Category: প্রচ্ছদ

  • প্রাচীন মিশরীয় সমাধিতে মিললো ৪ হাজার বছরের পুরোনো হাতের ছাপ

    প্রাচীন মিশরীয় সমাধিতে মিললো ৪ হাজার বছরের পুরোনো হাতের ছাপ

    অনলাইন ডেস্ক:   প্রাচীন মিশরের একটি সমাধিতে ব্যবহৃত মাটির তৈরি একটি পূজার মডেলের ওপর ৪ হাজার বছর আগের একটি হাতের ছাপ আবিষ্কৃত হয়েছে।

    যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিটজউইলিয়াম মিউজিয়ামের গবেষকরা আসন্ন একটি প্রদর্শনীর প্রস্তুতির সময় এই চাঞ্চল্যকর আবিষ্কারটি করেন। এ বছরের শেষের দিকে ওই প্রদর্শনী শুরু হবে।

    হাতের ছাপটি পাওয়া গেছে একটি ‘সোল হাউস’ বা ‘আত্মার ঘর’-এর নিচের অংশে। এটি একটি বাড়ি আকৃতির মাটির মডেল, যা সাধারণত সমাধিতে পাওয়া যায় এবং বিশ্বাস করা হয় এটি মৃত ব্যক্তির আত্মার জন্য থাকার স্থান হিসেবে কাজ করতো।

    এই মডেলের সামনের অংশটি খোলা, যেখানে খাদ্য উৎসর্গ যেমন রুটি, লেটুস বা ষাঁড়ের মাথা রাখা হতো। এটি আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২০৫৫ থেকে ১৬৫০ সালের মধ্যে তৈরি বলে মনে করা হচ্ছে। মডেলটি নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার মাধ্যমে বোঝা গেছে যে প্রায় চার হাজার বছর আগে এটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল।

    গবেষণায় দেখা গেছে, অজ্ঞাতনামা কোনো কুমার প্রথমে কাঠের ছোট ছোট কাঠির মাধ্যমে একটি দুইতলা কাঠামো তৈরি করেন এবং পরে সেটি কাদামাটি দিয়ে ঢেকে দেন। আগুনে পোড়ানোর সময় কাঠের কাঠামো পুড়ে যায়। সোল হাউসটির নিচে পাওয়া ওই হাতের ছাপটি সম্ভবত তখনই তৈরি হয়েছিল, যখন কুমার কাদামাটি শুকানোর আগেই সেটি সরাতে গিয়ে মডেলটি স্পর্শ করেছিলেন।

    ফিটজউইলিয়াম মিউজিয়ামের জ্যেষ্ঠ কিউরেটর হেলেন স্ট্রাডউইক বলেন,

    ‘আমরা আগেও ভেজা বার্নিশ বা কফিনের সাজসজ্জায় আঙুলের ছাপ দেখেছি, কিন্তু এমন পূর্ণাঙ্গ হাতের ছাপ পাওয়া খুবই বিরল এবং রোমাঞ্চকর।’

    তিনি আরও বলেন,

    ‘এটি সেই কারিগরের ছাপ, যিনি কাদা শুকানোর আগে এটিকে স্পর্শ করেছিলেন। আমি এর আগে কখনো কোনো মিশরীয় বস্তুতে এত পরিষ্কার একটি সম্পূর্ণ হাতের ছাপ দেখিনি। আপনি সহজেই কল্পনা করতে পারেন, তিনি এটি তুলে ওয়ার্কশপ থেকে বের করে রোদে শুকাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন।’

    স্ট্রাডউইক মনে করেন,

    ‘এ ধরনের আবিষ্কার আমাদের সরাসরি সেই মুহূর্তে নিয়ে যায়, যখন বস্তুটি তৈরি হচ্ছিল এবং সেই মানুষটির কাছে নিয়ে যায়, যিনি এটি বানিয়েছিলেন—যেটিই আমাদের প্রদর্শনীর মূল লক্ষ্য।’

    প্রাচীন মিশরের সময়কার বিপুল পরিমাণ পটারি (মাটির জিনিসপত্র) টিকে আছে, কারণ তখন কেরামিকস ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় ও শোভাময় বস্তু হিসেবে ব্যাপক ব্যবহৃত। খাদ্য ও পানীয় সংরক্ষণে ব্যবহৃত পটারি প্রায়শই সমাধিতে স্থান পেত।

    তুতানখামেনের মতো মিশরীয় শাসকদের সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেলেও, তাঁদের সমাধিতে আবিষ্কৃত শিল্পকর্মগুলোর পেছনের সাধারণ কারিগরদের গল্প প্রায়ই উপেক্ষিত থেকে যায়। মিউজিয়ামের মতে, কাদামাটি সহজলভ্য এবং পটারি কমমূল্য হওয়ায় কুমারদের সামাজিক মর্যাদা তেমন ছিল না।

    এই সোল হাউসটি ‘মেইড ইন এনসিয়েন্ট ইজিপ্ট’ (প্রাচীন মিশরে নির্মিত) নামক প্রদর্শনীর অংশ হিসেবে কেমব্রিজের ফিটজউইলিয়াম মিউজিয়ামে প্রদর্শিত হবে। প্রদর্শনীটি শুরু হবে ৩ অক্টোবর। এটি মূলত প্রাচীন মিশরের সাধারণ কারিগরদের অজানা গল্প তুলে ধরবে।

  • ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান।

    মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) লাহোর, করাচিসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ করেন তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)’র শতশত নেতাকর্মী। মোটরযান, রিকশাসহ অন্যান্য গাড়িতে র‍্যালি করেন তারা।

    এ সময়, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয় বিক্ষোভকারীদের। এ পর্যন্ত দেড় শতাধিক আন্দোলনকারীকে আটকের দাবি করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতভর তল্লাশি চালিয়ে ১২০ জনকে আটক করা হয়। বাকিরা বিক্ষোভ চলাকালে আটক হন।

    অপরদিকে পিটিআই’র অভিযোগ, শুধু লাহোর থেকেই দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

    এর আগে, গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেয়া পোস্টে সমর্থকদের গণতন্ত্র রক্ষায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের আহ্বান জানান ইমরান খান।

  • কক্সবাজার ভ্রমণ: এনসিপির পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    কক্সবাজার ভ্রমণ: এনসিপির পাঁচ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

    স্টাফ রিপোর্টার:    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ ৫ নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়েছে। বুধবার (৬ আগস্ট) এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব (দফতর) সালেহ উদ্দিন সিফাত স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই নোটিশ দেয়া হয়।

    কারণ দর্শানো নোটিশ পাওয়া নেতারা হলেন, এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।

    নোটিশে ৫ আগস্ট এই পাঁচ নেতার ব্যক্তিগত সফরে কক্সবাজারে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলা হয়,  এই সফর সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগে থেকে অবগত করা হয়নি।

    তাই, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব নেতাকে এই সফরের সিদ্ধান্তের কারণ ও প্রেক্ষাপট সম্পর্কে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেনের সামনে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

  • জাগপার ঘেরাও কর্মসূচি বাড্ডাতেই আটকে দিলো পুলিশ

    জাগপার ঘেরাও কর্মসূচি বাড্ডাতেই আটকে দিলো পুলিশ

    অনলাইন ডেস্ক:   শেখ হাসিনাকে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবিতে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি রাজধানীর বাড্ডায় আটকে দিয়েছে পুলিশ। পরে সেখানেই রাস্তা আটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন দলটির নেতাকর্মীরা

    বুধবার (৬ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সোয়া ১২টা পর্যন্ত গুলশান-বাড্ডা লিংক রোড আটকে বিক্ষোভ-সমাবেশ করেন তারা।

    সমাবেশে দলটির নেতারা বক্তব্য রাখার পর কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে দ্রুত ভারতীয় দূতাবাস শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরতের ব্যবস্থা না নিলে পুলিশি বাধা উতরে ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও করার হুঁশিয়ারি দেন।

    সড়ক আটকে বিক্ষোভ করায় রামপুরা থেকে কুড়িল অভিমুখী সড়ক এবং গুলশান ও হাতিরঝিল থেকে বিমানবন্দর অভিমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। তবে পুলিশের অনুরোধে সোয়া ১২টার দিকে রাস্তা ছেড়ে দেন আন্দোলনকারীরা।

    এর আগে, সকাল ১০টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাওয়ের উদ্দেশে রওনা করে।

  • মার্কিন শুল্ক নিয়ে যে ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশযোগ্য নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    মার্কিন শুল্ক নিয়ে যে ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশযোগ্য নয়: অর্থ উপদেষ্টা

    অর্থনীতি ডেস্ক:    অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, মার্কিন শুল্ক নিয়ে যে ‘নন-ডিসক্লোজার’ চুক্তি হয়েছে, তা প্রকাশযোগ্য না। এখানে প্রতিযোগী দেশের কথা বিবেচনা করতে হবে। এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) চুক্তি না, এটা একটা দেশের সঙ্গে আরেকটা দেশের ওয়ান-টু-ওয়ান চুক্তি।

    বুধবার (৭ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

    অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শুল্ক আরও একটু কম হলেও ভালো হতো। তবে অন্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশের অবস্থান ভালো জায়গায় রয়েছে। এ নিয়ে চুক্তি এখনও হয়নি। সেখানে কোথায় কী কমানো লাগবে, সেটা চুক্তির পর জানা যাবে। এরপরও সমঝোতার সুযোগ আছে কিনা, সেটা পরে দেখা হবে।

    তিনি আরও বলেন, সরকারের এক বছরে অর্থনীতি অনেকটা স্বস্তির জায়গায় এসেছে। মূল্যস্ফীতি একদিনে কমানো সম্ভব না, এটা ঘোড়ার লাগাম না। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যেসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো করা হবে।

    নির্বাচনী বাজেটের ব্যাপারে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, যে বাজেট প্রয়োজন, তা দেয়া হবে। তবে কত বাজেট, সেটা তো এখন বলা যাবে না। নির্বাচন কমিশন (ইসি) চাহিদা দেবে।

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্কের হার ২০ শতাংশের ঘোষণা এলেও দেশটির সঙ্গে এখনও কোনো চুক্তি হয়নি। চুক্তির খসড়া তৈরির কাজ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর)। খসড়া শেষ করার পর তারা তা বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তা দেখে ও মতামত দিয়ে ফেরত পাঠাবে যুক্তরাষ্ট্রে। এরপর দিন ঠিক করে যুক্তরাষ্ট্রে উভয় পক্ষের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

    উল্লেখ্য, আজ থেকেই কার্যকর হবে আলোচিত রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক। বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠালেই দিতে হবে বর্ধিত শুল্ক। বাংলাদেশের জন্য বাড়তি শুল্কহার নির্ধারণ হয়েছে ২০ শতাংশ শুল্ক। সঙ্গে যোগ হবে আগের সাড়ে ১৬ শতাংশ।

  • ৫ আগস্ট শুধু দিবস নয়, ফ্যাসিবাদ থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন: প্রধান উপদেষ্টা

    ৫ আগস্ট শুধু দিবস নয়, ফ্যাসিবাদ থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন: প্রধান উপদেষ্টা

     অনলাইন ডেস্ক:     একটি গণতান্ত্রিক, মানবিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে, ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেয়া এক বক্তব্যে এ আহ্বান জানান তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন একদিন, যা এদেশের ইতিহাসে গভীর ধাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়, এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন। আজ আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাদের। যাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ১৯৭১ সালে সাম্য মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এদেশের জনগণ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল। লাখো প্রাণের বিনিময়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা হয়েছিল। কিন্তু স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এদেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে। বৈষম্যের শিকার হয়েছে। ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়। ১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

    ‘এদেশের এই বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফলাফল করেও চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর তদবির বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি, তার চাকরি হয়নি। সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি, যেটা মূলত ছিল দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটা হাতিয়ার। এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি।’

    প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যারা আর্থিক অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে, কাজ করবে, স্বৈরাচারের পক্ষের সঙ্গী হলেই তার চাকরি হবে। কাজ মিলবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান, এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক মন্ডলেও এ ধরনের সুবিধাবাদী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এদেশের গরীব মেহনতি মানুষের পয়সা লুট করে, পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তোলে। সীমাহীন দুর্নীতির কবলে পড়ে অর্থনীতি ভেঙে পড়ে। এই দেড়যুগে প্রতিটি ন্যায্য দাবি প্রতিবাদ বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের পিটিয়েছে।

    গত ১৬ বছরে যারাই সরকারের সমালোচনা করেছে, নাগরিকদের অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে, তাদের গ্রেফতার অথবা গুম করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, লাখ লাখ বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্বিচারে আটক, গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ২৪ জুলাই দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম, সাধারণ মানুষ সবাই একত্রিত হয় এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়। সমস্বরে তারা বলে ওঠে, এবার ফ্যাসিবাদীদের যেতে হবে। তবু দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখতে চেয়েছিল ফ্যাসিবাদ সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি করেছে। গ্রেপ্তার করেছে। ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য লুকাতে চেয়েছে। রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের আটক করেছে। গুলিবিদ্ধ আহতদের তারা হাসপাতালের চিকিৎসা নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এ কারণে বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়েছে।

    জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে জাতির সূর্য সন্তান জুলাই শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন, জাতির পক্ষ থেকে আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার, আহতদের কল্যাণ ও যাবতীয় বিষয় প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর বিন্যস্ত করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহীদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি শহীদ পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট যারা আছেন তাদেরও কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তি সাপেক্ষে সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর পাশাপাশি আহত ১৩ হাজার ৮০০ জুলাই যোদ্ধাকে তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ টাকা ও চেক বাবদ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

    এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত জুলাই যোদ্ধাকে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক এবং রাশিয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। জেলা উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য কেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকার কর্তৃক নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সব শ্রেণির আহত জুলাই যোদ্ধাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গেছে। সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই শহীদ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে, যখন এ দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জন কল্যাণকর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারবো।

    ‘আজ আমরা কেবল অতীত স্মরণ করতে আসি নাই। আমরা একটি শপথ গ্রহণ করতে এসেছি। শপথ এই—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াবো না। আমরা প্রতিষ্ঠা করব, একটা জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক এবং বৈষম্যহীন রাষ্ট্র। এমন রাষ্ট্র- যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথ চলার প্রেরণা। তাদের স্বপ্নই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণ রাখা। আজকের এই দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।