Category: লাইফস্টাইল

  • আসছে শীতে ঠোঁটের যত্ন

    আসছে শীতে ঠোঁটের যত্ন

    শীতের সময়ই ঠোঁটের যত্ন নেওয়াটা একটু বেশিই দরকার, কেননা শীতের আর্দ্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠোঁট। এই সময় ঠোঁট ফাটা থেকে শুরু করে ঠোঁটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তাই আসছে শীতে আপনার ঠোঁটে চাই বাড়তি যত্ন। ঠোঁটের বাড়তি যত্নের কথা জানাচ্ছেন নওশীন শর্মিলী।

    শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। এখনই বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। চারপাশে চলছে শীতকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও একটা ভয় সবার মনে থেকেই যায়, আর তা হলো শীতে ঠোঁট ফাটার ভয়। ঠোঁট ফাটলে কষ্ট তো হয়; দেখতেও খুব বাজে লাগে। এ ছাড়া ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে সেটা আরও বাজে দেখায়। তাই এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে, যাতে প্রচণ্ড শীতে আপনার ঠোঁট থাকে সুস্থ। ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারণ হলো রুক্ষতা। তাই যেভাবেই হোক ঠোঁটের রুক্ষতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য সবসময় ক্রিম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন। রাতে শুতে যাওয়ার আগেও ঠোঁটের পরিচর্যা করতে হবে। এ সময় পুরু করে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলুন। এতে ঠোঁটের মরা চামড়াও উঠে যাবে। ঠোঁট হয়ে উঠবে আরও বেশি সতেজ এবং কোমল।

    লিপস্টিকের ব্যবহার

    বাইরে বের হওয়ার আগে বেশিরভাগ মেয়েই লিপস্টিক লাগিয়ে থাকেন। তবে ঠোঁট ফাটা থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই বলে এর যে কোনো সমাধান নেই, তা কিন্তু নয়। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে ঠোঁট তো সুরক্ষিত থাকবেই; লিপস্টিকও থাকবে অনেকক্ষণ। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা পাউডার ব্যবহার করবেন। একবার লিপস্টিক লাগিয়ে একটু পাউডার লাগাতে হবে। এরপর আরেকবার একটু লিপস্টিক লাগাতে হবে। এতে লিপস্টিক অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক এমন জায়গায় যারা কাজ করেন, তারা ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগানোর পর ভেজা কাপড় দিয়ে ঠোঁট মুছে ফেলবেন। তারপর লিপস্টিক লাগাবেন। তাহলে লিপস্টিক অনেকক্ষণ ধরে থাকবে। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও ভ্যাসলিনটা জরুরি।

    রঙ নির্বাচন

    চকচকে রঙের লিপস্টিক সবসময়ই সবার পছন্দের। আপনার যদি ততটা পছন্দের নাও হয় তবু এই মৌসুমে চকচকে রঙের লিপস্টিকই বেছে নিন। কারণ, চকচকে রঙের লিপস্টিক আপনার ঠোঁটকে উজ্জ্বল তো রাখবেই; এমনকি ঠোঁটের ফাটাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটিও ঢেকে রাখবে। বাজারে বিভিন্ন রঙের লিপস্টিক পাওয়া যায়। একদিন সময় করে গিয়ে বেশ কয়েকটা নিয়ে আসুন। যাতে ম্যাচ করে ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিক কেনার সময় সেটি ভালো ব্র্যান্ডের কি না খেয়াল করুন। কারণ, নন ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাত্ক্ষণিকভাবে হয়তো নেতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যাবে না, তবে ধীরে ধীরে ঠোঁট রুক্ষ হয়ে যাবে। মনে রাখুন, এ সময় ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ঠোঁট থাকবে নরম ও কোমল।

  • লম্বা হতে সন্তানকে যা খাওয়াবেন

    লম্বা হতে সন্তানকে যা খাওয়াবেন

    আদরের সন্তান লম্বা হোক তা কে না চায়? সন্তানকে লম্বা বানাতে তাই নানা ফুড সাপ্লিমেন্টস খাওয়ান অনেকেই। তবে এসব প্রক্রিয়াজাত খাবার না খেতে দিয়ে সন্তানকে প্রাকৃতিক খাবার খেতে দিয়েও উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করা যায়।

    ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজ জানিয়েছে, সাধারণত ছেলেদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত আর মেয়েদের উচ্চতা সর্বোচ্চ ২১ বছর পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়ে থাকে। তাই এ সময়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কয়েকটি বিশেষ খাবার রাখা খুবই জরুরি। এসব খাবার আপনার সন্তানকে উচ্চতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন কয়েকটি খাবার সম্পর্কে…

    পালংশাক

    অনেকেই পালংশাক খেতে পছন্দ করেন। তবে পরিবারে শিশু-কিশোর থাকলে পালংশাক খাওয়ার অভ্যাস বাড়ান। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, ফাইবার ও মিনারেল রয়েছে। এ উপাদানগুলো উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। নিয়মিত পালংশাক খেলে অল্প কিছু দিনের মধ্যে শিশুদের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে।

    সয়াবিন

    সয়াবিনে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন, যা টিস্যু ও হাড়ের গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিশুকে নিয়মিত ৫০ গ্রাম সয়াবিন খাওয়ান, দেখবেন কয়েক দিনের মধ্যেই শিশুর উচ্চতা কয়েক ইঞ্চি বেড়ে গেছে।

    মটরশুঁটি

    অনেকেরই পছন্দের খাবার মটরশুঁটি। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, লুটেইন ও প্রোটিন। এসব উপাদান শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং উচ্চতা বাড়াতে সাহায্য করে। উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য সবুজ বা তরতাজা মটরশুঁটি খাওয়াই ভালো। কেননা শুকনো মটরশুঁটিতে এসব উপাদান থাকে না।

    বাঁধাকপি

    বাঁধাকপি আমাদের শরীরের পক্ষে খুবই উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল, আয়রন, প্রোটিন ও ফাইবার উচ্চতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। বাঁধাকপি ক্যানসার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

    ঢ্যাঁড়স

    ঢ্যাঁড়স খুবই পরিচিত ও সহজলভ্য একটি সবজি। এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন, মিনারেল, কার্বোহাইড্রেট ও ফাইবার থাকে। এসব উপাদান শরীরের গ্রোথ হরমোনের কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে উচ্চতা বাড়াতে সহায়তা করে।

    শালগম

    শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য শালগম খাওয়াতে পারেন। এতে থাকা ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, প্রোটিন এবং ফ্যাট আপনার শিশুর উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

  • একজন ‘অসুন্দরী’ বলছি

    একজন ‘অসুন্দরী’ বলছি

    আমার গায়ের রং কালো। ভদ্র ভাষায় কেউ কেউ বলেন শ্যামলা। আবার কেউ কেউ গায়ের রংটাকে বলেন ময়লা। যে নামেই বলা হোক, কৃষ্ণবর্ণের ধরনে কোনো পরিবর্তন হয় না। তার ওপর আমি শুকনা গোছের। লম্বার দিক থেকেও কম উচ্চতার। অর্থাৎ ‘সুন্দর’ বা ‘সুন্দরীর’ প্রচলিত ধারণার (যেমন লম্বা, ফরসা, কাটা কাটা চেহারা) সঙ্গে আমি যাই না। এ জন্য লোকে কম কথা শোনায় না। এটা যে বুলিং (অশালীন আচরণ, মানসিক নির্যাতন), বেশির ভাগ মানুষই সেটা মনে করে না।

    সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় নিজের মনের ক্ষতগুলো যেন জেগে উঠল। ২৩ অক্টোবর প্রথম আলোর অনলাইনের এক খবরে প্রকাশ, রাজধানীর একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে চেহারার ধরনসহ নানা বিষয়ে সহপাঠীদের বুলিং সইতে না পেরে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরী। এর আগে ১৭ অক্টোবর নড়াইলের লোহাগড়া থেকে ছয় বছরের শিশু রমজানের লাশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তের পর অভিযোগ উঠেছে, শিশুটি নাম ধরে খেপানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে স্বজন এক কিশোরী তাকে হত্যা করেছে।

    শুধু যে বাংলাদেশেই এমন, তা নয়। ৩০ অক্টোবর বিবিসি অনলাইনের একটি খবরে বলা হয়, স্বামী গায়ের রং নিয়ে স্ত্রীকে সারাক্ষণ কথা শোনানোয় বিয়ের ছয় মাসের মাথায় আত্মহত্যা করেছেন ভারতের রাজস্থানের এক নারী। উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত কানাডায়ও ১২ বছর বয়সী কিশোর সহপাঠীদের বুলিং সইতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। গ্লোবাল নিউজের খবরে বলা হয়, ভারত থেকে ছেলেকে নিয়ে কানাডায় বসতি গড়েছিলেন এক মা। গত ২১ জুন ছেলে আত্মহত্যা করে। এর চার মাস পর মা জানতে পারেন, কানাডার উন্নত স্কুলব্যবস্থাও বুলিংমুক্ত নয়। আর সেই বুলিং সইতে না পেরে তাঁর আদরের সন্তানটি আত্মহনন করেছে।

    আমার ছোটবেলাটা যে কী বিভীষিকাময় ছিল! একে তো মেয়েসন্তান, তার ওপর কালো। মনে হয় আশপাশের মানুষের রাতে ঠিকমতো ঘুম হতো না কেমনে এই মেয়ের বিয়ে হবে, ভেবে। অসুখ লেগেই থাকত। ফলে খাওয়ার রুচি ছিল না। শরীর-স্বাস্থ্য অন্য বাচ্চাদের চেয়ে কম ছিল। মা-বাবাকে সারাক্ষণ শুনতে হতো, ‘মেয়েকে খেতে দেন না? সব নিজেরাই খান?’ শুনে আমার মা-বাবা কিছু বলতেন না, শুধু হাসতেন। কিন্তু আমি তো জানি, আমার মা-বাবা আমাকে কতভাবে খাওয়ানোর চেষ্টা করতেন। কোনো দিন একটা কিছু ভালোভাবে খেলে, সেটা খাওয়ানোর জন্য অস্থির থাকতেন। কত চিকিৎসকের কাছে যে নিয়ে যেতেন। সব চিকিৎসকের কাছে আমার মা-বাবার একটা সাধারণ আরজি থাকত, ‘মেয়েটা কেন খায় না? এমন একটা ওষুধ দেন না যেন মেয়েটার মুখে রুচি বাড়ে।’

    কিন্তু তাঁদের এত চেষ্টার পরও আমি শুকনাই ছিলাম। স্কুলে সহপাঠীরা কত শত উপায়ে যে গায়ের রং আর ধরন নিয়ে আপত্তিকর কথা বলত, সেসব মনে করলেই কেমন যেন বিষণ্ন লাগে। আমি ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকলাম। হাইস্কুলে যে অল্প কজন সহপাঠী কখনো এমন কথা বলত না, কেবল তাদের সঙ্গেই আমার বন্ধুত্ব হলো। অন্যদের আমি এড়িয়ে চলতাম। নিজের মতো থাকতাম। বইপড়া, ছবি আঁকা, লেখালেখি করা, সেলাই করা, বাগান করা—আমার সময় কাটানোর সঙ্গী হয়ে ওঠে। যে কাজগুলো নিজে নিজে করা যায়, সেগুলোই আমার পছন্দ ছিল। মা-বাবার খুব শখ ছিল, আমি গান করব। গানের ক্লাসেও ভর্তি করালেন। আমি কয়েক বছর শিখলাম। পরে এমন একজনকে শিক্ষক হিসেবে পেলাম, যিনি বর্ণবাদী আচরণ করতেন। গান আর আমার ভালো লাগত না। আমি গান শেখাটা ছেড়ে দিলাম। কতবার যে মানুষের কটু কথা শুনে মরে যেতে ইচ্ছা হয়েছে!

    আমি ‘সুন্দর’ না, এটা আমার মনে এমনভাবে প্রভাব ফেলেছিল যে ছোটবেলায় আমি কোনো ছবি তুলতাম না। টেনেটুনেও আমাকে ক্যামেরার সামনে নেওয়া যেত না। এখন মনে হয়, কী বোকাই না ছিলাম আমি। আমার শৈশবের কোনো প্রামাণ্য দলিলই আমার কাছে নেই। কিছু লোকের বাজে কথাকে এত বেশি বিশ্বাস করেছিলাম যে নিজের ওপর আস্থাই রাখতে পারিনি।

    কলেজজীবনটাও আমি মোটামুটি এভাবেই কাটিয়েছি। এরপর ভর্তি হলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। অনেকের কাছ থেকেই বাজে কথা শুনেছি। তবে আমার চারপাশে অসম্ভব ভালো ও সুন্দর ভাবনার কিছু বড় ভাইবোনকে পেলাম, যাঁদের কাছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞাটাই আলাদা। নিজেকে গুটিয়ে রাখার ধারণা থেকে আমি বেরিয়ে এলাম। ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলাম। নতুন অনেক কিছু শিখলাম। সবচেয়ে বড় কথা, সৌন্দর্য বিষয়ে আমার আগেকার সবকিছু ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে গেল।

    আমার কাছে ‘সুন্দরের’ সংজ্ঞা স্পষ্ট হতে লাগল। ‘সুন্দর’ মানে আত্মবিশ্বাসী হওয়া। ‘সুন্দর’ মানে জ্ঞানে–বুদ্ধিতে স্মার্ট হওয়া। আমি নিজেকে এখন ‘সুন্দর’ ভাবি। অবলীলায় ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে অনেক ছবি তুলি। ভালো প্রতিষ্ঠানে কাজ করি। আত্মবিশ্বাস নিয়ে এগিয়ে যাই। আমি খুব সফল কেউ না। তবে আমি যদি বুলিংয়ের কারণে আত্মহননের পথ বেছে নিতাম, তাহলে তো এটুকু অর্জনও আমার থাকত না। তাই যাঁরা বুলিংয়ের শিকার হয়ে নিজেকে গুটিয়ে ফেলেন, তাঁদের বলতে চাই, জীবন অনেক সুন্দর কিছু নিয়ে আপনার জন্য অপেক্ষা করছে। অনেক মানবিক বন্ধু, স্বজন, কর্মস্থল আপনার জীবনকে রাঙিয়ে তুলবে।

    বুলিং বন্ধ করতে হলে আসলে অভিভাবকদেরই আগে নিজেদের বদলাতে হবে। অন্যকে নিয়ে সমালোচনা বন্ধ করুন। অন্যের সন্তানকে নিয়ে আপনার উতলা হওয়ার দরকার নেই। সে সময়টুকু নিজের সন্তানকে দিন। ভালো কাজে ব্যয় করুন। নিজে পৃথিবীর বৈচিত্র্যকে ধারণ করুন। সন্তানকে বৈচিত্র্য উদ্‌যাপন করতে শেখান। বৈচিত্র্য যে সৌন্দর্য, সে ধারণা দেন। তাকে বলুন, পৃথিবীতে কালো, সাদা, বাদামি রঙের মানুষ থাকবে। থাকবে লম্বা, খাটো ও মাঝারি উচ্চতার মানুষ। কেউ পড়াশোনায় খুব ভালো হবে, আবার কেউ খেলাধুলায়। কারও পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো হবে, কারওটা খারাপ। যার যেটা কম থাকে, সেটা নিয়ে সে এমনিতেই চিন্তায় থাকে। তার সেই দুর্বলতায় আঘাত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আর এভাবেই প্রতিটি শিশু হয়ে উঠবে মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন; যে কখনো অন্যকে বুলিং করবে না, কেউ বুলিংয়ের শিকার হলে তার পাশে দাঁড়াবে।

  • জগিং ও ব্যায়ামের উপকারিতা

    জগিং ও ব্যায়ামের উপকারিতা

    ভোরের চমৎকার আলো আর মুক্ত বাতাসে জগিং-এর জন্য আরামদায়ক। ঘুম ছেড়ে উঠে পড়া একটু কষ্টসাধ্য হলেও এর স্বাস্থ্যগুণ অনেক। ভোরের নির্মল বাতাসে হাঁটলে শরীরের সঙ্গে মন ও মস্তিষ্ক সতেজ হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক জগিং সম্পর্কে এ রকম কিছু তথ্য যা আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে নিয়মিত জগিং করতে।

    নিয়মিত জগিং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হাড় ও মাংসপেশি শক্তিশালী করে, শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

    নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের এনডোরফিন নামক হরমোন নি:সরণ বাড়ায় যা শরীরের ব্যথা কমায়, মনকে সতেজ করে, মুখের রুচি বাড়ায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বাতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জগিং অনেক উপকারী। এছাড়া জগিং বিষণ্ণতা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে সৌন্দর্য বর্ধন ও দ্রুত বার্ধক্য রোধে জগিং অতুলনীয়।

    আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে, সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে জগিং করলে ফুসফুস, খাদ্যনালী, স্তন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাই আর সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই নিয়মিত জগিং করার অভ্যাস তৈরি করুন ও শরীর সুস্থ রাখুন

  • আসছে শীতে ঠোঁটের যত্ন

    আসছে শীতে ঠোঁটের যত্ন

    শীতের সময়ই ঠোঁটের যত্ন নেওয়াটা একটু বেশিই দরকার, কেননা শীতের আর্দ্রতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ঠোঁট। এই সময় ঠোঁট ফাটা থেকে শুরু করে ঠোঁটের নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তাই আসছে শীতে আপনার ঠোঁটে চাই বাড়তি যত্ন। ঠোঁটের বাড়তি যত্নের কথা জানাচ্ছেন নওশীন শর্মিলী।

    শীত আসতে আর বেশি দেরি নেই। এখনই বইতে শুরু করেছে হিমেল হাওয়া। চারপাশে চলছে শীতকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি। তবে এত আয়োজনের মধ্যেও একটা ভয় সবার মনে থেকেই যায়, আর তা হলো শীতে ঠোঁট ফাটার ভয়। ঠোঁট ফাটলে কষ্ট তো হয়; দেখতেও খুব বাজে লাগে। এ ছাড়া ফাটা ঠোঁটে লিপস্টিক দিলে সেটা আরও বাজে দেখায়। তাই এখন থেকেই ঠোঁটের যত্ন নিতে হবে, যাতে প্রচণ্ড শীতে আপনার ঠোঁট থাকে সুস্থ। ঠোঁট ফাটার অন্যতম কারণ হলো রুক্ষতা। তাই যেভাবেই হোক ঠোঁটের রুক্ষতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। এজন্য সবসময় ক্রিম বা ভ্যাসলিন ব্যবহার করুন। রাতে শুতে যাওয়ার আগেও ঠোঁটের পরিচর্যা করতে হবে। এ সময় পুরু করে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। তারপর সকালে ঘুম থেকে উঠে ভেজা নরম কাপড় দিয়ে আলতো করে মুছে ফেলুন। এতে ঠোঁটের মরা চামড়াও উঠে যাবে। ঠোঁট হয়ে উঠবে আরও বেশি সতেজ এবং কোমল।

    লিপস্টিকের ব্যবহার

    বাইরে বের হওয়ার আগে বেশিরভাগ মেয়েই লিপস্টিক লাগিয়ে থাকেন। তবে ঠোঁট ফাটা থাকলে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। তাই বলে এর যে কোনো সমাধান নেই, তা কিন্তু নয়। লিপস্টিক লাগানোর আগে ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগিয়ে নিন। এতে ঠোঁট তো সুরক্ষিত থাকবেই; লিপস্টিকও থাকবে অনেকক্ষণ। যাদের ত্বক তৈলাক্ত, তারা পাউডার ব্যবহার করবেন। একবার লিপস্টিক লাগিয়ে একটু পাউডার লাগাতে হবে। এরপর আরেকবার একটু লিপস্টিক লাগাতে হবে। এতে লিপস্টিক অনেকক্ষণ স্থায়ী হবে। তাপমাত্রা স্বাভাবিক এমন জায়গায় যারা কাজ করেন, তারা ঠোঁটে ভ্যাসলিন লাগানোর পর ভেজা কাপড় দিয়ে ঠোঁট মুছে ফেলবেন। তারপর লিপস্টিক লাগাবেন। তাহলে লিপস্টিক অনেকক্ষণ ধরে থাকবে। যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত জায়গায় কাজ করেন, তাদের ক্ষেত্রেও ভ্যাসলিনটা জরুরি।

    রঙ নির্বাচন

    চকচকে রঙের লিপস্টিক সবসময়ই সবার পছন্দের। আপনার যদি ততটা পছন্দের নাও হয় তবু এই মৌসুমে চকচকে রঙের লিপস্টিকই বেছে নিন। কারণ, চকচকে রঙের লিপস্টিক আপনার ঠোঁটকে উজ্জ্বল তো রাখবেই; এমনকি ঠোঁটের ফাটাজনিত কোনো সমস্যা থাকলে সেটিও ঢেকে রাখবে। বাজারে বিভিন্ন রঙের লিপস্টিক পাওয়া যায়। একদিন সময় করে গিয়ে বেশ কয়েকটা নিয়ে আসুন। যাতে ম্যাচ করে ব্যবহার করতে পারেন। লিপস্টিক কেনার সময় সেটি ভালো ব্র্যান্ডের কি না খেয়াল করুন। কারণ, নন ব্র্যান্ডের লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁটের স্বাভাবিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়ে যাবে। তাত্ক্ষণিকভাবে হয়তো নেতিবাচক কোনো প্রভাব দেখা যাবে না, তবে ধীরে ধীরে ঠোঁট রুক্ষ হয়ে যাবে। মনে রাখুন, এ সময় ময়েশ্চারাইজারযুক্ত লিপস্টিক ব্যবহার করা উচিত। তাহলে ঠোঁট থাকবে নরম ও কোমল।

  • ঘুমের আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে

    ঘুমের আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে ভালো কাজ করে

    যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তাদের নিয়মিত ওষুধ খাওয়াটা জরুরি। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই ওষুধ খেতে হয়। কিন্তু এবার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ঠিক কখন উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যাবে। গবেষকদের দাবি, ঘুমাতে যাওয়ার আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে তা সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়। ইউরোপীq হার্ট জার্নালে বলা হচ্ছে, এটি একটি সহজ টিপস যা কি না জীবন বাঁচাতে পারে।

    গবেষণায় বলা হয়েছে, সকালের পরিবর্তে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ যদি রাতে ঘুমাতে যাবার আগে খাওয়া হয় তবে তা হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোক থেকে বেশি সুরক্ষা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আমাদের দেহঘড়ি এবং প্রাকৃতিক যে ২৪ ঘণ্টার ছন্দ, সেটি আমাদের ওষুধ গ্রহণের প্রতিক্রিয়ায় প্রভাব ফেলে। এ কারণে দেহঘড়ির সঙ্গে মানিয়ে নিয়মিত ওষুধ খাওয়া উচিত। দিনের কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ে হার্টের ওষুধসহ বেশ কিছু ওষুধ খেলে তা ভালো কাজ করে।

    সর্বশেষ ১৯ হাজার মানুষের ওপর উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ নিয়ে গবেষণা করা হয়। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খেলে তা কেমন প্রভাব ফেলে সেটি যাচাই করতে গিয়েই বিজ্ঞানীরা এই রহস্য উন্মোচন করেছেন। সেখানে তারা দেখতে পেয়েছেন রাতে ঘুমানোর আগে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ওষুধ খেলে সবচেয়ে বেশি কার্যকরী হয়।

    স্প্যানিশ ঐ গবেষণায় রোগীদের দুটি দলে ভাগ করা হয়। একদল ওষুধ গ্রহণ করত সকালে, অপর দল রাতে ঘুমানোর আগে। এই দুই দলের ওপর ওষুধের ভূমিকা কেমন ছিল তা পর্যবেক্ষণ করা হয়। মূলত ওষুধ গ্রহণের পরবর্তী পাঁচ মিনিটের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন গবেষকরা। এই পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, যারা রাতেরবেলা ঘুমানোর আগে ওষুধ খেয়েছে তাদের মৃত্যু বা হার্টঅ্যাটাকের ঝুঁকি অন্যদের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে।

    রাতেরবেলায় রক্তচাপ কমে যায়, কারণ তখন আমরা বিশ্রাম নেই বা ঘুমাই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি যদি না হয়, রক্তচাপ যদি সব সময়ই বেশি থাকে তবে হার্টঅ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। যেসব রোগী ঘুমাবার আগে হাইপারটেনশনের ওষুধ খাচ্ছেন তাদের রক্তচাপ দিনে ও রাতে উল্লেখযোগ্যহারে হ্রাস পায়। চিকিৎসকরাও রোগীদের ঘুমানোর আগে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। গবেষণার শীর্ষ গবেষক ভিগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর রেমন হার্মিদা বলেছেন, চিকিৎসকরা রোগীদের এসব কিছু বিবেচনা করেই ওষুধ গ্রহণে পরামর্শ দিতে পারেন। তিনি বলেন, এটি যেমন চিকিৎসার পেছনে বাড়তি ব্যয় হ্রাস করতে পারে সেই সঙ্গে বহু প্রাণও বাঁচাতে পারে।-বিবিসি