Category: রাজনীতি

  • দেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : নাসিম

    দেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে : নাসিম

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতার সঙ্গে যখন শেখ রাসেলকেও হত্যা করা হয়েছিল, তখন আজকের তথাকথিত মানবতাবাদী, মুখচেনা সুশীল সমাজ ও আইনের শাসনের দাবিদাররা নিশ্চুপ ছিলেন। খন্দকার মোস্তাক, জিয়া, বেগম খালেদা জিয়া ও এরশাদ সাহেবরা খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে শেখ রাসেল, বঙ্গবন্ধুসহ জাতীয় চার নেতার হত্যার বিচার করেছে। দেশে এখন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

    শুক্রবার সন্ধ্যায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে দলীয় কার্যালয়ে শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন পালন উপলক্ষে আয়োজিত এক কর্মী সভায় তিনি এ সব কথা বলেন।

    দলের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পরাজিত শক্তি এখনও চক্রান্ত করছে। তাদের চক্রান্ত থেমে নেই। তাদের বিরুদ্ধে সব সময় সজাগ থাকতে হবে।

    কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সভায় সিরাজগঞ্জ জেলা ও কাজিপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

  • জনগণের তাড়া খেয়ে পালানোর পথ পাবেন না: ফখরুল

    জনগণের তাড়া খেয়ে পালানোর পথ পাবেন না: ফখরুল

    সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় যত্নবান হউন, নইলে বিদেশি প্রভুরা আপনাদের পতন ঠেকাতে পারবে না। জনগণের তাড়া খেয়ে পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।

    মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। ফেনী পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক কাউন্সিলর বাবুলের ওপর হামলার প্রতিবাদে তিনি বিবৃতি দেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী সরকারের দেশ পরিচালনায় সীমাহীন ব্যর্থতা, প্রশাসনিক কাজে চরম অদক্ষতা সৃষ্টি হয়েছে। তারা সন্ত্রাসী ও পুলিশ-র‌্যাব দিয়ে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারকে হরণ করেছে। সরকারি দলের নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণেই একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটছে।

    তিনি বলেন, দেশে চরম জনদুর্ভোগ চলছে, আইনের শাসন ভূলুণ্ঠিত, দেশের মানুষ অনিশ্চয়তার অন্ধকারে ধাবিত হচ্ছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় সরকারের উদাসীনতার ফলেই দেশে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

  • বিএনপি আবরার হত্যাকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়: কাদের

    বিএনপি আবরার হত্যাকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়। তারা আসলে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চায় না।

    আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিজ অফিসে সমসাময়িক বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এ কথা বলেন।

    সেতুমন্ত্রী বুয়েট ছাত্রদের আন্দোলন ছেড়ে লেখাপড়ায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি আবরার হত্যাকাণ্ডকে আন্দোলনের ইস্যু করতে চায়। সরকার বুয়েটের ছাত্রদের সব দাবি মেনে নিয়েছে। আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আবরারের মা–বাবাকে এ ঘটনার বিচার দ্রুত হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

    বিএনপি তাদের দলের নেত্রী খালেদা জিয়ার চিকিৎসার কথা যতটা ভাবছে, তার চেয়ে বেশি দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টির কথা ভাবছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশে সহিংসতা করলে অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করে দেওয়া সমাধান নয়। তবে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি বন্ধ হলে সে ব্যাপারে সরকারের কোনো আপত্তি নেই। কারণ, এটি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিষয়।

    ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা দেশে অপরাধ করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ছাড় দেওয়া হবে না। যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠবে, তাঁরা ভবিষ্যতে মনোনয়ন পাবেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গুটি কয়েক লোকের কারণে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অর্জন ম্লান হতে দেওয়া যায় না। অপরাধীদের মাথায় যারা ছাতা ধরবে, তাদেরও ছাড় দেওয়া হবে না এবং যার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি ।

    আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত কমিটিতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের স্থান দেওয়া হবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এটি আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ। এ ব্যাপারে আমরা সতর্ক রয়েছি।’ অপর এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রামে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হবে বলেও জানান সেতুমন্ত্রী।

  • শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয়কেতন উড়ছে: তথ্যমন্ত্রী

    শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের বিজয়কেতন উড়ছে: তথ্যমন্ত্রী

    ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে জলে-স্থলে-অন্তরিক্ষে আজ বাংলাদেশের বিজয়কেতন উড়ছে’ বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির চিত্রশালা মিলনায়তনে ‘শেখ হাসিনা: বাংলাদেশের স্বপ্নসারথি’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও শিল্পকর্মের মাসব্যাপী প্রদর্শনী উপলক্ষে আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    বিজ্ঞপ্তিতে কথা বলা হয়েছে, হাছান মাহমুদ বলেন, ‘বিনা রক্তপাতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ভারত-মিয়ানমারের কাছ থেকে আমাদের যে সমুদ্রসীমা হিস্যা আদায় করেছি, তার আয়তন প্রায় দেশের সমান। ৬৮ বছরের পুরোনো ছিটমহল সমস্যা সমাধান করে জয় করেছি স্থলসীমা, মহাকাশে বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে নিজ কক্ষপথে চলছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট, এভাবে জলে-স্থলে-অন্তরিক্ষে উড়ছে বাংলাদেশের বিজয়কেতন।’

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথা বলেন। আজকে সমস্ত সূচকে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে বহুদূর এগিয়েছে। আমরা অনেক সূচকে ভারতকেও পেছনে ফেলেছি। বিশেষ করে সামাজিক সূচক এবং মানব উন্নয়ন সূচকে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ। আজকে বিশ্ব খাদ্য সংস্থাকেও অবাক করে দিয়ে দেশ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। আমরা সবজি উৎপাদনে বিশ্বে ৩য়, মৎস্য উৎপাদনে ৪র্থ, আলু উৎপাদনে ৭ম। ছোট্ট দেশ এভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে সক্ষমতা প্রদর্শন করেছে, এটি আজকে পৃথিবীর সামনে একটি উদাহরণ। বিশ্বনেতারা আজকে প্রশংসায় পঞ্চমুখ।’

    সভা শেষে তথ্যমন্ত্রী অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশের ওপর চিত্র ও শিল্পকর্মগুলো নিবিষ্টভাবে ঘুরে দেখে শিল্পীদের প্রশংসা করেন।

    শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত আলোচনা সভায় জাতীয় অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন।

  • স্বেচ্ছাসেবা ছাড়া সবকিছুতে আগ্রহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের

    স্বেচ্ছাসেবা ছাড়া সবকিছুতে আগ্রহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের

    স্বেচ্ছাপ্রণোদিত হয়ে বিনা বেতনে যে ব্যক্তি সেবা দান করেন, তিনি স্বেচ্ছাসেবক। তবে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাদের সেদিকে আগ্রহ নেই। তাঁদের আগ্রহ রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে ব্যবসা-ঠিকাদারিসহ টাকা কামাইয়ের নানা কার্যক্রমে। সে কারণে দুর্যোগ বা দুর্ঘটনায় তাঁদের সেবা দিতে দেখা যায় না। এর নেতাদের দাবি, তাঁরা দলীয় কর্মসূচিতে সেবা দেন।

    আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্র, মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেছে। তাঁরা বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ মূলত সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের পুনর্বাসনকেন্দ্র। এ সংগঠনের প্রায় ৯৫ শতাংশ নেতা ছাত্রলীগ থেকে আসা। ছাত্রলীগ থেকে বের হওয়ার পর যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের কমিটিতে যেতে মাঝখানে লম্বা সময় পরিচয়হীন থাকতে হতো আগে। এই সময়টায় তাঁরা স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতি করেন।

    রাজধানী ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা আছেন প্রায় আট হাজার। সারা দেশে জেলা, থানা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন মিলে সংগঠনের নেতার সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের বেশি। এখন প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন করার উদ্যোগ নিয়েছে এ সংগঠন। এসব কমিটি হয়ে গেলে নেতার সংখ্যা ১৮ লাখ ছাড়াবে। স্বেচ্ছাসেবক লীগের মতোই রাজধানীতে কৃষক লীগের পদধারী নেতাই আছেন প্রায় ৮ হাজার। যদিও এখানে কোনো কৃষিজমি বা কৃষক নেই।

    স্বেচ্ছাসেবক লীগ কী করে, জানতে চাইলে এর কেন্দ্রীয় ও ঢাকা মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন নেতা প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগের সমাবেশে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করেন তাঁরা। আওয়ামী লীগের যেকোনো কর্মসূচি, বিভিন্ন দিবসে কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এবার বন্যায় ত্রাণ ও ডেঙ্গু সচেতনতায়ও কাজ করেছে বলে দাবি করেন এর নেতারা, তবে সেটা খুব দৃশ্যমান ছিল না। যদিও এ দুটি বিষয় ছিল আওয়ামী লীগের ঘোষিত কর্মসূচি।

    স্বেচ্ছাসেবক লীগে সাড়ে তিন লাখের বেশি নেতা।
    ক্যাসিনো-কাণ্ডে আলোচিত সংগঠনের সভাপতি।
    পরিবহন ব্যবসায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক।

    আওয়ামী লীগের সহযোগী হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে জন্ম নিয়েছিল স্বেচ্ছাসেবক লীগ। তবে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডই তাঁদের মুখ্য কাজ। তিনি বলেন, ‘আমরা তো সেবা দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষিত শক্তি নই। আমরা রাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবক।’

    ২০১৫ সালে কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর আরামবাগের ওয়ান্ডারার্স ক্লাবে ক্যাসিনো চালু করেন যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিনুল হক ওরফে সাঈদ। তাঁর আগে থেকেই এ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে আছেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার। এ ক্লাবে র‍্যাবের অভিযানের পর ক্যাসিনো-কাণ্ডে মোল্লা কাওসারের সংশ্লিষ্টতার খবর ছড়িয়ে পড়ে। যদিও তিনি প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, খেলাধুলার ক্লাব হিসেবেই তিনি যুক্ত ছিলেন। ক্যাসিনো বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না।

    এদিকে চলমান অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া যুবলীগ নেতা ও ঠিকাদার জি কে শামীমের সঙ্গেও মোল্লা কাওসারের ঘনিষ্ঠতার খবর জানা গেছে একাধিক সূত্রে। একচেটিয়া গণপূর্ত বিভাগের কাজের দরপত্র নিয়ন্ত্রণে জি কে শামীমকে সহযোগিতা করার অভিযোগ আছে মোল্লা কাওসারের বিরুদ্ধে। অস্ত্র ও মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় রিমান্ড শুনানির জন্য ২ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আদালতে নেওয়া হলে মোল্লা কাওসারের খোঁজ করেন জি কে শামীম। তাঁর আইনজীবীদের কাছে তিনি জিজ্ঞেস করেন, ‘মোল্লা কাওসার কোথায়? সে আসেন নাই?’ ওই সময় একজন উত্তর দেন, ‘উনি তো নিজেই দৌড়ের ওপরে আছেন। উনি কী করে আসবেন!’

    এ বিষয়ে মোল্লা কাওসার প্রথম আলোকে বলেন, জি কে শামীম কেন তাঁকে খোঁজ করেছেন, এ বিষয়ে তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। তবে রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অনেকের সঙ্গেই পরিচয় থাকতে পারে।আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পর ২০০৯ সালে ঢাকায় পরিবহন ব্যবসা শুরু করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ। বিহঙ্গ নামে পরিচালিত তাঁর পরিবহন একটি রুট নিয়ে শুরু করে ব্যবসা। গত বছর পর্যন্ত ৫টি রুটে ২৪০টি বাস চলছে তাঁর কোম্পানির।

    স্বেচ্ছাসেবকদের ঠিকাদারি
    স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যবসায়ী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছে ঠিকাদারি পেশা। সারা দেশেই এ সংগঠনের নেতারা বিভিন্ন ক্ষেত্রের ঠিকাদারির সঙ্গে জড়িত। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (সিভিল এভিয়েশন) উন্নয়নকাজে যে তিনজন ঠিকাদার সবচেয়ে প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন, তাঁদের একজন হলেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মতিউর রহমান ওরফে মতি। আরেক সহসভাপতি ম. আবদুর রাজ্জাক পানি উন্নয়ন বোর্ড ঠিকাদার সমিতির সভাপতি। সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল আলিম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে ঠিকাদারি করেন।

    ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোবাশ্বের হাসান চৌধুরী ঢাকা উত্তর সিটির ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। উত্তর সিটি করপোরেশনে ঠিকাদারি করেন তিনি। একই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুর রহমান খান হলেন ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর। খামারবাড়ির বিভিন্ন কার্যালয়ে ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ আছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঢাকা দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ বিশ্বাস ও সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমানও ঠিকাদারী-বাণিজ্যে যুক্ত বলে জানা গেছে। আরিফুর রহমান উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডিরও সভাপতি।

    বিদেশে শাখা খোলায় আগ্রহ
    বিদেশে শাখা খোলায় বাড়তি আগ্রহ দেখা গেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের। যেসব দেশে প্রবাসী বেশি, সেখানেই শাখা খুলেছে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ফ্রান্স, ইতালিসহ ১৫টি দেশে শাখা আছে স্বেচ্ছাসেবক লীগের। বিদেশে শাখা খোলার বিষয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ প্রথম আলোকে বলেন, সংগঠনের সভাপতি বিভিন্ন দেশ সফরের সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিদেশ কমিটি করেছেন।

    মূল জায়গায় নেই
    আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪-দলীয় জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম প্রথম আলোকে বলেন, স্বেচ্ছায় সেবা দেওয়ার জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগ করা হয়েছিল। কিন্তু এ সংগঠনও ছাত্রলীগ, যুবলীগের মতো হয়ে গেছে। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে গিয়ে মূল জায়গা থেকে সরে গেছে। এটিকে মূল জায়গায় ফিরিয়ে আনা দরকার।

    ২৫ বছরে সম্মেলন দুবার
    স্বেচ্ছাসেবক লীগের জন্ম ১৯৯৪ সালে। এরপর আহ্বায়ক কমিটি পার করে দেয় ৯ বছর। ২০০৩ সালে প্রথম কমিটি হয় সংগঠনটির। এর ৯ বছর পর ২০১২ সালে হয় দ্বিতীয় কমিটি। ৭ বছর পর এখন হতে যাচ্ছে তৃতীয় সম্মেলন। গঠনতন্ত্র অনুসারে তিন বছর পরপর সম্মেলন করার কথা থাকলেও গত ২৫ বছরে হয়েছে মাত্র দুটি। ঢাকা মহানগরের বর্তমান দুটি কমিটির বয়স ১৩ বছর। বিভিন্ন থানা ও জেলা কমিটি পার করে দিয়েছে ১৫ থেকে ১৬ বছর। গত ৭ বছরে ৭৯টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৪৫টি কমিটি নতুন করে করতে পেরেছে বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি।

    প্রসঙ্গত, ১৯৬৯ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের স্বেচ্ছাসেবক বিভাগ ছিল। যার প্রধান ছিলেন প্রয়াত কেন্দ্রীয় নেতা আবদুর রাজ্জাক।

    সাংসদ হয়েছেন আটজন
    স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতিতে থেকে এ পর্যন্ত সাংসদ হয়েছেন আটজন। এ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে প্রথম সাংসদ হন সংগঠনের প্রথম কমিটির আহ্বায়ক মকবুল হোসেন। ১৯৯৬-২০০১ সময়ে ঢাকার অন্যতম আলোচিত-সমালোচিত সাংসদ ছিলেন তিনি। ২০০১-এর নির্বাচনে তিনি জিততে পারেননি। এরপর আর নির্বাচন করা হয়নি তাঁর। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন (নাছিম), সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সাইমুম সরওয়ার (কমল), আশেক উল্লাহ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা ছিলেন। এঁরা সবাই সাংসদ ছিলেন বিভিন্ন সময়। সংরক্ষিত আসনে সাংসদ হয়েছিলেন এ সংগঠনের উম্মে রাজিয়া (কাজল)। বর্তমান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন একসময় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলেন। তবে এ সংগঠনের নেতাদের মধ্যে বর্তমানে সংসদে আছেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক পংকজ নাথ।

    লেখক ও গবেষক সৈয়দ আবুল মকসুদ প্রথম আলোকে বলেন, দুর্যোগ বা মানবতার সেবার জন্য মূল দলেই দায়িত্বশীল নেতা আছেন। এরপরও আরেকটা সংগঠন করে কিছু লোকের আয়-রোজগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এঁরা দলের লাঠিয়াল হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের কোনো ভূমিকা নেই। তাঁরা রাজনৈতিক পদ ব্যবহার করে ফায়দা আদায় করে নেন।

  • খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির মশাল মিছিল

    খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে বিএনপির মশাল মিছিল

    কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আজ সন্ধ্যায় রাজধানীর নয়াপল্টনে মশাল মিছিল করেছে বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে মিছিলটি নয়াপল্টন বিএনপির কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

    সমাবেশে রিজভী বলেন, সরকার প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বেগম খালেদা জিয়াকে কারাবন্দি রেখে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তার শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হলেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, রাতে ভোট ডাকাতি করে ক্ষমতায় বসে এই ক্ষমতাকে সুরক্ষিত রাখতে এই সরকার প্রতিবেশী দেশকে সব উজাড় করে দিচ্ছে। এই সরকারের কাছে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব কোনো কিছু বড় নয়, বড় হলো ক্ষমতায় থাকা। আর ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখতেই বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তবে দেশের মানুষ সংঘবদ্ধ হচ্ছে এই ভোট ডাকাতদের বিরুদ্ধে। পতনের সময় ঘনিয়ে আসছে। রিজভী অবিলম্বে বেগম জিয়ার মুক্তির দাবি জানান।

    মিছিলে নেতাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আবু আশফাক, যুবদলের ঢাকা দক্ষিণের গোলাম মাওলা শাহীন প্রমুখ অংশ নেন। মিছিল শেষে বাড়ি ফেরার পথে পল্টন থানা পুলিশ কয়েকজনকে আটক করে।