Category: রাজনীতি

  • ঐক্যফ্রন্টে বাড়ছে টানাপোড়েন

    ঐক্যফ্রন্টে বাড়ছে টানাপোড়েন

    অস্থিরতা কমছেই না জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই ভেতরে ভেতরে চলছে নানা টানাপোড়েন। প্রায় এক বছর পরও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দোলাচলে বিভক্ত হয়ে পড়ছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। মুখ থুবড়ে পড়েছে জোটের কার্যক্রম। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের এমন আচরণের বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝেও। হতাশ হয়ে পড়ছেন তারা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নির্বাচনকেন্দ্রিক গড়া জোটটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ছেন নেতাকর্মী অনেকে।

    নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে আবার শপথ নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জোট থেকে অনেক আগেই বেরিয়ে গেছে কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ। টানাপোড়েন চলছে গণফোরামে। আবার রাজনৈতিক মতপার্থক্যে বিদ্রোহ শুরু হয়েছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিতে। ঢিমেতালে চলছে নাগরিক ঐক্য। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কার্যকর কোনো তৎপরতাও নেই। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে সাক্ষাতে পিছুটানসহ সার্বিকভাবে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের আচরণে ক্ষুব্ধ বিএনপি।

    জোটের শীর্ষ নেতারা জানান, বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যার পর ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে সক্রিয় করার উদ্যোগ নেয় বিএনপি। দলটির উদ্যোগে বেশ কয়েকটি কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাক্ষাতের কর্মসূচি নিয়ে আবারও জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের বিরোধিতায় ফ্রন্টের ঘোষিত এ কর্মসূচি অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে রাজি না হওয়ায় চটেছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারাও। তাদের সঙ্গে ফ্রন্টের অন্য শরিক দলগুলোও হতাশ হয়ে পড়েছেন। ড. কামাল হোসেনের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে তিনি বলেছেন, জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার তাগিদ থেকে ছোট, বড়, মাঝারি দলসহ অনেক দল নিয়ে ঐক্য করেছি। আবার ফ্রন্টও করেছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন তাদের সম্মান করি ও গুরুত্ব দিই। কিন্তু তারা যদি ঘাড়ে চেপে তাদের নিজস্ব টার্গেট নিয়ে চলতে চান, সেই পথচলা বিএনপির জন্য বোকামি হবে। খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য তাদের কেন মঞ্চে চিরকুট দিতে হবে প্রশ্ন করে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির কথা তারা কেন বলতে পারবেন না? যার বিরুদ্ধে আমরা রাজনীতি করি তাদের কথা জোরেশোরে আমাদের সামনে কেন বলা হয়। তারপরও শুধু জাতীয় ও জনগণের স্বার্থে তা সহ্য করি।

    ঐক্যফ্রন্টের একজন নেতা সমকালকে বলেন, কারাবন্দি ও অসুস্থ খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি ঐক্যফ্রন্টের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত। সেই আলোকে ফ্রন্টের নেতা ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার আবেদন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও তাদের অনুরোধের বিষয়ে আগ্রহ দেখান। এরপরই ড. কামাল হোসেন নিজের অসুস্থতার প্রসঙ্গ সামনে এনে বিএসএমএমইউতে না যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এতে বিস্মিত হন বিএনপি নেতারা। একইসঙ্গে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারাও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা মনে করেন, খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে কারাগারে রাখা হয়েছে- এটা ড. কামাল হোসেনও একাধিকবার বলেছেন। এখন খালেদা জিয়া অসুস্থ। তার অসুস্থতার প্রকৃত চিত্র জানার জন্যই ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে এ ধরনের কর্মসূচি ঠিক করা হয়।

    ফ্রন্টের নেতারা বলেন, বিএনপির শক্তির সঙ্গে একাট্টা হয়ে রাজনীতি করবেন, নির্বাচন করবেন, তবে তাদের নেত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন না এটা দ্বৈত নীতি। এতে যে কেউ ক্ষুব্ধ হবেন। ড. কামাল হোসেনের অনাগ্রহে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার কর্মসূচি অনেকটা ঢিমেতালে এগোচ্ছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঐক্যফ্রন্টের ৫ নেতা খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করার জন্য আইজি প্রিজনকে চিঠি দেবেন। সেখানে ড. কামাল হোসেনের নামসহ বিএনপির কোনো নেতার নাম থাকবে না বলে জানা গেছে।

    একইভাবে নেতাদের আস্থা ও সমন্বয়হীনতার অভাবে ফ্রন্টের অন্যান্য কার্যক্রমও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলেও জানান নেতারা। আবরার ফাহাদ হত্যার প্রতিবাদে রাজধানীতে সমাবেশের কর্মসূচিও আর হয়ে ওঠেনি। একই দাবিতে গত ৬ নভেম্বর জাতীয় প্রেসক্লাবে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর কর্মসূচিতেও বিএনপির কোনো নেতা অংশ নেননি। ড. কামাল হোসেনের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট বিএনপিও গ্রহণ করেছে ‘ধীরে চলো নীতি’। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাবে না বলে আশঙ্কা ফ্রন্টের নেতাকর্মীদের।

    এ বিষয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না সমকালকে বলেন, তারা সময়ের কোনো দাবিই পূরণ করতে পারেননি। ভোট ডাকাতির এই সরকারকে সরাতে হলে এখন তাদের সেই সময়ের দাবি বুঝতে হবে। সেভাবে কাজ করতে হবে। তাহলেই ঐক্যফ্রন্ট সফল হবে। এর বাইরে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

    ঐক্যফ্রন্টের এমন অনিশ্চিত ভবিষ্যতে শরিক দলগুলোর মধ্যেই বিদ্রোহের ডামাডোল চলছে, বিশেষ করে জেএসডির অভ্যন্তরে। ফ্রন্টকে কেন্দ্র করেই বিভক্ত হয়ে পড়েছে পুরো দলটি। মূল অংশে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব থাকলেও বিদ্রোহের নেতৃত্বে রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করেই মূলত জেএসডির অভ্যন্তরে দ্বন্দ্বের শুরু। দলটির অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা ঐক্যফ্রন্ট গঠনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন। তবে নির্বাচনে তাদের অনেকে মনোনয়নবঞ্চিত হওয়ায় এখন জোট ভাঙার পক্ষে সক্রিয় হয়ে উঠছেন তারা।

    গণফোরামের মধ্যে আওয়ামী লীগ ‘সমর্থক’ কট্টরপন্থি নেতাদের প্রবল আপত্তি রয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে। নির্বাচনের আগে ও পরে তারা ফ্রন্ট থেকে বেরিয়ে আসার সব চেষ্টাই করেছেন। দলের বিশেষ কাউন্সিল নিয়েও রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। গত ১২ অক্টোবর গণফোরাম সভাপতিকে দলের ৫ জন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও একজন স্থায়ী সদস্য লিখিতভাবে জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র বিরোধী স্বেচ্ছাচারী কায়দায় কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থে অগণতান্ত্রিকভাবে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া দলীয় আদর্শ, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য জলাঞ্জলি দিয়ে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির সঙ্গে ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছে। এতে দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। এ অবস্থায় অনৈতিকভাবে করা কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে ডিসেম্বরের মধ্যে কনভেনশনের আহ্বান জানাতে বলেছেন তারা। অপরদিকে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীর নেতৃত্বে দলের পাঁচ নেতাও পাল্টা চিঠি দিয়েছেন ড. কামাল হোসেনকে।

    ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের ঘোষণা দেয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এর মধ্যে নতুন নির্বাচনের দাবি, ফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা, ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে সারাদেশ সফর করার মতো কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু জোটের সিদ্ধান্তকে অমান্য করে গণফোরামের দুই সংসদ সদস্য শপথ গ্রহণ করেন। তাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিএনপির নির্বাচিত এমপিরাও শপথ নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ জোট ত্যাগ করেন।

    গণফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুসহ দলের একটি বড় অংশ এর বিরোধিতা করে হাইকমান্ডের রোষানলে পড়েছেন। চরম অস্থিরতায় গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসিন মন্টুকে দলের সাইডলাইনে বসিয়ে দেওয়া হয়। বহিস্কার করা হয় গণফোরাম নেতা রফিকুল ইসলাম পথিককে। গ্রুপিং কোন্দলে বিপর্যস্ত গণফোরাম। সর্বশেষ বিএনপির এমপিদের শপথ নেওয়ার ঘটনায়ও দলটির মধ্যেও তৈরি হয়েছে নানা সন্দেহ-সংশয়। দলের হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি দৃশ্যত স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে বিরাজ করছে ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

  • ঐক্যফ্রন্ট-ড. কামালকে নিয়ে পথ চলা সম্ভব না: গয়েশ্বর

    ঐক্যফ্রন্ট-ড. কামালকে নিয়ে পথ চলা সম্ভব না: গয়েশ্বর

    জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘যার সঙ্গে আমার আদর্শিক বিপরীত, যিনি বেগম খালেদা জিয়াকে ওন করেন না, যিনি বিএনপির রাজনীতি ওন করেন না, যিনি জিয়াউর রহমানকে ওন করেন না। তাকে সামনে রেখে পথ চললে সেই পথ অতিক্রম করা সম্ভব? এটা আমি মনে করি না।’

    বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মানিক মিয়া হলে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এনডিপির উদ্যোগে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস: গণতন্ত্র : শহীদ জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা আমাদের অগ্রাধিকারটা ঠিক করতে পারি নাই, আমরা আমাদের ঐক্যটাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। হ্যাঁ ঐক্যের একটা আবেদন ছিলো জনগণের মাঝে- একটা ইউনিটি দেখতে চায়। সেই ইউনিটির মাধ্যমে কী দেখতে চায়? একটা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়, একটা গণতন্ত্রের মুক্তি দেখতে চায়। কিন্তু আমরা ইউনাইটেড হইলাম, গণতন্ত্র মুক্তি পাইলো না, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখ রাতে শেষ হলো তারপরেও বেগম খালেদা জিয়া জেলখানায় থাকলেন।’

    তিনি বলেন, ‘তারপরও আমরা সন্তুষ্ট হতে পারলাম না। কারণ এই যে দু-একজন এ্যাক্সিডেন্টলি এমপি হয়ে গেছেন মাথাটা খারাপ হয়ে গেলো, তাদেরকে আমরা ধরে রাখতে পারলাম না, তারা দৌঁড়াইয়ে পার্লামেন্টে চলে গেলেন।’

    গয়েশ্বর বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া কেন মুক্তি পাবেন? সরকারের কাছে যদি বার্গিনিংয়ে যে বিষয়গুলো আমরা স্পষ্ট করতে না পারি, তাহলে কোন বার্গেনিংটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা যদি সুস্পষ্ট করতে না পারি, তাহলে তো আমাকে ঠকতেই হবে। আজকে আমরা সব এক্সসারসাইজ করেছি শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করার জন্য, এমন কোনও কাজ বাকী নাই যেটা আমরা করি নাই। এখন জনগণকে সন্তুষ্ট করেন এবং জাতীয়তাবাদী শক্তির প্রাণশক্তি বেগম খালেদা জিয়াকে আমরা মুক্ত করার কাজটা শুরু করা দরকার। কিভাবে করি সেই সিদ্ধান্তেই আমাদের আসা বেশি জরুরি।’

  • জীবিত খোকাকে দেশে আসতে না দেওয়া লজ্জার: ফখরুল

    জীবিত খোকাকে দেশে আসতে না দেওয়া লজ্জার: ফখরুল

    বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার মতো একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় সরকার নিজ দেশে ঢুকতে দেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    তিনি বলেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধাকে জীবিত অবস্থায় নিজ দেশে ঢুকতে দেয়নি সরকার। এটি জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জার। এরকম ঘটনার যেন আর পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’

    বৃহস্পতিবার শেরে বাংলা নগরে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি একথা বলেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বিএনপি নেতারা বিশেষ মোনাজাত করেন।

    বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘খোকা একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। কয়েকবারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও ছিলেন তিনি। সারাজীবন মানুষের সেবা করে গেছেন। সরকার তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি চিকিৎসার জন্য বিদেশে ছিলেন।’

    ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তাকে (খালেদা জিয়া) মুক্ত করার শপথ নিয়েছি আজ। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে সত্যিকার অর্থে জনগণের পক্ষের সরকার গঠন করতে সক্ষম হবো।’

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, সেলিমা রহমানসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

  • মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির সমাবেশ শুক্রবার

    মহানগর নাট্যমঞ্চে বিএনপির সমাবেশ শুক্রবার

    বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জনসমাবেশ করবে বিএনপি। জনসমাবেশটি আগামী শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে শুরু হবে।

    জনসমাবেশ করার জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে অনুমতি পেয়েছে দলটি।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।

    বুধবার দুপুরে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের সঙ্গে জনসমাবেশের অনুমতির বিষয়ে সাক্ষাৎ করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ।

    আব্দুস সালাম আজাদ বলেন, আমরা আজ অনুমতির জন্য অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলামের কাছে গিয়েছি। সমাবেশের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এবং নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এই দুই জায়গার নাম প্রস্তাব করেছি। কিন্তু পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের মহানগর নাট্যমঞ্চে জনসমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুমা থেকে আমাদের জনসমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে।

  • কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, সম্পাদক উম্মে কুলসুম

    কৃষক লীগের সভাপতি সমীর চন্দ, সম্পাদক উম্মে কুলসুম

    কৃষিবিদ সমীর চন্দকে সভাপতি ও উম্মে কুলসুম স্মৃতিকে সাধারণ সম্পাদক করে কৃষক লীগের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। বুধবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কৃষক লীগের ১০ম সম্মেলনে এ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    তারা দুজন আগের কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

  • খোকার মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার, জুরাইনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন

    খোকার মরদেহ আসবে বৃহস্পতিবার, জুরাইনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন

    অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা হচ্ছে। খোকার মরদেহ আগামী বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে দেশে পৌঁছাবে। পরে তাকে ঢাকার জুরাইনে বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হবে। খোকার পারিবারিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    সাদেক হোসেন খোকার শ্যালক শফিউল আজম খান জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে তার মৃতদেহ ঢাকায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার ইচ্ছা অনুযায়ী জুরাইন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

    তিনি বলেন, দুই বছর আগে সাদেক হোসেন খোকার বাংলাদেশ পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর, নিউইয়র্কে বাংলাদেশ দূতাবাসে তিনি মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেও জবাব পাননি। এখন তার মৃতদেহ ঢাকায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ট্রাভেল ডকুমেন্ট প্রয়োজন। পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাসে ট্রাভেল ডকুমেন্টের জন্য ইতোমধ্যে আবেদন করা হয়েছে।

    নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুন্নেছা জানান, সাদেক হোসেন খোকার মরদেহের সঙ্গে তার স্ত্রীকে ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট দেওয়া হবে। এ নিয়ে কোন সমস্যা হবে না।

    দীর্ঘদিন নিউইয়র্কে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টার দিকে সেখানকার একটি হাসপাতালে মারা যান খোকা। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন তিনি। খোকা ১৯৫২ সালের ১২ মে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

    ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং তার দল সরকার গঠন করলে তিনি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন। পরে ১৯৯৬ এবং ২০০১ সালেও তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার দল সরকার গঠন করলে তিনি মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন।