Category: রাজনীতি

  • জেপির সম্পাদকমণ্ডলীর বর্ধিত সভা ২৬ অক্টোবর

    জেপির সম্পাদকমণ্ডলীর বর্ধিত সভা ২৬ অক্টোবর

    জাতীয় পার্টি-জেপির ত্রিবার্ষিকী কাউন্সিল ২০১৯ প্রস্তুতি কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা সভা ২৬ অক্টোবর বেলা ১১টায় লালমাটিয়ার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

    সভায় জাতীয় পার্টি-জেপির সম্পাদকমণ্ডলীর সকল সদস্য, অঙ্গসংগঠনের সভাপতি/আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক/সচিব এবং বিশেষ আমন্ত্রণে প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ভাইস চেয়ারম্যানবৃন্দকে যথাসময়ে যোগদান করার জন্য জেপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম অনুরোধ করেছেন।

    সভায় দেশের বিরাজমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হবে। —প্রেস বিজ্ঞপ্তি

  • মেননের বক্তব্যে ১৪ দল বিব্রত নয়: মোহাম্মদ নাসিম

    মেননের বক্তব্যে ১৪ দল বিব্রত নয়: মোহাম্মদ নাসিম

    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বক্তব্যে ১৪ দল বিব্রত নয়। ১৪ দল কোনো ব্যক্তির নয়, এটা জোটবদ্ধ সংগঠন। তবে মেননের বক্তব্যের বিষয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১৪ দল আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারত সমঝোতা স্মারক’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। নাসিমের এ বক্তব্যের সময় ১৪ দলের অন্যতম শীর্ষ নেতা রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন না।

    এর আগে মেননের বক্তব্যে ১৪ দলসহ ক্ষমতাসীন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। সোমবার সন্ধ্যায় নাসিমের ধানমণ্ডির বাসায় এক চা-চক্রে ‘পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত’ মেনন যেন ১৪ দলের বৈঠকগুলোতে না যান- এমন আহ্বান জানানো হয়। ওই চা-চক্রেও অনুপস্থিত ছিলেন মেনন।

    এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নাসিম আরও বলেন, তিনি কেন আসেননি, সেটা বলতে পারব না। তবে তার দলের সাধারণ সম্পাদক (ফজলে হোসেন বাদশা) এখানে এসেছেন।

    সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার আগে গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশে অব্যাহতভাবে গুজব আর অপপ্রচার চলছে। এসব গুজব ও অপপ্রচারের জবাব দিতে হবে তথ্য দিয়ে। ১৪ দল সে প্রচেষ্টাই নেবে।

    ১৪ দলের মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের স্বর্ণ অধ্যায় চলছে এখন। তবে একটি অশুভ মহল এখনও এ সম্পর্ককে বাঁকা চোখে দেখছে।

    এসময় আরও বক্তব্য দেন- জাসদের সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, ইতিহাসবিদ অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন এবং নিরাপত্তা বিশ্নেষক মেজর জেনারেল (অব.) আবদুর রশীদ।

    বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম মাহবুব। আরও বক্তব্য দেন- সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ূয়া, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী এমপি, গণআজাদী লীগের সভাপতি এস কে শিকদার, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপি, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এমপি, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাৎ হোসেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম এমপি, গাজী টেলিভিশনের প্রধান সম্পাদক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আবদুল কাইয়ুম, সুচিন্তা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ এ আরাফাত, সাংবাদিক-কলামিস্ট সুভাষ সিংহ রায় প্রমুখ।

    প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বরিশালে এক অনুষ্ঠানে ১১তম জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন।

  • ভোলার ঘটনা নিয়ে রং ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    ভোলার ঘটনা নিয়ে রং ছড়ালে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী

    আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ভোলার ঘটনা নিয়ে শান্তি বিনষ্টের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রং ছড়ানো হলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।

    মঙ্গলবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগের প্রচার কার্যালয়ে অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু, কিন্তু সাম্প্রদায়িক নয়। তারা শান্তিপ্রিয় ও পরমতসহিষুষ্ণ। একটি মহল দেশের এই শান্তি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। একজনের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক পোস্ট দিয়ে অশান্তি ও হানাহানি সৃষ্টি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। এদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশে আওয়ামী লীগে যে শুদ্ধি অভিযান চলছে, বিদেশেও এ ধরনের অভিযানের মাধ্যমে দলকে অনুপ্রবেশকারীমুক্ত করা প্রয়োজন। তিনি সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগকেও এ ধরনের শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করার আহ্বান জানান।

    দেশের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের অবদান তুলে ধরে তিনি বলেন, এ ভৌত উন্নয়নের পাশাপাশি নিজেদের মানবিকভাবে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। এ জন্য প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের বিকাশ।

    অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের প্রেসিডেন্ট এম নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ, অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

  • ছাত্রদল আজও মধুর ক্যান্টিনে

    ছাত্রদল আজও মধুর ক্যান্টিনে

    আজ ফের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে গেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল ১০টার পর মধুর ক্যান্টিনে যান ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাদের জন্য নির্ধারিত চেয়ার ও টেবিলে বসেন তারা। বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন পর্যায়ের শতাধিক নেতাকর্মী সেখানে উপস্থিত আছেন।

    তবে কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এখনো মধুর ক্যান্টিনে যাননি। সাবেক কমিটির বৃত্তি ও ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ, ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয় শাখার সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন শীর্ষ নেতা উপস্থিত আছেন।

    কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণ বলেন, সকাল থেকেই তারা মধুর ক্যান্টিনে আছেন। কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এখনো আসেননি, কিছুক্ষণের মধ্যে চলে আসবেন।

    উল্লেখ্য, রোববার দুপুরে মধুর ক্যান্টিনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীরা। এতে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

  • নেতৃত্বে আসছেন কারা

    নেতৃত্বে আসছেন কারা

    বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ‘বুড়ো’দের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে আওয়ামী যুবলীগে। অপেক্ষাকৃত একঝাঁক তরুণ প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতৃত্বে আসার। একইসঙ্গে স্থায়ী ঠিকানা হারানোর দুশ্চিন্তায় দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন বুড়িয়ে যাওয়া নেতারাও।

    গতকাল সোমবার যুবলীগের বেশ কয়েকজন প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকের সঙ্গে আলাপ করে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। তারা বলেছেন, ভবিষ্যৎ যুবলীগের নেতৃত্বে আসার জন্য ৫৫ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। আফসোসের পাশাপাশি উচ্ছ্বাসও আছে।

    প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সঙ্গে গত রোববার গণভবনে যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও এমন চিত্র ফুটে উঠেছিল। প্রধানমন্ত্রী বয়সসীমা নির্ধারণ করে দেওয়ার পর ওই বৈঠকেই নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের কেউ কেউ নীরবে কেঁদেছেন। বয়সসীমা বাড়ানোর অনুরোধ করেছেন। আবার কেউ কেউ হেসেছেন। বয়সসীমা নির্ধারণ করার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।

    আগামী ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যুবলীগের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কংগ্রেসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। কংগ্রেসের মধ্য দিয়ে যুবলীগ থেকে আনুষ্ঠানিক বিদায় নেবেন ৫৫ বছরের বেশি বয়সী সব নেতা।

    যুবলীগের অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী সাম্প্রতিক সময়ে নানা কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। গণভবনে প্রবেশের বেলায় নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে তার নাম। তার ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়েছে। বিদেশ সফরেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ অবস্থায় ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে যুবলীগের কংগ্রেসে প্রধানমন্ত্রী আসবেন কি- না, সেটা নিয়ে কয়েকদিন নানামুখী গুজব-গুঞ্জন ছিল।

    প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকদের বৈঠকে এর অবসান হয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরীকে অব্যাহতি এবং চয়ন ইসলামকে আহ্বায়ক করে কংগ্রেস প্রস্তুতি কমিটি গঠনের পর এ জটিলতা কেটেছে। সেইসঙ্গে যুবলীগে সম্পূর্ণ নতুন মেরুকরণও ঘটেছে। এ নিয়ে গতকাল সোমবার সংগঠনের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নেতাকর্মীরা নিজেদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা করেছেন।

    বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, যুবলীগের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আসতে আগ্রহী প্রার্থীদের অনেকেই বয়সসীমা নির্ধারণের ঘটনায় প্রচণ্ড হতাশ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্তত তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর কাছেই হতাশা ব্যক্ত করেছেন। এমনকি তারা বয়সসীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও দিয়েছেন। তাতে ইতিবাচক মনোভাব দেখাননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি তাদের কাউকে স্থানীয় রাজনীতি এবং কাউকে যুবলীগের রাজনীতি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

    এর উল্টো চিত্রও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কয়েকজন নেতা। তাদের ভাষায়, সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যারা কুলিয়ে উঠতে পারছিলেন না, নতুন নেতা নির্বাচনের বেলায় বয়সসীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্তের পর তারা আলোচনার পুরোভাগে এসেছেন। তবে তুলনামূলক বিচারে এ সংখ্যা একেবারেই কম। যদিও তাদের সবাই সৎ, যোগ্য, ত্যাগী এবং পরীক্ষিত।

    যুবলীগের ৩৫১ সদস্যের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই ৬০ বছর পেরিয়ে গেছেন। কারও কারও বয়স ৭০-এর কোঠা ছাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাও খুঁজে পাওয়া যাবে না, জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদসহ প্রেসিডিয়ামের ২৭ নেতার বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে।

    অথচ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর তারুণ্যনির্ভর যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যুব নেতা শেখ ফজলুল হক মনি। ওই সময়ে তার বয়স ছিল ৩২ বছর। যুবলীগের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে অনুমোদিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ৩৫ বছরের বেশি বয়সী কারও যুবলীগের সদস্য হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না। এরপর ওই বয়সসীমা অনুসরণ করা হয়নি। এবার নতুন করে বয়সসীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

    এদিকে, নতুন আগ্রহ ও উদ্দীপনা নিয়ে নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন পদ-পদবিপ্রত্যাশী নেতারা। তারা চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিজেদের পরিচ্ছন্ন ইমেজ তুলে ধরার চেষ্টা করছেন। কংগ্রেসের মাধ্যমে যুবলীগের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। দুর্নীতি ও নানা অপকর্মে জড়িত বিতর্কিতরা নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়বেন। সৎ, দক্ষ, ত্যাগী, পরীক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতারা প্রাধান্য পাবেন।

    বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে শেখ ফজলুল হক মনি, আমির হোসেন আমু এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। অব্যাহতিপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়। তিনি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। এসব কারণে যুবলীগ কংগ্রেসের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলে সংগঠনের চেয়ারম্যান পদে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য কিংবা আত্মীয়ের নাম আলোচনার পুরোভাগে চলে আসে। আগামীতেও এর ব্যতিক্রম হবে না বলে কেউ কেউ মনে করছেন।

    এমন প্রেক্ষাপটে গত রোববার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেতাদের বৈঠক চলার সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা-১০ আসনের এমপি ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করার খবর চাউর হয়ে পড়ে। অবশ্য পরে তা হয়নি। তবে যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে অধ্যাপক শেখ ফজলে শামস পরশকে চেয়ারম্যান করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসকে আগামীতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    নতুন প্রেক্ষাপটে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আগ্রহ দেখিয়েছেন সংগঠনের প্রেসিডিয়ামের দুই সদস্য আতাউর রহমান ও অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন। তবে যুবলীগ রাজনীতির বাইরে থাকাদের মধ্য থেকেও কাউকে সংগঠনের চেয়ারম্যান নির্বাচনের কথা শোনা যাচ্ছে। সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন সংগঠনের দুই যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সুব্রত পাল, দুই সাংগঠনিক সম্পাদক বদিউল আলম, ফারুক হাসান তুহিন এবং প্রচার সম্পাদক ইকবাল মাহমুদ বাবলু। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত শিকদার ও বাহাদুর বেপারীর নামও এ আলোচনায় রয়েছে।

  • স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিকালে সাক্ষাৎ করবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

    স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিকালে সাক্ষাৎ করবেন ঐক্যফ্রন্টের নেতারা

    কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখতে যাওয়ার অনুমতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা।

    সোমবার বিকাল ৩টায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমতি দিলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবে।

    ঐক্যফ্রন্টের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু এ তথ্য জানান।

    মিন্টু বলেন, জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টের একটি প্রতিনিধিদল সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন।

    রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে অনুষ্ঠিত স্টিয়ারিং কমিটির সভায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে দেখতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

    বিএনপির মিডিয়া উইংয়ের প্রধান শায়রুল কবির খান জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আজই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আবেদন করা হবে।

    সভাশেষে ড. কামাল হোসেন বলেন, ২২ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু সমাবেশের অনুমতি এখনও পাওয়া যায়নি।

    ২১ তারিখে অনুমতি দিলে পর দিন সমাবেশ করা তো কঠিন কাজ। আমরা তো ঐকমত্যের কথা বলছি, সংঘাতের কথা বলছি না। সুতরাং কেন অনুমতি পাওয়া যাবে না। সমাবেশের অনুমতি না দেয়ার মানে তো গণতন্ত্র ধ্বংস করা।

    একাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পর্কে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির নেতা রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ড. কামাল বলেন, ‘দেরিতে হলেও মেনন সত্য কথা বলেছেন। ওই নির্বাচনে কেউ ভোট দিতে পারেনি। সত্য কথা বলার জন্য মেননকে ধন্যবাদ।’

    ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতা আ স ম আবদুর রব বলেন, সভায় নেতারা কারাগারে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমতি দিলে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবে।

    আ স ম রব আরও জানান, এই সরকারের আমলে বুয়েটের ছাত্র আবরারসহ আরও যেসব হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তার বিচারের দাবিতে ঐক্যফ্রন্ট রক্তাক্ষরে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করবে। তারপর তা জাতিসংঘসহ দেশি–বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে।

    ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঐক্যফ্রন্ট নেতা জাফরুল্লা চৌধুরী, গণফোরামের সুব্রত চৌধুরী, রেজা কিবরিয়া, বিএনপির ইকবাল হাসান মাহমুদ, জহির উদ্দিন স্বপন, নাগরিক ঐক্যর মমিনুল ইসলাম, জেএসডির তানিয়া রব ও আব্দুল মালেক রতন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।