Category: রাজনীতি

  • আমার চরিত্র সারা জীবনের অর্জন, সততা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই

    আমার চরিত্র সারা জীবনের অর্জন, সততা পরীক্ষার প্রয়োজন নেই

    ক্যাসিনো ও দুর্নীতি বিরোধী অভিযানের পর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের নাম চলে এসেছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি বলেন, আজকে আমার কর্মীদের বলে যেতে চাই, আমার সমস্ত চরিত্র সারা জীবনের অর্জন। আমি আমার জীবনে সৎ ছিলাম, সৎ আছি। আমার সততার পরীক্ষার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

    শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ওয়ার্কার্স পার্টির দশম কংগ্রেস শুরু হয়েছে। কংগ্রেসে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন মেনন।

    তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শুদ্ধি অভিযান চলছে। আজ আমি যেহেতু ঢাকা-৮ আসনের এমপি, সেই আসন ঘিরেই ক্যাসিনো নিয়ে তোলপাড়। মিথ্যা সূত্র উদ্ধৃতি দিয়ে আজকে পত্রিকায় কথা বলা হচ্ছে।

    ২০১২ সালে মন্ত্রিত্বের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে জানান ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের সময়ে যখন দেশে মৌলবাদ, জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতার উত্থান ঘটেছিল, সেই বিশেষ বাস্তবতায় স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তির সঙ্গে পার্টির ঐক্য গড়ে ওঠে। তখন রাজনৈতিক প্রয়োজনে পার্টি মন্ত্রিত্ব গ্রহণ করেছিল। এটা ছিল রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, কারও একক সিদ্ধান্ত নয়।

    মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ গড়ার জন্য আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঐক্যের প্রয়োজন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দল ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে। সেই বাস্তবতা এখনো শেষ হয়নি। দেশের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু সেই উন্নয়নে দেশের সব মানুষ ভাগীদার হয়নি। কিছু মুষ্টিমেয় মানুষদের হাতে প্রচুর অর্থবিত্ত হয়েছে। তারাই অর্থ বিদেশে পাচার করছে।

  • সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

    সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

    ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে চিকিৎসাধীন খোকার শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা। তারা খোকার সব ধরনের চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে বিএনপির এক নেতা জানিয়েছেন।

     ওই হাসপাতাল থেকে শুক্রবার দুপুরে তিনি বলেন, ‘তার শরীর ওষুধ গ্রহণ করছে না। এমনকি গতকাল থেকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস-প্রশ্বাসেও ভীষণ কষ্ট পাচ্ছেন খোকা। মাঝেমধ্যে চোখের পাতা মেলেন, আবার কখনও ঘুমিয়ে পড়ছেন।’

    খোকার জীবনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী অন্তিম সময়ে তাকে দেশে নেওয়াও পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে কী হবে, এ নিয়ে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় আছেন।

    ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে যান খোকা। এরপর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে থাকছেন তিনি। ভিজিট ভিসার নিয়ম অনুযায়ী, ছয় মাস পরপর যাওয়া-আসা করে আমেরিকার ভিসা বৈধ রাখতে হয়। ২০১৭ সালে খোকা ও তার স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে কনস্যুলেট থেকে কোনো সদুত্তর দেওয়া হয়নি।

    হাসপাতালে খোকার পাশে আগে থেকেই আছেন তার স্ত্রী ইসমত হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক, ছেলে ইশফাক হোসেন। বাবার সংকটাপন্ন অবস্থার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তার বড় ছেলে ইশরাক হোসেনও নিউইয়র্কে ছুটে যান।

    উল্লেখ্য, রাজধানীর বনানী সুপার মার্কেটের কার পার্কিংয়ের ইজারা দুর্নীতির মামলায় ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাসহ ৪ জনের ১০ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড হয়। গত বছরের ২৮ নভেম্বর ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার অনেক আগে ২০১৪ সাল থেকে চিকিৎসার জন্য সাদেক হোসেন খোকা সপরিবারে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিলেও অসুস্থতার কারণে রাজনীতি থেকে দূরে রয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক।

  • জীবন শঙ্কায় খোকা, আশা ছেড়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা

    জীবন শঙ্কায় খোকা, আশা ছেড়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা

    অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকা জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তার সুস্থ হওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছেন ডাক্তাররা। তারা খোকার চিকিৎসা প্রায়ই বন্ধ করে দিয়েছেন।

    সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে।

    খোকাকে দেখতে ছুটে গেছেন তার ছেলে বিএনপির বৈদেশিকবিষয়ক কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন। বাবার জন্য দোয়া কামনা করে তিনি বলেছেন, ‘বাবার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়। আপনারা সবাই দোয়া করবেন।’

    যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অবস্থা পরিবর্তনের আশা ছেড়ে দিয়েছেন সেখানকার চিকিৎসকরা। তারা খোকার সব চিকিৎসা বন্ধ করে দিয়েছেন।

    খোকার জীবনের শেষ ইচ্ছানুযায়ী অন্তিম সময়ে তাকে দেশে নেয়াও পরিবারের পক্ষে সম্ভব হয়নি। পাসপোর্ট না থাকায় দেশে ফিরতে পারেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে কী হবে, এ নিয়ে স্বজনরা বিভ্রান্তিতে আছেন।

    ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য ২০১৪ সালের ১৪ মে সপরিবারে নিউইয়র্ক চলে যান সাদেক হোসেন খোকা। তার পর থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিউইয়র্ক সিটির কুইন্সে একটি বাসায় দীর্ঘদিন ধরে থাকছিলেন বিএনপির এ নেতা।

    ভিজিট ভিসার নিয়ম অনুযায়ী, ৬ মাস পর পর যাওয়া-আসা করে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বৈধ রাখার নিয়ম। ২০১৭ সালে খোকা ও তার স্ত্রী ইসমত হোসেনের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তারা নিউইয়র্ক কনস্যুলেটে নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার ব্যাপারে কনস্যুলেট থেকে কোনো সদুত্তর দেয়া হয়নি।

    হাসপাতালে খোকার পাশে আগে থেকেই আছেন তাঁর স্ত্রী ইসমত হোসেন, মেয়ে সারিকা সাদেক, ছেলে ইশফাক হোসেন। বাবার সংকটাপন্ন অবস্থার খবর পেয়ে ঢাকা থেকে তার বড় ছেলে ইশরাক হোসেনও নিউইয়র্কে ছুটে গেছেন।

    বাবার সবশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে ইশরাক হোসেন জানান, পুরো ফুসফুসে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়েছে। অক্সিজেন দিয়ে তার বাবাকে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। লোকজন এলে কাউকে কখনো কখনো তিনি চিনতে পারছেন বলে মনে হচ্ছে। গত কয়েক দিন থেকে তার চোখ দিয়ে অনবরত পানি ঝরছে।

    ইশরাক হোসেন বলেন, বড় হতাশা আর বিভ্রান্তির মধ্যে আছি। আব্বু-আম্মু দুজনেরই পাসপোর্ট নেই। কী করব, তাও বুঝে উঠতে পারছি না।

    গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১৮ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

    যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাধিক নেতা জানান, সাদেক হোসেন খোকা দীর্ঘদিন ধরে কিডনির নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি করা হয় খোকাকে। সোমবার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

    স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে ভর্তি হওয়ার পর ২৭ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকার শ্বাসনালি থেকে টিউমার অপসারণ করা হয়েছে।

    সূত্র জানায়, লাগাতার ওষুধ সেবনের ফলে খোকার মুখে ঘা হয়ে গেছে। তিনি খাবার খেতে পারছিলেন না। পরে তার শ্বাসনালিতে অস্ত্রোপচার করা হয়। এর পর তাকে চিকিৎসকের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে হাসপাতালেই।

    খোকার গুরুতর অসুস্থতার কথা জানিয়ে বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দলের ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা ক্যান্সারে আক্রান্ত। তিনি মুমূর্ষু অবস্থায় আছেন। তিনি আমাকে অনুরোধ করেছেন, দেশবাসীর কাছে তার জন্য দোয়া চাইতে। তার এ অনুরোধটি আপনাদের জানাতে বলেছেন।’

    এদিকে গুরুতর অসুস্থ খোকা দেশে ফিরতে চান। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সঙ্গে টেলিফোন আলাপে দেশে ফেরার আকুতির কথা জানান এই মুক্তিযোদ্ধা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপাসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান।

    শায়রুল বলেন, হাসপাতালে যাওয়ার আগে সাদেক হোসেন খোকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে আক্ষেপ করে বলেছেন- জীবনবাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছি। দেশের মাটিতে বিদায় হবে কিনা আল্লাহ জানেন। আমার জন্য দোয়া করো। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে জানিয়ে শায়রুল কবির বলেন, সাদেক হোসেন খোকার সুস্থতা কামনা করে বিএনপির নানা স্তরে দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হচ্ছে। তার পরিবার দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে।

    একসময়কার বাম ঘরানার রাজনীতিবিদ বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির বর্তমান কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান তিনি। মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম এই সংগঠক অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে ছিলেন। ঢাকার মেয়র হয়ে তিনি রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক মুক্তিযোদ্ধাদের নামে নামকরণ করেন। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তিনি একাধিকবার মন্ত্রিসভার সদস্যও হন।

    এদিকে সাদেক হোসেন খোকার আশু আরোগ্য কামনায় আজ সকালে নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং ঢাকার সূত্রাপুর-কোতোয়ালি এলাকার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া হবে।

    ২০০২ সালের ২৫ এপ্রিল অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন খোকা। ২৯ নভেম্বর ২০১১ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর বিএনপি ও আওয়ামী লীগের শাসনামলে ঢাকা মহানগরের মেয়র ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের ১৪ মে মাসে সাদেক হোসেন খোকা চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্র যান। সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন। এ সময়কালে দেশে তার বিরুদ্ধে কয়েকটি দুর্নীতি মামলা হয়। এর কয়েকটিতে তাকে সাজাও দেয়া হয়েছে।

    এদিকে সাদেক হোসেন খোকার অসুস্থতার খবরে আবেগতাড়িত হয়েছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। বুধবার মির্জা আব্বাস তার ফেসবুক ওয়ালে সাদেক হোসেন খোকার শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। এতে তিনি লেখেন, ‘প্রিয় খোকা, এই মাত্র জানতে পারলাম যে, তোমার শরীর খুব খারাপ, তুমি হাসপাতালে শয্যাশায়ী। জানার পর থেকে আমার মানসিক অবস্থা যে কতটা খারাপ এই কথাটুকু কার সঙ্গে শেয়ার করব সেই মানুষটা পর্যন্ত আমার নেই। বিশ্বাস করো, তোমার শারীরিক অসুস্থতার কথা জানার পর থেকেই বুকের ভেতরটা কেন যেন ভেঙে আসছে। আমি বারবার অশ্রুসিক্ত হচ্ছি। মহান আল্লাহতায়ালার কাছে দু’হাত তুলে তোমার জন্য এ বিশ্বাস নিয়ে দোয়া করছি যে, তিনি অবশ্যই তোমাকে সুস্থ করে আমাদের মধ্যে ফিরিয়ে আনবেন।

  • শেখ হাসিনা চাইলে ফেনীর রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন জয়নাল হাজারী

    শেখ হাসিনা চাইলে ফেনীর রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন জয়নাল হাজারী

    ফেনীর এক সময়ের বহুল আলোচিত-সমালোচিত আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল হাজারী দীর্ঘ বিরতির পর উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন। তিনি রাজনীতি ছেড়েই দিয়েছিলেন। তাহলে আবার কেন তিনি ফিরে এলেন? আওয়ামী রাজনীতিতে তার এখন প্রয়োজনীয়তা কী?

    এই প্রশ্নের জবাবে জয়নাল হাজারী নিজেই দিয়েছেন ডয়চে ভেলেকে। তিনি বলেছেন, ‘আমার এখন আওয়ামী রাজনীতিতে কিছু দেয়ার নেই। কোনো কর্মসূচি নেই। কোনো পরিকল্পনা নেই। শুধু মাত্র নেত্রী (শেখ হাসিনা) যে আদেশ দেবেন সেটা পালন করব। এর বাইরে কিছু করার নেই।’

    জয়নাল হাজারী ফেনী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সংসদ সদস্য ছিলেন তিন বার। ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ফেনীর মাস্টার পাড়ায় তার বাড়িতে অভিযান হয়। তখন তিনি গ্রেফতার এড়িয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

    ২০০৪ সালে তিনি আত্মগোপনে থাকা অবস্থায়ই আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হন। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশে ফিরে আসেন। এরপর আদালতে আত্মসমর্পণের পর কিছুদিন কারাগারে থেকে জামিনে ছাড়া পান। কিন্তু তিনি আর রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত হননি।

    তিনি নিজেই জানিয়েছেন এখন তিনি আর ফেনী যান না। ঢাকায়ই থাকেন। তারপরও কেন আবার উপদেষ্টার পদ নিলেন? জয়নাল হাজারী বলেন, ‘আমি উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হওয়ার জন্য কারুর কাছে বলিনি বা ইচ্ছাও প্রকাশ করিনি। নেত্রী বলেছিলেন এখন চুপচাপ থাকো। এতদিন চুপচাপ ছিলাম। নেত্রী বলেছেন এখন আবার আসেন। আবার এসে গেলাম।’

    উপদেষ্টার দায়িত্ব কী? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এমনিতে উপদেষ্টার দায়িত্ব উপদেশ দেয়া। কিন্তু এই উপদেশ কে শোনে! এটা একটি অলঙ্কারিক পদ। কোনো দায় দায়িত্ব নেই। যারা নির্যাতিত, যারা মুক্তিযোদ্ধা যাদের অবদান আছে তাদের এই পদ দেয়া দিয়ে সম্মানিত করা হয়। আমাকেও নেত্রী দিয়েছেন।’

    হাজারীর বিরুদ্ধে বিরোধী রাজনৈতিক দল এমন কি নিজ দলের নেতাকর্মীদেরও নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ আছে। তার এই নির্যাতন ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে খবর পরিবেশন করতে গিয়ে সাংবাদিকেরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেককে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

    ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ সংসদ সদস্য থাকাকালে তিনি ও তার বাহিনীর নির্যাতনের কথা সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রকাশ হয়। তিনি আওয়ামী লীগের বাইরে ‘স্টিয়ারিং কমিটি’ নামে একটি নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলে সন্ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ।

    তবে হাজারীর দাবি, ‘স্টিয়ারিং কমিটি মানুষের জন্য কাজ করেছে। তারা ভালো কাজ করেছে। আমার প্রধান শত্রু জামায়াত-শিবির। তাদের সঙ্গে লড়াই করে আমাকে বাঁচতে হয়েছে। তারা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করেছে। এর বাইরে আমার আর কিছু জানা নেই। যারা আমাকে বিতর্কিত বলে তারাই বলতে পারবে কেন বলে।’

    জয়নাল হাজারী মনে করেন, ফেনীর সব কিছু এখন নষ্ট হয়ে গেছে। খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু তার এখন আর তেমন কোনো শক্তি নেই যে তিনি ফেনী ফিরে গিয়ে সব কিছু ঠিক করে ফেলবেন। তিনি ফেনীতে ফিরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত এখনো নেননি। তবে যদি শেখ হাসিনা বলেন তাহলে তিনি ফিরে যাবেন, সক্রিয় হবেন। এমনকি তিনি চাইলে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনও করবেন।

    নির্বাচন করলে আপনি কী ভোট পাবেন? আপনার কি জনপ্রিয়তা আছে? জবাবে হাজারী বলেন, ‘না আমার এখন কোনো জনপ্রিয়তা বলতে কিছু নেই। আমার জনপ্রিয়তা শূণ্যের কোঠায় চলে গেছে। আমার মনে হয় আমি একটি ভোটও পাব না। আমার শরীরের অবস্থাও ভালো না যে আবার মাঠে নামব।’

    তারপও যদি মনোনয়ন পান, তাহলে কী হবে? হাজারী বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে জনপ্রিয়তা লাগবে না। আওয়ামী লীগের লোকেরাই ভোট দিয়ে দেবে।’

    এক সময়ে ফেনীর গডফাদার বলে পরিচিত জয়নাল হাজারী তবে এখন নিজের সিদ্ধান্তে কিছুই করবেন না। তারা কথা, ‘নেত্রীর সিদ্ধান্তই আমার সিদ্ধান্ত।’

  • খোকার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রোববার

    খোকার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিল রোববার

    অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার সুস্থতা কামনায় দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

    আগামী রোববার বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নীচতলায় এ দোয়া মাহফিল হবে।

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    দোয়া মাহফিলে বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।

    এতে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু ও অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসান।

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ওইদিন যথাসময়ে দোয়া মাহফিলে শরিক হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

    প্রসঙ্গত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ১৮ অক্টোবর সাদেক হোসেন খোকাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ২৮ অক্টোবর তার স্বাস্থ্যের আরও অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে নেয়া হয়।

    বর্তমানে তাকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যান্সার সেন্টারে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে

  • বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করেছে আ’লীগ: ওবায়দুল কাদের

    বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের তালিকা করেছে আ’লীগ: ওবায়দুল কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সারাদেশে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা করা হয়েছে। যাতে এরা দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনে বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিতে স্থান করে নিতে না পারেন। এই তালিকা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঠানো হচ্ছে। সাংগঠনিক দায়িত্বশীল নেতারা বিষয়টি সমন্বয় করবেন।

    বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, নেত্রীও (শেখ হাসিনা) তার নিজস্ব কিছু লোকজন দিয়ে এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট- সব মিলিয়ে দলে অনুপ্রবেশকারীদের একটি তালিকা তৈরি করেছেন। সেটি দলীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দিয়েছেন তিনি।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গেও বিষয়টি শেয়ার করেছেন তিনি। তারাও এই তালিকা নিয়ে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যেন কমিটিতে আসতে না পারেন- সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবেন, ব্যবস্থা নেবেন। আর বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী কোনো ব্যক্তি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলেও আসতে পারবেন না। সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনেও যেন এরা প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্যও যথেষ্ঠ সতর্ক আছেন তারা। নেতা-কর্মীদেরও সেভাবেই দিক-নির্দেশনা দেওয়া আছে।

    তালিকায় বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারী কতোজনের নাম আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সব বিভাগেই কম বেশি আছেন। তবে নির্দিষ্ট সংখ্যা বলতে পারছি না। পরের মিটিংয়ে বলবো।

    বিতর্কিতরা নেতৃত্বে আসতে পারবেন কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সে বিষয়ে ফেস টু ফেস বিবেচনায় রয়েছে। তবে আগে থেকেই দলের কমিটিতে থাকলে তারা তো কাউন্সিলের সব কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।

    দল ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সম্মেলনে গঠনতন্ত্রের বিধান মেনে চলার নির্দেশ দিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, জেলা শাখাগুলোকে একটি নির্দেশনামূলক সার্কুলার দেওয়া হচ্ছে। সেখানে দলের গঠনতন্ত্রের কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটানো যাবে না বলে নির্দেশনা থাকবে। দলের মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড- সবক্ষেত্রেই দলের গঠনতন্ত্র পালন করতে হবে। গঠনতন্ত্রবিরোধী কোনো কর্মকাণ্ড করা যাবে না, কোনো পদক্ষেপও নেওয়া যাবে না। নতুন কমিটি করার ক্ষেত্রেও গঠনতন্ত্রের বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে, বিধান মেনেই কমিটির আকার করতে হবে।

    ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় দলের জাতীয় কাউন্সিলের প্রস্তুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ‘মুজিব বর্ষ’ কে সামনে রেখে একটি বর্ণাঢ্য, সুশৃঙ্খল ও স্বত:স্ফূর্ত কাউন্সিল হবে। এই কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের সমন্বয় রেখে নবীন-প্রবীনের সমন্বয়ে সময়োপযোগী নেতৃত্ব উপহার দেওয়া হবে। আর যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, কৃষক লীগ ও শ্রমিক লীগের সম্মেলন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একই মঞ্চে হবে। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা এ বিষয়ে দেখভাল করছেন।

    দলের মেয়াদোত্তীর্ণ ২৭টি জেলা সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে জানিয়ে কাদের বলেন, বেশ কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা সম্মেলনের প্রস্তুতিও চলছে। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়সহ তৃণমূল পর্যন্ত শাখাগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বিস্তারে সম্মেলনের দিকে নজর দিয়েছে।

    তিনি বলেন, গত তিন বছরে দলের যতগুলো প্রতিনিধি সভা হয়েছে, আওয়ামী লীগের ইতিহাসে তা কখনো হয়নি। ২২ বছর পর দলের খুলনা মহানগরের প্রথম কমিটি হয়েছে। কমপক্ষে ৩০টি জেলা কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়েছে, যেখানে কেবল সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এই সময়ে রোডমার্চ ও ট্রেনমার্চ হয়েছে। পাঁচটি সিটি করপোরেশন ছাড়াও বেশ কিছু উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন নির্বাচন ফেস করতে হয়েছে। সিলেট ছাড়া বাকি সিটি করপোরেশন নির্বাচনগুলোতে আওয়ামী লীগ জিতেছে। অন্য স্থানীয় নির্বাচনগুলোতেও শতকরা ৯০ ভাগ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। এরপরও বর্তমান কমিটি কিছুই করতে পারেননি বলে যে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে- তা সঠিক নয়।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাহবুব-উল আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, ফরিদুন্নাহার লাইলী, ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, অ্যাডভোকেট শ. ম. রেজাউল করিম, শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, দেলোয়ার হোসেন, প্রকৌশলী আবদুস সবুর, ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া ও মারুফা আক্তার পপি প্রমুখ।