Category: রাজনীতি

  • শেরপুর-২: আ.লীগের শত্রু আ.লীগ

    শেরপুর-২: আ.লীগের শত্রু আ.লীগ

    আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী চারবার নির্বাচিত হন শেরপুর-২ (নালিতাবাড়ী-নকলা) আসনে। এ থেকে মনে হতে পারে তার নির্বাচনযাত্রা বুঝি নিষ্কণ্টক ছিল বরাবর। কিন্তু বাস্তবতা হলো গত ২০ বছর ধরে এই আসনে তাকে নিজ ঘরের বিরোধিতা মোকাবিলা করতে হয়েছে। দলের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যকার বিভেদ এমন যে তারা বলছে, এখানে আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগ।

    বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের মধ্যে এই আসনটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে রাজনৈতিক মহল। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের আমলে মরহুম আবদুস সালাম এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হন। এরপর এ আসনে যিনি নির্বাচিত হয়েছেন প্রায় সবাই মন্ত্রী, উপমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা হুইপের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

    বর্তমান এমপি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী সরকারের কৃষিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন টানা দুই মেয়াদে।

    ১৯৯৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত চারটি সংসদ নির্বাচনের তিনটিতে জয়ী হন আওয়ামী লীগের মতিয়া চৌধুরী। তবে প্রতিবারই বিরোধী দলের পাশাপাশি নিজ দলের বিভক্তিকে মোকাবিলা করতে হয়েছে তাকে। আগামী একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই বিভক্তি আরও বেশি প্রকট হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন দলের নেতাকর্মীরা।

    নকলা-নালিতাবাড়ী দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে আওয়ামী লীগে ঐক্য নেই প্রায় ২০ বছর ধরে। নেই পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আস্থা। বিশেষ করে নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগে চলছে পরস্পরকে কোণঠাসা করার রাজনীতি। ফলে নেতাকর্মীদের মধ্যে বেড়েছে দূরত্ব ও হতাশা।

    এলাকার এমপি কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম উকিল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবুর মধ্যকার টানাপোড়েনে এখানকার আওয়ামী লীগ বহুধাবিভক্ত। এই বিভক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদটি দখল করেছে বিএনপি। একই কারণে বিগত পৌর মেয়রের পদটিও ছিল বিএনপির দখলে।

    দুই দশক ধরে চলা এই বিভেদ ও বিভক্তির রাজনীতির লাগাম এখনই টেনে না ধরলে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে স্থানীয় মানুষের ধারণা।

    আওয়ামী লীগের এই বিভেদ কাজে লাগাতে চায় বিএনপি। সরকারবিরোধী দলটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ কিছু বিভেদ থাকলেও জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন স্থানীয়  নেতারা। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা আছেন বেশ ফুরফুরে মেজাজে।

    এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন-প্রত্যাশীদের মধ্যে বেগম মতিয়া চৌধুরী তো আছেনই। এ ছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বদিউজ্জামান বাদশা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক  মোকসেদুর রহমান লেবু মনোনয়ন-প্রত্যাশী।

    বিএনপি থেকে মনোনয়ন-প্রত্যাশীরা হলেনÑ জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ মরহুম জাহেদ আলী চৌধুরীর ছেলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফাহিম চৌধুরী, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার হায়দার আলী, নালিতাবাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান রিপন ও জহিদুর রহমান শ্যামল।

    জাতীয় পার্টি (এরশাদ) থেকে সাবেক মন্ত্রী মরহুম আব্দুস সালামের ছেলে জেলা জাতীয় পার্টির সহ-সভাপতি শওকত সাঈদ ও জাতীয় পার্টি নির্বাহী কমিটির সদস্য তালুকদার রোজী সিদ্দিকীর নাম শোনা যাচ্ছে।

    সূত্রমতে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগে বিভক্তি ছড়িয়ে পড়ে। সে সময়ের এমপি ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর আনুকূল্যে থাকা তৎকালীন কেন্দ্রীয় কৃষক লীগ নেতা বদিউজ্জামান বাদশা এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হালিম উকিলের দ্বন্দ্বের বলি হন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ চকন ও সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী।

    এর প্রভাব পড়ে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। মতিয়া চৌধুরী পরাজিত হন চারদলীয় জোট প্রার্থী বিএনপির জাহেদ আলী চৌধুরীর কাছে।

    পরে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে মতিয়া চৌধুরী আবার বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে দলের প্রভাবশালী নেতাদের প্রায় সবাই যখন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন, তখন মতিয়া চৌধুরীকে ভোটের মোকাবিলা করতে হয় নিজ দলের প্রার্থীর বিপক্ষে। তিনি দলের মনোনয়ন পেলেও তাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন বদিউজ্জামান বাদশা। তবে নির্বাচনের দিন ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে বেলা ১১টায় বাদশা নির্বাচন বর্জন করেন। মতিয়া চৌধুরী চতুর্থবারের মতো এমপি নির্বাচিত হন।

    কিন্তু ১৯৯৬ সালে স্থানীয় আওয়ামী লীগে যে বিভেদ ও বিভক্তির রাজনীতির শুরু, তার ধারাবাহিকতা এখনো চলছে। বর্তমানে দলে গ্রুপ-উপগ্রুপে বিভক্তি আরও প্রকট হয়ে উঠেছে।

    বর্তমানে একদিকে বদিউজ্জামান বাদশা দলের মনোনয়ন পাওয়ার প্রত্যাশায় মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। একই সঙ্গে দলের অনিয়মের প্রতিবাদ ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার জন্য মাঠে রয়েছেন সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবু। তিনি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সক্রিয় রাখার জন্য দেশরতœ জনঐক্য পরিষদ গঠন করে গণসংযোগ করে যাচ্ছেন শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। তার সঙ্গে রয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শ্রমিক সংগঠন।

    অন্যদিকে বেগম মতিয়া চৌধুরী চলছেন নিজের মতো করে। তিনি এখানে উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন। তার নির্দেশমতো দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম ও এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

    আওয়ামী লীগের নিজেদের মধ্যকার শত্রুতা যে আগামী নির্বাচনের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে তা স্থানীয় সমর্থক-শুভাকাক্সক্ষীরাও আশঙ্কা করছেন।

    একটি কলেজের প্রভাষক সাইফুল ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের অভাব ও দূরত্ব বাড়ছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এখনই অনেক নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটার শঙ্কিত।

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, মতিয়া চৌধুরীর বড় ভাবমূর্তি থাকলেও আওয়ামী লীগের কেউ কেউ নালিতাবাড়ীর সন্তান পরিচয় দিয়ে বদিউজ্জামান বাদশাকে আগামী দিনে এমপি হিসেবে দেখতে চান। আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোকসেদুর রহমান লেবু তার নেতাকর্মী ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের  নেতাকর্মীদের নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

    এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সরকার গোলাম ফারুক বলেন, ‘স্থানীয় আওয়ামী লীগকে রক্ষার জন্য এখন স্থানীয় নেতৃত্ব প্রয়োজন। হায়ার করা নেতা দিয়ে আর চলে না।’

    উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল হালিম উকিল ঐক্যবিনাশী বিভেদ দূর করার দাবি জানিয়ে বলেন, দলের স্বার্থেই নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা উচিত।

    তবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক আওয়ামী লীগের ভেতরকার সব দ্বন্দ্ব ও অনৈক্যের কথা মানতে নারাজ। তিনি বলেন, ‘যারা স্থানীয় নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার দিবাস্বপ্ন দেখছেন, তারা আসলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের ক্ষতি করছেন।’

    বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে স্থানীয় একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের মধ্যে কিছু কোন্দল থাকলেও স্থানীয় পদ-পদবি নিয়েই তা সীমাবদ্ধ। জাতীয় নির্বাচনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন দলের নেতারা। জাতীয় নির্বাচনে যে-ই মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষে সবাই কাজ করবেন বলে জানা গেছে।

    এই আসনে জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো কর্মকা- নেই বললেই চলে।

  • সাংবাদিক ও কলামিস্টদের সম্মানে আ.লীগের ইফতার

    সাংবাদিক ও কলামিস্টদের সম্মানে আ.লীগের ইফতার

    সাংবাদিক ও কলামিস্টদের সম্মানে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের স্যামসন এইচ চৌধুরী লাউঞ্জে (নতুন ভবন, ৩য় তলা) এ ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

    ইফতারের আগে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচটি ইমাম আমন্ত্রিত অতিথিদের টেবিল ঘুরে ঘুরে শুভেচ্ছা বিনিয়ম করেন। এসময় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম সঙ্গে ছিলেন।

    সম্পাদক ও কলামিস্টদের মধ্যে শিক্ষাবিদ ও কলামিস্ট সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, বাসসের এমডি ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, বিডিনিউজ টোয়োন্টিফোর.কম সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, সংবাদ সম্পাদক আলতামাস কবির, পূর্বপশ্চিম সম্পাদক পীর হাবীবুর রহমান, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও মোজাম্মেল বাবু, বৈশাখী টিভির বার্তা প্রধান অশোক চৌধুরী, আরটিভির সিইও সৈয়দ আশিক রহমান, সংবাদের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক কাশেম হুমায়ুন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আবদুর রাজ্জাক, কর্নেল (অব.) মুহম্মদ ফারুক খান, ডাক টেলিযোগ, তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, উপ দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়–য়া, কেন্দ্রীয় সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আখতারুজ্জামান, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস-সচিব আশরাফ সিদ্দিকি বিটুসহ কেন্দ্রীয় ও প্রচার উপকমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

  • দেশ ছাড়লেন এমপি বদি

    দেশ ছাড়লেন এমপি বদি

    কক্সবাজারের টেকনাফের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির দেশের বাইরে যাওয়ার গুঞ্জন সত্য প্রমাণ হয়েছে। তিনি সৌদি আরব গেছেন। ওমরাহ করাই এর উদ্দেশ্য বলে জানানো হয়েছে।

    বদি একা নন, তার সঙ্গে মেয়ে, জামাতা, ঘনিষ্ঠ বন্ধু আকতার কামাল ও মৌলানা নূরী নামে একজন তার সফরসঙ্গী হয়েছেন।

    বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একটি বেসরকারি বিমানে হযরত শাহাজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দিয়ে সৌদি আরবের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন আওয়ামী লীগ নেতা।

    ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ আসন থেকে জয়ী বদির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইয়াবা কারবারে সম্পৃক্ততার অভিযোগ জমা পড়ে ২০১০ সালেই। পরে বিজিবির তালিকাতেও তার ও তার ঘনিষ্ঠদের নাম আসে। যদিও পরে সর্বশেষ তালিকা থেকে তার নাম বাদ পড়ার তথ্যই পাওয়া গেছে।

    গত ৪ মে থেকে মাদকবিরোধী চলমান অভিযানে শতাধিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বারবার বদিকে নিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সড়ক পরিবহন সে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে। তারা দুই জনই জানান, বদির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও প্রমাণ নেই। আর প্রমাণ পেলে তাকেও ছাড়া হবে না।

    বদি সব সময় এই অভিযোগকে ষড়যন্ত্র দাবি করে আসছেন। ৩১ জুন একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, তিনি ইয়াবা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

    অভিযানে ৬০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় বদির সৌদি আরব যাত্রার সম্ভাবনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় একটি জাতীয় দৈনিকে।

    বদি যাওয়ার সময় জানান, রমজানের শেষ সপ্তাহ জুড়ে মক্কায় ইতেকাফ শেষে ১৭ জুন দেশে ফিরবেন তিনি।

    তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তে ওমরাহ করতে যাচ্ছেন না জানিয়ে বদি বলেন, সৌদি আরব যেতে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতিও নিয়েছেন তিনি।

  • দুর্নীতিবাজদের রাজনীতিতে আনার চক্রান্ত করছে বিএনপি: ইনু

    দুর্নীতিবাজদের রাজনীতিতে আনার চক্রান্ত করছে বিএনপি: ইনু

    বিএনপি দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

    শুক্রবার সকালে কুষ্টিয়া সার্কিট হাউসে জাসদ নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে এই মন্তব্য করেন তিনি। ‘দেশে এক দলীয় গণতন্ত্র তাই কড়া আন্দোলন ছাড়া খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা যাবে না’ বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম খানের এমন মন্তব্যের প্রেক্ষিতে তথ্যমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন।

    জাসদের একাংশের সভাপতি ইনু বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ বিচারবিভাগ। এই বিচার বিভাগের কাছেই বিএনপি ধর্না দিয়েছিল। তারা আদালত ও বিচারক পরিবর্তন করেছিল। পরবর্তীতে তাদের পছন্দমত বিচারপতির আদালতে খালেদা জিয়া দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছেন।

    তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যখন বিচার বিভাগ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করেন তখন তারা মিষ্টি খান, আর যখন জামিন স্থগিত করেন তখন সরকারকে গালি দেন। এই দ্বৈত নীতি গণতন্ত্রের জন্য ভালো খবর নয়। কার্যত বিএনপি আদালতের ধার ধারে না। দলটি দুর্নীতিবাজদের বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চক্রান্ত করছে।’

    এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা জাসদের সভাপতি গোলাম মহসিন, উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আহাম্মদ আলীসহ জাসদ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। পরে তিনি মিরপুর উপজেলার হালসা বাজার কমিটির আয়োজনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

  • সাকার ভাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    সাকার ভাইকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

    প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকির অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ভাই বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ এসেছে।

    বৃহস্পতিবার ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরীর করা অভিযোগ আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আ স ম শহীদুল্লাহ কায়সার।

    মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার হুমকি, উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং তা গণমাধ্যমে প্রকাশ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

    জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৯ মে ফটিকছড়িতে এক আলোচনায় যোগ দেন গিয়াস কাদের। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনার বাবার চেয়েও আপনার অবস্থা খারাপ হবে।’

    এই ঘটনার পরদিন গিয়াস কাদেরকে খুঁজতে তার বাড়ি গুডস হিলে যান ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। কিন্তু তিনি তখন বাড়িতে ছিলেন না। আর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তখন বাড়ির ভেতরে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর করেন।

    একই দিন গিয়াসউদ্দিন কাদেরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি জামাল উদ্দিন। এতে আরও অজ্ঞাতনামা ৬০ থেকে ৭০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

    এই মামলায় আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফটিকছড়ি উপজেলার বিএনপির নেতা মনছুর আলম চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    গিয়াস কাদেরের বিরুদ্ধে মামলার আর্জি করেছেন করেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা নুরুল আজিম রনিও। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আল ইমরান খানের আদালতে এই আবেদন করা হয়।

    আবেদনটি গ্রহণ করে তা মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নগরীর পাঁচলাইশ থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

    রনির আইনজীবী ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, মামলায় গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছে।

    ফটিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকির হোসাইন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার হুমকি ও কটূক্তির মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদেরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

  • বিএনপির কাছে সিলেট চায় জামায়াত

    বিএনপির কাছে সিলেট চায় জামায়াত

    জুলাইয়ের শেষে যে তিনটি সিটি করপোরেশনে ভোট হচ্ছে তা মধ্যে সিলেটে মেয়র পদে নির্বাচন করতে চায় জামায়াতে ইসলামী। জোটের শরিক বিএনপি যেন তাদেরকে ছাড় দেয়, সে জন্য দলটিকে নানাভাবে চাপ দেয়ার কৌশল ঠিক করছে তারা।

    সিলেটের ছাড় নিশ্চিত করতে রাজশাহীতে এরই মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। তবে আসলে সেখানে নির্বাচনের ইচ্ছা নেই তাদের।

    জামায়াত নেতারা বলছেন, বিএনপি সিলেটে তাদেরকে ছাড় না দিলেই কেবল রাজশাহীতে ভোট করবেন তাদের প্রার্থী।

    নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধন হারানোয় স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াতের অবশ্য দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের সুযোগ নেই। তাদেরকে জোটের কারও প্রতীক অথবা স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করতে হবে। আর সে প্রস্তুতিই নিচ্ছে তারা।

    আগামী ২৬ জুন ভোট হতে যাওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে এস এম সানাউল্লাহকে বিএনপির হাসান উদ্দিন সরকারের বিপরীতে প্রার্থী করা, তারও আগে স্থগিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেলিম উদ্দিনের ভোটের প্রচার শুরু করার পেছনেও জামায়াতের উদ্দেশ্য ছিল বিএনপিকে ‘জিম্মি’ করে সিলেটে ছাড় দেয়ার প্রতিশ্রুতি আদায়।

    জামায়াতের শীর্ষ নেতারা বলছেন, সিলেটে যে কোনো মূল্যে মেয়র পদে নির্বাচন করবেন তারা। সেক্ষেত্রে তাদের পছন্দের প্রার্থী জামায়াতের মহানগরের আমির এহসানুল মাহবুব যোবায়েরকে ঠিক করা হয়েছে। সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে জোরেশোরে প্রস্তুতিও শুরু করে দিয়েছেন সাবেক শিবির নেতা।

    নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ৩০ জুলাই সিলেট, বরিশাল ও রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোট হবে। আর মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ২৮ জুন।

    ২০১৩ সালে সিলেটে জেতা বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী আবারও ভোটে দাঁড়াতে প্রস্তুতি নিয়েছেন। ওই নির্বাচনে দেশের পাঁচ মহানগরে জেতা বিএনপির মেয়রদের মধ্যে নগরের উন্নয়নের আরিফুলের করা কাজগুলোই সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। ফলে তিনি আবার জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী।

    সিলেটে বিএনপির আরও একজন নেতা মেয়র হিসেবে নির্বাচন করতে চাইলেও বিএনপির কেন্দ্র আরিফুলের পক্ষেই বলে নিশ্চিত করেছেন একাধিক নেতা।

    এর মধ্যেই অবশ্য জামায়াত নেতা যোবায়ের নানাভাবে নিজের অবস্থান পোক্ত করার চেষ্টায়। বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে দুঃস্থদের মধ্যে সেলাই মেশিন, নগদ অর্থ বিতরণ করছেন তিনি। শিক্ষার্থীদের দিচ্ছেন বৃত্তি। রমজানের ইফতারকেও রাজনৈতিক প্রচারের অস্ত্র হিসেবে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। করছেন গণসংযোগ।

    গত জানুয়ারিতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উপ-নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দীন জনসংযোগ শুরু করেন। বিএনপি ওই নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা গত তাবিথ আউয়ালকে। কিন্তু বিএনপির সঙ্গে আলোচনা না করেই জামায়াতের ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে বিএনপিতে তখন ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

    পরে আদালতের নির্দেশে ভোট স্থগিত হয়ে যায়। এরপর আস গাজীপুর সিটি নির্বাচন। সেটাও ৪১ দিন পিছিয়েছে আইনি জটিলতায়। এখানে জোটের শরিক জামায়াত প্রার্থীকে ময়দান থেকে তুলতে বিএনপিকে ঘাম ঝরাতে হয়।

    মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় শেষ হওয়ার আগে আগে জামায়াতের প্রার্থী সানাউল্লাহ ভোট থেকে সরলেও তখন সিলেটের ছাড় দেয়ার শর্তের কথা জানিয়ে রাখে তারা।

    জামায়াতের তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা ঢাকাটাইমসকে বলেছেন, খুলনা, গাজীপুরে তারা বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন। কিন্তু সিলেটে দেবেন না।

    জামায়াতের নায়েবে আমীর মিয়া গোলাম পরওয়ার ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘সিলেটে আমাদের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব যোবায়ের। তিনি কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরে। জনপ্রিয়তাও আছে। আশা করি আগামী সিটি নির্বাচনে জোট থেকেও তাকে মনোনয়ন দেয়া হবে।’

    বিএনপির মেয়রকে বাদ দিয়ে আপনাদেরকে কেন মনোনয়ন ছেড়ে দেবে-এমন প্রশ্নে জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমরা তো সব জায়গাতে ছাড় দিচ্ছি। সিলেট আমরা চাই। এখনকার ব্যাপারে আমরা ডিটারমাইন্ড।’

    সদ্য কারামুক্ত আরেকজন জামায়াত নেতা বলেন, ‘সিলেটে তো আমাদের একজন কাজ শুরু করেছেন অনেক আগে থেকে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত  কী হয়।’

    বিএনপিকে জিম্মি করবে জামায়াত

    সিলেটে সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তেমন ভোট না থাকলেও ঢাকা উত্তরে সেলিম উদ্দিনকে মাঠে রাখবে জামায়াত।

    ঢাকাটাইমসকে এই জামায়াত নেতা বলেন, ‘আমি তো কাজ শুরু করেছিলাম। এখনও চলছে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’

    এরই মধ্যে রাজশাহী সিটি করপোরশনে সিদ্দিক হোসাইনকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে ভোটের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিএনপির জোটের মিত্র।

    যে তিন মহানগরে ভোট হচ্ছে তাতে জামায়াতের সবচেয়েছে বেশি শক্তি উত্তরের এই শহরটিতেই।

    ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে রাজশাহী সদর আসন থেকে বিএনপি জিতলেও তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল ৭১ এ পাকিস্তানের পক্ষে অস্ত্র ধরা দলটিই। আওয়ামী লীগের অবস্থান তখন অনেক পেছনে ছিল। বর্তমানে ক্ষমতাসীন দলটির প্রার্থী সে সময় তৃতীয় হন।

    তবে মুক্তিযুদ্ধের সময় চার জাতীয় নেতার একজন মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ছেলে খায়রুজ্জামান লিটন রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার পর পাল্টে যায় পরিস্থিতি। তিনি ধীরে ধীরে আওয়ামী লীগের অবস্থান সংহত করেছেন। ২০০৮ সালের মেয়র নির্বাচনে তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রার্থীকে হারিয়ে দেন। ১৯৭৩ সালের পর এই প্রথম ভোটে ওই নগর থেকে আওয়ামী লীগের কেউ জেতে।

    রাজশাহীতে জামায়াতের অবস্থান এখন তৃতীয়। তবে দলটির বিশ্বাস, তাদের সমর্থন ছাড়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপি সেখানে পেরে উঠবে না।