Category: প্রচ্ছদ

  • যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘন করেছে ইসরাইল : হামাস

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি একাধিকবার লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে হামাস। সংগঠনটির দাবি, ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৪৬ ফিলিস্তিনি নিহত এবং ১৩০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।এক প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে ডেইলি সাবাহ।

    রোববার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘ইসরাইলি দখলদার বাহিনী ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের টার্গেট করে অনুমোদিত এলাকায় গুলি চালিয়েছে, যার ফলে ৪৬ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন।”

    হামাসের দাবি, নিহতদের অর্ধেকই শিশু, নারী ও প্রবীণ। নিহতদের মধ্যে আবু শাবান পরিবারও রয়েছে, যাদের সাত শিশু ও দুই নারীসহ পুরো পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে।

    বিবৃতিতে হামাস আরও জানায়, এসব ইসরাইলি লঙ্ঘন যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ‘বিপর্যস্ত ও ব্যাহত করার প্রচেষ্টা এবং আগ্রাসী নীতির ধারাবাহিকতা।’

    সংগঠনটি অভিযোগ করে, ইসরাইল এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সত্ত্বেও গাজায় মাংস, হাঁস-মুরগি, পশুপালনজাত দ্রব্য, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নির্মাণ সামগ্রী ও হাসপাতাল পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে।

    এছাড়া ইসরাইল নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বন্দিদের মুক্তি দিতেও দেরি করছে এবং এখনো পর্যন্ত বন্দিদের পূর্ণ তালিকা কিংবা ইসরাইলি হেফাজতে থাকা শতাধিক ফিলিস্তিনির মরদেহের তালিকা হামাসকে দেয়নি বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।

    হামাস জানায়, সম্প্রতি ইসরাইল ১৫০ জন ফিলিস্তিনির মরদেহ ফেরত দিয়েছে, যাদের মধ্যে কিছু মরদেহে হাতকড়া পরানো, গলায় চিহ্ন বা সামরিক যানচাপার স্পষ্ট দাগ ছিল।

    তবু হামাস জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রতি সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থেকে সুনির্দিষ্টভাবে তা বাস্তবায়ন করছে। তারা মধ্যস্থতাকারী ও নিশ্চয়তাদাতাদের প্রতি আহ্বান জানায়, যেন ইসরাইলকে ‘চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে মেনে চলতে বাধ্য করা হয় এবং এমন লঙ্ঘন বন্ধ করা হয় যা চুক্তিকে বিপন্ন করছে।’

    উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন পরিকল্পনার ভিত্তিতে ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গাজা পুনর্গঠন এবং হামাসবিহীন নতুন প্রশাসনিক কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথাও রয়েছে।

    গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৮,২০০ জন নিহত এবং ১,৭০,২০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

  • পোশাকশিল্পে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড: নাশকতার গন্ধে শঙ্কিত দেশ

    পোশাকশিল্পে ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড: নাশকতার গন্ধে শঙ্কিত দেশ

    দেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিত নাশকতার আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। সর্বত্র একটিই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে কি এবার টার্গেট করা হয়েছে দেশের রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পকে? গত এক সপ্তাহে একের পর এক অগ্নিকাণ্ডের ধরন ও প্রেক্ষাপট সেই সন্দেহকে আরও দৃঢ় করেছে। শিল্পমালিকদের ধারণা, দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে গার্মেন্টস শিল্পে আগুন লাগানো হচ্ছে—যা এই খাতকে ধ্বংসের জন্য ভয়াবহ অপচেষ্টা হতে পারে। ফলে শিল্পাঞ্চলগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি উঠেছে সব মহল থেকেই।

    পুলিশের উচ্চপর্যায়ের সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশের গোয়েন্দা সংস্থা ছাড়াও বিভিন্ন ইউনিট সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থাও নিজ নিজ অবস্থান থেকে সরকারকে সঠিক তথ্য দিতে তৎপরতা জোরদার করেছে।

    একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, গণ-অভ্যুত্থানবিরোধী শক্তিগুলো সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে নানাভাবে সক্রিয় রয়েছে। গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তারা বিভিন্ন পন্থায় একের পর এক আঘাতের অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে। সেই সময় সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকায় গুজব ছড়িয়ে বহু কারখানা ভাঙচুর করা হয়, যা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ প্রচেষ্টায় প্রতিহত হয়। তবে দেশবিরোধী চক্রটি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে তিনটি অগ্নিকাণ্ড—যেগুলো সবই গার্মেন্টস ও শিল্পসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় ঘটেছে—সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে। বিদেশে বসে সরকারবিরোধী হুমকি দেওয়া কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর সঙ্গে এসব ঘটনার যোগসূত্র থাকার যুক্তিও খণ্ডন করা যাচ্ছে না।

    গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এ কারণে অগ্নিকাণ্ডের শিকার প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের রাজনৈতিক পরিচয় ও নানামুখী সংযোগ খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশবিরোধী কিছু মহল দীর্ঘদিন ধরেই দেশের তৈরি পোশাকশিল্পের ভাবমূর্তি নষ্টে তৎপর। শ্রমিক নিরাপত্তা, মজুরি, কর্মপরিবেশ ও ট্রেড ইউনিয়ন ইস্যুতে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে, যার ধারাবাহিকতা হতে পারে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডগুলোও।

    এমনকি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিছু গার্মেন্ট মালিকও ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন—যারা অতীতে বিভিন্নভাবে রাজনৈতিক সুবিধা নিয়েছেন। তাদের কেউ কেউ শ্রমিক আন্দোলন উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলেও জানা যায়।

    ঘটনাগুলোর ভয়াবহতা বিবেচনায় এখন প্রশ্ন উঠছে—এসব নিছক দুর্ঘটনা, নাকি পরিকল্পিত নাশকতা? ১৪ অক্টোবর মিরপুরের শিয়ালবাড়ির আগুনে ১৬ শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু, ১৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম ইপিজেডে পোশাক কারখানায় আগুন, এবং সর্বশেষ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড—সবগুলোই সন্দেহজনক প্রেক্ষাপটে ঘটেছে।

    বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম কার্গো ভিলেজের অগ্নিকাণ্ডকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, এমন সংবেদনশীল স্থানে আগুন লাগা নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন তোলে। তিনি সরকারের দ্রুত তদন্ত দাবি করে বলেন, সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অগ্নিকাণ্ড উদ্যোক্তাদের মনে ভয় সৃষ্টি করেছে, যা বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।

    বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল আরও স্পষ্ট করে বলেন, “বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পকে ধ্বংসে পরিকল্পিতভাবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো ঘটানো হচ্ছে।” তাঁর মতে, বিমানবন্দরের মতো উচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত এলাকায় আগুন লাগা নিছক কাকতালীয় হতে পারে না। তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে গতি আনার আহ্বান জানিয়েছেন এবং শিল্পাঞ্চলে দ্রুত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।

    বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানও দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, ক্ষতিগ্রস্তদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন না হলে এই খাতের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার কঠিন হবে।

    বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্প শুধু অর্থনীতির মেরুদণ্ড নয়, লাখো মানুষের জীবিকার উৎস। তাই এই শিল্পকে লক্ষ্য করে যেকোনো নাশকতা বা ষড়যন্ত্র জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে সরাসরি আঘাত। সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সমন্বিত পদক্ষেপই পারে এই চক্রকে চিহ্নিত ও দমন করতে। নইলে দেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত এবং এর সঙ্গে জড়িত কোটি মানুষের জীবিকা গভীর সংকটে পড়বে—যার দায়ভার গোটা জাতিকেই বহন করতে হবে।

  • আন্দোলনরত শিক্ষকরা এখন শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন, আশা শিক্ষা উপদেষ্টার

    আন্দোলনরত শিক্ষকরা এখন শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন, আশা শিক্ষা উপদেষ্টার

    অনলাইন ডেস্ক:    বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) ঘোষণার পর আন্দোলনরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা ক্লাসে ফিরে যাবেন বলে আশা করছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার।

    উপদেষ্টা বলেন, আমরা মনে করি শিক্ষক সমাজের অনেক বেশি পাওয়া দরকার। কিন্তু বর্তমান সীমাবদ্ধতার কারণে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, অর্থ মন্ত্রণালয় বরাদ্দ করেছে। সেটা আমাদের দিক থেকে চেষ্টা করেছি যথেষ্ট। আমি মনে করি, এখন আন্দোলনরত শিক্ষক যারা রয়েছেন, তারা শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবেন। শিক্ষা কার্যক্রম স্কুলগুলোতে শুরু হবে।

    চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, যেসব জায়গায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, আমরা আশা করি দায়িত্বশীলতার সঙ্গে আমরা যতটুকু করেছি, শিক্ষক সমাজ সেটাকে গ্রহণ করে তারা যেন ফিরে যান এবং ক্লাস যাতে তারা শুরু করেন। এই আবেদন আমি তাদের কাছে রাখছি।

    এদিকে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে জানানো হয়, সরকারের বিদ্যমান বাজেটের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া ভাতা মূল বেতনের ৫ শতাংশ হারে (সর্বনিম্ন ২০০০ টাকা) করা হলো। এ আদেশ নভেম্বর মাস থেকে কার্যকর হবে।

    যদিও শিক্ষকরা ৫ শতাংশ হারে দেওয়া বাড়িভাড়ার আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। একই সঙ্গে তার অনশনসহ সব ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

  • জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল গণফোরাম

    জুলাই সনদে স্বাক্ষর করল গণফোরাম

    অনলাইন ডেস্ক:    জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে গণফোরাম। এ নিয়ে মোট ২৫টি দল সনদে সই করলো। রোববার (১৯ অক্টোবর) সংসদ ভবনের এলডি হলে এই সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হয়।সনদে স্বাক্ষর শেষে দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, বাহাত্তরের চার মূলনীতি থাকলে জুলাই সনদ পূর্ণতা পেতো। তবে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সংশোধনের আশ্বাস পেয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছে গণফোরাম। নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার বর্তমান সরকার পেয়েছে, সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সবার।

    ঐকমত্যে কমিশনের সহ-সভাপতি ড. আলী রীয়াজ বলেন, গণফোরাম বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামো প্রক্রিয়ার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। নতুন রাষ্ট্র সংস্কারের সাথেও দলটি জড়িত থাকবে। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই জুলাই সনদের সবচেয়ে বড় অংশীদার। এই দলিল ঐকমত্য কমিশনের একক দলিল নয়, এটি সবার রাজনৈতিক অঙ্গীকার। এ সময় এখনও জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করা দলগুলোকে সই করার আহ্বান জানান তিনি।

    প্রসঙ্গত, এখনও পর্যন্ত জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), বাসদ (মার্ক্সবাদী) ও বাংলাদেশ জাসদ সই করেনি।

  • এখনো ধোঁয়া উড়ছে কার্গো ভিলেজে, চলছে উদ্ধারকাজ

    এখনো ধোঁয়া উড়ছে কার্গো ভিলেজে, চলছে উদ্ধারকাজ

    অনলাইন ডেস্ক:   রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনের চারপাশে রোববার সকালেও ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা এখনো দুই পাশ থেকে পানি ছিটিয়ে ঠাণ্ডা করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিমানবন্দরের সামনের অংশে কৌতূহলী মানুষের ভিড় দেখা গেছে। তবে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের সদর দপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লিমা খানম জানান, “এখনো উদ্ধারকাজ চলছে। আগুন পুরোপুরি নেভানো হলেও ধোঁয়া নিরসনের কাজ অব্যাহত আছে।”

    ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার মো. মুহিদুল ইসলাম বলেন, “ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে কাজ করছে। নিরাপত্তার জন্য বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি।”

    গতকাল শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ কমপ্লেক্স ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট, পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী ও বিজিবি সদস্যরা। সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে এবং রাত ৯টার দিকে বিমানবন্দর পুনরায় চালু হয়।

    প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, কার্গো ভিলেজের যে অংশে আগুন লেগেছিল, সেখানে আমদানি করা পণ্যসামগ্রী রাখা ছিল। আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা যায়নি।অগ্নিকাণ্ডের ফলে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

    কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী।এছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন এনবিআরের প্রথম সচিব মো. রইচ উদ্দিন খান, মো. তারেক হাসান, ঢাকা কাস্টম হাউসের যুগ্ম কমিশনার মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব পঙ্কজ বড়ুয়া।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে সৃষ্ট সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কমিটিকে দ্রুততম সময়ে অগ্নিকাণ্ডে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা কাস্টম হাউসের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, যাতে বাণিজ্য কার্যক্রমে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।

    অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে ৭ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। কমিটিকে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে হবে। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিমানের ফ্লাইট সেফটি চিফ।

    সদস্য হিসেবে থাকবেন-বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, বিমানের মহাব্যবস্থাপক (কর্পোরেট সেফটি অ্যান্ড কোয়ালিটি), চিফ ইঞ্জিনিয়ার (কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স), উপ-মহাব্যবস্থাপক (সিকিউরিটি) ও উপ-মহাব্যবস্থাপক (কার্গো-রপ্তানি)।

    আর সদস্য সচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিমানের উপ-ব্যবস্থাপককে (ইনস্যুরেন্স)।কমিটিকে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, দায়ীদের চিহ্নিতকরণ ও ভবিষ্যতে অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধে সুপারিশমালা পেশ করতে হবে।

  • যে দেশে মানুষের চেয়ে বিড়াল বেশি

    যে দেশে মানুষের চেয়ে বিড়াল বেশি

    অনলাইন ডেস্ক:     ভূমধ্যসাগরের পূর্ব কোণের ছোট্ট দ্বীপদেশ সাইপ্রাস। দেশটির মোট জনসংখ্যা ১০ লাখের কিছু বেশি। ইউরোপীয় ইউনিয়নটি এক অদ্ভুত সমস্যায় পড়েছে।  দেশটিতে এখন মানুষপ্রতি একটি বিড়াল।  খবর এপি’র। যদিও কেউ কেউ দাবি করেন, আদতে বিড়ালের সংখ্যা মানুষের চেয়েও বেশি।

    মধুর এ যন্ত্রণা থেকে রক্ষা পেতে সাইপ্রাসে সরকারিভাবে বিড়ালের জন্মহার নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালু আছে। কিন্তু এরপরও বিড়ালের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। তাই দাবি উঠেছে, বিড়ালের প্রজননক্ষমতা নিষ্ক্রিয় করতে বর্তমান প্রকল্প যথেষ্ট নয়।

    গত মাসের শেষের দিকে সাইপ্রাসের পার্লামেন্টের পরিবেশবিষয়ক কমিটি থেকেই এই দাবি তোলা হয়। পরিবেশ কমিশনার অ্যান্টোনিয়া থিওদোসিওউ বলেন, এটা (বর্তমান) ভালো প্রকল্প, কিন্তু এর আরও বিস্তার ঘটানো দরকার।

    বর্তমান প্রকল্পে বছরে মাত্র দুই হাজার বিড়ালকে স্টেরিলাইজেশন বা প্রজনন অক্ষম করা হয়। এ জন্য বাজেটে বরাদ্দ মাত্র এক লাখ ইউরো।

    সাইপ্রাসে বিড়াল ও মানুষের সংখ্যাগত অনুপাত ঠিক কত, তার আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। তবে পরিবেশ কমিশনার থিওদোসিওউ বলেন, সাইপ্রাসকে এখন সবাই মানুষের চেয়ে বেশি বিড়াল থাকা দেশ হিসেবে চেনে।

    পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে বিড়ালকে প্রজনন অক্ষম করার প্রকল্পে অর্থ বরাদ্দ বাড়াতেই হবে। কিন্তু শুধু অর্থ বরাদ্দ বাড়িয়ে বিড়াল সমস্যার সমাধান কি সম্ভব?সাইপ্রাসের মানুষ বিড়ালপ্রেমী। বিড়ালের প্রতি তাদের ভালোবাসার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। এ কারণে দেশটিতে সড়কের পাশে বিড়ালের খাবারভর্তি পাত্র আর সেগুলোর জন্য ছোট ছোট ঘর দেখা যায়।

    সাইপ্রাসের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তির একটি হচ্ছে পর্যটন। প্রতিবছর লাখ লাখ পর্যটক বিড়াল দেখতে দেশটিতে আসেন। তাই বিড়ালের জন্মহার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে।