রিক।

    মাসুরা পারভীনের আত্মঘাতি গোলে ৪ মিনিটেই পিছিয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দুই মিনিট পর সাবিনার গোলে সমতায় ফিরে বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটে সাবিনা বাংলাদেশকে ২-১ গোলে এগিয়ে দেন। এরপর অবশ্য বাংলাদেশকে আর পিছনে ফিরে তাকতে হয়নি। কৃষ্ণা রানী ও নওসন জাহানের সাথে লিপি আক্তরের দুই গোলে বাংলাদেশ ৬-১ গোলে এগিয়ে বিরতিতে যায়।

    দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশ আরো লড়াকু মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামে। ২৩ মিনিটে সাবিনার গোল দিয়ে শুরু। এরপর সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন নীলা, মেহেরুন আক্তরের এক গোলের পাশাপাশি লিপির তৃতীয়, কৃষ্ণার দ্বিতীয় গোলে বাংলাদেশের ব্যবধান বেড়েছে। ম্যাচের শেষ দিকে মাসুরা পারভীন আরো দুই গোল করেছেন। শেষভাগে মালদ্বীপের হয়ে মারিয়াম নুরা এক গোল দিয়েছেন।

    এর আগে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ভারতকে ৩-১ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আসর শুরু করে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে পিছিয়ে পড়েও ভুটানের সঙ্গে ৩-৩ গোলে ড্র করে সাবিনার দল। তৃতীয় ম্যাচে নেপালকে ৩-০ গোলে এবং চতুর্থ ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে পরাজিত করে ৬-৩ গোলে। পঞ্চম ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল বাংলাদেশ।