Category: লাইফস্টাইল

  • টক বিষয়ে ভুল ধারণা

    টক বিষয়ে ভুল ধারণা

    টক জাতীয় ফল নিয়ে নেতিবাচক কথার শেষ নেই। টক খেলে গলা ভাঙে, রক্ত পানি হয়ে যায়, বুদ্ধি কমে…। আসলে এ ধারণাগুলো মোটেই ঠিক নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক এই ধরনের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল বলে প্রমাণ করেছেন। টক খেলে কিছুই হয় না। টক খেলে বুদ্ধি কমে—এ কথার কোনো ভিত্তি নেই। মেয়েরা একটু টক বেশি পছন্দ করে—এই যা। এক সময় সাধারণের মধ্যে ধারণা ছিল, অতিরিক্ত টক খাওয়ার কারণে ব্রেনে গোলমাল দেখা দেয় অর্থাত্ বুদ্ধিশুদ্ধি কমে। টক সম্পর্কে এই ভ্রান্ত ধারণায় অনেকেই তাঁদের সন্তানদের বিশেষ করে ১২-১৩ বছর বয়স পর্যন্ত টক জাতীয় ফল খেতে দেন না!

    টক জাতীয় ফল যেমন তেঁতুল, আমলকি, চালতা, আমড়া, জলপাই, লেবু ইত্যাদি এবং যেসব খাবারে এসব ফল বাড়তি স্বাদের জন্য দেওয়া হয় সেই খাবার খাওয়াই উত্তম। কারণ টক জাতীয় ফলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন ‘সি’ ও ভিটামিন ‘এ’। টক খেলে বুদ্ধি কমে না। শিশুদের বুদ্ধি কম হওয়া বা মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত করার জন্য দায়ী হচ্ছে অপুষ্টি ও আয়োডিন। কাজেই শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য সুষম খাবার গ্রহণ ও আয়োডিনযুক্ত লবণের বিকল্প কিছু নেই। শিশুকে পছন্দমতো টক জাতীয় ফল খেতে দিলে শিশুর প্রয়োজনীয় ভিটামিনের চাহিদা পূরণ হবে।

    টক জাতীয় ফল তেঁতুল খেলে রক্ত পানি হয়ে যায় বলে যে সাধারণ জনশ্রুতি আছে তা আসলে ঠিক নয়। কারণ রক্তকে পানি করে দেওয়ার মতো কোনো উপাদানই তেঁতুলের মধ্যে নেই। রক্তের রয়েছে বাফার সিস্টেম। এর কাজ হচ্ছে রক্তে অ্যাসিড বা অম্ল এবং বাফারের পরিমাণে তারতম্য হলে তাকে স্বাভাবিক রাখা। এছাড়া রক্তের মধ্যে হাইড্রোজেন-অক্সিজেন, প্রোটিন-ইলেকট্রোলাইটসহ অনেক উপাদান রয়েছে। কাজেই তেঁতুল খেলে রক্তের পিএইচ কমে পানি হয়ে যাবে তা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়।

    এদিকে টক খেলে নাকি গলা ভাঙে—এই ভ্রান্ত ধারণায় অনেক কণ্ঠশিল্পীই টক খান না। অথচ টক খাওয়ার সঙ্গে গলা ভাঙার কোনো সম্পর্কই নেই। গলা ভাঙার মূল কারণ হলো চিত্কার, চেঁচামেচি, অত্যধিক কথা বলা, হঠাত্ ঠান্ডা লাগা, আইসক্রিম বা ফ্রিজের ঠান্ডা খাবার খাওয়া, ধূমপান, শ্বাসনালির তীব্র প্রদাহসহ ভোকালকর্ডের নডিউল এবং আরো কিছু অসুস্থতা। অনেক সময় শ্বাসনালির মারাত্মক কিছু অসুস্থতার কারণে গলার স্বর ভেঙে যায়।

  • অপব্যবহারে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

    অপব্যবহারে কার্যকারিতা হারাচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক

    প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিশ্বের অনেক দেশের মতো বাংলাদেশেও অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তারপরও অবাধে বিক্রি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক। সম্প্রতি রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, অবাধে অ্যান্টিবায়োটিকের এই অপব্যবহারে বাংলাদেশে প্রচলিত ১৭টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে।

    এসব অ্যান্টিবায়োটিক মূলত মূত্রনালির সংক্রমণ, নিউমোনিয়া এবং জখম সারানোসহ নানা ধরনের সংক্রমণের চিকিত্সায় ব্যবহার করা হতো। এর ফলে এখন কার্যক্ষমতা হারাচ্ছে অন্য ওষুধও। গবেষকেরা বলছেন, এর ফলে শিশু এবং হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিত্সাধীন রোগীরা মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

    আইইডিসিআরের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান ডা. জাকির হোসাইন হাবিব দেশের ৯টি মেডিক্যাল কলেজের রোগীদের ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখতে পেয়েছেন, দেশে গত কয়েক দশকের মধ্যে অন্তত ১৭টি অ্যান্টিবায়োটিকের কার্যক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। অর্থাত্ এগুলো অ্যান্টিবায়োটিক রেসিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে, যার মানে হলো অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে ব্যাকটেরিয়া প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

  • চায়ের সাতকাহন

    চায়ের সাতকাহন

    চা নিয়ে কবিতা লিখেছিলেন এক চীনা কবি। চীনের তাং কবি লোটাং লিখেছেন, ‘প্রথম কাপ আমার ঠোঁট ও গলা ভেজায়, দ্বিতীয় কাপ আমার একাকিত্ব দূর করে, তৃতীয় কাপ নীরস অস্ত্রের খোঁজ করে এবং দেখে যে সেখানে অদ্ভুত ভাবনির্দেশক ৫ হাজার গ্রন্থ, চতুর্থ কাপ আমাকে ঘর্মাক্ত করে আর তাতে শরীরের সব দূষিত বস্তু লোমকূপ দিয়ে বেরিয়ে আসে, পঞ্চম কাপে আমি পবিত্র হই, ষষ্ঠ কাপ আমাকে অমরত্বে নিয়ে যায়। সপ্তম কাপ-আহা, কিন্তু আমি আর পারি না, আমি শুধু ঠান্ডা বাতাসের শ্বাস অনুভব করি যা আমার জামার ভেতর দিয়ে উঠে আসে। হোরাইসা কোথায়? আমাকে মধুর সমীরণের ওপর চড়তে দাও আর হাওয়া ও পানির ওপর দিয়ে ভাসতে।

    এখন এই আধুনিক বিশ্বে শত রকমের চা। তার খোঁজ রাখাটাও বেশ কষ্টের। নানা স্বাদের নানা গন্ধের চা। কোন চায়ের কেমন গন্ধ, কোন এলাকার চায়ের লিকার গাঢ়, কোন চায়ের দুটি পাতা ভিজিয়ে সারা দিন খাওয়া যায়। গ্রিন টি এসে তো বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। বাংলাদেশে এত শত রকমের চা আছে তা সাধারণ ক্রেতাদের অগোচরেই রয়ে গেছে।

    চা বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়। চায়ের কচি পাতার নির্যাস সারা বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধতায় ভরিয়ে রেখেছে। চা-কে বলা হয় নিষ্পাপ পানীয়, নিরাপদ পানীয় যার কোনো ক্ষতিকর দিক নেই, নেই মাদকতা। বরং আশ্চর্য এই পানীয় মানুষের মাঝে সজীবতা ছড়িয়ে দেয়। বিশ্ব জুড়ে এই চা নিয়ে যে কত্ত কত্ত তোড়জোড় চলছে। বিজ্ঞানীরা ব্যস্ত নানা জাতের উদ্ভাবনে, কোন এলাকার গাছের কেমন গন্ধ তা নিয়ে রীতিমত গবেষণা চলছে। সেই পানীয় না খেলে কারো সকালে ঘুমের চটকা ভাঙে না, কারো সারা দিন মাথা ঝিম ঝিম করে। কারো কাছে শরীর-মন সতেজ রাখার নাম চা। এখন তো চা সৌন্দর্য চর্চা, রূপ লাবণ্য ধরে রাখার জন্যেও নিয়মিত পান করছেন স্বাস্থ্য সচেতনরা।

    চায়ের আবিষ্কার চীনে। এই নামটিও এসেছে চীনের উপজাতিদের ‘অময়’ ভাষার শব্দ ‘তে’ (te) থেকে পরে ক্যান্টনিজ ভাষায় চা (cha) শব্দটির উত্পত্তি। চা শব্দটি পারস্য, পর্তুগিজ, জাপান, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ভাষায় মিশে গেছে। আমাদের উপমহাদেশেও ফরাসি ও অন্য শব্দের সঙ্গে চা শব্দটি বাংলা ভাষায় স্থান করে নিয়েছে।

    হরেক রকম চা

    দুধ চা, লিকার চায়ের কথা কম-বেশি আমরা সবাই জানি। গ্রিন টি এখন শহুরে মানুষের পছন্দের শীর্ষে। বিশ্বের নানা স্বাদের, গন্ধের চা সংগ্রহ করার শখ আছে অনেকেরই। এখন বাজারে এসেছে ‘হোয়াইট টি’। এ আবার কেমন চা রে বাবা। বাংলাদেশ টি বোর্ড উদ্ভাবন করেছে এই হোয়াইট টি যার ২৫ গ্রামের দাম ৪০০ টাকা। এই চায়ের দুটি পাতাই একজন মানুষের সারা দিনের চায়ের চাহিদা মেটাবে। শুধু বারবার গরম পানি ঢালতে হবে সেই চায়ে।

    চা প্রধানত চার রকমের। চাইনিজ, আসাম, মণিপুরি ও বার্মা। এছাড়া হাইব্রিড, ক্লোন চা রয়েছে। বাংলাদেশে যেসব চা উত্পাদন করা হয় তা আমাদের এই আবহাওয়ায় যাতে ভালো ফলন দেয় সেভাবে উন্নয়ন করা হয়েছে। এ পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচটি বীজের উন্নয়ন ঘটানো হয়েছে। এছাড়া ২০টি চায়ের ক্লোন প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সিলেটের মৌলভীবাজারে অবস্থিত গবেষণা কেন্দ্রে ৫৭৬টি চায়ের জার্ম প্লাজম ব্যাংক সংরক্ষণ করা হয়েছে। চা বিশেষজ্ঞরা জানান, সমৃদ্রপৃষ্ঠ থেকে যত উঁচুতে যাওয়া যাবে চায়ের ঘ্রাণ তত বাড়তে থাকে। তবে সব জায়গায় ইচ্ছা করলেই চা উত্পাদন সম্ভব নয়।

    চায়ের আবিষ্কার

    ধারণা করা হয়, চীনা দার্শনিক কনফুশিয়াসের সময় অথবা খ্রিষ্টপূর্ব ৫৫০ শতাব্দীতে ব্যবহার শুরু হয় চায়ের। ৭৯৩ সালে চীনে চায়ের ওপর কর ধার্য করা হয়েছিল। ৯ম শতাব্দীতে চীন থেকে চা জাপানে পৌঁছলেও জাপানিরা ১২০৬ সালে এর চাষ শুরু করেন। চীনারা দাবি করেন যে খ্রিষ্টপূর্ব ৫ হাজার বছর আগে সম্রাট শেন নাং ঘটনাচক্রে চায়ের আবিষ্কার করেন। ‘দি হারবাল ক্যানন অব শেন নাং’ গ্রন্থে উল্লেখ করা হয় যে, চায়ের নির্যাসে ৭২ রকমের বিষকে নির্বিষ করার ক্ষমতা রয়েছে। এদিকে, বর্তমান সময়ে এসে চীনের ইউনান প্রদেশে প্রত্নতাত্ত্বিক খননের মাধ্যমে প্রমাণ মিলেছে মৃত মানুষের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে চা ছিল প্রয়োজনীয় উপাদান। এমনকি কবরের ভেতরে চায়ের ডাল পাতা দেওয়া হতো। খ্রিষ্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর পরে চা ইউনান থেকে অন্য প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে। সে সময় রাজদরবারে মদ্যপানের বদলে চা পানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

    চীনের বাইরে চা এলো যেভাবে

    ১৬০০ শতাব্দীতে চা ডাচদের মাধ্যমে ইউরোপে যায়। ১৭০০ শতাব্দীতে চা ইংল্যান্ডে পৌঁছায়। লন্ডনে ১৬৫৯ সালে প্রথম চায়ের দোকান হয়। ১৬৬৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখনকার ব্রিটিশ সম্রাট দ্বিতীয় চার্লসকে ২ পাউন্ড ২ আউন্স চা উপহার দেন। সেকালে ঐ চায়ের দাম ছিল প্রতি পাউন্ড ৪০ শিলিং। ১৬৭৭ সালে কোম্পানি বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চীন থেকে চা রপ্তানি করতে থাকে। তখন চায়ের জন্য পুরোপুরি চীনের ওপরেই নির্ভরশীল ছিল সারাবিশ্ব। চীনের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প হিসাবে ১৭৮০ সালে পরীক্ষামূলকভাবে চায়ের গাছ তৈরি হয় কিড সাহেবের নিজের বাগানে। সেই বাগান এখন কলকাতার বোটানিক্যাল গার্ডেন নামে পরিচিত। কিড সাহেব কোম্পানিকে জানিয়ে দেন যে, শিবপুর চায়ের জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়। তারপর ১৮১৯-১৮৩৪ সালের মধ্যে আসাম ও মণিপুরে চা-গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। রবার্ট ব্রুস ১৮৩৪ সালে আসামের উঁচু অঞ্চলে চা-গাছের সন্ধান পান, যা ভারতে চা-শিল্পের ভিত্তি স্থাপন করে। ভারতে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি দুধ ও চিনিসহ বিনা মূল্যে চা খাইয়ে একে জনপ্রিয় করে তোলে।

    বাংলাদেশে চা

    চায়ের কারণেই আমাদের সিলেট বিখ্যাত। সিলেট অঞ্চলকে বলা হয় দুটি পাতা একটি কুঁড়ির দেশ। ১৮৪০ সালে চট্টগ্রামে ‘স্ক্যানস পাইওনিয়ার টি স্টেট’ বাগানটি তৈরি হয় বর্তমান চট্টগ্রাম ক্লাব ও বাঘঘোনা-লালখান বাজার এলাকার টিলা অঞ্চলে। সিলেটের মালনিছড়া চা-বাগান হয় ১৮৫৪ সালে। কাজেই প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী মালনিছড়া নয় চট্টগ্রামেই প্রথম চা উত্পন্ন হয়। কিন্তু চট্টগ্রামের চা-বাগানটি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আরো একটি তথ্যে জানা যায়, ১৮২৮ সালে চট্টগ্রামের কোদালা চা-বাগানের জন্য জমি লিজ নেওয়া হয়। সেই সময় থেকে এখন দেশে চা-বাগানের সংখ্যা ১৭৪টি। এগুলো হলো—মৌলভীবাজারে ৯১টি, হবিগঞ্জে ২৩টি, চট্টগ্রামে ২২টি, সিলেটে ২০টি, পঞ্চগড়ে পাঁচটি, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি, রাঙ্গামাটিতে একটি ও ঠাকুরগাঁওয়ে একটি চা-বাগান গড়ে ওঠে। চলতি বছর বাংলাদেশে চায়ের উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ৯০ মিলিয়ন কেজিতে উন্নীত হওয়া সম্ভব, যা দেশের চা উত্পাদনে ১৬৫ বছরের ইতিহাসে রেকর্ড। দেশের চাহিদা মেটাতে বিদেশ থেকে প্রতি বছর চা আমদানি করা হয়। তবে বাংলাদেশের ভালো মানের চা খুব অল্প পরিমাণে হলেও রপ্তানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশে চা-শিল্পের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন প্রায় দেড় লাখ শ্রমিক।

    দুটি পাতা একটি কুঁড়ি

    গাছ থেকে দুটি পাতা একটি কুঁড়ি সংগ্রহ করা হয়। সব ক্ষেত্রে এই নিয়ম মানা হয় না। অবস্থা ভেদে ভিন্ন ব্যবস্থা হয়। আবার এর বাড়তি পাতা বাদ দিতে চাইলে মেশিনে ব্যবস্থা আছে। একবার তোলার পর ৮-১০ দিনে গাছে নতুন পাতা গজায়। শীতে চা পাতা তোলা কমে যায়। প্রাক গ্রীষ্মে আবার শুরু হয়। গ্রীষ্ম ও বর্ষা হলো এর ভরা মৌসুম। পাতা তোলার কাজ প্রায় সব দেশে মেয়েরা সুনিপুণভাবে করেন। পিঠে ঝুড়ি বাঁধা, মাথার পাগড়িতে দড়ি দিয়ে ঝুড়ি ঝুলিয়ে চা-পাতা ছিঁড়ে পেছনের ঝুড়িতে রাখার ছবি সবাই দেখেছেন।

    বাংলাদেশের চা-বাগানগুলোর মালিকানা প্রধানত তিন ধরনের। স্টারলিং কোম্পানি, বাংলাদেশি কোম্পানি এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন। যে সব চা-বাগানের মালিক বিদেশি, বিশেষত ব্রিটিশ, তাদেরই বলা হয় স্টারলিং কোম্পানি। দেশীয় যে সব প্রতিষ্ঠান কোম্পানি অ্যাক্ট দ্বারা গঠিত, সেগুলো বাংলাদেশি কোম্পানি। স্টারলিং কোম্পানির চা-বাগানগুলো আয়তন ও চা উত্পাদনের দিক থেকে বৃহত্তম। এরপর রয়েছে বাংলাদেশি কোম্পানির মালিকানাধীন বাগান এবং সবচে ছোটো বাগানগুলো মূলত ব্যক্তি মালিকানাধীন।

    বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট বিভাগের চেয়ারম্যান জি এম শিবলী জানান, চায়ের উত্পাদন বাড়াতে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বনে গত তিন বছরে দেশে গড়ে ১২ মিলিয়ন কেজি করে চা উত্পাদিত হয়েছে। বাগানমালিকরা এখন পুরাতন চা-গাছ তুলে নতুন চারা রোপণ করছেন। একইভাবে নতুন করে বাগানের পরিধিও বাড়ানো হচ্ছে, যে কারণে চায়ের উত্পাদন বাড়ছে।

     

    বাংলাদেশ চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিটের পরিচালক ড. কে এম রফিকুল হক জানান, শুধু উত্পাদন বৃদ্ধি নয়, এ বছর চায়ের গুণগত মানও ভালো হয়েছে। উত্পাদনের ধারা অব্যাহত থাকলে এ বছরের লক্ষ্যমাত্রা ৯০ মিলিয়ন কেজি ছাড়িয়ে যাবে এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে রপ্তানিও করা যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

    বাংলাদেশ চা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. সাফিনুল ইসলাম জানান, দেশের চায়ের উত্পাদন ও গুণগত মান বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিটিআরআই) এ পর্যন্ত ২১টি উচ্চ ফলনশীল ক্লোন অবমুক্ত করেছে। জাতীয় গড় ফলন বৃদ্ধির জন্য চা-বাগানসমূহে বিটিআরআইয়ের উদ্ভাবিত উন্নত জাতের ক্লোন এবং প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। উত্পাদন, নিজস্ব স্বাদ, বৈচিত্র্য, ব্র্যান্ডিং এবং এ দেশের চা আজ বহুগুণে এগিয়ে আছে

  • ক্যানসার চিকিত্সায় যেসব খাবার নিষিদ্ধ

    ক্যানসার চিকিত্সায় যেসব খাবার নিষিদ্ধ

    ক্যানসার চিকিত্সায় বড়ো অগ্রগতির খবর দিয়েছেন গবেষকেরা। ক্যানসার চিকিত্সার সময় খাবারের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন গবেষকেরা। রসুন, আদা ও জিনসেং চামড়ার ক্ষত শুকাতে বিলম্ব ঘটায়। রসুন, জিনসেং এবং হলুদের মতো কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো রক্তের জমাট হতে বিলম্ব ঘটায়। মালটা কিংবা কমলালেবুজাতীয় ফল ক্যানসার ওষুধের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত করে। সম্প্রতি ক্যানসারবিষয়ক এক কনফারেন্সে এ ধরনের তথ্য দেওয়া হয়েছে।

     গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যানসারের রোগীরা ভেষজ পিল গ্রহণ করলে বিষয়টি তাদের চিকিত্সককে জানানো প্রয়োজন। কারণ এসব ভেষজ পিলের কিছু উপাদান ক্যানসারের চিকিত্সা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। একই সঙ্গে স্তন ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে আদা, রসুন খেলে চামড়ার ক্ষত সারতে দেরি হতে পারে। স্তন ক্যানসারবিষয়ক পর্তুগালের শল্যচিকিত্সক অধ্যাপক মারিয়া জোয়াও কার্দোসো বলেন, ভেষজ পিল ক্যানসার চিকিত্সার ক্ষেত্রে কার্যকরী হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
  • ডায়াবেটিস: খাদ্য নির্দেশিকা

    ডায়াবেটিস: খাদ্য নির্দেশিকা

    যে কোনো সুষম খাদ্য পরিকল্পনার জন্য একটি খাদ্য নির্দেশিকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে পাওয়া যাবে শরীরের চাহিদামাফিক সব পুষ্টি উপকরণ। হৃদেরাগ ও অন্যান্য রোগের ঝুঁকিও কমে। অনেকে ইউএসডিএ খাদ্য নির্দেশিকা ‘মাই পিরামিড’ ব্যবহার করেন সুষম খাদ্যের জন্য। ডায়াবেটিস রোগীরাও ‘মাই পিরামিডের’ সাহায্য নিতে পারেন এবং পুষ্টিবিদের পরামর্শে এতে কিছু পরিবর্তন এনে কাজে লাগাতে পারেন।

    খাদ্য নির্দেশিকা

    lযে পরিমাণ শ্বেতসার ও শর্করা দিনের জন্য প্রয়োজন একে ভাগ ভাগ করে বিভিন্ন বেলায় খাওয়া যেতে পারে। এক বেলা বেশি শর্করা খাওয়া ঠিক হবে না। খাদ্য পরিকল্পনা আগেভাগে করে নিলে ভালো, যাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে একসঙ্গে খাবার খাওয়া যায়।

    lখাবারে যেন হরেক রকম খাদ্য এবং খাদ্যে যেন থাকে বৈচিত্র্য। lআহারের পর রক্তের সুগার মাপা ভালো। এতে বোঝা যায় এর ওপর খাদ্যের প্রভাব কী পড়ল।

    lগর্ভবতী নারী বা স্তনদানকারী নারী যার ডায়াবেটিস, তার পুষ্টি চাহিদা গর্ভবতী নারী যার ডায়াবেটিস নেই, একই সমান। গর্ভবতী নারীর সব পুষ্টি প্রয়োজন। বিশেষ চাহিদা লৌহ ও ফলিক এসিড, প্রয়োজনে এর সাপ্লিমেন্ট। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাসে দিনে বাড়তি ৩০০ ক্যালোরি প্রয়োজন। নিয়মিত বেলার আহার ও নাস্তা চাই যাতে গর্ভকালে ও স্তন্যদানকালে রক্তের সুগার কমে না যায়। পুষ্টিবিদের পরামর্শও নেয়া ভালো।

    খাদ্য নির্দেশিকা অনুসরণ করলে স্বাস্থ্যকর খাবারের প্ল্যান হয় সহজ

    lপ্রতিটি গ্রুপের খাদ্যের মধ্যে একই রকম পুষ্টি যেমন দুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্যের মধ্যে থাকে একই পরিমাণ ক্যালসিয়াম, প্রোটিন, ভিটামিন ডি ও রাইবোফ্লাডিন। রক্তের সুগারের ওপর বেশি প্রভাব ফেলে শর্করা। এক বেলাতে যত বেশি শর্করা খাওয়া যাবে তত ওপরে উঠবে রক্তের সুগার মান। শর্করা সারাদিনের খাবারে নানা বেলায় বিতরণ করে খেলে রক্তের সুগার ঠিক রাখা যায়। প্রতিদিন প্রতিটি খাদ্য গ্রুপ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার খাওয়া এবং নিয়মিত আহার খুব দরকার।

    নিয়মিত আহার

    lদিনে রাতে আহারকে ছোটো ছোটো খাবারে ভাগ করে নিলে ভালো।

    চার-ছয়টি বেলার খাবার ও নাস্তা।

    একই সঙ্গে পরিকল্পনা করুন নানা বেলার খাবারের। বিভিন্ন খাদ্য গ্রুপের সঙ্গে পরিচিত হওয়া ভালো। যেমন—শস্য, শাকসবজি, ফল,

    তেল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মাছ, মাংস ও বিনস ইত্যাদি।

    আহারের সঙ্গে সঙ্গে আরো কিছু নিয়মনীতি থাকা ভালো

    lসক্রিয় থাকা, ব্যায়াম করা

    lসিমিত আহার করা। প্রতিটি গ্রুপের পছন্দগুলো যেমন হয় স্বাস্থ্যসম্মত। চর্বি বা চিনি যত কম যোগ করা যায় তত ভালো।

    lব্যক্তিকেন্দ্রিক মাইপিরামিড পাওয়া যায় ওয়েব সাইটে : বয়স, জেন্ডার এবং শরীরচর্চার পরিমাণ ভেবে খাদ্য পরিকল্পনা হয় এবং ওয়েবসাইট থেকে তা পাওয়া যায়। lপরিমাণ : যেসব খাবার বেশি খাওয়া প্রয়োজন নির্দেশ আছে সেখান থেকে বেশি, যেখানে কম খেতে হবে বলা হচ্ছে সেখান থেকে কম খাওয়া ভালো। পিরামিড দেখলে বোঝা যাবে। বৈচিত্র্য : সবগুলো খাদ্য গ্রুপ থেকে আহার করা উচিত। ক্রমান্বয়ে উন্নতি : ডায়েট ও লাইফস্টাইল উন্নতি করা উচিত ধীরে-ধীরে, ধাপে-ধাপে।

    lএমনভাবে খাদ্য পরিকল্পনা করতে হবে যাতে সব গ্রুপ থেকে আহার করা হয়। পুষ্টিবিদ পরিকল্পনায় সাহায্য করতে পারেন।

    lপ্রাতঃরাশে সাধারণত থাকবে দুধ, ফল ও শস্য গ্রুপ থেকে খাবার। মাংস, সবজিও মাঝে মধ্যে খাওয়া যেতে পারে। মধ্যাহ্ন আহার ও নৈশ আহারে খাবার থাকবে সব খাদ্য গ্রুপ থেকে।

    lস্ন্যাকস থাকবে এক বা একাধিক গ্রুপ থেকে। (যেমন ফল, রুটি)

    lদুধ ও দুগ্ধজাত দ্রব্য হলো আলাদা গ্রুপ। দুধ সহ্য না হলে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও অন্যান্য পুষ্টি আহরণ করতে হবে অন্যান্য খাদ্য থেকে। পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেয়া ভালো।

    lপরিমিত পরিমাণে খাওয়া

    উচিত। যে সার্ভিং সাইজ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে একে অনেক সময়

    বড়ো মনে হতে পারে। যেমন প্লেট ভর্তি স্ন্যাগেটি (প্রায় দুই কাপ) খাওয়া মানে শস্য গ্রুপ থেকে ৬টি সার্ভিং খাওয়া হলো। সার্ভিং সাইজ সম্পর্কে ধারণা থাকা ভালো। যেমন—এক আউন্স, তিন আউন্স, অর্ধেক কাপ, পুরো কাপ, ১ চা চামচ, ১ টেবিল চামচ। খাওয়ার আগে ও খাওয়ার ১-২ ঘণ্টা পর রক্তের সুগার মাপলে বোঝা যাবে রক্তের সুগারের ওপর খাওয়ার প্রভাব কী পরিমাণ পড়ল। পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো

  • ঘুমের আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে

    ঘুমের আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে

    যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়াটা জরুরি। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ঠিক কখন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে। গবেষকদের দাবি, ঘুমাতে যাওয়ার আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়। ইউরোপীq হার্ট জার্নালে বলা হচ্ছে, এটি একটি সহজ টিপস যা কি না জীবন বাঁচাতে পারে।

    স্প্যানিশ ঐ গবেষণায় রোগীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। একদল ওষুধ গ্রহণ করত সকালে, অপর দল রাতে ঘুমানোর আগে। এই দুই দলের ওপর ওষুধের ভূমিকা কেমন ছিল তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। মূলত ওষুধ গ্রহণের পরবর্তী পাঁচ মিনিটের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। এই পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা রাতেরবেলা ঘুমানোর আগে ওষুধ খেয়েছে তাদের মৃত্যু বা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    রাতেরবেলায় রক্তচাপ কমে যায়, কারণ তখন আমরা বিশ্রাম নেই বা ঘুমাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যদি না হয়, রক্তচাপ যদি সব সময়ই বেশি থাকে তবে হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেসব রোগী ঘুমাবার আগে হাইপারটেনশনের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের রক্তচাপ দিনে ও রাতে উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পায়। চিকিৎসকরাও রোগীদের ঘুমানোর আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গবেষণার শীর্ষ গবেষক ভিগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রেমন হার্মিদা বলেছেন, চিকিৎসকরা রোগীদের এসব কিছু বিবেচনা করেই ওষুধ গ্রহণে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি বলেন, এটি যেমন চিকিৎসার পেছনে বাড়তি ব্যয় হ্রাস করতে পারে সেই সঙ্গে বহু প্রাণও বাঁচাতে পারে।