Category: প্রচ্ছদ

  • সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রায় ২ সেপ্টেম্বর

    সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে রায় ২ সেপ্টেম্বর

    অনলাইন ডেস্ক: বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তির দিকে দেশ এগোচ্ছে। হাইকোর্ট আগামী সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) এই বিষয়ে রায় ঘোষণা করবেন।

    বুধবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান এবং ইন্টারভেনর হিসেবে যুক্ত ছিলেন অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম।

    বর্তমান সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, পদোন্নতি, বদলি, ছুটি মঞ্জুর ও শৃঙ্খলা বিধানের ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির হাতে, যা তিনি সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করেন। কিন্তু ১৯৭২ সালের মূল সংবিধানে এই ক্ষমতা ছিল সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের অধীনে।

    রিটকারী আইনজীবীদের দাবি—এই পরিবর্তনের ফলে নির্বাহী বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে, যা স্বাধীন বিচার ব্যবস্থার পথে বড় বাধা। এ কারণেই মূল ১১৬ অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশনা এবং ২০১৭ সালের জুডিশিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট দায়ের করা হয়।

    গত বছরের ২৫ আগস্ট ১০ জন আইনজীবীর পক্ষে অ্যাডভোকেট শিশির মনির হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। একই দিনে অপর একটি দলও রিট দায়ের করে, যাতে বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চান—বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদ ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না। আইন মন্ত্রণালয়ের দুই সচিব ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়।

    প্রথমে মামলাটি বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ বিচারপতি ফারাহ মাহবুব আপিল বিভাগে পদোন্নতি পাওয়ায় বেঞ্চটি ভেঙে যায়। পরবর্তীতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ নতুন বেঞ্চ গঠন করে দেন, যার নেতৃত্বে ছিলেন বিচারপতি আহমেদ সোহেল।

    এই বেঞ্চে ২৩ এপ্রিল থেকে ধারাবাহিকভাবে শুনানি শুরু হয়, যা কয়েক দফায় স্থগিত হওয়ার পর ১৩ আগস্ট চূড়ান্তভাবে শেষ হয়। আদালত এরপর ২ সেপ্টেম্বর রায় ঘোষণার দিন নির্ধারণ করেন।

    আইনজীবী মহল ও বিচার বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় দেশের বিচার বিভাগের কাঠামো ও স্বাধীনতা নিয়ে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

  • গণহত্যায় হাসিনার সহযোগী ৩১ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

    গণহত্যায় হাসিনার সহযোগী ৩১ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তে পিবিআই

    অনলাইন ডেস্ক: ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানে গণহত্যা চালানো স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকে সহযোগিতার অভিযোগে আওয়ামীপন্থি ৩১ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন শহিদ আদিলের বাবা। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
    গত সোমবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিমের আদালতে এই মামলা করা হয়। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১২০খ, ১৪৩, ২০৩, ৪৩১, ৪৪০, ৫০০, ৫০১, ৫০২, ৫০৪, ৫০৫, ৫০৫(ক) ও ৫০৬ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
    আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ও ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাংবাদিক ফোরাম’-এর সভাপতি ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ওমর ফারুক, একুশে টেলিভিশনের সাবেক প্রধান নির্বাহী মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব (আওয়ামীপন্থি) আব্দুল জলিল ভূঁইয়া, সাংবাদিক নেতা আজিজুল ইসলাম ভূঁইয়া, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের তৎকালীন (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সম্পাদক ফোরামের তৎকালীন আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রতন, ঢাকা রিপোটার্স ইউনিটির তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, ডিইউজের (আওয়ামীপন্থি) তৎকালীন সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, বঙ্গবন্ধু সাংবাদিক পরিষদের তৎকালীন সদস্যসচিব মোহাম্মদ আবু সাঈদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (আওয়ামীপন্থি) তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, বিএফইউজের তৎকালীন মহাসচিব ও নাগরিক টিভির হেড অব নিউজ দীপ আজাদ, ডিবিসি নিউজের সম্পাদক জায়েদুল আহসান পিন্টু, বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম, ডিবিসি নিউজের এডিটর ইন চিফ ও সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম, কালবেলার সাবেক সম্পাদক আবেদ খান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাইমুল ইসলাম খান, এডিটরস গিল্ডের  সাবেক সভাপতি ও একাত্তর টিভির সাবেক সিইও মোজাম্মল বাবু, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম, গ্লোবাল টিভির নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ ইসতিয়াক রেজা, আমাদের সময়ের নির্বাহী সম্পাদক মাঈনুল আলম, বাংলাদেশ জার্নালের সম্পাদক শাহজাহান, ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ আশিষ সৈকত, বাংলা ট্রিবিউনের সম্পাদক জুলফিকার রাসেল, একাত্তর টিভির হেড অব নিউজ শাকিল আহমেদ, কিংস নিউজের হেড অব নিউজ নাজমুল হক সৈকত, আর টিভির হেড অব নিউজ মামুনুর রহমান খান।
    মামলায় উল্লেখ করা হয়, গত ২০০৯ সাল থেকে ভুয়া/প্রহসনমূলক ও পূর্বনির্ধারিত ফলাফলের নির্বাচনের মাধ্যমে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার অনুগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ গত প্রায় ১৬ বছর অগণতান্ত্রিক ও অবৈধ শাসনের মাধ্যমে দেশকে একটি স্বৈরাচারের লীলাভূমিতে পরিণত করেন। এই স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ বিক্ষোভকে বারবার নিষ্ঠুর ও পৈশাচিক কায়দায় দমন করেন। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি একতরফা ও সম্পূর্ণ ভুয়া নির্বাচনের মাধ্যমে আবার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয় শেখ হাসিনা। এর পর থেকে হত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি, বৈষম্য ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সব শ্রেণি-পেশার ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে জীবন বাজি রেখে তার পদত্যাগের দাবিতে পুলিশ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্কার গুলির মুখে রাস্তায় নেমে আসে। তার এই স্বৈরাচারী ব্যবস্থার চালিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারিগর ও চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে কিছু মিডিয়া মোঘল ও ধনিক এলিট শ্রেণি। যারা তাদের বক্তব্য বিবৃতি, সংবাদ ও অর্থের মাধ্যমে এই অপশাসনকে চালিয়ে নেয় ও দীর্ঘায়িত করে এবং সরকারকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে প্ররোচনা দেয়। আসামিরা তাদের অবৈধ পন্থায় অর্থ উপার্জন, আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার জন্য ও পুকুর চুরির মাধ্যমে অর্জিত এ বিত্ত বৈভব টিকিয়ে রাখার জন্য অবৈধ সরকারকে অন্যায় পথে ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করার প্ররোচনা দেয়। সরকারের অবৈধ ক্ষমতাকে ব্যবহার করে তারাও বিভিন্ন স্বার্থ হাসিল করে জনগণের অর্থ লুটপাটে নিয়োজিত। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে।
    মামলার বিবরণীতে আরও বলা হয়, ১-৩১নং আসামি গত বছরের ২৪ জুলাই পালিয়ে যাওয়া অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এডিটরস গিল্ডের নামে গণভবনে একটি বৈঠকের আয়োজন করে। সেখানে তারা দন্ডপ্রাপ্ত পলাতক অবৈধ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আরও গণহত্যা চালাতে সর্বাত্মক সমর্থন প্রদান করে এবং তারা বলে যে, তারা শেখ হাসিনার সঙ্গে আছেন ও প্রয়োজনে যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত। তাছাড়া আসামিরা গত বছরের ২৭ জুলাই দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে একটি সমাবেশের আয়োজন করে যেখানে ছাত্র-জনতার ফ্যাসিস্টবিরোধী ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন ও মহান আত্মত্যাগতে জঙ্গি সন্ত্রাসী নাশকতা আখ্যা দিয়ে সরকারি পেটোয়া বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় জামায়াত-শিবিরের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপপ্রয়াস চালানো হয়।
    উল্লেখ্য, শহীদ মোহাম্মদ আদিল ১০ম শ্রেণির ছাত্র ছিল। সে গত বছরের ১৯ জুলাই সাইনবোর্ড যাত্রাবাড়ী এলাকার দিকে পুলিশের গুলিতে শাহাদতবরণ করে।
  • তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ডিমলায় ঢলের পানিতে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, ডিমলায় ঢলের পানিতে ১৫ গ্রাম প্লাবিত

    নীলফামারী প্রতিনিধি : জেলায় উজানের ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত হয়েছে ১৫ টি গ্রাম। তিস্তার পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, গয়াবাড়ি, খালিশাচাপানী ও ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়নের ১৫ গ্রাম ও চরাঞ্চলে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। এতে করে এসব গ্রামের প্রায় তিন সহস্রাধিক পরিবারের বাড়ি ঘরে পানি ওঠেছে বলে জানান স্থানীয়রা।

    জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খাঁন জানান, গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে নদীর পানি বাড়তে শুরু করে। আজ বুধবার সকালে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় তার ইউনিয়নের বোল্ডারের চর, খোকার চর, খাড়াপাড়া, ফ্লাটপাড়াসহ তিস্তা বেষ্টিত বিভিন্ন চর ও গ্রামের এক হাজার ৪০০ পরিবারের বাড়ি-ঘরে পানি প্রবেশ করেছে।

    একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রবিউল ইসলাম শাহিন জানান, তিস্তায় পানি বৃদ্ধির ফলে পূর্বখড়িবাড়ি গ্রামের বেশ কিছু আবাদী জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চরাঞ্চলের অন্তত পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িতে পানি প্রবেশ করেছে। আরও পানি বাড়ার আশঙ্কায় রয়েছে এসব পরিবার।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে আজ সকাল ছয়টায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমার সাত সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল নয়টায় কিছুটা কমে পাঁচ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে দুপুর পর্যন্ত তা অব্যাহত থাকে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সেখানে নদীর পানি বিপৎসীমার দুই সেণ্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এর আগে গত ৩ আগস্ট তিস্তা ব্যারেজ পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে পাঁচ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। ওই পয়েণ্টে নদীর পানি বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।

    ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন,‘উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে তিস্তার পানি  আজ সকাল ছয় টায় বিপৎসীমার সাত সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। সকাল নয়টায় কিছুটা করে দুপুর পর্যন্ত পাঁচ সেণ্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে’।

  • বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে দেশব্যাপী দোয়া শুক্রবার

    বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকীতে দেশব্যাপী দোয়া শুক্রবার

    অনলাইন ডেস্ক: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮০তম জন্মবার্ষিকী আগামী শুক্রবার (১৫ আগস্ট)। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয় এবং মসজিদে মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।

    বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    আগামী শুক্রবার বেলা ১১টায় রাজধানীর নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে বিএনপি’র সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

    ঢাকাসহ দেশব্যাপী বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

    জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধান উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, আমরা ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন আয়োজনের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি—যাতে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা যায়।

    তিনি বলেন, ‘আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এবং ক্ষমতার প্রকৃত মালিক—জনগণের হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

    আজ বুধবার কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় (ইউকেএম) থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করে তিনি তাঁর বক্তব্যে এ কথা বলেন।

    কুয়ালালামপুরে ইউকেএম বিশ্ববিদ্যালয় অডিটোরিয়ামে এক আনন্দমুখর পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও নেগেরি সেমবিলান দারুল খুসুস রাজ্যের সুলতান তুংকু মুহরিজ ইবনি আলমারহুম তুংকু মুনাওয়িরর কাছ থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রির সনদ গ্রহণ করেন প্রফেসর ইউনূস।
    সামাজিক ব্যবসা প্রসারে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

    প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘এই স্বীকৃতি আমাকে তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন পূরণে আমার দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। গত বছর, বাংলাদেশের বহু তরুণ সাহসিকতার সঙ্গে একটি ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। শত শত ছাত্র-যুবক একটি উন্নত ভবিষ্যতের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছে—যেখানে প্রত্যেকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারবে এবং ভয়, বৈষম্য ও অবিচার থেকে মুক্ত থাকবে।’

    নতুন বাংলাদেশ গড়তে তাঁর সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত অভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় পরিচয় ও ভবিষ্যৎ আশার নতুন অর্থ তৈরি করেছে। আজ আমরা এক নতুন বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছি—যেখানে শাসনব্যবস্থা হবে ন্যায়সঙ্গত, অর্থনীতি হবে সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রত্যেকে সমান সুযোগ পাবে সফল হওয়ার জন্য। আমাদের সরকার শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগী রয়েছে।’

    সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সুস্পষ্ট লক্ষ্য বিস্তৃত পরিকল্পনা এবং এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়। একটি শক্তিশালী ও সহনশীল বাংলাদেশ গড়তে আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে উদ্যোক্তাদের সহায়তা, শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা।’

    তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের নির্মাতা। তোমাদের ভাবনা, সৃজনশীলতা এবং দায়িত্ববোধই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে—শুধু মালয়েশিয়ার নয়, সমগ্র বিশ্বের। স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে যেতে গিয়ে সবসময় মনে রেখো, প্রকৃত সাফল্য শুধু নিজের জন্য অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং কীভাবে তুমি অন্যদেরও তোমার সঙ্গে উন্নতির পথে নিয়ে যাচ্ছো, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা যে সেরা উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারি তা হলো এমন এক পৃথিবী—যেখানে কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না।’

    তিনি বলেন, ‘তোমাদের সিদ্ধান্ত, কাজ এবং মূল্যবোধই নির্ধারণ করবে আমরা কোথায় যাব। তাই আমি তোমাদের অনুরোধ করছি, বড় স্বপ্ন দেখো, সাহসীভাবে চিন্তা করো, এবং সেই অনুযায়ী কাজ করো। ভয় পেও না—প্রত্যেক ব্যর্থতাই সাফল্যের পথে একটি ধাপ মাত্র।’

    পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার জন্য প্রয়োজন প্রকৃত নেতার, প্রয়োজন সমস্যা-সমাধানকারীর- এ কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, তোমাদের প্রত্যেকের ক্ষমতা রয়েছে অসাধারণ কিছু করার—মানুষের সেবায় ব্যবসা গড়ে তোলার, জীবন বদলে দেওয়ার মতো নতুন ধারণা সৃষ্টির, অথবা এমন নীতি প্রণয়নের যা গোটা একটি সম্প্রদায়কে উন্নতির পথে নিয়ে যাবে।

    তিনি বলেন, ‘আজকের অন্যতম বড় বিপদ হলো—সম্পদ ক্রমশ কয়েকজন মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হচ্ছে। এর ফলে বৈষম্য ও অবিচার সৃষ্টি হয়। আমাদের যা দরকার, তা হলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি—যেখানে সম্পদ ন্যায্যভাবে ভাগ হবে এবং প্রত্যেক মানুষ মর্যাদা ও উদ্দেশ্য নিয়ে বাঁচার সুযোগ পাবে।’

    নিজের কর্মময় জীবনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে নোবেলজয়ী প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘আমার পথচলায়—অর্থনীতিবিদ হিসেবে কাজ করা থেকে শুরু করে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম চালু করা থেকে সামাজিক ব্যবসার প্রচার—একটি বিশ্বাস সবসময় আমাকে দিকনির্দেশনা দিয়েছে, মানুষ প্রতিভা বা স্বপ্নের অভাবে দরিদ্র নয়, তারা দরিদ্র কারণ ব্যবস্থা তাদের ন্যায্য সুযোগ দেয়নি। আমাদের আর্থিক ব্যবস্থা ধনীদের সেবা করার জন্য গড়ে উঠেছে, গরিবদের জন্য নয়। এই সহজ সত্যই আমাকে ভিন্ন কিছু চেষ্টা করতে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করেছি, যেখানে সবচেয়ে দরিদ্র মানুষও ক্ষুদ্রঋণ পেতে পারে, ব্যবসা শুরু করতে পারে এবং নিজের জীবন বদলে দিতে পারে।’

    বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দুই দেশ সবসময়ই দৃঢ় সম্পর্ক ভাগাভাগি করেছে—যা গড়ে উঠেছে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাংস্কৃতিক বিনিময় এবং উন্নতির যৌথ স্বপ্নের ওপর।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া অনেক পথ একসঙ্গে হেঁটেছে। আমরা পরস্পরের প্রবৃদ্ধি ও সমৃদ্ধির পথে সহযোগিতা করেছি। মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে মালয়েশিয়া আমাদের বিশ্বস্ত বন্ধু হিসেবে পাশে থেকেছে। বছরের পর বছর ধরে আমাদের অংশীদারিত্ব বাণিজ্য, শিক্ষা, উদ্ভাবন ও জনগণের মধ্যে সম্পর্কসহ বিস্তৃত হয়েছে নানা ক্ষেত্রে। এটি প্রমাণ করে, আমরা যখন একটি যৌথ উদ্দেশ্যে একসঙ্গে কাজ করি, তখন কত কিছু অর্জন করা সম্ভব।

    মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এক নতুন যুগে প্রবেশ করছে, আমরা মালয়েশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা আরও গভীর করতে চাই। সম্ভাবনাময় অনেক ক্ষেত্র রয়েছে—যেমন সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, হালাল অর্থনীতি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন। একসঙ্গে আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারি—যা হবে সমৃদ্ধ, উদ্ভাবনী, স্থিতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক।’

    সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করায় মালয়েশিয়া ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান প্রধান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘আমি এটি গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি এবং আমাদের দুই মহান জাতির মধ্যে বন্ধন আরও দৃঢ় করার জন্য নতুন করে অঙ্গীকার করছি। আমি পারস্পরিক শিক্ষা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করি, যাতে আমরা একসঙ্গে এমন এক বিশ্ব গড়তে পারি—যেখানে প্রত্যেক মানুষ, তার পটভূমি যাই হোক না কেন, নিজের সামর্থ্য বিকশিত করার সুযোগ পাবে।’

    অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা মন্ত্রী জাম্ব্রি আব্দুল কাদির ও ইউকেএম ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. সুফিয়ান জুসোহ উপস্থিত ছিলেন।

     

    সূত্র : বাসস

  • ফারাক্কায় পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাংলাদেশেও প্লাবনের আশঙ্কা

    ফারাক্কায় পানি বিপৎসীমার ওপরে, বাংলাদেশেও প্লাবনের আশঙ্কা

    অনলাইন ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে গঙ্গার পানিস্তর বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকায়। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ফারাক্কা ব্যারাজ থেকে অতিরিক্ত পানি ছাড়তে বাধ্য হবে কর্তৃপক্ষ, যার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়কে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হয়েছে।

    গত কয়েকদিন ধরে ঝাড়খণ্ড ও বিহারে টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে গঙ্গায় পানির প্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গেছে। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কা ব্যারাজ এলাকায় গঙ্গার বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ২২ দশমিক ২৫ মিটার। অথচ সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে আপস্ট্রিমে পানিস্তর দাঁড়িয়েছে ২৭ দশমিক ১০ মিটারে এবং ডাউনস্ট্রিমে ২৪ দশমিক ০১ মিটারে। পানির এ অতিরিক্ত চাপের কারণে ব্যারাজসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে হু হু করে পানি ঢুকে পড়ছে।

    ফারাক্কা ব্যারাজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের পাশাপাশি গঙ্গার মধ্যপ্রবাহে ভারী বর্ষণের প্রভাবে ঝাড়খণ্ড থেকে বিপুল পরিমাণ পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই স্তর আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে ব্যারাজ থেকে নিয়ন্ত্রিতভাবে পানি ছাড়া শুরু হয়েছে। কিন্তু অতিরিক্ত পানিপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে আরও বেশি পানি ছেড়ে দিতে হবে, যা বাংলাদেশেও প্লাবনের কারণ হতে পারে।

    মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জ, জলঙ্গি, সুতি, ফারাক্কাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সামশেরগঞ্জে রোববার (১০ আগস্ট) রাত থেকেই গঙ্গার পানি ভয়াল রূপ ধারণ করেছে; বিশেষ করে উত্তর চাচন্ডসহ নিচু এলাকাগুলো দ্রুত জলমগ্ন হয়ে পড়েছে। গঙ্গার পানিস্তর বৃদ্ধির ফলে এর শাখা নদীগুলোতেও পানি বেড়েছে, যা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের পদ্মা অববাহিকায় প্রবেশ করছে।

    পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারতীয় প্রশাসন। জঙ্গিপুর মহকুমা শাসক, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সৌম্যজিৎ বড়ুয়া, ফারাক্কা ব্লকের উন্নয়ন কর্মকর্তা জুনায়েদ আহমেদ ও ফারাক্কা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নীলোৎপল মিশ্র সোমবার সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জনগণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।