Category: লাইফস্টাইল

  • সত্যিকারের বন্ধু চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

    সত্যিকারের বন্ধু চেনার কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: জীবন বন্ধুত্ব ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ এক যাত্রা। সবার জীবনে কমবেশি বন্ধুর দেখা মেলে, আর এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে মনের গভীরতার ছোঁয়ায়। রক্তের বন্ধন না থাকলেও বন্ধুর সঙ্গে যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে. তা হয় আত্মার বন্ধন। কিন্তু প্রকৃত বন্ধু পাওয়া আজকাল কঠিন হয়ে পড়েছে। কখনও কি ভেবেছেন, আপনার চারপাশের বন্ধুরা আসলেই কি আপনার প্রকৃত বন্ধু? বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে একে অপরকে বোঝার মধ্য দিয়ে, আর সবার সঙ্গে তেমন গভীর বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। তাই যাদের বন্ধু বানাচ্ছেন, তাদের সত্যিকারের যোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। চলুন, দেখে নেওয়া যাক প্রকৃত বন্ধুকে চেনার কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ-

    বিশ্বাসের নিরাপদ আশ্রয়

    বন্ধু মানেই এমন একজন যাকে বিশ্বাস করে মনের কথাগুলো অবাধে বলা যায়। কিন্তু যদি আপনার গোপন কথা অন্যত্র ছড়িয়ে পড়ে বা তা গোপনীয়তা ভঙ্গ করে, তাহলে সেই মানুষ কখনোই প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না। মনের কথা খুলে বলার জায়গা খুঁজে পেতে হলে বন্ধুদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকতে হয়।

    একই মানসিকতার সমঝোতা

    বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে এক ধরনের মানসিক সমঝোতার ওপর। যখন দুজনের চিন্তাভাবনা, অনুভূতি ও মানসিক দিকগুলো মিলে যায়, তখন সম্পর্কটা প্রকৃত বন্ধুত্বে রূপ নেয়। তাই বন্ধুত্বের প্রথম শর্ত মানসিকতার একসঙ্গে চলা। এর জন্য আগে থেকেই তার মানসিক অবস্থা বুঝে নেওয়া বাঞ্ছনীয়।

    অটল বিশ্বাসের বন্ধন

    বিশ্বাস যে বন্ধুত্বের ভিত্তি, এতে সন্দেহ নেই। বন্ধুর ওপর পুরোপুরি নির্ভর করার আগে তার বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করে নেওয়া উচিত। এমন বন্ধুকে খুঁজে নিতে হবে যে কখনো বিশ্বাসভঙ্গ করবে না বা আঘাত দেবে না।

    ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে অবজ্ঞা নয়

    যে বন্ধু আপনার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে লুকিয়ে কিংবা প্রকাশ্যে ঠাট্টা করে, তাকে কখনোই প্রকৃত বন্ধু ভাবা যায় না। মজার ছলে যদি কেউ আপনার আবেগ বা গোপন বিষয়কে ছোট করে দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে সে বন্ধুত্বের আড়ালে মিথ্যা রূপ ধারণ করেছে।

    হিংসা আর প্রতিযোগিতা নয়

    যে বন্ধু আপনার সাফল্যের বিপরীতে হিংসা করে বা আপনাকে কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় ঠেলে দেয়, সে কখনও প্রকৃত বন্ধু নয়। বন্ধুত্বের মধ্যে হিংসা বা প্রতিযোগিতার স্পর্ধা থাকলে সম্পর্ক টেকসই হয় না।

    উদার মনের পরিচয়

    প্রকৃত বন্ধু সবসময় উদার হয়, এমনকি ছোটখাটো বিষয়েও কৃপণতার পরিচয় দেয় না। বন্ধুত্বে যদি কোনো বিষয়ে স্থান হয় উদারতার অভাবে দূরত্ব তৈরি হয়, তবে সে সম্পর্ক গভীর হওয়ার সম্ভাবনা কম।

    ক্রুটির প্রতি সহনশীলতা

    কোনো মানুষই সম্পূর্ণ নয়, প্রত্যেকেরই কিছু না কিছু দোষ থাকে। প্রকৃত বন্ধু সে যিনি অপরের ত্রুটি মেনে নিতে পারেন এবং প্রয়োজনে বন্ধুকে তার ভুল বুঝিয়ে দেন। ভালো বন্ধুই অন্যের উন্নতির জন্য কাজ করে।

    এই গুণাবলীর মাধ্যমে আপনি আপনার বন্ধুমহলে প্রকৃত বন্ধু এবং ছদ্মবন্ধু আলাদা করতে পারবেন সহজেই। বন্ধুত্বে যতো খানি বুদ্ধি আর মনোযোগ দেওয়া হয়, সেগুলোই সম্পর্ককে করে টেকসই ও সত্যিকারের। তাই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাসের আগে এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করে নিন।

  • অক্টোবর থেকে হার্টের ১০ ধরনের রিংয়ের নতুন দাম কার্যকর

    অক্টোবর থেকে হার্টের ১০ ধরনের রিংয়ের নতুন দাম কার্যকর

    লাইফস্টাইল ডেস্ক : হৃদরোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত তিনটি কোম্পানির তৈরি ১০ ধরনের করোনারি স্টেন্টের (হার্টের রিং) নতুন দাম কার্যকর করা হবে আগামী ১ অক্টোবর থেকে।

    রাজধানীর মহাখালীতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সভাকক্ষে মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় এক সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক মো.আকতার হোসেন এ তথ্য জানান।

    করোনারি স্টেন্ট আমদানিকারকদের আবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর জানায়।

    সংবাদ সম্মেলনে চিকিৎসক মো. আকতার হোসেন বলেন, “আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের হাতে এখনও করোনারি স্টেন্ট মজুদ থাকায় নতুন দাম বাস্তবায়নে কিছুদিন সময় চেয়ে মন্ত্রণালয় এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে আবেদন করেছে।”

    “তারা বলছে তাদের কাছে আগের দামে কেনা স্টেন্টের মজুদ আছে, কারও কাছে ৬ মাস, কারও তিন বছরের। অন্যদিকে দাম কমানোর বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ায় নতুন দামে স্টেন্ট দিতে হাসপাতালগুলোয় রোগীদের স্বজনরা চাপ দিচ্ছে। এসব বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয় নির্দেশনা দিয়েছে। এ অবস্থায় আগামী ১ অক্টোবর থেকে ওই ১০ ধরনের হার্টের রিংয়ের নতুন দাম কার্যকর হবে।”

    মো. আকতার হোসেন বলেন, “বাংলাদেশে প্রতি বছর অন্তত ৪৫ থেকে ৪৫ হাজার করোনারি স্টেন্ট প্রয়োজন হয়। নিবন্ধিত ৩১টি কোম্পানি করোনারি স্টেন্ট আমদানি করে। আমদানি করা মোট স্টেন্টের ৫০ শতাংশই এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের। এজন্য এগুলোর দাম আগে কমানো হয়েছে। বাকী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টেন্টের দামও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সে বিষয়েও শিগগিরই সিদ্ধান্ত আসবে।”

    গত ৩ অগাস্ট ওই তিনটি কোম্পানির ১০ ধরনের স্টেন্টের দাম কমায় সরকার। তাতে এগুলোর দাম তিন হাজার থেকে ৮৮ হাজার টাকা পর্যন্ত কমে।

    বর্তমান নির্ধারিত কোনটার কত দাম:

    মেডট্রোনিকের তৈরি রিসলিউট অনিক্সের স্টেন্টের দাম ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৯০ হাজার টাকা করা হয়েছে।

    একই কোম্পানির অনিক্স ট্রুকরের দাম ৭২ হাজার টাকা থেকে করা হয়েছে ৫০ হাজার টাকা।

    বস্টন সায়েন্টিফিকের প্রোমাস এলিটের দাম ৭৯ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৭২ হাজার টাকা করা হয়েছে। প্রোমাস প্রিমিয়ার স্টেন্ট ৭৩ হাজার টাকার বদলে ৭০ হাজার, সাইনার্জির দাম ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার, সাইনার্জি শিল্ড ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ৯০ হাজার টাকা এবং সাইনার্জি এক্সডি ১ লাখ ৮৮ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে।

    প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যাবোটের জায়েন্স প্রাইম স্টেন্টের দাম ৬৬ হাজার ৬০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ হাজার টাকা, জায়েন্স আলপাইনের দাম ১ লাখ ৪০ হাজার ৫০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৯০ হাজার টাকা এবং জায়েন্স সিয়েরার দাম ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৯০ হাজার টাকা করা হয়।

  • ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন ডার্ক চকলেট

    ত্বকের যত্নে ব্যবহার করতে পারেন ডার্ক চকলেট

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: মনমাতানো সুগন্ধ ও ভরপুর পুষ্টিগুণ। শুধু স্বাস্থ্যের জন্য নয়, চকলেট ত্বকের জন্যও বেশ উপকারী। এটি ত্বকে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে এবং ত্বককে সতেজ রাখে। কারণ, এতে রয়েছে নানা ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা ত্বকের কোলাজেন বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ত্বকের যত্নে চকলেটের জুড়ি মেলা ভার। আসুন জেনে নেওয়া যাক কেন চকলেট ত্বকে ব্যবহার করবেন-

    আর্দ্রতা ধরে রাখতে

    চকলেট ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখে। তাই গোসলের সময় শাওয়ার জেল বা বডি ওয়াশের সঙ্গে সামান্য পরিমাণ কোকো পাউডার মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক সজীব ও আর্দ্র থাকবে। এছাড়া ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার, ১ টেবিল চামচ মধু, আধা কাপ ম্যাশ করা কলা, ১ টেবিল চামচ দই একটি বাটিতে নিয়ে ঘন পেস্ট তৈরি করে মুখে ও ঘাড়ে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে হালকা গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে ত্বক হবে মসৃণ ও সুন্দর হবে।

    ত্বকে বয়সের ছাপ কমাতে

    অতিরিক্ত স্ট্রেস কিংবা দুশ্চিন্তা থেকে ত্বকে দ্রুত বলিরেখা পড়ে। ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে দিতে না চাইলে সাহায্য নিতে পারেন চকলেটের। ডার্ক চকলেট নানা ধরনের ভিটামিনে সমৃদ্ধ। ডার্ক চকোলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড ত্বকের বার্ধক্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১ টেবিল চামচ ডার্ক চকলেট, ১ চিমটি দারুচিনি, ১ টেবিল চামচ অর্গানিক মধু বাটিতে মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিন। মুখ এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ২৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে দুইদিন মাস্কটি ব্যবহার করলেই ত্বকের বলিরেখা দূর করে তারুণ্য বজায় থাকবে।

    ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধিতে

    চকলেট ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। পরিমাণমতো দুধ, মধু এবং ওটমিলের সঙ্গে কোকো পাউডার মিশিয়ে মুখ এবং ঘাড়ে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এরপর ঠান্ডা পানিতে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সপ্তাহে একদিন মাস্কটি ব্যবহারে ত্বক উজ্জ্বল হবে। ওটমিল ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করবে।

    ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতে

    ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর করতেও চকলেট ব্যবহার করতে পারেন। চকলেট ত্বককে রোদের ক্ষতিকারক ইউ.ভি রশ্মি থেকে রক্ষা করে। এই সৌন্দর্যের উপাদানটিতে ফ্ল্যাভোনয়েডস এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ত্বককে নরম করে তোলে। ১ চা চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার ও দুধ মিশিয়ে মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে তিন দিন ব্যবহার করলেই ত্বকের রোদে পোড়া ভাব দূর হবে।

    ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে

    ত্বকের মৃত কোষ দূর করতে চকোলেটের স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। ১ টেবিল চামচ দুধ ১ চা চামচ টকদই, ১ চামচ চালের গুঁড়া, ১ টেবিল চামচ কোকো পাউডার মিশিয়ে তৈরি করে মুখে লাগিয়ে নিন। শুকিয়ে গেলে অল্প পানি দিয়ে ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে নিন। চকলেট স্ক্রাব ত্বকের মৃত কোষ পরিষ্কার করে ত্বককে উজ্জ্বল করে।

  • ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন নিমপাতা

    ত্বকের নানা সমস্যা দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন নিমপাতা

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: রূপচর্চায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো নিমপাতা। ভারতীয় উপমহাদেশে শত শত বছর ধরে নিমের ব্যবহার হয়ে আসছে ত্বকের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে। নিমপাতায় অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টি ইনফ্ল্যামেটরি এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মতো উপাদান ত্বকে ব্রণের সমস্যা দূর করে, ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়, সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। এছাড়া যারা দীর্ঘদিন ধরে ত্বকে ফুসকুড়ির সমস্যায় ভুগছেন, তারা নিমপাতাকে রূপচর্চায় যুক্ত করেতে পারেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক নিম ত্বকের যত্নে কীভাবে ব্যবহার করবেন-

     

    ত্বককে সুস্থ রাখতে

    নিমে থাকা প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক উপাদান ত্বকের গভীর থেকে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া দূর করে। কয়েকটি নিমপাতা সেদ্ধ করে নিয়ে সেই পানি ছেঁকে গোসলের পানির সঙ্গে মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন এ পানিতে গোসল করলে ত্বকের যেকোনো সমস্যা ধীরে ধীরে ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া ভ্যাপসা আবহাওয়াতে গায়ে যে দুর্গন্ধ হয়, সেই সমস্যাও দূর করতে সাহায্য করবে।

     

    ব্রণ দূর করতে

    ত্বকের সিবাকাস গ্রন্থিতে অতিরিক্ত এবং ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া থেকে ব্রণের সৃষ্টি হয়। নিমপাতা এগুলো সারিয়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কয়েকটি নিমপাতা কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রেখে বেটে নিন। এই পেস্টটি ত্বকে লাগিয়ে আধা ঘণ্টা পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ব্রণ দূর করতে নিমপাতার এই পেস্টটি বেশ কার্যকরী।

     

    ব্রণের দাগ হালকা করতে

    নিমপাতা গুঁড়ার সঙ্গে গোলাপজল মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ১০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যবহারে ত্বকে কোনো দাগ থাকবে না। এছাড়া মুখের অতিরিক্ত তৈলাক্তভাব কমাতে চাইলে শশা ও নিমের ফেসপ্যাক কিংবা নিম, টক দইয়ের প্যাক ব্যবহার করতে পারেন।

     

    টোনার হিসেবে

    ত্বকের জন্য টোনার খুব উপকারি। প্রতিদিন নিমের টোনার ব্যবহার করলে মুখের বলিরেখা এবং মুখের দাগ দূর হবে। এছাড়া মুখের কালচে ভাবও কমিয়ে আনবে। টোনার বানানোর জন্য নিমপাতা সেদ্ধ করে পানি ছেঁকে নিন। ঠান্ডা হলে একটি পরিষ্কার বোতলে রেখে দিন। প্রতি রাতে মুখের ত্বকে লাগিয়ে, পরের দিন সুন্দরভাবে মুখ ধুয়ে ফেলুন।

     

    রোদে পোড়া ভাব দূর করতে নিম

    ত্বকের রোদের পোড়া কালো দাগ দূর করতে নিমপাতা ও কাঁচা হলুদ বেশ কার্যকর। ১ চা চামচ নিমপাতা বাটা, ১ চা চামচ কাঁচা হলুদ বাটা, ১ চা চামচ মুলতানি মাটি ও ১ টেবিল চামচ লেবুর রস একসঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে পেষ্ট বানিয়ে মুখে লাগিয়ে নিন। ২০ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। সেনসেটিভ ত্বক হলে লেবুর রস বাদ দিন। এই প্যাক রোদে পোড়া কালো দাগ দূর করতে সাহায্য করবে।

     

    ব্ল্যাকহেড কমাতে

    নিম মুখের ব্ল্যাকহেড দূর করতে সাহায্য করে। ১ চা চামচ নিম পাতা গুঁড়া, ১ চা চামচ কমলালেবু খোসার গুঁড়ার সঙ্গে অল্প মধু, দুধ এবং টক দই মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। এরপর পুরো মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে ভালোভাবে মুখ ধুয়ে নিন। সপ্তাহে তিনদিন ব্যবহার করলে ভালো ফল পাবেন। এছাড়া ১ চা চামচ নিমপাতা গুঁড়ার সঙ্গে ১ টেবিল চামচ বেসন ও পরিমাণমতো টক দই মিশিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন। ত্বকে ১৫ মিনিট লাগিয়ে রেখে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মুখের ব্ল্যাকহেড কমাতে সাহায্য করবে।

     

    উজ্জ্বলতা আনতে

    নিম পাতার গুঁড়ার সঙ্গে তরল দুধ মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এবার কয়েক ফোঁটা লেবুর রস দিয়ে দিন। মুখ ও ঘাড়ে লাগান। শুকিয়ে গেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক ব্যবহারে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়বে। এছাড়া নিম পাতার গুঁড়া, হলুদ, মধু, গোলাপ জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এটি ২০ মিনিট পর ঠান্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

  • জেনে নিন উচ্চ কোলেস্টেরলের কিছু নীরব লক্ষণ

    জেনে নিন উচ্চ কোলেস্টেরলের কিছু নীরব লক্ষণ

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: কোলেস্টেরল এমন একটি পদার্থ যা শরীরে নির্দিষ্ট পরিমাণে থাকা দরকার, কারণ এটি হরমোন তৈরিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু মাত্রাতিরিক্ত কোলেস্টেরল শরীরের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরল যদি বেশি হয়ে যায়, তাহলে এটি রক্তনালিতে জমে গিয়ে ধমনী সরু করে দেয়, যার ফলে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিপদ হচ্ছে কোলেস্টেরল বাড়লেও শরীর অনেক সময় সরাসরি কিছু বলে না। তবে কিছু ক্ষেত্রে, কিছু লক্ষণ শরীর আমাদের সতর্ক করতে পারে। কোলেস্টেরল বেড়ে গেলে যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে-

    ১. হাত-পায়ে অবশ বা ঝিনঝিন ভাব

    বেশি কোলেস্টেরল রক্তনালিতে প্লাক তৈরি করে। ফলে রক্তপ্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তা হাত-পায়ে ঝিনঝিনে অনুভূতি বা অবশ ভাব তৈরি করতে পারে।

    ২. চোখের চারপাশে হলদে জমা

    চোখের পাতার কোণে বা চারপাশে ছোট হলুদ ফ্যাটি জমা দেখা গেলে তা হতে পারে অতিরিক্ত কোলেস্টেরলের লক্ষণ। এটি চর্বি জমার দৃশ্যমান চিহ্ন।

    ৩. বুকে চাপ বা অস্বস্তি

    ধমনী সরু হয়ে গেলে হৃদপিণ্ড পর্যাপ্ত রক্ত পায় না। ফলে ব্যায়াম বা হাঁটার সময় বুকের মাঝখানে চাপ, জ্বালা বা অস্বস্তি অনুভব হতে পারে।

    ৪. পায়ে ব্যথা বা হাঁটলে ক্লান্তি

    চবৎরঢ়যবৎধষ অৎঃবৎু উরংবধংব (চঅউ)-এর লক্ষণ-পায়ের ধমনীতে রক্ত চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হলে হাঁটলে পায়ে ব্যথা, ভারী ভাব, এমনকি পা ঠান্ডা অনুভব হতে পারে।

    ৫. মাথা ঘোরা বা স্ট্রোকের উপসর্গ

    রক্তনালীতে রক্ত জমাট বা ব্লক হয়ে মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হলে মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, কথা জড়িয়ে যাওয়া ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। উচ্চ কোলেস্টেরলের কারণে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।

    ৬. হঠাৎ ক্লান্তি, দুর্বলতা

    কোলেস্টেরলের কারণে যদি হৃদযন্ত্র পর্যাপ্ত রক্ত পাম্প করতে না পারে, তাহলে সহজেই ক্লান্ত বোধ হতে পারে।

    ৭. কান বা নাকের লোব-এ ফাটল বা রেখা

    একটি গবেষণায় দেখা গেছে, কানের লোবের তির্যক রেখা (ফরধমড়হধষ বধৎষড়নব পৎবধংব) থাকা ব্যক্তিদের মধ্যে হার্ট ডিজিজ ও কোলেস্টেরলের ঝুঁকি বেশি হতে পারে।

    যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ-

    অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াও কোলেস্টেরল অনেক বেড়ে যেতে পারে। তাই বয়স ৩০ পেরোলেই বা ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাপন করলে বছরে অন্তত ১ বার লিপিড প্রোফাইল টেস্ট করানো উচিত।

    কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে যা করবেন-

    ১. চর্বি ও তেল কম খান (বিশেষত ট্রান্স ফ্যাট)

    ২. নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম করুন

    ৩. ধূমপান, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন

    ৪. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন

    ৫. শাকসবজি ও ফাইবারজাতীয় খাবার বেশি খান

  • জাম খাওয়ার সময় সতর্কতা

    জাম খাওয়ার সময় সতর্কতা

    অনলাইন ডেস্ক:  গ্রীষ্মে অল্প কিছুদিনের জন্য পাওয়া যায় জাম। সুস্বাদু এই ফলটি খেতে শুরু করলে যেন থামাই কঠিন হয়ে পড়ে। স্বাদের সঙ্গে জামে থাকা বিভিন্ন গুণাগুণ দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এ ছাড়া এতে আছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্য। এমনকি জামে থাকা আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও পটাসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় খনিজ উপদান হাড় ও দাঁত মজবুত করে। এছাড়া ক্যানসার প্রতিরোধ, রক্ত পরিশোধন, বিভিন্ন সংক্রমণ রোধেও সাহায্য করে জাম। এত সব গুণাগুণ থাকার পরও এই ফল বেশি খেলে শরীর খারাপ করতে পারে। তবে শুধু বেশি খাওয়া নয়, জামের আগে-পরে কী খাচ্ছেন, সেদিনেও খেয়াল রাখা দরকার। স্বাস্থ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট হেলদি শটস-এ পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, জাম খাওয়ার সময় কোন ৫টি ভুল থেকে সাবধান থাকতে হবে-

    ১. জাম খাওয়ার পর পানি পান করবেন না

    জাম খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বা খাওয়ার পরপরই পানি পান করলে হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই জাম খাওয়ার কমপক্ষে ৩০ মিনিট পর পানি পান করুন।

    ২. জাম ও হলুদের বিপজ্জনক জুটি

    জাম খাওয়ার সঙ্গে হলুদ একসঙ্গে গ্রহণ করা শরীরের জন্য মারাত্মক হতে পারে। হলুদের কারকুমিন ও জামের অম্লতা পেটে গ্যাস, বদহজম বা অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে। জাম ও হলুদ, দুটিই রক্ত পাতলা করতে সাহায্য করে, তাই যারা ব্লাড থিনার খান তাদের জন্য রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। এসব সমস্যা এড়াতে পুষ্টিবিদরা জাম খাওয়ার পর হলুদযুক্ত যেকোনো খাবার এড়িয়ে চলতে বলেন।

    ৩. খালি পেটে জাম নয়

    সকালে খালি পেটে জাম খেলে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল ও হজমজনিত সমস্যা হতে পারে। তাই ভরাপেটে জাম খাওয়াই ভালো।

    ৪. জাম খাওয়ার পর দুগ্ধজাত খাবার খাবেন না

    জাম খাওয়ার পর দুধ, দই বা পনির জাতীয় দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে। জাম খাওয়ার পর দুধ বা দই খেলে কিছু মানুষের হজমে সমস্যা হতে পারে। জামে থাকা ট্যানিন ও অ্যাসিডিক উপাদান দুধের প্রোটিনের সাথে বিক্রিয়া করে পেটে ভারীভাব, গ্যাস বা অ্যাসিডিটি তৈরি করতে পারে। দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড জামের অম্লতার সাথে মিশে পেট ফাঁপা বা ডায়রিয়াও ঘটাতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে জামের ট্যানিন দুধের ক্যালসিয়াম ও আয়রন শোষণে বাধা দেয়। তবে এগুলো সাধারণত মৃদু ও ব্যক্তিভেদে হয়। যাদের পাকস্থলী সংবেদনশীল বা ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা আছে, তাদের এড়ানো উচিত। সমস্যা এড়াতে জাম ও দুধের মধ্যে ৩০-৬০ মিনিট ব্যবধান রাখা ভালো। আয়ুর্বেদে এই সংমিশ্রণ না খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

    ৫. আচারের সঙ্গে জাম মানেই বিপদ

    অনেকে খাওয়ার সঙ্গে আচার খেতে অভ্যস্ত, কিন্তু জাম খাওয়ার পর আচারের মতো টক বা মসলাযুক্ত খাবার গ্রহণ শরীরে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে। এর ফলে দেখা দিতে পারে অম্বল ও বদহজম।

    জাম খাওয়ার সময় অনেকেই এই ভুলগুলো করে ফেলেন। এসব ভুলের ফলে হতে পারে গ্যাস্ট্রিক, অম্বল থেকে শুরু করে গুরুতর পেটের অসুস্থতা। তাই জাম খাওয়ার সময় এই সাধারণ সতর্কতাগুলো মেনে চললেই বিনা ভোগান্তিতে উপভোগ করা যাবে এর পুষ্টিগুণ।