Category: প্রচ্ছদ

  • সংসদীয় সীমানা: ঢাকা অঞ্চলের দাবি ও আপত্তির ওপর শুনানি গ্রহণ করছে ইসি

    সংসদীয় সীমানা: ঢাকা অঞ্চলের দাবি ও আপত্তির ওপর শুনানি গ্রহণ করছে ইসি

    অনলাইন ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আজ মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের মতো সংসদীয় আসনের পুনঃনির্ধারিত সীমানার বিষয়ে ঢাকা অঞ্চলের দাবি ও আপত্তির ওপর শুনানি শুরু হয়েছে।

    মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মানিকগঞ্জ-১, ২, ৩ নরসিংদী-৪ ও ৫ নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪, ৫; আড়াইটা থেকে ৫টা পর্যন্ত ঢাকা-১, ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৭, ১০, ১৪, ১৫, ১৬, ১৮ ও ১৯ আসনের ওপর শুনানি চলবে।

    রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে এই শুনানি শুরু হয়েছে। শুনানি চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। শুনানিতে অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ইসি সচিবালয়ের সচিব অংশ নিয়েছেন।

    শুনানিতে সংসদীয় আসনের পুনঃনির্ধারিত সীমানার বিষয়ে দাবি ও আপত্তি নিয়ে আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করছেন। এছাড়া আবেদনকারীরা নিজেরাও শুনানি করছেন। দাবি ও আপত্তি বিষয়ে ইসি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনছেন এবং আইন ও বিধি অনুযায়ী নিরপেক্ষভাবে সমাধানের আশ্বাস দিচ্ছেন।

    আগামীকাল ২৭ আগস্ট রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও সিলেট অঞ্চলের দাবি আপত্তির ওপর শুনানি হবে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পঞ্চগড়-১, ২, রংপুর-১, কুড়িগ্রাম-৪, সিরাজগঞ্জ-২, ৫, ৬, পাবনা-১; আড়াইটা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল-৬, জামালপুর-২, কিশোরগঞ্জ-১, সিলেট-১, ফরিদপুর- ১, ৪, মাদারীপুর-২, ৩, শরীয়তপুর-২ ও ৩ আসনের শুনানি হবে।

    শুনানি শেষে রায় সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেবে ইসির আইন শাখা।

    গত ১০ আগস্ট পর্যন্ত মোট ৮৩টি আসনের সীমানা নিয়ে ১ হাজার ৭৬০টি দাবি আপত্তি জমা পড়ে ইসিতে। এগুলো নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত সীমানা প্রকাশ করবে ইসি।

  • ৭ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ

    ৭ জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ

    অনলাইন ডেস্ক: দেশের সাত জেলায় নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দিয়েছে সরকার। পাশাপাশি ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। আজ সোমবার (২৫ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগ ও বদলির আদেশ দেয়। প্রজ্ঞাপনে সই করেছেন উপসচিব মো. মাহবুবুর রহমান।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বরগুনা, বাগেরহাট, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, মেহেরপুর, নড়াইল ও নাটোরে নতুন পুলিশ সুপার নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এই রদবদলে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) মো. জিল্লুর রহমানকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

    অন্যদিকে, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিআইজি) ফারুক আহমেদকে র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (ডিআইজি) পদে বদলি করা হয়েছে। নতুন এই আদেশে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনা পিটিসির কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী।

    এ ছাড়াও কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ডিআইজি মো. সায়েদুর রহমান।

  • মব বা মৃত্যুতে আমার ভয় নেই: ফজলুর রহমান

    মব বা মৃত্যুতে আমার ভয় নেই: ফজলুর রহমান

    অনলাইন ডেস্ক : বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান বলেছেন, আমি দুর্নীতি দমন কমিশন ভবনের সামনের কনকর্ড বিল্ডিংয়ে থাকি। সকালে উঠে শুনি সাত থেকে আটজন শিক্ষার্থী ফজলুর রহমানের বিষয়ে স্লোগান দিচ্ছে। এখন তারা আমাকে মারতে চায়, মব সৃষ্টি করতে চায়। মব বা মৃত্যুতে আমার ভয় নেই।  আমি মৃত্যুকে সামনে রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া মানুষ।

    তিনি বলেন, আমার বাসার সামনে ৭ থেকে ৮ জন ছেলে-মেয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। এদিকে ফ্রান্স থেকে দুই ইউটিউবার আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

    জামায়াত কালো শক্তি, ৫ আগস্ট ঘটিয়েছে— এমন কথা তিনি আমি বলেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা বানানো হতে পারে। আমার সব বক্তব্য আপনারা শুনুন।

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বলেন, আমাকে প্রমাণ দেখান আমি কোথায় এ কথা বলেছি। পুরো বক্তব্যটা বাজাতে হবে। শুধু ইউটিউবের দুই লাইন বললে হবে না। এমন কোনো বক্তব্য আমি দিইনি। পুরো ভিডিও দেখে প্রমাণ করতে পারলে আমি ক্ষমা চাইব।

    এখন তো অনেক কিছু বানানো হচ্ছে। এটা বানানো হতে পারে দাবি করে তিনি বলেন, যদি প্রমাণ হয় আমি এটা বলেছি তাহলে ক্ষমা চাইব।

    বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া কারণ দর্শানো নোটিশের বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, রোববার রাত ৯টার দিকে আমি নোটিশ পেয়েছি। একজন বার্তাবাহক নোটিশ আমার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি নোটিশের জবাব দেওয়ার।

    জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নিয়ে ক্রমাগত বিতর্কিত ও বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে ফজলুর রহমানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে নোটিশের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

  • কলেজে শিক্ষা কোটায় ভর্তিতে যেসব শর্ত মানতে হবে

    কলেজে শিক্ষা কোটায় ভর্তিতে যেসব শর্ত মানতে হবে

    অনলাইন ডেস্ক: একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত (ইকিউ-১ ও ইকিউ-২) কোটার ক্ষেত্রে কঠোর শর্তাবলি ঘোষণা করেছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। কোটার সুযোগ নিতে হলে প্রার্থীদের যথাযথ প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে, অন্যথায় ভর্তি সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে।

    সম্প্রতি এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা জারি করেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. খন্দোকার এহসানুল কবির।

    এতে বলা হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালা-২০২৫ অনুযায়ী ইকিউ-১ ও ইকিউ-২ কোটায় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট যোগ্যতা থাকতে হবে। এরমধ্যে ইকিউ-১ (এডুকেশন কোটা-১) কেবল শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য প্রযোজ্য হবে। অন্যদিকে ইকিউ-২ (এডুকেশন কোটা-২) নির্ধারণ করা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২৮টি দপ্তর, অধিদপ্তর ও সংস্থায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানের জন্য।

    এই ২৮টি দপ্তরের মধ্যে রয়েছে— বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, এনটিআরসিএ, ব্যানবেইস, জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (নায়েম), আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডগুলোসহ আরও বেশ কয়েকটি সংস্থা।

    এছাড়া সরকারি স্কুল, সরকারি কলেজ, সরকারি স্কুল-অ্যান্ড-কলেজ এবং সরকারি শিক্ষা অফিসে কর্মরত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সন্তানের ক্ষেত্রেও ইকিউ-২ কোটার সুযোগ প্রযোজ্য হবে।

    নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, এই কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে প্রমাণপত্র বা প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল হবে।

    আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও কোটা সুবিধায় আবেদন বা নিশ্চায়ন করেছেন। এমন ক্ষেত্রে তাদেরকে অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে আবেদন বা নিশ্চায়ন বাতিল করে নতুনভাবে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

    গত ১০ আগস্ট জানানো হয়, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির নীতিমালায় এবার বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরগুলোতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানরা। ওইদিনই প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও অধ্যক্ষদের কাছে এ বিষয়ে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে।

    যেভাবে হচ্ছে কোটার সামগ্রিক বণ্টন

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ভর্তি নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি কলেজে মোট আসনের ৯৩ শতাংশ উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্য। বাকি ৭ শতাংশ সংরক্ষিত কোটার মধ্যে— ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের জন্য, ১ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য (ইকিউ-১) এবং বাকি ১ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর, সংস্থা ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য (ইকিউ-২) প্রযোজ্য হবে।

    তবে সংরক্ষিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে সেসব আসনে মেধার ভিত্তিতে ভর্তি করানো হবে বলেও জানিয়েছে বোর্ড।

  • অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়া হবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: হারিয়ে যাওয়া বা লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে তথ্যদাতাকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    আজ সোমবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সাংবাদিকদের এ কথা জানান ।

    তিনি আরো জানান, পিস্তল ও শটগান উদ্ধারে তথ্য দিলে ৫০ হাজার টাকা, চায়না রাইফেল উদ্ধার করলে ১ লাখ, এসএমজি দেড় লাখ, এলএমজি ৫ লাখ ও প্রতি গুলির ক্ষেত্রে ৫০০ টাকা পুরস্কার দেয়া হবে। এক্ষেত্রে  তথ্যদাতাদের পরিচয় গোপন রাখা হবে।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনের বিষয়টি নির্ভর করছে জনগণ এবং রাজনৈতিক দলের ওপর। তারা যখন নির্বাচনমুখী হয়ে যাবে তখন সমস্যা কমে যাবে। সবার সহযোগিতায় আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করতে পারবো । এখন দেখা যাচ্ছে আপনারা(সাংবাদিক), জনগণ ও রাজনৈতিক পার্টি নির্বাচনমুখী। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন একটি উৎসবমুখর পরিবেশে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আমরা সেইভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।

    তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নিয়োগ বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে বন্ধ এবং এ ব্যাপারে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়ম দেখলে জানাবেন। আশা করছি সবসময় সত্য রিপোর্টিং করবেন, তবে ভুল রিপোর্টিং করবেন না। তবে আমরা দেখেছি আপনারা (সাংবাদিক) সব সময় সত্য রিপোর্টিং করছেন। বিদেশি কোন বিষয়েও আপনারা প্রকৃত সত্য তুলে ধরেছেন। সত্য প্রকাশ করেছেন।

    গাজীপুরের পুলিশ কমিশনারের আসা যাওয়ার সময় রাস্তা বন্ধ করে রাখার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আইজিপি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ বিষয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে।

  • রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব অধ্যাপক ইউনূসের

    রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব অধ্যাপক ইউনূসের

    অনলাইন ডেস্ক: কক্সবাজার, ২৫ আগস্ট, ২০২৫ (বাসস) : অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি আজ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা অংশীজন সংলাপে দেয়া বক্তব্যে এ আহ্বান জানান ।

    তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান নিপীড়ন ও বাস্তুচ্যুতি থামাতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

    অধ্যাপক ইউনূস তার বক্তব্যে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে যে সাত দফা প্রস্তাব তুলে ধরেন তার মধ্যে রয়েছে—রোহিঙ্গাদের দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ প্রণয়ন, দাতাদের অব্যাহত সমর্থন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মির কাছে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে গঠনমূলক সংলাপ ও অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সক্রিয় ভূমিকা, গণহত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক আদালতে জবাবদিহিতা ত্বরান্বিত করা।

    রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরতে গতকাল রোববার থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘স্টেকহোল্ডার্স’ ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’।

    আজ স্থানীয় হোটেল বে ওয়াচে আয়োজিত এই সংলাপের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধান উপদেষ্টা।

    উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক ইউনূস রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় সাত দফা প্রস্তাব তুলে আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে দ্রুত, নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ, স্বেচ্ছায় এবং টেকসই প্রত্যাবর্তনের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে। এ প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘রোহিঙ্গাদের জন্মভূমির সাথে তাদের নাড়ির সম্পর্ক ছিন্ন করা যায় না। এখন আর কেবল বক্তব্যে সীমাবদ্ধ থাকা যাবে না। কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এখনই।’

    এছাড়া তিনি দাতাদের ও মানবিক অংশীদারদের অব্যাহত সহায়তার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক দাতাদের কাছে আবেদন জানাই যাতে তারা তাদের অঙ্গীকার বাড়ায় এবং ২০২৫-২৬ সালের যৌথ প্রতিক্রিয়া পরিকল্পনার তহবিল ঘাটতি পূরণ করে।’

    একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ ও আরাকান আর্মিকে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও জীবিকা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

    সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকাকে অপরিহার্য উল্লেখ করে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আসিয়ান ও প্রতিবেশী দেশগুলিকে আরও সক্রিয়ভাবে রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে মানবপাচার, মাদক চোরাচালান ও ক্ষুদ্র অস্ত্রের অবৈধ ব্যবসার মতো আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও উদ্যোগী হতে হবে।

    রোহিঙ্গা সমস্যা এবং এর টেকসই সমাধানকে বৈশ্বিক এজেন্ডায় রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা নিজ দেশে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত আমাদের সমর্থনের প্রয়োজন হবে। এই সংহতির চেতনায়, গত রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এবং আমি কক্সবাজারে এক লাখ রোহিঙ্গার সাথে একত্রে ইফতার করেছি। আমরা স্পষ্টভাবে রোহিঙ্গাদের আকুল ইচ্ছা শুনেছি—যত দ্রুত সম্ভব তারা তাদের ঘরে ফিরে যেতে চায়।’

    গত বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিন দফা প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন,‘ আমার আহ্বানকে স্বীকৃতি জানিয়ে এ বছরের সাধারণ পরিষদে উচ্চ পর্যায়ের সম্মেলনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমি আশা করি কক্সবাজারের এই সংলাপ নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে যথেষ্ট অবদান রাখবে এবং রোহিঙ্গা সংকটের দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানের রোডম্যাপ তৈরিতে সহায়ক হবে’।

    অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে ২০১৭ সালের আগস্টের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, সেই বর্বরোচিত আক্রমণ ও নিপীড়ন এখনও চলমান।’

    তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমি থেকে সম্পূর্ণভাবে উচ্ছেদ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সীমিত সম্পদ থাকা সত্ত্বেও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গার সংখ্যা ১৩ লাখ, যা কক্সবাজারকে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী শিবিরে পরিণত করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রতিবছর প্রায় ৩২ হাজার নতুন শিশু রোহিঙ্গা শিবিরে জন্ম নিচ্ছে, অথচ মিয়ানমারে এখন পাঁচ লাখেরও কম রোহিঙ্গা রয়েছে। এটি প্রমাণ করে, চলমান নিপীড়নের কারণে তারা মাতৃভূমি ত্যাগ করতে বাধ্য হচ্ছে।’

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দীর্ঘ আট বছরে কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানালেও সতর্ক করে দেন যে দেশীয় উৎস থেকে আর কোনো সম্পদ জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই সংকট নিরসনে বৈশ্বিক সহযোগিতা এখন অত্যন্ত জরুরি।

    তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের সূত্রপাত মিয়ানমার থেকে। সমাধানও সেখানেই নিহিত। সকল পক্ষকে দ্রুততম সময়ে কঠিন দৃঢ়তার সাথে এই সংকটের অবসান ঘটাতে হবে।’

    রোহিঙ্গাদের উদ্দেশ্যে অধ্যাপক ইউনূস আশ্বাস দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তাদের পাশে রয়েছে এবং তাদের মাতৃভূমিতে দ্রুত ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘চলুন আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে তাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবর্তনে অবদান রাখার অঙ্গীকার করি, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করি।’

    অনুষ্ঠানে  রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, বীর প্রতীক, রোহিঙ্গা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) সহকারী হাইকমিশনার রাউফ মাজু বক্তব্য রাখেন।

    সংলাপে বিভিন্ন দেশের কুটনীতিক, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিকদলের নেতৃবৃন্দ, আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা যোগ দিয়েছেন।