Category: প্রচ্ছদ

  • উপাত্ত ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত : তথ্যমন্ত্রী

    উপাত্ত ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত : তথ্যমন্ত্রী

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক যুগে ডেটা বা উপাত্ত ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবলই ব্যক্তিগত অভিমত বা ধারণা মাত্র।তিনি বলেন, সঠিক উপাত্ত ছাড়া যে কোনো জনসংযোগ বা প্রচার কৌশল ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে। তাই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের যে কোনো বার্তা তৈরিতে সুনির্দিষ্ট ও বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর নির্ভর করার আহবান জানান তিনি।

     

    আজ সকালে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের (পিআরও) প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান যুগটি হচ্ছে নিখুঁত ডেটা বা উপাত্তের যুগ। আপনি মাঠ পর্যায়ে কী কাজ করছেন বা সরকারের বার্তা জনগণের কাছে কীভাবে পৌঁছাচ্ছে, তা কেবল মুখের কথায় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিরূপণ করা সম্ভব নয়।’

     

    তিনি বলেন, ‘তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা নিশ্চিত করতে হলে তার পেছনে অবশ্যই অকাট্য উপাত্ত থাকতে হবে। উপাত্তহীন যে কোনো তথ্যকে সমাজ কেবল একজন ব্যক্তির মতামত হিসেবেই দেখবে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ মূল্য নেই।’

     

    জনসংযোগের আধুনিকায়নে ‘সাইকোগ্রাফি’ এবং ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কন্টেন্ট বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত বের করা অত্যন্ত সহজ। একটি তথ্যে বা সংবাদে মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন—কয়টি লাইক, ডিসলাইক বা কী ধরনের মন্তব্য আসছে, সেই ডেটা বিশ্লেষণ করে জনমতের নিখুঁত গ্রাফ তৈরি করা যায়।’তিনি বলেন, ‘এই বৈজ্ঞানিক উপাত্তকে কাজে লাগিয়েই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট বা নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করতে হবে।’

     

    তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী আরও বলেন, নিজেদের দক্ষ ‘ডিজিটাল ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্যকে উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জনগণের সামনে তুলে ধরতে পারলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বেড়ে যায়। উপাত্তভিত্তিক প্রচারণাই পারে বিভ্রান্তি দূর করে জনমনে সঠিক পারসেপশন বা ধারণা তৈরি করতে।

     

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম ও মো. ইয়াসীন উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১০

    ইসরাইলি বিমান হামলায় লেবাননে নিহত ১০

    লেবাননে ইসরাইলের নতুন বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার ও স্থানীয় গণমাধ্যম।

    গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, শনিবার ভোরের দিকে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিমান হামলা চালায় ইসরাইল।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানায়, মধ্যরাতের কিছু আগে ব্রিটালের উপকণ্ঠে পাহাড়ি এলাকা নাবি শ্রেইজে পাঁচটি বিমান হামলা চালানো হয়। হিজবুল্লাহর সঙ্গে ১৭ এপ্রিলের যুদ্ধবিরতির পর থেকে এলাকাটি হামলার বাইরে ছিল।

    দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর টাইরে অবস্থানরত এএফপির এক সংবাদদাতা জানান, তিনি দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। প্রথমে শহরের উপকণ্ঠে একটি ভবনে হামলা হয়। পরে শহরের ভেতরে আরেকটি হামলা চালানো হয়। এতে এলাকায় ঘনকালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।

    এর আগে বেসামরিক প্রতিরক্ষা উদ্ধারকারী দল ও পৌর পুলিশের সদস্যরা এলাকাবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করেন। তারা মাইকিং করে স্থানীয়দের দ্রুত এলাকা ছাড়ার আহ্বান জানান।

    ইসরাইলি সেনাবাহিনী তাদের আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদ্রাইয়ের মাধ্যমে দুটি উচ্ছেদ সতর্কতা জারি করে। এর মধ্যে একটি ছিল লেবাননের বুর্জ রাহাল গ্রামকে ঘিরে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।

    আদ্রাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, টাইরের দুটি এলাকার বাসিন্দাদেরও সরে যেতে বলা হয়েছে। কারণ ওই এলাকাগুলো ‘হিজবুল্লাহর স্থাপনার কাছে অবস্থিত’ এবং সেখানে অভিযান চালাতে যাচ্ছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।

  • কলম্বিয়ায় ২ আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭, আহত শতাধিক

    কলম্বিয়ায় ২ আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭, আহত শতাধিক

    কলম্বিয়ার দুই আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাত জনে দাঁড়িয়েছে বলে শুক্রবার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। এতে শতাধিক আহত হয়েছে।

    দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কাউকা প্রদেশে বৃহস্পতিবার মিসাক ও নাসা জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ঘটে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    শুক্রবার নিহতের সংখ্যা বাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহতদের মধ্যে ছয় জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। এদের চার জন মিসাক সম্প্রদায়ের ও দুই জন নাসা সম্প্রদায়ের।

    নিহত অপর একজনকে এখনও শনাক্ত করা যায়নি।

    আঞ্চলিক গভর্নরের একজন মুখপাত্র জানান, সংঘর্ষে অন্তত ১১০ জন আহত হয়েছেন।

    স্থানীয় হাসপাতালে এক আদিবাসী নেতা লুইস এনরিকের লাশ গ্রহণের সময় মিসাক সম্প্রদায়ের সদস্যরা শোকাহত হয়ে পড়েন। তিনি একটি আদিবাসী সংরক্ষিত এলাকার নেতা ছিলেন।

    মিসাক গোষ্ঠীর মারিয়া জাসিন্তা তুনুবুলা এএফপিকে জানান, মিসাকরা একটি বেড়া কেটে নিজেদের বলে মনে করা এলাকা দখলের চেষ্টা করলে নাসা সম্প্রদায় তাদের ওপর হামলা চালায়।

    আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের স্ট্রেচারে থাকা ৪৫ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, ‘তারা আমাদের ওপর লাঠি, পাথর, অস্ত্র ও দা নিয়ে হামলা চালায়।’

    সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দুই পক্ষের মধ্যে লাঠি ও পাথর নিয়ে তীব্র সংঘর্ষ চলছে, মাটিতে রক্তাক্ত লাশ পড়ে আছে এবং কিছু মানুষ আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছে।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

  • মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

    মোবাইল খাতে কর সংস্কারে ২০৩৪ সালের মধ্যে অতিরিক্ত ২ বিলিয়ন ডলার রাজস্বের সম্ভাবনা

    মোবাইল সংযোগ খাতে সংস্কার আনা গেলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারবে এবং ২০৩৪ সাল নাগাদ সরকারের বার্ষিক রাজস্ব আয় স্বাভাবিকের চেয়ে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বাড়তে পারে। নতুন প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

    গবেষণাটিতে বলা হয়, মোবাইল খাতে প্রস্তাবিত কর সংস্কারের ফলে ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারণ, মোবাইল ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সারা দেশে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বাড়বে। এর মাধ্যমে মাথাপিছু জিডিপির বার্ষিক প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হার ৬.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭.২ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।

    ইউরোপভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ফ্রন্টিয়ার ইকোনমিকস লিমিটেডের চলতি বছরের মে মাসে ‘বাংলাদেশ ক্যান ইনক্রিজ ইকোনমিক গ্রোথ বাই লোয়ারিং ব্যারিয়ার্স টু ডিজিটাল কানেক্টিভিটি’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

    গবেষকরা পর্যবেক্ষণ করেছেন, বাংলাদেশে ডিজিটালাইজেশন আর্থিক অন্তর্ভুক্তি; শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ই-কমার্স খাতের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। উন্নত সংযোগ দেশের দীর্ঘমেয়াদি করভিত্তি ও অর্থনৈতিক উৎপাদনশীলতাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

    তারা উল্লেখ করেন, মোবাইল খাতে করের চাপ কমাতে নেওয়া সংস্কার ডিজিটাল রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে পারে। এর ফলে সময়ের সঙ্গে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়বে এবং জাতীয় রাজস্বের আওতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

    মোবাইল খাতের এই কর সংস্কারের ফলে দেশের সামগ্রিক ভোক্তা চাহিদা বাড়বে বলেও প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা বা পেনিট্রেশন ৫ শতাংশ এবং গ্রাহকপ্রতি গড় ডেটা ব্যবহার ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ডিজিটালাইজেশন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আনুষ্ঠানিক রূপ দিতে সহায়তা করে এবং কর আদায়ের সক্ষমতা বাড়ায়। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশের মোট রাজস্ব আয় জিডিপির প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।

    বর্তমানে বাংলাদেশের মোবাইল খাত এ অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম উচ্চ করের বোঝা বহন করছে। খাতটির মোট আয়ের প্রায় ৫৫ শতাংশই বিভিন্ন কর ও ফি পরিশোধে ব্যয় হয়।

    বর্তমান কর কাঠামোর মধ্যে রয়েছে ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক, ১ শতাংশ সারচার্জ, রেভিনিউ শেয়ারিং (রাজস্ব অংশীদারিত্ব)  বাধ্যবাধকতা এবং সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ডে (সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল) অবদান।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে বিদ্যমান ৩০০ টাকার সিম কর নতুন গ্রাহকদের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল অপারেটরদের ওপর ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ করপোরেট কর আরোপ করা হয়, যা অধিকাংশ অন্যান্য খাতের তুলনায় অনেক বেশি।

    প্রস্তাবিত সংস্কার কাঠামোর আওতায় সম্পূরক শুল্ক ও রেভিনিউ শেয়ারিং চার্জ কমিয়ে সম্মিলিত বিক্রয় ও টার্নওভার করের হার ২৩ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে টার্নওভার কর ও সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়েছে।

    এতে সিম কর সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার এবং মোবাইল অপারেটরদের করপোরেট করের হার কমিয়ে ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনারও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

    প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত সংস্কারের ফলে প্রাথমিক পর্যায়ে মোবাইল খাত থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা কমলেও এটি হবে একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড।

    প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে সরকারের রাজস্ব আয় প্রায় ৭৬ কোটি ১০ লাখ (৭৬১ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার কমতে পারে। যা মোট সরকারি কর রাজস্বের প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশের সমান।

    তবে প্রতিবেদনে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে ধীরে ধীরে এই ঘাটতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।

    ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতে আর্থিক ভারসাম্য বা ফিসকাল ব্রেক-ইভেন অর্জিত হবে। এরপর থেকেই সংস্কারের ফলে সরকার ইতিবাচক আর্থিক সুফল পেতে শুরু করবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনের পূর্বাভাসে বলা হয়, বিদ্যমান কর কাঠামোর তুলনায় এসব সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৪ সাল নাগাদ বছরে অতিরিক্ত প্রায় ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার নিট রাজস্ব আয় হতে পারে।

    এতে খাতভিত্তিক কর পুনর্নির্ধারণ, ডিজিটাল সংযোগে সিম-সংক্রান্ত বাধা দূর করা এবং সংস্কারগুলোকে সরকারের বৃহত্তর ‘স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশন ২০৪১’ কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

    প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সংস্কারের শুরুর বছরগুলোতে সাময়িক রাজস্ব ক্ষতি সামাল দিতে একটি কার্যকর ‘আর্থিক রূপান্তর পরিকল্পনা’ (ফিসকাল ট্রানজিশন প্ল্যান) প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি। যাতে অর্থনৈতিক সুফল পুরোপুরি দৃশ্যমান হওয়ার আগ পর্যন্ত আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যায়।

  • দেশে অরাজক সৃষ্টির পায়তারা চলছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

    দেশে অরাজক সৃষ্টির পায়তারা চলছে, সতর্ক থাকুন : প্রধানমন্ত্রী

    দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির পায়তারা চলছে, সতর্ক থাকুন।’

    তিনি বলেন, ‘আজকে যারা দেশে এই অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় তাদের ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, দেশে এই মুহূর্তে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হবে। দেশের মানুষ বিপদে পড়বে।’

    আজ শনিবার দুপুরে ত্রিশালের বৈলর এলাকার ‘ধরার খাল’ পুনঃখননের পর উপস্থিত নেতা-কর্মীসহ গ্রামবাসীদের এক সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যার ঘটনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘তিন-চার দিন আগে এই অত্যন্ত দুঃখজনক, হৃদয় বিদারক একটি ঘটনা ঘটছে। এই ছোট্ট বাচ্চাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। প্রথম থেকে আমরা বলে এসেছি যে, আইনের দৃষ্টিতে কোন ব্যক্তি যদি অপরাধ করে তাকে শাস্তি পেতে হবে। আইনের শাসন আমরা প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। তবে সব কিছু নিয়ম কানুন মেনেই করতে হবে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে কোন অন্যায়কারীকে শাস্তি দিতে হলে, তার বিচার করতে হলে সরকারের কতগুলা নিয়ম কানুন আছে। অথচ এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে কিছু সংখ্যক মানুষ একটা ঘোলাটে পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে। রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিচ্ছে, যান বাহন চলাচল বন্ধ করে দিচ্ছে, এখানে আগুন ধরাচ্ছে, ওখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হচ্ছে। এই কাজগুলো যারা করে তারা আইনের শাসনকে বাধাগ্রস্ত করছে।’

    প্রধানমন্ত্রী  আরও বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন ক্ষমতায় ছিল সেই সময় আমরা দেখেছি দেশে কয়েকটি দুঃখজনক এরকম অন্যায় ঘটেছে, সেই অন্যায় যখন ঘটেছে আমি নিজে সেই সকল বাচ্চার মায়েদের সাথে কথা বলেছিলাম, আমাদের দলের আইনজীবী, আমাদের দলের চিকিৎসকরা গিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে, আইনজীবীরা গিয়ে সেই আইনি সহায়তা করেছিল। আজকে যেই ব্যক্তিরা হৈচৈ করছে, রাস্তা অবরোধ করছে, বড় বড় কথা বলছে, সেদিন কিন্তু তাদেরকে আমরা মাঠে দেখিনি, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি তারা অবরোধ করেছে।’

    তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘তাহলে কি আমরা ধরে নেব ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ যেহেতু বিএনপিকে ভোট দিয়ে সরকার গঠন করতে ক্ষমতা দিয়েছে সেই জন্যই কোনো মহলের মনে জ্বালা হচ্ছে এবং এই জ্বালার কারণেই তারা এসব ষড়যন্ত্র করছে?’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে। গত ৫ আগস্ট যাদেরকে বাংলাদেশের মানুষ এই দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছিল, এখন যারা অরাজগতা সৃষ্টি করতে চাইছে তাদের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। যেভাবে ‘৯৬ সালে করেছিল, যেইভাবে ’৮৬  সালে করেছিল, তাদের সাথে নতুন কয়েকটি লেজও গজিয়েছে।  সুন্দর ছোট ছোট লেজেও গজিয়েছে।’

    তিনি বলেন, ‘আমরা এই দেশ থেকে স্বৈরাচারকে বিদায় করেছি। যেই স্বৈরাচার বাংলাদেশের মানুষের ভোটের অধিকার, মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছিল, খেটে খাওয়া মানুষ, গ্রামে বাস করা মানুষের সকল প্রকার উন্নয়ন বন্ধ করে দিয়েছিল সেই স্বৈরাচারকে এই বাংলাদেশের মানুষ ছাত্র-জনতা রাজপথে একত্রিত হয়ে তাদেরকে এই দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’

    ছবি: পিএমও

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ দেশ গঠন করতে চায়। বাংলাদেশের মানুষ তার ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চায়। ভাগ্যের পরিবর্তন যদি করতে হয় আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে সক্রিয় করে তুলতে হবে, আমাদের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে কাজে ব্যবহার করতে হবে, তাহলেই আমরা এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারব।’

    জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা রুখতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলে, ‘আজকে সময় এসেছে মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য কাজ করার। অন্যদিকে যারা ন্যায় বিচারকে, সঠিক বিচারকে, বাধাগ্রস্ত করার জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে, মানুষের জন্য গৃহীত কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্তের জন্য বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে তাদের ব্যাপারে বাংলাদেশের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে।’

    তিনি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে এদেশের মালিক জনগণ। কিছু সংখ্যক মানুষ দেশে বিভ্রান্তি ছড়াবে আর তারা সফল হয়ে যাবে,মানুষের ভাগ্যে নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে এই কাজ আর হতে দেওয়া যাবে না। যারা জনগণের সাথে থাকবে জনগণের পাশে থাকবে, জনগণের জন্য কাজ করবে বাংলাদেশের জনগণ তাদেরকেই সাথে নিয়ে এই দেশকে রক্ষা করবে যে কোন ষড়যন্ত্রের হাত থেকে।’

    প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ঘর আমাকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশ আমাদেরকেই দেখতে হবে। আমাদের দেশের স্বাধীনতা, আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব, আমাদের দেশের মানুষের স্বার্থ আমরাই দেখব এবং যে কোন ষড়যন্ত্র প্রতিহত করব আমরা ইনশল্লাহ।’

    ময়মনসিংহ-৭ আসনে সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটনের সভাপতিত্বে সমাবেশে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

    এর আগে প্রধানমন্ত্রী খাল পূনঃখনন স্থলে এসেই ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি নিজে খালের কাছে গিয়ে কোদাল দিয়ে ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। তিনি খালের পাশে একটি তাল গাছের চারাও রোপণ করেন।

  • ঈদে নিরাপদ ট্রেনযাত্রা নিশ্চিতে ও ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে রেল সচিবের দিকনির্দেশনা

    ঈদে নিরাপদ ট্রেনযাত্রা নিশ্চিতে ও ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে রেল সচিবের দিকনির্দেশনা

    আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দেশের প্রধান রেলওয়ে স্টেশন কমলাপুর পরিদর্শন করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম।

    পরিদর্শন শেষে তিনি সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রস্তুতির চিত্র তুলে ধরেন।

    পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আসন্ন ঈদুল আজহা’র ছুটিতে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ট্রেন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আমরা ব্যাপক নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনাগত পদক্ষেপ নিয়েছি। বিশেষ করে ট্রেনের ছাদে ও টিকিট ছাড়া যাত্রী ভ্রমণ রোধে বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে।’

    ঈদের ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে কথা বলার সময় তিনি জানান, ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা বন্ধ করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং রেলওয়ে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলগামী ট্রেনগুলোতে বিগত বছরগুলোতে এই প্রবণতা বেশি দেখা গেছে, তাই এবার সেখানে বাড়তি নজরদারি থাকবে।

    তিনি আরও বলেন, ‘ছাদে ভ্রমণ রেল পরিচালন এবং যাত্রী; উভয়ের জীবনের জন্যই মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।’

    সচিব জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমলাপুর, বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশনসহ অন্যান্য প্রধান স্টেশনগুলোতে ইতোমধ্যেই ভ্রাম্যমাণ আদালত ও নজরদারি দল (ভিজিল্যান্স টিম) মোতায়েন করা হয়েছে।

    স্টেশনগুলোতে অতিরিক্ত ভিড়ের বিষয়ে তিনি বলেন, টিকিটবিহীন যাত্রীরা যাতে স্টেশনে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য তিন স্তর বিশিষ্ট শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। কারণ, টিকিটবিহীন যাত্রী ঢুকলে বৈধ টিকিটধারীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

    তিনি আরও জানান, ঈদের সময় ভ্রমণের বিপুল চাহিদার কথা বিবেচনা করে সরকার ২৫ শতাংশ আসনবিহীন (স্ট্যান্ডিং) টিকিট বিক্রির অনুমতি দিয়েছে। কারণ, ঈদের সময় রেলওয়েতে যাত্রীদের চাপ সাধারণ সময়ের চেয়ে অনেক বেশি থাকে।

    কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাথে সমন্বয় করে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্টেশনের আশপাশে ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড রোধেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    তিনি আরও জানান, নিয়মিত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি ১০০ জন এপিবিএন (আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন) সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অনিয়ম দেখলে রেলওয়ের হটলাইন নম্বর ১৩১-এ জানানোর জন্য তিনি যাত্রীদের প্রতি অনুরোধ জানান।