Category: রাজনীতি

  • দেশে অঘোষিত বাকশালী শাসন চলছে: নজরুল

    দেশে অঘোষিত বাকশালী শাসন চলছে: নজরুল

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, ‘দেশে অঘোষিত বাকশালী শাসন চলছে। আইনের শাসন আর গণতন্ত্র আজ শৃঙ্খলিত।’ তিনি বলেন, ‘এই দিন তো শেষ দিন নয়। যেসব দৃষ্টান্ত এই সরকার তৈরি করছে, আমাদের তার সব প্রয়োগ করার প্রয়োজন হবে না। আমরা নেত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি। প্রয়োজনে আবার নেত্রীর নির্দেশ এলে আন্দোলনের ধরনের পরিবর্তন হলে ২০ দলীয় জোটকে সেটির জন্যও প্রস্তুত থাকতে হবে।’

    মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ লেবার পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি যে আচরণ করছে, তা কোনো মানুষের আচরণ নয়। এটা অমানুষের আচরণ। যে মামলায় আদালত তাকে সাজা দিয়েছেন, সেই মামলায় তিনি দেশের সর্বোচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। কিন্তু সরকার নানা কৌশলে ৭৩ বছর বয়স্ক মহিলাকে কারাগারে আবদ্ধ করে রেখেছে।’

    লেবার পার্টির চেয়ারম্যান এমদাদুল হক চৌধুরীর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য দেন দলের মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী। বক্তব্য দেন বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, চেয়াপরসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, হাবিবুর রহমান হাবিব, জাতীয় পার্টি (জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার, প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিঙ্কন, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, এলডিপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম প্রমুখ।

    উপস্থিত ছিলেন ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর শুরা সদস্য ফরিদ হোসাইন, জাগপার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, মহানগর সদস্য সচিব মো. শহীদুননবী ডাবলু, কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, বিজেপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আবদুল মতিন সাউদ, এনপিপি মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, মুসলিম লীগের মহাসচিব শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরী, এনডিপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. মঞ্জুর হোসেন ঈসা, খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শেখ গোলাম আজগর, জাতীয় পার্টি (জাফর) যুগ্ম মহাসচিব এস.এস.এম শামিম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, ইসলামিক পার্টি মহাসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কাশেম, ইসলামী ঐক্যজোট যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা শওকত আমীন, ডিএলের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা এম.এন শাওন সাদেকী প্রমুখ ইফতার মাহফিলে অংশ নেন।

    লেবার পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আলী, শামসুদ্দিন পারভেজ, মাহমুদ খান, হিন্দু রত্ন রামকৃঞ্চ সাহা, যুগ্ম মহাসচিব শামীমা চৌধুরী, আহসান হাবীব ইমরুজ, আবদুল্লা আল মামুন প্রমুখ।

  • নড়াইলে পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে ইফতারে মাশরাফি

    নড়াইলে পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে ইফতারে মাশরাফি

    নড়াইলে পুলিশ সুপারের আমন্ত্রণে ইফতার ও দোয়া মাহফিলে অংশ নিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ওয়ানডে দলের অধিনায়ক  নড়াইল এক্সপ্রেস খ্যাত মাশরাফি বিন মর্তুজা। জেলা পুলিশের আয়োজনে সোমবার  সন্ধ্যায় পুলিশ লাইন্স মিলনায়তনে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স অ্যান্ড ক্রাইম) এ কে এম নাহিদুল ইসলাম।

    পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দীন পিপিএম এর সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অংশ নেন জেলা ও দায়রা জজ আব্দুল আহাদ শেখ, জেলা প্রশাসক এমদাদুল হক চৌধুরী, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সোহরাব হোসেন বিশ্বাস, সিভিল সার্জন মুন্সী আছাদ-উজ-জামান, চিফ  জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী আল মাসুদ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহিদুল ইসলাম পিপিএম, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মেহেদী হাসান, সহকারী পুলিশ সুপার (সদর) জালাল উদ্দীন, নড়াইল পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম ফজলুর রহমান জিন্নাহ, সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দীন খান নিলু, নড়াইল প্রেসক্লাব সভাপতি আলমগীর সিদ্দিকী, সাবেক সভাপতি এনামুল কবির টুকু, অ্যাডভোকেট রমা রানী, জেলা পরিষদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা সাইফুর রহমান হিলু, রওশন আরা কবির লিলি, নাজমিন সুলতানা রোজী, জাতীয় মহিলা সংস্থার নড়াইল জেলার চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতা, নারীনেত্রী আঞ্জুমান আরা, ইসমত আরা, গুলশান আরা, পলি রহমান, সুইটি বিশ্বাসসহ নড়াইলের বিভিন্ন থানার ওসি, সরকারি-বেসরকারি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, মেম্বার ও বিভিন্ন পেশার মানুষ। এসময় মাশরাফি  আগুন্তক অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। ইফতার মাহফিলে দেশ ও জাতির  মঙ্গল কামনা করে দোয়া করা হয়।

  • এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল ঢাকা উত্তর বিএনপি

    এক বছর পর পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল ঢাকা উত্তর বিএনপি

    আংশিক কমিটি ঘোষণার এক বছর দেড় মাস পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি পেল ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি।

    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির দপ্তর সম্পাদক এ বি এম এ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রবিবার রাতে থানা ও ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়।

    ২০১৭ সালের ১৯ এপ্রিল ঢাকা মহানগরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে উত্তর ও দক্ষিণের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়েছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    উত্তরের সভাপতি করা হয় এম এ কাইয়ুম ও সাধারণ সম্পাদক করা হয় আহসান উল্লাহ হাসানকে। আর দক্ষিণের সভাপতি করা হয় হাবিব উন নবী খান সোহেলকে এবং উত্তরের সভাপতি করা হয় কাইয়ুমকে।

    থানা ও ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি উত্তরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক অনুমোদন করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রত্যেক থানা কমিটিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে মহানগর কমিটির সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের পদ মর্যাদা এবং একইভাবে ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদাধিকার বলে থানা কমিটির সহসভাপতি ও যুগ্ম সম্পাদকের মর্যাদা লাভ করবেন।

    এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২৫টি থানায় প্রতিটিতে কমিটিতে ১২১ জন্য সদস্য থাকছেন। ৫৮ ওয়ার্ডের প্রতিটি কমিটি ৭১ সদস্যবিশিষ্ট।

  • বাকি চার সিটি নির্বাচনেও জিতব: কাদের

    বাকি চার সিটি নির্বাচনেও জিতব: কাদের

    খুলনার মতো গাজীপুর, রাজশাহী, বরিশাল এবং সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ জিতবে বলে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। আর সিটি নির্বাচনে জয়ের ধারাবাহিকতায় আগামী জাতীয় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগ আবার জিতবে বলেও নিশ্চিত তিনি।

    সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেছেন, ‘গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন থেকে বিজয়ের ধারা আরও তিনটি সিটিকে বিজয়ের এগিয়ে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আবারও আমরা বিজয়ী হব।’

    ববিবার সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে যুবলীগ আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠান শেষে দলের কার্যালয়ে এ ‍কথা বলেন কাদের।

    গত ১৫ মে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপিকে ৬৮ হাজার ভোটে হারিয়েছে আওয়ামী লীগ। যদিও ভোট নিয়ে আপত্তি আছে পরাজিত দলটির। তাদের অভিযোগ ২৮৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টিতে কারচুপি হয়েছে।

    একই দিন ভোট হওয়ার কথা ছিল গাজীপুরে। ক্নিতু আদালতের রিট আবেদনের কারণে ভোট পিছিয়ে ২৬ জুন গেছে।

    কাদের বলেন, ‘নেক্সট ইলেকশন হবে গাজীপুরে। জনগণ উন্নয়ন-অর্জনের যে ধারা রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আজকে চলছে এবং যার সুফল গাজীপুরবাসী অলরেডি পেয়েছে এবং পাচ্ছে।’

    ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে গাজীপুরে দেড় লাখ ভোটে হেরেছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আজমত উল্যাহ খান। তবে এবার ভোটের ফল পক্ষে আসার ব্যাপারে নিশ্চিত কাদের।

    ‘গাজীপুরের মানুষ গতবার যে ভুল করেছে, সেই ভুলের পুনরাবৃত্তি এবার তারা করতে চায় না। আমরা আশাবাদী গাজীপুরেও আমাদের প্রার্থী বিজয়ী হবে, নৌকা বিজয়ী হবে।’

    গাজীপুরের পর ৩০ জুলাই ভোট হবে রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনে। সেখানেও জয় পাওয়ার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

    ‘আমরা আশা করি, নারায়ণগঞ্জে আমরা যে ধারার সূচনা করেছি এবং কুমিল্লা ও রংপুরে আমরা হেরেছি। কিন্তু এরপর খুলনায় বিজয়ী হয়েছি। এই বিজয়ের ধারা আগামী গাজীপুর থেকে আরও তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের বিজয়কে এগিয়ে নিয়ে আগামী ডিসেম্বরের জাতীয় নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা আবারও বিজয়ী হবো।’

    ‘কারণ, এই বাংলাদেশ এবার মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে বিজয়ী করবে। এই বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়্যারের স্পিরিটকে ধারণ করবে।’

    এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনে নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার লক্ষ্যে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ এবং গাজীপুর মহানগর যুবলীগের পক্ষ থেকে টিমের তালিকা ওবায়দুল কাদেরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্ব ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মহি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরন্নবী চৌধুরী শাওন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য শেখ ফজলে ফাহিম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল, সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেনসহ বিভিন্ন জেলা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকরা।

    উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, আব্দুস সাত্তার মাসুদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য কাজী আনিসুর রহমান, মিজানুল ইসলাম মিজু, সুভাষ চন্দ্র হাওলাদার, ইকবাল মাহমুদ বাবলু প্রমুখ।

  • খালেদাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন মতিয়া

    খালেদাকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইতে বললেন মতিয়া

    জেল থেকে মুক্তি পেতে খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা ভিক্ষার আবেদন করতে বলেছেন কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী।

    রবিবার দুপুরে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর রূপনারায়নকুড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থী ও দুঃস্থদের মাঝে ঈদ-উল ফিতরের উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে কৃষিমন্ত্রী এ কথা বলেন।

    এ সময় মন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনি যদি ছাড়া পেতে চান, মুক্ত হতে চান তবে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমার আবেদন করেন, ক্ষমা ভিক্ষা চান। যদি রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করেন তাহলে হবে, না হলে হবে না।’

    ‘শেখ হাসিনাকে দোষ দিয়ে কোনও লাভ নেই। চুরি এমন জিনিস, এটা হজম করা খুব কঠিন। আপনি (খালেদা) চোর, আপনার ছেলে (তারেক) চোর।’

    তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতির বিচার নয়, চুরির বিচার হয়েছে। গ্রামের রহিমন-করিমনরা চুরি করলে তার দায়ে সাজা হবে আর আপনি (খালেদা জিয়া) আপনি চুরি করলে আপনাকে শাস্তি দেওয়া যাবে না?’

    শেরপুরের জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যের মধ্যে পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি, নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মুখলেছুর রহমান রিপন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরফদার সোহেল রহমান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিয়াউল হোসেন মাস্টার, সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হকসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

    এদিন মন্ত্রী উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের ৮ম ও ৯ম শ্রেণির মেধাবী প্রথম দশজনের মাঝে মোট ১৬৭টি থ্রিপিস, ১৩৫টি শাড়ি, দশম শ্রেণির মেধাবী প্রথম দশজন করে মোট ১৩৫ জন শিক্ষার্থীর মাঝে ৫শ করে প্রণোদনার অর্থ বিতরণ করেন। এছাড়াও গরীব ও দুঃস্থদের মাঝে ৩ হাজার ৯শ টি শাড়ি, ৮৫০ টি ট্রাউজার-গেঞ্জি সেট, ৫টি শার্ট ও খেজুর বিতরণ করেন।

  • শেরপুর-৩: অভিযোগে ভারাক্রান্ত আ.লীগ এমপি, নির্ভার বিএনপি

    শেরপুর-৩: অভিযোগে ভারাক্রান্ত আ.লীগ এমপি, নির্ভার বিএনপি

    শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে বইছে আগাম নির্বাচনী হাওয়া। এই আসনে বর্তমান এমপি প্রকৌশলী এ কে এম ফজলুল হক। তার বিরুদ্ধ দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ দুই উপজেলার নেতাদের। এই আসনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়ন পেতে মাঠে নেমেছেন অন্তত ১০ জন।
    এ ক্ষেত্রে অনেকটা নির্ভার বিএনপি। সম্ভাব্য প্রার্থিতার আলোচনায় দুজনের নাম এলেও জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে ধারণা।

    আগামী নির্বাচন সামনে রেখে আগাম প্রচারণায় দৃশ্যমাণ তৎপরতা বেশি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে। নিজের মনোনয়ন নিশ্চিত করতে ইফতার, সভা-সমাবেশ, পোস্টার-লিফলেট বিতরণসহ সামাজিক অনুষ্ঠানে ছুটছেন মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা। সেই সঙ্গে চলছে জোর লবিং। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাড়াচ্ছেন সংযোগ। তবে বর্তমান এমপি ফজলুল হক নেতাকর্মীদের নিয়ে উদাসীন বলে অভিযোগ স্থানীয় নেতাদের।

    আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হতে এবারও মনোনয়ন চাইবেন এমপি ফজলুল হক। তিনি দুই মেয়াদে এ আসনের এমপি। তবে এবার তার মনোনয়ন পাওয়া সহজ হবে না। তার বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন স্থানীয় অনেক নেতা, যারা আবার মনোনয়ন-প্রত্যাশী।

    আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য অন্য মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ও আশির দশকের ছাত্রনেতা ইফতেখার হোসেন কাফি জুবেরী। তিনি ১৯৯১ সাল থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন।

    শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার আবু ছালেহ নুরুল ইসলাম হিরু, খড়িয়া কাজীরচর ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সদস্য এডিএম শহিদুল ইসলাম, জেলা মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদিকা নাসরিন বেগম ফাতেমা, প্রয়াত এমপি এমএ বারীর ছেলে মহসীনুল বারী রুমি, মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর ডা. ওয়ালীউজ্জামান আশরাফি লতা (দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে মনোনয়ন চেয়ে আসছেন), ঝিনাইগাতী উপজেলা আ.লীগ সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাঈম, সাধারণ সম্পাদক আমিরুজ্জামান লেবু ও সমুদ্রসীমা বিজয়ী মামলার প্রসিকিউটর খোরশেদ আলম কালা প্রার্থিতার কথা জানান দিয়েছেন।

    এসব মনোনয়ন-প্রত্যাশীর অনেকে বর্তমান এমপি এ কে এম ফজলুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ এনে সোচ্চার।

    শ্রীবরদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহারুল ইসলাম লিটন বলেন, বর্তমান এমপি আসলে আওয়ামী ঘরানার লোক নন। এ বিষয়টা এলাকার সবাই জানে। এ ছাড়া পুলিশে লোক নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, কাবিখা, কাবিটা, টিআর, জিআরসহ এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি দুর্নীতি করেননি।’ এলাকায় কোনো উন্নয়নমূলক কাজ না হওয়ায় এমপি ফজলুল হক জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন বলে দাবি করেন এই নেতা।

    একই অভিযোগ ঝিনাইগাতী উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি এস এম এ ওয়ারেজ নাইমের। তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবের সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পর্ক নেই দুই উপজেলাতেই। আমাদের উপজেলা আওয়ামী লীগের অফিসে তিনি (ফজলুল হক) কখনো আসেন না। তার সঙ্গে জনগণের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’ গতবারের নির্বাচন যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হতো তাহলে তার পক্ষে এমপি নির্বাচিত হওয়া কঠিন কাজ ছিল বলে দাবি করেন নাইম।

    এমপি ফজলুল হক নিয়োগ কেলেংকারির সঙ্গে জড়িত এমনটা জানিয়ে ওয়ারেজ নাঈম আরও বলেন, ‘তার ভাই (বিএনপির সাবেক এমপি) ডা. সেরাজুল হক যখন নির্বাচন করতেন,  তিনি (ফজলুল হক) তাকে সার্বিক সহযোগিতা করতেন। তার ভাই সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার পর ভাতিজা নমিনেশন পেলে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নের জন্য লবিং করেন এবং ২০০৮ সালে তা পেয়ে যান। এখনো তার সম্পর্ক বিএনপির লোকজনদের সঙ্গে বেশি।’

    দুর্নীতির অভিযোগ এনে ঝিনাইগাতীর নলকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আইয়ুব আলী ফর্সা বলেন, ‘শুনেছি কিছুদিন আগে ত্রাণের টিন বিতরণ করেছেন এমপি সাহেব। কিন্তু আমার এলাকার একজনকেও খোঁজে পাইনি যে এ রকম ত্রাণ পেয়েছে।’

    ঝিনাইগাতী সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম বলেন, ‘এমপি ফজলুল হক পুরো উপজেলা থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। তিনি এলাকার যেমন উন্নয়ন করেন না তেমনি দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখেন না। আওয়ামী লীগকে মাইনাস করেই চলেন এমপি।’

    এসব অভিযোগ অস্বীকার করে এমপি ফজলুল হকের দাবি, এলাকায় অনেক উন্নয়ন করেছেন তিনি। এ পর্যন্ত ১৬০০ কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন দিলে তিনি আবার এমপি নির্বাচিত হবেন বলে আশাবাদী।

    এমপি ফজলুল হক বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে মাঠপর্যায়ের সাধারণ ভোটার ও নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়সহ বিভিন্ন সমাবেশ করে সরকারের উন্নয়নের প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন তিনি। দুই উপজেলায় গ্রামীণ অবকাঠামো, রাস্তাঘাট, ব্রিজ নির্মাণ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, বিদ্যুতায়নসহ বিভিন্ন উন্নয়নকাজ বাস্তবায়ন করেছেন।

    তবে ভোটাররা এবার মুখ কিংবা মার্কা দেখে ভোট দেবেন না বলে জানান অনেকে। শ্রীবরদী বাজারে বসবাসকারী জোলেখা খানম নামের এক গৃহিণী বলেন, এলাকায় কারও কারও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও নৌকা প্রতীক পেলেই এমপি হবেন, এমন ধারণা নিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন কাজে আসবে না। এলাকার উন্নয়নের জন্য কাজ করবেন এমন প্রার্থীকেই তারা বেছে নেবেন।

    অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থিতা নিয়ে তেমন একটা সংকট নেই। জেলা বিএনপির সভাপতি ও দুবারের সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল আগামী নির্বাচনেও মনোনয়ন পেতে পারেন। তা ছাড়া ঝিনাইগাতী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বাদশার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছে।

    তবে শ্রীবরদী উপজেলা শাখা জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির নূরুজ্জামান বাদল বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোট থেকে মনোনয়ন চাইবেন বলে জানা গেছে। জোট থেকে মনোনয়ন না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    জাতীয় পার্টি থেকে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম ফর্সা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এ কে এম ফজলুল হকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন। আগামী নির্বাচনেও তিনি জাপা থেকে প্রার্থিতার কথা বলছেন। কিছুটা তৎপর রয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আবু নাসেরও।