লাইফস্টাইল ডেস্ক: আপনার শিশু আপনার আশেপাশে থাকাকেই কি তার সঙ্গে সময় কাটানো মনে করছেন? এমনটা ভেবে থাকলে ভুল করেছন। একসঙ্গে ভালো সময় কাটানো সব সম্পর্কের ক্ষেত্রেই জরুরি, কিন্তু শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য এটি অপরিহার্য। ছুটির দিনগুলো এজন্য আদর্শ সময়। ছুটির দিনগুলো হলো পরিবারের সদস্যদের একত্রিত হওয়ার এবং সম্পর্ক আরও গাঢ় করার সুবর্ণ সুযোগ। গবেষণা এবং মনোবিজ্ঞানীদের মতে, সন্তানের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো তাদের আত্মবিশ্বাস, সামাজিক দক্ষতা এবং শিক্ষাগত সাফল্য ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু তাদের বাবা-মায়ের সঙ্গে নিয়মিত ভালো সময় কাটায়, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা বেশি বিকশিত হয়। গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সপ্তাহে অন্তত ৫-৭ ঘণ্টা বাবা-মায়ের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানো শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায় এবং তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশার মাত্রা কমে যায়। ইউনিসেফের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ছোটবেলায় বাবা-মায়ের সঙ্গে ইতিবাচক অভিজ্ঞতা শিশুর মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ শক্তিশালী করে, যা ভবিষ্যতে তাদের বিভিন্ন সম্পর্ক তৈরিতে সহায়ক হয়। মনোবিজ্ঞানী ড. জন গটম্যানের মতে, সন্তানের সঙ্গে গুণগত সময় কাটানোর অর্থ শুধু শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকা নয়, বরং সম্পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া। তিনি বলেন, সন্তানের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় ফোন, টেলিভিশন বা অন্যান্য বিক্ষেপ এড়িয়ে চলা উচিত। এটি শিশুকে বোঝায় যে তারা গুরুত্বপূর্ণ এবং তাদের অনুভূতি ও চিন্তাভাবনা মূল্যবান।’ একইভাবে শিশু মনোবিজ্ঞানী ড. টিনা পেইন্টন ব্রিসনের মতে, ছুটির দিনগুলো সন্তানের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য আদর্শ সময়। তিনি বলেন, এই সময়ে আপনি সন্তানের সঙ্গে খেলাধুলা, গল্প বলা বা প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে তাদের আবেগিক বন্ধন শক্তিশালী করতে পারেন। এটি তাদের মধ্যে নিরাপত্তা বোধ তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে তারা যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আত্মবিশ্বাসী হয়।
কীভাবে সময় কাটাবেন
১. গল্প বলা ও শোনা: সন্তানের সঙ্গে গল্প বলা বা তাদের গল্প শোনা তাদের কল্পনাশক্তি ও ভাষা দক্ষতা বিকাশে সাহায্য করে। এটি তাদের আবেগ প্রকাশের একটি মাধ্যম।
২. খেলাধুলা: বাইরে বা ঘরে খেলাধুলা সন্তানের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সহায়ক। এটি তাদের মধ্যে দলগত কাজের মনোভাব গড়ে তোলে।
৩. প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটানো: পার্কে ঘুরতে যাওয়া, বাগান করা বা পিকনিকের মতো কর্মকাণ্ড সন্তানের মানসিক প্রশান্তি আনে এবং তাদের প্রকৃতির সঙ্গে পরিচিত করে।
৪. শিল্প ও সৃজনশীল কাজ: ছবি আঁকা, গান গাওয়া বা হস্তশিল্পের মতো কাজ সন্তানের সৃজনশীলতা বাড়ায় এবং তাদের মধ্যে ধৈর্য ও মনোযোগের বিকাশ ঘটায়।
ছুটির দিনগুলো শুধু বিশ্রামের নয়, সন্তানের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং তাদের বিকাশে সহায়তা করার একটি সুযোগ। তাই, ছুটিতে ফোন, টেলিভিশন বা কাজের চাপ পাশ কাটিয়ে সন্তানের সঙ্গে সময় কাটান। তাদের হাসি, তাদের কথা, তাদের স্বপ্ন গুরুত্ব দিন। কারণ, আজকের এই সময়ই আগামী দিনের সুস্থ, সুখী ও আত্মবিশ্বাসী প্রজন্ম গড়ে তুলবে।
Category: লাইফস্টাইল
-

ছুটির দিনগুলো কাটান সন্তানের সঙ্গে
-

রমজানে ডায়াবেটিস রোগীরা চিনির বিকল্পে যা খেতে পারেন
লাইফস্টাইল ডেস্ক: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য রমজান মাসে রোজা রাখা একটি চ্যালেঞ্জ হতে পারে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যেতে পারে, আবার ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত খাওয়ার ফলে শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। অনেকেই ইফতারে চিনি মেশানো শরবত পান করেন। ফলে শর্করার মাত্রা বেড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ইফতারে ডায়াবেটিস রোগীরা চিনির বিকল্প হিসেবে অনেক কিছুই খেতে পারেন। যেমন-
খেজুর
মিষ্টির অভাব পুরণে ব্যবহার করতে পারেন খেজুরও। ফল হিসেবে খেজুর খুবই স্বাস্থ্যকর এবং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যে অতিরিক্ত কোন ঝুঁকির সৃষ্টি করেনা। খেজুর যে কোনো খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
বাদামী চিনি
বাদামী চিনিকে ইংরেজিতে বলা হয় ব্রাউন সুগার। আর আঞ্চলিকভাবে এটিকে আমরা সবাই লাল চিনি হিসেবেই চিনি। এটিও স্বাদের দিক দিয়ে সাদা চিনির চেয়ে কোন অংশে কম নয়। তবে ক্ষতির দিক দিয়ে অনেক পিছিয়ে। এই উপাদানটিতে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন। এ চিনিও সাদা চিনির মতো যে কোন খাবারের সঙ্গে ব্যবহার করা যায়।
মধু
মিষ্টির অভাব পূরণে চিনির উৎকৃষ্ট বিকল্প ধরা হয় মধুকে। এক কাপ চা অথবা কফিতে এক চামচ সাদা চিনির চেয়ে এক চামচ মধু অনেক উপকারী। মধু যে কেবল স্বাস্থ্যের জন্যেই ভালো তা নয়, এটি আপনাকে ওজন কমাতেও সাহায্য করবে।
ফলের রস
খাবারের সঙ্গে মিষ্টান্ন হিসেবে ফলের জুস খেতে পারেন। যেটি চিনি ব্যবহার করে তৈরি করা যে কোনো খাবারের চেয়ে অধিক স্বাস্থ্যকর বলে জানান স্বাস্থ্যবিদরা। একগ্লাস ফলের জুসে যে পরিমাণ খনিজ ও ভিটামিন থাকে তা স্বাস্থ্যর জন্য খুবই উপকারী।
গুড়
আখ থেকেই উৎপাদিত হয় গুড়। গুড় এই উপমহাদেশের মানুষের অধিক পছন্দের একটি উপাদান। গবেষণায় দেখা গেছে চা অথবা কফির সঙ্গে এক টুকরো গুড় আপনার স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী এবং এটি আপনার রক্ত সঞ্চালনকে স্বাভাবিক রাখে।
তাল মিছরি
চিনির বিকল্প হিসেবে তাল মিছরি খেতে পারেন ডায়াবেটিস রোগীরা। হজমশক্তি বাড়ায় তাল মিছরি। খাবারের পরে সামান্য তাল মিছরি খেলে হজম ভালো হয় ও বদহজম কিংবা গ্যাস্টিক্রের সমস্যা দূর করে। এছাড়া সর্দি-কাশি ও গলা ব্যথার একটি কার্যকরী ঘরোয়া দাওয়াই হলো মিছরি।
-

ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন
লাইফস্টাইল ডেস্ক : রুক্ষ ত্বকে আর্দ্রতা জোগাতে গ্লিসারিন দুর্দান্ত কাজ করে। মুহূর্তেই ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এই উপাদান। এ কারণেই শীত আসলে গ্লিসারিনের ব্যবহার বেড়ে যায়। তবে ত্বকের যত্নে গ্লিসারিন কতটা উপকারী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। অনেকেরই ভুল ধারণা আছে, গ্লিসারিন ব্যবহারে ত্বক কালচে হয়ে যায় কিংবা আরও রুক্ষ হয়ে পড়ে! আসলে এ ধারণে ঠিক নয়। বরং গ্লিসারিন ব্যবহারের ফলে ত্বকে মেলে নানা উপকারিতা। শুধু শীতকালে খসখসে ত্বকে আর্দ্রতা ফেরায় না বরং অন্যান্য অনেক গুণ আছে। জেনে নিন গ্লিসারিনের নানা গুণ সম্পর্কে-
বলিরেখা দূর হয় : প্রতিদিন গ্লিসারিন ব্যবহারে ত্বকের আর্দ্র থাকে। ফলে ত্বক হয় উজ্জ্বল ও কোমল। ত্বক আর্দ্র থাকায় ত্বকে বলিরেখা কম পড়ে।
লোমকূপ বন্ধ হয় না : গ্লিসারিন তেলমুক্ত ও নন কমেডোজেনিক। তাই এটি কোনোভাবেই লোমকূপ বন্ধ করে না। তাই গ্লিসারিন ব্যবহার করলে ব্রণের সমস্যা অনেকটাই কমে।
কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই : গ্লিসারিনের কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। নিশ্চিন্তে এটি ব্যবহার করা যায়। ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিসট্রেশন বা এফডিএ থেকেও গ্লিসারিনকে সেফ বা সুরক্ষিত আখ্যা দেওয়া হয়েছে।
ক্ষত বা ফুসকুড়ি সারায় : ত্বকের বিভিন্ন ক্ষত বা ফুসকুড়িও দ্রুত সারিয়ে তোলে গ্লিসারিন। ত্বকের উপর একটি সুরক্ষাকবচ তৈরি করে এটি।
-

রয়্যাল এনফিল্ড বিশ্বজুড়ে যে কারণে এত জনপ্রিয়
লাইফস্টাইল ডেস্ক : বিশ্বে মোটরসাইকেলের বাজারে রাজকীয় এক মডেলের নাম বিখ্যাত রয়্যাল এনফিল্ড। জনপ্রিয় এই বাইকের প্রতি বাংলাদেশের বাইকপ্রেমীদেরও রয়েছে তুমুল আগ্রহ। এতদিন বাংলাদেশে এই বাইকটি চালানোর অনুমতি ছিল না। তবে তাদের আফসোসের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। সুখবর হলো বাংলাদেশের বাজারে আসছে রয়্যাল এনফিল্ডের বিলাসবহুল এ বাইক। গত সোমবার থেকে দেশের বাজারে পাওয়া যাবে ৩৫০ সিসির ‘রয়্যাল এনফিল্ড’ মোটরসাইকেল। যার দাম পড়তে পারে সাড়ে চার লাখ থেকে সাড়ে ৫ লাখ টাকার মধ্যে।
মূলত বাংলাদেশে এতদিন ১৬৫ সিসির অধিক সিসির মোটরসাইকেল চালানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে গত বছর দেশে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দেয় সরকার। রয়্যাল এনফিল্ডকে অনেকেই মনে করেন ভারতের ব্রান্ড। ভারতীয় বাইকারদের সঙ্গে এটি এমনভাবে জড়িয়ে গেছে তাতে, এটির উৎপত্তি যে ভারতে নয়, তা অনেকেরই অজানা। রয়্যাল এনফিল্ডের মূল শিকড় হচ্ছে যুক্তরাজ্যে। ১৯০১ সালে যাত্রা শুরু হয় রয়্যাল এনফিল্ডের। দুই ব্রিটিশ উদ্যোক্তা বব ওয়াকার স্মিথ এবং অ্যালবার্ট এডি এই মোটরসাইকেল তৈরি করেন। ১৯৫৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ভারতের মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে চেন্নাইয়ে সংযোজন কারখানা স্থাপন করে। এরপর থেকেই ভারতের বাইকপ্রেমীদের মনে স্থান করে নেয় রয়্যাল এনফিল্ড। মূলত অধিক সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন ও স্টাইলিশ লুকের কারণেই ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় এই বাইক। বলিউডের জনপ্রিয় অনেক তারকা এবং ভারতের খেলোয়াড়দের পছন্দের তালিকায় রয়েছে রয়্যাল এনফিল্ড। ১৮৯৬ সালে অ্যালবার্ট এডি মিডলসেক্সের এনফিল্ড শহরে রয়েল স্মল আর্মস ফ্যাক্টরির জন্য যন্ত্রপাতি তৈরির অর্ডার পান। এখান থেকেই রয়েল এনফিল্ড নামের জন্ম। এ বছরই নিউ এনফিল্ড সাইকেল কোম্পানি লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি কিনে নেয় তারা। এখান থেকে ১৮৯৭ সালে সাইকেলের সব ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরি শুরু করে রয়্যাল এনফিল্ড। ধীরে ধীরে যখন মোটরচালিত সাইকেল ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় হয়, তখন এনফিল্ড কোম্পানিও মোটরসাইকেল তৈরির সিদ্ধান্ত নেয়। দুই বছর চেষ্টার পর ১৯০১ সালে নিজেদের প্রথম মোটরবাইক বাজারে আনে রয়্যাল এনফিল্ড। ২৩৯ সিসির এই মোটরবাইক ছিল ১১ দশমিক ২ হর্সপাওয়ার (এইচপি) ক্ষমতাসম্পন্ন। তবে রয়্যাল এনফিল্ডকে সাফল্য এনে দিয়েছিল ১৯০৯ সালে তৈরি তাদের ভি টুইন ২৯৭ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল। এরপর প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয় মোটরসাইকেলের। সে সময় যুদ্ধক্ষেত্রের উপযোগী বেশ বড় আকারের মোটরসাইকেল বাজারে আনে রয়্যাল এনফিল্ড। এটি ছিল ৭৭০ সিসির ও ৬ এইচপি ভি ভি-টুইন মোটরসাইকেল। যুদ্ধের সময় শুধু ব্রিটিশ সামরিক বাহিনীই নয়, মিত্র শক্তির অন্যান্য পক্ষ যেমন বেলজিয়াম, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার সেনাবাহিনীকেও এই মোটরসাইকেল সরবরাহ করে রয়্যাল এনফিল্ড। শক্ত কাঠামো এবং যান্ত্রিক বিশ্বস্ততার জন্য বিভিন্ন দেশের সেনাবাহিনীর কাছে খুবই জনপ্রিয় ছিল এই মোটরবাইকগুলো।
শুধু প্রথম বিশ্বযুদ্ধই নয়, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ও যুদ্ধক্ষেত্রে জনপ্রিয় ছিল রয়্যাল এনফিল্ডের মোটরবাইক। ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী মিলিটারি গ্রেড মোটরসাইকেল উৎপাদন শুরু করে রয়্যাল এনফিল্ড কোম্পানি। এ সময় তারা ২৫০ সিসি, ৩৫০ সিসি এবং ৫৭০ সিসি ইঞ্জিনের মোটরসাইকেল তৈরি করে। এদের মধ্যে রয়্যাল এনফিল্ড ডব্লিউডি/আরই মডেলটিকে প্লেন থেকে প্যারাস্যুটের মাধ্যমে আকাশ থেকে নিচে ফেলা যেত। যুদ্ধপরবর্তী সময়ে নতুন নতুন মডেলের বাইক আনে রয়্যাল এনফিল্ড। এ সময়ই বাজারে আসে বিখ্যাত মডেল ‘বুলেট’। খুব অল্প সময়েই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ৩৫০ এবং ৫০০ সিসির বুলেট। এরপর আসে আকারে বড় রয়্যাল এনফিল্ড সুপার মিটিয়র এবং সুপার মিটিয়র কন্সটেলেশন। এগুলোর প্রত্যেকটি ছিলো ৭০০ সিসির। ১৯৪৯ সালে প্রথম ভারতের বাজারে আসে ৩৫০ সিসির বুলেট। মূলত সেনাবাহিনীতে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই প্রথম এই বাইকগুলোকে ভারতে আনে দেশটির সামরিক বাহিনী। দেশের সীমান্তে টহল দেয়ার জন্য প্রথম ৮০০ ইউনিট বুলেট ৩৫০ এর অর্ডার দেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী। ভারতের বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় ১৯৫৫ সালে মাদ্রাজ মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে চেন্নাইতে একটি সংযোজন কারখানায় উৎপাদন শুরু হয় রয়্যাল এনফিল্ডের। প্রথম দিকে এই কারখানায় মোটরবাইক অ্যাসেম্বলিং করা হতো। তবে ১৯৬২ সাল থেকে ভারতেই তৈরি হওয়া শুরু করে মোটরসাইকেলের পুরোটাই। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টির বেশি দেশে বিক্রি হচ্ছে রয়্যাল এনফিল্ড। মূলত গুণগত মান ও স্থায়ীত্বের কারণে রয়্যাল এনফিল্ডের বাইকগুলোর খ্যাতি জগৎ জোড়া। সিসি ভেদ মোটরসাইকেলটির বিভিন্ন মডেল বাজারে পাওয়া যায়।
এর মধ্যে ৩৫০ সিসির ইঞ্জিনে বুলেট, ক্লাসিক, মিটিওর ও হান্টার, ৪১১ সিসির স্ক্রাম, ৪৫০ সিসির গুয়েররিল্লা, হিমালয় এবং ৬৫০ সিসির শর্টগান, সুপার মিটিওর, ইন্টারসেপ্টর ৬৫০ এবং কন্টিনেন্টাল জিটি ৬৫০ মডেলগুলো ব্যাপক জনপ্রিয়। যেহেতু বাংলাদেশে ৩৭৫ সিসি পর্যন্ত মোটরবাইক চালানোর অনুমতি রয়েছে, সেহেতু দেশে রয়্যাল এনফিল্ডের বুলেট, ক্লাসিক, মিটিওর এবং হান্টার মডেলগুলো পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এগুলোর প্রত্যেকটি ৩৫০ সিসির। ৩৫০ সিসির শ্রেণিতে রয়্যাল এনফিল্ডের প্রতিটি বাইকের আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। বুলেট, ক্লাসিক এবং হান্টার মডেলগুলো উন্নত ইএফআই ইঞ্জিন দিয়ে চলবে। ক্লাসিক ৩৫০ মডেলে একটি একক সিলিন্ডার এবং এয়ারকুল্ড ৩৪৯ সিসি ইঞ্জিন রয়েছে। এটি ৬ হাজার ১০০ আরপিএমে ২০.২ বিএইচপির হর্স পাওয়ার এবং ৪ হাজার আরপিএমে ২৭ এনএমের টর্ক উৎপন্ন করে। হান্টার ৩৫০ মডেলের বাইকের সামনে থাকছে গোলাকার হেডলাইট, হ্যান্ডলবারের দুই পাশে দুটি রিয়ার ভিউ মিরর, টার্ন ইন্ডিকেটর এবং কনসোল। সঙ্গে থাকছে রোটারি সুইচ, টিয়ার-ড্রপ শেইপের ফুয়েল ট্যাংক। অপরদিকে রয়্যাল এনফিল্ড বুলেট ৩৫০ অনেকটা প্রাচীন ধাঁচের মোটরবাইক। বাইকটির বর্তমান সংস্করণে ডুয়েল চ্যানেল এবিএস ব্রেকিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্রেকিং ব্যবস্থা খারাপ রাস্তাতেও স্থিরভাবে বাইক চালাতে ও থামাতে সাহায্য করে। বাইকটি মূলত দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য জনপ্রিয়। অপরদিকে রয়্যাল এনফিল্ড মিটিওর ৩৫০ হলো আধুনিক ঘরানার অভিজাত বাইক। এটির ক্লাসিক স্টাইলের কনসোল প্যানেল এবং শক্তিশালী গোলাকার হেডলাইট বেশ আকর্ষণীয়।
-

ত্বকের জেল্লা বাড়াতে সকালে এক কাপ কালো চা জরুরি
স্বাস্থ্য ডেস্ক : যে সব পানীয় সারা বিশ্বের মানুষের মন কেড়েছে, তার মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে চা। সকালে ঘুম থেকে উঠেই চা খাওয়ার চল বহু দেশেই রয়েছে। পানীয় হিসাবে কফি চায়ের থেকেও বেশি জনপ্রিয়।
বিশেষ করে ইউরোপ-আমেরিকায় কফি খুব জনপ্রিয়। কিন্তু চায়ে ক্যাফিনের পরিমাণ কম। তাই এই পানীয় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। সে কারণেই দিন দিন বিশ্বজুড়ে চা খাওয়ার চল বাড়ছে। দুধ-চিনি ছাড়া কালো চা এখন শ্রেষ্ঠ পছন্দের তালিকায়।
চলুন জেনে নেয়া যাক চায়ের সুবিধাগুলো
১) এই পানীয়তে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট। যাদের বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক রোগের সমস্যা আছে, তা কমতে পারে নিয়মিত এই চা খেলে। তবে খেয়াল রাখতে হবে বেশি পরিমাণে চা খেলে তা শরীরের জন্য ভালো না।
২) ক্যানসার বর্তমানে সকল বয়সী মানুষের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আপনি জানলে অবাক হবেন যে ক্যানসারের আশঙ্কাও কমায় কালো চা। চিনি ছাড়া কালো চা নিয়মিত খেলে ফুসফুস, স্তন, প্যানক্রিয়াসে টিউমারের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
৩) চা খেলে ত্বকের জেল্লা বাড়ে। ত্বক পরিষ্কার করতে সাহায্য করে এই চা। চিনি-দুধ ছাড়া কালো চা এক কাপ করে খেলে ত্বক ও চুল দুইয়েরই যত্ন হয়।
৪) নিয়মিত কালো চা খেলে রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। তাতে হৃদ্যযন্ত্র সুস্থ থাকার পাশাপাশি ফুসফুসও ভালো থাকে।
৫) কাজ করতে করতে আমরা মাঝে মাঝে ভিষন ক্লান্ত হয়ে যাই, মানুষিক ভাবেও দূর্বল হয়ে যাই। এমন অবস্থায় মানসিক স্বাস্থ্যেরও যত্ন নেয় কালো চা। এই চা খেলে কর্মশক্তি বাড়ে। তাতে কাজের ইচ্ছাও বেশি থাকে। কাজ ভালো হয়। তাতেই মন অনেকটা সুস্থ থাকে।
সূত্র: আনন্দবাজার
-

ভেজাল হলুদগুঁড়ো চিনব কিভাবে?
স্বাস্থ্য ডেস্ক : বাড়ির রান্নাঘরে অন্যান্য মশল্লা কম থাকতে পারে, কিন্তু হলুদগুঁড়ো থাকবেই! কারণ বেশির ভাগ রান্নাতেই আমরা হলুদ দিয়ে থাকি। আর এই ক্ষেত্রে আমাদের ভরসা দোকান থেকে কিনে আনা হলুদগুঁড়ো।
অনেক আগে অবশ্য কাঁচা হলুদ বেটে ব্যবহার করা হত। কিন্তু এখন সে সময়ও নেই, সে ধৈর্যও নেই। তাই ঘরে ঘরে বাজারের হলুদগুঁড়োই ব্যবহার হয়। কিন্তু সেই হলুদগুঁড়ো কি আদৌ খাঁটি? এখন এমনিতেই ভেজালের যুগ। তাই এই মশলাতেও ভেজাল মেশানো হতেই পারে।
যেভাবে বুঝবেন হলুদগুঁড়োয় ভেজাল আছে কিনা:
* বাজারে অনেক সময় এমন দোকান পাবেন যেখানে সামনেই খাঁটি হলুদ থেকে গুঁড়ো করা হয়। সে রকম এক প্যাকেট হলুদ কিনুন। অন্য দিকে আপনি নিয়মিত যে হলুদগুঁড়ো ব্যবহার করেন, সেইটাও এক প্যাকেট কিনুন।
* দু’টো গ্লাসে জল নিয়ে এক চামচ করে দুটিতে দু’রকম হলুদগুঁড়ো দিন। এ বার দু’টো আলাদা চামচ দিয়ে একটু নেড়ে জলের রঙের পরিবর্তন খেয়াল করুন। যে গ্লাসের জলের রং উজ্জ্বল হলুদ হবে, বুঝে নিতে হবে সেটাই ভেজাল।
হলুদের রং উজ্জ্বল করতে তাতে ক্রোমেট রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। অন্যদিকে যে গ্লাসের জলের হলুদের রং অনেকটাই ফিকে এবং হলুদগুঁড়ো গ্লাসের তলায় থিতিয়ে পড়েছে, সেটিই খাঁটি হলুদ।
সূত্র: আনন্দবাজার।