Category: প্রচ্ছদ

  • শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

    শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে : পরিবেশ উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:    পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, তথ্য ও সম্প্রচার এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে অকারণে হর্ন বাজানো বন্ধ করতে হবে। অকারণে হর্ন বাজানোটা আমাদের বদভ্যাস। এই অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে।

    তিনি বলেন, শব্দদূষণ কমানোর দায়িত্ব আমাদের সবার। শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না।

    আজ বিমান বন্দর এলাকায় ‘ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি’ বাস্তবায়নে পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের-এর সমন্বিত অভিযানে হর্নের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আয়োজিত সমাবেশে উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।

    উপদেষ্টা বলেন, প্রাথমিকভাবে আমরা শুধু হর্ন এর উপরে জোর দিচ্ছি। কোন অজুহাতেই হর্ন বাজানো যাবেনা। তিনি বলেন, অন্যান্য আইন ভাঙ্গলে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে পুলিশ যেভাবে গাড়ির ব্যাপারে দণ্ড আরোপ করে, একইভাবে হর্নের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে। এখন এবিষয়ে ‘শব্দ দূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা ২০২৫’-হয়েছে। পুলিশকেও একাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ কর্তৃপক্ষ বেশকিছু তরুণকে একাজে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তারা এখন অফিসিয়ালি ট্রাফিক পুলিশের অংশ। সিভিল এভিয়েশন বিমানবন্দরের ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ন বন্ধে ভলেন্টিয়ারদের সহায়তায় কার্যক্রম শুরু করতে পারে। বিমানবন্দর এলাকা হর্নমুক্ত করে আমরা উদাহরণ একটা উদাহরণ তৈরি করতে পারি।

    উপদেষ্টা জানান, উচ্চশব্দের কারণে শতকরা ৬৫ ভাগ ড্রাইভার ঢাকা শহরে কানে কম শুনেন। একটা বাচ্চা যখন স্কুলে যায় হর্নের আওয়াজ তার জন্য খুবই অস্বস্তিকর। জাতিগতভাবে আমাদের সকলকে দায়িত্ব নিতে হবে। উপদেষ্টা জনগণকে সচেতন করায় এগিয়ে আসতে গণমাধ্যমকর্মীদের আহ্বান জানান। তাদেরকে স্বপ্রণোদিত হয়ে, নিজেদের দায়িত্বের জায়গা থেকে কাজ করার অনুরোধ জানান তিনি।

    সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে যে বিধিমালাটি করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এব্যাপারে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

    সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসি-র প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. সারোয়ার, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. আনিসুর রহমান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। এছাড়া, পরিবেশ অধিদপ্তর, ডিএমপি, বিআরটিএ, ডিএনসিসি ও সিভিল এভিয়েশনের ঊর্ধতন কর্মকর্তাগণ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রতি বিদেশি কূটনীতিকরা শতভাগ আস্থা প্রকাশ করেছেন : সিইসি

    নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের প্রতি বিদেশি কূটনীতিকরা শতভাগ আস্থা প্রকাশ করেছেন : সিইসি

    অনলাইন ডেস্ক:   আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচন কমিশনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানার পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কমিশনের প্রতি বিদেশি কূটনীতিকরা তাদের সর্বোচ্চ আস্থা প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন।

    আজ দুপুর সোয়া বারোটায় রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত দ্যা ওয়েস্টিনে বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনে কর্মরত সকল বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন।

    এসময় তিনি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য আমরা কি কি প্রস্তুতি নিয়েছি তার সকল প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদেরকে আজ আমরা জানিয়েছি। তারা আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সন্তোষ প্রকাশ এবং আমাদের সকল কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেছেন। তারা আমাদেরকে এও জানিয়েছেন, একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের প্রতি তারা খুবই আস্থাশীল।’

    তিনি আরো বলেন, আমাদের সকল কর্মকাণ্ড আমরা তাদের সামনে তুলে ধরেছি। আমরা জানিয়েছি যে এখানে কোন লোকচুরির ব্যাপার নেই। আমরা গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে পারব, এ বিষয়ে তারা আশাবাদী।

    প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমাদের প্রস্তুতির পাশাপাশি নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা কি তা তারা জানতে চেয়েছেন। আমরা জানিয়েছি, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও আনসারও মোতায়েন থাকবে।

    তিনি বলেন, তারা আমাদের কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে খুব ভালোভাবে বুঝেছেন। আমাদের যে উদ্দেশ্যটা একেবারেই স্বচ্ছ এবং ফোকাসটা একটা সুন্দর নির্বাচন আয়োজন – এ ব্যাপারে তারা বুঝতে পেরেছেন এবং খুবই সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।  আগামীতে তারা আমাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘আপনারা নিশ্চিত থাকেন, আমাদের তরফ থেকে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সুন্দর একটা নির্বাচন আয়োজনে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাবো।’

    এর আগে, আজ সকাল দশটা থেকে দ্যা ওয়েস্টিনের বলরুমে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট, ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশে অবস্থিত দূতাবাস ও মিশনে কর্মরত সকল বিদেশি কূটনীতিকের সঙ্গে বৈঠকে বসে নির্বাচন কমিশন।

    এ বৈঠকে আরও  উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনার – আব্দুর রহমানেল মাছউদ, বেগম তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো: সানাউল্লাহ (অবসরপ্রাপ্ত), ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ নির্বাচন কমিশনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

    বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং জাতিসংঘের প্রতিনিধিরা এতে অংশগ্রহণ করেন।

    ‎আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সার্বিক প্রস্তুতি, নির্বাচনী প্রক্রিয়া, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং নির্বাচনের স্বচ্ছতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ইত্যাদি নানা জরুরি বিষয়ে কূটনীতিকদের অবহিত করতে এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

  • চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

    চীনের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি হলে কানাডার ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের

    অনলাইন ডেস্ক:     চীনের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করলে কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে—এমন হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ট্রাম্প এক বছর আগে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও তার উত্তরাঞ্চলীয় প্রতিবেশী কানাডার সম্পর্ক টালমাটাল। বাণিজ্য বিরোধের পাশাপাশি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি ‘ছেদ’ সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

    গত সপ্তাহে বেইজিং সফরে কার্নি চীনের সঙ্গে একটি ‘নতুন কৌশলগত অংশীদারত্ব’-এর কথা জানান। এ সফরের ফল হিসেবে শুল্ক কমাতে একটি ‘প্রাথমিক কিন্তু ঐতিহাসিক’ বাণিজ্য চুক্তি হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ওই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে এর ‘গুরুতর পরিণতি’ হবে।

    ওয়াশিংটন থেকে এএফপি জানায়, ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লেখেন, কার্নি যদি মনে করেন তিনি কানাডাকে চীনের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর জন্য একটি ‘ড্রপ অফ পোর্ট’-এ পরিণত করবেন, তাহলে তিনি মারাত্মক ভুল করছেন।

    তিনি আরও লেখেন, ‘চীন কানাডাকে জীবন্ত গিলে খাবে—তাদের ব্যবসা, সামাজিক কাঠামো ও সামগ্রিক জীবনধারা ধ্বংস করে দেবে।’

    ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা যদি চীনের সঙ্গে চুক্তি করে, তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী সব কানাডীয় পণ্যের ওপর তাৎক্ষণিকভাবে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।’

    ট্রাম্প কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে সম্বোধন করেন—যা একটি কটাক্ষ, কারণ ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য হওয়া উচিত।

    চলতি সপ্তাহে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মানচিত্র পোস্ট করেন, যেখানে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন পতাকায় আচ্ছাদিত দেখানো হয়।

    কানাডার যুক্তরাষ্ট্রবিষয়ক বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লঁ ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকির জবাবে বলেন, চীনের সঙ্গে কোনো মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির চেষ্টা করা হচ্ছে না।

    তিনি এক্সে লেখেন, ‘যা অর্জিত হয়েছে তা হলো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শুল্কসংক্রান্ত বিষয়ের নিষ্পত্তি।’

    সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুই নেতার মধ্যে কথার লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে মঙ্গলবার দেওয়া বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থায় একটি ‘ছেদ’-এর কথা বলেন, যা ব্যাপক করতালিতে সাড়া ফেলে।

    এই মন্তব্যকে ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিঘ্নসৃষ্টিকারী ভূমিকাকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হয়, যদিও কার্নি সরাসরি ট্রাম্পের নাম নেননি।

    পরদিন ট্রাম্প নিজের বক্তব্যে কার্নির সমালোচনা করেন এবং পরে তাকে তার প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’-এ আমন্ত্রণ জানানোও প্রত্যাহার করে নেন।

    প্রথমে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা পরিস্থিতি তদারকির জন্য প্রস্তাবিত এই সংস্থাটি এখন অনেক বিস্তৃত ভূমিকার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে, যা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে—ট্রাম্প হয়তো জাতিসংঘের বিকল্প কিছু গড়তে চাইছেন।

    ট্রাম্প বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই টিকে আছে। মার্ক, পরেরবার বক্তব্য দেওয়ার সময় এটা মনে রাখবেন।’

    এর জবাবে কার্নি বৃহস্পতিবার বলেন, ‘কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে বেঁচে নেই। আমরা সমৃদ্ধ, কারণ আমরা কানাডীয়।’ তবে তিনি দুই দেশের মধ্যে ‘ব্যতিক্রমী অংশীদারত্ব’-এর কথাও স্বীকার করেন।

    কানাডা ব্যাপকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির মোট রপ্তানির তিন-চতুর্থাংশের বেশি যায় যুক্তরাষ্ট্রে।

    অটোমোবাইল, অ্যালুমিনিয়াম ও স্টিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ কানাডীয় খাতগুলো ট্রাম্পের বৈশ্বিক খাতভিত্তিক শুল্কে বড় ধাক্কা খেয়েছে। তবে উত্তর আমেরিকার বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রতি ট্রাম্পের মোটামুটি আনুগত্যের কারণে এর প্রভাব কিছুটা কম ছিল।

    এই চুক্তি সংশোধনের আলোচনা এ বছরের শুরুতেই হওয়ার কথা। ট্রাম্প বারবার দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো কানাডীয় পণ্যের প্রয়োজন নেই—যার প্রভাব কানাডার জন্য ভয়াবহ হতে পারে।

    কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের নির্বাহী সহসভাপতি ম্যাথিউ হোমস এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি আশা করছেন দুই সরকার দ্রুত একটি ভালো সমঝোতায় পৌঁছাবে, যা ব্যবসায়ীদের উদ্বেগ কমাবে।

    চলতি বছর কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করতে যাচ্ছে।

  • ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচার চালাতে আইনগত বাধা নেই : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    ‘হ্যাঁ’র পক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রচার চালাতে আইনগত বাধা নেই : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

    অনলাইন ডেস্ক:   গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচার চালাতে সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে কোনও আইনগত বাধা নেই বলে সাফ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী এবং গণভোট বিষয়ক প্রচার কার্যক্রমের মূখ্য সমন্বয়ক প্রফেসর আলী রীয়াজ।

    তিনি বলেন,জুলাইতে যারা রক্ত দিয়েছেন, যাদের বেওয়ারিশ লাশ এখনো খুঁজে ফিরছেন তাদের স্বজনরা, তারা শুধু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন। সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে একটি বড় ধাপ এই গনভোট। বিদ্যমান সংবিধান, আরপিও, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ কিংবা এই গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশের কোথাও বলা নেই যে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা ইতিবাচক পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলতে পারবেন না। প্রচারণায় আইনগত বাধা আছে এমন কোনো রেফারেন্স কেউ দেখাতে পারবে না। যারা এ বিষয়ে বাধা আছে বলে প্রচার করছে, তারা ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

    সরকারি কর্মকর্তারা নৈতিকভাবে গণভোটের পক্ষে প্রচার করতে পারেন কিনা এমন প্রশ্ন যারা তুলছেন তাদের উদ্দেশ্যে আলী রীয়াজ পালটা প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনারা কোন নৈতিকতার কথা বলছেন- যে নৈতিকতা তাজা তরুণদের রক্তকে, তাদের আত্মদানকে অস্বীকার করে?’

    গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশে সিলেটের বিভাগীয় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

    শনিবার সকালে সিলেট বিভাগীয় ক্রীড়া কমপ্লেক্সে সিলেট বিভাগীয় প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে। বিভাগীয় সদর এবং জেলা ও উপজেলায় কর্মরত সরকারী কর্মকর্তা, বেসরকারী বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

    বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে যারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিবেচনা করে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সমালোচনা করে বিশেষ সহকারী বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে বৈধতা, তার ওপর দাঁড়িয়ে আছে এই অন্তর্বর্তী সরকার। এটা মোটেই কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়। তিনি আরও বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি ম্যান্ডেট নিয়ে কাজ করছে-সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন সরকার আয়োজন করে না; অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে সরকার, আর নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন। একইভাবে বিচারও আদালত পরিচালনা করবে, সরকার শুধু বিচার প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন রাখতে সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করছে। তাই সরকারের মূল ম্যান্ডেটই হলো রাষ্ট্র সংস্কার।

    তিনি বলেন, অনেকে দাবি করেন এমন গণভোট এর আগে কোথাও হয়নি উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, এর আগে ১৯৭২ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ৪৮ টি গণভোট হয়েছে, তার অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরকার গণভোটে হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছে। সুতরাং আন্তর্জাতিকভাবে এটা গ্রহণযোগ্য ব্যবস্থা, নৈতিকভাবে এটা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব এবং আইনগত ভাবে এতে কোনো বাধা নেই ।

    আলী রীয়াজ বলেন, বিগত স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থার যাঁতাকলে যারা পিষ্ট হয়েছেন, অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন, জেলুজুলুমুনিপীড়ন সহ্য করেছেন, গুমের শিকার হয়েছেন, খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, তারা আমাদের হাতে একটা দায়িত্ব দিয়ে গেছেন। এই দায়িত্ব হলো, আগামী দিনে বাংলাদেশ যেন একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উন্নীত হতে পারে তার জন্য যেন আমরা দায়িত্ব পালন করি।

    বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর অপরিমেয় একক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে আলী রীয়াজ বলেন, ২০১১ সালে তৎকালীন সরকার সংবিধান সংশোধনের জন্য যে কমিটি তৈরি করেছিল, সেই কমিটি ২৫টি বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেয় যে কিছু পরিবর্তনসহ তত্ত্বাবধায়ক সরকার অব্যাহত থাকবে। কিন্তু তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে কমিটির একটি মাত্র বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।পুরো তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাটা বাতিল হয়ে যায় একজন মাত্র ব্যক্তির ইচ্ছায়।

    তিনি বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন কমিশন, কর্ম কমিশন অথবা বিচারপতি নিয়োগ রাষ্ট্রপতির করার কথা থাকলেও বাস্তবে এর সবকিছুই প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা অনুসারে হয়। প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব আর সংবিধান নিয়ে এই ছেলেখেলা বন্ধ করার জন্যই জুলাই সনদ এবং গণভোটের আয়োজন করা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, আগের ফ্যাসিবাদী শাসকের আর ফেরার সম্ভাবনা নেই, কিন্তু ফ্যাসিবাদ ফেরার সম্ভাবনা আছে যদি আমরা রাস্তা বন্ধ না করি। চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে অনেক বাবা- মায়ের সন্তান প্রাণ হারিয়েছে। আগামীবার যদি ফ্যাসিবাদ ফিরে আসে তাহলে আমার আপনার সন্তানের প্রাণ যেতে পারে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার এই চক্রকে ভেংগে দিতেই এবারের গণভোট হচ্ছে।

    মনির হায়দার বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে আমাদের যে প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই কিন্ত এই গনভোট। তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে মুক্তিযুদ্ধের যে লক্ষ্যের কথা বলা হয়েছিল, পরবর্তীকালে সেই উদ্দেশ্য আর লক্ষ্যের কথা সংবিধানের মূলনীতিতে আর রাখা হয়নি। ঘোষণাপত্রে উল্লেখিত সেই সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচার তথা ইনসাফ, স্বাধীনতার এই ৫৪ বছর পরও আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারিনি।

    এবারের গণভোট স্বাধীনতার সেই মূল চেতনার আলোকে দেশ গড়ার পথে একটি সুবর্ণ সুযোগ উল্লেখ করে মনির হায়দার এই সুযোগ সবাই যেন কাজে লাগাতে পারে সে লক্ষ্যে নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

    সভায় বিশেষ অতিথি ধর্মসচিব মোঃ কামাল উদ্দিন গণভোটে হ্যাঁ এর পক্ষে প্রচার করা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের দায়িত্ব উল্লেখ করে বলেন গণভোটে হ্যাঁ জয়যুক্ত হলে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সুন্দর বাংলাদেশ রেখে যেতে পারব।

    সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবীর সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এম সরওয়ারউদ্দিন চৌধুরী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান, পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং বিশিষ্ট আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ব্যারিস্টার নাজির আহমদ।

    সভায় সিলেট বিভাগের জেলাসমূহের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন দপ্তরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, সুশীল সমাজ, ব্যবসায়ী এবং এনজিও প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

  • ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের সঙ্গে ‘চুক্তির’ আহ্বান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের

    ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলের সঙ্গে ‘চুক্তির’ আহ্বান অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্টের

    অনলাইন ডেস্ক:   ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ গতকাল শনিবার শান্তির জন্য ‘চুক্তিতে’ পৌঁছানোর জন্য বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার তিন সপ্তাহ পর ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি বিরোধীদের প্রতি এ আহ্বান জানান।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    দেশটির উপকূলীয় রাজ্য লা গুয়াইরা থেকে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় শান্তির বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক বা দলীয় পার্থক্য থাকতে পারে না।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের মত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের একে অপরকে সম্মান জানিয়ে কথা বলতে হবে। আমাদের পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও, আমাদের একত্রিত হতে হবে এবং চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে।’

  • নাটোরে রিটার্নিং অফিসারের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন

    নাটোরে রিটার্নিং অফিসারের ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন

    অনলাইন ডেস্ক:    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে লালপুর ও বাগাতিপাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত নাটোর-১ আসনের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আসমা শাহীন।

    আজ শনিবার দুপুরে গোপালপুর ডিগ্রি কলেজ ভোট কেন্দ্রসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ভোট কেন্দ্র পরিদর্শনকালে সিসি ক্যামেরা স্থাপন, যাতায়াত ব্যবস্থা, কেন্দ্র বিন্যাসসহ অন্যান্য প্রস্তুতির ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মো. জুলহাস হোসেন সৌরভ, গোপালপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ বাবুল আকতার প্রমুখ।