Category: লাইফস্টাইল

  • গরুর দুধের বিকল্প হতে পারে যেসব সবজি

    গরুর দুধের বিকল্প হতে পারে যেসব সবজি

    অনলাইন ডেস্ক:    মানবদেহের ক্ষুদ্রান্ত্রে তৈরি হওয়া ল্যাকটেজ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হজমে। ল্যাকটেজ ইন্টলারেন্স নামে পরিচিত হজমের এই নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ায় পেটব্যথা থেকে শুরু করে ডায়রিয়া পর্যন্ত হয়ে থাকে। সে কারণে ল্যাকটেজ ইন্টলারেন্ট ব্যক্তিরা গরুর দুধসহ দুধের তৈরি নানান ধরনের খাবার এড়িয়ে চলেন।

    এতে একদিকে বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা থেকে মুক্ত থাকলেও, অন্যদিকে তারা বঞ্চিত হন ক্যালসিয়ামের মতো অপরিহার্য পুষ্টিগুণ থেকে। কিন্তু দুধ ছাড়াও এমন কিছু ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার রয়েছে, যেগুলো সামগ্রিকভাবে দুধের পুষ্টির জোগান দিতে পারে।

    গরুর দুধের বিকল্প যেসব স্বাস্থ্যসম্মত খাবার—

    মটরশুঁটি

    দুধের উৎকৃষ্ট বিকল্প সুষম খাবার হচ্ছে মটরশুঁটি। এই সবুজ বীজে আছে ভিটামিন এ, সি, কে, ফাইবার, আয়রন এবং ক্যালসিয়াম। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। আর হিমোগ্লোবিন তৈরিতে, হৃৎপিণ্ডের সুস্থতা এবং চোখের জ্যোতি বাড়ানোসহ ওজন নিয়ন্ত্রণে করে থাকে।

    চিনা বাদাম

    দুধের বিকল্প হিসাবে আপনি চিনা বাদাম খান। কারণ এতে রয়েছে প্রোটিন, ফাইবার ও ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার। পেস্তা, আখরোট, কাঠ বাদাম এবং কাজু বাদাম শুধু স্বাস্থ্যকরই নয়; বেশ উপাদেয়। এ ছাড়া অন্যান্য খনিজ যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়াম, তামা এবং সেলেনিয়ামের পাশাপাশি আছে ভিটামিন ই, বি-২ ও ফোলেট। বাদামে থাকা উপাদান দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা হ্রাসে অবদান রাখে। এগুলোর মধ্যে ক্যালসিয়ামের অনুপাতে কাঠ বাদাম সবার থেকে এগিয়ে। এক আউন্স কাঠ বাদামে থাকে প্রায় ৭৬ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম।

    বাঁধাকপি

    দুধের বিকল্প হিসাবে বাঁধাকপি বেশ উপকারী। চর্বি, চিনি ও কোলেস্টেরলমুক্ত এবং স্বল্প পরিমাণে সোডিয়াম ও ক্যালরিযুক্ত বাঁধাকপি দেহের প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদানের সেরা উৎস। দুই কাপ কাঁচা বাঁধাকপিতে ক্যালসিয়াম থাকে প্রায় ১.৮ গ্রাম। অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে ভরপুর এ সবজি কোষ প্রাচীরের ক্ষয়কে বিলম্বিত করতে পারে। এ ছাড়া বাঁধাকপিতেও আছে অক্সালেটের মতো যৌগ, যেগুলো ক্যালসিয়াম শোষণে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। তাই এই অক্সালেটের পরিমাণ হ্রাস করার জন্য বাঁধাকপি ভালোভাবে রান্না করে নেওয়া উচিত। রান্না ছাড়া সেদ্ধ করে প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় সালাদ হিসেবেও রাখা যেতে পারে।

    ফুলকপি

    একই উদ্ভিদ হওয়ায় বাঁধাকপির মতো ফুলকপিও ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ। বিপাকের সময় শরীরে নানা ধরনের ফ্রি র্যাডিকেল নামক জৈব অণু তৈরি হয়। খুব বেশি পরিমাণে এই ফ্রি র্যাডিকেল এতটাই বিষাক্ত যে, তা কোষের ক্ষতি সাধন করে ক্যানসারের দিকে ধাবিত করতে পারে। আর ফুলকপি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এই জৈব অণুগুলোর পরিমাণকে মাত্রা ছাড়াতে দেয় না।

    মাছ

    মানবদেহের কাঠামোকে সুদৃঢ় করে রাখতে প্রয়োজন ছোট মাছের। গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোর ছোট মাছ আর দুধ একই পরিমাণে ক্যালসিয়ামের জোগান দেয়। ছোট মাছে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ গ্রাম প্রতি ৮.৬ থেকে ১ হাজার ৯০০ মিলিগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে। এতে রয়েছে ভিটামিন এ, আয়রন এবং জিঙ্ক, যেগুলো দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি ও রক্তের সুস্থ পরিচালনে অবদান রাখে। গ্রামে ও শহরে অধিক বিক্রীত ছোট মাছগুলোর মধ্যে পুঁটি, কাচকি, মলা-ঢ্যালা ও দারকিনা অন্যতম।

    সরষে শাক

    শাকসবজিভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস পরিচালনার শুরুটা হতে পারে সরষে শাক দিয়ে। কারণ এতে রয়েছে থায়ামিন (বি-১) নিয়াসিন (বি-৩) এবং পাইরিডোক্সাইনসহ (বি-৬) বি ভিটামিনের এক বিরাট উৎস এ শাক। এরা মূলত হৃৎপিণ্ড এবং মস্তিষ্কের কার্যকারিতায় কাজ করে। তবে সরষেতে থাকা ভিটামিন কে অংশ নেয় হাড়ের শক্তিবৃদ্ধি করতে এবং ফ্র্যাকচার থেকে রক্ষা করতে। কাটাছেঁড়ার সময় ধমনীতে ক্যালসিয়ামের প্রাচীর গড়ে রক্তক্ষরণ রোধ হয়। এই প্রাচীর গড়াতে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রতিরোধের ব্যবস্থা করে ভিটামিন ‘কে’। এক কাপ রান্না করা সরষে শাকে ১.০৩ গ্রাম ক্যালসিয়াম থাকে। এর সঙ্গে বাঁধাকপি যুক্ত করে তৈরি খাবার দৈনিক ক্যালসিয়ামের প্রয়োজনীয়তা পূরণ করতে পারে।

    পালংশাক

    পালংশাকের প্রধান উপাদান হচ্ছে— ম্যাগনেসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন এ, সি, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, ও পটাসিয়াম। প্রতি কাপ শাকে ২৫০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়ামের উপস্থিতি বিদ্যমান। দাঁত ও হাড়ের যত্নে প্রতিদিন খাবারের সঙ্গে পালংশাক রাখাই শ্রেয়। এতে থাকা ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষার পাশাপাশি শরীর যথাযথভাবে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারছে কিনা তা নিশ্চিত করে। কম ক্যালোরি থাকায় এটি ওজন কমানোর জন্যও উপযুক্ত। এ ছাড়া এই শাকে আছে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষমতা, যেটি ডায়াবেটিসের মতো রোগের ক্ষেত্রেও সহায়তা করতে পারে।

  • সাবধান! পেটের জন্য ক্ষতিকর ৫টি চা

    সাবধান! পেটের জন্য ক্ষতিকর ৫টি চা

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে মানুষ চা পান করেন। চায়ের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য এবং সতেজ করার ক্ষমতা এই পানীয়কে জনপ্রিয় করে তুলেছে। বেশিরভাগ মানুষের চায়ের প্রতি আসক্তি থাকে এবং এটি ছাড়া তাদের দিন শুরুই হয় না। তবে অনেক চা পানের অভ্যাস আসলে আমাদের পাচনতন্ত্রের ক্ষতি করে। সেসব চা এড়িয়ে চলতে হবে। নয়তো উপকারের আশায় খেলেও অপকার ছাড়া কিছুই মিলবে না। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

    ১. খালি পেটে দুধ চা

    নাস্তার আগে চা পান করলে পাচনতন্ত্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রাতভর বিশ্রামের সময় পেট তার অ্যাসিডিক অবস্থা বজায় রাখে। দুধ চা পান করলে পেটে অ্যাসিডের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় কারণ এতে ক্যাফেইন এবং ট্যানিন থাকে। খালি পেটে দুধ চা পান করলে অ্যাসিডিটি এবং বুকজ্বালার সংমিশ্রণ ঘটে, যার সাথে পেট ফুলে যাওয়া এবং অন্ত্রের আস্তরণে জ্বালা দেখা দেয়। এই অবস্থার বারবার সংস্পর্শে আসার ফলে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ হতে পারে, যা অন্ত্রের মিউকোসাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যার ফলে হজমশক্তি ব্যাহত হয় এবং পুষ্টির শোষণ হ্রাস পায়।

    ২. চিনি মেশানো চা

    মানুষ সাধারণত মিষ্টির জন্য চায়ে চিনি যোগ করে। কিন্তু অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ অন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। মিষ্টি চায়ের মাধ্যমে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ এমন একটি পরিবেশ তৈরি করে যা বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়াকে বৃদ্ধি পেতে সাহায্য করে, যার ফলে পেট ফাঁপা এবং কোষ্ঠকাঠিন্য সহ হজমের সমস্যা দেখা দেয়। চিনি অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্যকে ব্যাহত করে এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করে যার মধ্যে রয়েছে স্থূলতা এবং ডায়াবেটিস।

    ৩. ডিটক্স বা স্লিমিং টি

    ডিটক্স এবং স্লিমিং টি-এর দ্রুত ওজন কমানোর দাবি পাচনতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে আসে। রেচক, ক্যাফেইন এবং অন্যান্য ভেষজ যৌগ পাচনতন্ত্রে জ্বালা সৃষ্টি করে, যা অসংখ্য ডিটক্স এবং স্লিমিং টি-তে উপস্থিত থাকে। এ ধরনের পানীয় বারাবর পান করলে পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং ডিহাইড্রেশন সৃষ্টি হয়। ডিটক্স চায়ের স্বল্পমেয়াদী রেচক প্রভাব অন্ত্র পরিষ্কারের একটি মিথ্যা ধারণা তৈরি করে, অতিরিক্ত খেলে তা প্রাকৃতিক মলত্যাগ এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। সাবধানতার সঙ্গে ডিটক্স চা পান করা উচিত, পেটের স্বাস্থ্যের জন্য নিয়মিত চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।

    ৪. অতিরিক্ত গ্রিন টি

    গ্রিন টি-তে পলিফেনল থাকে যা পাচনতন্ত্রের উপকারী অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়াকে সহায়তা করে। গ্রিন টি সুপারিশকৃত মাত্রার চেয়ে বেশি পরিমাণে গ্রহণ করলে ক্ষতিকারক হয়ে ওঠে। অতিরিক্ত গ্রিন টি পান করার ফলে পেটের সমস্যা, বমি বমি ভাব এবং ডায়রিয়া হয়। গ্রিন টি-তে ক্যাফেইন এবং ট্যানিনের সংমিশ্রণকে স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয় না এবং প্রতিদিন ৩-৪ কাপের বেশি খাওয়া উচিত নয়, এমনকী যদি সম্ভব হয় তবে কমও।

    ৫. অতিরিক্ত গরম চা

    ১৪০ক্কঋ (৬০ক্কঈ) এর বেশি তাপমাত্রায় গরম চা পান করলে পাচনতন্ত্র এবং পাকস্থলীর স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়। ১৪০ক্কঋ (৬০ক্কঈ) এর বেশি তাপমাত্রায় চা পান করলে খাদ্যনালী এবং পাকস্থলীর সঙ্গে সংযুক্ত কোষগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয় যা প্রদাহের কারণ হতে পারে। মিউকোসাল টিস্যুর সঙ্গে গরম তরলের বারবার সংস্পর্শ সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং বিপজ্জনক পদার্থের প্রতি তাদের আরও সংবেদনশীল করে তোলে। গরম তরল মুখ এবং গলার অংশে যন্ত্রণাদায়ক জ্বালাপোড়ার কারণ হতে পারে। গরম তাপমাত্রার পরিবর্তে আরামদায়ক উষ্ণ তাপমাত্রায় চা পান করলে পাচনতন্ত্র সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা পায়।

  • গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনে যেসব নিয়ম মানতে হবে

    গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনে যেসব নিয়ম মানতে হবে

     অনলাইন ডেস্ক:     গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হলো গাড়িটির বৈধতা যাচাই। আপনি যে গাড়িটি কিনতে যাচ্ছেন সেটির আসল মালিক কে, কাগজপত্র হালনাগাদ আছে কিনা এবং সব ফি পরিশোধ হয়েছে কিনা— এসব নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতারক চক্র একটি গাড়ি একাধিক ব্যক্তির কাছে ভুয়া চুক্তিতে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। অসচেতনতার কারণে অনেকে এই প্রতারণার শিকার হন।একটি গাড়ি মানে একটি পরিবারের স্বপ্ন। তাই গাড়ি ক্রয়ের সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে আইনি জটিলতায় পড়ার ঝুঁকি থাকে।

    উদাহরণস্বরূপ, আপনার বিক্রি করা গাড়ি যদি অপরাধে ব্যবহৃত হয় এবং সেটি এখনো আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন করা থাকে, তবে দায়ভারও আপনার ওপর আসতে পারে। একইভাবে মালিকানা পরিবর্তন সম্পন্ন না করে গাড়ি কিনলে বিক্রেতার পক্ষ থেকে প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ক্রেতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    ১. ফর্ম টিও ও টিটিও– বিআরটিএ অফিস বা ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহযোগ্য।

    ২. ফি জমা– গাড়ির ধরনভেদে নির্ধারিত ফি ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে হবে।

    ৩. কাগজপত্র– টিআইএন সার্টিফিকেট, জাতীয় পরিচয়পত্র, ঠিকানা প্রমাণপত্র, নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর।

    ৪. ফিটনেস ও রুট পারমিট সংক্রান্ত নথি– রেজিস্ট্রেশন কপি, ট্যাক্স টোকেন ইত্যাদি।

    ৫. চিঠি– ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য সাধারণ ফর্ম, প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহারের জন্য অফিশিয়াল প্যাডে আবেদনপত্র।

    ৬. ইংরেজি ব্লক লেটারে লেখা– স্বাক্ষর নমুনা ও ছবি সংযুক্ত করতে হবে।

    ৭. গাড়ি পরিদর্শন– বিআরটিএ অফিসে গাড়ি সরেজমিনে দেখাতে হবে।

    ৮. স্বাক্ষর যাচাই– বিক্রেতাকে সঙ্গে নিয়ে আসা উত্তম, যাতে স্বাক্ষরজনিত কোনো সমস্যা না হয়।

    মালিকানা পরিবর্তনের জন্য বিক্রেতার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

    ১. টিটিও ফর্ম ও বিক্রয় রশিদ– অফিস থেকে সংগ্রহ করে স্বাক্ষর করতে হবে।

    ২. হলফনামা– জুডিশিয়াল/নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে।

    ৩. প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নথি– বোর্ড রেজুলেশন, অনুমোদনপত্র ইত্যাদি।

    ৪. ঋণ সংক্রান্ত ছাড়পত্র– গাড়ি লোনে কেনা হলে ব্যাংকের এনওসি ও লোন স্টেটমেন্ট জমা দিতে হবে।

    ৫. জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর– বৈধ নাগরিক বাধ্যতামূলক।

    ৬. স্বাক্ষর সঠিক রাখা– গরমিল হলে বিক্রেতাকেই সশরীরে অফিসে হাজির হয়ে স্বাক্ষর করতে হবে।

    গাড়ি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় উভয়পক্ষেরই উচিত বিআরটিএ অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে সব কাগজপত্র ও স্বাক্ষর সম্পন্ন করা। মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলে ভবিষ্যতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই বড় ধরনের আইনি জটিলতায় জড়িয়ে পড়তে পারেন।

  • কলা খেয়ে কি ওজন কমানো যায়

    কলা খেয়ে কি ওজন কমানো যায়

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:       আপনি ওজন কমাতে চাইছেন, তাহলে কলা খেতে পারেন। পাকা কলা না কাঁচা কলা— কোনটি খেলে ভালো হয়? এ বিষয়ে ভারতের পুষ্টিবিদ শম্পা চক্রবর্তী বলেছেন, যেহেতু পাকা কলায় ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে— ১০০ গ্রাম কলায় ১১৭-১২০ কিলোক্যালরি পাওয়া যায়। তাই কলা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। তবে যদি ক্যালরি মেপে খাওয়া যায়, তাহলে ওজন যারা কমাতে চাইছেন, তারাও কলা ডায়েটে রাখুন।

    কারও সারা দিনে ১২০০ কিলোক্যালোরি প্রয়োজন। তিনি সারা দিনে ভাত, রুটি ও অন্যান্য খাবার খেয়ে তার সঙ্গে কলা খেলেন। এ ক্ষেত্রে তার দিনের ধার্য ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যাবে। শম্পা বলেন, যারা ওজন কমাতে চাইছেন, তারা যদি রুটি বা ভাতের পরিমাণ কমিয়ে অথবা সেগুলো বাদ দিয়ে পাকা কলা খান, তাহলে অসুবিধা হবে না। সকালে রুটি না খেয়ে একটি রুটির পরিবর্তে একটি কলা খাওয়া যেতে পারে। কলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম।

    তিনি বলেন, কারও শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা নিয়ে অসুবিধা না থাকলে, ডায়েটে কলা রেখে ওজন কমানো যেতে পারে। কেউ দুপুরের খাবারে ভাতের সঙ্গে অন্য সবজি না খেয়ে একটি কলা খেলেন, সেটি চলতে পারে। আবার রাতের খাবারে একটি রুটি, একটি কলা, এক কাপ দুধ খেলেন, তাতেও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

    এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা বলছেন, শুধু ক্যালোরি নয়, একটি কলা শরীরে পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি৬, অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের অভাব পূরণ করতে পারে। এতে থাকে ফাইবার। তাই শরীর ভালো রাখতে ফাইবারে সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া খুব জরুরি।

    একটি পাকা কলা খেলে পেট বেশ কিছুক্ষণ ভরা থাকে। ফলে চট করে অন্য কিছু খাওয়ার ইচ্ছা হয় না। উল্টোপাল্টা খাবার বাদ পড়লে, ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যা ওজনকমাতে পরোক্ষভাবে সহায়ক হয়। এ ছাড়া শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অনেকটাই পূরণ করে কলা।

    আবার কাঁচকলায় পাকা কলার চেয়ে ক্যালোরির পরিমাণ একটু কম। স্টার্চের পরিমাণ কম। তবে ওজনকমাতে পাকা কলার চেয়ে কাঁচকলা বাড়তি ভূমিকা রাখে বলে মনে করেন না পুষ্টিবিদরা। কারণ কাঁচকলায় রয়েছে পেকটিনের মতো ডায়েটরি ফাইবার। এই ফাইবার ওজনকমাতে সাহায্য করে। তবে সারা দিনে কতটা ক্যালোরি খাওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করবে কাঁচকলা বা পাকা কলা ওজনবাড়াবে না কমাবে।

  • ৭ দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করবেন যেভাবে

    ৭ দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করবেন যেভাবে

    অনলাইন ডেস্ক:      সাত পদ্ধতিতে চুল পড়া বন্ধ হবে। সেই সঙ্গে পাকা চুল কালো হবে। আপনার দুশ্চিন্তা মুক্ত হবে। এটাও কি সম্ভব?

    অসম্ভব। সাত দিনে চুল পড়া বন্ধ ও পাকা চুল কালো করা সম্ভব নয়। কারণ চুল বৃদ্ধির প্রক্রিয়া ধীর এবং এর জন্য ধৈর্য ও ধারাবাহিকতার প্রয়োজন আছে। তবে পেঁয়াজের রস, রোজমেরি ও কাস্টর অয়েল ব্যবহার করে চুলের স্বাস্থ্য উন্নত করা যায়। চুল পড়া কমানো যায় এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা বৃদ্ধি করা যায়।

    একটি কার্যকর পদ্ধতি হলো— প্রতিদিন রোজমেরি তেল ব্যবহার করা, যা চুলের ফলিকলকে উদ্দীপিত করে নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে থাকে।

    আপনি চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করেছেন নিশ্চয়ই। নানা রকম কেশসজ্জা করার ইচ্ছাও আছে আপনার। এর জন্য হেয়ার কাটও করাচ্ছেন। তবে চুল যদি নিষ্প্রাণ ও জেল্লাহীন হয়, তাহলে সব চেষ্টাই বৃথা। কেশসজ্জা যতই সুন্দর হোক না কেন, রুক্ষ চুলে তা মানাবে না। চুল উঠে পাতলা হয়ে গেলেও দেখতে ভালো লাগবে না। তাই হাতে সময় থাকতে চুলের যত্ন নেওয়া শুরু করুন।

    বিশেষ এই পূজায় ঘন, লম্বা ও জেল্লাদার চুল চাইলে সাত দিন সময় দিতে হবে। ওই সাত দিনে কেশচর্চার সাত রকম পদ্ধতি নিয়ম মেনে চলতে পারলে চুল উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।

    প্রথম দিন অ্যালোভেরার মাস্ক ব্যবহার করুন। কারণ ভিটামিন ই-তে ভরপুর অ্যালোভেরায় রয়েছে ‘অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল’ উপাদান। এতে থাকা অ্যান্টি-মাইক্রোবিয়াল উপাদান ও ভিটামিন ই খুসকি দূর করতে, স্ক্যাল্পের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং চুল বৃদ্ধিতে বিশেষ সহায়ক ভূমিকা পালন করে। প্রথম দিন অ্যালোভেরাজেল মাথার ত্বক ও চুলে ভালো করে মালিশ করুন। ৩০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন।

    দ্বিতীয় দিন কাঁচা পেঁয়াজের রস ব্যবহার করুন। নতুন চুল গজানো কিংবা মাথার ত্বকের সংক্রমণ রোধ করার ঘরোয়া টোটকা হচ্ছে পেঁয়াজের রস। মাথার ত্বকে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এ কাঁচা পেঁয়াজের রস। ফলে পেঁয়াজের রস মাখলে নতুন চুল গজায়। চুলের ঘনত্ব বাড়ে। দ্বিতীয় দিন পেঁয়াজের রস ভালো করে মাথায় মেখে আধাঘণ্টার মতো রেখে সামান্য গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

    তৃতীয় দিন নারিকেল তেল ব্যবহার করুন। এতে চুল হবে তরতাজা। নারিকেল তেল হালকা গরম করে সেই তেল ভালো করে চুলে মালিশ করুন। এরপর সারা রাত রাখতে পারলে ভালো, না হলে ঘণ্টা দুয়েক পর শ্যাম্পু করে চুল ধুরে ফেলুন।

    চতুর্থ দিন চালের পানি ব্যবহার করুন। অল্প চাল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এরপর ধোয়া চালের মধ্যে আরও খানিকটা পানি ঢেলে নিন। এবার ১০-১৫ মিনিট ঢেকে রাখুন। চাল হাত দিয়ে চটকে নিন। পানি ঘোলা হয়ে যাবে। এবার পাত্রে পানিটা ছেঁকে নিন। চাল ধোয়া পানি তৈরি হলো। এবার চুলে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার মাখার পর শেষবার চুল ধুতে ব্যবহার করুন সেই চাল ধোয়া পানি। তাতে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল মিশিয়ে নিতে পারেন। পানিটা চুলে ঢেলে ধীরে ধীরে গোড়া থেকে আগা পর্যন্ত মাসাজ করুন। এরপর মিনিট পাঁচেক রেখে পরিষ্কার পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

    পঞ্চম দিনে আমলকী-কারিপাতার তেল ব্যবহার করুন। কারণ এ তেল ভিটামিন সি’সমৃদ্ধ। বানিয়ে নিন বাড়িতেই। এক কাপের মতো আমলকী ও তাতে আধাকাপের মতো কারিপাতা দিয়ে ভালো করে ফোটাতে হবে। এরপর তেল নিয়ম করে মাখলে চুলের পুষ্টিও হবে, বৃদ্ধিও হবে।

    ষষ্ঠ দিনে গ্রিন-টি ম্যাজিক ব্যবহার করুন। চুলে থাকা সিবেসিয়াস গ্রন্থি থেকে তেল নিঃসৃত হয়, যা প্রাকৃতিকভাবে চুলকে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা জোগায়। এই আর্দ্রতা ধরে রাখবে গ্রিন-টি ব্যবহার করুন। এতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করবে এবং চুলের ঘনত্ব বাড়াবে।

    সপ্তম দিনে জবাফুলের মাস্ক ব্যবহার করুন। চুল যেমন ঝরছে, ঠিক তেমনই পাকা চুলের সংখ্যাও বাড়ছে। কানের পাশে, সিঁথির দুই পাশে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছে পাকা চুল। তা ঢাকতে যথেচ্ছ ডাই ব্যবহার করে চুলের আরও ক্ষতি হচ্ছে। তার চেয়ে বরং জবাফুলের মাস্ক ব্যবহার করলে চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা যেমন দূর হবে, ঠিক তেমনই পাকা চুল কালো হবে অচিরেই। ২-৩টি জবাফুল ফুটিয়ে নিতে হবে। যে রস বেরোবে, তার সঙ্গে নারিকেলের দুধ মিশিয়ে ভালো করে চুলে মালিশ করুন। ২০ মিনিট রেখে ভেষজ কোনো শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।

  • গর্ভাবস্থায় চুলকানি কেন হয়, সন্তানের কোনো ক্ষতি করে কি!

    গর্ভাবস্থায় চুলকানি কেন হয়, সন্তানের কোনো ক্ষতি করে কি!

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:   গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তনের কারণে চুলকানি হতে পারে, যা সাধারণত ক্ষতিকর নয়। কিন্তু ইনট্রাহেপাটিক কোলেস্টাসিস অফ প্রেগন্যান্সি বা আইসিপি হলে শরীরে মারাত্মক চুলকানি হতে পারে। আর লিভারের সমস্যা থেকেই আইসিপি হয়ে থাকে ।

    আইসিপির কারণে অন্তঃসত্ত্বা নারীর বিশেষ কোনো শারীরিক ক্ষতি না হলেও তার গর্ভের সন্তানের জন্য বড় বিপদ হতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চুলকানি হলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

    গর্ভাবস্থায় এ রোগের প্রতিরোধের জন্য ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা, ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা, প্রচুর পানি পান করা এবং ভেজা কাপড় বা বরফ দিয়ে সেঁক দেওয়া যেতে পারে।

    আইসিপির চিকিৎসা না হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই সন্তানের জন্ম হয়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ট্রিমেস্টারে আইসিপি হতে পারে। বিশেষ করে রাতের বেলা এর প্রকোপ বাড়ে। চুলকানির সঙ্গে খিদে কমে যাওয়া, ক্লান্তি, ত্বক হলদেটে হয়ে যাওয়াও আইসিপির চিহ্ন।বেশিরভাগ ক্ষেত্রে গর্ভধারণ ছাড়া এই চুলকানির পেছনে নির্দিষ্ট কারণও খুঁজে পাওয়া যায় না।

    শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পেটে চুলকানির সমস্যা বেশি হয়। প্রেগনেন্সির সময়, বাচ্চা মায়ের পেটের ভেতর বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেটের আকারও বাড়তে থাকে। তখন  পেটের ত্বক অনেকটা প্রসারিত হয়ে সেখানে টান পড়ে। ফলে সেখানকার নার্ভে কিছু পরিবর্তন হয়ে পেটে চুলকানি হতে পারে।আসলে এ সময়ে কিছু হরমোনের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় গর্ভাবস্থায় চুলকানি তৈরি হয়।মানসিক চাপ এড়িয়ে চলুন। কারণ মানসিক চাপ চুলকানি বাড়িয়ে দিতে পারে।