Category: রাজনীতি

  • আওয়ামী লীগ তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান আগামী মাস থেকেই

    আওয়ামী লীগ তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান আগামী মাস থেকেই

    আওয়ামী লীগের তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযান শুরু হচ্ছে আগামী মাস থেকে। আপাতত ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এই অভিযান। এ ব্যাপারে দলের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গত ২৪ অক্টোবর তিনি প্রতিটি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে চিঠিও পাঠিয়েছেন। চিঠিতে জেলা সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গড়া নতুন কমিটিতে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের পদায়নের বিষয়ে সতর্ক থাকার তাগিদ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপ-দপ্তর সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ূয়া।

    আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতিবাজদের পাশাপাশি নানা কারণে বিতর্কিত এবং অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছেন। ইতোমধ্যে  ক্যাসিনোকাণ্ডে জড়িয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। দু’জনকেই সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    এ ছাড়াও আওয়ামী যুবলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মোহাম্মদ আবু কাওসার ও সাধারণ সম্পাদক পংকজ দেবনাথকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়ে গেছে বলেই দলের নীতিনির্ধারক নেতারা মনে করছেন। তাদের কয়েকজন সমকালকে জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর জাতীয় সম্মেলন হবে। পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারাই ওই সব সংগঠনের নেতৃত্বে আসবেন। বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের কোনো জায়গা হবে না।

    নেতারা আরও বলছেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে শুদ্ধি অভিযান এখনও শুরু হয়নি। আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হবে আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। ওই সম্মেলনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ সব সাংগঠনিক জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌরসভা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড সম্মেলন হবে। এ জন্য ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৮টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যসব জেলার দিনক্ষণও দ্রুতই ঠিক করা হবে। আর এ সম্মেলন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায় থেকে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দেওয়া হবে।

    বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন আয়োজনের তোড়জোড় চলছে। গত শনিবার ফেনীর মধ্য দিয়ে জেলা পর্যায়ের সম্মেলন কার্যক্রম শুরু করেছেন ওবায়দুল কাদের। তৃণমূলের সম্মেলন কার্যক্রমে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন দলের চার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান; আট সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ অ্যাডভোকেট, বি এম মোজাম্মেল হক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এ কে এম এনামুল হক শামীম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল।

    সিলেট বিভাগ: সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে জোরেশোরে সম্মেলন হচ্ছে। মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলাগুলোর সম্মেলন আগে করা হচ্ছে। তিনি জানান, সব উপজেলার সম্মেলনের পর সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার সম্মেলন হবে। মেয়াদ থাকায় মৌলভীবাজারের সম্মেলন হবে না। ২০১৭ সালের ১৯ অক্টোবর এই জেলার সম্মেলন হয়েছে।

    সিলেট বিভাগের আওতাধীন পাঁচটি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে সিলেট মহানগর ও সিলেট জেলার সম্মেলনের দিন চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন। আগামী ৩০ নভেম্বর সিলেট মহানগর এবং ৫ ডিসেম্বর সিলেট জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    চট্টগ্রাম বিভাগ: চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ফেনী থেকে শুরু হয়েছে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের সম্মেলন। গত শনিবার এই সম্মেলনে সভাপতি পদে কাউন্সিলরদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আকরামুজ্জামান। সাধারণ সম্পাদক পদে ফেনী-২ আসনের এমপি নিজাম উদ্দিন হাজারী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।

    এই বিভাগের ১৫টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে চারটির সম্মেলনের তারিখ গতকাল রোববার চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম। তিনি বলেছেন, আগামী ২৪ নভেম্বর খাগড়াছড়ি, ২৫ নভেম্বর রাঙামাটি, ২৬ নভেম্বর বান্দরবান এবং ৩০ নভেম্বর চট্টগ্রাম উত্তর জেলার সম্মেলন হবে। ১১ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় বর্ধিত সভায় চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের প্রস্তুতি রয়েছে। ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সম্মেলন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এই বিভাগের আওতাধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা মহানগর, কুমিল্লা উত্তর, কুমিল্লা দক্ষিণ, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার সম্মেলনের তারিখ আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নির্ধারণ করা হবে। নোয়াখালী জেলার সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেছেন, তারা সম্মেলনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিন বছরের মেয়াদ পেরিয়ে গেলেও কক্সবাজার জেলার সম্মেলন হচ্ছে না। ২০১৬ সালের ৩১ জানুয়ারি এই জেলার সম্মেলন হয়েছিল। তবে কমিটির অনুমোদন হয়েছিল এর অনেক পরে। তাই কেন্দ্রীয় সম্মেলনের পর কক্সবাজার জেলার সম্মেলন করা হবে।

    রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ: রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, ৭ নভেম্বর পঞ্চগড়, ২৬ নভেম্বর রংপুর, ২৮ নভেম্বর রংপুর মহানগর, ৭ ডিসেম্বর বগুড়া, ৮ ডিসেম্বর কুড়িগ্রাম, ১৯ ডিসেম্বর লালমনিরহাট এবং ২৭ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    রাজশাহী বিভাগের আওতাধীন জয়পুরহাট, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, পাবনা, রাজশাহী মহানগর ও রাজশাহী জেলার সম্মেলনের দিনক্ষণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। রংপুর বিভাগের আওতাধীন ঠাকুরগাঁও এবং নীলফামারী জেলার তারিখ খুব কম সময়ের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানা গেছে। জাতীয় সম্মেলনের আগে দিনাজপুর ও গাইবান্ধা জেলার সম্মেলনের সম্ভাবনা কম।

    ময়মনসিংহ বিভাগ: ময়মনসিংহ বিভাগের আওতাধীন নেত্রকোনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু জানিয়েছেন, মেয়াদোত্তীর্ণ হয়নি বলে এই জেলায় সম্মেলন হচ্ছে না। ২০১৭ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি নেত্রকোনা জেলার সম্মেলন হয়েছিল।

    জামালপুর জেলার সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ২০১৫ সালের ২০ মে এই জেলার সম্মেলন হলেও কমিটির অনুমোদন হয়েছে অনেক পরে। জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট বাকী বিল্লাহ বলেছেন, এই জেলার সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে কেন্দ্র চাইলে তারা সম্মেলন করবেন।

    শেরপুর জেলা সভাপতি আতিউর রহমান আতিক বলেছেন, কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে শেরপুর জেলার সম্মেলন হবে না। জেলা সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট চন্দন পাল জানিয়েছেন, ২০১৬ সালের ১৯ মে শেরপুর জেলার সম্মেলন হয়েছিল।

    ময়মনসিংহ মহানগর ও জেলার সম্মেলন হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন মহানগর সভাপতি এহতেশামুল আলম। মহানগর সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত বলেছেন, ২০১৬ সালের ৩০ এপ্রিল এই দুই সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন হয়েছিল।

    ঢাকা বিভাগ: ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ বলেছেন, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় সম্মেলনের আগে ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হচ্ছে না।

    ঢাকা বিভাগের আওতাধীন ১৭টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে টাঙ্গাইল, কিশোরগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ঢাকা, গাজীপুর মহানগর, গাজীপুর জেলা, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ মহানগর, নারায়ণগঞ্জ জেলা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের সম্মেলনের দিনক্ষণ দ্রুতই নির্ধারণ করা হবে।

    বরিশাল বিভাগ: ঝালকাঠি ও ভোলা ছাড়া বরিশাল বিভাগের আওতাধীন পাঁচ সাংগঠনিক জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম জানিয়েছেন, আগামী ১ ডিসেম্বর বরগুনা, ২ ডিসেম্বর পটুয়াখালী, ৩ ডিসেম্বর পিরোজপুর, ৭ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগর এবং ৮ ডিসেম্বর বরিশাল জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

    খুলনা বিভাগ: খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যেই খুলনা মহানগর, খুলনা জেলা ও কুষ্টিয়া জেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। দ্রুতই নড়াইল ও বাগেরহাট জেলার সম্মেলন নিয়ে আলোচনা হবে। এই বিভাগের ১১টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর, মাগুরা ও সাতক্ষীরায় সম্মেলন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ সব জেলার মেয়াদ এখনও রয়েছে।

  • মেনন : সংসদ সদস্য পদ

    মেনন : সংসদ সদস্য পদ

    একাদশ সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি উল্লেখ করে নিজেকে এর সাক্ষী হিসেবে দাবি করায় বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকতে পারেন কিনা, এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। রাজনৈতিক অঙ্গন ছাড়াও এখন এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ্যের মনে। তবে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও আইনজ্ঞরা বলছেন, আইনি প্রশ্ন এখানে মূখ্য নয়। কারণ আইন ও সংবিধান ধরলে নির্বাচন সংক্রান্ত এই ধরনের বক্তব্যের জন্য ঢাকা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত রাশেদ খান মেননের সংসদ সদস্য পদ বাতিল হওয়ার সুযোগ নেই। বিষয়টি সম্পূর্ণ নৈকিতার প্রশ্ন। জনগণ ভোট দিতে পারেনি- তা প্রমাণের পক্ষে নিজেকে সাক্ষী হিসেবে দাঁড় করানোর কারণে নীতি-নৈতিকতার বিচারে তার সংসদ সদস্য পদ থেকে সরে দাঁড়ানো সমীচীন হবে।

    এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল শনিবার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাংবিধানিক দায়িত্ব। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশের আগ পর্যন্ত যে কোনো বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ থাকে কমিশনের। নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ার গেজেট প্রকাশের পর কমিশনের আর কিছুই করার থাকে না। তিনি বলেন, নির্বাচিত সংসদ সদস্যের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে তা হতে হবে সংসদ সচিবালয়ের মাধ্যমে। নির্বাচিত হওয়ার পরে কোনো এমপি আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন- এমন কোনো বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে নির্বাচন কমিশনে চিঠি পাঠালে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

    নৈতিকভাবে মেনন এখন এমপি পদে থাকতে পারেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সেটা উনিই (মেনন) ভালো বলতে পারবেন। এবিষয়ে আমরা কিছু বলতে পারিনা। তবে পরিবেশ-পরিস্থিতি অনুযায়ী অনেকেই ইমোশনালি অনেক কিছুই বলেন। পরে বুঝতে পারেন, এটা বলা ঠিক হয়নি।’

    গত ১৯ অক্টোবর বরিশাল নগরীতে ওয়ার্কার্স পার্টির জেলা কমিটির সম্মেলনের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ খান মেনন বলেছিলেন, ‘আমি নিজেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি। তারপরেও আমি সাক্ষ্য দিয়ে বলছি- এই নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি। এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও ভোট দিতে পারে না, উপজেলায়ও পারে না। তাহলে শেখ হাসিনা আপনি-আমি মিলে যে ভোটের জন্য লড়াই করেছি, ঘেরাও করেছি আজিজ কমিশনকে। আমরা ১ কোটি ১০ লাখ ভুয়া ভোটার-তালিকা ছিঁড়ে ফেলার জন্য নির্বাচন বর্জন করেছিলাম নমিনেশন জমা দেওয়ার পরেও। আজকে কেন আমার দেশের মানুষ, ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ, আমার উপজেলার মানুষ, আমার জেলার মানুষ, আমার জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে পারবে না?’

    আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির প্রধান মেননের এই বিস্ফোরক বক্তব্য ঝড় তোলে রাজনৈতিক অঙ্গনে। মেননের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পরদিন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘মন্ত্রী হলে মেনন কি একথা বলতে পারতেন?’ মেননের বক্তব্য সম্পর্কে ১৪ দলের আরেক শীর্ষ নেতা ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ইত্তেফাককে বলেছেন, ‘৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন নিয়ে তার মন্তব্য সঠিক নয়। নির্বাচন হয়েছে, ভোটারও ছিল। কাজেই এ নির্বাচনকে অস্বীকারের কোনো উপায় নেই।’ মেননের বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে ১৪ দলেও। জোটের বৈঠক করে ১৪ দলের সমন্বয়ক ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিম ইতোমধ্যে বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে মেনকে চিঠি দিয়েছেন। মেনন বলেছেন, দলীয় ফোরামে আলোচনা করে তিনি এই চিঠির ব্যাখ্যা দেবেন

  • খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

    খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে যা বললেন তথ্যমন্ত্রী

    তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা নেয়া না নেয়ার সিদ্ধান্ত আদালতের, সরকারের নয়। তার স্বজনরা দেখা করে এসে দুই সপ্তাহ ধরে কোনো চিকিৎসক খালেদা জিয়াকে দেখতে যাননি বলে যে অভিযোগ তুলেছেন- তা সঠিক নয়।

    তিনি বলেন, গতকালও (শুক্রবার) রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা হচ্ছে না বলে বলেছেন। আসলে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ও খালেদা জিয়ার বোনসহ আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করে এসে যা বলেছেন তাদের বক্তব্যের মধ্যে পুরোপুরি মিল, কোনো ব্যতিক্রম নেই। এ সব বলে তারা খালেদা জিয়ার জন্য সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। এটি করতে গিয়ে বিএনপি নেতারা বরং বেগম জিয়াকে অসম্মানিত করছেন।

    শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুরপাড়ে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ সব কথা বলেন।

    আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশ যেতে হলে তাকে তো প্রথমত জামিন পেতে হবে। জামিন পাওয়ার পর আবার আদালতের অনুমতি লাগবে তাকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা। সেটা তো আদালতের ব্যাপার। তিনি জামিন পাবেন কি পাবেন না সেটা সরকারের বিষয় নয়, আদালতের ব্যাপার। আদালত যদি তাকে জামিন দেন এবং বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার অনুমতি দেন তাহলেই বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার প্রসঙ্গটি আসে। এটা সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ার।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রকৃতপক্ষে আমি বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি তারা জানিয়েছেন- বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়মিত ডিউটি ডাক্তারের চেকআপের মধ্যে রেখেছেন। এ ছাড়াও সিনিয়র ডাক্তাররা তাকে এক-দু’দিন পরপর দেখতে যান এবং তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।

    তিনি বলেন, আপনারা জানেন খালেদা জিয়ার আর্থাইটিসের সমস্যা দীর্ঘদিনের পুরনো সমস্যা। এগুলো নতুন সমস্যা নয়। এ সমস্যা নিয়েই তিনি দু’বার দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। বিএনপির মতো একটি বড় দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করছেন। বিরোধীদলের নেতার দায়িত্বও তিনি পালন করেছেন। মানুষের বয়স বাড়লে সব মানুষের আর্থাইটিসের মতো নানা সমস্যা হয়। তার নতুন করে কোনো সমস্যা দেখা দেয়নি। গতকালকে (শুক্রবার) আত্মীয়-স্বজনরা দেখা করে এসে যে কথাগুলো বলেছেন সেগুলো নতুন কোনো সমস্যা নয়, পুরনো সমস্যা। তারা যে সব কথা বলেছেন- তা সঠিক নয়। তাকে নিয়মিত চেকআপে রাখা হয়েছে, সিনিয়র ডাক্তাররা দুয়েকদিন পরপর দেখতে যাচ্ছেন।

    দেশের মেডিকেল শিক্ষার সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালে দেশের প্রতিথযশা ডাক্তাররা সংযুক্ত রয়েছেন উল্লেখ করে ড. হাছান মাহমুদ বলেন, এখানে মানসম্মত চিকিৎসা হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে তখন সেখানেই চিকিৎসা নিয়েছেন। সিঙ্গাপুর ও ভারতের দেবী শেঠিসহ বিখ্যাত ডাক্তাররা এসেছিলেন, তারা বলেছিলেন ভারত ও সিঙ্গাপুরে নিয়ে গেলে তাকে যে চিকিৎসা দেয়া হতো বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে সেই চিকিৎসায় দেয়া হয়েছে। যে কারণে তিনি মৃত্যুরসন্ধিক্ষণ থেকে ফিরে আসেন। এখানেই ভালো চিকিৎসা হয়।

    বেগম খালেদা জিয়া দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তার সুচিকিৎসার জন্য সরকার অত্যন্ত আন্তরিক বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে আরও অনেক হাসপাতাল ছিল। তিনি যাতে ভালো চিকিৎসা পান সে জন্যই দেশের সেরা হাসপাতাল বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে রাখা হয়েছে তাকে।

    বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে যদি খালেদা জিয়ার চিকিৎসা না হয়, তাহলে তাকে যখন কারাগারে ফেরত নেয়ার কথা আসে তখন রিজভী আহমেদরা বিরোধিতা করেন কেন? এমন প্রশ্ন রেখে হাছান মাহমুদ বলেন, খালেদা জিয়ার স্বজনরা জামিনপ্রাপ্তিতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে (খালেদা জিয়া) কী সরকার সহায়তা করবে?

    তিনি বলেন, তারা (বিএনপি) একবার বলে আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। আবার কেউ বলছেন, তার জামিন আবেদনের সময় যাতে বিরোধিতা করা না হয়। তাদের পুরো বক্তব্য স্ববিরোধী। সরকারের তো দুর্নীতির সঙ্গে আপস করার সুযোগ নেই।

  • কোথাও নেই রওশন ফের শঙ্কায় কাদের

    কোথাও নেই রওশন ফের শঙ্কায় কাদের

    ক্যাসিনো-টেন্ডারবাজি-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অভিযান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সম্প্রতি ভারত সফরে চুক্তি-সমঝোতা স্বাক্ষর, বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের পিটিয়ে হত্যা, মহানবিকে (স) নিয়ে ফেসবুকে কটূক্তিকে কেন্দ করে ভোলায় হতাহতের ঘটনা এবং ১১ দফা দাবিতে ক্রিকেটারদের ধর্মঘট—এরকম নানা ইস্যুতে দেশে গত এক মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে এসব ঘটনার কোনোটিতেই ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদের। নিন্দা, প্রতিবাদ কিংবা সমর্থন জানিয়েও তিনি কোনো বক্তব্য-বিবৃতি দেননি। দলীয় কোনো কার্যক্রমেও তাকে দেখা যাচ্ছে না। সব মিলিয়ে কোনো কিছুতেই নেই বিরোধীদলীয় নেতা। এ নিয়ে শুধু রাজনৈতিক অঙ্গনেই নয়, খোদ জাতীয় পার্টির (জাপা) ভেতরেও দলীয় নেতাকর্মীরা নিজেদের আড্ডা-আলোচনায় প্রশ্ন তুলছেন।

    অন্যদিকে আগামী ২৮ ডিসেম্বর দলের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে অঙ্গ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোকে গোছানোর কাজ করছেন জাপার চেয়ারম্যান জি এম কাদের। ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে তিনি মতবিনিময় করছেন। এর মধ্যেও কাউন্সিলে ‘চেয়ারম্যান’ পদ ধরে রাখতে পারা নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা তাড়া করছে তাকে। কারণ কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে জাপার ভেতরে নতুন করে দ্বন্দ্ব-বিবাদ দানা বাঁধছে।

    জাপার দায়িত্বশীল কয়েক জন নেতা ইত্তেফাকের সঙ্গে পৃথক আলাপকালে জানান, বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে রওশন এরশাদের যে ধরনের সক্রিয়তা ও ভূমিকা থাকার কথা সেটির সিকিভাগও প্রতীয়মান নেই। দলটির প্রেসিডিয়ামের পাঁচ জন সদস্য প্রায় অভিন্ন ভাষায় ইত্তেফাককে বলেন, দেশে এত ঘটনা ঘটছে, কোনোটিতেই কোনো প্রতিক্রিয়া নেই রওশনের। দেশে যে একজন বিরোধীদলীয় নেতা রয়েছেন, সামগ্রিক রাজনৈতিক দৃশ্যপটে সেটি অনুপস্থিত। প্রেসিডিয়ামের একজন সদস্য কিছুটা ক্ষোভের সঙ্গেই বললেন, শুধু সংসদে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশগ্রহণ, বাজেট আলোচনা ও রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সংসদে বক্তব্য রাখা এবং রেওয়াজ অনুযায়ী সংসদের অধিবেশনের সমাপনী দিনে বক্তব্য রাখা ছাড়া বিরোধীদলীয় নেতার আর কোনো কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। অথচ বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রাপ্ত সমস্ত সুযোগ-সুবিধাই ভোগ করছেন রওশন।

    সংসদের কয়েকটি নির্ধারিত কার্যক্রমেই নিজের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ রাখা, দলীয় কোনো কার্যক্রমে দেখা না যাওয়া এবং দেশে আলোচিত বিভিন্ন ইস্যুতে নীরব থাকার বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য বারবার যোগাযোগ করেও রওশন এরশাদকে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে রওশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ থাকা জাপার মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুল ইমাম জানান, রওশন এরশাদ বেশ কিছুদিন ধরেই শারীরিকভাবে অসুস্থ।

    এদিকে এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর জাপার নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্বের প্রশ্নে রওশন এরশাদ ও জি এম কাদেরের অনুসারী পৃথক দুটি বলয়ের মধ্যে বিরোধ সম্প্রতি তুঙ্গে ওঠে। একপর্যায়ে রওশনকে দলের পালটা চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হলে দল ভাঙনের মুখে পড়তে গিয়েও শেষ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যরাতের সমঝোতায় সেই দফায় দল আবারও টুকরো হওয়া থেকে রক্ষা পায়। সমঝোতায় ভূমিকা রাখা জাপা মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা তখনই বলেছিলেন, সমঝোতা অনুযায়ী দলের কাউন্সিল পর্যন্ত জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের পরবর্তী চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।

    জাপার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘সমঝোতা অনুযায়ী দলের কাউন্সিল পর্যন্ত জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন’—এই বাক্যটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি রয়েছে। দুই পক্ষের সমঝোতা অনুযায়ী রওশন এরশাদ সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং জি এম কাদের দলের চেয়ারম্যান ও সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা হলেও দলটিতে দেবর-ভাবীকে ঘিরে গড়ে ওঠা দুটি বলয়ের মধ্যে বিবাদরেখা এখনও বিদ্যমান। প্রকাশ্য বিবাদ না থাকলেও পৃথক বলয়ে থাকা নেতারা আগের মতোই বিভাজিত। বরং রওশনের সঙ্গে বিরোধের সময় যারা জি এম কাদেরের পক্ষে প্রকাশ্য অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের অনেকেই বর্তমানে দলীয় কার্যক্রমে নিষ্ক্রিয়।

    রওশন ও জি এম কাদেরের বলয়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাউন্সিলকে সামনে রেখে দলের একটি অংশের ভিন্ন পরিকল্পনাও রয়েছে। রওশনকে দলের চেয়ারম্যান, জি এম কাদেরকে সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ও রওশনপুত্র সাদ এরশাদকে কো-চেয়ারম্যান করার চিন্তা-ভাবনা নিয়ে নিজেদের মধ্যে মাঝে-মধ্যেই আলোচনা করছেন এই নেতারা। তবে এই পরিকল্পনা সম্পর্কে জি এম কাদেরের অনুসারীরাও অবগত। ভিন্ন এই পরিকল্পনাকে বিবেচনায় রেখে কাদেরপন্থিরাও কাউন্সিলে নিজেদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

    যদিও জি এম কাদেরের দাবি, জাপা ভাঙবে না। জাপার নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ রয়েছেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে। জাপা হবে কর্মীদের দল, দুই-চার জন নেতার দল হবে না। তিনি জানান, কাউন্সিলের সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দলের জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে এর আগে অঙ্গ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলো গোছানোর কাজ চলছে। তৃণমূলেও দলকে সংগঠিত করা হচ্ছে।

  • সম্রাটের বসরাও মেরিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত যান

    সম্রাটের বসরাও মেরিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত যান

    ক্যাসিনোকান্ডে গ্রেফতার ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও তার বসরা নিয়মিত যান সিঙ্গাপুরের মেরিনা বে ক্যাসিনোতে। বিশ্বের নামিদামি জুয়াড়িদের সাথে তাদের সেখানে দেখা হয়। মেরিনা বে ক্যাসিনোতে বাংলাদেশ থেকে পাচার করা লাখ লাখ ডলার উড়ছে।

    জানা গেছে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের দুই জন কর্মকর্তা নিয়মিত যান মেরিনা বে ক্যাসিনোতে। তারা সেখানকার বড় জুয়াড়ি। খেলাধুলার উন্নয়নে তাদের কোনো খবর নেই। সব সময় পড়ে থাকেন জুয়া খেলায়। এছাড়া ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকার ঋণ নিয়ে ঋণখেলাপি হওয়া ব্যক্তিরাও যান সেখানে। বন্ড জালিয়াতি সিন্ডিকেটের হোতারাও যান মেরিনা বে ক্যাসিনোতে। বন্ড জালিয়াতি চক্রের একজন সিঙ্গাপুরে বাঙালি কমিউনিটিতে ‘খান ভাই’ হিসেবে পরিচিত। সিঙ্গাপুরে কাজ করা বাংলাদেশি শ্রমিকরাও যান সেখানে। তাদের জন্য রয়েছে নিচ তলায় ক্যাসিনো খেলার ব্যবস্থা। শ্রমিকরা সর্বোচ্চ দুই হাজার ডলারের ক্যাসিনো খেলেন। এতে বেশিরভাগ শ্রমিক নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেকে লাভবানও হয়েছে।

    ইত্তেফাকের এই প্রতিবেদক মেরিনা বে ক্যাসিনোতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। দেখা যায়, নিচ তলায় আছে শতাধিক ক্যাসিনো খেলার বোর্ড। সেখানে ক্যাসিনো খেলছেন এমন ৪/৫ জন বাংলাদেশির সঙ্গে কথাও হয়েছে। তারা হলেন: ফরিদপুরের ইব্রাহিম, ঝিনাইদহের সোহেল, মুন্সিগঞ্জের মহসিন ও চাঁদপুরের শহীদ। কারা এখানে আসেন, কিভাবে টাকা উড়ান বিস্তারিত সব কিছু তারা জানান। ইব্রাহিম এক দিনে ১০ হাজার ডলার জিতেন। সাথে সাথে ৯ হাজার ডলার দেশে পাঠিয়ে দেন। এক মাসে ক্যাসিনো খেলে সমান সমান হয়েছে তার। আরেকজন ক্যাসিনো খেলে এক বছরে ৪০ লাখ ডলার জেতেন। তবে অনেকে শূন্য হাতে ফেরেন। বাংলাদেশে চলমান শুদ্ধি অভিযানের মধ্যে সিঙ্গাপুরে পালিয়ে যাওয়া ১০ জনের সঙ্গেও কথা হয়েছে এই প্রতিবেদকের। তারাও মেরিনা বে ক্যাসিনোতে নিয়মিত যাচ্ছেন। তবে তারা নাম প্রকাশ না করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

    মেরিনা বে ক্যাসিনোর দ্বিতীয় তলায় বড় জুয়ারিরা খেলেন। সম্রাটের বসরাও এখানে খেলেন। যারা জিরো থেকে ইসলাইল চৌধুরী সম্রাটকে ‘সম্রাট’ বানিয়েছেন তারাও এখানে যান নিয়মিত। বাংলাদেশের লাখ লাখ ডলার উড়ে এখানে। মেরিনা বে ক্যাসিনোটি অত্যাধুনিক, সুরক্ষিত ও সুসজ্জিত। কঠোর নিরাপত্তা সম্বলিত এই ক্যাসিনো পরিচালনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখানে সিঙ্গাপুরের কোনো নাগরিক ক্যাসিনো খেলতে পারেন না। বিদেশিদের জন্য এটা সংরক্ষিত। ক্যাসিনো বোর্ডের প্রতি টেবিলে রোবট ঘুরে ঘুরে জুয়ারিদের চা, কফি ও জুস পরিবেশন করে।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, জুয়াড়িরা গল্প-আড্ডায় তাদের স্মৃতি আওড়াচ্ছেন। কত কথা, কত কাহিনীর জন্ম দিয়েছেন বাংলাদেশি গ্যাম্বলাররা। ঢাকার সম্রাট সিঙ্গাপুরেও ছিলেন নাম্বার ওয়ান। যে ক’জন জুয়াড়ি জিতে কিংবা হেরে পাইজা চেয়ারম্যান কার্ড অর্জন করেছেন সম্রাট তার অন্যতম। তার সর্বশেষ খেলা ছিল এমবিএস-এর পাইজা রুমে। যার অবস্থান ক্যাসিনোর তৃতীয় তলার এক্সক্লুসিভ জোনে। ওই এলাকায় সাধারণ জুয়াড়িদের পা ফেলা বারণ। তবে একজন পাইজা মেম্বার নারী বা পুরুষ দু’জন সহযোগীকে স্পন্সর করতে পারেন। ওই অঙ্গনে চীনা বংশোদ্ভূত এক পাইজা প্লাটিনাম মেম্বারের সহযোগী হিসেবে যাতায়াতকারী সিঙ্গাপুরে কর্মরত বাংলাদেশের যশোর অঞ্চলের এক বাসিন্দা বলেন, যেকোনো ক্যাসিনোর জন্য পাইজা মেম্বার হীরার টুকরার মতো, মূল্যবান। মিলিয়ন ডলার খেলে ধাপে ধাপে এটি অর্জন করতে হয়। পাইজা মেম্বারদের আবার অনেকগুলো স্তর আছে। পয়েন্ট রেট সুযোগ-সুবিধায় ফারাক অনেক। এটি অর্জনে একেক দেশে একেক নিয়ম। দুনিয়াসেরা লাসভেগাস বা মিশিগানের এমজিএম ক্যাসিনো কিংবা চীনের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল ম্যাকাও সর্বত্রই সমাদৃত পাইজা মেম্বাররা। তবে তাদের সুবিধাদি ভিন্ন। দেশভেদে তারতম্য হয়। ক্যাসিনো-জুয়াড়ি ইসমাঈল হোসেন সম্রাট সত্যিই এক বিস্ময়।

    তিনিই একমাত্র বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী যিনি পাইজা প্রিমিয়াম, পাইজা প্লাটিনাম এই দুই ধাপ রয়েছেন। এরপর অর্জন করেছেন পাইজা চেয়ারম্যানের খেতাব। সিঙ্গাপুরে পৌঁছেই টের পাওয়া যায়, সম্রাট ও তাদের বসদের চেনেন না এমন প্রবাসী বাংলাদেশি কম। জুয়া যেহেতু বৈধ, তাই এ নিয়ে জুয়াড়িদের সঙ্গে কথাবার্তা চালাতে বেগ পেতে হলো না। সম্রাটের বসদের নাইট লাইফের নানান চাঞ্চল্যকর কাহিনী সিঙ্গাপুরের বসবাসরত বাংলাদেশি জুয়াড়িদের মুখে মুখে। জুয়াড়িদের সিঙ্গাপুরে আলাদা সম্মানও রয়েছে।

  • ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে: আমান

    ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে: আমান

    বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, ছাত্ররাজনীতি নয়, ছাত্রলীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। মেধাবী ছাত্র আবরারকে হত্যা করে এই অবৈধ সরকার ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দিতে চায়। আমাদের দাবি ছাত্ররাজনীতি বন্ধ নয়, ছাত্র রাজনীতিকে যারা কলুষিত করছে ছাত্রলীগের গুণ্ডা বাহিনীর নেতৃত্বে যে ছাত্রলীগ চলছে- সেই ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

    শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
    আমান উল্লাহ আমান বলেন, মানবাধিকার ভূলুণ্ঠিত করে গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করা হয়েছে। এমনিভাবে ভোটবিহীন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই। আমরা এই মানববন্ধন থেকে শপথ নেবো- গণতন্ত্রকে মুক্ত করবো, অন্যায়ভাবে কারাবন্দী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবো। বাংলাদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার মধ্য দিয়ে একটি নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে