Category: প্রচ্ছদ

  • ৪ আগস্ট ২০২৪: অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল দেশ

    ৪ আগস্ট ২০২৪: অসহযোগ আন্দোলনে উত্তাল দেশ

    আনলাইন ডেস্ক:    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের ঠিক একদিন আগে, বেপরোয়া হয়ে ওঠে রাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনীগুলো। এদিন আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি না করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিটও খারিজ করে দেয়া হয়। ফলে ৪ আগস্ট জঙ্গিদমন কায়দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারতে থাকে বিভিন্ন বাহিনী। এরই মধ্যে ঘোষণা হয়, মার্চ টু ঢাকা।

    আন্দোলনের এই পর্যায়ে এসে, এক দফা দাবিতে অনঢ় হয় ছাত্র-জনতাসহ দেশের আপামর মানুষ। তা হলো, শেখ হাসিনার পদত্যাগ। সেই দাবিতেই ৪ তারিখ থেকে সারাদেশে শুরু হয় আন্দোলনের অসহযোগ কর্মসূচি। একই সাথে আরও কঠোর কারফিউ জারি হয় দেশজুড়ে।

    এদিন সকাল থেকে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে রীতিমতো রণক্ষেত্র রাজধানীর যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা। ছাত্রলীগ-যুবলীগ আর পুলিশের সশস্ত্র হামলা খালি হাতেই মোকাবিলা করতে থাকে কয়েকশ’ মানুষ। রামপুরায় নামেন ইস্ট ওয়েস্ট, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিসহ আশপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক আর সাধারণ মানুষ। তাদের ওপরই বৃষ্টির মতো নামতে থাকে গুলি।

    উত্তরা, বাড্ডা, প্রগতি সরণিতেও একই চিত্র। কারওয়ান বাজার, সায়েন্স ল্যাব, শাহবাগ, বাংলামোটর আর ধানমন্ডি তখন যেন যুদ্ধক্ষেত্র।

    এ সময় ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা বিচ্ছিন্নভাবে ভাঙচুর চালান বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায়, বিএসএমএমইউ কম্পাউন্ডের ভেতরেও করা হয় অগ্নিসংযোগ। নিম্ন আদালতের মূল গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেও ক্ষোভ ঝাড়তে থাকেন আন্দোলনকারীরা।

    হাসপাতালগুলোতেও তখন বইছে রক্তের স্রোত। এত এত গুলিবিদ্ধদের চিকিৎসা দিতে চিকিৎসক-নার্সদের তখন নাভিশ্বাস অবস্থা। এক ঢাকা মেডিকেলেই কয়েতঘণ্টার মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে ভর্তি হন ৬৭ জন। আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন প্রায় আড়াইশো’ মানুষ। এরমধ্যে জরুরি বিভাগেই ৭ জনের মৃত্যু হয়।

    এদিকে মিরপুরে তখন দেখা যায় এক অভূতপূর্ব চিত্র। সরকার সমর্থিত বাহিনীর বিপরীতে আন্দোলনকারীদের পক্ষেই ঢাল হয়ে দাঁড়ান একদল সেনাসদস্য। এসময় পুলিশ-ছাত্রলীগের দিকে সেনাসদস্যরা ফাঁকা গুলি ছুড়লে; ভিন্ন হিসেব-নিকেশের গন্ধ পায় সাধারণ মানুষ।

    রক্তের দাম মেটাতে সারাদেশেই তখন শক্ত প্রতিরোধ ছাত্র-জনতার। চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট, দিনাজপুর ঝিনাইদহসহ গোটা দেশ রীতিমতো যুদ্ধক্ষেত্র।

    তখন ক্ষমতা টেকানোর শেষ চেষ্টায় তৎকালীন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, আর সশস্ত্র বাহিনী প্রধানদের সাথে বৈঠকে বসেন শেখ হাসিনা। সেই বৈঠকেই আন্দোলনে গুলি চালাতে সেনাবাহিনীর ওপর চাপ দেন তিনি।

    এই যখন পরিস্থিতি, তখন ‘ডু অর ডাই’ সিদ্ধান্ত আসে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে। ঘোষণা, ৬ তারিখ নয়, ‘মার্চ টু ঢাকা’ হবে ৫ আগস্ট। সমন্বয়করা জানালেন, মার্চ টু ঢাকা একদিন এগিয়ে আনার সিদ্ধান্ত ছিল, মূলত একটা ফাঁদ।

    ‘মার্চ টু ঢাকা’ ঘোষণার পরই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। তখন বড় কিছু একটার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিল বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দফায় টানা দেড় দশকের মসনদ ত্যাগের আগাম বার্তা পাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা।

  • ট্রাম্পের শুল্ক নীতি চীনের জন্য জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে আফ্রিকায়

    ট্রাম্পের শুল্ক নীতি চীনের জন্য জন্য সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে আফ্রিকায়

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। এই মহাদেশের বেশ কয়েকটি দেশ এখন যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রে সবচেয়ে উচ্চ হারের শুল্কের মুখোমুখি হচ্ছে।

    কিন্তু এই সংকাটই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের জন্য একটি সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আফ্রিকাকে বাণিজ্যিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া চীন এখন তাদের জন্য একটি রক্ষাকবচ হিসেবে এগিয়ে এসেছে।

    নাইজেরিয়ান অর্থনীতিবিদ বিসমার্ক রেওয়ানে বলেন, ‘আমরা (আফ্রিকা) সরাসরি চীনের হাতেই চলে যাচ্ছি। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক পরিণতি।’ গত কয়েক বছরে আফ্রিকার বৃহত্তম দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক অংশীদারে পরিণত হওয়া চীনের দিকে মহাদেশটির আরও ঝুঁকির এই প্রবণতার কথা উল্লেখ করে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আফ্রিকার চারটি দেশ—লিবিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, আলজেরিয়া ও তিউনিসিয়া—ট্রাম্প প্রশাসনের সবচেয়ে কঠোর শুল্কের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে রফতানিতে ২৫% থেকে ৩০% পর্যন্ত শুল্ক দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

    হোয়াইট হাউস স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) প্রকাশিত সংশোধিত শুল্ক তালিকায় দেখা গেছে, আফ্রিকার আরও ১৮টি দেশের ওপর ১৫% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। গত এপ্রিলে, প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্ক ঘোষণা করা হলে ট্রাম্প এটিকে ‘প্রতিশোধমূলক’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে, সেগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    তবে ট্রাম্পের শুল্ক নির্ধারণের ভিত্তি ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি—সেসব দেশের নিজস্ব শুল্ক নীতি নয়।

    আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ওপর ৩০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত ‘বাণিজ্য তথ্যের সঠিক প্রতিফলনের ওপর ভিত্তি করে নেয়া হয়নি।’

    চীনের জন্য সুযোগ

    যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব থেকে আফ্রিকাকে রক্ষা করতে চীন সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। গত জুনে চীন জানায়, তারা প্রায় সব আফ্রিকান অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহার করবে।

    দক্ষিণ আফ্রিকার গবেষক নেও লেটসওয়ালো বলেন, ‘বিকাশমান দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ-দক্ষিণ সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য আফ্রিকার দেশগুলোর জন্য এর চেয়ে ভালো সময় আর নেই।’

    তিনি আফ্রিকান দেশগুলোকে ‘সম্পূর্ণরূপে চীনের দিকে ঝুঁকে এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে গড়ে তোলার’ পরামর্শ দেন।

    লেটসওয়ালো আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ধীরে ধীরে তার বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থান হারাচ্ছে। দেশগুলো যত বেশি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমাবে, চীন তত বেশি বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার সুযোগ পাবে।’

    শুল্ক কার্যকরের শেষ সময়ের আগেও আফ্রিকার পক্ষ থেকে চেষ্টা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র কোনো আফ্রিকান দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে পারেনি, যা হোয়াইট হাউসের অগ্রাধিকার তালিকায় আফ্রিকার অবস্থানকেই স্পষ্ট করে।

    লেটসওয়ালো যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যর্থতাকে ‘চীনের জন্য একটি উন্মুক্ত গোল’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

  • ৩ আগস্ট ২০২৪: শহীদ মিনার থেকে ঘোষিত হয় সরকার পতনের এক দফা

    ৩ আগস্ট ২০২৪: শহীদ মিনার থেকে ঘোষিত হয় সরকার পতনের এক দফা

    অনলাইন ডেস্ক:    চব্বিশের ৩ আগস্ট আন্দোলনকারীদের কাছে ছিল ৩৪ জুলাই। এদিন নানা শ্রেণী-পেশার আপামর জনসাধারণ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হয়। উদ্বেলিত ছাত্র-জনতার প্রতিবাদী স্লোগানে প্রকম্পিত হয় ঢাকার আকাশ-বাতাস।

    বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্ব ঘোষিত এই কর্মসূচিতে যোগ দিতে এদিন সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে মিছিল আসতে থাকে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই পুরো এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

    ৩ আগস্ট বিকেলে তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা সাফ জানিয়ে দেন ছাত্র-জনতার রক্তে রঞ্জিত আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। দাবি এখন একটাই- স্বৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতন।

    শিক্ষার্থীদের পক্ষে তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সরকার পতনের এক দফার ঘোষণা দেন। তিনি বলেছিলেন, শেখ হাসিনার সরকার ও ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটাতে হবে।

    এদিকে, শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে এদিন ব্যান্ড ও সংগীত শিল্পীরাও মাঠে নামেন। ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরে সংহতি জানিয়ে শিল্পীদের অনেকেই শহীদ মিনারে যোগ দেন। এছাড়াও, সেদিন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারাও সমাবেশে যোগ দিয়েছিলেন।

    অন্যদিকে, ওইদিন বিএনপি তাদের অবস্থান জানালে সমর্থন আরও জোড়ালো হয়। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছিলেন, শুধু নৈতিক সমর্থন নয়, আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সব ধরণের সহযোগিতা করবে বিএনপি।

    এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন দমাতে ৩ আগস্ট রাতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষক এবং কলেজের অধ্যক্ষদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন শেখ হাসিনা। তখন আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনায় বসার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

    অপরদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়ায়দুল কাদের তখন পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ৩ তারিখ থেকে রাজধানীসহ দেশের সকল নগর-মহানগরে জমায়েত কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী লীগ।

    সেই পরিস্থিতি সেনাবাহিনীর ভূমিকার দিকে নজর ছিল রাজনৈতিক বিশ্লেষকসহ আপামর জনতার। এদিন ‘অফিসার্স অ্যাড্রেস’ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে এবং থাকবে।

    এরপর ক্রমাগত বেগবান হতে থাকে এক দফা আন্দোলন। এরই ফলশ্রুতিতে ৫ আগস্ট দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। অবসান ঘটে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘ স্বৈরাচারের। রচিত হয় নতুন এক ইতিহাস।

  • ১২ দিন পর আজ খুলছে মাইলস্টোন কলেজ

    ১২ দিন পর আজ খুলছে মাইলস্টোন কলেজ

    অনলাইন ডেস্ক:    বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ১২ দিন বন্ধ থাকার পর আজ রোববার (৩ আগস্ট) থেকে সীমিত পরিসরে খুলেছে ঢাকার উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। তবে এদিন পাঠদান কার্যক্রম চালু হবে না। নিহতদের স্মরণে একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

    মাইলস্টোন সূত্রে জানা গেছে, নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য রোববার থেকে ক্যাম্পাস সীমিতভাবে খোলা থাকবে। এদিন একটি স্মরণসভার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ধীরে ধীরে স্বাভাবিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে কাজ করছে কলেজ কতৃপক্ষ।

    এছাড়াও শুরুর দিকে দৈনিক আটটি ক্লাসের পরিবর্তে এক বা দুটি ক্লাস নেয়া হতে পারে। শিক্ষকদের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে কাউন্সেলিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। এছাড়া বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর পক্ষ থেকে একটি চিকিৎসা ক্যাম্প চালু করা হয়েছে ক্যাম্পাসে, যেখানে মানসিক ও শারীরিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

    উল্লেখ্য, ২১ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণরত যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। ভয়াবহ সেই দুর্ঘটনায় প্রথমে ২০ জন নিহত হন, যাদের অধিকাংশই ছিল শিশু। পরে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ে। এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পরদিন রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করা হয়।

  • আজ ঢাকায় ৩ কর্মসূচি: যান চলাচলে নির্দেশনা, পরীক্ষার্থীদের সময় নিয়ে বের হওয়ার অনুরোধ

    আজ ঢাকায় ৩ কর্মসূচি: যান চলাচলে নির্দেশনা, পরীক্ষার্থীদের সময় নিয়ে বের হওয়ার অনুরোধ

    অনলাইন ডেস্ক:    রোববার (৩ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ ও এর আশপাশে তিনটি কর্মসূচিকে ঘিরে শাহবাগ এলাকায় যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। ঢাকাবাসীকে ডাইভারশন মেনে বিকল্প পথে চলাচলের পরামর্শ দেয়া হয়।

    এছাড়া, এইচএসসি ও বিসিএস পরীক্ষার্থীদের যথেষ্ট সময় নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়ার অনুরোধ করেছে ডিএমপি।

    আজ দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে বিজয়ের প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষ্যে ছাত্রদলের উদ্যোগে ‘ছাত্র সমাবেশ’ অনুষ্ঠিত হবে। আর বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও সনদের’ দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জনসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

    তাছাড়া, সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর উদ্যোগে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পহেলা আগস্ট থেকে ‘জুলাই জাগরণ’ চলমান রয়েছে। যা চলবে ৪ আগস্ট পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টায় শুরু হয়ে রাত ১০টা পর্যন্ত চলছে এই অনুষ্ঠান।

    এই তিন কর্মসূচি ঘিরে এই এলাকায় বিপুল সংখ্যক জনজমাগম হতে পারে এমন ধারণা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

    গতকাল শনিবার (২ আগস্ট) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর জারি করা এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, রোববার সভা-সমাবেশ ও অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে শাহবাগ, শহীদ মিনার ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায় প্রচুর জনসমাগম ঘটবে। ফলে ওই এলাকা বিশেষ করে শাহবাগ ক্রসিং দিয়ে যানচলাচল করানো সম্ভব হবে না। এমতাবস্থায় ঢাকাবাসীকে ডাইভারশন মেনে বিকল্প পথে চলাচলের জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে।

    ডাইভারশন পয়েন্ট ও বিকল্প সড়ক

    হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়: সোনারগাঁও সিগন্যাল/বাংলামোটর ক্রসিং হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত যানবাহনগুলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিংয়ে সোজা শাহবাগের দিকে না গিয়ে বামে মোড় নিয়ে হেয়ার রোড/মিন্টু রোড হয়ে যাতায়াত করবে।

    কাটাবন মোড়: সায়েন্সল্যাব ক্রসিং হয়ে পশ্চিম দিক থেকে আগত যানবাহনগুলো কাটাবন মোড় থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে নীলক্ষেত/পলাশী হয়ে অথবা কাটাবন মোড় থেকে বামে মোড় নিয়ে সোনারগাঁও (হাতিরপুল) রোড হয়ে বাংলামোটর লিংক রোড দিয়ে চলাচল করবে।

    মৎস্য ভবন মোড়: হাইকোর্ট/কদম ফোয়ারা ক্রসিং হয়ে আগত যানবাহনগুলো মৎস্য ভবন থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে সোজা হেয়ার রোড/শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী সরণি (মগবাজার রোড) হয়ে চলাচল করবে।

    অপরদিকে কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত যানবাহন মৎস্যভবন ক্রসিং থেকে শাহবাগের দিকে না গিয়ে সোজা হাইকোর্ট হয়ে গুলিস্তান/ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে চলাচল করবে।

    টিএসসি/রাজু ভাস্কর্য: নীলক্ষেত ক্রসিং/দোয়েল চত্বর ক্রসিং থেকে আসা যানবাহন টিএসটি/রাজু ভাস্কর্য ক্রসিংয়ে এসে শাহবাগের দিকে না গিয়ে দোয়েল চত্বর/নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।

    এছাড়া, শহীদ মিনার সংলগ্ন সড়ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রবেশ পথ যথাসম্ভব পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

  • যে সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনও বহাল আছে: মৎস্য উপদেষ্টা

    যে সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনও বহাল আছে: মৎস্য উপদেষ্টা

    অনলাইন ডেস্ক:   অন্তর্বর্তী সরকারের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, শেখ হাসিনার বিচার এই বাংলার মাটিতে হতেই হবে। তার বিচার ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে—এটা আমি মনে করি না। তার বিচার ছাড়া আমরা নির্বাচনে একমত হবো না।

    আজ শনিবার (২ আগস্ট) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘ওয়ারিয়র্স অব জুলাই’ আয়োজিত ‘স্যালুট টু জুলাই ওয়ারিয়র্স’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, শেখ হাসিনার বিচার যেন আমরা করতে পারি, সেজন্য আপনারা মাঠে আছেন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি এবং থাকবো।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের কোনো মেরামতের পরিবর্তন না করে শুধু সরকার পরিবর্তনের জন্য উঠে পড়ে লেগেছি। আমরা কিন্তু এখনও কোনো রাষ্ট্রের পরিবর্তন বা সংবিধানের পরিবর্তন করিনি। যে সংবিধানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা এখনও বহাল আছে। কাজেই এই সংবিধান ও রাষ্ট্র রেখে শুধু সরকার পরিবর্তন করে আমার মনে হয়, আমরা তেমন কিছু অর্জন করতে পারবো না।

    মৎস্য উপদেষ্টা আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ নানাভাবে রয়েছে, এর বিরুদ্ধে কাজ করতে হবে। সবাই মিলে আমরা রাস্তায় থাকবো। আমরা আপনাদের বাইরের কেউ নই।