Category: প্রচ্ছদ

  • ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : সিআইআই

    ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি ভারতের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ : সিআইআই

    ভারতের শীর্ষ শিল্প সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রি (সিআইআই) বলেছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ কৌশল এবং ভারতের নিজস্ব উন্নয়ন অভিজ্ঞতার মধ্যে ঘনিষ্ঠ মিল রয়েছে। এতে দুই দেশের মধ্যে আরও গভীর অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

    নয়াদিল্লিতে সিআইআই সদর দপ্তরে বাংলাদেশি গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন সংগঠনটির ভারতের খ্যাতনামা শিল্প ব্যক্তিত্ব পঙ্কজ ট্যান্ডন।

    তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পর্যায়টি অনেকখানি গুরুত্ব বহন করছে। এটি শুধু বিদ্যমান সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

    ট্যান্ডন বলেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির মূল লক্ষ্য হলো অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, ডিজিটাল রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।

    তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এটি কোনো অভ্যন্তরীণমুখী নীতি নয়, বরং সুপরিকল্পিত অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জাতীয় সক্ষমতা শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগও।

    এই শিল্প ব্যক্তিত্ব জানান, দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। অন্যদিকে এশিয়ায় এটি ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

    তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সহযোগিতাই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের মূল ভিত্তি।

    বাজার সম্প্রসারণ, অ-শুল্ক বাধা কমানো এবং সীমান্ত অবকাঠামো উন্নত করা গেলে বাণিজ্য আরও বাড়বে।
    ট্যান্ডন আরও বলেন, বাংলাদেশের শিল্প সক্ষমতা এবং ভারতের উৎপাদন ও সেবা খাত একে অপরের পরিপূরক। এতে আঞ্চলিক সমন্বিত সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে।

    তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) পণ্য বাণিজ্যের পাশাপাশি সেবা, বিনিয়োগ সহায়তা, প্রযুক্তি সহযোগিতা, মানদণ্ড এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে পারে।

    খাতভিত্তিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তবে ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উৎপাদনশীলতা, মানদণ্ড রক্ষা, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও নকশার দক্ষতা আরও জরুরি হয়ে উঠবে।

    তিনি চিকিৎসা, পর্যটন, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, কৃষি সরবরাহ শৃঙ্খল, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্টার্টআপ, জ্বালানি সহযোগিতা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) খাতকে সম্ভাবনাময় সহযোগিতার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

    ট্যান্ডন বলেন, ডিজিটাল অবকাঠামো, ফিনটেক, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উৎপাদন দক্ষতা ও টেকসই উন্নয়নে ভারতের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক রূপান্তরে সহায়ক হতে পারে।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে অংশীদার সংগঠনগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও বাড়ানো এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদার করতে সিআইআই অঙ্গীকারবদ্ধ।

    এ সময়ে সিআইআইয়ের সিনিয়র পরিচালক মনীশ মোহনও বক্তব্য দেন।

  • উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

    উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না : পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতি ও ধীরগতি আর সহ্য করা হবে না। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না।

    তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গুণগত মান বজায় রাখা, দুর্নীতি কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার ওপর কঠোর গুরুত্বারোপ করেছে সরকার।

    আজ রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের কার্য-অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফার আলোকে একটি নতুন ‘স্ট্র্যাটেজিক ফ্রেমওয়ার্ক’ বা কৌশলগত কাঠামো তৈরি করছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া বিপর্যস্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার এবং বৈষম্য কমিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতেই এই দুই বছর মেয়াদী ফ্রেমওয়ার্ক সাজানো হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) অর্থ ব্যয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতি ও অর্থের অপচয় রোধে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও জোর দিচ্ছে সরকার।

    পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের অন্যতম লক্ষ্য এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন থেকে প্রতিটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে তা কতটুকু কর্মসংস্থান তৈরি করবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা প্রধান বিবেচ্য বিষয় হবে। লক্ষ্য হচ্ছে বৈষম্য কমিয়ে একটি ‘ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমি’ বা এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলা।

    তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকরা প্রকল্প বাস্তবায়নে ভূমি অধিগ্রহণ, আর্থিক বরাদ্দের সময়সূচি, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন কাঠামোর ঘাটতি এবং দুর্নীতিসহ বিভিন্ন সমস্যার বিষয়ে অনেকগুলো প্রস্তাব ও সুপারিশ উপস্থাপন করেছেন। সরকার এসব সমস্যা সমাধানে একটি সুনির্দিষ্ট ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

    তিনি আরও বলেন, আইএমইডি-কে (পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ) আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে যাতে প্রতিটি প্রকল্পের ‘ভ্যালু অব মানি’ বা অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়। এছাড়া রিয়েল টাইম বা তাৎক্ষণিক ও সঠিক তথ্য সংগ্রহের জন্য পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগকে (এসআইডি) নতুন করে সাজানো হচ্ছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর গতানুগতিক ধারায় চলবে না। ২০১৭ সালের প্রকল্প এখনো চলমান থাকা বা বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সংস্কৃতি বন্ধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণমুখী, সাশ্রয়ী এবং সময়াবদ্ধ প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমেই একটি মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মাঠ প্রশাসনকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    সম্মেলনে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী।

  • ওয়াশিংটন ডিসিতে বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    ওয়াশিংটন ডিসিতে বিনিয়োগ সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে মার্কিন রাষ্ট্রদূত

    দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত ২০২৬ সালের সিলেক্টইউএসএ ইনভেস্টমেন্ট সামিটে ২৫ সদস্যের একটি বাংলাদেশি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

    যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ৩ থেকে ৬ মে পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে জ্বালানি, প্রযুক্তি, কৃষিব্যবসা, প্রকৌশল ও ব্যবসায়িক সেবা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতের ২৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতা অংশ নিচ্ছেন।

    আজ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রী হাওয়ার্ড লাটনিকের আয়োজনে এই সম্মেলনকে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সংযোগ স্থাপন করা হয়, যা নতুন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

    এবারের সম্মেলনটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র তার স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপন করছে। সম্মেলনে তুলে ধরা হবে, কীভাবে বৈদেশিক বিনিয়োগ যুক্তরাষ্ট্রের উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগ বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে এবং বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

  • বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

    প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ কারখানাগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ।

    আজ সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ কথা জানান।

    তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। দেশের বন্ধ কারখানাগুলো চালুসহ নানা বিষয় নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

    বৈঠকে বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও শিল্প বিষয়ক উপদেষ্টা রুহুল কবীর রিজভী, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

  • ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে সরকার

    দেশের জরুরি জ্বালানি চাহিদা মেটাতে মাজদা অয়েল কোং লিমিটেড থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন ইএন৫৯০-১০ পিপিএম ডিজেল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি (সিসিজিপি)।

    অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত কমিটির ১৯তম সভায় এই অনুমোদন দেওয়া হয়।

    বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ বিবিধ আলোচ্য সূচি হিসেবে এই ক্রয় প্রস্তাবটি উত্থাপন করে।

    এই আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৫৭ কোটি ৯৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। পরিস্থিতির জরুরি অবস্থা বিবেচনা করে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে কমিটি সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে এই ডিজেল কেনার সুপারিশ করেছে।

    ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে চলমান উত্তেজনার ফলে বিশ্ব ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে ওঠায় জ্বালানি বাজারে বিঘ্ন ঘটছে। এমন প্রেক্ষাপটেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

    বিশ্ববাজারের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

  • নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ

    নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ করল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।

    আজ সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের কাছে বৃষ্টি আইনে ৬ উইকেটে পরাজিত হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচ ৬ উইকেটে জিতেছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচ বৃষ্টিতে পন্ড হয়। ফলে টি-টোয়েন্টি সিরিজ সমতায় শেষ করে দু’দল। এর আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ।

    মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ। ৩ ওভারে ২১ রান তুলে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন টাইগারদের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান। চতুর্থ ওভারের শুরুতে বাংলাদেশের উদ্বোধনী জুটি ভাঙ্গেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা বাঁ-হাতি স্পিনার জেডেন লেনক্স। ২টি চারে ১১ বলে ১৬ রান করা সাইফকে শিকার করেন লেনক্স।

    ইনিংসের পঞ্চম ওভারে পরপর দুই বলে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে জোড়া আঘাত হানেন নিউজিল্যান্ড পেসার ন্যাথান স্মিথ। তানজিদকে ৬ রানে এবং পারভেজ হোসেন ইমনকে খালি হাতে বিদায় দেন স্মিথ। ৩৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। ফলে পাওয়ার প্লেতে ৩ উইকেটে ৪৩ রানের বেশি তুলতে পারেনি টাইগাররা।

    সপ্তম ওভারের চতুর্থ বলের পর বৃষ্টিতে প্রায় দেড় ঘন্টা বন্ধ থাকে খেলা। ফলে ম্যাচটি ১৫ ওভারে নির্ধারিত হয়। বৃষ্টির কারনে বন্ধ হবার আগে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬.৪ ওভারে ৩ উইকেটে ৫০ রান। এসময় অধিনায়ক লিটন দাস ২৫ ও তাওহিদ হৃদয় ২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

    খেলা পুনরায় শুরু হলে রানের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করেন লিটন ও হৃদয়। কিন্তু নবম ওভারের দ্বিতীয় বলে নিউজিল্যান্ড পেসার জশ ক্লার্কসনের বলে স্মিথকে ক্যাচ দেন লিটন। ৩টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে ২৬ রান করেন টাইগার দলপতি। চতুর্থ উইকেটে ২২ বলে ২৮ রান যোগ করেন লিটন-হৃদয়।

    এরপর পঞ্চম উইকেটে জুটি গড়ার চেষ্টা করেন হৃদয় ও শামীম হোসেন। কিন্তু ১৯ বলে ২৩ রান যোগ করে বিচ্ছিন্ন হন তারা। দলীয় ৮৬ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে শামীম ফেরার পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ১৪.২ ওভারে ১০২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ১৮ বলে ১৬ রানে শেষ ৬ উইকেট হারায় টাইগাররা।

    দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সিরিজের প্রথম ম্যাচের নায়ক হৃদয়। তার ২৪ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ২টি ছক্কা ছিল।

    ২ ওভারে ৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডের হয়ে সেরা বোলিং পারফরমেন্স করেছেন ক্লার্কসন। এছাড়া স্মিথ ও বেন সিয়ার্স ২টি করে উইকেট নেন।

    জবাব দিতে নেমে বাংলাদেশ পেসার শরিফুল ইসলামের তোপের মুখে পড়ে ২৫ রানে ৩ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। পতন হওয়া ৩ উইকেটই নেন শরিফুল। কাটেনে ক্লার্ক ও ডেন ক্লিভারকে ১ রানে এবং টিম রবিনসনকে ২৩ রানে আউট করেন শরিফুল।

    পঞ্চম ওভারে নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক নিক কেলিকে ১ রানে বোল্ড করে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান স্পিনার মাহেদি হাসান। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। এরপর বাংলাদেশ বোলারদের সামনে প্রতিরোধ গড়ে তুলেন বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। ৪০ বলে ৭১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে নিউজিল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন তারা।

    ৫টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৩১ বলে ৬১ রানে অপরাজিত থাকেন জ্যাকবস। তার সাথে ১৫ বলে ১৫ রান নিয়ে মাঠ ছাড়েন ফক্সক্রফট।

    শরিফুল ৩ ওভারে ১৯ রানে ৩ উইকেট নেন। ২০ রানে ১ উইকেট নেন মাহেদি। ম্যাচ সেরা হয়েছেন জ্যাকবস এবং সিরিজ সেরা হয়েছেন হৃদয়।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর :
    বাংলাদেশ : ১০২/১০, ১৪.২ ওভার (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, ক্লার্কসন ৩/৯)।

    নিউজিল্যান্ড : ১০৪/৪, ১১.৪ ওভার (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩, শরিফুল ৩/১৯)।

    ফল : নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী।

    সিরিজ : তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ১-১ সমতায় শেষ।

    ম্যাচ সেরা : বেভন জ্যাকবস (নিউজিল্যান্ড)।

    সিরিজ সেরা : তাওহিদ হৃদয় (বাংলাদেশ)।