Category: রাজনীতি

  • রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল শুনানি শুরু

    রায়ের বিরুদ্ধে খালেদার আপিল শুনানি শুরু

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার আপিল শুনানি শুরু হয়েছে। সকালে আপিল বিভাগ শুনানি শুরু করার নির্দেশ দিলে হাইকোর্ট বিভাগে শুনানি শুরু হয়।

    বৃহস্পতিবার বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চে এ শুনানি শুরু হয়।

    খালেদা জিয়ার আইনজীবী আব্দুর রেজাক খান আপিল শুনানি শুরু করেন। আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে এজে মোহাম্মদ আলী, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, জয়নুল আবেদীন প্রমুখ উপস্থিত আছেন। দুদকের পক্ষে আছেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে খালেদা জিয়ার আপিল ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করার বাধ্যবাধকতা স্থগিত চেয়ে রিভিউ আবেদন ৩১ ‍জুলাই পর্যন্ত স্ট্যান্ডওভার রেখেছেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে হাইকোর্টে আপিল শুনানি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। যদি ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি করতে না পারলে সময় বৃদ্ধির বিবেচনা করা হবে বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

    গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাজার বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করেন খালেদা জিয়া। ৬০ পৃষ্ঠার মূল আবেদনের সঙ্গে ১২২৩ পৃষ্ঠার নথিপত্র জমা দেয়া হয়েছে। রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে মোট ২৫টি যুক্তি দেখানো হয়েছে। তার মধ্যে একটি হলো- যে অভিযোগে খালেদা জিয়াকে দণ্ড দেয়া হয়েছে সেটা দুর্নীতির মধ্যে পড়ে না। যে টাকা আত্মসাতের অভিযোগে খালেদার সাজা হয়েছে ওই টাকা এখনও ব্যাংকে রয়েছে বলেও যুক্তি দেখানো হয়েছে। বিশেষ আদালতের দেয়া সাজার বিরুদ্ধে আপিলে খালেদা জিয়ার খালাসও চেয়েছেন তার আইনজীবরা।

    দুর্নীতি দমক কমিশনের (দুদক) দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গেল ৮ ফেব্রুয়ারি বেগম জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। মামলায় রায় হওয়ার পরই বেগম জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়।

    এ মামলায় আপিল করা অন্য দুই আসামি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিনন আহমদ। তাদেরকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এ মামলায় পলাতক তিন আসামি হলেন- বিএনপির জ্যেষ্ঠ ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। এই তিন জন পলাতক থাকায় তারা আপিল দায়ের করেননি।

  • সাত ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি

    সাত ঘণ্টার অনশন কর্মসূচিতে বিএনপি

    দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে সাত ঘণ্টার প্রতীকী অনশন কর্মসূচিতে বসেছে বিএনপি নেতাকর্মীরা। সোমবার সকাল নয়টায় রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ঢাকা ছাড়া সারাদেশেও একই কর্মসূচি পালন করছে দলটি।

    মহানগর নাট্যমঞ্চে অনশন কর্মসূচিতে যোগ দিতে সকাল থেকেই উপস্থিত হন দলটির নেতাকর্মীরা। নয়টায় কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল আটটার মধ্যেই কর্মসূচিসস্থলে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। নেতাকর্মীদের ভিড়ে কানায় কানায় ভরে গেছে নাট্যমঞ্চ এলাকা।

    কর্মসূচিতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, কবির মুরাদ, জয়নাল আবদিন ফারুক, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্সসহ যুবদল, ছাত্রদল, মহিলা দল, কৃষকদল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল, শ্রমিক দল ও জাসাসের নেতাকর্মীরা।

    কর্মসূচি পরিচালনা করছেন বিএনপির সহ-সাংগঠনিক আব্দুস সালাম আজাদ ও সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীম।

    জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় গত ৮ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় নিম্ন আদালত। রায় ঘোষণার পরই সাবেক এ প্রধানমন্ত্রীকে নাজিমউদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

    বিএনপি প্রধানের কারাগারে যাওয়ার পর তার মুক্তির দাবিতে দলটি বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে সরব থাকে। পরবর্তীতে তাদের কর্মসূচিতে কিছুটা ভাটা পড়ে।

    গত রবিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলীয় প্রধানের মুক্তির দাবিতে অনশন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন।

    ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী ঢাকায় মহানগর নাট্যমঞ্চে প্রতীকী অনশন কর্মসূচি শুরু করেছে দলটি। সকাল নয়টায় শুরু হওয়া এই কর্মসূচি চলবে বিকাল চারটা পর্যন্ত। কর্মসূচিতে ২০ দলীয় জোট ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

  • অনুমতি মেলেনি, সমাবেশের নতুন তারিখ ঘোষণা বিএনপির

    অনুমতি মেলেনি, সমাবেশের নতুন তারিখ ঘোষণা বিএনপির

    দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজধানীতে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ-সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ায় নতুন করে বিক্ষোভের তারিখ ঘোষণা করেছে বিএনপি। নতুন কর্মসূচি অনুযায়ী আগামী শনিবার বিক্ষোভ-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে দলটি।

    বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালনের কথার কথা জানিয়েছিল বিএনপি। এজন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে অনুমতি চাওয়ার কথাও বলেছিল দলটির নেতারা।

    তবে শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি পালনের অনুমতি না পাওয়ায় একই কর্মসূচি শনিবার পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

    গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। এর প্রতিবাদে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। রায়ের পর খালেদার মুক্তির দাবিতে বিএনপি এখন অবধি যতগুলো কর্মসূচি পালন করেছিল তার প্রতিটিই ছিল ‘শান্তিপূর্ণ’।

    রায়ের দিন মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, খালেদা জিয়া তাদেরকে হঠকারী কোনো কর্মসূচি দিতে নিষেধ করেছেন। এ কারণেই ‘শান্তিপূর্ণ’কর্মসূচি পালন করবেন তারা।

    খালেদার মুক্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। কর্মসূচি অনুযায়ী বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ সমাবেশ ডেকেছিল দলটি। কিন্তু অনুমতি না মেলায় নতুন করে কর্মসূচির ডাক দেয় বিএনপি।

  • ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুঃখ প্রকাশ

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দুঃখ প্রকাশ

    থানা ও ওয়ার্ডের নতুন কমিটি ঘোষণায় দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করায় দুঃখ প্রকাশ করেছে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

    সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো উত্তরের দফতর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দুঃখ প্রকাশ করা হয়।

    বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩ জুন কমিটি ঘোষণা করে বলা হয় প্রত্যেক থানা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে ঢাকা মহানগর উত্তর কমিটির সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের মর্যাদা লাভ করবেন। একইভাবে ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে থানা কমিটির সহ-সভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের মর্যাদা লাভ করবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। কিন্তু এই ঘোষণাটি ভুলবশত প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য দুঃখিত।

  • অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দৃষ্টিকটু: বার্নিকাটকে তোফায়েল

    অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে বক্তব্য দৃষ্টিকটু: বার্নিকাটকে তোফায়েল

    গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে মন্তব্য করায় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেনস ব্লুম বার্নিকাটের সমালোচনা করেছেন তোফায়েল আহমেদ। বাণিজ্যমন্ত্রী বলেছেন, একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এভাবে কথা বলা উচিত হয়নি বার্নিকাটের।

    রবিবার সচিবালয়ে ঢাকায় সফররত যুক্তরাজ্যের প্রতিমন্ত্রী (এশিয়া প্যাসিফিক ফরেন অ্যান্ড কমনওয়েলথ অফিস) মার্ক ফিল্ডের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন ক্ষমতাসীন দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য।

    গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বার্নিকাট বলেন, গাজীপুর নির্বাচনে ভালো চিত্রের পাশাপাশি খারাপ চিত্রও ছিল। ভোট নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, খুলনার পর গাজীপুরে অনিয়ম ও কারচুপির অভিযোগ ওঠায় তার দেশ উদ্বিগ্ন।

    তোফায়েল বলেন, ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এভাবে কথা বলাটা সমীচীন হয়নি। কারণ পৃথিবীর সব দেশেই, পশ্চিম বাংলায়, ভারতে, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন নিয়ে কিন্তু এখনও বিতর্ক চলছে। কিন্তু আমাদের এই নির্বাচনগুলো নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক হয়নি।’

    ‘একটা দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আরেকটা দেশের রাষ্ট্রদূতের কথা বলা সমীচীন নয়। এটা দৃষ্টিকটু হয়েছে বলে মনে করি।’

    বার্নিকাটের মন্তব্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলবে কি না- জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিল ক্লিনটন বিএনপির এক কর্মীর কাছে বলেছেন- ওয়ার্ল্ড পলিটিকস ইজ নাউ ডিফিকাল্ট। কাজেই একটা দেশের রাষ্ট্রদূত কী বলল, সেটা নিয়ে দেশ চলে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দৃঢ়চেতা নেতা। তার অধীনে আগামী নির্বাচন হবে এবং নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে।’

    খুলনা ও গাজীপুরের ভোট মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে দাবি করে তোফায়েল বলেন, ‘গাজীপুরে নির্বাচন যে গ্রহণযোগ্য হয়েছে এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৭ শতাংশ। আওয়ামী লীগের প্রার্থী পেয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজারের মতো ভোট। আর বিএনপির প্রার্থী পেয়েছে ২ লাখের মতো ভোট। ভোটের রেশিও দেখলেই বুঝা যায় যে নির্বাচনটা অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য।’

    ‘গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কিন্তু তত বেশি কোনো বাস্তবসম্মত কথা বলার সুযোগ পায়নি। তাদের যে নেতা লন্ডনে থাকেন তিনিই তো বলেছেন, তাদের এজেন্ট ছিল না। আমাদের দল টাকা দিয়ে তাদের এজেন্ট…যে দলের এজেন্ট টাকা খেয়ে সরে যায়, সেটা কোনো দল হলো? তাদের এজেন্টদের আমাদের দলের লোক টাকা দিতে যাবেই বা কেন?’

    আগামী তিনটি সিটি নির্বাচনও অবাধ ও নিরপেক্ষ হবে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির অংশ নেয়া ছাড়া বিকল্প কিছু নেই।

    ‘ব্রিটিশ মন্ত্রীও বলে গেলেন, দুই বার যদি তারা নির্বাচন না করে তাদের তো নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন থাকবে না। আরেকটি নির্বাচন না করলে বিএনপি অস্তিত্ব সংকটে পড়বে বলেই আমি মনে করি।’

    ‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে কাজ করছে। বিএনপিরও নির্বাচন নিয়ে কাজ করা উচিত, মানুষের কাছে যাওয়া উচিত।’

  • শিক্ষকদের আমরণ অনশনে চরমোনাই পীর

    শিক্ষকদের আমরণ অনশনে চরমোনাই পীর

    এমপিওভুক্তির দাবিতে বেসরকারি শিক্ষকদের আমরণ অনশন কর্মসূচির সঙ্গে একমত পোষণ করে সমর্থন জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।

    শনিবার দুপুর ১২টা দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এসে শিক্ষকদের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেন চরমোনাই পীর।

    এ সময় চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, শিক্ষকরা জাতির সবচেয়ে সম্মানের পাত্র। তারা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা সরকারকে বলব, অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের দাবিদাওয়া পূরণ করুন। শিক্ষকদের দাবির সঙ্গে আমি একমত পোষণ করছি। একই সঙ্গে তাদের জন্য দোয়া কামনা করছি।

    নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের ব্যানারে এ আন্দোলন চলছে। গত ১০ জুন থেকে তারা ধারাবাহিকভাবে নানা কর্মসূচি পালন শেষে ২৫ জুন সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের বিপরীত দিকে সড়কের পাশে আমরণ অনশন শুরু করেন।

    রাজধানীতে অব্যাহত আমরণ অনশনের ষষ্ঠ দিনের মতো শনিবার পর্যন্ত ১০৯ জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত অর্ধশত শিক্ষককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। অনশনে দিন দিন অসুস্থ শিক্ষকের সংখ্যা বাড়ছে। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ড. বিনয় ভূষণ রায়সহ ১০ জনের অবস্থা গুরুতর। তারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

    তাদের মধ্যে আছেন আজিজুর রহমান, গোলাম মোস্তফা, আকরাম হোসেন, আছিয়া খাতুস, বিলকিস পারর্ভীন, মাহবুবুর রহমান, গাজী আবদুল লতিফ প্রমুখ। অসুস্থ শিক্ষকরা হাসপাতালের ৬০২, ৭০২ ও ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছেন।

    ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার যুগান্তরকে বলেন, এই সরকার সর্বশেষ ২০১০ সালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করে।

    এর আগে ২০০৬ সালে সর্বশেষ বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কাজ হয়। তখন এমপিও বন্ধ করে দেয়ায় বর্তমান শিক্ষামন্ত্রীই নানা সমালোচনা করতেন। অথচ তার আমলে ৮ বছর ধরে এমপিওভুক্তির কাজ বন্ধ আছে।

    তিনি বলেন, গত ৮ বছরে এমপিওভুক্তির ব্যাপারে গড়ে ওঠা আন্দোলনের মুখে সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা অন্তত ২৬ বার কথা দিয়েছেন।

    সর্বশেষ একই দাবিতে আন্দোলনের মুখে গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা আশ্বাস দেন। কিন্তু ৭ জুন সংসদে উত্থাপিত বাজেটে এই খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না দেখে তারা হতাশ। এ জন্যই গত ১০ জুন ফের আন্দোলনে নামেন।

    আন্দোলনরত শিক্ষকরা বলেন, এমপিওভুক্তির ব্যাপারে তারা রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন। আমরণ অনশনে যাওয়ার আগে তারা রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারসহ সংসদ সদস্যদের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। আশা করছেন, তাদের দাবি আদায় হবে। এ সময় ছয় দিন ধরে অনশন চললেও শিক্ষকরা সরকারের কোনো পর্যায় থেকে কোনো আশ্বাস বা সাড়া না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

    দেশে বর্তমানে প্রায় ৮ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ২৪২টি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার সরকারি স্বীকৃতি আছে।