Category: লাইফস্টাইল

  • ঘরে বসেই মিলছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ‘সোনালী চাল’

    ঘরে বসেই মিলছে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ‘সোনালী চাল’

    জিন বিজ্ঞানী ও ধান গবেষক ড. আবেদ চৌধুরীর উদ্ভাবন করেছেন এমন এক চাল, যা প্রতিদিন খেলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নতুন এই চালের নাম ‘সোনালী চাল’। এটি বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি অনুমোদিত।

    ড. আবেদ চৌধুরী বলেন, ‘ডায়াবেটিস রোধে সোনালী চাল বেশ কার্যকরী। সব বয়সের সবার জন্য এই চাল উপকারী। এছাড়া এই চাল ওজন কমাতে সাহায্য করে।’

    এই চালের বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান হাজীপুর কৃষি ঘর এর ব্যবস্থাপক সৈয়দ নূর আহমদ দাউদ (সৌরভ) বলেন, ‘আগে শুধু একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে এই চাল বাজারজাত করা হতো। বর্তমানে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে সোনালী চাল সরবরাহ করা হয়।

    তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপণন পর্যন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে সোনালী চালের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এজন্য অনেকের কাছে এই চালের দাম সামান্য বেশি মনে হতে পারে।’

    সোনালী চাল এখন অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই সারাদেশে পাওয়া যাচ্ছে। চাল কিনতে ০১৭৬৬-৩৭০৭০৩, ০১৭৪৬-৫৩৩৫৯৯ এই নম্বরে ফোন করে অর্ডার করা যাবে। এছাড়া ফেসবুকের পেজের (https://www.facebook.com/sonalirice.sylhet/) মাধ্যমে গ্রাহকরা অর্ডার করতে পারবেন।

    ঢাকা ও ঢাকার বাইরে সুন্দরবন এবং এসএ পরিবহনের (কুরিয়ার) মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে চাল পৌঁছে দেওয়া হয়। পণ্য হাতে পেয়ে টাকা পরিশোধের সুযোগ রয়েছে। প্রতি কেজি চালের মূল্য ১০০ টাকা।

  • শরীরে ‘মারাত্মক’ ক্ষতি করে যে সবজিগুলো

    শরীরে ‘মারাত্মক’ ক্ষতি করে যে সবজিগুলো

    স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শাক-সবজির কোনো বিকল্প নেই। ঋতুর মধ্যে শীতকালকে বলা হয় সবজির মৌসুম। এ সময় উৎপন্ন সবজিগুলো খুবই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু সবজি। তবে খাদ্য তালিকায় থাকা বেশ কিছু সবজিকে স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক।

    ডেইলি মেইল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় একাধিক শাক-সবজি বা শস্যদানা রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

    মার্কিন গবেষক চিকিৎসক স্টিফেন গুন্ড্রির মতে, বেশ কিছু গাছ-গাছালি রয়েছে যা নিজেদের মধ্যে ল্যাক্টিন উৎপন্ন করতে সক্ষম। এই ল্যাক্টিন তাদের প্রতিরক্ষার কাজে ব্যবহৃত হয়। যা তাদের কীট-পতঙ্গের হাত থেকে বাঁচাতে সাহায্য করে। এই ল্যাক্টিনের সংস্পর্শে এলে কীট-পতঙ্গের শরীর কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

    স্টিফেন জানান, মটরশুঁটি, টমেটো, শসা, সয়াবিন, চিনা বাদাম, কাজু, শুকনো লঙ্কার মতো শস্যদানায় ল্যাক্টিনের প্রভাব বেশি থাকে।

    মার্কিন গবেষকদের মতে, এই ল্যাক্টিন মানবদেহে প্রবেশ করলে তা শরীরে অ্যালার্জি, ব্রেন ফগ-এর মতো সমস্যা তৈরি করে। অনেক ক্ষেত্রে মানসিক অবসাদেরও কারণ এই ল্যাক্টিন। গবেষকদের মতে, ল্যাক্টিন রক্তের মাধ্যমে মস্তিষ্কে পৌঁছালে তা আমাদের চিন্তাশক্তি দুর্বল বা নষ্ট করে দিতে পারে।

  • হাত ধোয়া কেন জরুরি

    হাত ধোয়া কেন জরুরি

    পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সকলের হাত পরিচ্ছন্ন থাক।’ প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডে’ পালন করা হয়। সবাইকে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধ করাই এই দিবস পালনের লক্ষ্য। সুস্থ থাকার প্রাথমিক কাজই হলো খাবার গ্রহণ করার আগে ভালোভাবে সাবান বা অন্য যে কোনো এন্টিসেপটিক ব্যবহার করে সুন্দরভাবে হাত ধোয়া। অনেকেই ব্যাপারটা জানলেও বাস্তবে অনুসরণ করে কম। আবার কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জীবনের অঙ্গ। খাওয়ার শুরুতে যেমন হাত ধোয়া দরকার, তেমনি খাবার বানাতে বা পরিবেশন করতেও হাত ধোয়া জরুরি। আবার খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে মোছার তোয়ালেটাও পরিষ্কার থাকা উচিত। প্রতিটা ক্ষেত্রে হাত ধোয়া, হাত পরিষ্কার রাখা সুস্বাস্থ্যের অন্যতম পূর্বশর্ত। এই একটি অভ্যাস আমাদের স্বাস্থ্যের ওপর বিরাট প্রভাব রাখতে পারে।

    হাত ধোয়া কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৮০০ সালে। ভিয়েনার একটি হাসপাতালে কাজ করতেন বিশিষ্ট চিকিত্সক ইগনাল সেমেলউইজ। এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে মাতৃমৃত্যুর হার হঠাত্ করেই বেড়ে যায়। আতঙ্কিত রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। ডা. সেমেলউইজ এর কারণ খুঁজতে লাগলেন। তিনি অনুসন্ধান করে দেখলেন, নবীন চিকিত্সকগণ অ্যানাটমি ক্লাসে মৃতদেহ ব্যবচ্ছেদ করে হাত ভালোভাবে না ধুয়েই প্রসূতি ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা করছেন। তিনি মতামত দিলেন যে এভাবে অপরিষ্কার হাত দিয়ে রোগীদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুর হার। তিনি উদ্যোগ নিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে জীবাণু সংক্রমণ কমে যায় এবং মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ কমে আসে। ডা. সেমেলউইজের এই কর্মসূচি হাসপাতালে হাত ধোয়ার গুরুত্বকে প্রমাণ করে। রোগ প্রতিরোধে হ্যান্ড ওয়াশিং বা হাত ধোয়ার ভূমিকা এখন শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্কুল, কলেজ, রেস্তোরাঁ সর্বত্র স্বীকৃত।

    অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় নাকে-মুখে হাত দেওয়া বা হাত ভালোভাবে না ধুয়ে খাদ্য খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন পানি ও খাদ্যবাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। অনেকেই আবার হাঁচি, কাশি ইত্যাদি অপরিষ্কার জামা বা রুমালে মোছেন। এসবের মাধ্যমে এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও রোগ ছড়াতে পারে। কারণ হাতের গোড়ায় লোমকূপের জায়গায় অনেক জীবাণু থাকতে পারে। এই হাতে অন্যজনকে স্পর্শ করলে তার মধ্যেও জীবাণু ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার আরো বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া, যা মূলত পানিবাহিত। এছাড়া সঠিক নিয়মে হাত না ধুয়ে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করালে রোগাক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে অন্য শিশুতে রোগ ছড়াতে পারে। অপরিষ্কার খাবার ধরার পর সেই হাত দিয়ে শিশুকে ধরলেও রোগ ছড়াতে পারে। শিশুকে খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস করালে এই মৃত্যুর হারও সহজেই কমানো যায়। সঠিক হ্যান্ড ওয়াশিং পদ্ধতিতে ৮০ শতাংশ রোগ ঠেকানো যায়।

    কীভাবে হাত পরিষ্কার রাখবেন

    হাত পরিষ্কার রাখার উপায় কম-বেশি সবারই জানা। তবু কিছু কিছু উপায় লেখা হলো, শুধু অভ্যাস করলেই সহজভাবেই এগুলো করা সম্ভব।

    ১. কলের পানি ছেড়ে দিয়ে চলমান অবস্থায় দুই হাত ধুতে হবে।

    ২. যে কোনো সাবান দুই হাতে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সময় ধরে আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, নখে, হাতের সামনে-পেছনে ও কবজিতে ভালোভাবে ঘষা উচিত। পরে আবার পানি ঢেলে দিলেই পরিষ্কার হবে।

    ৩. হাত দুটি কলের পানির নিচে ধরলেই পানি নিচে পড়বে। বেসিনের ট্যাপেও একইভাবে পরিষ্কার করা যায়।

    ৪. সাবানের বদলে অনেক এন্টিসেপটিক-জাতীয় তরল পদার্থ পাওয়া যায়। এগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।

    ৫. হাত মোছার সময় কাপড় বা তোয়ালেটাও যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।

    হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কী ভুল হতে পারে

    l১০-১৫ সেকেন্ডের কম সময় ধোয়া

    lসাবান ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাত ঘষে সাবানের ফেনা না করে ধোয়া অথবা সাবান ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলা।

    lহাতের পেছনের অংশ, আঙুলগুলোর ফাঁকের জায়গা ও

    নখের নিচের অংশ পরিষ্কার না করা।

    lখাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া।

    lএকবার ব্যবহার করা পানিতে পুনরায় হাত ধোয়া অথবা বাটিতে পানি নিয়ে সেই পানিতে একাধিক জন হাত ধোয়া। একই তোয়ালেতে সবার হাত মোছা। হাত মোছার তোয়ালে মাঝে মাঝে পরিষ্কার না করা।

    হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোগবালাই থেকে বেঁচে থাকতে হলে যা মানতে হবে তা হলো—

    lখাওয়ার শুরুতে ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে বা তোয়ালেতে মুছে ফেলা।

    lখাবার পস্তুতকারীদেরও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ তাদের তৈরি করা খাবারই মানুষ খেয়ে থাকে।

    lবাথরুম বা শৌচকর্মের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া উচিত। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পর এমনকি স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার করতে হবে।

    lনাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি দেওয়ার পর হাত ধোয়া জরুরি।

    অসুস্থ কারো সেবা, দেহের কাটাছেড়া বা ক্ষতের চিকিৎসার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি।

    lডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য মেডিক্যাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে আরো সতর্কতা জরুরি। কারণ তাদের কারণে রোগীদের শরীরে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। রোগী দেখার পরে প্রত্যেক চিকিত্সককে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে, হাসপাতালে এমনকি প্রাইভেট চেম্বারেও। বিশেষ করে একজন রোগী পরীক্ষা করার পর দ্বিতীয় রোগী দেখার আগে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।

    lএছাড়া শিশুদের ডায়াপার বদলানোর পরে, বাইরের কাজ বা খেলাধুলার পরে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলার পরে ও হাঁচি-কাশিতে নাক ঝাড়ার পরেও হাত ধোয়া জরুরি।

    lএছাড়া সঠিকভাবে হ্যান্ড ওয়াশিংয়ের জন্য আঙুলের নখ ছোটো রাখা, কৃত্রিম নখ ব্যবহার না করা, হাত ধোয়ার সময় ঘড়ি, আংটি ও ব্রেসলেট খুলে রাখা এবং জামার হাতা ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হাতা গুটিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয়। রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ ছড়ানো থেকে নিজেকে এবং অন্যকে বাঁচাতে হ্যান্ড ওয়াশিং জরুরি একটি কাজ। নিজে এটি নিয়মিত অভ্যাস করুন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করুন। যেহেতু সুস্থ থাকার জন্য মৌলিক উপাদান হিসেবে হাত ধোয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই হাত ধোয়াবিষয়ক সচেতনতাকে কেবল একটি দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত না করে সারা বছরই এর প্রচারণা থাকা দরকার। পরিস্থিতির উত্তোরণে সহায়তা দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে ও স্কুলে শিশুদের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান দান করা বিশেষ করে শিক্ষকদের সচেষ্ট ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি। কারণ শিশুরাই অপরিচ্ছন্নতাজনিত রোগে ভোগে বেশি, যদিও বড়োদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য। হাত পরিষ্কার রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস, যার মাধ্যমে সহজেই অসুস্থতা থেকে বাঁচা যায়।

  • যে কারনে হাত ধোয়া জরুরি

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: পালিত হলো বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘সকলের হাত পরি”ছন্ন থাক।’ প্রতি বছর ১৫ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী ‘গ্লোবাল হ্যান্ড ওয়াশিং ডে’ পালন করা হয়। সবাইকে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং হাত ধোয়ায় উদ্বুদ্ধ করাই এই দিবস পালনের লক্ষ্য। সু¯’ থাকার প্রাথমিক কাজই হলো খাবার গ্রহণ করার আগে ভালোভাবে সাবান বা অন্য যে কোনো এন্টিসেপটিক ব্যবহার করে সুন্দরভাবে হাত ধোয়া। অনেকেই ব্যাপারটা জানলেও বাস্তবে অনুসরণ করে কম। আবার কেউ কেউ হয়তো এ ব্যাপারে একেবারেই উদাসীন। পরিষ্কার-পরি”ছন্নতা জীবনের অঙ্গ। খাওয়ার শুরুতে যেমন হাত ধোয়া দরকার, তেমনি খাবার বানাতে বা পরিবেশন করতেও হাত ধোয়া জরুরি। আবার খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে মোছার তোয়ালেটাও পরিষ্কার থাকা উচিত। প্রতিটা ক্ষেত্রে হাত ধোয়া, হাত পরিষ্কার রাখা সুস্বা¯ে’্যর অন্যতম পূর্বশর্ত। এই একটি অভ্যাস আমাদের স্বা¯ে’্যর ওপর বিরাট প্রভাব রাখতে পারে। হাত ধোয়া কর্মসূচি নতুন কিছু নয়। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু ১৮০০ সালে। ভিয়েনার একটি হাসপাতালে কাজ করতেন বিশিষ্ট চিকিৎসক ইগনাল সেমেলউইজ। এই হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে মাতৃমৃত্যুর হার হঠাৎ করেই বেড়ে যায়। আতঙ্কিত রোগীরা হাসপাতাল ছেড়ে চলে যেতে থাকেন। ডা. সেমেলউইজ এর কারণ খুঁজতে লাগলেন। তিনি অনুসন্ধান করে দেখলেন, নবীন চিকিৎসকগণ অ্যানাটমি ক্লাসে মৃতদেহ ব্যব”েছদ করে হাত ভালোভাবে না ধুয়েই প্রসূতি ওয়ার্ডে রোগীদের চিকিৎসা করছেন। তিনি মতামত দিলেন যে এভাবে অপরিষ্কার হাত দিয়ে রোগীদের সংস্পর্শে আসায় সংক্রমণ বাড়ছে, বাড়ছে মৃত্যুর হার। তিনি উদ্যোগ নিয়ে হাত ধোয়া কর্মসূচি শুরু করেন, যার ফলে জীবাণু সংক্রমণ কমে যায় এবং মৃত্যুর হার পাঁচ গুণ কমে আসে। ডা. সেমেলউইজের এই কর্মসূচি হাসপাতালে হাত ধোয়ার গুরুত্বকে প্রমাণ করে। রোগ প্রতিরোধে হ্যান্ড ওয়াশিং বা হাত ধোয়ার ভূমিকা এখন শুধু হাসপাতালে সীমাবদ্ধ নয়, বরং স্কুল, কলেজ, রেস্তোরাঁ সর্বত্র স্বীকৃত। অপরি”ছন্ন অব¯’ায় নাকে-মুখে হাত দেওয়া বা হাত ভালোভাবে না ধুয়ে খাদ্য খেলে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। ফলে সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু থেকে শুরু করে ডায়রিয়া, জন্ডিস, আমাশয়, টাইফয়েড ইত্যাদিসহ বিভিন্ন পানি ও খাদ্যবাহিত রোগে মানুষ আক্রান্ত হয়। অনেকেই আবার হাঁচি, কাশি ইত্যাদি অপরিষ্কার জামা বা রুমালে মোছেন। এসবের মাধ্যমে এমনকি করমর্দনের মাধ্যমেও রোগ ছড়াতে পারে। কারণ হাতের গোড়ায় লোমকূপের জায়গায় অনেক জীবাণু থাকতে পারে। এই হাতে অন্যজনকে স্পর্শ করলে তার মধ্যেও জীবাণু ছড়ায়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার আরো বেশি। পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশু মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া, যা মূলত পানিবাহিত। এ ছাড়া সঠিক নিয়মে হাত না ধুয়ে শিশুদের ডায়াপার পরিবর্তন করালে রোগাক্রান্ত শিশুর কাছ থেকে অন্য শিশুতে রোগ ছড়াতে পারে। অপরিষ্কার খাবার ধরার পর সেই হাত দিয়ে শিশুকে ধরলেও রোগ ছড়াতে পারে। শিশুকে খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার অভ্যাস করালে এই মৃত্যুর হারও সহজেই কমানো যায়। সঠিক হ্যান্ড ওয়াশিং পদ্ধতিতে ৮০ শতাংশ রোগ ঠেকানো যায়।
    কীভাবে হাত পরিষ্কার রাখবেন
    হাত পরিষ্কার রাখার উপায় কম-বেশি সবারই জানা। তবু কিছুকিছু উপায় লেখা হলো, শুধু অভ্যাস করলেই সহজভাবেই এগুলো করা সম্ভব।
    ১. কলের পানি ছেড়ে দিয়ে চলমান অব¯’ায় দুই হাত ধুতে হবে।
    ২. যে কোনো সাবান দুই হাতে লাগিয়ে কয়েক সেকেন্ড সময় ধরে আঙুলের ফাঁকে ফাঁকে, নখে, হাতের সামনে-পেছনে ও কবজিতে ভালোভাবে ঘষা উচিত। পরে আবার পানি ঢেলে দিলেই পরিষ্কার হবে।
    ৩. হাত দুটি কলের পানির নিচে ধরলেই পানি নিচে পড়বে। বেসিনের ট্যাপেও একইভাবে পরিষ্কার করা যায়।
    ৪. সাবানের বদলে অনেক এন্টিসেপটিক-জাতীয় তরল পদার্থ পাওয়া যায়। এগুলোও ব্যবহার করা যেতে পারে।
    ৫. হাত মোছার সময় কাপড় বা তোয়ালেটাও যেন পরিষ্কার থাকে, সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
    হাত ধোয়ার ক্ষেত্রে কী ভুল হতে পারে
    ১০-১৫ সেকেন্ডের কম সময় ধোয়া
    সাবান ব্যবহার না করে শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়া, হাত ঘষে সাবানের ফেনা না করে ধোয়া অথবা সাবান ব্যবহারের পর তা ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে না ফেলা।
    হাতের পেছনের অংশ, আঙুলগুলোর ফাঁকের জায়গা ও
    নখের নিচের অংশ পরিষ্কার না করা।
    খাবার তৈরি, পরিবেশন ও খাওয়ার আগে হাত না ধোয়া।
    একবার ব্যবহার করা পানিতে পুনরায় হাত ধোয়া অথবা বাটিতে পানি নিয়ে সেই পানিতে একাধিক জন হাত ধোয়া। একই তোয়ালেতে সবার হাত মোছা। হাত মোছার তোয়ালে মাঝে মাঝে পরিষ্কার না করা।
    হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোগবালাই থেকে বেঁচে থাকতে হলে যা মানতে হবে তা হলোÑ
    খাওয়ার শুরুতে ভালোভাবে হাত ধোয়া এবং খাওয়া শেষে হাত ধুয়ে পরিষ্কার কাপড়ে বা তোয়ালেতে মুছে ফেলা।
    খাবার প¯‘তকারীদেরও ভালোভাবে হাত ধুয়ে নিতে হবে। কারণ তাদের তৈরি করা খাবারই মানুষ খেয়ে থাকে।
    বাথরুম বা শৌচকর্মের পর ভালোভাবে হাত ধোয়া উচিত। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পর এমনকি স্পর্শ করার পর হাত পরিষ্কার করতে হবে।
    নাক ঝাড়া, কফ ফেলা বা হাঁচি দেওয়ার পর হাত ধোয়া জরুরি।
    অসু¯’ কারো সেবা, দেহের কাটাছেড়া বা ক্ষতের চিকিৎসার আগে ও পরে হাত ধোয়া জরুরি।
    ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য মেডিক্যাল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাত ধোয়ার ব্যাপারে আরো সতর্কতা জরুরি। কারণ তাদের কারণে রোগীদের শরীরে রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা থাকে অনেক বেশি। রোগী দেখার পরে প্রত্যেক চিকিৎসককে হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে, হাসপাতালে এমনকি প্রাইভেট চেম্বারেও। বিশেষ করে একজন রোগী পরীক্ষা করার পর দ্বিতীয় রোগী দেখার আগে অবশ্যই হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে।
    এছাড়া শিশুদের ডায়াপার বদলানোর পরে, বাইরের কাজ বা খেলাধুলার পরে, পোষা প্রাণীর সঙ্গে খেলার পরে ও হাঁচি-কাশিতে নাক ঝাড়ার পরেও হাত ধোয়া জরুরি।
    এছাড়া সঠিকভাবে হ্যান্ড ওয়াশিংয়ের জন্য আঙুলের নখ ছোটো রাখা, কৃত্রিম নখ ব্যবহার না করা, হাত ধোয়ার সময় ঘড়ি, আংটি ও ব্রেসলেট খুলে রাখা এবং জামার হাতা ভিজে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলে হাতা গুটিয়ে রাখা বাঞ্ছনীয়। রোগ-জীবাণুর সংক্রমণ ছড়ানো থেকে নিজেকে এবং অন্যকে বাঁচাতে হ্যান্ড ওয়াশিং জরুরি একটি কাজ।
    নিজে এটি নিয়মিত অভ্যাস করুন এবং অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করুন। যেহেতু সু¯’ থাকার জন্য মৌলিক উপাদান হিসেবে হাত ধোয়া খুব গুরুত্বপূর্ণ, তাই হাত ধোয়াবিষয়ক সচেতনতাকে কেবল একটি দিবসের সঙ্গে সংযুক্ত না করে সারা বছরই এর প্রচারণা থাকা দরকার। পরি¯ি’তির উত্তোরণে সহায়তা দিতে গণমাধ্যমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়িতে ও স্কুলে শিশুদের মধ্যে এ-সংক্রান্ত সাধারণ জ্ঞান দান করা বিশেষ করে শিক্ষকদের সচেষ্ট ভূমিকা এ ক্ষেত্রে খুবই জরুরি।
    কারণ শিশুরাই অপরি”ছন্নতাজনিত রোগে ভোগে বেশি, যদিও বড়োদের বেলায়ও তা প্রযোজ্য। হাত পরিষ্কার রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস, যার মাধ্যমে সহজেই অসু¯’তা থেকে বাঁচা যায়।

  • সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে যা করবেন?

    সকালে দ্রুত ঘুম থেকে উঠতে যা করবেন?

    অতিরিক্ত রাত জাগা ও সকালে দেরিতে ঘুম থেকে ওঠা স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়। সকালে ঘুম থেকে উঠা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। সকালে ওঠার অভ্যাস বদলে দিতে পারে অনেক কিছুই।

    ভোরে ওঠার অভ্যাস গোটা দিনটাকে আরও একটু বড় করে দেয়। সুস্থ থাকার জন্য সকালে একটু হাঁটা, ব্যায়াম করা, সময় নিয়ে আমিষসমৃদ্ধ নাশতা খাওয়া শরীরের জন্য ভালো।

    আসুন জেনে নেই সকালে ঘুম থেকে উঠার জন্য কী করবেন?

    ১. রাত টেলিভিশন দেখা, ফেসবুক ব্যবহারসহ অন্যান্য ইন্টারনেটের ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।

    ২. বিছানা থেকে কম্পিউটার বা মুঠোফোন দূরে রাখুন।

    ৩. ঘরের পরিবেশও ঠিক রাখা প্রয়োজন। ঘর অন্ধকার ও ঠাণ্ডা থাকলে ঠিকমতো ঘুমানো যাবে।

    ৪. রাতের খাবার আটটা থেকে নয়টার মধ্যেই শেষ করতে হবে। এরপর ঘুমাতে যান।

    ৫. একজন সুস্থ মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুমানো দরকার। তাই সকাল সকাল ঘুমিয়ে পড়লে অনেক সকালেই ঘুম থেকে ওঠা যাবে।

    ৬. সকালে ওঠার অভ্যাস করার জন্য অ্যালার্ম ঘড়ি রাখতে পারেন।

    সকালে উঠেই ব্রাশ করা বা অন্য কোনো কাজ শুরু করুন।একটু চা-কফি খাওয়া , সূর্যোদয় দেখা, বাগান করা, নাশতা তৈরি বা বই পড়ার মতো কাজও করতে পারেন।রাত না জেগে দ্রুত ঘুমালে সকালে উঠলে চেহারা ও মন ভালো থাকে

  • লিভারকে পরিষ্কার রাখে যে ৩টি খাবার

    লিভারকে পরিষ্কার রাখে যে ৩টি খাবার

    লিভার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ এবং একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির লিভারের ওজন ৩ পাউন্ড। দেহের এই লিভার অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। যেমন- হজম শক্তি, মেটবলিজম, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, দেহে পুষ্টি যোগানো ইত্যাদি। সুস্থ লিভার দেহের রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রন করে, রক্ত থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের করে দেয়, দেহের সকল অংশে পুষ্টি যোগায়। এছাড়াও লিভার ভিটামিন, আয়রন এবং সাধারণ সুগার গ্লুকোজ সংরক্ষন করে।

    যেহেতু লিভার আমাদের দেহের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ তাই যে কোন উপায়ে একে সুস্থ সবল রাখতে হবে। অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন দেহের লিভারের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলে। ওজন বৃদ্ধি, হৃদরোগ, দীর্ঘ সময় ক্লান্তি অনুভব করা, হজমের সমস্যা, এলার্জি ইত্যাদি এই সমস্ত অসুখ দেখা দিতে পারে অসুস্থ লিভারের কারণে। তাই দেহ ও লিভার সুস্থ রাখার জন্য চিনে নিন এমন কিছু খাবার আছে যা সুস্থ রাখবে আপনাকে।

    রসুন: লিভার পরিষ্কার রাখার জন্য উত্তম খাবার হল রসুন। রসুনের এনজাইম লিভারের ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান পরিষ্কার করে। এতে আছে আছে আরও দুটি উপাদান যার নাম এলিসিন এবং সেলেনিয়াম যা লিভার পরিষ্কার রাখে এবং ক্ষতিকর টক্সিক উপাদান হতে রক্ষা করে।লেবু: লেবুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান দেহের লিভার পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং ডি লিমনেন উপাদান লিভারে এনজাইম সক্রিয় করে। তাছাড়া লেবুর ভিটামিন সি লিভারে বেশি করে এনজাইম তৈরি করে যা হজম শক্তির জন্য উপযোগী। লেবুর মিনারেল লিভারের নানান পুষ্টি উপাদানগুলো শোষণ করার শক্তি বৃদ্ধি করে। বাসায় লেবুপানি পান করুন এবং যেকোন সময় পানের জন্য লেবুপানি বানিয়ে রাখুন। প্রতিদিন লেবুপানি পান করুন, চাইলে মধুও মিশিয়ে নিতে পারেন।

    আপেল: প্রতিদিন ১ টি করে আপেল খেলে তা লিভারকে সুস্থ রাখে। আপেলের পেক্টিন, ফাইবার দেহের পরিপাক নালী হতে টক্সিন ও রক্ত হতে কোলেস্টরোল দূর করে এবং সাথে সাথে লিভারকেও সুস্থ রাখে। আপেলে আছে আরও কিছু উপাদান- ম্যালিক এসিড যা প্রাকৃতিক ভাবেই রক্ত হতে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করে। যেকোন ধরণের আপেলই দেহের লিভারের জন্য ভালো। তাই লিভার সুস্থ রাখতে প্রতিদিন ১ টি করে আপেল