Category: প্রচ্ছদ

  • হবিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ৯৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক

    হবিগঞ্জে বিজিবি’র অভিযানে ৯৫ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য আটক

    সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা এবং চোরাচালান প্রতিরোধে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবি’র বিশেষ অভিযানে প্রায় ৯৫ লক্ষ ১১ হাজার ৭৮০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ, জিরা এবং কাঠ জব্দ করা হয়েছে।

    গতকাল সোমবার রাত ৯টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করা হয়েছে।

    বিজিবি জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি) এর একটি দল সীমান্ত থেকে প্রায় ৩ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলাধীন তেলিয়াপাড়া চা-বাগান নামক এলাকায় আজ ভোর ৬টায় অভিযানে অংশ নেয়। একটি সন্দেহভাজন ট্রাক আসতে দেখে সংকেত দিয়ে ট্রাকটিকে থামানো হয়।

    পরবর্তীতে বিজিবি টহলদল উক্ত ট্রাকটি তল্লাশি করে দেখতে পায়, পাথরের নিচে লুকানো অবস্থায় বস্তার ভেতরে অত্যন্ত সুকৌশলে ভারতীয় বিভিন্ন প্রকার বিপুল পরিমাণ আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ এবং জিরা লুকানো রয়েছে। পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া এই সমস্ত অবৈধ জিরা ও ওষুধগুলোর কোন বৈধ কাগজপত্র না থাকায় এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয়।

    এছাড়াও পৃথক আরেকটি নিয়মিত অভিযানে হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার হরিণখোলা বিওপি’র টহলদল কর্তৃক হরিণখোলা নামক এলাকা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩১,৭৮০ টাকা মূল্যের ভারতীয় আকাশমনি কাঠ জব্দ করতে সক্ষম হয়।

    আটককৃত আমদানি নিষিদ্ধ অবৈধ ওষুধ, জিরা, ও কাঠ যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাষ্টমস অফিসে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট চোরাচালানী ও মাদক ব্যবসায়ী চক্রকে শনাক্ত ও আটক করতে বিজিবি’র গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

    হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়ানের অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানজিলুর রহমান বিষয়টি বাসস’কে নিশ্চিত করেছেন।

  • যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ওপর বিশ্ব নেতাদের কূটনৈতিক চাপ

    যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ওপর বিশ্ব নেতাদের কূটনৈতিক চাপ

    মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক পথে ফেরার জন্য ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছেন বিশ্ব নেতারা।

    হরমুজ প্রণালীতে একাধিক হামলার পর যুদ্ধবিরতি ভেঙে পড়ার মুখে পড়েছে।

    হরমুজ প্রণালীতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি হামলার পর, নতুন করে আলোচনা শুরু করার তৎপরতা দেখা গেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো তারা ইরানের হামলার মুখে পড়েছে।

    তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানায়।

    যুদ্ধবিরতির পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থা চলছে। পাকিস্তানে বৈঠকে অংশ নিতে দুইবার পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ইরান স্পষ্ট করেছে যে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ তারা ছাড়বে না। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলার আগে বিশ্বের মোট তেলের এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে যেত।

    জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎস তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, ‘অঞ্চল ও বিশ্বকে জিম্মি করা বন্ধ করতে হবে।’ ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারও একই আহ্বান জানান।

    মার্কিন ঘনিষ্ঠ মিত্র সৌদি আরবও উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

    দেশটি বলেছে, রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছাতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

    সোমবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, তাদের বাহিনী ইরানের অন্তত ছয়টি ছোট নৌযান ডুবিয়ে দিয়েছে। তবে ইরান এ দাবি অস্বীকার করে।

    তারা অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌকায় থাকা পাঁচ জন বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করেছে।

    -‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’-
    সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে।
    দেশটি একে ‘বিপজ্জনক উত্তেজনা’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য আগ্রাসন’ বলে উল্লেখ করেছে।

    ফুজাইরাহ আমিরাতের একটি জ্বালানি স্থাপনায় হামলায় তিন জন ভারতীয় নাগরিক আহত হয়েছেন।

    চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যার তিনটি ভূপাতিত করা হয়েছে ও একটি সাগরে পড়ে।

    এছাড়া ইরান রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি অ্যাডনকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ট্যাংকারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি সামরিক কর্মকর্তা বলেন, সংশ্লিষ্ট তেল স্থাপনায় হামলার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না।

    রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ‘দুঃসাহসিকতা’ থেকেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রণালী দিয়ে অবৈধভাবে জাহাজ চলাচলের পথ তৈরি করতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।

    তিনি আরও বলেন, এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে জবাবদিহি করতে হবে।

    ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, এই সংঘর্ষ প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক সংকটের সামরিক সমাধান নেই।

    তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার কথাও উল্লেখ করেন।

    সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘অশুভকামীদের ফাঁদে পড়ে, যুক্তরাষ্ট্র যেন আবার জটিলতায় না জড়ায়। ইউএইকেও সতর্ক থাকতে হবে। প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।’

    -হরমুজে শক্তি প্রদর্শন যুক্তরাষ্ট্রের-
    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বারবার ইরানকে প্রণালী খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

    যুদ্ধের আগে এটি চালু ছিল। ইরান এটিকে তাদের কৌশলগত চাপের মূল হাতিয়ার হিসেবে দেখছে।

    রোববার ট্রাম্প ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ নামে একটি উদ্যোগ ঘোষণা করেন।

    তিনি বলেন, নিরপেক্ষ দেশের জাহাজগুলোকে উপসাগর থেকে বের করে আনার এটি একটি মানবিক প্রচেষ্টা।
    মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ার হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজকে উপসাগর থেকে বের হয়েছে।

    তবে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড এ দাবি অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, গত কয়েক ঘণ্টায় কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ বা তেল ট্যাংকার প্রণালী অতিক্রম করেনি।

    সিউল জানিয়েছে, প্রণালীতে একটি দক্ষিণ কোরীয় জাহাজে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

    সমুদ্র বিষয়ক গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান এএক্সএসমেরিনের তথ্য অনুযায়ী, ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত উপসাগরে ৯০০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছিল।

    ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ইরান ‘কিছু হামলা’ চালালেও বড় ধরণের ক্ষতি হয়নি।
    হামলার পর তেলের দাম আরও বেড়েছে।

    আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের জুলাই ডেলিভারির দাম পাঁচ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

    যুদ্ধের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। কংগ্রেস নির্বাচনকে সামনে রেখে, এটি ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

    লেবাননে ইসরাইলের সঙ্গে আলাদা যুদ্ধবিরতিও নতুন করে চাপে পড়েছে।

    ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে ঘিরে এই উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

    দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহ ও ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ইসরাইলের দুই সেনা ‘মাঝারি মাত্রায়’ আহত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

    মার্চের শুরুতে হিজবুল্লাহর আকাশ পথে হামলার পর ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক বোমাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালায়।

    এতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

    লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন নিরাপত্তা চুক্তি ও ইসরাইলি হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

    এর আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের প্রস্তাব দেন ট্রাম্প, যা এই মাসে হোয়াইট হাউসে হতে পারে।

  • বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর ইথিওপিয়া থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলো সুদান

    বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার পর ইথিওপিয়া থেকে রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করলো সুদান

    খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইথিওপিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগে, ইথিওপিয়ায় নিযুক্ত নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে সুদান।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা সুনা এ খবর জানিয়েছে।

    একটি সামরিক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, সোমবার খার্তুম বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ছোড়া কয়েকটি ড্রোন দেশটির বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।
    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন এবং কাছাকাছি এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন।

    সুদানে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে সংঘাত চলছে।
    সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দেশজুড়ে ড্রোন হামলা ক্রমেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

    সুদান সেনাবাহিনী মার্চ মাসে অভিযোগ করেছিল যে আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস  ইথিওপিয়ার ভূখণ্ডের ভেতর থেকে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এটি ছিল সংঘাতে ইথিওপিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য অভিযোগ।

    সুদানের সেনাবাহিনী-সমর্থিত সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহিউদ্দিন সালেম সোমবার খার্তুম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সংযুক্ত আরব আমিরাত-ইথিওপিয়ার ড্রোন হামলার বিষয়ে আলোচনার জন্য ইথিওপিয়া থেকে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে দেশে ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছেন।
    সালেমকে উদ্ধৃত করে সুনা এ কথা জানিয়েছে।

    আরএসএফ-কে অস্ত্র সরবরাহের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ব্যাপকভাবে অভিযোগ উঠলেও, দেশটি বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেলিম উল্লেখ করেছেন যে হামলাটি ইথিওপিয়ার ভূখণ্ড থেকেই হয়েছে।
    তিনি বলেন, এটি নিশ্চিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

  • ই-জুডিসিয়ারি উদ্যোগে বিচারব্যবস্থায় গতি: বাড়ছে স্বচ্ছতা, কমছে ভোগান্তি

    ই-জুডিসিয়ারি উদ্যোগে বিচারব্যবস্থায় গতি: বাড়ছে স্বচ্ছতা, কমছে ভোগান্তি

    দেশের বিচারব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে সরকার ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কজলিস্ট, বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনসহ একাধিক ডিজিটাল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

    এসব উদ্যোগের সমন্বয়ে গঠিত ‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্প বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচার ব্যবস্থায় তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমশ বাড়লেও এখনও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তরের পথে অনেক দূর যেতে হবে।

    তাদের দাবি, আদালতগুলোতে অডিও-ভিজ্যুয়াল ডিজিটাল রূপান্তরে বিচারব্যবস্থা; সময় ও খরচ সাশ্রয়ের সম্ভাবনা; অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ; কেস ট্র্যাকিং ও ডিজিটাল নথি ব্যবস্থাপনা আরও বিস্তৃত হলে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং মামলা জটও হ্রাস পাবে।

    সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বাসস’কে বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আইনগতভাবে বিদ্যমান রয়েছে এবং প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন।

    তিনি আরও বলেন, ডাক্তার, তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীদের অনলাইনে সাক্ষ্যগ্রহণের ব্যবস্থা চালু হলে মামলা নিষ্পত্তি দ্রুততর হবে।

    হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সশরীরে উপস্থিতি না থাকায় মামলার কার্যক্রম দীর্ঘায়িত হয়। অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ চালু হলে সেই জটিলতা দূর হবে এবং বিচারকও সময় সাশ্রয় করতে পারবেন।

    তিনি আরও উল্লেখ করেন, আদালতে যদি পূর্ণাঙ্গ অডিও-ভিজ্যুয়াল রেকর্ডিং ব্যবস্থা চালু করা যায়, তাহলে সাক্ষ্য গ্রহণ পুরোপুরি রেকর্ড থাকবে। ফলে তা পরবর্তীতে যাচাই করা সম্ভব হবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ কমবে। বিচারকের সময় সাক্ষ্য গ্রহণে ব্যয় না হয়ে রায় প্রস্তুতি ও আইনি বিশ্লেষণে ব্যয় করা সম্ভব হবে, যা বিচার মান উন্নত করবে।

    আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল রূপ দিতে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং ডিপিপি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

    প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মামলা দায়ের, কেস ট্র্যাকিং, কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা ও নথি সংরক্ষণসহ সব কার্যক্রম ডিজিটালভাবে সম্পন্ন হবে, যা বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমাবে।

    বর্তমানে দেশের নয়টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল সম্ভব হওয়ায় আইনজীবী, কারা প্রশাসন ও বিচারপ্রার্থীদের সময় ও খরচ সাশ্রয় হচ্ছে। এটি পর্যায়ক্রমে সব জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

    এছাড়া দুটি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু হয়েছে, যেখানে পারিবারিক মামলার শুনানি ও নিষ্পত্তি অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এতে নারী ও শিশুদের জন্য বিচারপ্রাপ্তি আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে।

    অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইন হওয়ায় এখন মামলার তারিখ ও অবস্থা ঘরে বসেই জানা যাচ্ছে। দেশের সব চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

    সেখানে বিচারপ্রার্থীরা মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে সহজে তথ্য পাচ্ছেন।

    বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার উদ্যোগের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম চালুর প্রস্তুতি চলছে। এটি বাস্তবায়িত হলে জালিয়াতি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

    এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মিলন বাসস’কে বলেন, ডিজিটাল ব্যবস্থার কারণে বিশেষ করে ক্রিমিনাল মামলায় অনলাইন সাক্ষ্যগ্রহণ একটি বড় পরিবর্তন এনেছে।

    এতে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞ সাক্ষীরা সহজে সাক্ষ্য দিতে পারছেন। এতে মামলার অগ্রগতি দ্রুত হচ্ছে।

    তিনি আরও বলেন, ই-বেইলবন্ড ও ই-ফ্যামিলি কোর্ট ব্যবস্থা বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ করেছে এবং সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। তবে অনেক প্রবীণ আইনজীবী এখনও অনলাইন ব্যবস্থায় পুরোপুরি অভ্যস্ত হতে পারেননি, যা একটি চ্যালেঞ্জ।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ই-জুডিসিয়ারি কার্যক্রম সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে বিচারপ্রক্রিয়া হবে অনেক দ্রুত। এতে খরচ কমবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে। তবে এর জন্য পর্যাপ্ত প্রযুক্তি অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি।

  • বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

    বছরের শেষ দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে: তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, দেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতি বছরের শেষ দিকে শুরু হতে পারে। তবে সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে ১০ মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর পর্যন্ত সময় লাগবে।

    আজ (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান।

    ব্রিফিংয়ে তিনি স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি ও অর্জনের চিত্র তুলে ধরেন।

    স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি চলমান রয়েছে। নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি শুরু হতে এ বছরের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে। তবে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব ধাপের নির্বাচন শেষ করতে ১০ মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর সময় প্রয়োজন হবে।’

    উপজেলা পরিষদ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘উপজেলা পরিষদের ক্ষমতা খর্ব করার কোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেয়নি। বরং আইনগতভাবেই একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবে থাকেন। সেই ধারাবাহিকতায় উপজেলা পরিষদে সংসদ সদস্যের জন্য অফিস রাখার মাধ্যমে পরিষদকে খাটো করা হয়েছে বলে মনে করার কারণ নেই।’

    ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ঢাকার গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সব ধরনের ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ কাজ চলছে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে ঢাকার যানবাহনে শৃঙ্খলা আনা সম্ভব হবে।

    তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ বৈদ্যুতিক স্কুল বাস আমদানিতে শুল্ক শূন্য করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ ছাড়া ৫টি বিমানবন্দর ও ৪টি রেল স্টেশনে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে।

    প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও জানান, হাওরাঞ্চলে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি পরিবারকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া টিসিবির জন্য ১ কোটি ৩০ লাখ লিটার পাম অয়েল এবং ২ হাজার মেট্রিক টন ডাল কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮৪৪ জন এবং ১৪,৩৬৯ জন যোদ্ধার তথ্য এমআইএস-ভুক্ত করা হয়েছে। শহীদ পরিবারকে ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ২০ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫২ জন আহত যোদ্ধাকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে।

    ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

    বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

    তিনি বলেছেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’

    আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়। তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে।

    তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা এটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।’

    মন্ত্রি জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া (ইনভেস্টিগেশন) শুরু করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার আলোকে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।’

    বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো খাতে ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই। পাশাপাশি বাংলাদেশ ডাম্পিং করে; এ ধরনের অভিযোগও ভিত্তিহীন।

    তিনি জানান, বাংলাদেশ অধিকাংশ পণ্যই আমদানি করে। রপ্তানির মধ্যে প্রধান খাত হলো তৈরি পোশাক শিল্প, যা কঠোর আন্তর্জাতিক মান ও কমপ্লায়েন্স মেনে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।

    চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়। চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তিতেই রয়েছে। তিনি একে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি আরও বলেন, ‘চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এ নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।’

    বৈঠকে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।