শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের বিচার না করে পুরস্কৃত করেছিলেন জিয়াউর রহমান।’ আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝালকাঠির নলছিটিতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এ কথা বলেন। পৌরসভা চত্বরে উপজেলা আওয়ামী লীগ এ সভার আয়োজন করে।
উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও পৌর মেয়র তছলিম উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান সাইফুল্লাহ পনিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছিল, দেশ থেকে হত্যাকারীদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতাও করেছিল। এমনকি এ হত্যার বিচার যাতে না হয়, সেজন্য একটি আইন পাশ করা হয়েছিল।’
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর সংবিধানের চারটি মূলনীতি ছুড়ে ফেলে দেওয়া হলো। পাকিস্তানি ধারায় এই দেশকে পরিচালনা করেছিল ষড়যন্ত্রকারীরা। সেই থেকেই বাংলাদেশ পিছিয়ে যায়। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসে বঙ্গবন্ধুর সেইসব অসমাপ্ত কাজ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
Category: রাজনীতি
-

বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছিলেন জিয়া: শিল্পমন্ত্রী
-

ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন ড. কামাল
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ১৬ আগস্ট শেখ হাসিনার অনুরোধ রাখেননি ড. কামাল। সেই তিনি এখন ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন।
শুক্রবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের উদ্যোগে ‘ষড়যন্ত্র যুগে যুগে’ নামক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, ’৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ড. কামাল হোসেনকে মোশতাক সরকারকে স্বীকৃতি না দেয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তিনি বললেন, তা করতে পারবেন না। দেশে যারা লুটপাট করেছে, ড. কামাল আজ তাদের সঙ্গ দিচ্ছেন। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন।
দেশে যত ধরনের ষড়যন্ত্র হয় তা ঘুরেফিরে আগস্ট মাসেই হয় মন্তব্য করে মতিয়া চৌধুরী বলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যু থেকে ২০১৮ সালের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলন পর্যন্ত যত ষড়যন্ত্র হয়েছে তা আগস্টেই প্রকাশ পেয়েছে। যদিও ষড়যন্ত্রের চিন্তাভাবনা অন্য সময় হয়। কিন্তু তা প্রকাশ পায় আগস্টেই।
মতিয়া চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ যখনই অর্থনীতিতে উপরের দিকে উঠতে থাকে তখনই দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র বাংলাদেশকে চেপে ধরে। এ সময় তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে দাবিয়ে দেয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত বারবার একই ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও মিয়ানমার উভয় দেশই ড্রাগ দ্বারা আক্রান্ত। আর রোহিঙ্গা দ্বারা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ড্রাগ ছড়িয়ে দেয়ার একটা ষড়যন্ত্র করা হয়।
বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে মতিয়া চৌধুরী বলেন। তারেকের বাবা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মারা যাওয়ার পর লাশ ঢাকায় আনা হলে তার মুখটি ছেলে তারেক দেখেননি। তিনি বলেন, যেই ছেলের কাছে নিজের পিতার জন্য কোনো মায়া নেই তার কাছে দেশের জন্য কি মায়া থাকবে। এমন মানুষের কাছে দেশ কী আশা করতে পারে?
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতৃভক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, অথচ প্রধানমন্ত্রীর দিকে তাকালে দেখা যায়, যে কোনো কাজ শুরু করার আগে তিনি পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের কবরের কাছে গিয়ে দোয়া চেয়ে আসেন। একেই বলে আদর্শ মানুষের আদর্শ সন্তান।
বিভিন্ন লেখক ও সাংবাদিকদের উদ্দেশ করে কৃষিমন্ত্রী বলেন, চোরের হাতের বন্দুক আর গৃহস্তের হাতের বন্দুক এক করবেন না। কেননা চোর আর গৃহস্তের হাতের বন্দুকের কাজ এক রকম না। বন্দুক এক হলেও তাদের কাজ ভিন্ন রকম।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন ও পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. শামসুল আলম উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলামিস্ট অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।
-

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে আওয়ামী লীগ : মির্জা ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন, ঝিগাতলা ও মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে ‘আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা’। নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনে নামা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ওপর তারা অমানবিকভাবে আক্রমণ চালিয়েছে।
শনিবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন হয়।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আপনারা জানেন যে, আজ দুপুরের পর থেকে ঝিগাতলা, মিরপুরসহ বিভিন্ন স্পটে ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর দফায় দফায় হামলা করা হয়েছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ ও শিক্ষণীয় আন্দোলনের ওপর আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অমানবিক আক্রমণ চালিয়ে শিশু-কিশোরদের মারাত্মকভাবে আহত করেছে। আমরা এই কাপুরুষোচিত হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীরা অভিযোগ করেছে, সম্পূর্ণ বিনা উনকানিতে ধানমণ্ডি আওয়ামী লীগের অফিস থেকে ছাত্রলীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পূর্ব পরিকল্পতভাবে ওইসব সন্ত্রাসী হেলমেট পরে আগ্নেয়াস্ত্র, রামদা ও অন্যান্য অস্ত্র নিয়ে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের রক্তাক্ত ও জখম করেছে। আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে জানতে পেরেছি, সেখানে মুহুর্মুহু গুলি হয়েছে, তাতে অনেক শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের চলমান এই আন্দোলনকে নসাৎ করতে সরকার বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যাচার করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, গত কয়েক দিন ধরে একেবারে শান্তিপূর্ণভাবে নিরাপদ সড়কের জন্য শিক্ষণীয় আন্দোলন চলছিল। ছাত্র-ছাত্রীদের এই আন্দোলন শুধু তাদের জীবনের নিরাপত্তার জন্য, নিরাপদ সড়কের জন্য। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী (ওবায়দুল কাদের) এই আন্দোলনকে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে চিহ্নিত করে ছাত্র-ছাত্রীদের এই ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক আন্দোলনকে নসাৎ করার জন্য যে মন্তব্য করেছেন, আমি তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সরকার সুপরিকল্পিতভাবে এই আন্দোলনকে নসাৎ করার জন্য বিএনপিকে জড়িয়ে মিথ্যা কথা বলছে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমরা ছাত্র-ছাত্রীদের এই ন্যায়সঙ্গত যৌক্তিক আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছি এবং অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সব বিষয়ে ব্যর্থতার জন্য সরকারের পদত্যাগ দাবি করেছি। আমরা কখনোই কোনো সন্ত্রাসী কার্যকলাপে কাউকে উৎসাহ দেইনি এবং দেই না। বরং সরকার ও সরকারদলীয় সন্ত্রাসীরা আজ ন্যক্কারজনক সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করেছে, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপরও ঠিক একইভাবে যে সন্ত্রাসী আক্রমণ চালিয়েছিল এটা তারই ধারাবাহিকতা। সরকারের এহেন হামলার ঘটনার মধ্য দিয়ে ‘একদলীয় বাকশালী চরিত্র’ পুনরায় প্রকাশিত হয়েছে মন্তব্য করে এর বিরুদ্ধে জনগণকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বানও জানান মির্জা ফখরুল।
সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান, আবদুল কাইয়ুম, কেন্দ্রীয় নেতা খায়রুল কবির খোকন, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, নাজিমউদ্দিন আলম, বেলাল আহমেদ, শহিদুল ইসলাম বাবুল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
1Shares -

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠকে তৃণমূল নেতারা
আন্দোলন ও জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে চট্টগ্রাম, সিলেট ও কুমিল্লা সাংগঠনিক বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক বসেছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের শুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকে উপস্থিত আছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু ও বেলাল আহমেদ।তৃণমূল নেতাদের মধ্যে জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক উপস্থিত রয়েছেন।এদিন বেলা ৩টায় ঢাকা, ময়মনসিংহ ও ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হবে।গতকাল শুক্রবার চার বিভাগের সাংগঠনিক জেলা নেতাদের সঙ্গে এ বৈঠক করেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত রাজশাহী ও রংপুর এবং বেলা ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খুলনা ও বরিশাল বিভাগের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়।গতকালকের বৈঠকে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ছাড়া বিএনপি জাতীয় নির্বাচনে যাবে না বলে মত দিয়েছেন দলটির তৃণমূল নেতারা। তারা বলেছেন, আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তারপর জাতীয় নির্বাচন। এজন্য কঠোর আন্দোলনে নামতে প্রস্তুত রয়েছে তৃণমূল।বিগত বিভিন্ন আন্দোলন শুধু ঢাকার ব্যর্থতার কারণে বিফল হয়েছে জানিয়ে তৃণমূল নেতারা আরও বলেন, আগামী দিনের আন্দোলনে ঢাকা মহানগর নেতাদের মাঠে থাকতে হবে। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীকে জোটে না রাখার বিষয়টি ভাবতেও বিএনপির নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দেন তারা।
-

তিন সিটিতে পুলিশি হয়রানির শিকার বিএনপি নেতাকর্মীরা : রিজভী
রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত পুলিশি হয়রানির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।শনিবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।রিজভী বলেন, এই তিন সিটিতে প্রচারণা শুরুর পর থেকেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে আগ্রাসী অভিযান চালাচ্ছে।রিজভী বলেন, বিরোধী নেতাকর্মী ও সমর্থকদের তালিকা ধরে গ্রেফতার অব্যাহত আছে। পুলিশি হয়রানিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নেতাকর্মীদের পরিবার।বিএনপির এই নেতা বলেন,নির্বাচনী প্রচারণা শুরুর পর থেকেই নৌকা মার্কার প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অসংখ্য অভিযোগ আসছে।আর বিএনপিসহ ২০ দলীয় জোট প্রার্থী,সমর্থক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান এখন চরম পর্যায়ে উপনীত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।খুলনা-গাজীপুর নির্বাচনের মতোই আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বিরোধী দলের ভোটার ও পোলিং এজেন্ট শুন্য করার জন্য সরকার এক অভিনব কৌশল অবলম্বন করেছে বলে অভিযোগ করেন রিজভী।তিনি বলেন, সরকারের নির্দেশে তিন সিটি কর্পোরেশনে একপেশে নির্বাচন করার ডিজাইনারের কাজ করে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ প্রশাসন।নির্বাচন কমিশনের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের হাতের মুঠোয়। তিন সিটিতে তফসিল ঘোষণার পর বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার না করার প্রজ্ঞাপন জারির উদ্যোগ নিয়েছিল ইসি। কিন্তু পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আপত্তির মুখে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসে কমিশন।‘গ্রেফতারের পর বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের অবস্থানও জানানো হয় না। আর নির্বাচন নিয়ে এত অনাচারের পরও নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে নির্বাচন কমিশন।’বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে গ্রেফতার না করার জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও সেটিকে অমান্য করে পুলিশ লাগাতার গ্রেফতার করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।তিনি বলেন, রাজশাহী সিটিতেও বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের গণগ্রেফতার করা হচ্ছে। সেখানে নৌকা মার্কার পক্ষে ভোট কারচুপির আভাস স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রায় ৯০ শতাংশ আওয়ামী সমর্থিত লোকদের পোলিং ও প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।সিলেট সিটি নির্বাচনেও রাজশাহী ও বরিশালের মতোই চিত্র উল্লেখ করে রিজভী বলেন, এখানে ভোটারদের মধ্যে কোনো আনন্দ নেই, ভোটারদের মনে একটা থমথমে ভাব বিরাজ করছে।‘পরশু রাতেও বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ হানা দিয়েছে, গ্রেফতারও করেছে কয়েকজনকে। আর মামলা দিয়ে কয়েকশ নেতাকর্মীকে ঘরছাড়া করা হয়েছে।’
-

খালেদা জিয়ার জ্বর কমছেই না, ফের ইউনাইটেডে নেয়ার দাবি রিজভীর
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এখনও গুরুতর অসুস্থ। তার জ্বর ও শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা কোনোভাবেই কমছে না। মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন, এমন অবস্থায় খালেদা জিয়াকে দ্রুত ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তির দাবি জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
রোববার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন রিজভী।
তিনি বলেন, গতকাল কারাগারে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা হয়। তিনি খুব বেশি অসুস্থতার কারণে দোতলা থেকে নিচে নামতেই পারছেন না। তার হাঁটাচলা করতে কষ্ট হয়। কারাগারে অবর্ণনীয় কষ্টে রাখার জন্যই তার অসুস্থতা দিনকে দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রিজভী বলেন, বারবার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসার দাবি করে হলেও শারীরিকভাবে যন্ত্রণা দিতেই তাকে কারাগারের লাল দেয়ালের মধ্যে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। সরকারের এই নির্দয় আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।
রাজশাহী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম মতিউর রহমান মন্টুকে আটকের বিষয়ে রিজভী বলেন, গভীর রাতে তার রাজশাহীর বাসা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ আমাদের নেতা অ্যাডভোকেট একেএম মতিউর রহমান মন্টুকে গ্রেফতার করলেও বিষয়টি স্বীকার করছে না।
তিনি বলেন, নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বারবার বিবেকহীন এই নিষ্ঠুর আচরণের পুনরাবৃত্তি বিএনপি এবং দেশের মানুষের মনে আরও গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা চিরস্থায়ী রূপ নিয়েছে। আমি এর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, আসন্ন তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন গত দুতিন দিনে জনসমর্থনহীন নৌকা মার্কার প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা খুলনা-গাজীপুরের সন্ত্রাসের আবহে নতুন মডেলের ভোট জালিয়াতির আসল রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের রাত-দিন গণগ্রেফতার শুরু করেছে তারা।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে ধানের শীষের আবেদন আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আওয়ামী চেতনায় সাজানো প্রশাসন নির্বাচনী এলাকাগুলোতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর ইউরোপে মধ্যযুগীয় ‘ডাইনি শিকার’-এর ন্যায় অভিযানে নেমেছে। খুলনা ও গাজীপুরের স্টাইল গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচনকে ক্রমাগত হত্যা করার স্টাইল। সেই স্টাইল ৩০ জুলাই তিনটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে এখনও বলবৎ রয়েছে।
রিজভী বলেন, ক্ষমতাসীন দল বেআইনিভাবে জয়ী হতে চাচ্ছে বলেই বেপরোয়া গ্রেফতার, গণগ্রেফতারসহ এক আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়েছে। সরকারদলীয় প্রার্থীদের জেতাতে তিন সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই এ গ্রেফতার অভিযান চালানো হচ্ছে।