Category: প্রচ্ছদ

  • ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান

    অনলাইন ডেস্ক:      ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭০ শতাংশ মানুষ বিএনপিকে ভোট দিতে চান বলে এক জনমত জরিপে উঠে এসেছে। একই জরিপে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে জনসমর্থন পাওয়া গেছে ১৯ শতাংশ।

    বেসরকারি গবেষণা সংস্থা এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) এই জরিপ পরিচালনা করে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর ফার্মগেটের কেআইবি মিলনায়তনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম হায়দার তালুকদার।

    তিনি জানান, সারা দেশের ৩০০ সংসদীয় আসন থেকে সশরীর ২০ হাজার ৪৯৫ জনের মতামত সংগ্রহ করা হয়েছে। গত বছরের ২০ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত এই জরিপ পরিচালিত হয়।

    জরিপের ফলাফলে দেখা যায়, আগামী নির্বাচনে কাকে ভোট দেবেনএই প্রশ্নের উত্তরে ৭০ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা বিএনপিকে ভোট দেবেন। ১৯ শতাংশ বলেছেন তারা জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দেবেন। এনসিপির পক্ষে ভোট দেওয়ার কথা বলেছেন ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ। অন্যান্য দলকে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন ৫ শতাংশ। ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন ০ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা।

    জরিপে চারটি মূল প্রশ্ন করা হয়। কোন দল সরকার গঠন করবেএমন প্রশ্নে ৭৭ শতাংশ মানুষ মনে করেন বিএনপি সরকার গঠন করবে। ১৭ শতাংশের মতে জামায়াতে ইসলামী সরকার গঠন করতে পারে। এক শতাংশের বেশি উত্তরদাতা মনে করেন এনসিপি সরকার গঠন করবে আগামী নির্বাচনে কে জিতবেএই প্রশ্নের উত্তরে ৭৪ শতাংশ মানুষ বিএনপির বিজয়ের সম্ভাবনা দেখেছেন। ১৮ শতাংশ মনে করেন জামায়াতে ইসলামী জয়ী হবে। এনসিপি জিতবে বলে মনে করেন ১ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ। এক শতাংশের কিছু বেশি উত্তরদাতা জাতীয় পার্টির জয়ের সম্ভাবনার কথা বলেছেন।

    গত নির্বাচনে কাকে ভোট দিয়েছেন বা দেওয়ার ইচ্ছা ছিলএই প্রশ্নের উত্তরে ৩৫ শতাংশ মানুষ জানান তারা বিএনপিকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন। ২৭ শতাংশ জানান তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছেন বা দিতে চেয়েছিলেন। জামায়াতে ইসলামিকে ভোট দিতে চেয়েছিলেন ৫ শতাংশের বেশি উত্তরদাতা

  • ভোররাতে সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত

    ভোররাতে সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত

    অনলাইন ডেস্ক:       সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলাতেও এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৪।

    মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাসহ (ইউএসজিএস) একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল।এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিলেট অঞ্চল এই কেন্দ্রের খুব কাছে হওয়ায় সিলেটে কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে।

  • শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে

    শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে দেশ, তাপমাত্রা নামতে পারে ৭ ডিগ্রিতে

    অনলাইন ডেস্ক:    শৈত্যপ্রবাহের কারণে সোমবার (৫ জানুয়ারি) দেশের বিভিন্ন বিভাগে তাপমাত্রা ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছেন কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ।রোববার (৪ জুানয়ারি) দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

    পোস্টে তিনি লিখেছেন, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে আবারও উত্তর-পশ্চিম ভারত থেকে আগত কুয়াশার বলয় রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোতে প্রবেশ করে। ফলে রোববার সন্ধ্যার পর থেকে আবারও দেশব্যাপী কুয়াশার পরিমাণ ব্যাপক বৃদ্ধি পাওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। তবে সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল থেকে শৈত্যপ্রবাহ তাপমাত্রা শুরু হওয়ার আশঙ্কা করা যাচ্ছে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে বিভিন্ন জেলায়। সোমবার সকাল ৬টার সময় রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের জেলাগুলোতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে আসতে পারে।

    পলাশ আরও লেখেন, রোববার বেলা সাড়ে ৩টায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ থেকে প্রাপ্ত কুয়াশার চিত্র বিশ্লেষণ করে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলার ওপরে কুয়াশার উপস্থিতি দেখা গেছে। সন্ধ্যার পর থেকে পাঁচটি বিভাগের জেলাগুলো ঘন থেকে খুবই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যাওয়ার প্রবল শঙ্কা রয়েছে। দেশের অন্য ৩টি বিভাগের জেলাগুলোর ওপরে হালকা থেকে মাঝারি ঘনত্বের কুয়াশার উপস্থিতি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

    এছাড়া সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা বিভাগের বেশিভাগ জেলায় দুপুর ২টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেও জানান এই আবহাওয়াবিদ।তিনি আরও জানান, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের জেলাগুলো এবং চট্টগ্রাম বিভাগের জেলাগুলোতে সকাল ১০টার আগে সূর্যের আলো দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

  • জাবিতে ২০ বোতল বিদেশি মদসহ শিক্ষার্থী আটক

    জাবিতে ২০ বোতল বিদেশি মদসহ শিক্ষার্থী আটক

    অনলাইন  ডেস্ক:    জাহানঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আবাসিক হল থেকে ২০ বোতল মদসহ অভিযুক্ত শিক্ষার্থীকে আটক করেছে হল প্রশাসন।রোববার (৪ ডিসেম্বর )  রাত ৯টার দিকে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট ও হল সংসদ অভিযান চালিয়ে ৭২৩ নম্বর কক্ষ থেকে মাদকদ্রব্য উদ্ধার করে হল প্রশাসন।

    অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর নাম মো: ফজলে আজওয়াদ, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫২ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং মীর মশারফ হোসেন হলের আবাসিক ছাত্র। তবে সে অবৈধ শিক্ষার্থী হিসেবে কাজী নজরুল ইসলাম হলে থাকতেন। সেইসঙ্গে মীর মশাররফ হোসেন হল সংসদে ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল থেকে সমাজসেবা সম্পাদক পদে নির্বাচন করেছে।

    অভিযান পরিচালনা শেষে হল প্রভোস্ট (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক মুহাম্মাদ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আজকে রাত ৯টার দিকে একটি গোপন সূত্রের ওপর ভিত্তি করে আমরা হল প্রশাসন ও হল সংসদের সদস্যরা ৭২৩ নাম্বার রুমে অভিযান চালাই।

    এ সময় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর টেবিলের লকার থেকে নয় বোতল মাদক উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে খাটের নিচ থেকে আরও ১১ বোতল মদ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত মাদকের মধ্যে ১৭ বোতল ভদকা ও ৩ বোতল হুইস্কি উদ্ধার করা হয়।

    জানা যায়, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বাড়ি জালামপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার তারাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা। সীমান্তবর্তী গ্রাম হওয়ায় সে সহজেই অবৈধভাবে ভারত থেকে আসা মদ ক্রয় করে ক্যাম্পাসে বিক্রি করত। তবে সে এই অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত দাবি করেন সে নিজে খাওয়া ও বন্ধুদের দেওয়ার জন্য এনেছেন।

    তবে অভিযুক্তের কিছু ঘনিষ্ঠসূত্র নিশ্চত করেছে, সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে জামসিং এলাকায় বাসা নিয়ে থাকেন। এই বাসাকে সে মাদককারবারে হাব হিসাবে ব্যবহার করত বলে জানা যায়।

    এ বিষয়ে কাজী নজরুল ইসলাম হল প্রভোস্ট অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এই রুমে যাদের অ্যালোটমেন্ট তারা কেউ থাকে না। আমরা জানতে পেরেছি, অনেকেই এই রুমে এসে মাদক সেবন করে। ফজলে আজওয়াদ সে মীর মশারফ হোসেন (এমএইচ) হলে অ্যালোটেড কিন্তু এখানে এসে থাকে। অভিযান চালানোর পর তার লকার ও খাটের নিচে ভদকা, হুইস্কির বোতল পাওয়া যায়। এখন তদন্ত কমিটি গঠন করে ছাত্র শৃঙ্খলাবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

  • ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    ভেনেজুয়েলায় আগ্রাসন চালিয়ে পুরোনো রূপে যুক্তরাষ্ট্র

    অনলাইন ডেস্ক:     ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর কথিত গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে আবারও আলোচনায় এনেছে—কোন কোন বিশ্বনেতাকে সরাসরি বন্দি করেছে ওয়াশিংটন। অতীতেও কয়েকজন রাষ্ট্রপ্রধানকে এভাবে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্র; তবে প্রতিটি ঘটনাই আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

    মাদুরোর এই ঘটনা তাকে এমন একটি তালিকায় যুক্ত করেছে, যেখানে আগে থেকেই আছেন ইরাকের সাবেক প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন এবং পানামার সাবেক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগার মতো নেতারা; যাদের গ্রেফতার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শনিবার (৩ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেন যে, নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে ব্যাপক সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের ভেনেজুয়েলা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।

    ইতিহাস বলছে, যুক্তরাষ্ট্র খুব কম ক্ষেত্রেই কোনো ক্ষমতাসীন বা সাবেক রাষ্ট্রপ্রধানকে সরাসরি আটক করেছে। তবে সেগুলোর প্রতিটিই সংশ্লিষ্ট দেশের রাজনৈতিক কাঠামো বদলে দিয়েছে।

    ম্যানুয়েল নরিয়েগা: এক সময়ের মিত্র থেকে বন্দি

    যুক্তরাষ্ট্র ১৯৮৯ সালে পানামায় আগ্রাসন চালায়। উদ্দেশ্য ছিল দেশটির সামরিক শাসক ম্যানুয়েল নরিয়েগাকে ক্ষমতাচ্যুত করা। যুক্তরাষ্ট্র এই অভিযানের পক্ষে যুক্তি হিসেবে দেখায়— পানামায় বসবাসরত মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা, অগণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি এবং অবৈধ মাদক ব্যবসা।

    পানামায় হামলার আগেই, ১৯৮৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র মিয়ামিতে নরিয়েগার বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা করে। ঠিক যেমনটি তারা নিকোলাস মাদুরোর ক্ষেত্রেও করেছে।

    নরিয়েগা ১৯৮৫ সালে নিকোলাস আরদিতো বারলেত্তাকে পদত্যাগে বাধ্য করেন। ১৯৮৯ সালের নির্বাচন বাতিল করেন এবং অভিযানের আগে দেশে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী মনোভাবকে সমর্থন দেন।

    পানামায় যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযান সে সময় ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক অভিযান হিসেবে বিবেচিত হয়।

    জেনারেল নরিয়েগা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক কৌশলের প্রতি আগের মতো অনুগত না থাকার লক্ষণ দেখাতে শুরু করলে ওয়াশিংটন তাকে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ বা অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে ঘোষণা করে। পরে অভিযানে চালিয়ে তাকের আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গিয়ে মিয়ামিতে দায়ের করা মামলায় বিচার করা হয়। তিনি সেখানে ২০১০ সাল পর্যন্ত কারাবন্দি ছিলেন। পরে তাকে আরেকটি মামলার বিচারের জন্য ফ্রান্সে প্রত্যর্পণ করা হয়। এক বছর পর ফ্রান্স তাকে আবার পানামায় পাঠিয়ে দেয়। পানামার কারাগারেই ২০১৭ সালে নরিয়েগার মৃত্যু হয়।

    সাদ্দাম হোসেন: যুদ্ধের পরিণতি ও ফাঁসি

    ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হুসেইনকে ২০০৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা গ্রেফতার করে। এর ঠিক নয় মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে আগ্রাসন ও দখলদারিত্ব শুরু হয়; যার পেছনে যুক্তি হিসেবে বাগদাদের কাছে গণবিধ্বংসী অস্ত্র (ডব্লিউএমডি) থাকার অভিযোগ তোলা হয়। যে অভিযোগ পরে মিথ্যা প্রমাণিত হয়।

    নরিয়েগার মতোই সাদ্দামও দীর্ঘদিন যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ছিলেন। বিশেষ করে ১৯৮০– এর দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময়; যে যুদ্ধে প্রায় ১০ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় তিনি ওয়াশিংটনের সমর্থন পেয়েছিলেন।

    ২০০৩ সালের যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্র আরও দাবি করে— সাদ্দাম আল-কায়েদার মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন দিতেন। যদিও এই অভিযোগেরও কোনো ভিত্তি ছিলো না।

    মার্কিন আগ্রাসনের নয় মাস পর ধরা পড়েন সাদ্দাম হোসেন। তিনি নিজ শহর তিকরিতের কাছে একটি গর্তে লুকিয়ে থাকা অবস্থায় আটক করা হন। পরবর্তীতে তাকে ইরাকের একটি আদালতে বিচার করা হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার দণ্ড কার্যকর করা হয়।

    হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজ: গ্রেফতার থেকে ক্ষমা

    হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের ঘটনাটিকে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিচারিতামূলক আচরণের একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন অনেক পর্যবেক্ষক।

    ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে, প্রেসিডেন্ট পদ ছাড়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় রাজধানী তেগুসিগালপায় নিজ বাসভবন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্ট ও হন্ডুরাসের নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ অভিযানে হার্নান্দেজকে গ্রেফতার করা হয়।

    ২০২২ সালের এপ্রিল মাসে তাকে দুর্নীতি ও অবৈধ মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। একই বছরের জুনে একটি মার্কিন আদালত তাকে ৪৫ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে।

    তবে নাটকীয়ভাবে, ২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজকে ক্ষমা করে দেন।

    এর কয়েক দিনের মধ্যেই হন্ডুরাসের প্রধান কৌঁসুলি হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মাথায় সাবেক এই নেতাকে ঘিরে দেশটিতে নতুন করে আইনি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তীব্র হয়ে ওঠে।

  • নতুন বছরের শুরুতেই বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

    নতুন বছরের শুরুতেই বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম

    অনলাইন ডেস্ক: নতুন বছরের শুরুতেই ভোক্তাদের জন্য আবারও বাড়ানো হলো তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস এলপিজির দাম। জানুয়ারি মাসের জন্য ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫৩ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি। এই নতুন দাম রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    বিইআরসির ঘোষণায় বলা হয়, আগের মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ২৫৩ টাকা। জানুয়ারির জন্য সেটি বাড়িয়ে নতুন করে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

    বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, জানুয়ারি মাসের জন্য মূল্য সমন্বয়ের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির মূল্য ওঠানামার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশন নতুন দাম নির্ধারণ করেছে।”

    ডিসেম্বর মাসে সর্বশেষ এলপিজির দাম সমন্বয় করা হয়েছিল। সে সময় ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩৮ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ২৫৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এক মাসের ব্যবধানে আবারও দাম বাড়ায় ভোক্তাদের ব্যয় আরও বাড়লো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

    এদিকে, জানুয়ারি মাসের জন্য অটোগ্যাসের দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ৫৭ টাকা ৩২ পয়সা থেকে ২ টাকা ৪৮ পয়সা বাড়িয়ে ৫৯ টাকা ৮০ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই দামও রোববার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

    এলপিজির দাম বাড়ায় বাসাবাড়িতে রান্নার খরচ যেমন বাড়বে, তেমনি অটোগ্যাস ব্যবহারকারী যানবাহনের পরিচালন ব্যয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।