Category: রাজনীতি

  • রাজশাহী জেলা আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদককে ফের ঢাকায় তলব

    রাজশাহী জেলা আ’লীগ সভাপতি-সম্পাদককে ফের ঢাকায় তলব

    রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদকে ফের ঢাকায় তলব করেছে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

    প্রকাশ্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দ্বন্দ্ব ও একে অন্যকে দোষারোপ করে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার জেরে তাদের তলব করা হয়। এর আগে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে দলের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে তাদের তলব করা হয়েছিল।

    রোববার রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমিতে আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সমাবেশে এ তথ্য জানান দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক।

    সমাবেশে রাজশাহী বিভাগের আটটি জেলার আওয়ামী লীগের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকরা বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেও ওমর ফারুক ও আসাদকে বক্তব্য দিতে দেননি কেন্দ্রীয় নেতারা। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে রোববারের সমাবেশে বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হয়েছে। তাদের ঝগড়া-বিবাদের সমাধান সূত্র বের করতে আগামী ৫ নভেম্বর রাজধানীর ২৩, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ কার্যালয়ে জেলা কমিটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে বলেও তিনি জানান।

    এর আগে গত ৬ জুলাই শহীদ কামারুজ্জামান মিলনায়তনে জেলা আওয়ামী লীগের এক সভায় বক্তৃতাকালে ওমর ফারুককে রাজাকারের সন্তান বলে সম্বোধন করেন আসাদুজ্জামান আসাদ।

    ওই সময় তিনি বলেন, রাজাকারের সন্তান ওমর ফারুক আমার নামে কেন্দ্রে নালিশ করেছে। তার মতো নেতারা দলে থাকলে দেশে আবার ‘৭৫ হতে দেরি হবে না।

    ওমর ফারুক ছাত্র অবস্থায় ফ্রিডম পার্টির নেতা ছিলেন বলেও সে সময় দাবি করেন আসাদ। এর পর থেকে ফের প্রকাশ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয় তাদের। ফারুক চৌধুরী এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশও করেন।

  • ‘বুড়োলীগ’ থেকে বের হতে পারবে যুবলীগ!

    ‘বুড়োলীগ’ থেকে বের হতে পারবে যুবলীগ!

    আওয়ামী যুবলীগের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ‘বুড়ো’রা কি বিদায় নিচ্ছেন? ক্যাসিনো ও দুর্নীতিবিরোধী সাম্প্রতিক অভিযান এবং সংগঠনের সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস সামনে রেখে এ প্রশ্নটি এখন ঘুরেফিরেই আসছে। আগামী ২৩ নভেম্বর শনিবার সকাল ১১টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে যুবলীগের কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হবে।

    বেশ কিছু দিন ধরেই যুবলীগ নেতাদের বয়স নিয়ে নানামুখী মুখরোচক আলোচনা চলছে। অনেকেই বর্তমান কমিটির বুড়িয়ে যাওয়া নেতৃত্বের সমালোচনায় মুখর। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন মন্তব্য করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ছাত্রলীগের মতো যুবলীগের নেতৃত্বে আসার বেলায় বয়সসীমা বেঁধে দেওয়ার গুজব-গুঞ্জন রয়েছে।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর বয়স ৭১ পেরিয়েছে। ৩৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটিতে হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া সবাই ৬০ বছর পেরিয়ে গেছেন। কারও কারও বয়স ৭০-এর কোঠা ছাড়িয়েছে। সর্বোচ্চ পাঁচজন কেন্দ্রীয় নেতাও খুঁজে পাওয়া যাবে না, জাতীয় যুবনীতি অনুযায়ী যাদের বয়স ৩৫ বছরের নিচে।

    সংগঠনের প্রেসিডিয়ামের ২৭ নেতার মধ্যে বেশিরভাগেরই বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ড. মীজানুর রহমান, শেখ শামসুল আবেদীন, চয়ন ইসলাম, ড. আহমদ আল কবির, আলতাফ হোসেন বাচ্চু, জাহাঙ্গীর কবির রানা, সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, শাহজাহান ভূঁইয়া মাখন, প্রকৌশলী নিখিল গুহ ও সৈয়দ মাহামুদুল হক।

    প্রেসিডিয়ামের অন্য সদস্যরাও এরই মধ্যে ৫০ বছর পেরিয়ে এসেছেন। তারা হচ্ছেন- আবুল বাশার, মোহাম্মদ আলী খোকন, আনোয়ারুল ইসলাম, অধ্যাপক এবিএম আমজাদ হোসেন, অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু ও ডা. মোখলেছুজ্জামান হিরু। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদের বয়স ৬০-এর ওপরে।

    নাসরিন জাহান চৌধুরী শেফালী ছাড়া পাঁচ যুগ্ম সম্পাদকও ৫০ ছাড়িয়েছেন। নয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে সালাউদ্দিন মাহমুদ জাহিদ ও আমির হোসেন গাজীর বয়স ৬০-এর কোঠায়। অন্যদের বয়সও ৫০ পেরিয়েছে। ২৫ জন সহ-সম্পাদক এবং ৪১ জন কার্যনির্বাহী সদস্যের মধ্যে বেশিরভাগ নেতার বয়স ৬০ পেরিয়ে গেছে। কেন্দ্রীয় সদস্যদেরও বয়স গড়ে ৫৫ বছরের ওপরে।

    অর্থাৎ বর্তমানে আওয়ামী যুবলীগের নেতৃত্বে যুবক নেই। বুড়োরাই আছেন। এই বুড়োদের নেতৃত্বেই চলছে যুবকদের সংগঠন যুবলীগ। অথচ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে ১৯৭২ সালের ১১ নভেম্বর তারুণ্যনির্ভর যুবলীগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি। ওই সময়ে তার বয়স ছিল ৩২ বছর।

    যুবলীগের প্রথম জাতীয় কংগ্রেসে অনুমোদিত গঠনতন্ত্রে সংগঠনের সদস্য হওয়ার বেলায় বয়সের বাধ্যবাধকতা ছিল। ওই সময়ে ৩৫ বছরের বেশি বয়সী যুবক এবং যুবার যুবলীগের সদস্য হওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না বলে জানিয়েছেন সংগঠনের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ। এরপর দীর্ঘ সময় ওই বয়সসীমা অনুসরণ করা হয়নি। উল্টোটা হয়েছে।

    ২০১২ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠ কংগ্রেসে অনুমোদিত সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, যে কোনো যুবক ও যুবার যুবলীগের সদস্য হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে বয়সসীমা সুনির্দিষ্ট করা হয়নি। এই সুযোগেই যে কোনো বয়সের ব্যক্তিরা যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এর মধ্য দিয়েই যুবকদের সংগঠন যুবলীগ মূলত বুড়োদের সংগঠনে রূপ নিয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে লেখক ও সাংবাদিক সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, স্বাভাবিক কাণ্ডজ্ঞান থাকলে যুব সংগঠনের নেতৃত্বে বুড়োরা থাকত না। আর যুব সংগঠনের দরকারও নেই। এটা মূল দলের কাজেও আসে না। মূল দলের অনেক নেতার বয়স ৪০ বছর। অথচ এর দ্বিগুণ বয়সীরা যুব সংগঠনে রয়েছে। তিনি যুব সংগঠনের সদস্যদের বয়স ৩৫ বছরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন।

    যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ সমকালকে বলেছেন, সংগঠনের সদস্যদের বয়স-সংক্রান্ত নীতিমালায় পরিবর্তন আনাটা জরুরি হয়ে পড়েছে। এ জন্য গঠনতন্ত্র সংশোধন করতে হবে। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই মুহূর্তে সংগঠনের গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা খুব একটা নেই বলে বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন।

    এদিকে যুবলীগের কংগ্রেস নিয়ে দেশজুড়ে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে কোনো ধরনের আগ্রহ ও উদ্দীপনা দেখা না গেলেও পদ-পদবি পেতে আগ্রহী নেতারা নানামুখী তৎপরতা শুরু করেছেন। এই তৎপরতায় এবার ভিন্ন ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহী নেতারা চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের প্রেক্ষাপটে নিজেদের পরিচ্ছন্ন হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছেন।

    তবে এবারের কংগ্রেসের মাধ্যমে যুবলীগের নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। চলমান দুর্নীতিবিরোধী শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলনও ঘটবে কংগ্রেসে। অর্থাৎ দুর্নীতি ও নানা অপকর্মে জড়িত বিতর্কিত নেতারা নেতৃত্ব থেকে ছিটকে পড়বেন। কমপক্ষে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন নেতা নির্বাচনের বেলায় সৎ, দক্ষ, ত্যাগী, পরীক্ষিত, উচ্চ শিক্ষিত ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে। তাদের বয়স হবে ৬০ বছরের কম।

    বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের মধ্যে শেখ ফজলুল হক মনি, আমির হোসেন আমু এবং শেখ ফজলুল করিম সেলিম যুবলীগের চেয়ারম্যান ছিলেন। বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীও বঙ্গবন্ধু পরিবারের আত্মীয়। তিনি শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ভগ্নিপতি। এ কারণে সব সময়ই যুবলীগ কংগ্রেসের দিনক্ষণ ঘনিয়ে এলে সংগঠনের চেয়ারম্যান পদে বঙ্গবন্ধু পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য কিংবা আত্মীয়ের নাম আলোচনার পুরোভাগে চলে আসে।

    এবারও এর ব্যতিক্রম হচ্ছে না। ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস ও শেখ ফজলুর রহমান মারুফের নাম চাউর হয়ে আছে। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা-১০ আসনের এমপি ও শেখ ফজলুল হক মনির ছেলে। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং শেখ ফজলুল হক মনির ভাই। শেখ ফজলুল করিম সেলিম এমপির ছেলে ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইমের নামও আলোচনায় রয়েছে।

    এই তিনজনের বাইরে যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য মির্জা আজমের নাম শোনা যাচ্ছে। যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মির্জা আজম জামালপুর-৩ আসনের এমপি। এ ছাড়াও যুবলীগ প্রেসিডিয়ামের দুই সদস্য অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান শহিদ (শহীদ সেরনিয়াবাত) ও মজিবুর রহমান চৌধুরী আলোচনায় রয়েছেন।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান পদে আলোচিত এই নেতাদের মধ্যে বয়সের দিক থেকে সবার ছোট ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নাইম। দু’জনেরই বয়স ৫০ বছরের কম। মির্জা আজমের বয়স ৫৭। শেখ ফজলুর রহমান মারুফ, অ্যাডভোকেট সাইদুর রহমান শহিদ (শহীদ সেরনিয়াবাত) এবং মজিবুর রহমান চৌধুরীর বয়স ৬০-এর বেশি।

    সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্যদের তালিকায় রয়েছেন প্রেসিডিয়ামের পাঁচ সদস্য ফারুক হোসেন, মাহাবুবুর রহমান হিরন, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান, অ্যাডভোকেট বেলাল হোসাইন, দুই যুগ্ম সম্পাদক মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, সুব্রত পাল ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল। তাদের মধ্যে ফারুক হোসেন, মাহাবুবুর রহমান হিরন ও আব্দুস সাত্তার মাসুদ ষাটোর্ধ্ব। অন্যদের বয়স গড়ে ৫০ থেকে ৫৫ বছর।

    যুবলীগের কয়েকজন সাবেক চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুবলীগের কংগ্রেস নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তাদের কথা বলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেটা হলে তারা যুবলীগের বর্তমান পরিস্থিতি এবং কংগ্রেস আয়োজনের কার্যক্রম নিয়ে কথা বলবেন।

    কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেছেন, যুবলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা নেতাদের কেউ কেউ নিজেদের অপকর্মের কারণে এরই মধ্যে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছেন। তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে যুবলীগও অনেকাংশে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ব্যাংক হিসাব তলব করায় বিপাকে পড়েছেন সংগঠনের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী। তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি জাতিসংঘের অধিবেশনে যোগদান শেষে দেশে ফেরার পর গণভবনে সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করলেও যুবলীগ চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেননি। ভারত সফরের আগে ও পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে নেতাদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়েও একই ঘটনা ঘটেছে।

    এদিকে, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সমকালকে জানিয়েছেন, জাতীয় কংগ্রেসের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুবলীগ। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কংগ্রেস করতে না পারলে কমিটি ভেঙে দেওয়া হবে।

  • ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে বন্দুক দিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না’

    ‘মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে বন্দুক দিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না’

    মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অধিকারকে বন্দুক আর পুলিশ দিয়ে বঞ্চিত করা যাবে না মন্তব্য করে গণফোরাম সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, যে সরকারি দল আছে, শাসন করছে, এই দলে তো আমরা সবাই ছিলাম। ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছি বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে। কিন্তু সেই দলের নাম নিয়ে যা হচ্ছে তাতে বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন, মুক্তিযোদ্ধাদের অসম্মান করা হচ্ছে।

    বুয়েটের আবরার হত্যার প্রতিবাদে রবিবার বিকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে নাগরিক সভা ও শোকর‌্যালির অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ড. কামাল হোসেন বলেন, সবার চাওয়া প্রধানমন্ত্রী যেন দেশ শাসন করা থেকে সরে দাঁড়ান। আমি সাক্ষী দেব তৃতীয়বার আপনাকে কেউ নির্বাচিত করে নাই। আপনি স্বঘোষিত প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আপনি দ্রুত সরে যান।

    আবরারের হত্যাকারীদের পশু উল্লেখ করে গণফোরাম সভাপতি বলেন, এই বাংলার ছেলেরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিল। স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল, এরা সাহসী ছিল। এদের বানানো হচ্ছে পশু।

  • ‘সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান’

    ‘সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান’

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘যার যেখানে অবস্থান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, জুয়াড়ি, ভূমিদস্যু, টেন্ডারবাজ, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীরা সাবধান। শেখ হাসিনার এ্যাকশন শুরু হয়েছে, এই এ্যাকশনের টার্গেট থেকে কোনো অপকর্মকারী রেহাই পাবে না।’ রবিবার বিকেলে রাজশাহী শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘স্বাধীন বাংলাদেশে এই প্রথম নিজের দলের ভেতর থেকেই শুদ্ধি অভিযানের মতো সৎ সাহস দেখিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের দলের অপরাধীকে শাস্তি দেওয়ার মতো সাহস এদেশের আর কোনো শাসক অতীতে দেখাতে পারেন নি। হাওয়া ভবন বলেন, খাওয়া ভবন বলেন, আজ যারা বড় বড় কথা বলেন, গলাবাজি করেন তাদের কেউই নিজ দলের অপকর্মে লিপ্তদের বিচার করতে পারেন নি, শাস্তি দেয়ায় সৎ সাহস দেখাতে পারেন নি। তা পেরেছেন কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’

    আওয়ামী লীগের নামে বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্তদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘কেবল ঢাকা নয়, সারাদেশেই শুদ্ধি অভিযান চলছে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, ভূমিদস্যু ও মাদক ব্যবসায়ীরা কেউ এ অভিযান থেকে রেহাই পাবে না। বঙ্গবন্ধু আইন করে নিষিদ্ধ করলেও জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখলের পর ক্যাসিনো, মদ, জুয়ার বৈধতা দিয়েছিলো।’

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আপনি বলেছেন, সরকার এখন খাদের কিনারে! আমি বলতে চাই, মির্জা ফখরুল সাহেব, আজকে বড় বড় কথা বলেন। বুকে হাত দিয়ে বলুন, হাওয়া ভবন, খাওয়া ভবন, লুটেরা ভবন, সারা বাংলাদেশকে লুট করেছেন। খুনে খুনে বাংলাদেশ রক্তনদী হয়ে গেছে। লাশে লাশে বাংলাদেশ, লাশের পাহাড় হয়ে গেছে। বিচার কি হয়েছে? শাস্তি কি কেউ পেয়েছে? আপনারা হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে যে দলকে নিঃশেষ করতে পারেন নি, সেই দল কখনো খাদের কিনারে যেতে পারে না। বরং আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ, স্বৈরাচারী ও স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির পৃষ্ঠপোষক বিএনপিই এখন খাদের কিনারে অবস্থান করছে।’

    ক্যাসিনো প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজকে ক্যাসিনোর কথা বলেন, গডফাদারের কথা বলেন। এসবের সৃষ্টি কারা করেছে? বঙ্গবন্ধু মদ, জুয়া আইন করে বন্ধ করেছিলেন। জিয়াউর রহমান সেটা চালু করেছেন। এ জুয়ার স্রষ্টা হচ্ছেন আপনারা। ড্রাগের দিকে এ দেশের তরুণদেরকে ঠেলে দিয়েছেন আপনারা। বড় বড় কথা বলেন কোন মুখে!’

    আওয়ামী লীগের নেতায় নেতায় দ্বন্দ্ব নিয়ে দলের সম্পাদক বলেন, ‘ঘরের মধ্যে ঘর করবেন না। মশারির মধ্যে মশারি খাটাবেন না। দুঃসময়ের ত্যাগী নেতাকর্মীদের কোণঠাসা করে আওয়ামী লীগ টিকে থাকতে পারে না। আজকে বসন্তের কোকিলরা যদি দলের নেতৃত্ব নেয়, তারা যদি প্রাধান্য পায়, আবারো দুঃসময় আসতে পারে। আবারো দুর্যোগ আসতে পারে। আবারো অমানিশা আসতে পারে। সে সময় হাজার পাওয়ারের বাতি জ্বালিয়েও এই সুবিধাবাদি অপকর্মকারীদের খুঁজে পাওয়া যাবে না।’

    তিনি বলেন, ‘খারাপ লোকের আমাদের দরকার নেই। ক্লিন ইমেজের পার্টি দরকার, আগামী জাতীয় কাউন্সিলকে সামনে রেখে আমরা আমাদের দলকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন মডেলে ঢেলে সাজাতে চাই। আমরা ক্লিন ইমেজের নেতৃত্ব গড়ে তুলতে চাই সারাদেশে। খারাপ ইমেজের লোক, যাদের ভাবমূর্তি নেই, এই সব লোকদের দলে টেনে পাল্লা ভারি করে কোনো লাভ নেই। দুষ্টু গরুর চেয়ে শূন্য গোয়াল ভাল। আমার দুষ্টু গরুর দরকার নেই।’

    আগামী জাতীয় কাউন্সিলের আগেই সকল মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন করার তাগিদ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূলের মেয়াদ উত্তীর্ণ সকল কমিটি করতে হবে। এ নিয়ে কারও গাফিলতি সহ্য করা হবে না। যারা পদ পেয়ে ছাড়তে চান না তারা মনে রাখবেন আওয়ামী লীগে শেখ হাসিনা ছাড়া আমরা কেউই অপরিহার্য নয়। কোনো পদ কারও কাছে লিজ দেওয়া হয়নি। পরিষ্কার বলে দিতে চাই, আজকে প্রভাব খাটাবেন, জোর করে পদ দখল করে রাখবেন, মনে হয় যেন মৃত্যুর আগে পদ ছাড়বেন না। এ রকম লোকও আছেন। আমরা স্মার্ট আওয়ামী লীগ চাই। আরও আধুনিক আওয়ামী লীগ চাই, বিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ চাই। দূষিত রক্ত চাই না। দূষিত রক্ত বের করে দিয়ে আবার আওয়ামী লীগের সকল পর্যায়ে বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করতে হবে।’

    এখনও ষড়যন্ত্র চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘যারা আন্দোলনে ব্যর্থ, নির্বাচনে ব্যর্থ তারা দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র করছে। অথচ বাংলাদেশে গত ৪৪ বছরে সবচেয়ে যোগ্য, সৎ ও সফল নেতা শেখ হাসিনা যিনি মৃত্যু মেশিনে দাঁড়িয়ে জীবনের গান গান। যিনি মৃত্যুকে কখনো পরোয়া না করে দেশের দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চান।’

    তিনি বলেন, ‘বিশ্বের দুইজন সেরা রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন, বিশ্বের তিনজন সৎ সরকার প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন, বিশ্বের চারজন পরিশ্রমী সরকার প্রধানের মধ্যে শেখ হাসিনা একজন এবং ১০ জন প্রথম সারির নেতার মধ্যে শেখ হাসিনা একজন।’ এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি বন্ধের পক্ষে নয়। তবে যারা ছাত্র রাজনীতির নামে অপকর্ম করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। রাজনীতিবীদদের অধিকাংশেরই হাতে খড়ি ছাত্র রাজনীতি থেকে। কাজেই মাথা ব্যাথা হলে মাথা কেটে ফেলা সমাধান নয়।’

    রবিবার সকালে একদিনের সরকারি সফরে আসেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। রাজশাহী সার্কিট হাউজে তাকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

    যুবলীগের চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘চেয়ারম্যান নজরদারিতে আছে কি না তা পরে জানা যাবে। তিনি আত্মগোপনে নেই। তবে যেসব যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, তারা নজরদারিতে আছেন।’

    এরপর রাজশাহী সার্কিট হাউসে রাজশাহী বিভাগের সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে উন্নয়ন সমন্বয় সভায় যোগদান করেন ওবায়দুল কাদের। সভা শেষে তিনি দলের প্রতিনিধি সভায় যোগ দেন। সেখান থেকে তিনি সরাসরি বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রাজশাহী ত্যাগ করেন।

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়ামের অন্যতম সদস্য এবং ১৪ দলের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে এবং দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, রাসিক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. রোকেয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় সদস্য নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, প্রফেসর মেরিনা জাহান ও আমিরুল আলম মিলন। এছাড়া রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, নওগাঁ জেলার সভাপতি আব্দুল মালেক, জয়পুরহাট জেলার সাধারণ সম্পাদক সোলায়মান হোসেন, নাটোর জেলার সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিমুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইন উদ্দিন মন্ডল, সিরাজগঞ্জ জেলার সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস, পাবনা জেলার সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক প্রিন্স ও বগুড়া জেলার সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান সভায় বিভিন্ন অভিযোগ এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের চিত্র তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া প্রতিনিধি সভায় খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইয়েদ আহমেদ পলক, রাজশাহী বিভাগ থেকে নির্বাচিত দলের সকল সাংসদসহ রাজশাহী বিভাগের সকল জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন। রাজশাহী জেলার সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান সভায় উপস্থিত থাকলেও কাউকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, রাজশাহী জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের মধ্যে যে সমস্যা রয়েছে, আমাগী ৫ নভেম্বর বঙ্গবন্ধু এভিন্যুর কার্যালয়ে বসে সমাধান করা হবে।

    সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ‘জাতির জনকের কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রতিটি বিভাগের জন্য পৃথক টিম গঠন করা হয়েছে। দলের জাতীয় সম্মেলনের আগেই প্রতিটি জেলায় প্রতিনিধি সভা তথা সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি পুনর্গঠন করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যার নেতৃত্বে ইতিমধ্যে অসম্ভবকে সম্ভব করা হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চারনেতার হত্যার বিচার করা হয়েছে। একাত্তরের ঘাতকদের বিচার করা হয়েছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা চারবার ক্ষমতায় এসেছি। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে দেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। কিন্তু পরাজিত শক্তি এখনও ষড়যন্ত্র করেই যাচ্ছে।’

    মোহাম্মদ নাসিম আরও বলেন, ‘একাত্তরে স্বাধীনতার মতো সবচেয়ে বড় অর্জনের পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মধ্যে আমরা বঙ্গবন্ধুকে হারিয়েছি। শেখ হাসিনা যত সফল হচ্ছেন, চক্রান্ত ততো বেশি হচ্ছে। কিছুদিন আগে বুয়েটে দুর্বৃত্তদের হাতে আরেকটি অঘটন ঘটেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে কয়েকঘন্টার মধ্যে আবরার ফাহাদের খুনীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তারপরও বিএনপি-জামায়াতের চক্রান্ত থেমে নেই। দ্রুত বিচার আইনে আবরার হত্যার বিচারের ঘোষণার পরও উস্কানী দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চক্রান্তকারীরা কখনও সফল হবে না। তাদের পরাজিত করে আমরা আবারও সফল হবো। তবে এ জন্য দলকে, সহযোগী সংগঠনগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। আসন্ন জাতীয় সম্মেলনের আগেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি জেলায় গিয়ে তৃণমূল নেতৃবৃন্দের বক্তব্য শুনবো।’

    যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘বুয়েটের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িত শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক চিহ্নিত জামায়াতি পরিবার থেকে ছাত্রলীগে এসেছে। অন্য অধিকাংশ জড়িতরাও বিএনপি জামায়াত পরিবার থেকে আসা। অতীতে খুন-ধর্ষণসহ বহু অপকর্মের হোতারা এখনও সুযোগ পেলেই অপকর্ম করছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, তারা নেই, কিন্তু অপকর্ম প্রমাণ করে তারা আছে।’

    দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এমপির দল নয়, দলের এমপি, এ কথা সকল এমপিকে মনে রাখতে হবে। রাজশাহী জেলার সভাপতি ও সেক্রেটারীর সম্পর্ক ভালো নয়। আগামী ৫ নভেম্বর তাদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু এভিন্যুর কার্যালয়ে বসে এ সমস্যার সমাধান করা হবে।’

    তিনি বলেন, ‘দলের কমিটিতে আপনজন খোঁজা বাদ দিতে হবে। অন্যথায় আগামীতে আমাদের জন্য প্রচণ্ড দুর্দিন অপেক্ষা করছে।’

  • সমালোচনার মুখে প্লটের আবেদন প্রত্যাহার রুমিন ফারহানার

    সমালোচনার মুখে প্লটের আবেদন প্রত্যাহার রুমিন ফারহানার

    ব্যাপক সমালোচনার মুখে প্লটের আবেদন প্রত্যাহার করে নিয়েছেন সংরক্ষিত আসনে বিএনপির মহিলা সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। গতকাল মঙ্গলবার গৃহায়নমন্ত্রী বরাবর এক চিঠিতে তিনি এই আবেদন প্রত্যাহার করেন। চিঠিতে তিনি বলেন, ‘আমার দল, বাংলাদেশ জাতীয়তাবদী দল (বিএনপি)-এর প্রাণ তৃণমূলের নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অনুভূতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা জানিয়ে গত ৩ আগস্ট, ২০১৯ তারিখ সংসদের দাপ্তরিক ফরম্যাটে করা আমার পূর্বাচলের প্লটের আবেদনটি আমি প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।’

    রুমিন ফারহানার প্লটের আবেদন নিয়ে বিএনপি বিব্রত ছিল। মাঠপর্যায়েও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে রুমিন ফারহানার এই সিদ্ধান্ত।

    গত ৩ আগস্ট গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি প্লট চেয়ে আবেদন করেছিলেন। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় বরাবর পাঠানো ঐ আবেদনে রুমিন লিখেছিলেন, ‘ঢাকাস্থ পূর্বাচল আবাসিক এলাকায় ১০ কাঠা প্লটের প্রয়োজন। ঢাকা শহরে আমার কোনো জায়গা/ফ্ল্যাট, জমি নাই। ওকালতি ছাড়া আমার অন্য আর কোনো ব্যবসা/পেশা নাই। আমার নামে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দের জন্য সুব্যবস্থা করে দিতে আপনার মর্জি হয়।’ রুমিন ফারহানা বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক। বিএনপির মনোনয়নে এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হন তিনি। রুমিন গত ৯ জুন শপথ নেন।

    প্লট চেয়ে আবেদনের বিষয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এটা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় সুবিধা। এটা কোনো সরকারের কাছে চাওয়া না। রাষ্ট্রের কাছে চেয়েছি। রাষ্ট্রীয় পদের কারণে বেশ কিছু অধিকার হয়, যেমন—গাড়ি, প্লট। সরকার হয়তো দেবে না। তবু আনুষ্ঠানিকতার জন্য আবেদন করেছি।’ তিনি বলেন, মন্ত্রী-এমপি না হয়েও কেউ কেউ শুল্কমুক্ত গাড়ি পেয়ে গেছেন। আর আমি আবেদন করার পরই চিঠি ভাইরাল হয়েছে। এটা বিরোধী রাজনীতিকে হেয় করার জন্য করা হয়েছে। এটা কোনো অবৈধ কাজ নয় জানিয়ে সংসদে বাকি যারা প্লট চেয়ে আবেদন করেছেন, তাদের নামও প্রকাশের দাবি জানান তিনি।

    প্লট বিতর্কে রুমিনের পাশে দাঁড়ালেন মির্জা ফখরুল

    দলের নেতাকর্মী-সমর্থকদের অনেকেই প্রকাশ্যে এবং ফেসবুকে রুমিনের সমালোচনা করলেও মির্জা ফখরুল বলেন, ছোটো-খাটো বিষয় নিয়ে পাগলের মতো ঐ ফেইসবুকে সমালোচনার কোনো যুক্তি নেই। কেউ একটা ছোটো ভুল করে ফেলল তোমার তো তাকে এখনই কবর দিয়ে দিতে হবে। নিশ্চয়ই না। দেখতে হবে সে এখন কি কাজ করছে? সে গণতন্ত্রের জন্য কাজ করছে, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য কাজ করছে—এটা হচ্ছে মূল কথা।

    ফখরুল বলেন, আমাদের চিন্তাভাবনার লোক যারা আছেন তাদেরকে অনুরোধ করব—দয়া করে আপনারা ফেইসবুকে তার বিরুদ্ধে বা অন্য কারো বিরুদ্ধে এবং আমাদের লোক কারো বিরুদ্ধে কোনো কমেন্ট করবেন না, লিখবেন না। এটা ক্ষতি হবে আন্দোলনের।

    গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

  • কাউন্সিল ঘিরে প্রাণ ফিরেছে ছাত্রদলে

    কাউন্সিল ঘিরে প্রাণ ফিরেছে ছাত্রদলে

    দীর্ঘকাল পর আসন্ন কাউন্সিল ঘিরে ছাত্রদলে এখন সরগরম অবস্থা। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন দুই শীর্ষ নেতা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক। সবশেষ ১৯৯২ সালে ছাত্রদলের কাউন্সিল হয়। তারপর গত ২৭ বছর কমিটি হয়েছে হাইকমান্ডের সরাসরি বাছাইয়ে।

    সারা দেশের বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের ১১৭টি সাংগঠনিক ইউনিট থেকে পাঁচজন করে মোট ৫৮৫ জন ভোটার পছন্দের নেতাকে ভোট দেবেন। এই কাউন্সিল উপলক্ষে ভোট প্রার্থনায় প্রাথীরা রীতিমত উদয়াস্ত এক করে ফেলছেন। প্রচার-প্রচারণায় এগিয়ে থাকার চেস্টা করছেন প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। নেতারা ফোন, এসএমএস বা প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন।

    এদিকে দলের সাবেক প্রভাবশালী সিনিয়র নেতারা অঘোষিত কয়েকটি প্যানেল তৈরি করেছেন। এই প্যানেলের পক্ষে তারা ভোট চাচ্ছেন। কোন প্রার্থী কোন ’বড় ভাই’ এর লোক তা নিয়ে দলে চলছে নানা বিশ্লেষণ। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাবেক ছাত্রদল নেতাদের সমন্বয়ে একটি কমিটি করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র বাছাই সম্পন্ন করে বৈধ প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে বাছাই কমিটি।

    সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দিতার জন্য আবেদন করা ৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে যাচাই-বাছাই করে ৩১ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে বৈধ প্রার্থী হয়েছেন ৪৫ জন। এর মধ্যে সভাপতি পদে বৈধ প্রার্থী ১৫ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ৩০ জন। বাতিল হয়েছে সভাপতি পদে ১২ জন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে ১৯ জনের মনোনয়ন।

    শিডিউল অনুযায়ী আজ বুধবার প্রার্থীদের আপত্তি গ্রহণ এবং ২৯ এবং ৩০ আগস্ট প্রার্থীদের আপিল নিষ্পত্তি করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহার করা যাবে ৩১ আগস্ট। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২ সেপ্টেম্বর। প্রচার চালানো যাবে ৩ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ করা হবে ১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত।

    নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য সাবেক ছাত্রদল নেতা খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, ফজলুল হক মিলনের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের বাছাই কমিটি ও শামসুজ্জামান দুদুর নেতৃত্বে ৩ সদস্যের আপিল কমিটি গঠন করা হয়। বিএনপির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, বিএনপির ভ্যানগার্ড জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন গতি পাবে। নেতৃত্বে আসবে পরিবর্তন।

    সভাপতি পদে বৈধ যারা: হাফিজুর রহমান, কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবন, মো: মামুন খান, ফজলুর রহমান খোকন, মো: আব্দুল মাজেদ, মাহমুদুল হাসান বাপ্পি, আশরাফুল আলম ফকির, রিয়াদ মো: তানভীর রেজা রুবেল, মো: এরশাদ খান, মো: সুরুজ, মো: শামীম হোসেন, সুলাইমান হোসেন, মো: ইলিয়াস, এসএম সাজিদ হাসান বাবু ও এবিএম মাহমুদ আলম সরদার।

    সাধারণ সম্পাদক পদে বৈধ যারা: মো: আমিনুর রহমান আমিন, মো: জুয়েল হাওলাদার, মো: তানজিল হাসান, শাহ নাওয়াজ, মো: জাকিরুল ইসলাম জাকির, মো: কারিমুল হাই (নাঈম), মাজেদুল ইসলাম, মো: আলাউদ্দিন খান, ডালিয়া রহমান, মো: মিজানুর রহমান সজিব, নাজমুল হক হাবিব, ওমর ফারুক শাকিল চৌধুরী, শেখ আবু তাহের, মো: মহিনউদ্দিন রাজু, মুন্সি আনিসুর রহমান, মো: ইকবাল হোসেন শ্যামল, মো: জুয়েল হাওলাদার, মো: মিজানুর রহমান শরিফ, মো: রাশেদ ইকবাল খান, মো: আরিফুল হক, রিয়াদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন, মো: আজিজুল হক সোহেল, শেখ মো: মশিউর রহমান রনি, আব্দুল মোমেন মিয়া, রাকিবুল ইসলাম রাকিব, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ আবুল বাশার, মো: আসাদুজ্জামান রিংকু, সোহেল রানা, কাজী মাজহারুল ইসলাম ও এএএম ইয়াহ ইয়া।

    সাধারণ সম্পাদক পদে তিনজন নারী প্রার্থী ফরম কেনেন। তাদের মধ্যে দুজন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের নাদিয়া পাঠান পাপন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডালিয়া রহমান মনোনয়নপত্র জমা দেন।