Category: রাজনীতি

  • হুদা তাকিয়ে বিএনপির দিকে

    হুদা তাকিয়ে বিএনপির দিকে

    নাজমুল হুদার দল তৃণমূল বিএনপি শেষ পর্যন্ত আওয়ামী জোটে যেতে পারবে কি না, তা নির্ভর করছে তাঁর সাবেক দল বিএনপির ওপর। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটে নাজমুল হুদার তৃণমূল বিএনপির অবস্থান হবে এক রকম, আর বিএনপি না এলে হবে অন্য রকম।

    আওয়ামী লীগের দুজন নেতা ও নাজমুল হুদার সঙ্গে আলাপ করে এমন তথ্যই পাওয়া গেল। কেবল নাজমুল দল বা জোটই নয়, আওয়ামী লীগের জোটে আসতে আগ্রহ প্রকাশ করা আরও ৮টি দলেরও একই অবস্থা বলে জানা গেছে। ওই ৮টি দল হলো ইসলামিক ফ্রন্ট, কৃষক শ্রমিক পার্টি, সম্মিলিত ইসলামিক জোট, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, জাগো দল, একামত আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক জোট।

    বিএনপির প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা বিএনপি থেকে বেরিয়ে ২০১৫ সালে ‘তৃণমূল বিএনপি’ গঠন করেন। বর্তমানে ৩১টি দল নিয়ে নাজমুল হুদার জোট বাংলাদেশ জাতীয় জোট (বিএনএ)। নতুন জোট গঠনের পরপরই বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জোটে ভিড়তে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

    এ বছরের শেষে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে দেশের বড় দুই দলেই চলছে ছোট দলগুলোর জোটভুক্ত হওয়ার হিসাব-নিকাশ। গত ১৮ জুলাই ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সঙ্গে তৃণমূল বিএনপিসহ নয়টি দল বৈঠক করে। সে বৈঠকে নাজমুল হুদা বলেছিলেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর অনুরাগী হয়ে কাজ করতে চান।

    সপ্তাহখানেক পর ২৬ জুলাই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে নাজমুল হুদার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেদিন অবশ্য কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গেও ওবায়দুল কাদেরের বৈঠক হয়।

    বৈঠক ও জোটে যাওয়ার ব্যাপারে নাজমুল হুদা প্রথম আলোকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের ১৪ দলীয় জোট আছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তার জোটের বাইরে সমমনাদের নিয়েও ভাবছেন। বিএনএ ছাড়াও বাইরে আরও কিছু জোট আছে। সার্বিকভাবে একটি নির্বাচনী মোর্চা গঠিত হতে পারে।’ তবে বিএনপির এই সাবেক নেতা জানান, জোট হওয়া না–হওয়া নির্ভর করবে নির্বাচনে বিএনপির আসা না–আসার সিদ্ধান্তের ওপর।

    নাজমুল হুদা বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে, তাহলে আওয়ামী লীগ জোট সম্প্রসারণ করবে। আর বিএনপি নির্বাচনে না এলে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের জাতীয় পার্টির নেতৃত্বে অন্য দলগুলোকে নিয়ে শক্তিশালী একটি বিরোধী দল গঠন করা হতে পারে।

    আওয়ামী লীগের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রথম আলোকে বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির আসা না–আসার ওপর আওয়ামী লীগের জোট সম্প্রসারণ অনেকাংশেই নির্ভর করছে এটা যেমন ঠিক, তেমনি সমমনা সব দলের সঙ্গেই আওয়ামী লীগ যোগাযোগ রাখছে। নাজমুল হুদার সঙ্গে আওয়ামী লীগের ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এখন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর দিকনির্দেশনার জন্য সবাই অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, বিএনপি না এলেও বিভিন্ন দলের জন্য কৌশলগত সম্পর্ক তৈরি করবে তাঁর দল।

    আওয়ামী লীগ অবশ্য হুদাকে জানিয়েছে, তাদের ১৪-দলীয় জোটের শরিকেরা এই জোটকে আর বড় করতে চায় না। এ ব্যাপারে নাজমুল হুদা বলেন, তাঁরা ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার কোনো আলোচনা করেননি। আলাদা নির্বাচনী জোট করার কথা বলেছেন। তবে এখন আগস্টের মাঝামাঝি হয়ে গেলেও এই জোটভুক্তি নিয়ে আর কোনো আলোচনা এগোয়নি। সবকিছুই এখন নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ওপর। তিনি সবুজসংকেত দিলেই আওয়ামী লীগের জোটে ঢুকতে চাওয়া দলগুলো আসন নিয়ে কথা বলবে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মাঠে নামবে।

  • ষড়যন্ত্র এখনো চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    ষড়যন্ত্র এখনো চলছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

    শূন্য হাতে শুরু করে দেশটাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, আর তখনই তাঁকে হত্যা করেন ষড়যন্ত্রকারীরা। তাঁর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এখন অনন্য উচ্চতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু এখনো ষড়যন্ত্র আছে, ষড়যন্ত্র চলবে। সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা হবে।

    আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

    ‘বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সমাজ কত দূর যেত?’ শীর্ষক সেমিনারে তোফায়েল আহমেদ বঙ্গবন্ধুর বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ হতো প্রাচ্যের সুইজারল্যান্ড। তাঁকে হত্যার পর সামরিক শাসকেরা দেশের অনেক ক্ষতি করেছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছেন জিয়াউর রহমান। তবে সব খাতেই এখন পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

    বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বঙ্গবন্ধুর সময়ে প্রথম তিন বছর প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ শতাংশ কিন্তু চতুর্থ বছরে এটি বেড়ে হয়েছে ৮ শতাংশ। বাংলাদেশের উন্নতি হয়েছে অনেক। বঙ্গবন্ধুর প্রদর্শিত পথে তাঁর কন্যা দৃঢ়ভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য এ কে আজাদ চৌধুরী বলেন, উন্নয়ন হচ্ছে কিন্তু উন্নয়ন সবকিছু নয়। আরও অনেক কিছু হতে পারত, যদি বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকতেন।

    একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অপর সাবেক উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ হত্যা করা মানে দেশকে হত্যা করা। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীরা সেটাই করতে চেয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে দেশকে পিছিয়ে দিয়েছে।

    সেমিনারের শুরুতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতি সমিতির সভাপতি আবুল বারকাত। সভাপতিত্ব করেন সমিতির সহসভাপতি এ জেড এম সালেহ্ এবং শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সাধারণ সম্পাদক জামালউদ্দিন আহমেদ।

  • কিছু তথ্য এসেছে, যা উদ্বেগজনক: জয়

    কিছু তথ্য এসেছে, যা উদ্বেগজনক: জয়

    সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য টাকা পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং তাঁর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ রোববার নিজের ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    স্ট্যাটাসে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, কিছু তথ্য আমার কাছে এসেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। নিন্দিত সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা সম্প্রতি নিউইয়র্ক এসেছিলেন। সেখানে তিনি গোপনে যুদ্ধাপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাসেমের ভাই মামুনের সঙ্গে দেখা করেন। আমরা জানতে পেরেছি মামুনের কাছ থেকে তিনি বড় অঙ্কের টাকা পেয়েছেন। টাকাটা তাঁকে দেওয়া হয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলার জন্য। তাদের এ আলাপ দেখেছে ও শুনেছে এমন সাক্ষীও আছেন।

    জয় বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের দেশে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এ প্রবন্ধটিতে (স্ট্যাটাসে সংযুক্ত প্রবন্ধ) খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে আমাদের ‘কু-শীল’ সমাজ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাতেন যদি ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতো। ষড়যন্ত্রের ক্ষেত্রে অপরিচিত বা অজনপ্রিয় মানুষের ভূমিকা কম। একটি ষড়যন্ত্রকে সফল করতে হলে দরকার হয় উচ্চপর্যায়ের ও ক্ষমতাবান কাউকে। যেমন সাবেক বিচারপতি এস কে সিনহা বা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

  • ধমক দিয়ে দাবি আদায় হবে না: কাদের

    ধমক দিয়ে দাবি আদায় হবে না: কাদের

    আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। ধমক দিয়ে তাঁর কাছ থেকে সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের দাবি আদায় হবে না। আলটিমেটাম দিয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুবিধা আদায় করা যাবে না।

    বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) মিলনায়তনে আজ রোববার বিকেলে শোক দিবসের আলোচনার আয়োজন করে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ)। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এ মন্তব্য করেন।

    বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আজ রোববার সকালে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে মানববন্ধন করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন থেকে সরকারকে ‘আলটিমেটাম’ দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই সংগঠন।

    মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর কন্যা। ধমক দিয়ে তাঁর কাছ থেকে কিছু আদায় করা যাবে না। আলটিমেটাম দিয়ে শেখ হাসিনার কাছ থেকে সুবিধা আদায় করা যাবে না।

    কোটা আন্দোলনকারীদের সুখবর দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কোটা আন্দোলন যাঁরা করেন, তাঁদের আমি সুখবর দিতে চাই। কিছুদিন ধৈর্য ধরতে অসুবিধা কী? একটি ব্যালেন্স সিস্টেম চালু করার জন্য কিছুটা সময় লাগছে। তথ্য, উপাত্ত সংগ্রহের জন্য কিছুটা সময় লাগছে। এটি এখন অনেক দূর এগিয়েছে। আমরাও সমাধানের পথ খুঁজছি। ছাত্রছাত্রীদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।’ তিনি বলেন, শেখ হাসিনার ওপর আস্থা রাখুন। কিশোর-কিশোরী, ছাত্রছাত্রী তাদের নয় দফা দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। আজও একটি আন্ডারপাসের উদ্বোধন হয়েছে। সড়ক পরিবহন আইন পাসের পথে। অধৈর্য হবেন না, অপেক্ষা করুন। সমাধান হবে।

    ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালন বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৫ আগস্টে জন্মদিন না পালন করে খালেদা জিয়ার জন্য বিএনপি দোয়া মাহফিল আয়োজন করেছে। এর অর্থ কি এটা যে ১৫ আগস্ট খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্ম দিবস? ক্ষমা চেয়ে, দুঃখ প্রকাশ করে এটি থেকে বিএনপি সরে আসছে? তিনি আরও বলেন, জন্ম দিবস ১৫ আগস্ট পালন করবেন না। ভুয়া জন্ম দিবস পালন থেকে বিএনপি মোটেই সরছে না। ১৫ আগস্টে যারা ভুয়া জন্ম দিবস পালন করে, বাংলাদেশে এই ‘ছদ্মবেশী বিধ্বংসী’ দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কর্মের সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই। খালেদা জিয়ার পাঁচটি জন্ম দিন। কোনটি সঠিক, এটি বিএনপিকে আগে পরিষ্কার করতে হবে। তারপর ভেবে দেখা যাবে বিএনপির সঙ্গে কথা বলা যায় কি না?

    সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, দিনক্ষণ দিয়ে ইতিহাসে কোনো দিন কোনো আন্দোলন হয়নি। বাংলাদেশেও হয়নি। দিনক্ষণ দিয়ে যে আন্দোলন হয় না, গত নয় বছরে বিএনপির দিনক্ষণের আন্দোলনের ব্যর্থতাই তার বড় প্রমাণ।

    স্বাচিপের মহাসচিব ইকবাল আর্সলানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আ ফ ম রুহুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য কনক কান্তি বড়ুয়া, স্বাচিপের মহাসচিব মো. আবদুল আজিজ প্রমুখ।

  • শহিদুলকে কি আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে বলা হচ্ছে: জয়

    শহিদুলকে কি আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে বলা হচ্ছে: জয়

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তাঁর উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, শুধু সফল ও জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই কি আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলা হচ্ছে? তিনি প্রশ্ন করেছেন, ‘তাহলে কি আমিসহ সকল সফল ও জনপ্রিয় মানুষই আইনের ঊর্ধ্বে?’

    নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আজ শুক্রবার এক পোস্টে এ কথা বলেন জয়।

    প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি–বিষয়ক উপদেষ্টা জয় বলেন, ‘ধরুন বাংলাদেশের একজন জনপ্রিয় ও সফল ব্যক্তি হিসেবে আন্দোলনের সময় আমি ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলতাম আন্দোলনরত তরুণেরা আমাদের কর্মীদের একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে আক্রমণ করে হত্যা করেছে এবং সেই কথার প্রেক্ষিতেই আমাদের কর্মীরা উত্তেজিত হয়ে সেই বিশ্ববিদ্যালয়টি আক্রমণ করত। তাহলে কি বলা যেত আমি সহিংসতা উসকে দিয়েছি? নাকি আমি বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার দ্বারা সুরক্ষিত থাকতাম?

    আমার কোনো সন্দেহ নেই আজ যেই সুশীল সমাজ, বিদেশি বন্ধুরা ও সাংবাদিকেরা শহিদুল আলমের পক্ষে কথা বলছেন, তারা তখন ঠিকই বলতেন প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সহিংসতা উসকে দিয়েছেন। শুধুমাত্র সফল ও জনপ্রিয় হওয়ার জন্যই কি আজ শহিদুল আলমকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখার কথা বলা হচ্ছে? তাহলে কি আমিসহ সকল সফল ও জনপ্রিয় মানুষই আইনের ঊর্ধ্বে?

    আমি যেই উদাহরণ দিয়েছি, শহিদুল আলম ঠিক তাই করেছেন। তার দেওয়া মিথ্যে পোস্ট ও অভিযোগের কারণেই শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পরে এবং পুলিশের ওপর ও পার্টি অফিসে হামলা চালায়। একাধিক পুলিশ সদস্য ও আমাদের কর্মীরা আহত হন। আরাফাতুল ইসলাম বাপ্পি নামের আমাদের এক কর্মী তার দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছেন।

    বাপ্পি কি ন্যায়বিচার পাওয়ার যোগ্য না?’

  • ঢাকায় আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছি: তথ্যমন্ত্রী

    ঢাকায় আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছি: তথ্যমন্ত্রী

    জাসদ সভাপতি ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘ঢাকায় আহত সাংবাদিকদের চিকিৎসার ব্যয়ভার গ্রহণ করেছি আমরা। দোষীদের কঠিন সাজা দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছি। সাংবাদিকদের দাবির সঙ্গে আমরা একমত। সুতরাং, আমরা দ্রুত নির্যাতনকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার করব, সাজা দেব।’

    আজ শনিবার সকালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় জাতীয় ফলদ বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

    বিএনপি-জামায়াতের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ইনু বলেন, ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াত চক্ররা ষড়যন্ত্রের আন্দোলনে পরিণত করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেই জন্য তাদের গাত্রদাহ, তাদের মনের জ্বালা। ছাত্র আন্দোলনের দাবি সরকার বাস্তবায়ন করছে। সুতরাং, ছাত্রছাত্রীদের কাঁধে বন্দুক রেখে কোনো পরিস্থিতি ঘোলা করতে পারবে না।

    ইনু বলেন, ‘বিএনপি ও জামায়াত শোকের মাসে বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনা করে না, তাঁকে একটু শ্রদ্ধা জানায় না, তাঁর প্রতি একটা সমবেদনা জানায় না। ওরা দিনেদুপুরে মিথ্যাচার করে, ইতিহাস ধামাচাপা দেয়।’

    অনুষ্ঠানে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সোহেল মারুফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলীম স্বপন, ভেড়ামারা জাসদের সভাপতি আতাউর রহমানসহ জাসদ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।