Category: লাইফস্টাইল

  • জেনে নিন খালি পেটে চা খেলে কি হয়

    জেনে নিন খালি পেটে চা খেলে কি হয়

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: বেশিরভাগ পরিবারেই সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে চা পান করা একটি সাধারণ অভ্যাস। আমরা অনেকেই দিন শুরু করতে ভালোবাসি এক কাপ চা দিয়ে। চা কেবল বন্ধুদের সঙ্গে উপভোগ করা, অতিথিদের স্বাগত জানানো বা ক্লান্তি দূর করার দুর্দান্ত পানীয়ই নয়, এটি বেশ কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতাও নিয়ে আসে। যেমন ব্ল্যাক টি-তে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা ক্যাটেচিন থাকে যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বিপাক বৃদ্ধি করতে পারে। তবে চা দিয়ে সকাল শুরু করা কি সত্যিই ভালো? কখনোই ক্যাফেইন দিয়ে দিন শুরু করবেন না – চা হোক বা কফি। ক্যাফেইন খাওয়ার আগে পেটে কিছু খাবার দেওয়া উচিত, অন্যথায় এটি পাকস্থলীর অ্যাসিড তৈরি করতে পারে এবং সারাদিনহজমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক, খালি পেটে চা খেলে কী হয়-

    ১. বিপাকীয় কার্যকলাপ ব্যাহত করে

    সকালে চা পান করলে পেটে অ্যাসিডিক এবং ক্ষারীয় পদার্থের ভারসাম্যহীনতার কারণে বিপাকীয় ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। যা শরীরের নিয়মিত বিপাকীয় কার্যকলাপে বাধা দিতে পারে এবং আপনাকে সারাদিন সমস্যায় ফেলতে পারে।

    ২. শরীরকে পানিশূন্য করে

    চা হলো মূত্রবর্ধক, অর্থাৎ এটি আমাদের শরীর থেকে পানি সরিয়ে দেয়। আট ঘণ্টা ঘুম এবং পানি বা খাবার গ্রহণ না করার কারণে আমাদের শরীর ইতিমধ্যেই পানিশূন্য হয়ে পড়ে, চা কেবল সেই অবস্থাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। অতিরিক্ত পানিশূন্যতা অবশেষে খনিজ পদার্থের ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে যা পেশীতে খিঁচুনি সৃষ্টি করতে পারে।

    ৩. মুখের স্বাস্থ্য নষ্ট করে

    সকালে খালি চা পান করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া চিনি ভেঙে ফেলে যার ফলে মুখে অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি আপনার দাঁতের এনামেলের ক্ষয় ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত ব্যাকটেরিয়া জমা হওয়ার কারণে এটি জিঞ্জিভাইটিসও হতে পারে।

    ৪. ক্যাফেইনের প্রভাব বিপরীতমুখী

    ক্যাফেইন তাৎক্ষণিক শক্তি বৃদ্ধি করে। তবে খালি পেটে শরীরে প্রচুর ক্যাফেইন গেলে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া হতে পারে। যার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা ইত্যাদি। কিছু খাওয়ার পর চা বা কফি পান করা ভালো।

    ৫. পেট ফুলে যাওয়া

    চায়ে দুধের উপস্থিতি পেট ফুলে যাওয়ার কারণ হতে পারে। মূলত দুধে ল্যাকটোজ বেশি থাকার কারণে পেট ফুলে যেতে পারে যা খালি পেটে থাকলে অন্ত্রকে প্রভাবিত করতে পারে। এর ফলে গ্যাস এবং কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।

  • যে অভ্যাসের কারণে অবসাদের ঝুঁকি বাড়ছে কিশোর-কিশোরীদের

    যে অভ্যাসের কারণে অবসাদের ঝুঁকি বাড়ছে কিশোর-কিশোরীদের

    অনলাইন ডেস্ক: কিশোর বয়সে সন্তানের অবসাদের ঝুঁকির প্রধান কারণ একটি বিশেষ অভ্যাসকে দায়ী করা হয়েছে, যা হলো সামাজিক মাধ্যমে ডুবে থাকা। সাম্প্রতিক গবেষণায় এই সাধারণ অভ্যাসের দিকে নির্দেশ করে বলছে যে, এটি কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বিষণ্ণতার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। ছোটদের অবসাদের নেপথ্যে আরও একাধিক কারণ থাকতে পারে। এই যেমন পড়াশোনার চাপ, কটাক্ষ বা কৈশোরকালে দেহে হরমোনের তারতম্য। তবে এর নেপথ্যে গবেষকরা চিহ্নিত করেছেন সামাজিক মাধ্যম, যার ওপর অনেক সময়েই গুরুত্ব দেওয়া হয় না।

    অনেক সময়েই অভিভাবকরা তা বোঝার চেষ্টা করেন না। কৈশোরে পা দেওয়ার আগে থেকেই ছোটদের মনে নানা কারণে চাপ তৈরি হতে পারে। অভিভাবকরা অনেক সময়েই সন্তানের অবসাদ শনাক্ত করতে পারলেও নেপথ্য কারণ অনুসন্ধান করতে পারেন না।

    সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার পেডিয়াট্রিকস বিভাগের একদল গবেষক ছোটদের অবসাদ নিয়ে একটি গবেষণা করেছেন। ‘জামা নেটওয়ার্ক’ জার্নালে তা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে কৈশোরে পা দেওয়ার আগের বছরগুলোতে ছোটদের অবসাদের জন্য দায়ী সামাজিক মাধ্যম।

    গবেষকরা জানতে চেয়েছিলেন, সামাজিক মাধ্যমের কারণেই ছোটরা অবসাদে আক্রান্ত হচ্ছে, না কি অবসাদে আক্রান্তরা বেশি সামাজিকমাধ্যম ব্যবহার করছে। তার জন্য গবেষকরা তিন বছর ধরে ১২ হাজার ছেলেমেয়ের ওপর গবেষণা চালিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

    এ থেকে গবেষকরা জানতে পেরেছেন, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে অনেক কিশোর অবসাদে আক্রান্ত হয়েছে। আর অবসাদে আক্রান্ত হওয়ার পর তারা বেশি সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করেনি। জানা গেছে, প্রথম বছরে যে কিশোররা দিনে ৭ মিনিট সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করত, দ্বিতীয় বছরে তা ৭৩ মিনিটে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সার্বিকভাবে তা ছোটদের অবসাদের আশঙ্কা ৩৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। অধ্যাপক জেসন নাগাটা বলেন, আমরা জানতে পেরেছি যে, সামাজিক মাধ্যমের ক্রমাগত ব্যবহার কৈশোরের প্রাক্কালে ছোটদের অবসাদের অন্যতম কারণ।

    এই প্রসঙ্গে ‘দ্য ল্যানসেট রিজিওনাল হেল্থ’ জার্নালে প্রকাশিত আরেক গবেষণাপত্রে জানা গেছে, ১১ থেকে ১২ বছরের শিশুর মধ্যে যারা সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত কটাক্ষের শিকার হয়েছে, তারা একজন সাধারণ শিশুর তুলনায় ২.৬২ শতাংশ বেশি আত্মহত্যাপ্রবণ মানসিকতার কথা ব্যক্ত করেছে।

    এ বিষয়ে ‘দ্য আমেরিকান অ্যাকাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস’ কিছু পরামর্শ দিয়ে বলেছে, কৈশোরে প্রবেশের আগে ছোটদের মোবাইল ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা উচিত। তার জন্য বাবা-মায়েদেরই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। প্রয়োজনে ছোটদের শেখানোর জন্য বাবা-মায়েরাও বাড়িতে মোবাইলের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার করতে পারেন। পাশাপাশি ছোটদের সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচক দিকগুলো নিয়ে সতর্ক করতে পারলেও সমস্যার সমাধান হতে পারে।

  • একটি সিগারেট জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে ২০ মিনিট: নতুন গবেষণা

    একটি সিগারেট জীবন থেকে কেড়ে নিচ্ছে ২০ মিনিট: নতুন গবেষণা

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: দীর্ঘ সময় ধরে আপনি ধূমপানে আসক্ত। বিভিন্ন সময় বন্ধু কিংবা সহকর্মীদের আড্ডায় প্রতিজ্ঞা করেন এবার ছেড়ে দেবেন। এটা নিয়ে কেউ কেউ হাসি-তামাশা করলেও আপনার জন্য সুসংবাদ রয়েছে। যদি আপনি আপনার সিদ্ধান্তে অবিচল থাকেন। কারণ গবেষণা বলছে— ধূমপান ছাড়লে আপনার আয়ু বাড়তে পারে।

    যুক্তরাজ্যের ধূমপায়ীদের ওপর করা গবেষণায় দেখা গেছে, একটি সিগারেট খেলে একজন মানুষের গড়ে প্রায় ২০ মিনিট করে আয়ু কমে যায়।

    সামাজিক ও আর্থিক অবস্থাসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন ‘র গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রতি সিগারেট আয়ু কমায় প্রায় ১৭ মিনিট, আর নারীদের ক্ষেত্রে প্রায় ২২ মিনিট। অ্যাডিকশন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

    ইউসিএল অ্যালকোহল অ্যান্ড টোব্যাকো রিসার্চ গ্রুপের প্রধান গবেষণা ফেলো এবং প্রবন্ধটির প্রধান লেখক ড. সারা জ্যাকসন বলেছেন, কেউ যদি দিনে এক প্যাকেট (২০টি) সিগারেট খান, তবে তার আয়ু কমে যায় প্রায় ৭ ঘণ্টা।অর্থাৎ যে সময়টি তিনি হারাচ্ছেন, সেটি প্রিয়জনদের সঙ্গে সুস্থভাবে কাটানোর মতো সময়।

    তিনি আরও বলেন, ধূমপানের কারণে শুধু জীবনের সেই শেষ সময়টুকুই কমছে না, জীবনের মাঝামাঝি সুস্থ সময়ও কমিয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ, যে আয়ু কমার কথা বলছি, সে সময়টুকু তারা হারাচ্ছেন তা আসলে তুলনামূলক সুস্থ সময়ের মধ্যেই।

    এই গবেষণা করেছে যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বিভাগ। তারা ব্যবহার করেছে দুটি বড় তথ্যভাণ্ডার—ব্রিটিশ ডক্টরস স্টাডি থেকে পুরুষদের তথ্য এবং মিলিয়ন উইমেন স্টাডি থেকে নারীদের তথ্য। উভয় ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, যারা সারা জীবন ধূমপান করেছেন তাদের আয়ু গড়ে ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় প্রায় ১০ বছর কম।

    অন্যদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। ইউএস সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, ধূমপায়ীদের আয়ু সাধারণত ধূমপান না করা মানুষের তুলনায় কমপক্ষে ১০ বছর কম।

    নতুন এই ব্রিটিশ গবেষণায় বলা হচ্ছে, ধূমপানের ক্ষতি আসলে ধীরে ধীরে জমতে থাকে। আর ধূমপান ছাড়ার পর কতটা আয়ু ফিরে পাওয়া যাবে, তা নির্ভর করে কয়েকটি বিষয়ের ওপর— যেমন বয়স ও কত বছর ধরে কেউ ধূমপান করেছেন।

    ড. জ্যাকসন বলেছেন— কেউ যদি যুবক বয়সে (২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে) ধূমপান ছাড়ে, তাহলে তাদের আয়ু প্রায় ধূমপান না করা মানুষের সমান হয়। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধূমপান ছাড়লেও হারানো কিছুটা সময় আর ফিরে পাওয়া যায় না।

    তিনি একটা উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে বলেন, কেউ যদি প্রতিদিন ১০টি সিগারেট খান এবং মাসের শুরুতেই ধূমপান ছেড়ে দেন, তবে ৭ দিন পর তিনি এক দিনের আয়ু হারানো থেকে বাঁচতে পারবেন। এভাবে করে বছরের শেষে প্রায় ৫০ দিন আয়ু হারানো এড়াতে পারবেন।

    ড. জ্যাকসন পরামর্শ দিয়ে বলেন, ধূমপান বন্ধ করা নিঃসন্দেহে স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো কাজ। যত তাড়াতাড়ি ছাড়া যাবে, তত দীর্ঘ জীবন পাওয়া যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

    যদিও ১৯৬০-এর দশক থেকে ধূমপানের হার কমছে, তবুও এখনো ধূমপান যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিরোধযোগ্য রোগ ও মৃত্যুর সবচেয়ে বড় কারণ। প্রতি বছর সেখানে ৪ লাখ ৮০ হাজারের বেশি মানুষ ধূমপানের কারণে মারা যায়। তবে ৪০ বছরের আগে ধূমপান ছাড়তে পারলে ধূমপান-সম্পর্কিত রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৯০% কমে যায়।

    অন্যদিকে, নেচার জার্নালে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ধূমপান মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলে। এতে সংক্রমণ, ক্যানসার বা অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। যত বেশি ধূমপান, তত বেশি ক্ষতি হয় ইমিউন সিস্টেমে।

    তবে ভালো খবর হলো, ধূমপান ছাড়লে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরতে শুরু করে, যদিও পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগে। ওই গবেষণার সহ-লেখক ডা. ড্যারাহ ডাফি বলেন— ধূমপান শুরু করার মতো সময় কখনোই ভালো নয়। তবে যদি ধূমপায়ী হন, তবে ছাড়ার সেরা সময় হলো এখনই।

    তথ্য সূত্র: সিএনন

  • সকালে সহজে ওঠার টিপস

    সকালে সহজে ওঠার টিপস

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রাত জাগা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কেউ রাতভর কাজ করেন, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ডুবে সময় হারিয়ে ফেলেন। অনেকে আবার সিরিজ দেখতে দেখতে বুঝতেই পারেন না কখন রাত গভীর হয়ে যায়। ফলাফল—সকালে ঘুম থেকে ওঠা হয়ে দাঁড়ায় একপ্রকার যুদ্ধের মতো।

    কেন পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি?

    বিশেষজ্ঞরা বলেন, পর্যাপ্ত ও মানসম্মত ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ক দুটোকেই কর্মক্ষম রাখে। ঘুম কম হলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যায়। নিয়ম মেনে না ঘুমালে সকালে উঠতেও সমস্যা হয়, সময় নষ্ট হয়, আর কাজের কাজ হয় না।

    নিয়মিত রুটিন

    আমাদের শরীরে একটি প্রাকৃতিক জৈবঘড়ি আছে, যাকে বলা হয় সার্কাডিয়ান রিদম। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস এই ছন্দকে ঠিক রাখে। তাই কখন ঘুমাবেন ও কখন উঠবেন তা আগে থেকে নির্দিষ্ট করুন—উইকেন্ডেও রুটিন ভাঙবেন না।

    শরীরচর্চার ভূমিকা

    রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে হালকা শরীরচর্চা করলে ঘুম সহজে আসে এবং গভীর হয়। রাতে খাবারের পর কয়েক মিনিট হাঁটাহাঁটি করতে পারেন। এতে ঘুম ভালো হবে এবং সকালে সহজে উঠতে পারবেন।

    মোবাইল দূরে রাখুন

    ঘুমানোর আগে ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহার করলে এর নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের ক্ষরণ কমিয়ে দেয়, যা ঘুমের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে সব ধরনের ডিজিটাল স্ক্রিন এড়িয়ে চলুন।

    সকালের আলো

    ঘুম থেকে ওঠার পর সূর্যের আলো শরীরে পড়লে কর্টিসল হরমোন সক্রিয় হয়, যা শরীরকে জাগিয়ে তোলে। তাই সকালে উঠেই জানালার পর্দা সরিয়ে দিন বা বাইরে কিছুক্ষণ হাঁটুন।

    পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন

    একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির প্রতিদিন অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তাই কখন উঠবেন তা হিসাব করে ঘুমাতে যান। ঘুম যথেষ্ট হলে সকালে সতেজভাবেই জাগতে পারবেন।

    চা–কফি এড়িয়ে চলুন

    রাতে চা, কফি বা ক্যাফেইনসমৃদ্ধ খাবার (যেমন চকোলেট) খাবেন না। এগুলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে সকালে ওঠা কঠিন হয়ে যায়। পাশাপাশি রাতে ভারী ও অতিরিক্ত মসলাদার খাবারও এড়িয়ে চলুন।

    সতর্ক থাকুন

    যদি পর্যাপ্ত ঘুমের পরও সকালে ঘুমঘুম ভাব, মাথা ভার বা অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্য কোনো নিদ্রাজনিত সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


    👉 চাইলে আমি এটাকে আরও ছোট করে চেকলিস্ট/হেলথ টিপস স্টাইলে (যেমন ৭টি সহজ উপায় সকালে ওঠার) বানিয়ে দিতে পারি। চাও কি আমি সেটাও বানিয়ে দিই?

  • রক্তদানের আগে ও পরে যে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি

    রক্তদানের আগে ও পরে যে বিষয়টি মাথায় রাখা জরুরি

    স্বাস্থ্য ডেস্ক: হঠাৎ করেই যে কোনো সময় মানুষের জীবনে হতে পারে রক্তের প্রয়োজন। আর রক্তদান হচ্ছে একটি মহৎ কাজ, যা একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে আপনার এক রক্ত দিয়ে। অনেক সময় দুর্ঘটনায় কিংবা বড় অপারেশনে প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়, বিশেষ করে আগুনে পোড়ার মতো গুরুতর রোগীর ক্ষেত্রে।

    তবে নিজেকে সুস্থ মনে হলে আপনিও রক্তদানের আগে ও পরে বেশ কয়েকটি বিষয় জেনে তারপর রক্ত দিতে পারেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন হেল্থ এইড হাসপাতালের ডা. আফিফ বাসার।

    সড়ক দুর্ঘটনা, আগুনে পোড়া কিংবা যে কোনো গুরুতর আঘাতের ফলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়। বিভিন্ন জটিল অস্ত্রোপচারের সময়, যেমন— হার্ট সার্জারি, ক্যানসারের অপারেশন, যা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়। এ সময়ে রোগীর জন্য আগে থেকেই রক্ত সংরক্ষণ করে রাখা প্রয়োজন।

    এ ছাড়া থ্যালাসেমিয়া, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া বা অন্যান্য রক্তরোগে আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত রক্তের প্রয়োজন হয়। আর ক্যানসার চিকিৎসায় কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপির কারণে রক্তকণিকা ক্ষতিগ্রস্ত হলে রোগীর প্রয়োজন পড়ে রক্তের। পরীক্ষার মাধ্যমে রোগীর রক্ত প্রয়োজন কিনা অনেক সময়ে তা নির্ণয় করেন চিকিৎসকরা। আবার প্রসবকালীন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে মায়ের জীবন বাঁচাতে রক্তের প্রয়োজন হয়।

    রক্তদানের আগে যা করা উচিত

    উপরোক্ত বিষয়ে রক্তের প্রয়োজনে আপনিও মানবিক কারণে এগিয়ে আসতে পারেন। একজন মুমূর্ষু রোগীকে বাঁচাতে পারেন। সে ক্ষেত্রে রক্তদানের আগে আপনার কিছু করণীয় রয়েছে। রক্তদান একটি সহজ প্রক্রিয়া হলেও এর আগে কিছু প্রস্তুতি ও সতর্কতা মেনে চলা উচিত।

    এই যেমন রক্ত দেওয়ার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি। কারণ ঘুমের কমতি শরীরে প্রভাব ফেলে। রক্ত দেওয়ার এক থেকে চার ঘণ্টা আগে পুষ্টিকর ও আয়রন বা লৌহ সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত। খালি পেটে রক্তদান করলে দুর্বলতা বা মাথা ঘোরার ঝুঁকি থাকে। আর কমপক্ষে ৫০০ মি.লি. বা দুই গ্লাস পানি পান করতে হবে। এটি রক্তদানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য কোনো অসুস্থতা আছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো সমস্যা থাকলে রক্তদান করা ঠিক নয়।

    আবার ওষুধের বিষয়ে সতর্কতা

    আপনি যদি কোনো অ্যান্টিবায়োটিক, ইনসুলিন বা অ্যাসপিরিনের মতো ওষুধ গ্রহণ করে থাকেন, তবে রক্তদানের আগে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে এবং তার পরামর্শ নিতে হবে। কারণ কিছু ওষুধ রক্তদানের জন্য ব্যক্তিকে অযোগ্য করে তুলতে পারে।

    এ ছাড়া রক্তদানের অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে মদপান এবং দু-চার ঘণ্টা আগে ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। এটি রক্তদানের জন্য ঠিক নয়। রক্তদাতার বয়স ১৮ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে এবং ওজন ন্যূনতম ৪৫ কেজি বা ১০০ পাউন্ড হতে হবে।

    রক্তদানের পর যা করা উচিত

    রক্তদানের পর প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। রক্ত দেওয়ার পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পানি পান করুন। ফলের রস, ডাবের পানি, লেবুর শরবত কিংবা স্যুপ খেলে খুবই ভালো হয়।  এতে রক্তের প্লাজমা দ্রুত পূরণ হবে, যা নিজের শরীরের জন্য ভালো। শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য এ বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত। আর সেই সঙ্গে বিশ্রাম একান্ত প্রয়োজন। রক্তদানের পর কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ মিনিট বিশ্রাম নিতে হবে।

    ভালো হয় যেখানে রক্ত দিয়েছেন সেখানেই বিশ্রাম নিলে। রক্ত দিয়ে তাড়াহুড়া করে উঠে যাওয়া যাবে না। ভারি কাজ পরিহার করতে হবে। কারণ ভারি জিনিস তোলা, ব্যায়াম করা কিংবা অন্য কোনো কঠোর শারীরিক কসরত থেকে বিরত থাকতে হবে। রক্ত দিলে শরীরে দুর্বলতা আসতে পারে। তাই বিশ্রাম নিলে শরীর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

    এ ছাড়া চা ও কফি থেকে বিরত থাকতে হবে। রক্তদানের পর দুই-তিন ঘণ্টা চা-কফি পান করা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। কারণ এগুলো আয়রন বা লৌহ শোষণে বাধা দিতে পারে। আর চা ও কফিতে প্রচুর পরিমাণে ক্যাফেইন থাকে, যা রক্তদানের পর গ্রহণ ঠিক নয়।

  • পোকা কামড়ের ঝুঁকি: কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    পোকা কামড়ের ঝুঁকি: কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: সাধারণত পোকা কামড়ালে হালকা চুলকানি, লালচে দাগ বা ফোলাভাব দেখা দেয়, যা কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। তবে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।

    🔴 কেন সতর্ক হতে হবে?

    বর্ষাকালে পোকার কামড়ে অনেক সময় জ্বর হয়। এছাড়া নানা ধরনের পোকামাকড়ের কামড়ে ত্বকে অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে। যদি কামড়ের জায়গায় জ্বালা বাড়ে, ফুলে যায় বা পুঁজ বের হতে শুরু করে—তাহলে তা ভালো লক্ষণ নয়। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

    ⚠️ গুরুতর অ্যালার্জি বা অ্যানাফাইল্যাক্সিস

    কখনো কখনো পোকার কামড় গুরুতর অ্যালার্জি সৃষ্টি করে, যাকে অ্যানাফাইল্যাক্সিস বলা হয়। এতে—

    • ত্বকে মারাত্মক প্রদাহ শুরু হয়

    • শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়

    • ঠোঁট ও জিভ ফুলে যায়

    • রক্তচাপ হঠাৎ কমে যায়

    • মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়

    • বমি, ডায়রিয়া বা খিঁচুনিও হতে পারে

    🦟 বর্ষায় বিশেষ সতর্কতা

    • ট্রম্বিকিউলিড মাইটস বা টিক জাতীয় পরজীবী পোকা (আকার মাত্র ০.২–০.৪ মি.মি.) কামড়ালে সংক্রমণ হতে পারে। এতে জ্বর ও খিঁচুনি দেখা দেয়।

    • ডাস্ট মাইট নামের ছোট পোকারা বিছানা, কার্পেট ও আসবাবে বাসা বাঁধে। তাদের কামড়েও ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে।

    🚨 যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন

    • অতিরিক্ত চুলকানি ও লালচে র‍্যাশ

    • চোখ, মুখ, ঠোঁট বা গলার ভেতর ফুলে যাওয়া

    • বুক চেপে আসা, ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট

    • কামড়ের জায়গায় রঙ পরিবর্তন (নীলচে বা কালো দাগ)

    • ক্ষতস্থানে ঘা বা পুঁজ হওয়া

    ✅ করণীয়

    শুধু অ্যান্টিসেপ্টিক মলম ব্যবহার যথেষ্ট নয়। অবহেলা করলে ক্ষত থেকে গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। তাই উপরের কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।