Category: প্রচ্ছদ

  • সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবস্থানের পর শাহবাগ মোড় থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে

    সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবস্থানের পর শাহবাগ মোড় থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে

    নিউজ ডেস্ক:  প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা অবস্থানের পর শাহবাগ মোড় থেকে নার্সিং শিক্ষার্থীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এ সময় নার্সিং শিক্ষার্থীদের সাথে পুলিশের হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়।

    বুধবার (১৪ মে) রাত ৮টার পরে শিক্ষার্থীরা সরিয়ে দেয়া হলে ওই এলাকা দিয়ে যান চালাচল শুরু হয়।

    বুধবার দুপুর থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও সড়ক থেকে সরছিলেন না আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে রাত সোয়া আটটার দিকে পুলিশ শিক্ষার্থীদের ঘিরে ফেলে এবং মূল সড়ক থেকে সরে যেতে বাধ্য করে। পুলিশ বলছে, অ্যাকশন নয় কৌশলেই তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

    এর আগে, বুধবার দুপুরে ডিপ্লোমা নার্সিংকে ডিগ্রির সমমানের একদফা দাবিতে জাতীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে নার্সিং শিক্ষার্থীরা। এতে ওই এলাকা দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রোগী, সাধারণ মানুষ ও অফিস ফেরত মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

    বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, দেশে নার্সিং পেশায় ডিপ্লোমাধারী নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবুও ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করা নার্সরা পেশাগত ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করার পরও ডিগ্রিধারীদের মতো মূল্যায়ন না পাওয়ায় চাকরির ক্ষেত্রে অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। এ নিয়ে বারবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

  • নেত্রকোণায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু

    নেত্রকোণায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু

    নেত্রকোণা প্রতিনিধি : নেত্রকোণায় বজ্রপাতে রাকিব হাসান (২০) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কালিয়ারা গাবরাগাতি ইউনিয়নের সাটিয়া গ্রামের এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত রাকিব হাসান ওই গ্রামের আব্দুল বারিক এর ছেলে। তিনি পেশায় ভাঙারির ব্যবসা করতেন।

    এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাকিব হাসান ভ্যান গাড়ি নিয়ে বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে পুরাতন লোহা ভাঙা প্লাস্টিকসহ জিনিসপত্র সংগ্রহের ব্যবসা করতেন। প্রতিদিনের মতো আজ বুধবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বাড়ি থেকে তিনি ভ্যান গাড়ি নিয়ে বের হন। কিছু দূর গেলে হঠাৎ করে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বজ্রপাতে তার শরীর ঝলসে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাকিবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নেত্রকোণা মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী শাহনেওয়াজ এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

    সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা বিনতে রফিক বলেন, বজ্রপাতে মারা যাওয়া রাকিবের দাফন কাফনের জন্য পরিবারকে প্রাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

  • জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার স্ত্রী-কন্যার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার স্ত্রী-কন্যার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

    নিউজ ডেস্ক: আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও তার স্ত্রী-কন্যার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত। বুধবার (১৪ মে) দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর জেষ্ঠ বিশেষ জজ জাকির হোসেন গালিব এই আদেশ দেন

    এর আগে টেলিকম কোম্পানির মাধ্যমে ২৬০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে নানকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ওই মামলায় নানকের স্ত্রী ও মেয়েকেও আসামি করা হয়েছে।

    মামলার এজাহারে বলা হয়, সৈয়দা আরজুমান বানু ও এস আমরীন রাখি রাতুল টেলিকম লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের দায়িত্বে থাকার সময় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ২৫৯ কোটি ৬২ লাখ ৫ হাজার ১৫৮ টাকার সমমূল্যের ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচার করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

    এ সময় জাহাঙ্গীর কবির নানক এমপি ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তার প্রভাব খাটিয়ে মুদ্রা পাচারে তার স্ত্রী ও মেয়ে সহযোগিতা করে দণ্ডবিধি এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

  • শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

    শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনায় বৃহস্পতিবার অর্ধদিবস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ

    নিউজ ডেস্ক:   শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৫ মে) অর্ধদিবস বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকবে। বুধবার (১৪ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমেদ খান এ তথ্য জানান।

    এদিকে, সাম্য হত্যার ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খানকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

    এর আগে, আজ বুধবার জোহরের নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদে সাম্যর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। জানাজার পর সাম্যর মরদেহবাহী গাড়ি সিরাজগঞ্জে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

    এদিকে, সাম্য হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার তিনজনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালতে রিমান্ড শুনানি হয়। পুলিশ তাদেরকে দশদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আবেদন নাকচ করে তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    নিহত শাহরিয়ার আলম সাম্য সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়াবেড়া ইউনিয়নের সড়াতৈল গ্রামের ফরহাদ সরদারের ছেলে। ঢাবির শিক্ষা ও গবেষণা বিভাগের মাস্টার্সের ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং স্যার এ এফ রহমান হল শাখা ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক ছিলেন তিনি।

    মঙ্গলবার মধ্যরাতে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে সাম্যকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। জানা গেছে, মুক্তমঞ্চের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সাম্যর মোটরসাইকেলের সাথে আরেকটি মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। পরে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় সহপাঠীরা। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত সাড়ে বারোটায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    শিক্ষার্থী সাম্যকে হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার মধ্যরাতেই উত্তাল হয়ে ওঠে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। উপাচার্যের বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। বুধবার সকালে হত্যার বিচারের দাবিতে রাজু ভাস্কর্যের সামনে জড়ো হয় শত শত শিক্ষার্থী। এ সময় উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও জানানো হয়।

  • পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ছাত্র সমাজই ঠিক করবে : প্রধান উপদেষ্টা

    পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ছাত্র সমাজই ঠিক করবে : প্রধান উপদেষ্টা

    নিউজ ডেস্ক:   পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিজেদের হাতে। গবেষণার মাধ্যমে পুরো বিশ্বকে নিজেদের আয়ত্তের মধ্যে রাখতে হবে। পৃথিবীর ভবিষ্যৎ কেমন হবে তা ছাত্র সমাজই ঠিক করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তৃতায় এ কথা বলেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ১৯৭২ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করি। এরপর ৭৪ সালে দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। সারাদেশে তখন হাহাকার চলছে। সেই দুর্ভিক্ষ দেখে মানুষের জন্য কিছু করার চিন্তা আসে। এই চিন্তা থেকে ক্ষুদ্রঋণ চালু করি। নোবেল পুরুস্কার পাবো তা কখনও মনে আসেনি।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান অর্থনীতি ব্যবসার অর্থনীতি, মানুষের অর্থনীতি নয়। যেকোনও অর্থনীতিবিদ্যা মানুষকে দিয়ে শুরু করতে হবে। আমরা এক ব্যবসাকেন্দ্রীক সভ্যতা গড়ে তুলেছি। এই সভ্যতা আত্মঘাতি সভ্যতা। এটা টিকবে না। আমাদের নতুন সভ্যতা গড়ে তুলতে হবে। পৃথিবীকে সাজানো প্রতিটি গবেষণার মূল লক্ষ্য হতে হবে। অন্যথায় তা গন্তব্যহীন গবেষণা হবে।

    এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি)।

  • হলোখানায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে পাষণ্ড পিতাসহ গ্রেফতার-৩

    হলোখানায় প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যার অভিযোগে পাষণ্ড পিতাসহ গ্রেফতার-৩

    কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে জান্নাতি নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। মেয়েকে হত্যার অভিযোগে রবিবার (১১ মে) জান্নাতির বাবা জাহেদুলকে গ্রেফতার করেছে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ। একই সঙ্গে জান্নাতির মা মোর্শেদা ও বড় চাচি কহিনুর বেগমকে আটক করা হয়েছে।

    কুড়িগ্রাম সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। জান্নাতির বাবা জাহেদুলের দেওয়া তথ্য মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত জানাতে অপারগতা প্রকাশ করেন ওসি।

    এর আগে গত শনিবার (১০ মে) সকালে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের কাগজিপাড়া গ্রামে নিজ বসতবাড়ির পাশে কৃষিজমি থেকে জান্নাতির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় জান্নাতির চাচা খলিল বাদী হয়ে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন।

    জান্নাতির পরিবারের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন রাতের বেলা জান্নাতিকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করে ফেলে রাখে। তবে তাদের এমন দাবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।

    এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জান্নাতির বাবা জাহেদুল ও চাচা খলিলের সঙ্গে একই এলাকার মকবুল পাটোয়ারি গংয়ের জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। এ ছাড়াও খলিল ও জাহেদুলের ছোট ভাই রফিকুলের সঙ্গেও জমি নিয়ে দ্বন্দ্ব চলমান। এসব নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে মামলাও রয়েছে। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গরু-ছাগল চুরি, খড়ের গাদায় আগুন দেওয়াসহ পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে।

    এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাহেদুল ও তার বড় ভাই খলিল জমি নিয়ে বিরোধে তাদের ভাই রফিকুল ও তার স্ত্রী হালি বেগমকেও মারধর করেন। রফিকুল বাদী হয়ে মামলাও করেছেন। কিন্তু জাহেদুল ও খলিলের ভয়ে তারা কয়েক মাস এলাকাছাড়া ছিলেন। জাহেদুল ও খলিল প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ছোট ভাই রফিকুল ও তার স্ত্রীকে মারার হুমকি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ হালি বেগমের।

    হালি বেগম বলেন, ‘স্বামীর আপন ভাই খলিল, জাহেদুল ও একরামুলরা পিটিয়া আমার হাত-পা ভাঙি দিছে। স্বামীসহ আমাক মারার বুদ্ধি করছিল। আমাদেক মারি ফেলে মাইনষক ফাঁসাইবে। এটা জানার পর আমি বাড়ি ছাড়ি গেছিলাম।’

    রফিকুল বলেন, ‘জাহেদুল খুব খারাপ লোক। খলিল আর একরামুল মিলিয়া আমাক মারিয়া পাটোয়ারিসহ খন্দকার গোষ্ঠিক ফাঁসার প্লান করছিল। ওরা আমাক পাইলে এক ঘণ্টার মধ্যে মারি ফেলাইবে। ওরা নিজের মেয়েক নিজে মারছে। এটার কোনও ভুল নাই। মাইনষেক ফাঁসার জন্যে মারি ফেলাইছে।’

    আপন ভাইদের সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণ প্রশ্নে রফিকুল বলেন, ‘আমার পাঁচ বিঘা জমি ওরা আবাদ করতে দেয় না। আমি বন্ধক রাখছি। সেই বন্ধক নেওয়া লোকদেরও জমিতে নামতে দেয় না। এ নিয়ে আমাক ও আমার স্ত্রীক মারধর করি মারি ফেলাইতে ধরছে। আমি মামলাও করছি।’

    জাহেদুলকে গ্রেফতারের খবরে এলাকাবাসীর অভিযোগ, জান্নাতিকে হত্যা করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর পেছনে শুধু জাহেদুল নয় তার বড় ভাই খলিলের প্রত্যক্ষ মদত থাকতে পারে। এলাকায় খলিলের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত রুহল আমিন ওরফে উকিল এবং আব্দুল কাদের নামে দুই প্রতিবেশী খলিল ও জাহেদুলকে সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকে। এ ঘটনায় তাদের কোনও সম্পৃক্ততা রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে এ নিয়ে নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করে কেউ বক্তব্য দিতে রাজি হননি।

    জান্নাতি হত্যাকান্ডের দিন তার চাচা খলিল প্রতিপক্ষের কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে দাবি করেন, ‘আমরা হত্যাকারীদেরকে চিনি। তারা জান্নাতিকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারি ফেলছে।’

    তবে জাহিদুল, তার স্ত্রী মোর্শেদা ও খলিলের স্ত্রী কহিনুরকে পুলিশ আটক করার পর থেকে খলিলের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। তিনি পলাতক রয়েছেন বলে এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে।

    ওসি হাবিবল্লাহ বলেন, ‘তদন্তে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় জান্নাতির বাবা জাহেদুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়াও জান্নাতির মা ও চাচিকে জিজ্ঞসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা নিয়ে আমরা কাজ করছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলা সম্ভব নয়।’