Category: লাইফস্টাইল

  • ডিম কেন খাবেন

    ডিম কেন খাবেন

    আমাদের রোজকার খাদ্য তালিকায় ডিম একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর খাবার। তবে কেউ কেউ ওজন বেড়ে যাওয়ার ভয়ে, রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যাওয়া ভয়ে কিংবা হৃদরোগের ঝুঁকি এড়ানোর জন্য ডিম খেতে চান না। কিন্তু এগুলো নিতান্তই ভুল ধারণা। ছোট্ট একটি ডিম নানা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। আসুন জেনে নেই রোজ একটি ডিম খেলে কি কি উপকার পাওয়া যাবে।
    ডিম-এর মধ্যে রয়েছে ভিটামিন এ, যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। ডিমের কেরোটিনয়েড, লুটেন ও জিয়েক্সেনথিন চোখের ছানি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়।
    ছোট্ট একটি ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি-১২ আমাদের গ্রহণকৃত খাবারকে শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে ভিটামিন ডি, যা পেশীকে শক্তিশালী রাখতে সাহায্য করে। ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ হচ্ছে এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিনের নাস্তায় একটি ডিম খেলে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে। তাই খাওয়াও হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়াতে। একটি ডিমে রয়েছে ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন বা ৭০-৮৫ ক্যালরি। যা রোজকার প্রোটিন এর চাহিদার অনেকটা পূরণ করে।
    ডিমে রয়েছে আয়রন, জিংক, ফসফরাস। যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে। একটি গবেষণায় দেখা গিয়েছে ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে একটা ডিম খেলেও আপনার লিপিড প্রোফাইল কোনো প্রভাব পড়বে না। একটি ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাস্কুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃত ও মস্তিষ্কের জন্য ভালো। চুল ও নখের মান উন্নত রাখতে নিয়মিত ডিম খান। কারণ ডিমের মধ্যে থাকা সালফার চুল ও নখের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। ডিমের নানাবিধ গুণের কারণে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় ডিম রাখুন। সুস্থ থাকুন।
  • মেয়ে দেখতে কেমন, ফরসা তো!

    মেয়ে দেখতে কেমন, ফরসা তো!

    ‘মেয়ে দেখতে কেমন?’, ‘গায়ের রং ফরসা না কালো বর্ণের?’, আমাদের সমাজে এমন ধরনের কথাগুলোর পরিচিতি এখনো রয়েছে। আমরা অর্থসম্পদকে বিতর্কের বিষয় করে শ্রেণি-বৈষম্যের চাকার পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তিতর্কে ভুলেই বসেছি সমাজে বর্ণ-বৈষম্যের মাত্রা এখনো কতটা গভীর! বেশ প্রসিদ্ধ একটা প্রবাদ রয়েছে: অভাব যখন দরজায় এসে দাঁড়ায়, ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়’ বলতে চাইছি অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখে কোনো রকম বাঁচার তাগিদে হোক কিংবা উচ্চাভিলাষ জীবনের স্বাদ ভোগ করার জন্যই হোক, সবকিছুর মূলমন্ত্র যেহেতু অর্থ সেখানে সুন্দর-অসুন্দরের তর্ক অনেকের কাছে নিছক অপ্রয়োজনীয় প্রসঙ্গ হতে পারে।

    বর্তমানে সৌন্দর্য বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রসাধনী বিক্রয়ের বাজারে একপ্রকার দারুণ প্রতিযোগিতায় নেমেছে বিশ্বের খ্যাতনামা কোম্পানিগুলো। সেই আসরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দেশের তরুণ যুবক-যুবতিরা। মেয়েরা মুখের কালো বা শ্যামবর্ণকে ঢেকে রাখতে ব্যবহার করছেন নানান ক্রিম এবং মেকআপ ফাউন্ডেশন। শুধু অনুজ্জ্বল নারীরাই নয় বরং ফরসাদের আরো উজ্জ্বল দেখাতে প্রয়োগ করে সে সব প্রসাধনীসমূহ। আমার ভাবনার বিষয়টি তাদের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির বিপক্ষে নয়, তবে ফরসা বর্ণের মানুষই দেখতে একমাত্র প্রশংসার দাবিদার এমন মতাদর্শের নিন্দা জানাই।

    জীবনব্যাপী জীবনানন্দ দাশ নারীর প্রেম, সৌন্দর্য ও উদার মহত্ত্ব খুঁজেছেন। তাই তো ঘুরেফিরে নারীর সৌন্দর্য ও অমল অন্তঃসারের কথা স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার কবিতার পঙক্তিতে, ‘তুমি জল’, ‘তুমি ঢেউ’, ‘সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন তোমার দেহের বেগ’। নারীকে প্রকৃতির সঙ্গে তুলনা করেছেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লীকবি জসীম উদ্দীনসহ অনেকেই। তারা মানবীর রঙকে ভিন্নভিন্ন আঙিনায় দেখেছেন। কখনো নারীকে ধানের সবুজ মাঠ, কেউ কেউ লাল গোলাপের পাপড়ির সঙ্গে সাদৃশ্য দেখিয়ে সৌন্দর্যকে বিশ্লেষণ করেছেন। আবার প্রচণ্ড কড়া রৌদ্রময় পরিবেশে ক্লান্ত কৃষকের ঘামেভেজা শরীর তাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন।

    কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য আমরা এখন নর-নারীর সৌন্দর্যের উপমা বলতে ফরসা বা সাদা বর্ণের হওয়াটাকেই বুঝি। বাঙালির অতীতে রীতিমতো মেয়েদের বিয়ের প্রচলন ছিল পায়ের বা হাতের রং যাচাই করে, অর্থাত্ যে নারীর এ দুটি অঙ্গ যত বেশি উজ্জ্বল সে তত বেশি সুন্দরী। কিন্তু প্রচলিত এ সংস্কৃতির পুরো প্রভাব বেশ কিছু গ্রামাঞ্চল ছাড়া এখন তেমন দেখা না গেলেও এর বর্তমান রূপান্তর ঠিকই সর্বত্র দৃষ্টিগোচর হয়। এখন পা কিংবা হাতের চেয়ে মুখের মাধুর্যতায় বেশি প্রাধান্য পায়। যার ফলে মুখের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে কৃত্রিমভাবে ফরসা হওয়ার প্রতিযোগিতার প্রবণতা বেশি।

    সৌন্দর্যের বিচার করা উচিত মানুষের আচার-আচরণ ও বুদ্ধিমত্তার দ্বারা। কেননা প্রকৃতির যে রূপ তা আগে থেকেই সাবলীল। একে সংজ্ঞায়িত করার কিছু নেই। তবে যখন এই রূপকে মানুষ তার আপন যৌক্তিক চিন্তার বা ক্রিয়াকর্মের দ্বারা নতুন আঙ্গিকে সৃষ্টি করবে তখনি তা হবে নান্দনিক। সেই নব উদ্ভাবন হবে সুন্দর। ঠিক একইভাবে চিন্তা করলে মানুষের সৌন্দর্যকে বর্ণনা করা যায়। জগতে মানবের রূপের যত সংজ্ঞা এসেছে তা আমাদেরই দেওয়া।

    সময় এসেছে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলানোর। আমাদের দেওয়া সুন্দরের এই অলিখিত সংজ্ঞাকে পরিবর্তন করতে হবে। এক জন শ্যাম বা কালো বর্ণের মানুষ দিনশেষে মানুষ বলেই গণ্য হয়। যার রয়েছে ন্যায্যবিচার করার সচেতন বিবেক ও মনুষ্যত্ব। আমাদের সৌন্দর্যের চেতনায় বৈচিত্র্য আনতে হলে বিবেকের রঙকে বদলাতে হবে। তবেই বর্ণবৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।

  • বিমান যাত্রায় করোনা ভাইরাস মুক্ত থাকবেন যেভাবে

    বিমান যাত্রায় করোনা ভাইরাস মুক্ত থাকবেন যেভাবে

    বিমানে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় মাস্ক-গ্লাভস থেকেও কার্যকর পদ্ধতির কথা জানালেন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মেডিকেল বিশেষজ্ঞ ডেভিড পল। তিনি বলেন, ‘মাস্ক-গ্লাভসের কথা ভুলে যান, বরং বারবার হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।’

    তিনি আরো বলেন, ‘মাস্ক ও গ্লাভস অসুস্থদের ভাইরাস ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধে সবচাইতে কার্যকর। কিন্তু বিমানে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যারা সুস্থ রয়েছেন, তাদের জন্য খুব একটা কার্যকর নয়। কেননা এই ভাইরাস দীর্ঘ সময় বাহক ছাড়া বেঁচে থাকতে পারেনা।’ ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটিই জানিয়েছেন ডেভিড পল।

    চীনের প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বিশ্বের প্রায় ২৫ টি দেশে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া এই ভাইরাসের কারণে চীনের সাথে বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে অনেক দেশ। চীনে যাওয়ার কারণে সম্প্রতি বাংলাদেশি পাইলটদেরকে অনেক দেশেই প্রবেশ দেওয়া হচ্ছেনা। করোনার ভয়ে বিভিন্ন দেশ যখন চীন থেকে নিজেদের যোগাযোগ ব্যবস্থা গুটিয়ে নিচ্ছে। ঠিক তেমন সময়ই ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের মেডিক্যাল বিশেষজ্ঞ ডেভিড পল সতর্ক করলেন কিভাবে বিমানে করোনা ভাইরাস থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।

    ব্লুমবার্গকে দেওয়া ডেভিড পলের সাক্ষাতকারটি তুলে ধরা হলো:

    বিমানেও কি করোনা ভাইরাস ছড়াতে পারে?

    বিমানে এর সম্ভাবনা কম। তবে আধুনিক বিমানগুলোতে বাতাস প্রবেশের ব্যাপারটি মুভি থিয়েটার কিংবা অফিস থেকে আলাদা। বাতাস আসলে বিশুদ্ধ এবং পুনঃপ্রবাহিত বায়ুর মিশ্রণ, প্রায় অর্ধেক অর্ধেক। পুনঃপ্রবাহিত বায়ু এমনভাবে সংশোধিত হয়, যেমনটি হয় একটি অপারেশন থিয়েটারে। বিমানে যে বায়ুর চলাচল হয় সেটিতে ৯৯.৯৭ শতাংশ ভাইরাস থাকেনা। সুতরাং সেখানে বায়ু থেকে কিছু আসে না। যা আসে মানুষ থেকে।

    বিমানের সিট কিংবা অন্য কোন কিছু থেকে কি করোনা সংক্রমণ হতে পারে ?

    ভাইরাস এবং অন্যান্য জীবাণু আমাদের মত জীবন্ত কিছুর ভেতরই বেঁচে থাকে। কোন শুষ্ক বস্তুর চেয়ে কারো সঙ্গে শুধুমাত্র হ্যান্ডশেক করলে ভাইরাস ছড়ানোর অনেক ঝুঁকি থাকে। সুতরাং এটা মনে করা হয় সাধারণ পরিষ্কার এবং বাড়তি পরিষ্কার সংক্রমণ বন্ধে সঠিক ভূমিকা রাখতে পারে। মানুষজন কি বিমানে উঠে মেলামেশা বন্ধ করে দেবে? অথবা সিনেমা দেখা, কনসার্টে যাওয়া বন্ধ করবে? আমার মনে হয় না।

    বিমানে থাকা অবস্থায় আক্রান্ত হওয়া থেকে বাঁচতে জরুরি কি?

    হাত পরিষ্কার রাখা, কারণ এটা মানুষের চিন্তার বিপরীত। হাত থেকেই এই ভাইরাস বেশি ছড়ায়। সবচেয়ে বেশি জরুরি হলো হাত স্বাস্থ্যকর রাখা এবং বারবার হাত ধোয়া অথবা দুটোই। আপনার হাঁচি অথবা কাশির সময় কিছু দিয়ে মুখ ঢাকাটা খুব জরুরি। সবচেয়ে ভালো হয় যদি টিস্যু ব্যবহার করেন এবং পরে হাত ধুয়ে নেন। হাত ধোয়া এবং তা শুকিয়ে নেওয়া ভাইরাস প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি।

    মাস্ক এবং গ্লাভস কি ভাইরাস প্রতিরোধ করতে পারে?

    প্রথমত মাস্ক। এর থেকে সুবিধা পাওয়ার প্রমাণ কম, যদি থাকেও সেটি খুব সাধারণ পরিস্থিতিতে। মাস্ক তাদের জন্য উপকারী যারা অসুস্থ এবং তাদের থেকে অন্যদের রক্ষার জন্য এটা ভালো। কিন্তু সবসময় মাস্ক পরে থাকা কোনা কাজে আসবে না। এটা আরো ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করবে। যদি এটি আদ্র হয়ে যায় তাহলে এটি ভাইরাসদের জন্মাতে আরো উৎসাহ দেবে। গ্লাভস তো আরো বাজে। কারণ মানুষ হাতে গ্লাভস পরে হাত দিয়ে করার সবকিছুই করে। সুতরাং এটিও জীবাণু ছড়ানোর আরেকটি কারণ হতে পারে। আর গ্লাভসের ভেতর আপনার হাত ঘেমে যায়। কিছু ধরার পর ওই হাত দিয়েই মানুষ আরো অনেক কিছু ধরে।

    সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়া কি এটা প্রতিরোধ করা যেতে পারে ?

    পৃথিবীতে একটা জিনিসের পরিবর্তন হয়েছে সেটি হলো জীবাণুগুলোর একস্থান থেকে অন্যস্থানে দ্রুত ছড়ানোর বিষয়টি। এটা সত্য যে আকাশপথও সেটির অংশ। কিন্তু এমন ভাইরাস প্রতিরোধে আকাশপথ কাজে আসতে পারে। এটি নিয়ে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমরা কয়েক বছর ধরে আলোচনা করছি। যদি দেশগুলো তাদের সীমানা বন্ধ করে দেয়, তাহলে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার মত এটিও মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

    কবে নাগাদ এমন খারাপ পরিস্থিতি শেষ হতে পারে?

    প্রতিদিন ১৬ থেকে ২০ শতাংশ করে রোগী বাড়ছে। যতদিন না এই সংখ্যা কমছে ততক্ষণ আমরা তেমনভাবে কিছুই বলতে পারছি না।

  • বসন্তকে স্বাগত জানাতে ‘সারা’র বর্ণিল পোশাক

    বসন্তকে স্বাগত জানাতে ‘সারা’র বর্ণিল পোশাক

    জীবন নিউজ প্রতিনিধি : ঋতুরাজ বসন্তকে স্বাগত জানাতে বর্ণিল পোশাকের সমাহার নিয়ে হাজির হয়েছে সারা লাইফস্টাইল লিমিটেড। লেডিস, মেনস এবং গার্লস তিন ক্যাটাগরিতে রয়েছে সারার নতুন নতুন কালেকশন।

    লেডিস কালেকশনে থাকছে কুর্তি, প্রিন্টেড থ্রি পিস, ফ্যাশন টপস, ডেনিম, শাড়ি। মেনজ কালেকশনে রয়েছে পাঞ্জাবি, ক্যাজুয়াল শার্ট, ফরমাল শার্ট, পোলো, টি-শার্ট, ডেনিম প্যান্ট, চিনো, জগার। গার্লস কালেকশনে থাকছে ফ্রক, টপস, টপ বটম সেট, থ্রি পিস ও বটমস। বয়েজ কালেকশনে থাকছে পোলো, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, শার্ট-প্যান্ট সেট, বটমস।

    ফ্যাশন, গুনগত মান, স্বাচ্ছন্দতা এবং সাশ্রয়ী মূল্যের চমৎকার সমন্বয়ে সারার এই আয়োজনে আরও থাকছে শার্ট, এথনিক টপস, এক্সক্লুসিভ পার্টি টপস, নিট টি শার্ট, লেগিংস, ডেনিম, লন, শ্রাগস, পালাজো ফর লেডিস এন্ড গার্লস, জিন্স ফর ম্যানজ এন্ড বয়েজ, পোলো টি শার্ট, পাঞ্জাবি।

    বসন্তকে স্বাগত জানাতে ‘সারা’র বর্ণিল পোশাক

    ছবি:জীবন নিউজ প্রতিনিধি

    স্নোটেক্স এর লাইফস্টাইল ব্র্যান্ড ‘সারা’ কাজ শুরু করেছে ২০১৮ সালের মে মাস থেকে। রাজধানীর মিরপুর, বসুন্ধরা সিটি, মোহাম্মদপুর, উত্তরা এবং বারিধারায় ‘সারা’র আউটলেট রয়েছে।

    পাশাপাশি অনলাইনেও ‘সারা’র পোশাক অর্ডার করে বিনামূল্যে ঢাকার ভেতরে হোম ডেলিভারি পাওয়া ব্যবস্থা রয়েছে। সেক্ষেত্রে, সারার ওয়েবসাইট, ফেসবুক পেজ এবং ইন্সটাগ্রাম থেকে ক্রেতারা অর্ডার করতে পারবেন।

  • নয়শ বছর পর দ্বিমুখী তারিখ দেখল বিশ্ব

    নয়শ বছর পর দ্বিমুখী তারিখ দেখল বিশ্ব

    নয়শ বছর পর আজ একটি বিরল প্যালিনড্রোম বা দ্বিমুখী সংখ্যা (০২ ০২ ২০২০) দেখল বিশ্ব। রবিবার ২ ফেব্রুয়ারি এ তারিখটি আন্তর্জাতিক প্যালিনড্রোম। আজকের তারিখটি ‘মাস / দিন / বছর’ বা ‘দিন / মাস / বছর’ হিসাবে লেখেন না কেন এটি কার্যকর হয় যেকোনো বিপরীত দিক থেকে। এই জাতীয় তারিখগুলোকে ‘সর্বব্যাপী প্যালিনড্রোমস’ বলে। এমন আরেকটি প্যালিনড্রোমস পেতে অপেক্ষা করতে হবে এক শতাব্দীরও বেশি সময়। অর্থাৎ ১০১ বছর পর দেখা মিলবে ৩ মার্চ, ৩০৩০ (০৩ ০৩ ৩০৩০)। এই জাতীয় প্যালিনড্রোমের শেষ তারিখটি ছিল ১১-১১-১১১১। যেটি ঘটে ছিল ৯০০ বছর আগে। প্যালিনড্রোম কি? ‘প্যালিনড্রোম হলো এমন কিছু বিশেষ শব্দ আর সংখ্যা যার আরম্ভ বা শেষ দুদিক থেকেই পড়লে শব্দের উচ্চারণ আর অর্থের কোনো বদল হয় না; বা সংখ্যার মান একই থাকে (সংখ্যার ক্ষেত্রে)। মূল গ্রিক শব্দ প্যালিনড্রোমাস (অর্থ: রানিং ব্যাক এগেইন) থেকে ইংরেজি প্যালিনড্রোম শব্দটি এসেছে καρκινικός থেকে। বাংলা ভাষায় একে দ্বিমুখী শব্দ বা সংখ্যা বলা যায়।’ পেলিনড্রোমিস্ট কারা? এধরনের দ্বিমুখী শব্দ বা বাক্য সাজাতে যারা দক্ষ তাদের ‘পেলিনড্রোমিস্ট’ বলা হয়। প্যালিনড্রোমিক লেখা প্রাচীন ‘কিরাতার্জুনীয়’ কাব্যের বহু অনুচ্ছেদে দেখা যায়। এমনই একটি অনুচ্ছেদ হলো- “সারস নয়না ঘন অঘ নারচিত রতার কলিক হর সার রসাসার রসাহর কলিকর তারত চিরনাঘ অনঘ নায়ন সরসা”। চতুর্দশ শতকে দৈবজ্ঞ সূর্য পণ্ডিতের লেখা ‘রামকৃষ্ণ বিলোম কাব্যম’ নামে ৪০টি শ্লোকের যে বিখ্যাত কবিতা রয়েছে তার রচনাশৈলীও অদ্ভুত। প্রতিটি শ্লোকই এক-একটি প্যালিনড্রোম। আরও পড়ুন: ঝরা পাতায় হাসিমুখ সালেহা মালেকাদের আবার কবিতাটি সামনে থেকে পড়লে রাম ও রামায়ণের কাহিনী আর পেছন থেকে পড়লে কৃষ্ণ ও মহাভারতের কাহিনী। যেমন ৩ নং শ্লোকে রয়েছে ‘তামসীত্যসতি সত্যসীমতা মায়য়াক্ষমসমক্ষয়ায়মা। মায়য়াক্ষমসমক্ষয়ায়মা তামসীত্যসতি সত্যসীমতা।’

  • ব্রয়লার মুরগীর মতো আমাদের শিশুরাও খাঁচায় বন্দী

    ব্রয়লার মুরগীর মতো আমাদের শিশুরাও খাঁচায় বন্দী

    রাজধানী ঢাকা এখন যান্ত্রিক বাতাসে পূর্ণ। এই যান্ত্রিকতার শিকার হচ্ছে শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত সবাই। ঢাকার বাহিরের শিশুরা খেলা-ধূলার সুযোগ পায়। কিন্তু ঢাকার শিশুরা অধিকাংশই থাকে গৃহবন্দী। খেলার মাঠ নাই, হারিয়ে যাবার ভয়ে তাদের বাসার বাহিরে যেতে দেয়া হয়না। স্কুলগুলোও অধিকাংশ ক্ষেত্রে একটা বিল্ডিং এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। পিতা-মাতারা নিরুপায় হয়ে বাসাতেই শিশুকে বন্দী করে রাখে। আমাদের সমাজে অধিকাংশ মায়েরা এখনও বাসার বাহিরে কাজ বা চাকরি করেন না।

    দেখা যায়, মা হয়তো রান্না ঘরের কাজ নিয়ে ব্যস্ত কিন্তু শিশুটি বাসাতে থাকলেও সে কম্পিউটারে, ল্যাপটপ, ট্যাব নিয়ে খেলতে থাকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা সে এসব যন্ত্র নিয়ে ভিডিও গেম খেলে। যা একজন শিশুর চোখের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর। আর স্কুলের পড়াতো আছেই। স্কুলগুলোতে এখন লেখা-পড়ার পাহাড়। চারিদিকে তুমুল প্রতিযোগিতা।

    শিশুদের সকালে স্কুল, সন্ধ্যায় হুজুর, তারপর বাসায় শিক্ষক পড়াতে আসেন। বাসার শিক্ষক পড়িয়ে চলে যাবার পর তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাবার জন্য প্রস্তুতি। অনেক পরিবারে বাবা-মা দুজনেই শিশুকে পড়ায় আবার কিন্ডার গার্ডেন স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুলে ভর্তির জন্য অনেকেই কোচিং করে। অর্থাৎ সেসব শিশুদের বিকেলের খেলার সময়টাও হারিয়ে যায়।

    লেখাপড়ার চাপ এতো বেশি যে, কিছু কিছু পরিবারের পিতা-মাতাও ছেলে-মেয়েদের সাথে পড়তে বসে। রাজধানী ঢাকার স্কুলগুলোর আশে-পাশে দেখা যায়, কিছু সংখ্যক মা স্কুলগুলোর বাইরে স্কুল ছুটি না হওয়া পর্যন্ত বসেই থাকে। রাস্তার জ্যাম ঠেলে বার বার বাসা থেকে যাওয়া আসাটা অসুবিধা, তাই স্কুলের বাইরে রাস্তাতেই বসে থাকতে দেখা যায়।

    অনেক শিশুর স্কুল শেষে কোচিং, কোচিং শেষে বাসায় যায়। সকাল বেলাতে বাসা থেকে বের হয়, স্কুল তারপরে কোচিং শেষে রাস্তার জ্যাম ঠেলতে ঠেলতে বাসায় ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যায়। এই দৃশ্য হলো নগরী ঢাকার।

    ঢাকার বাহিরের শিশুরাও লেখা-পড়ার ভীষণ চাপে থাকে। তবে তারা খেলার সুযোগ পায়, ঢাকার বাইরের শিশুদের খেলার মাঠ আছে। স্কুলগুলোতে ও খেলার মাঠ থাকে। সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হচ্ছে ঢাকার শিশুরা। তারা স্কুল কোচিং অথবা শিক্ষকের বাসায় প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরে রাতে মা-বাবা বা শিক্ষকের কাছে আবারো পড়তে বসে, এই হচ্ছে তাদের নিয়তি। খেলার সময় আর ঘুমানের অভাবে মা অথবা বাবার মোবাইল ফোনটা নিয়েই গেম খেলতে থাকে।

    নাস্তা হিসেবে খায় ফাস্টফুড। কয়েক বছর আগে বাসায় স্থায়ীভাবে কাজের মানুষ পাওয়া যেত, এখন বাসার কাজের মানুষও তেমন সহজলভ্য নয়। ফলে মায়েরাও অনেক সময় শিশুর টিফিন বা নাস্তার জন্য নিরুপায় হয়ে ফাস্টফুডে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। একদিকে খেলার মাঠের অভাব, অন্যদিকে নিয়মিত ফাস্টফুডের জন্য অনেক শিশু স্থূলতার সমস্যায় ভুগছে। বছরের পর বছর এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। পরিণামে শিশুরা অকালেই নিজেকে খুব দ্রুত ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের উর্বর ক্ষেত্র হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে।

    পরিবেশ পরিস্থিতি, সুযোগ সুবিধার অভাবে মানুষ সন্তানকে খেলার জন্য ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, ট্যাব দিচ্ছে। দৈহিক পরিশ্রমের চেয়ে মানসিক পরিশ্রম হচ্ছে বেশি। এই ধরনের শিশুরা বড় হয়ে একটুতেই হতাশায় ভোগে। পরীক্ষাতে ভালো নম্বর হয়তো পায় কিন্তু তারা বাস্তববাদী হতে পারেনা। মানুষের সাথে মেশার সুযোগ তাদের হয়না। তাই বাস্তবতা থেকে তারা একটু একটু করে দূরে সরতে থাকে। আর যেসব শিশুরা ছোট বেলা থেকে বিভিন্ন পরিবেশে যায়, বিভিন্ন মানুষের সাথে মেশার সুযোগ পায়, তারা জীবনের বড় ধরনের দুঃখ-কষ্টগুলোর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে শেখে।

    আমরা রাজধানী ঢাকার পিতা- মাতারা খুব বেশি অসহায়। আমাদের নিরুপায় হয়ে সন্তানদের যান্ত্রিক বানিয়ে ফেলতে হচ্ছে। লেখা-পড়ার বোঝা, প্রতিযোগিতার তীব্রতা পিতা-মাতাকে বাধ্য করছে শিশুদের যান্ত্রিক বানিয়ে ফেলার জন্য। বছরের পর বছর এই ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি হচ্ছে। একটি শিশু এভাবে ডিজিটাল ব্রয়লার শিশুতে পরিণত হচ্ছে। যা কখনোই কাম্য নয়।

    এই অবস্থা ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমাদেরকে এই ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাবার জন্য, সরকারকে পাঠ্যসূচীর পরিমাণ আরও কমিয়ে আনতে হবে। বহির্বিশ্বের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা কিভাবে আরও উন্নত হবে, তা চিন্তা করতে হবে।

    মিডিয়াগুলোকে আরও বেশি সোচ্চার হতে হবে। গ্রামাঞ্চলের শহরতলীর শিশুরা শহরের শিশুদের জন্য বন্দী জীবন-যাপন করেনা। কিন্তু নগরীর শিশুরা স্বাভাবিক জীবন থেকে খুব বেশি বঞ্চিত। তারা ডিজিটাল ভাবে বড় হচ্ছে, কিন্তু হারিয়ে ফেলছে প্রাণ। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে ঢাকার ডিজিটাল শিশুরা অনেকেই সৃজনশীল কাজের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে। যেমন: ড্রইং শেখা, কবিতা আবৃত্তি, গান, নাচ, জুডো ক্যারাতে খেলা। পিতা-মাতাদের উচিৎ তাদের এই শখের কাজগুলোতে মানসিক চাপ না দেয়া। অন্তত শখের কাজে তাদের স্বাধীনতা দেয়া দরকার।

    অনেক পিতা-মাতা শিশুদের মেরে, বকাঝকা দিয়ে, চাপ দিয়ে পড়ান যা উচিৎ নয়। এমনিতেই তাদের আমরা মুক্ত বাতাসে খোলা আকাশের নীচে বড় হতে দিতে পারছিনা। হারিয়ে যাবার ভয়, মাদক এর ভয়াবহ আক্রমণ থেকে দূরে সরানোর জন্য আমরা সব পিতা-মাতারা ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত।

    ব্রয়লার মুরগী যেভাবে খাঁচায় বন্দী থাকে আমাদের শিশুরাও সেভাবেই খাঁচায় বন্দী। নিদিষ্ট সময়ে স্কুল, কোচিং হুজুরের কাছে আরবি পড়া, ফাস্টফুড খাওয়া, ভিডিও গেম, কার্টুন হলো তাদের শখের অন্যতম মাধ্যম।

    আমরা যদি আমাদের শিশুদের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে না পারি, তাহলে তারা সঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারবে না। এই অবস্থা থেকে পিতা-মাতা অভিভাবকদের বের হতে হবে। একটি শিশুকে আমরা যদি সুবিধাভাবে গড়তে পারি, তাহলে সেই শিশুটিই হবে আগামীর কর্ণধার।

    আমাদের শিশুরা যেন ব্রয়লার শিশু হয়ে গড়ে না ওঠে, তার দিকে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। পিতা-মাতা অভিভাবকদের চেষ্টা করতে হবে, আমাদের শিশুদের আমরা যেন লেখাপড়ার চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। ভালো ফলাফলের জন্য বকা-ঝকা বা জোড় করে পড়ানো অনুচিত। তাদের বোঝাতে হবে যে, জীবন যুদ্ধে জয়ী হবার জন্য লেখাপড়া করা প্রয়োজন। আর ছুটির দিনগুলোতে বাসার মানুষজনকে চেষ্টা করতে হবে, তাদের কোথাও বেড়াতে নিয়ে যাবার জন্য, এতে তাদের মন প্রফুল্ল হবে।

    চেষ্টা করতে হবে, বিভিন্ন গেম কার্টুনের পরিবর্তে যদি গল্পের বই এ অভ্যস্ত করা যায়, সেটা হবে তাদের জন্য ভীষণ উপকারী এক কাজ। আজকের শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সমৃদ্ধ করবার জন্য আমাদের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ডিজিটাল বয়লার শিশু নয়, আমাদের গড়তে হবে সবুজ সরল শিশু।

    শিশুদের বানাতে হবে ভবিষ্যতের যোদ্ধা শিশু হিসেবে। আমরা সম্মিলিতভাবে যদি চেষ্টা করি, তাহলে মানুষের মন মানসিকতার পরিবর্তন করা এবং অবস্থার পরিবর্তন ঘটানো আমাদের পক্ষে সম্ভব।