Category: প্রচ্ছদ

  • গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

    গোপালগঞ্জে মধুমতি নদীতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

     জেলার কাশিয়ানীতে ফুফুর বাড়িতে বেড়াতে এসে মধুমতি নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে সাজিদ মোল্লা (১২) নামে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

    গতকাল শনিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সাজিদ মোল্লা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কংশুর গ্রামের সোহেল মোল্লার পুত্র।

    পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাজিদ কয়েকদিন আগে তার ফুফু বাড়ি জঙ্গলমুকুন্দপুর গ্রামে বেড়াতে আসে। শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশের মধুমতি নদীতে সে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে নদীর পানিতে তলিয়ে গেলে স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে তাকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    সাজিদের ফুফাতো বোন সুমি বেগম বলেন, নদীর পাড়ে থাকা শিশুদের চিৎকার শুনে আমরা ছুটে যাই। তখন আর তাকে দেখা যাচ্ছিল না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর ভাটিয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসে খবর দেই। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

    ভাটিয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার মোহাম্মদ রেজাউল মাওলা জানান, সন্ধ্যার পর ডুবুরি নামানোর সুযোগ না থাকায় স্থানীয় যুবকদের সহায়তায় উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হয়। পানির নিচে বালুর বস্তার সঙ্গে আটকে থাকা অবস্থায় সাজিদকে উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    কাশিয়ানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. বোরহান দর্জি বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। কিন্তু তার আগেই স্বজনরা মরদেহ নিজ গ্রামের বাড়ি কংশুরে নিয়ে যান।

  • যুদ্ধ অবসানে চুক্তি চূড়ান্তের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    যুদ্ধ অবসানে চুক্তি চূড়ান্তের চেষ্টা চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান রোববার একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকা একটি প্রস্তাবের ‘বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন’ হয়েছে।

    তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জোর দিয়ে বলেছেন, চুক্তিটি এখনও ‘চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায়’ রয়েছে।

    একই সময়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, প্রাথমিক সমঝোতা হওয়ার পরই কেবল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জটিল বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।

    ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

    শনিবার নিজের ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও আরও কয়েকটি দেশের মধ্যে
    চুক্তির বেশিরভাগ আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এটি এখনও চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তিতে সম্মত অন্যান্য বহু বিষয়ের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীও খুলে দেওয়া হবে।’
    মাসের পর মাস ধরে ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, প্রণালীটি খুলে দিলে তা থেকে স্বস্তি মিলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    ট্রাম্প জানান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মিসর, জর্ডান ও বাহরাইনের নেতারা ছাড়াও তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা শনিবার তার সঙ্গে ফোনালাপে অংশ নেন।

    সেখানে চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

    এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঐতিহাসিক সরাসরি বৈঠকের মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান খুব শিগগিরই আরেক দফা আলোচনার আয়োজন করতে চায় বলে জানান দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।

    তিনি বলেন, শুক্রবার তেহরান সফর করা পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও ওই ফোনালাপে অংশ নেন। এটি চলমান শান্তি প্রচেষ্টা কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবং অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়, সে বিষয়ে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি করেছে।

    ট্রাম্প বলেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার আলাদা ফোনালাপও ‘খুব ভালো’ হয়েছে।
    ট্রাম্প বলেন, ‘চুক্তির চূড়ান্ত দিক ও বিস্তারিত বিষয়গুলো এখন আলোচনা হচ্ছে। খুব শিগগিরই সেগুলো ঘোষণা করা হবে।’

    নিউইয়র্ক টাইমস নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ত্যাগে তেহরানের ‘সম্ভাব্য অঙ্গীকারের’ বিস্তারিত বিষয় প্রাথমিক চুক্তির পর আলোচনা হবে।
    ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইরানের হাতে এমন মজুত তারা মেনে নেবে না।

    ইরানি কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এখনও মতপার্থক্য রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে বিরোধ প্রাথমিক আলোচনার অংশ হবে না বলেও তারা জানান।

    নতুন করে হামলার আশঙ্কার বিষয়ে মার্কিন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার যুদ্ধ শুরু করলে কঠোর জবাবের মুখে পড়বে।

    তিনি বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির সময়ে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের এমনভাবে পুনর্গঠন করেছে যে ট্রাম্প যদি আরেকটি বোকামি করে যুদ্ধ আবার শুরু করেন, তবে তা যুদ্ধের প্রথম দিনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আরও ভয়াবহ ও তিক্ত হবে।’

    রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, যুদ্ধের আরেকটি প্রধান ক্ষেত্র লেবাননেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইল হামলা চালিয়েছে। যদিও সেখানে ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল।

    লেবাননের সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণাঞ্চলে তাদের একটি ব্যারাকে হামলা চালানো হয়েছে। এতে এক সেনাসদস্য আহত হয়েছেন।

    অন্যদিকে ইসরাইল জানায়, সীমান্তের কাছে শুক্রবার তাদের এক সেনা নিহত হয়েছেন।

    যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইসরাইলে রকেট হামলা চালালে লেবাননও এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

    হিজবুল্লাহ শনিবার জানায়, তাদের প্রধান নাঈম কাসেম ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছেন।
    সেখানে বলা হয়েছে, লেবাননের এই গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করবে না তেহরান ।

  • কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোল রুম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

    কোরবানির চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় কন্ট্রোল রুম বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের

    আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহায় কোরবানির চামড়া সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের নম্বর- ০১৬১৭৩৩৮০৬৭।

    আজ (রোববার) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কন্ট্রোল রুম খোলার কথা জানানো হয়েছে।

  • বায়তুল মুকাররমে ঈদুল আযহায় ৫টি জামাত: ইমাম ও মুকাব্বিরের তালিকা প্রকাশ

    বায়তুল মুকাররমে ঈদুল আযহায় ৫টি জামাত: ইমাম ও মুকাব্বিরের তালিকা প্রকাশ

    পবিত্র ঈদুল আযহা ১৪৪৭ হিজরি উদযাপন উপলক্ষে এবারও রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মুকাররমে পর্যায়ক্রমে ৫টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত হবে সকাল ৭টায়।

    জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক, আগামী ২৮ মে (বৃহস্পতিবার) দেশে পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে।

    এসব জামাতে ইমামতি ও মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। এর আগে ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পক্ষ থেকে এই তালিকা চূড়ান্ত করা হয়।

    সকাল ৭টার প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি ইসহাক।

    দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। ইমাম হিসেবে থাকবেন ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মসজিদের চিফ খাদেম মো. নাসির উল্লাহ।

    তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৯টায়। এতে ইমামতি করবেন ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. রুহুল আমিন।

    সকাল ১০টার চতুর্থ জামাতে ইমামতি করবেন ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মো. আব্দুল হাদী।

    পঞ্চম বা সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. আমির হোসেন।

    কোনো জামাতে নির্ধারিত ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মো. শামসুল হক।

    ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট সকল ইমাম, মুকাব্বির এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গকে নির্ধারিত সময়ের আগে জাতীয় মসজিদে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

  • স্কুল ফিডিংয়ে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

    স্কুল ফিডিংয়ে গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না: প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

    স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল কার্যক্রমে শিশুদের পুষ্টিকর খাদ্যের মান ও সরবরাহের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি বা অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

    তিনি বলেন, ‘শিশুদের পুষ্টি ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রশ্নে সরকার শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি বজায় রাখবে।’

    আজ রোববার রাজধানীর প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং মাঠপর্যায়ের দায়িত্বপ্রাপ্তদের সঙ্গে আয়োজিত নির্দেশনামূলক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘এটি কোনো সাধারণ সভা নয়। শিশুদের পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার সঙ্গে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কর্মসূচি। সরকারি কর্মকর্তা হোন কিংবা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান-সবাইকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সততার সাথে কাজ করতে হবে।’

    তিনি জানান, বর্তমানে দেশের ১৫১টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে এই বিশাল স্কুল ফিডিং কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এত বড় একটি জনকল্যাণমুখী প্রকল্পে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের জন্য বিব্রতকর হবে।

    সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। তবে ব্যবসার নামে শিশুদের খাদ্যের মানের সঙ্গে আপস করার কোনো সুযোগ নেই। যারা সঠিকভাবে শর্ত মেনে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, ভবিষ্যতে তারা এই কার্যক্রমে আর যুক্ত থাকতে পারবেন না।’

    কর্মসূচিকে আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সভায় প্রতিমন্ত্রী বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নির্দেশনা দেন প্রতিমন্ত্রী।

    এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- খাদ্য কোথা থেকে আসছে, কীভাবে প্রক্রিয়াজাত হচ্ছে এবং কার মাধ্যমে বিদ্যালয়ে পৌঁছাচ্ছে; তার সম্পূর্ণ ডিজিটাল ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য সরকারের কাছে থাকতে হবে। খাদ্যের পুষ্টিগুণ ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে বিশেষায়িত টেকনিশিয়ান নিয়োগ করতে হবে; স্থানীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে মাঠপর্যায় থেকে খাদ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে; প্রতিদিন নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয়ে খাদ্য পৌঁছানো এবং মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে।

    প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই- শিশুরা যেন সঠিকভাবে পুষ্টিকর খাবার পায়। এজন্য বাস্তবসম্মত সব ধরনের সহযোগিতা সরকার দেবে। তবে দায়িত্বপ্রাপ্তদেরও নিজেদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।’

    এটিকে একটি পাইলট কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, বর্তমানে যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত হচ্ছে, সেগুলো সমাধান করেই আগামীতে সারা দেশে আরও বড় পরিসরে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

    সভায় সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন বাস্তব চ্যালেঞ্জ তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা আরও জোরদার করার আশ্বাস দেন।

    প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাখাওয়াৎ হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, প্রকল্প পরিচালক, উপপরিচালক, জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরা।

  • বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি ও আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।আজ সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমরা এমন একটি উদ্যোগের উদ্বোধন করছি যা শুধু একটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগই নয় বরং এটি বাংলাদেশের টেকসই ভবিষ্যতের একটি প্রতীক।’

     

    তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনে এক মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার উদ্বোধনের মাধ্যমে একটা বার্তা আমরা স্পষ্টভাবে দিতে পারবো। সেটি হচ্ছে, বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানি, সবুজ অর্থনীতি এবং আত্মনির্ভরশীল শক্তি ব্যবস্থার পথে ধীরে ধীরে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।’প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধে ‘নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’-এর উদ্বোধন করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম।

     

    এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, লুই আই কানের নকশায় নির্মিত এই জাতীয় সংসদ ভবন অবশ্যই আমাদের গণতন্ত্রের প্রতীক। আজ সেই ভবনের ছাদে সৌর শক্তিকে কাজে লাগিয়ে আমরা প্রমাণ করার চেষ্টা করছি, নেতৃত্ব কেবল নীতিতেই নয় বরং বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হতে হবে।

     

    তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জ্বালানি খাতে স্বনির্ভরতা অর্জন করার চেষ্টা করছে। আমাদের অর্থনীতি সম্প্রসারিত হচ্ছে। শিল্পায়ন বাড়ছে। বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত গতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু একই সঙ্গে আমাদের অবশ্যই স্বীকার করতে হবে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম একটি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।’

     

    সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বর্ষণ, ঘূর্ণিঝড় এবং নদী ভাঙন এসব আমাদের প্রতিদিনের বাস্তবতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এ কারণেই টেকসই জ্বালানির পথে অগ্রসর হওয়া এখন আর শুধু পরিবেশগত দায়বদ্ধতা নয় বরং এটি আমাদের অর্থনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য একটি অংশ। সৌরশক্তি সেই সম্ভাবনার সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।’

     

    তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে প্রতিবর্গ কিলোমিটারে সাড়ে চার থেকে পাঁচ কিলোয়াট ঘণ্টার সৌরশক্তি পাওয়া যায়। আমাদের অসংখ্য ছাদ, শিল্প এলাকা, খোলা জমি এবং উপকূলীয় অঞ্চল নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিশাল সম্ভাবনা ধারণ করে আছে।’

     

    তিনি বলেন, ‘গত এক দশকে বিশ্বব্যাপী সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে সৌরশক্তি এখন কেবল পরিবেশবান্ধব নয়, অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত কার্যকর একটি সমাধান। আজকের এই প্রকল্প সেই বৃহত্তর যাত্রারই অংশ। ’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জাতীয় সংসদ ভবনের এই উদ্যোগ দেশের সকল সরকারি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে অনুপ্রাণিত করবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও প্রতিটি নাগরিক যদি পরিচ্ছন্ন জ্বালানির এই অভিযাত্রায় অংশ নেয় তবে বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুতই টেকসই উন্নয়নের মডেল রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে।’

     

    এ সময়ে মঞ্চে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি উপস্থিত ছিলেন।

    এছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।