Category: রাজনীতি

  • খালেদার জামিন নিয়ে তামাশা হচ্ছে: নজরুল

    খালেদার জামিন নিয়ে তামাশা হচ্ছে: নজরুল

    কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জামিন নিয়ে সরকার তামাশা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীর ঐক্যজোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খান। খালেদা জিয়ার জামিন বাতিল হয়ে যাওয়া এবং জামিন না হওয়ার পেছনে সরকারের হাত দেখছেন তিনি।

    মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনায় নারায়ণগঞ্জের বিবি রোডের গ্র্যান্ড হলে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে সাম্যবাদী দল।

    নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়া নাকি ভালো পরিবেশে রয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো তিনি অনেক অসুস্থ। দ্রুত বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতায় চিকিৎসা প্রয়োজন। সরকার খালেদা জিয়াকে অসুস্থ অবস্থায় রেখে তামাশা শুরু করেছে, জামিনযোগ্য মামলায়ও জামিন পাচ্ছেন না তিনি। সরকার অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্যই খালেদা জিয়াকে কারাগারে বন্দি রাখতে চাইছে।’

    বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ওয়ান ইলেভেনের সময়েও আপস করেননি। এর আগেও করেননি, কখনোই করবেন না। তিনি দেশ ও দেশের মানুষের প্রশ্নে আপসহীন। মানুষের ভোটের অধিকার আদায়ের ব্যাপারেও এর ব্যত্যয় হবে না।’

    ‘দেশের মানুষ খালেদা জিয়া ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেবে না, নির্বাচন মেনে নেবে না। দেশের মাটিতে অনির্বাচিত কোনো সরকার ভোটারবিহীন নির্বাচন করে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না।’

    নজরুল বলেন, ‘মানুষ মেরে লগি বৈঠার রাজনীতি করে আওয়ামী লীগ। ক্ষমতায় যেতে তারা মানুষ হত্যা করতেও দ্বিধাবোধ করেন না। অথচ বিএনপি শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিশ্বাসী।’

    দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, সাম্যবাদী দলের প্রধান কমরেড সাইদ আহম্মেদসহ নারায়ণগঞ্জের ২০ দলের নেতারা।

  • দেশে ইয়াবা আমদানি করেন খালেদাপুত্র: খালিদ

    দেশে ইয়াবা আমদানি করেন খালেদাপুত্র: খালিদ

    যুব সমাজকে ধ্বংস করতে বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ছোটছেলে আরাফাত রহমান কোকো দেশে জীবনবিনাশী ইয়াবার আমদানি করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

    দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় কয়েকটি গ্রামে নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার বিকালে তিনি এই কথা বলেন।

    মাদকের বিস্তারকে দেশের জন্য ভয়াবহ সমস্যা আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর যুদ্ধ ঘোষণায় সমর্থন আছে কি না- জানতে চাইলে উপস্থিত কয়েক হাজার লোক দুই হাত তুলে মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের চলমান অ্যাকশনে সমর্থন জানান।

    খালিদ বলেন, ‘বিএনপি গোটা দেশে মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তোলে, দেশের যুব ও তরুণ সমাজকে অন্ধকারে ও বিপথে ঠেলে দিয়ে হাজার হাজার কোটি কালোটাকার পাহাড় গড়েছিল। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে ছিল এ মাদকের গডফাদার। বিদেশে সে মাদকাসক্ত অবস্থায় মারা গেছে।’

    আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি দেশের জনগণকে বিদ্যুতের অভাব আর মাদকের ছোবল দিয়ে অন্ধকারে রেখেছিল। আর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ ও তথ্যপ্রযুক্তির ছোঁয়ায় দেশের জনগণকে আলোকিত করেছেন। আজকে দেশের জনগণ যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধার কারণে বিশ্বের যেকোনো জায়গায় স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন। নতুন প্রজন্ম নিজেকে গড়ে তুলতে পারছে বিশ্ব মডেলে।’

    খালিদ বলেন, ‘তরুণ সমাজকে রক্ষায় এবার প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে অলআউট অ্যাকশনে নেমেছেন। জাতির বৃহত্তর স্বার্থে দলমত নির্বিশেষে মাদক সম্রাটদের বিরুদ্ধে এই অ্যাকশন চলবে। সারাদেশের মানুষ এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছে; কিন্তু বিএনপি নানা ছল-ছোতায় এই অভিযানের বিরুদ্ধে কথা বলে যাচ্ছে। বিএনপি এই জাতিকে অন্ধকারে রাখতে চায়। এ দেশের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করতে চায়।’

    ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব সমাজকে আলোর পথে নিয়ে আসতে চান। নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমাপের করে গড়ে তুলতে চান। প্রজন্ম রক্ষায় শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখতে হবে। বিএনপি ক্ষমতায় আসতে পারলে দেশের প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’

    জেলা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হরেন্দ্র নাথ বর্মনের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এম আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বাবু, অধ্যাপিকা সুফিয়া নাহার মঞ্জু, উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান, যুবলীগের সভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক মিঠুন চন্দ্র রায়।

  • সরকার ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যা করছে: ফখরুল

    সরকার ‘বিচারবহির্ভূত’ হত্যা করছে: ফখরুল

    বন্দুকযুদ্ধে’র নামে মিথ্যা কথা বলে সরকার ‘বিচারবহির্ভূত’’ হত্যা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    সোমবার বিকালে জাতীয় প্রেস কাব মিলনায়তনে বিএনপি সমর্থিত বাংলাদেশ ফেডারেল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (বিএফইউজে) ও ঢাকা ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট (ডিইউজে) এর যৌথ উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলে তিনি এ অভিযোগ করেন। অনুষ্ঠানে বিএফইজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী স্বাগত বক্তব্য দেন।

    মির্জা ফখরুল বলেন, আপনারা লক্ষ্য করছেন গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে হত্যা করছে বিনা বিচারে। মাদক সেবনকারী বা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে তারা (সরকার) আসলে কাদেরকে হত্যা করছে, তারা ভাবছেন আমরা কিছুই জানতে পারছি না। আমরা শুধু এটুকু জানছি, বিনা বিচারে বন্দুকযুদ্ধের নাম বলে মিথ্যা কথা বলে তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে। আমরা সবাই মাদকের বিরুদ্ধে। আমরা চাই যে, দেশ পুরোপুরিভাবে মাদকমুক্ত হোক। একই সঙ্গে আমরা দেশে ন্যায় বিচার, ন্যায়ের শাসন দেখতে চাই, আমরা ইনসাফ দেখতে চাই।

    বর্তমানে গণমাধ্যমে অবস্থা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, যে হারে আজকে গণমাধ্যমের ওপরে চাপ সৃষ্টি করছে, যে হারে আজকে সেন্সরশীপ করছে, যে হারে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাতে সত্য বেরিয়ে আসতে পারছে না। যারা সত্য কথা বলছেন তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছে, তাদেরকে বিভিন্নভাবে বিপদগ্রস্ত করা হচ্ছে। আমরা শুনেছি- কয়েকদিন আগে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা সত্য কথাগুলো বলেছিলেন, নিউজ করতে গিয়েছিলেন তাদের অনেকে চাকুরিচ্যুত করা হয়েছে।

    বেগম খালেদা জিয়াকে সরকার বিভিন্ন কৌশলে কারাগারে আটকে রাখার অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার এজন্য এটা করছে যে তারা রাজনৈতিক দিক থেকে একেবারে দেউলিয়া হয়ে গেছে। জনগণের কাছে যেতে ভয় পায়, জনগণের সামনে আসতে ভয় পায়। যে কারণে আজকে তারা (সরকার) বিরোধী দলীয় নেত্রীকে এবং বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের গুম করে খুন করে আজকে দেশে একটা এমন ত্রাসের অবস্থা সৃষ্টি করেছে যেটাকে ফ্যাসিবাদ বলা ছাড়া অন্য কিছু বলার উপায় নেই।

    ফখরুল বলেন, আমরা বলতে চাই, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই একটা নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে, নির্বাচন নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় সকল দলের অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন হতে হবে। আসুন আজকে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার মধ্য দিয়ে সমাজের সকল পেশা ও শ্রেণির মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে আমরা সকলে একযোগে আন্দোলন করি- এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।

    ইফতারে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, শওকত মাহমুদ, জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পারোয়ার, জাতীয় প্রেস কাবের সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, নয়া দিগন্তের সম্পাদক আলমগীর মহিউদ্দিন, বিএফইউজে‘র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, জাতীয় প্রেস কাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান প্রমুখ ছিলেন।

    ২০ দলীয় জোটের নেতৃবৃন্দ, পেশাজীবী নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা ইফতারে অংশ নেন।

  • আন্দোলনেই খালেদাকে মুক্ত করতে হবে: ফখরুল

    আন্দোলনেই খালেদাকে মুক্ত করতে হবে: ফখরুল

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আন্দোলন করেই বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হবে। এটাই সত্য কথা। আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। কোনো স্বৈরাচারী সরকারকে সরানোর জন্য আন্দোলনের বিকল্প নেই। জনগণের সম্পৃক্ততা ছাড়া কোনো আন্দোলন সফল হয় না। তাই জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে।’

    সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবুসহ গ্রেপ্তারকৃত সব রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    ফখরুল বলেন, ‘আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটাতে হবে। কীভাবে প্রতিদিন মানুষ হত্যা করা হচ্ছে? এত রক্ত ১৯৭১ সালের পর আর ঝরেনি। এটা কল্পনা করা যায় না। একটি সভ্য দেশে এভাবে বিনা বিচারে মানুষ হত্যা করা হবে তা কল্পনা করা যায় না।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কে মাদকদ্রব্য সেবন করে, কে ব্যবসা করে সেটা কথা নয়। যাদের হত্যা করা  হচ্ছে তারা বিচার পাচ্ছে না কেন?’

    ‘কক্সবাজারের একজন কমিশনারকে হত্যা করা হয়েছে। তিনবার তিনি কমিশনার নির্বাচিত হয়েছেন। হাজারো মানুষ সেখানে জানাজায় অংশ নিয়েছে। সবাই বলছে নিরপরাধ একজনকে হত্যা করা হয়েছে। তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপিও দেবে। এর দ্বারা বোঝা যায় এটা শুধু মাদকবিরোধী অভিযান নয়। এতে কোনো ষড়যন্ত্র আছে। একটার পর একটি ষড়য়ন্ত্র করেই আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় টিকে আছে।’

    ফখরুল বলেন, ‘আনন্দবাজার পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে, আসন্ন নির্বাচনে ভারতের সাহায্য চেয়েছেন শেখ হাসিনা। এই খবর যদি সত্য হয় তাহলে কি এই দেশ স্বাধীন আছে? তাহলে কি দেশকে অঙ্গরাজ্য বানাতে চায় সরকার?’

    ‘এই ভয়াবহ দানব যে আমাদের বুকের ওপর এসে পড়েছে তাকে সরাতে হবে। আমরা যদি আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারকে সরাতে না পারি তাহলে জাতি আমাদেরকে ক্ষমা করবে না।’

    বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের প্রতীক। নির্বাচন অবশ্য দিতে হবে। সেটা খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে এবং জনগণের ভোটের নিরাপত্তার জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে।’

    স্বেচ্ছাসেবক ফোরাম-ঢাকা মহানগর উত্তর আয়োজিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মশিউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রমুখ।

  • বন্দুকযুদ্ধ: রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের মুখে আ. লীগ নেতারা

    বন্দুকযুদ্ধ: রাষ্ট্রদূতদের প্রশ্নের মুখে আ. লীগ নেতারা

    বাংলাদেশে ৩৩টি দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার বা তাদের প্রতিনিধিনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের মতবিনিময়ে কথা হয়েছে চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। বন্দুকযুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি নিয়ে কূটনীতিকরা প্রশ্ন রেখেছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের কাছে। আর নেতারা জানান, যেখানে সংঘর্ষ হচ্ছে, সেখানে প্রাণহানি হচ্ছে।

    সোমবার বেলা দুই টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে এই মতবিনিময় সভা হয়।

    সভায় ৩৩ দেশের কূটনৈতিকরা যোগ দেন। এদের মধ্যে ছিলেন অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ প্রায় ১২ টি দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার। বাংলাদেশে রাষ্ট্রদূত এবং যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনাররা না থাকলেও তাদের প্রতিনিধি ছিল।

    আওয়ামী লীগের পক্ষে দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য মোহাম্মদ জমির, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, উপ দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে উপস্থিত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, কূটনীতিকরা বেশিরভাগ সময় প্রশ্ন রেখেছেন চলমান মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ প্রাণহানি নিয়েই তাদের আপত্তি।

    গত ৪ মে থেকে দেশে র্যা ব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চলছে। এরই মধ্যে মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে একশ। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারের টেকনাফের ওয়ার্ড কাউন্সিলর একরামুল হকের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়রা এবং একরামুলের নিজের দল আওয়ামী লীগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তাকে ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ১০ বছর আগে একরামুলের বিরুদ্ধে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা মাদক আইনে একটি মামলা করেন। তবে সেটি মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। আবার তার আর্থিক অবস্থা একেবারেই সঙ্গীন। ইয়াবার কারবারি হলে এমনটি হওয়া সম্ভব কি না, সে প্রশ্ন উঠেছে।

    অভিযানে নিহতদের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য গত ১৪ বছর ধরে চলা ক্রসফায়ার আর বন্দুকযুদ্ধের বর্ণণার বাইরে নয়।

    ২০০৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে র‌্যাব গঠনের পর ব্যাপকভাবে শুরু হয় ক্রসফায়ার। সন্দেহভাজন বা তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর গুলি করলে পাল্টা গুলি করে নিরাপত্তা বাহিনী। এবং এর এক পর্যায়ে নিহত হচ্ছেন সন্দেহভাজনরা।

    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব বর্ণনা কখনও বিশ্বাসযোগ্য ছিল না মানবাধিকারকর্মীদের কাছে। দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও মানবাধিকার কর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থা এ রকম ‘বন্দুকযুদ্ধ’ বা ‘ক্রসফায়ার’কে বিচারবহির্ভুত হত্যা বলে আসছে।

    চলমান মাদকবিরোধী অভিযানেও এমনটাই হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নে আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, এটা কোনোভাবেই বিচারবহির্ভুত হত্যা নয়।

    ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে জানান হয়, এটি নিয়মিত অভিযান। দুই হাজারের মতো গ্রেপ্তার আছে। কিছু এলাকায় মুখোমুখী সংঘর্ষে হতাহত হচ্ছে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনেক সদস্যও আহত হয়েছেন।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়েও কথা হয় দুই পক্ষে। ২০১৪ সালে বিএনপি-জামায়াত জোটের বর্জনের মুখে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচনে জিতে টানা দুইবার ক্ষমতায় আওয়ামী লীগ। আগামী নির্বাচনে বিএনপি আসবে কি না, সে ঘোষণা আসেনি এখনও। ফলে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের বিষয়টি নিশ্চিত হয়নি এখনও।

    আওয়ামী লীগের নেতারা জানান, ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত এই বিষয়টি তোলেন এবং তিনি আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের সম্ভাবনা কতটুকু, তা জানতে চান।

    জবাবে আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। এখানে সব দলই অংশ নেবে।

    নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে দাবি করে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলেন, নির্বাচনে অংশ নেয়া রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব, এখানে সরকারের কিছু নাই।

    আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, এখন থেকে দুই মাস পর পর তাদের সঙ্গে কূটনৈতিকরা বসতে চান বলে জানিয়েছেন তারা।

  • ‘সৌদি যুবরাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন’

    ‘সৌদি যুবরাজ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন’

    সৌদির একজন নির্বাসিত রাজনীতিবিদ ও মানবাধিকার কর্মী দাবি করেছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রকাশ্যে না দেখার কারণ হচ্ছে, গত মাসের শেষের দিকে যখন রিয়াদে সৌদির রাজপ্রাসাদের বাইরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে, তখন যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন। খবর প্রেস টিভির।

    ইসলামিক রিভাইভাল পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আল-মাসারি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে লেবাবননের আল-মায়াদিন টিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ২১ এপ্রিলের হামলার ঘটনা মোহাম্মদ বিন সালমান গুলিবিদ্ধ হন।

    তিনি আরো বলেছেন, রাজপরিবার থেকে সোশ্যাল মিডিয়া বিশেষ করে টুইটারে যুবরাজের স্বাস্থ্যগত অবস্থা জানানোর আগেই তার গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবরটি ফাঁস হয়ে যায়।

    আল-মাসারি বলছেন, সৌদি রাজপ্রাসাদের অভুত্থানচেষ্টার ঘটনা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এখন গণমাধ্যমের সামনের আসতে চান।

    ২১ এপ্রিল অনেকগুলো গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, রিয়াদে সৌদি রাজপ্রাসাদে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ পাওয়া যায়। স্থানীয় বেশ কটি গণমাধ্যম জানায়, ঘটনার সময় সৌদি বাদশা সালমান প্রাসাদ ছেড়ে কাছাকাছি একটি সামরিক ঘাঁটিতে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

    যদি সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা স্পা দাবি করেছিল, একটি খেলনা ড্রোন নামাতে গিয়েই গুলি ছোড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। ড্রোনটি রাজপ্রাসাদের খুব কাছাকাছি চলে এসেছিল।

    মোহাম্মদ আল-মাসারি

    সৌদির মানবাধিকার কর্মীরা দাবি করছেন, গোলাগুলির ঘটনার সঙ্গে  ড্রোনের কোনো সম্পর্ক নেই। এই হামলা গাড়ি থেকে চালানো হয়েছে। গাড়ি থেকে ভারি মেশিনগান দিয়ে ব্যাপক গুলি চালানো হয়।

    খবরে বলা হয়েছে, গোলাগুলির সময় যুবরাজ সালমানের নিরাপত্তার জন্য তাকে কাছাকাছি একটি সামরিক বাঙ্কারে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

    সৌদির নতুন উত্তরাধিকার হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে যখন তরুণ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বিভিন্ন দেশে সফর শেষে রিয়াদে ফেরেন তখন এই ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, রাজপরিবারের সঙ্গে তার একটা বিরোধ তৈরি হয়েছে।

    ওই ঘটনার পর থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষ যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের কোনো ছবি বা ভিডিও প্রকাশ করেনি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও এপ্রিলের শেষের দিকে যখন সৌদি সফরে যান তখনও যুবরাজকে কোনো ছবিতে দেখা যায়নি। তার দীর্ঘ দিনের অনুপস্থিতিতি যুবরাজের পরিণতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

    ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষ করে রিয়াদের আসার পর এক মাসের বেশি সময় ধরে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে জনসমক্ষে আর দেখা যাচ্ছে না।

    ১৮ মে যুবরাজের ব্যক্তিগত দপ্তরের পরিচালক বাদের আল-আসাকার টুইটারে একটি ছবি পোস্ট করেন। সেখানে যুবরাজ বিন সালমান, আবুধাবির যুবরাজ শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নায়হান, বাহরাইনের বাদশা বিন ইসা ও মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসিকে একসঙ্গে দেখা যায়।বাদের আল আসাকার লেখেন, কয়েক দিন আগে মিসরের প্রেসিডেন্ট ফাত্তাহ আল সিসি দুই ভাইয়ের এক বন্ধুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। তবে সেখানে কোনো তারিখ উল্লেখ নেই।