Category: প্রচ্ছদ

  • বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের চারটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা

    বজ্রঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের চারটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  টানা বজ্রঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপশ্চিমাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের চারটি রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। প্লাবিত হয়েছে আরও নতুন এলাকা। এতে বিপযর্স্ত সেখানকার জনজীবন।

    গত ৪ দিন ধরে টানা ঝড় ও ভারী বৃষ্টিতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত কেন্টাকি। তলিয়েছে বহু বাড়িঘর, রাস্তাঘাট। ৫শ’র বেশি সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২ জনের।

    বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি আরকানসাসেও। এখনও পানির নিচে বহু সড়ক। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত ইলিনয় রাজ্যও। এরইমাঝে টেক্সাস থেকে ওহাইও পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় ভারী বজ্রপাত ও টর্নেডোর জেরে প্রাণ গেছে অন্তত ৭ জনের।

  • ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ফিলিপাইন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে ফিলিপাইন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

    নিউজ ডেস্ক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ফিলিপাইন রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইনগলেট।সোমবার (৭ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    সাক্ষাৎকালে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বাণিজ্য ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

    এসময় কৃষি ও শিক্ষা খাতসহ একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনার কথা উঠে আসে এবং উভয় পক্ষই ফিলিপাইন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেন।
    রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কাইনগলেট ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট বংবং মার্কোস এবং দেশটির জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানান।

  • শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার

    শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার

    অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের বিষয়ে নড়েচড়ে বসেছে সরকার। করণীয় ঠিক করতে চলছে লাগাতার বৈঠক। আপাতত শুল্ক কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পথেই হাঁটতে চায় অন্তবর্তী সরকার।

    চলতি মাসের ৯ তারিখ থেকে এই শুল্কহার কার্যকর হওয়ার কথা। এ নিয়েই বড় উদ্বেগ বাংলাদেশের। কারণ, বাংলাদেশি তৈরি পোশাকের বড় গন্তব্য দেশ যুক্তরাষ্ট্র। শুধু পোশাকই নয়, দ্বিতীয় প্রধান রফতানি পণ্য লেদারগুডস ও সিনথেটিক পণ্যেও তৈররি হয়েছে দুশ্চিন্তা।

    ইতোমধ্যে এই ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখতে চিঠিতে অনুরোধ জানান তিনি।

    ব্যবসায়িদের দাবি, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

    বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ বলেছেন, পণ্য পাঠাতে বন্দরে আমাদের সময় বেশি লাগে, এটি কীভাবে কমানো যায় সেটার ব্যাপারে আরো মনোযোগ দেয়া এবং পাশাপাশি এনবিআর যেসব ট্যাক্স আরোপ করে রেখেছে, এগুলোর বিষয়ে আবার চিন্তা-ভাবনা করা, করপোরেট ট্যাক্স কমিয়ে আনা দরকার। ব্যবসায় তো টিকে থাকতে হবে, না হলে কিন্তু অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে।

    যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আরোপিত শুল্কের নাম দেয়া হয়েছে রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ বা পাল্টা শুল্ক। অর্থাৎ যেসব দেশ এতদিন মার্কিন পণ্যের ওপর উচ্চশুল্ক নির্ধারণ করে রেখেছিল, সেই সব দেশের পণ্যে দেয়া হয়েছে পাল্টা শুল্ক। বাংলাদেশ এতদিন গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক দিলেও এখন দিতে হবে ৩৭ শতাংশ।

    অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, বাণিজ্য ঘাটতিকে ভাগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, তাদের ওখানে আমাদের রফতানি ৮.৪ বিলিয়ন ডলার মতো। আর ওদের রফতানি দিয়ে আমাদের রফতানিকে ভাগ দিলে দুই দেশের মধ্যে ঘাটতি আসে ৭৪ শতাংশ। সে (ডোনাল্ড ট্রাম্প) সেখানে বলছে, আমি একটা ডিসকাউন্ট দিচ্ছি… সবাইকে ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট, ৭৪ এর ৫০ শতাংশ ডিসকাউন্ট হচ্ছে ৩৭। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেই বাণিজ্য ঘাটতিটা আছে এইটা কমাতে হবে। এইটা কমানোর দুইটা পথ আছে, একটা হলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো, আরেকটা হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানি কমানো।

    মূলত বাণিজ্য ঘাটতি বিবেচনায় নিয়েই বাড়তি শুল্কারোপের হিসাব কষেছে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলার রফতানির বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানির পরিমাণ ২ বিলিয়ন ডলারের সামান্য বেশি।

    ড. জাহিদ হোসেন বলেন, সবাই আলোচনায় শুল্কের কথা বলছেন। ওরা তো শুধু শুল্কের কথা বলে না। শুল্ক, প্যারা টেরিফ, নন-টেরিফ ব্যারিয়ার আর কারেন্সি ম্যানিপুলেশনের কথা বলছে। বিশেষ করে নন-টেরিফ ব্যারিয়ারটাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের চ্যাপ্টারে। তো ওই নন-টেরিফ ব্যারিয়ারগুলোকে শিথিল করার জন্য বা সহজ করার জন্য আমরা কী কী উদ্যোগ নিয়েছি, সেগুলোর একটা তালিকা করা দরকার।

    শুল্ক ইস্যুতে আলোচনায় বসতে প্রস্তুতি দরকার। এক্ষেত্রে, বড় ভূমিকা রাখতে পারে অ-শুল্ক বাধা। প্রশ্ন হচ্ছে, হঠাৎ করে দেয়া বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপবে কারঘাড়ে?

    ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, আমি নিশ্চিত, ক্রেতাদের কাছ থেকে আগামী সপ্তাহে তারা ই-মেইল বা ফোন পাবেন, তোমাদের সাথে আমরা চুক্তি করেছিলাম এই শুল্কের আগে, এখন এই শুল্কের কারণে আমাদের খরচ বেড়ে গেছে। কাজেই তোমরা দামটা কমাও। প্রাইস ডিসকাউন্ট চাইবে তারা। সেইক্ষেত্রে তো বোঝাটা আমাদের ঘাড়ে আসছে।

    এদিকে, বাংলাদেশ থেকে আমদানি করা এমন ৩০-৩৫টি পণ্যের শুল্কহার কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে চায় অন্তবর্তী সরকার।

    সূত্র যমুনা টিভি

  • যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দেশটির ৫০টি অঙ্গরাজ্যে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ট্রাম্পের নেয়া বিভিন্ন এজেন্ডার প্রতিবাদে এই বিক্ষোভ হয়।

    গতকাল শনিবার (৫ এপ্রিল) দেশটির বোস্টন, শিকাগো, লস অ্যাঞ্জেলেস, নিউ ইয়র্ক এবং ওয়াশিংটন ডিসিসহ অন্যান্য রাজ্যের ১২০০ স্থানে ‘হ্যান্ডস অফ’ নামে এই সমাবেশ করেন বিক্ষোভকারীরা। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেয়ার পর ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এটিই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ। খবর বিবিসি।

    এ সময় বিক্ষোভকারীদের ট্রাম্পবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। তারা অভিবাসী বিরোধী অভিযান, শুল্কারোপের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনে ইলন মাস্কের প্রভাবের সমালোচনাও করেন তারা। বিক্ষোভকারীদের হাতে হ্যান্ডস অফ কানাডা, গ্রিনল্যান্ড, ইউক্রেন লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ডও দেখা যায়।

    এদিকে, ডেমোক্র্যাট আইনপ্রনেতারাও প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব তোলার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।

    ডালাসের একজন বিক্ষোভকারী বলেন, জাতীয় সংকটে এখানে একত্রিত হয়েছি। কারণ তারা সংবিধান অনুসরণ করছে না। তারা ভাবছে সবকিছু নিজেদের ইচ্ছামতো হবে। তবে তা কখনো হবে না। এই দেশ আমাদের।

    আটলান্টা শহরের একজন প্রতিবাদকারী বলেন, যা ঘটছে তা হলো ক্ষমতার অপব্যবহার। এত বড় বড় পদক্ষেপের জন্য সিনেটে শুনানি করা হচ্ছে না। জনগণ এগুলোর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে এসেছে।

    ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমর বলেন, আমরা গণতন্ত্র ও সংবিধানের জন্য লড়ছি। নিজের পরিবারের কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য লড়ছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্বৈরাচার হতে চাইছেন। আমেরিকায় কোনো স্বৈরাচারকে মেনে নেবো না। একজন ধনকুবের প্রেসিডেন্টের পাশের সিটটি কিনে নিয়ে তাকে পুতুল বানিয়ে রেখেছেন। তবে আমেরিকার গণতন্ত্র বিক্রির জন্য নয় এবং তা হবেও না।

    ডেমোক্র্যাট দলীয় আরেক কংগ্রেস সদস্য আল গ্রিন বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হয়তো এবার মেয়াদ পূর্ণ করতে পারবেন না। আমরা ৩০ দিনের মধ্যে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনবো।

    অন্যদিকে, বিশ্বের ১৮৫টি দেশ ও অঞ্চলের ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমদানি শুল্ক আরোপের ঘোষণার পর লন্ডন, প্যারিস এবং বার্লিনসহ আমেরিকার বাইরেও ট্রাম্পবিরোধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

  • ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার

    ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার

    নিউজ ডেস্ক: শুক্রবার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার যোগ্য বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার। এছাড়া আরও ৭০ হাজার রোহিঙ্গার তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে। চূড়ান্ত হলে এই তালিকাও প্রত্যাবাসনে যুক্ত হবে। এটিকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বড় ও দীর্ঘস্থায়ী পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন বিশ্লেষকরা।

    ২০১৭ সালের রোহিঙ্গা ঢলের পর ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে আট লাখ রোহিঙ্গার তালিকা দেশটিকে দেয়া হয়। ছয় ধাপে সেই তালিকা দেয়া হয়েছিলো।

    এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। এই ইস্যুটিকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে নিয়ে আসা সরকারের প্রথম কাজ ছিল। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রত্যাবাসনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়াগুলো আসবে। মিয়ানমার প্রত্যাবাসনযোগ্য রোহিঙ্গাদের যে তালিকা নিশ্চিত করেছে সেটি নিয়ে সরকার দেশটির সাথে অবশ্যই আলাপ করবে।

    যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন বলেন, মিয়ানমার ১ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে যোগ্য ঘোষণার মাধ্যমে ইস্যুটিকে স্বীকার করেছে। এটি একটি বড় পদক্ষেপ। এই স্বীকৃতি পাওয়াও একটি বড় অর্জন।

    সম্প্রতি চীন সফরে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে দেশটির আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং’ও বিষয়টি নিয়ে মিয়ানমার সরকারের সাথে কথা বলার আশ্বাস দেন। এর ঠিক কয়েকদিন পরেই মিয়ানমার জান্তা সরকারের এমন সিদ্ধান্ত অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানের নেতৃত্বগুণ বলে জানান বিশ্লেষকরা।

    নিরাপত্তা বিশ্লেষক নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেছেন, চীন মিয়ানমারের ওপর যত চাপ সৃষ্টি করবে ততই দেশটি রোহিঙ্গাদের নিয়ে নমনীয় হবে। অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটিকে এগিয়ে নিতে পারলে পরবর্তী সরকারের ওপরও দায়িত্ব বর্তাবে।

    এদিকে প্রত্যাবাসনের জন্য এই স্বীকৃতি একটা প্রামাণ্য দলিল হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছে বিশ্লেষকরা। তবে জান্তা সরকার রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে না পেলে, সেগুলো নিছক দলিল হয়েই থেকে যেতে পারে।

    এ বিষয়ে আকবর হোসেন বলেছেন, রোহিঙ্গাদের দেয়া মিয়ানমারের স্বীকৃতি আরাকান আর্মিকে অসন্তুষ্ট হয়েছে কিনা এমন প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। বাংলাদেশ ও আরাকান আর্মির মধ্যকার কূটনীতির ওপর বিষয়টি নির্ভর করবে। এক্ষেতে ভারত ও চীনের বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে। তাছাটা, আলোচনা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক চলমান রাখতে হবে।

    এর আগে, বেশ কয়েকবার রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পদক্ষেপ নেয়া হলেও তা শেষ পর্যন্ত আলোর মুখ দেখেনি।

  • বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্প কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

    বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং শিল্প কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা

    নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং এ অঞ্চলে শিল্প কারখানা স্থাপনের আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এর ফলে বাংলাদেশসহ এই অঞ্চলের ভূমি পরিবেষ্টিত দেশগুলো উপকৃত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    চীনের গণমাধ্যম সিজিটিএন-কে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা। শনিবার (৫ এপ্রিল) চার মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ করা হয়। সাক্ষাৎকারে চীনের সাথে থাকা সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেন ড. ইউনূস।

    সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা নিয়েও কথা বলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চাইনিজ হাসপাতালগুলোর প্রশংসা করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ চীনের স্বাস্থ্যসেবা পেতে চায়। এটা হলে তারা অনেক খুশি হবে। তাছাড়া, স্বাস্থ্যখাতে চাইনিজ টেকনোলজি থেকে বাংলাদেশের অনেক কিছু পাওয়ার আছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে বাংলাদেশ। দেশকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন। যুব সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অনুযায়ী বাংলাদেশকে রূপান্তরে সহায়তা করতে পারে চীন। আমাদের অর্ধেক জনগোষ্ঠীর বয়স ২৭ বছরের মধ্যে। সুতরাং তারা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দক্ষ জনশক্তি হতে পারে।

    এ সময় বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক সম্পর্কে অর্জিত সাফল্যের প্রশংসাও করেন অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাফল্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চীন জনগণের আকাঙ্খার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে বাংলাদেশের রূপান্তরে সহযোগিতা করে যাবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, এজন্য অবশ্য সংস্কৃতি ও ভাষাচর্চার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বাংলাদেশে চাইনিজ সাংস্কৃতিক চর্চা কেন্দ্র স্থাপনে চীন সহায়তা করতে পারে। এর ফলে বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ চাইনিজ ভাষা ও সংস্কৃতি জানতে পারবে। এতে দুই দেশের জনগণের মধ্যে আরও গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হবে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, শান্তিই একমাত্র সমাধান, যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধের কোনো প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    উল্লেখ্য, গত ২৬ থেকে ২৯ মার্চ পর্যন্ত ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ চীনের হাইনান দ্বীপ প্রদেশে অনুষ্ঠিত বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়ার বার্ষিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন। এরপর তিনি বেইজিং সফর করেন। এটি প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল।