Category: লাইফস্টাইল

  • বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

    বায়ুদূষণে স্বাস্থ্যঝুঁকি

    সম্প্রতি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বায়ুদূষণ এক আলোচিত বিষয়। দিন দিন এই সমস্যা প্রকট হয়ে পড়ছে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভাবে। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে বায়ুমানের স্কেল অনুযায়ী ঢাকার বাতাসকে ‘ভেরি আনহেলদি’ বলে অভিহিত করা হচ্ছে। যা অত্যন্ত উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠার বিষয়।

    সাধারণত বায়ুদূষণ বলতে বোঝায় বাতাসের সঙ্গে বিভিন্ন ক্ষতিকর পদার্থের কণার অধিক অনুপাতে মিশ্রণ। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সে ৫০ এর কম থাকা মানে হলো বাতাসের মান ভালো। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহ যাবত্ ঢাকার বাতাসের একিউআই ১৭৫ থেকে ২৫০ এর মধ্যে অবস্থান করছে। মানবসৃষ্ট বিভিন্ন উত্স থেকে তৈরি হচ্ছে এই দূষিত বাতাস।

    আর শীত মৌসুমে বাতাসে আর্দ্রতা কম থাকায় এই সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে এই খারাপ মানের বাতাস সৃষ্টি করছে নানান স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তিদের অবস্থা খুবই খারাপ।

    দূষিত বায়ু শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে গ্রহণের ফলে বিভিন্ন অসুখ যেমন : অ্যালার্জি, হাঁপানি, নিউমোনিয়া, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, হূদেরাগ ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার বেড়ে যাচ্ছে। এছাড়া শরীরে বাসা বাঁধছে ক্যানসার নামক মরণব্যাধি। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যেতে নিষেধ করছেন বিশেষজ্ঞগণ। পাশাপাশি মাস্ক ব্যবহারে উত্সাহিত করা হচ্ছে বিভিন্ন বয়সি মানুষদের। এছাড়া বায়ুদূষণ রোধে যথাযথ কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ গ্রহণ এখন একান্ত জরুরি।

  • করোনা ভাইরাস: সচেতনতা ও করণীয়

    করোনা ভাইরাস: সচেতনতা ও করণীয়

    সম্প্রতি করোনা ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমিত একটি বহুল আলোচিত রোগ। এটি মানুষ ছাড়াও বিভিন্ন পশু, বিড়াল, উট ও বাদুড়ের মধ্যে দেখা যায়। সাধারণত প্রাণিদেহে সংক্রমিত করোনা ভাইরাসগুলি মানুষকে আক্রান্ত করে না। সম্প্রতি চীনের উহান নামক একটি শহরে প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, বর্তমানে শনাক্তকৃত বেশির ভাগ রোগী উহান শহরের একটি সামুদ্রিক খাবার ও পশুর বাজার থেকে আক্রান্ত হয়েছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী এখন পর্যন্ত এই রহস্যজনক ভাইরাস থেকে ২ হাজার ৭৪৪ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮১ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশই চীনের হুবেই প্রদেশের অন্তর্গত উল্লিখিত উহান শহরের কোনো না কোনোভাবে ভ্রমণ করেছিলেন, নয়তো সেখানকার বাসিন্দা। এছাড়া চীনে ভ্রমণজনিত কারণে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, আমেরিকা, ভিয়েতনাম, সিঙ্গাপুর, হংকং, মেকাউ, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ ১৩টি দেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

    যেভাবে করোনা ভাইরাস ছড়ায় : বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত হয়েছেন যে, এ ভাইরাসটি একজন মানুষের দেহ থেকে আরেকজন মানুষের দেহে দ্রুত ছড়াতে পারে। করোনা ভাইরাস মানুষের ফুসফুসে সংক্রমণ ঘটায় এবং শ্বাসতন্ত্রের মাধ্যমেই এটি একজনের দেহ থেকে আরেকজনের দেহে ছড়ায়।

    লক্ষণ সমূহ :১. জ্বর ও কাশি। ২. শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া। ৩. অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া। ৪. ভাইরাসটি শরীরে ঢোকার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় পাঁচ দিন লাগে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

    ভ্রমণসংক্রান্ত পরামর্শ : যেহেতু এটি সম্পূর্ণ নতুন একটি ভাইরাস এবং এর ভয়াবহতা ও বিস্তার সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে জানা এখনো সম্ভব হয় নাই, তাই ভ্রমণকালীন বিশেষ করে চীন থেকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ থেকে চীনে ভ্রমণকারীগণ সম্ভাব্য ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকার জন্য স্বাভাবিক শ্বাসতন্ত্রেও প্রতিরোধব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। অথবা কিছুদিনের জন্য বেশি জরুরি কিছু না হলে চীন ভ্রমণে বিরত থাকাই ভালো।

    ভাইরাস থেকে বাঁচতে যা যা করতে হবে : ১. আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে দুই হাত দূরে থাকতে হবে। ২. বারবার প্রয়োজনমতো সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলা, বিশেষ করে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে কিংবা সংক্রমণস্থলে ভ্রমণ করলে। ৩. জীবিত অথবা মৃত গৃহপালিত/বন্যপ্রাণী থেকে দূরে থাকা। ৪. ভ্রমণকারীগণ আক্রান্ত হলে কাশি শিষ্টাচার অনুশীলন করতে হবে (আক্রান্ত ব্যক্তি হতে দূরত্ব বজায় রাখা, হাঁচি-কাশির সময় মুখ ঢেকে রাখা, হাত ধোয়া, যেখানে-সেখানে কফ কাশি না ফেলা)।

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক গৃহীত ব্যবস্থাদি : ১. দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ ও বিমানবন্দরগুলোতে ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সতর্কতা ও রোগের সার্ভেল্যান্স জোরদার করা হয়েছে। ২. হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের বিভিন্ন প্রবেশপথগুলোতে নতুন করোনা ভাইরাস স্ক্রিনিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ দেশের সাতটি প্রবেশপথে ডিজিটাল থার্মাল স্ক্যানারের মাধ্যমে আক্রান্ত দেশ থেকে আগত রোগীদের স্পর্শ না করে জ্বর পর্যবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। ৩. বিমানবন্দর স্ক্রিনিং কার্যক্রম এই পর্যন্ত (২৭ জানুয়ারি, ২০২০) ২ হাজার ৪৭০ জনকে স্ক্রিনিং করা হয়েছে। ৪. নতুন ভাইরাস সম্পর্কে চিকিত্সক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। ৫. চিকিত্সা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ রোগ প্রতিরোধী পোশাক (PPE) মজুত রাখা হয়েছে। ৬. কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ড নভেল করোনা ভাইরাস রোগীদের জন্য রেফারেল হাসপাতাল হিসেবে নির্দিষ্ট রাখা। ৭. হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরসহ কোয়ারেন্টাইন ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা। ৮. বিমানের ভেতরের আক্রান্ত রোগীদের দ্রুত শনাক্তকরণের জন্য বিমানের ক্রুদের মাধ্যমে যাত্রীদের মধ্যে হেলথ ডিকলারেশন ফর্ম ও প্যাসেঞ্জার লোকেটের ফর্ম বিতরণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯. ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্য ভাইরাস প্রতিরোধসংক্রান্ত গাইডলাইন প্রস্তুত করা হয়েছে এবং দ্রুত যোগাযোগের জন্য আইইডিসিআরে মোট চারটি হটলাইন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। (হট লাইন নাম্বারসমূহ: +৮৮০১৯৩৭০০০০১১/ +৮৮০১৯৩৭১১০০১১/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৪/ +৮৮০১৯২৭৭১১৭৮৫) ১০. গণমাধ্যমকে এ বিষয়ে অবহিত করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের মাধ্যমে প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছে। ১১. সব জেলার সিভিল সার্জনদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার জন্য এবং চিকিত্সার লক্ষ্যে প্রয়োজনে পৃথক ওয়ার্ড/বেডের ব্যবস্থা করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

    চিকিত্সা এবং শনাক্তকরণের জন্য গৃহীত কার্যক্রম : ১. দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে আইসিইউতে কর্মরত চিকিত্সকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ২. ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ৩. আইইডিসিআর ল্যাবরেটরিতে এই ভাইরাস শনাক্তরকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৪. WHO এবং US CDC-এর সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে চিকিত্সা ও ল্যাবরেটরি শনাক্তকরণে সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ৫. আইইডিসিআর Corona Control Room খোলা হয়েছে। সার্বক্ষণিক সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম বিষয়টি সার্বক্ষণিক মনিটর করছে।

    অতীতের মার্স করোনা ভাইরাস (MERS—CoV) এবং সার্স করোনা ভাইরাস (SARS—CoV) থেকে বলা যায় সামনের দিনগুলোতে আরো মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। মানুষের ভৌগোলিক অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে যে কোনো সময়ে এই রোগ বাংলাদেশে প্রবেশ করার আশঙ্কা আছে। তাই এদেশে রোগটি যাতে আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেতে না পারে, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সতর্ক অবস্থায় থাকতে হবে।

  • সড়ক দুর্ঘটনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূরণীয়

    সড়ক দুর্ঘটনায় অর্থনৈতিক ক্ষতি অপূরণীয়

    সাধারণত ফুসফুস কতটা সুস্থ রয়েছে তা নির্ভর করে একটি নির্দিষ্ট সময়ের হিসেবে বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতার ওপর। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের বাতাস ধারণক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে একে সুস্থ রাখতে পারলেই অনেক রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এ কারণে ফুসফুসকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত ফুসফুসের যত্ন নেওয়া জরুরি।

    বয়স ৪০ পার হলেই এ বিষয়ে অধিক মনোযোগ দিতে হবে। আর যাদের বয়স এখনো ৪০ হয়নি তাদের উচিত আগে থেকেই ফুসফুসের যত্ন নেওয়া। ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য রয়েছে নানা রকম ব্যায়াম, বিশেষ করে কিছু কার্ডিও এক্সারসাইজ। সঙ্গে অবশ্যই শ্বাসের কিছু ব্যায়াম, নিজের ওঠাবসার প্রতি খেয়াল রাখা, ধূমপান ত্যাগ করা ফুসফুসের যত্নের জন্য জরুরি। ফুসফুসের অ্যালভিওলাই যত শক্তিশালী হবে ও ফুসফুসের পেশিগুলো যত মজবুত হবে, ততই তার বাতাস ধরে রাখার ক্ষমতা বাড়বে। কার্ডিও এক্সারসাইজ: সাইক্লিং, রোয়িং, ট্রেডমিল এই সব কার্ডিও এক্সারসাইজগুলো ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বাড়াতে খুব উপযোগী। তবে দীর্ঘ সময় ধরে একটানা অভ্যাস করা উচিত নয়, বরং মাঝে মাঝে কিছুটা বিরাম নিয়ে এই ধরনের ব্যায়াম রপ্ত করতে পারলে তা ফুসফুসকে মজবুত করে।

    শরীরের অন্যান্য রোগের ওপর নির্ভর করে এই ধরনের ব্যায়ামের সময়সীমা নির্ধারণ করেন চিকিত্সকরা। তাই এই ব্যায়ামগুলোর আগে ফিটনেস বিশেষজ্ঞ ও ট্রেনারের পরামর্শ প্রয়োজন। শরীরের গঠন অনুযায়ী নারীর তুলনায় পুরুষের ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বেশি হয়। কিন্তু দীর্ঘ অনিয়ম ও অযত্নে তা কমতে পারে। আবার একটু বেশি যত্ন নিলে নারীর ফুসফুসের ধারণক্ষমতা বাড়িয়ে তাকে সুস্থ রাখা যায়।

  • বিবিয়ানার বিজয়ের ফ্যাশনে ফ্ল্যাগ মডেল হলেন নাজমুন নাহার

    বিবিয়ানার বিজয়ের ফ্যাশনে ফ্ল্যাগ মডেল হলেন নাজমুন নাহার

    ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত ও লাল সবুজের পতাকা খচিত শাড়িতে এবারের মডেল হলেন সর্বাধিক রাষ্ট্র ভ্রমণকারী প্রথম বাংলাদেশি পতাকা কন্যা নাজমুন নাহার।

    নাজমুন নাহার বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পতাকা হাতে বিশ্ব শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। তারই চমৎকার এই থিমকে মাথায় রেখে বিবিয়ানার এবারের বিজয়ের আয়োজনে- অফ হোয়াইট রঙয়ের শাড়ির আঁচলের মধ্যে লাল সবুজের পতাকাকে ধারণ করেছেন।

    নাজমুন নাহার গত ১৯ বছর ধরে বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর ১৩৫টি দেশে অভিযাত্রা করছেন। ২০২১ সালের মধ্যেই তিনি অভিযাত্রা করবেন জাতিসংঘের অন্তর্ভুক্ত পৃথিবীর প্রতিটি দেশ। নাজমুন বিশ্ব ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষের শক্তির বিপ্লব ঘটাচ্ছেন। বাংলাদেশের পতাকা হাতে নিজের দেশকে সর্বোচ্চ উচ্চতায় তুলে ধরছেন। সকল বাধা বিঘ্ন অতিক্রম করে পাহাড়-পর্বত, সমুদ্র, মরুভূমি, জঙ্গল দুর্গম পথ পার হয়ে নারী-পুরুষের সমতার প্রতীক হয়ে প্রমাণ করছেন যে কোনও নারী চাইলেই তার ইচ্ছাকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন।

    নাজমুন নাহার নিজেকে মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের যোগ্যতায়, নিজের চেষ্টায় স্বপ্নকে প্রতিষ্ঠা করছেন পুরো পৃথিবী ভ্রমণের মাধ্যমে। সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছেন বাংলাদেশের পতাকা। বাংলাদেশের গৌরব।

  • রক্তে চর্বির আধিক্য এবং স্ট্রোক

    রক্তে চর্বির আধিক্য এবং স্ট্রোক

    আমাদের দেশের মানুষ তেমন স্বাস্থ্য সচেতন নয়। সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে দেখা দিচ্ছে নানা রোগ। এদের মধ্যে কিছু কিছু রোগ আমাদের সবার জন্য খুব বিপজ্জনক। এসব রোগে প্রাণহানিরও আশঙ্কা থাকে। স্ট্রোক তাদের মধ্য অন্যতম। আমাদের দেহের রক্তে অনেক সময় চর্বি বেড়ে যায়। রক্তে চর্বি বেড়ে গেলে তা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন কারণেই এরকম হতে পারে। তবে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে আছে অতিরিক্ত চর্বি গ্রহণ এবং ব্যায়াম না করা। কারণ যাই হোক রক্তে চর্বি বেশি থাকলে ধমনির গায়ে চর্বি জমা হতে থাকে। এর ফলে ধমনি সরু হতে থাকে। ধমনি সরু হলে রক্তের সঞ্চালন সীমিত হতে থাকে। কখনো কখনো রক্ত সঞ্চালন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই বন্ধ হওয়া যদি হার্টের করোনারি ধমনিতে হয় তখন দেখা দেয় হার্ট এটাক। হার্ট এটাক খুব বিপজ্জনক। এর ফলে বিভিন্ন জটিলতাসহ তাত্ক্ষণিক মৃত্যুও হতে পারে। আর যদি মস্তিষ্কের মধ্যে এই ঘটনা হয় তবে সেটা হয় স্ট্রোক।

    যেহেতু চর্বির আধিক্যের কারণেই বিভিন্ন জটিলতা ঘটে তাই চর্বির ব্যাপারে অবশ্যই সচেতন হতে হবে। চর্বি গ্রহণ কমাতে হবে। ফলমূল এবং শাকসবজি প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে। তেলে ভাজা খাবার কম খেতে হবে। বছরে অন্তত একবার রক্তের চর্বি পরিমাপ করতে হবে। এর জন্য লিপিড প্রোফাইল টেস্ট বলে একটি পরীক্ষা আছে। এই পরীক্ষা করাতে হবে। রক্তের বিভিন্ন ধরনের চর্বি থাকে। এর মধ্যে আছে কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, এলডিএল ও এইচডিএল। রক্তে এসবের নির্দিষ্ট মাত্রা আছে। প্রতি বছর পরীক্ষা করে দেখতে হবে এই মাত্রা স্বাভাবিক আছে কি না। এগুলোর আদর্শ মাত্রা হচ্ছে কোলেস্টেরল ২০০ মিলি গ্রামের কম, ট্রাইগ্লিসারাইড ১৫০ মিলি গ্রামের কম, এলডিএল ১০০ মিলি গ্রামের কম এবং এইচডিএল ৪০ মিলিগ্রামের বেশি। এই মাত্রার বেশি হলেই হূদেরাগ, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার ফ্যাটি লিভারসহ নানারকম রোগ দেখা দেয়।

  •  জগিং ও ব্যায়ামের উপকারিতা

     জগিং ও ব্যায়ামের উপকারিতা

    ভোরের চমৎকার আলো আর মুক্ত বাতাসে জগিং-এর জন্য আরামদায়ক। ঘুম ছেড়ে উঠে পড়া একটু কষ্টসাধ্য হলেও এর স্বাস্থ্যগুণ অনেক। ভোরের নির্মল বাতাসে হাঁটলে শরীরের সঙ্গে মন ও মস্তিষ্ক সতেজ হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক জগিং সম্পর্কে এ রকম কিছু তথ্য যা আপনাকে উদ্বুদ্ধ করবে নিয়মিত জগিং করতে।

    নিয়মিত জগিং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। হাড় ও মাংসপেশি শক্তিশালী করে, শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়, রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, ফুসফুসের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত ব্যায়ামে শরীরের এনডোরফিন নামক হরমোন নি:সরণ বাড়ায় যা শরীরের ব্যথা কমায়, মনকে সতেজ করে, মুখের রুচি বাড়ায় ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তাই বাতের সমস্যায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জগিং অনেক উপকারী।

    এছাড়া জগিং বিষণ্ণতা, স্নায়ুবিক দুর্বলতা কাটাতে সাহায্য করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বলে সৌন্দর্য বর্ধন ও দ্রুত বার্ধক্য রোধে জগিং অতুলনীয়। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির মতে, সপ্তাহে পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে জগিং করলে ফুসফুস, খাদ্যনালী, স্তন, প্রোস্টেট ক্যান্সারের ঝুঁকি হ্রাস পায়। তাই আর সময় নষ্ট না করে আজ থেকেই নিয়মিত জগিং করার অভ্যাস তৈরি করুন ও শরীর সুস্থ রাখুন।