বাসাইল পৌরসভা নির্বাচনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে বিএনপি। নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এ সিদ্ধান্ত পেয়ে দলটির নেতাকর্মীরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা শুরু করে দিয়েছেন।বুধবার রাতে পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যৌথ সভাও অনুষ্ঠিত হয়।সভায় বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীরউত্তম, জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম তোফা, কেন্দ্রীয় কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান তালুকদার বীরপ্রতীক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।কাদের সিদ্দিকী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের নৈরাজ্য বন্ধ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের স্বার্থে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বিএনপি একসঙ্গে কাজ করবে।তিনি বলেন, ‘গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে যদি আবার ভোট গণনা করা হয়, তাহলে প্রায় দুই লাখ ভোট বেশি পেয়ে বিএনপির প্রার্থী বিজয় হবেন।কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘যে বিচারক খালেদা জিয়াকে শাস্তি দিয়েছে। একসময় হয়তো তাকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।’সভা শেষে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম তোফা ও সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ বিএনপি ও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকর্মীরা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ মনোনীত গামছা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী রাহাত হাসান টিপুর সমর্থনে উপজেলা সদরে মিছিল বের করেন।জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম জানান, কেন্দ্রের নির্দেশনায় তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এনামুল করিম।এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবাল বলেন, বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কাজ শুরু করেছেন। আশা করছি, বিএনপির মেয়র প্রার্থী নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়াবেন। অন্যথায় তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।
Category: রাজনীতি
-

নির্বাচন কমিশনকে বিএনপির ‘ধন্যবাদ’
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু ক্ষোভ প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার যেভাবে চেয়েছে, সেভাবে সাজানো নির্বাচন পরিচালনা করেছে ইসি।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি এ কথা বলেন।
বরকত উল্লাহ বলেন, সাজানো নির্বাচন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছে। তারা আপাতত আর কোনো অভিযোগ জানাতে চান না।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসি কোনো অভিযোগেই ব্যবস্থা নেয়নি। গাজীপুরে বিএনপি প্রার্থী ১১০টি কেন্দ্রের ব্যাপারে সুস্পষ্ট অভিযোগ তুলেছিল। সিইসি তদন্ত করে দেখার কথা বলেছিলেন। কিন্তু উনি কী দেখেছেন, তা উনিই জানেন। যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে তাদের আপত্তি ছিল, তাকে রেখেই ইসি নির্বাচন পরিচালনা করেছে।
টেলিফোনে বিএনপি অরাজকতা করার নির্দেশনা দিয়েছে-আওয়ামী লীগের এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এই নেতা বলেন, এসব বিষয় নিয়ে তার কিছু জানা নেই।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ শুধু আজকে না, শুরু থেকেই করে আসছেন। আমরা ইসির কাছে অভিযোগ জানালে তার জবাব দেন এইচ টি ইমাম ও ওবায়দুল কাদের।
-

গাজীপুরে ভোটগ্রহণ শেষ, অনিয়মের অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর
নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগের মধ্য দিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ভোট শুরু হয়ে চলে একটানা বিকাল ৪টা পর্যন্ত।
নির্বাচনে জালভোট ও ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের অভিযোগে সাত কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
তবে দুপুরেই এক সংবাদ সম্মেলনে এসে অনিয়মের ভোটগ্রহণ বন্ধের দাবি জানান বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।
তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, কমিশনের উচিত স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করা।
এদিকে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রুহুল কবির রিজভী অভিযোগ করেন, শতাধিক কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্ট বের করে দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া জালভোট ও সিল মারার মহোৎসব চলছে।
তবে পাঁচ-ছয়টি কেন্দ্রে অনিয়মের কথা স্বীকার করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা রকিবউদ্দীন মণ্ডল।
তিনি বলেন, কয়েকটি কেন্দ্রে ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারা ও জালভোট দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া পাঁচ-ছয়টি কেন্দ্র থেকে বিএনপির এজেন্টকে বের করে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।
এ নির্বাচনে ৪২৫ কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৩৬ জন। সাত মেয়রপ্রার্থীর পাশাপাশি ২৫৪ সাধারণ কাউন্সিলর ও ৮৪ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী এ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এর মধ্যে গাজীপুর সিটির মেয়র পদে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলেন- আওয়ামী লীগের (নৌকা) মনোনীত প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম ও বিএনপির (ধানের শীষ) হাসান উদ্দিন সরকার।
-

হাসান উদ্দিন সরকারের অভিযোগ মিথ্যা : জাহাঙ্গীর
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১০টি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার বিষয়ে বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের অভিযোগকে মিথ্যাচার বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। বলেছেন, তফসিল ঘোষণার পর থেকেই এই ধরনের মিথ্যাচার করে আসছেন বিএনপি নেতা।
মঙ্গলবার সকাল আটটায় ভোট শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর নগরীর কানাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসেন জাহাঙ্গীর। আর কেন্দ্র থেকে বের হয়ে তিনি কথা বলেন গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে।
আর সকাল আটটার পর টঙ্গীতে নিজ কেন্দ্র বশিরউদ্দিন উদয়ন একাডেমি কেন্দ্রে ভোট দিয়ে ১০টি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন হাসান উদ্দিন সরকার।
এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘তিনি তফসিল দেয়ার দিন থেকে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের কথা এবং বিভিন্ন ধরনের মিথ্যাচার করেছেন। আমি বলেছি তিনি একজন মুরুব্বি মানুষ, কিছু না জেনেশুনে গাজীপুরের মানুষের নামে এবং গাজীপুরের ভোটারদের নামে কিছু বলা ওনার ঠিক হবে না।’
‘ওনি বিএনপির সাথে রাজনীতি করেন। বিএনপির সাথে রাজনীতি করা ওনার ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু গাজীপুরের মানুষকে এবং গাজীপুরের ভোটারদের অনিয়মের কথা বলা ঠিক হবে না।’
প্রতিপক্ষের প্রার্থীদের আওয়ামী লীগের প্রার্থী বলেন, ‘গণতন্ত্রের স্বার্থে, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি নাগরিকের মূল্যায়নের স্বার্থে সবাই যেন আমরা সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে ভোট করি। নিজ কিংবা দলের স্বার্থে যেন কোন মিথ্যাচার না করি সেই অনুরোধ করছি।’
-

আগামী নির্বাচনে জয়লাভই চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের
আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচন। মৃদুমন্দ ভোটের হাওয়া তাই ক্রমশই বেগবান হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সামনে টানা তৃতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ দেশজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নিচ্ছে।নেতারা বলছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে আসনওয়ারি জরিপ চলছে দফায় দফায়। বর্তমান এমপি ও দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীরা, সর্বোপরি নেতাকর্মীরা প্রচার-প্রচারণায় নেমে পড়েছেন। রাজধানীর ধানমণ্ডিতে আলাদা নির্বাচনী কার্যালয় গড়ে তুলে নির্বাচনের সাংগঠনিক ও প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিচ্ছে আওয়ামী লীগ। দিন যত এগোবে, প্রস্তুতিও তত অগ্রসর হবে। আওয়ামী লীগের টানা দুই মেয়াদে দেশের নানা ক্ষেত্রে ব্যাপক উন্নয়নের ফলে আগামী নির্বাচনেও দলটির প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার প্রতিফলন ঘটবে- এমন প্রত্যাশা তাদের।
এহেন প্রেক্ষাপটে আজ শনিবার দেশের সর্ববৃহৎ ও প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ৬৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। দিনটি উদযাপনে বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ক্ষমতাসীন দলটি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সকালে বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে
নবনির্মিত প্রধান কার্যালয়ের সামনে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন ও নতুন কার্যালয় উদ্বোধন। নবনির্মিত কার্যালয় উদ্বোধন করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর সকাল ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে বিশেষ বর্ধিত সভা শুরু হবে। উভয় অনুষ্ঠানে সারাদেশের তৃণমূল নেতারা উপস্থিত থাকবেন।
দিনটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা এক বাণীতে দলের অগণিত নেতাকর্মী-সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিবৃতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের জন্য দল ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সব জেলা, উপজেলাসহ সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
গণমানুষের দল আওয়ামী লীগের পথচলা শুরু ১৯৪৯ সালে। ওই বছর ২৩-২৪ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনে বশির সাহেবের রোজ গার্ডেনের বাসভবনে প্রগতিবাদী এবং তরুণ মুসলিম লীগ নেতাদের উদ্যোগে রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলনে জন্ম হয় পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় ১৯৫৫ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে দলের নাম থেকে ‘মুসলিম’ শব্দ বাদ দেওয়া হয়। নতুন নামকরণ হয় পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ। স্বাধীনতার পর নামকরণ হয় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
প্রতিষ্ঠাকালে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক ও কারাবন্দি অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান দলের অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৬৬ সালে শেখ মুজিবুর রহমানকে দলের সভাপতি ও তাজউদ্দীন আহমদকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামে সামনের কাতারে থেকে তরুণ শেখ মুজিব নিজেকে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন। তার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় অর্জন হচ্ছে ১৯৭১ সালে নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা লাভ। এ ছাড়া বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয় ও সরকার গঠন, বাঙালির মুক্তির সনদ হিসেবে বিবেচিত ছেষট্টির ছয় দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলাবিরোধী ১১ দফা আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান এবং সত্তরের নির্বাচনে বাঙালির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভসহ গণতন্ত্র ও স্বায়ত্তশাসন অর্জনের সব আন্দোলন-সংগ্রামেও দলটি ছিল প্রথম কাতারে।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে নৃশংস হত্যার পর তারই কন্যা শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্র এবং মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। এ জন্য বাবার মতো তাকেও দফায় দফায় কারারুদ্ধ হতে হয়েছে। তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে বিজয়-বৈজয়ন্তী তুলে ধরেছে। সেই আওয়ামী লীগ এখন দেশ পরিচালনার দায়িত্বে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয়ের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এখন পর্যন্ত তিন দফায় ক্ষমতাসীন হয়েছে।
টানা দুই মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ স্বৈরতন্ত্র, জঙ্গিবাদ ও যুদ্ধাপরাধের বিরুদ্ধে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারের অপশক্তি জঙ্গি-সন্ত্রাসীরা প্রায় নিষ্ফ্ক্রিয়। দেশের বর্তমান পরিবেশও প্রগতির অনুকূলে। যুদ্ধাপরাধের বিচার সম্পন্ন ও রায় কার্যকর করার বড় চ্যালেঞ্জ সফলভাবেই পার হয়েছে, হচ্ছে। দেশ এখন উন্নয়নের মহাসড়কে- এমন সত্য স্বীকার করছেন সরকারের কট্টর সমালোচকরাও। সম্প্রতি স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে বাংলাদেশের উত্তরণই এর বড় প্রমাণ। গ্রামীণ অর্থনীতিও এখন মজবুত। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাত ভাগ ছাড়িয়েছে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১-এর সফল উৎক্ষেপণ বিশ্বে দেশের মর্যাদা বাড়িয়েছে।
শেখ হাসিনার সরকারের সময়ই নিজস্ব অর্থায়নে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়েছে, এরই মধ্যে কাজ এগিয়েছে বহুদূর। যদিও নানা প্রতিকূলতা এই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরুর পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বঙ্গবন্ধু কন্যা তার সবকিছুই অসীম সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবেলা করে দৃঢ়চিত্তে এই সেতুর কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, বিদ্যুৎসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রেও সরকারের সাফল্য প্রশ্নাতীত। অতীতের দুঃসহ বিদ্যুৎ সংকট মিটিয়ে এখন প্রতিটি ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যপূরণের পথে এগোচ্ছে সরকার। গৃহহীনদের জন্য আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশাপাশি সমাজের অসহায় দুস্থ মানুষের কল্যাণ এবং বিধবা ও পরিত্যক্ত নারীদের জন্য নানা কল্যাণকর পদক্ষেপ, ভাতা প্রদান- এসবও ছিল সরকারের কল্যাণমুখী পদক্ষেপ।
অন্যদিকে, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের এ দেশে আশ্রয়দান এবং এই সংকট সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ গোটা বিশ্বে প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনন্য সাধারণ মর্যাদার আসনে আসীন করেছে শেখ হাসিনাকেও। শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর ভেতরে থেকেই প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে ন্যায্য সমুদ্রসীমার অধিকার আদায়ও তার বিরল কূটনৈতিক সাফল্য। কৃষি, পরিবেশ, শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নসহ নানা ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরস্কার, সম্মাননা ও ডিগ্রি অর্জন করে বাংলাদেশকেও তিনি অনন্য উচ্চাসনে আসীন করেছেন, গোটা জাতিকে করেছেন গৌরবের অংশীদার। নানা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ফোরামগুলোতে সাহসী ও দৃঢ়চেতা ভূমিকা রাখার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বনেতা হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছেন।
এ সব কিছুই আওয়ামী লীগের বড় সাফল্য, যা জনমনে এই দলটির প্রতি প্রত্যাশাকেও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে নির্বাচনী অঙ্গীকার প্রতিপালনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কতখানি আন্তরিক, ব্যর্থতা না সাফল্যের পাল্লা ভারী- এর হিসাব-নিকাশও করছে রাজনীতিমনস্ক বাঙালি। দল ও সরকার এক সুর-লয়ে-ছন্দে চলছে, না পথ চলতে চলতে ছন্দপতন হচ্ছে- তাও লক্ষ্য করছে সাধারণ মানুষ।
এক্ষেত্রে কমবেশি সবার মত হচ্ছে, দুর্নীতি ও সন্ত্রাসকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন যেসব মন্ত্রী-এমপি ও দলীয় নেতা, তারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকছেন। যারা দল ও সরকারের ক্ষতি করছেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছেন, তাদের অনেকেই রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রেই দলীয় ক্যাডারদের আশ্রয়-প্রশ্রয়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি-স্বজনপ্রীতি বন্ধ হচ্ছে না। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড দেশ ও বিদেশে সমালোচিত হচ্ছে। গ্যাস সংকটে শিল্পায়নে স্থবিরতা চলছে। মূল দল আওয়ামী লীগ ছাড়াও ছাত্রলীগসহ দলের কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দলসহ টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি এবং সংঘর্ষে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।
২০০৯ সালের ৩ অক্টোবর তৃণমূল সম্মেলনের সিদ্ধান্ত নিয়ে ৭৮টি সাংগঠনিক জেলার মধ্যে ৭৪টির সম্মেলন ও বাকিগুলোর কমিটি করে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অধিকাংশ জেলা কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে, নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও দলীয় দ্বন্দ্ব-কোন্দল মেটানো যাচ্ছে না। দলের তৃণমূল পর্যায়ে গৃহবিবাদ দলটিকে সমস্যার মুখোমুখি করে তুলেছে। দলের মধ্যে অনুপ্রবেশও কমছে না।
এ ছাড়া গত বছরের ২০ মে বর্ধিত সভার মাধ্যমে নতুন সদস্য সংগ্রহ ও সদস্যপদ নবায়ন অভিযান শুরু করা হলেও এই কার্যক্রমেও গতি নেই। এর আগে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি একদফায় এই কার্যক্রম শুরু করে তা প্রায় সাড়ে সাত বছরেও শেষ করা যায়নি। ফলে দ্বিতীয় দফায় একই কার্যক্রমের উদ্বোধন করতে হয়েছিল। দেরিতে হলেও এসব নীতিনির্ধারক নেতাদের দৃষ্টিতে এসেছে। ২০১৬ সালের ২২ ও ২৩ অক্টোবর সর্বশেষ জাতীয় সম্মেলনে গঠিত তারুণ্যনির্ভর বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচন সামনে রেখে দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব-কোন্দল নিরসনের উদ্যোগের পাশাপাশি ক্ষুব্ধ কর্মীদের সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। দল গোছানোর লক্ষ্যে এক দফায় দেশজুড়ে সাংগঠনিক সফর শেষ করেছে। বিএনপির নিষ্ফ্ক্রিয়তার সুযোগ কাজে লাগিয়ে দলকে গুছিয়ে নেওয়ার অন্যান্য উদ্যোগও চলছে ভেতরে ভেতরে।
এমন সম্মিলিত প্রচেষ্টার সুফল হিসেবেই সম্প্রতি খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয় দলের নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করেছে। সামনে আরও চার সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস রয়েছে তাদের। এর পরই জাতীয় নির্বাচন। সাফল্য, ভুলত্রুটি- সবকিছু ছাপিয়ে ডিসেম্বরের ওই জাতীয় নির্বাচনের দিকে এখন চোখ সরকার ও দলের নীতিনির্ধারকদের। পাশাপাশি অগণিত নেতাকর্মী-সমর্থকেরও। শেষ বিচারে এই নির্বাচনযুদ্ধ তথা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আওয়ামী লীগ কীভাবে সক্ষম হয়, এটিই এখন দেখার বিষয়।
আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছরে সাফল্যের পাশাপাশি অতৃপ্তি নিয়ে দলের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সব সাফল্যের গাথা ভরপুর হয় না। সব কীর্তির কীর্তিগাথাও ভরপুর হয় না। আওয়ামী লীগের ইতিহাসেও জোয়ার-ভাটা আছে।
-

ঢাকা উত্তর বিএনপি সংকট সমাধানে সময় নিয়েছেন মির্জা ফখরুল
এ সময় মহাসচিব নেতাদের জানান, রোববার দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মামলার শুনানি রয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবেন। এই সময়ের মধ্যেই তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিতর্কিত কমিটি গঠনে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে উদ্যোগ নেবেন। ৩ জুন ঢাকা মহানগর উত্তরের ২৫টি থানা ও ৫৮টি ওয়ার্ডের কমিটি ঘোষণা করা হয়।
মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি জানান, পদবঞ্চিত নেতাকর্মী আর সংগঠনের পদধারী নেতারা মহাসচিবের উত্তরার বাসভবনে দেখা করেন। এ সময় তিনি তাদের কথা শোনেন ও ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। যুগ্ম সম্পাদক শামীম পারভেজ বলেন, মহানগর উত্তর বিএনপির সভাপতি এমএ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠন করেছেন। এসব পকেট কমিটিতে মাদক ব্যবসায়ী, খুনি, দলিল লেখকসহ বিতর্কিতদের স্থান দেওয়া হয়েছে। তারা বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের দিয়ে কমিটি করার দাবি জানিয়েছেন। মহাসচিব তাদের দাবির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন।
এর আগে বুধবার মহানগর উত্তরের নেতারা মহাসচিবের সঙ্গে দেখা করে ঘোষিত কমিটির বিতর্কিত নেতাদের এবং বাদ পড়া যোগ্য ও ত্যাগীদের দুটি তালিকা জমা দেন। এর মধ্যে ২৫টি থানায় ১০৭ জন বাদ পড়া নেতার নাম রয়েছে। তারা এই তালিকা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাজাহানের কাছেও জমা দেন। রোববার দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ছাড়াও আরও কয়েকজন নেতার কাছে ওই তালিকা জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
