Category: লাইফস্টাইল

  • ডায়েটের কিছু ভুল

    ডায়েটের কিছু ভুল

    অনেক সময় দেখা যায়, ডায়েট করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছেন না অনেকে। কারণ, ডায়েটের সময় আমরা এমন কিছু ভুল করি যেগুলোর জন্য মেদ কমাতো দূরের কথা, উল্টো আমাদের শরীরের ওজন বাড়ার সাথেসাথে অনেক ক্ষতিও হয়। ফলে পড়তে হয় নানারকম শারীরিক সমস্যায়।

    ডায়েটের ক্ষেত্রে আমরা হরহামেশাই যে ভুলগুলো আমরা করে থাকি-

    ১. কক্ষ তাপমাত্রার পানি খাওয়া
    আমরা পানি সাধারণত কক্ষ তাপমাত্রায় খেয়ে থাকি। তবে জার্মান একটি গবেষণা বলছে ৬ কাপ ঠাণ্ডা পানি খেলে আপনার ৫০ ক্যালরি পর্যন্ত ক্ষয় হতে পারে। এতে বছরে ৫ পাউন্ড ওজন কমতে পারে। ঠাণ্ডা পানি শরীর থেকে তাপমাত্রা গ্রহণ করায় ক্যালরি খরচ হয়।

    ২. পরিমাণমত না খাওয়া
    ওজন কমানোর জন্য আপনাকে কম ক্যালরি গ্রহণ করতে হবে কিন্তু খেয়াল রাখবেন তা যাতে বেশি কম না হয়ে যায়। শরীর তার পর্যাপ্ত ক্যালরি না পেলে শক্তির জন্য তা আপনার পেশিকলা ক্ষয় করে ক্যালরি সঞ্চয় করবে। তাই প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাবার গ্রহণের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। চেষ্টা করুন প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা পরপর অল্প অল্প করে খেতে। এটা আপনার একবারে বেশি খাওয়া থেকে রক্ষা করবে।

    ৩. চা বা কফি না খাওয়া
    চা এবং কফি আপনার কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে সতেজ রাখে যা আপনার মেটাবোলিজম ৫ থেকে ৮ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়, দিনে ৯৮ থেকে ১৭৪ ক্যালরি ক্ষয় করতে পারে। এক কাপ গরম চা মেটাবোলিজম বাড়াতে পারে ১২%।

    ৪. খাবারে প্রোটিন কম থাকা
    খাবারে যাতে পর্যাপ্ত প্রোটিন থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার পেশীকে সঠিক আকারে রাখতে প্রোটিন অপরিহার্য। গবেষকরা জানান, পর্যাপ্ত প্রোটিন আপনার ৩৫% পর্যন্ত ক্যালরি ক্ষয় করতে পারে।

    ৫. জীবাণুমুক্ত খাবার
    জীবাণুমুক্ত খাবারের অংশ হিসেবে অনেকেই হিমায়িত খাদ্য খেয়ে থাকেন। কিন্তু গবেষণা বলছে, তাজা খাবার আপনার ডায়েটের জন্য বেশি উপকারী। বিভিন্ন ফলমূল এবং শাকসবজি আপনি যত তাজা খাবেন তত আপনার ক্যালরি ক্ষয়ে সাহায্য করবে।

  • ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বোৎকৃষ্ট ফল পেয়ারা

    ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সর্বোৎকৃষ্ট ফল পেয়ারা

    পেয়ারা একটি অতিপরিচিত ও সহজপ্রাপ্য ফল। এর পাঁচটি উপকারী দিক যা আপনাকে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করবে।

    ১. হালকা সবুজ রঙের পেয়ারা মানবদেহের অভ্যন্তরেই চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে শরীর বাড়তি শর্করা গ্রহণে অনীহা তৈরি হয়।
    ২. ভিটামিন-সি এর উৎস বলতেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে কমলালেবু। আপনি শুনলে অবাক হবেন, একটি মাঝারি সাইজের পেয়ারায় যে পরিমাণ ভিটামিন-সি আছে তা পেতে হলে আপনাকে কমপক্ষে চারটি কমলালেবু খেতে হবে।

    ৩. মেদ বা ওজন কমাতে বেশি বেশি ফাইবারযুক্ত বা অধিক তন্তুযুক্ত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। আপনি নির্দ্বিধায় আপনার খাদ্য তালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন। প্রয়োজনে সালাদ হিসেবে খেতে পারেন পেয়ারা।

    ৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বেশি পরিমাণে পটাশিয়ামযুক্ত খাদ্য খেতে বলা হয়। তবে তালিকায় সোডিয়ামযুক্ত খাবার না রাখার পরামর্শ দিয়ে থাকেন পুষ্টিবিশারদরা। এদিক থেকে পেয়ারা সর্বোৎকৃষ্ট ফল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

    ৫. ১০০ গ্রাম পেয়ারায় মাত্র ৮ দশমিক ৯২ গ্রাম চিনি থাকে। তাই ওজন কমাতে চাইলে আপনি বিকেলের খাবারে ভাজাপোড়া বাদ দিয়ে যোগ করে ফেলুন দু’টি পেয়ারা। ভিন্নতা আনতে খেতে পারেন পেয়ারার জুস।

    পেয়ারা বাংলাদেশে খুবই পরিচিত একটি ফল। যেকোনো সুপারশপ অথবা কাঁচাবাজারে অল্প টাকায় কিনতে পাওয়া যায় ফলটি। ওজন কমাতে বা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সুষম খাদ্যতালিকায় পেয়ারা রাখতে পারেন।

    তবে একদম খালিপেটে পেয়ারা না খাওয়াই ভালো বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা

  • পুষ্টিগুণে কাঁকরোল

    পুষ্টিগুণে কাঁকরোল

    ছোট কাঁঠালের মতো দেখতে কাঁটা কাঁটা সবুজ রঙ্গের একটি সবজি কাঁকরোল। এতে প্রচুর ভিটামিন, মিনারেল, ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, লুটেইন, জেনান্থিন প্রভৃতি থাকে, যা আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঁকরোলে টমেটোর চেয়ে ৭০ গুণ বেশি লাইকোপিন থাকে, গাজরের চেয়ে ২০ গুণ বেশি বিটা ক্যারোটিন থাকে, কমলার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে এবং ভুট্টার চেয়ে ৪০ গুণ বেশি জিয়াজেন্থিন থাকে।
    চলুন জেনে নেই কাঁকরোলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে।

    ১. কোলেস্টেরলের মাত্রা কমায়
    যাদের কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি বা যাদের উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের রয়েছে তাদের নিশ্চিন্তে কাঁকরোল খেতে পারেন। এটি উচ্চমাত্রার কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।

    ২. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায়
    কাঁকরোলে চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ভিটামিন, বিটাক্যারোটিন ও অন্যান্য উপাদান থাকে, যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতিতে সাহায্য করার পাশাপাশি চোখের ছানি প্রতিরোধেও সাহায্য করে।

    ৩. ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
    সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁকরোলের পুষ্টি উপাদান ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে এবং ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিকে ধীর গতির করতে পারে। এতে নির্দিষ্ট একটি প্রোটিন থাকে, যা ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিকে প্রতিহত করতে পারে। এজন্যই কাঁকরোলকে ‘স্বর্গীয় ফল’ আখ্যা দেয়া হয়।

    ৪. তারুণ্য ধরে রাখে
    কোষের কার্যক্রমকে উদ্দীপিত করার মাধ্যমে এবং স্ট্রেস কমানোর মাধ্যমে বয়স বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ধীর গতির করতে সাহায্য করে কাঁকরোল। কোলাজেনের গঠনকে পুনর্নির্মাণের মাধ্যমে বয়সের ছাপ প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে এটি।

    ৫. অ্যানেমিয়া প্রতিহত করে
    কাঁকরোলে প্রচুর আয়রন থাকার পাশাপাশি ভিটামিন সি ও ফলিক এসিড ও থাকে। এ কারণে নিয়মিত এটি খেলে অ্যানেমিয়ার প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

    ৬. বিষণ্ণতা প্রতিহত করে
    কাঁকরোলে সেলেনিয়াম, মিনারেল এবং ভিটামিন থাকে, যা নার্ভাস সিস্টেমের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রাখে। তাই বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে কাঁকরোল।

    ৭. কার্ডিওভাস্কুলার ডিজিজ প্রতিরোধ করে
    যেহেতু কাঁকরোলে উচ্চমাত্রার অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে তাই এটি কার্ডিওভাস্কুলার রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। সক্রিয় জীবনযাপনের পাশাপাশি কাঁকরোল খাওয়া হৃদস্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী।

  • কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেতে পারেন যেসব খাবার

    কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে খেতে পারেন যেসব খাবার

    হৃদযন্ত্র (হার্ট) মানুষের শরীরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। এটি আমাদের সারা শরীরে রক্ত সরবরাহ করে থাকে। বাংলাদেশসহ বিশ্বে বর্তমানে যেসকল রোগে মানুষের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে হার্ট অ্যাটাক (হৃদরোগ)।

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ লোক হৃদরোগের কারণে মারা যায়। হৃদযন্ত্রের অসুখের আশঙ্কা বাড়ায় রক্তের ভেতরে ভাসমান তরল চর্বি কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড। তাই এসব চর্বি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সচেতন থাকা জরুরি।

    কোলেস্টেরলকে ‘ভালো’ আর ‘খারাপ’ দুভাগে ভাগও করেছেন চিকিৎসকরা। এমনিতে প্রতিদিনই মানুষের শরীরে কোলেস্টেরল তৈরি হয়। প্রতি গ্রাম কোলেস্টেরল তৈরিতে পুরো একটা দিন সময় নেয় যকৃত। তার ওপর প্রতি দিনের খাবার থেকেও অল্প পরিমাণ কোলেস্টেরল শরীরে প্রবেশ করে। তাই খাওয়া দাওয়া নিয়ন্ত্রণ করে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

    প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্টফুড, ধূমপান, অ্যালকোহল, শরীরচর্চায় অনীহা, মানসিক চাপ, ডায়াবেটিস, কিডনির অসুখ এসব কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড বাড়িয়ে দেয় অনেকটা।

    হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, লিভারের দিকে খেয়াল রাখলে এ সমস্যাকে অনেকটাই আয়ত্তে আনা যায়। শরীরচর্চা না করতে পারলেও অন্তত হাঁটাহাঁটি করুন প্রতিদিন। খারাপ কোলেস্টেরলকে কমিয়ে ফেললে এমনিই শরীরে ভালো কোলেস্টেরল তার ভূমিকা পালনে অনেকটা সক্রিয় হয়ে উঠবে।

    কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইড নিয়ন্ত্রণ করতে যেসব নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন-

    – খাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। চর্বি ও তেল জাতীয় খাবারের পরিমাণ কমিয়ে ফেলতে হবে। গরু বা খাসির মাংস খাওয়া বাদ দিতে পারলে সবচেয়ে ভালো, খেলেও মাসে এক-দুবারের বেশি নয়, দুই টুকরোই যথেষ্ট। অতিরিক্ত চর্বিওয়ালা মাছ এড়িয়ে চলতে হবে। কেক, পেস্ট্রি, পনির, বেশি পরিমাণ ঘি-মাখন, অতিরিক্ত ডিমের কুসুমও এড়িয়ে চলতে হবে।

    – উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার ও কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেটের ওপর জোর দিতে হবে। খাদ্য তালিকায় ছোলা, শাকসবজি, ওটস, ব্রাউন রাইস, মল্টিগ্রেন ব্রেডস রাখতে হবে।

    – ধূমপান ও মদ্যপান বন্ধ করে দিতে হবে। মানসিক দুশ্চিন্তা কমিয়ে মন ভালো রাখার অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

    – মাছের তেলে প্রচুর ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। তাই এই তেল শরীরের জন্য ভালো। খাদ্য তালিকায় সামুদ্রিক মাছ ও মাছের তেল রাখতে হবে।

    – শরীরচর্চা আবশ্যক। জিমে যাওয়ার বা ব্যায়ামের জন্য অনেকটা সময় না পেলেও অন্তত হাঁটাহাঁটিটা বজায় রাখতেই হবে। দিনে অন্তত ৩৫ মিনিট জোরে টানা হাঁটতে হবে। এছাড়া সাইক্লিং, সাঁতার, সিঁড়ি বেয়ে ওঠানামাও ভালো। এছাড়া ঘুম ও কায়িক শ্রম বাড়ানো প্রয়োজন। এক জায়গায় বসে কাজ হলে মাঝে মাঝেই উঠে হেঁটে আসা উচিত। ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এটিও একটি বিশেষ উপায়।

    – রান্নায় তেলের পরিমাণ কমাতে হবে। ডালডা একেবারেই চলবে না। অলিভ অয়েল, কর্ন অয়েল, সয়াবিন বা সানফ্লাওয়ার তেলে রান্না করা ভালো।

    – প্রতি ১২ সপ্তাহ একবার করে লিপিড প্রোফাইল পরীক্ষা করান

  • শিশুর মুখে চুমু হতে পারে প্রাণঘাতী!

    শিশুর মুখে চুমু হতে পারে প্রাণঘাতী!

    বাচ্চাদের দেখলে কে না আদর করতে চায়। শিশুদের কোলে নিয়ে বা জড়িয়ে ধরে চুমু দেওয়া আদরের সাধারণ বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু এই চুমুই শিশুর জন্য হয়ে উঠতে পারে প্রাণঘাতী। একটি চুমুতেই সংক্রমিত হতে পারে আদরের সন্তান। চিকিত্সকদের পাশাপাশি ভুক্তভোগী বাবা-মায়েরাও শিশুদের মুখে চুমু না দিতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে থাকেন।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির একটি শিশু জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েছিল। কিনসবার্গের আরিয়ান ডিগ্রিগোরিওর শিশুসন্তান অ্যান্টিনিও চুমুর কারণে আক্রান্ত হয়েছিল রেসপিরেটোরি সিনসিটিয়াল ভাইরাসে (আরএসভি)। আক্রান্ত হওয়ার পর শিশুটিকে বাঁচাতে একপ্রকার লড়াই করতে হয় তার পরিবারকে। এরপর অ্যান্টিনিওর মা আরিয়ানা নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে শিশুদের চুমুর বিষয়ে সতর্ক করেন। সাধারণত ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত কেউ শিশুদের চুমু খেলে এ আশঙ্কা তৈরি হয়। বড়োদের জন্য সামান্য ঠান্ডা জ্বর কোনো সমস্যার কারণ না হলেও এই ধরনের রোগে আক্রান্ত কেউ শিশুদের চুমু খেলে শিশুদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কার সৃষ্টি হয়।

    বছর দুই আগে যুক্তরাষ্ট্রে এমনই চুমুর কারণে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ দিন বয়সি একটি শিশুর। সেই সময়ে সেই ঘটনা বেশ আলোচিত হয়েছিল। সুস্থ-সবল হয়ে জন্ম নিলেও মাত্র ১৪ দিনের মাথায় মৃত্যু হয় শিশুটির। তার বয়স যখন মাত্র ১০ দিন, তখন এক বহিরাগত আদর করে তার গালে চুমু দিয়েছিল। সেই চুমুই তার শরীরে জীবাণুর বাসা হয়ে উঠেছিল। হার্পস সিমপ্লেক্স ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিল শিশুটি। আক্রান্ত শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কোমায় ছিল।

    ঐ সময় অবশ্য ডাক্তার বলেছিল, যদি সে এই যাত্রায় বেঁচেও যায়, তবে ভবিষ্যতে তার মস্তিষ্কের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হার্পস শিশুদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে প্রথমে তার ত্বকে ফোসকা দেখা দেয়। পরে এ ফোসকা ঘাতে রূপ নেয়। পরবর্তীতে এ ঘা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

    ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বলছে, এ রোগে আক্রান্ত প্রতি তিন জনে একজন শিশু মারা যায়, যতই তাদের চিকিত্সা করানো হোক না কেন। এটি তাদের মস্তিষ্ক, ফুসফুস, লিভার ও ত্বকে আক্রমণ করে মৃত্যুর কারণ হয়ে ওঠে। চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, হার্পস ভাইরাসটি ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারে। রক্তে মিশে গিয়ে মস্তিষ্কে চলে যেতে পারে। বাচ্চাদের মাঝে এজাতীয় কোনো চিহ্ন দেখামাত্রই দ্রুত বিশেষজ্ঞের কাছে নিতে হবে।

  • দাঁতের যত্নে কিছু পরামর্শ

    দাঁতের যত্নে কিছু পরামর্শ

    সুস্থ, সুন্দর দাঁতের রক্ষণাবেক্ষণ অনেক জরুরি। সুন্দর হাসি, পুষ্টিকর খাদ্য, হজমের জন্য সঠিক ভাবে চিবিয়ে খাওয়া এমনকি অন্যান্য রোগ যেমন—হৃদেরাগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি থেকে নিজেকে রক্ষা করা। তা ছাড়া দাঁতের ব্যথা, যন্ত্রণা ও অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত রাখা সুস্থ, সুন্দর দাঁত দীর্ঘদিন অখুন্ন রাখার জন্য বিশেষ কয়েকটি পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। যেমন—

    ১. শিশুর দাঁতের যত্ন : গবেষণায় দেখা যায় প্রতি চার জন শিশুর এক জনের দাঁতের ক্ষয় শুরু হয় শিশু বয়সে এবং ১২ থেকে ১৫ বছরের প্রায় ৫০ শতাংশ ছেলেমেয়েদের দাঁতের ক্যারিজ থাকে। শিশুর দাঁতের যত্ন শুরু করতে হবে যখন থেকে তাদের দাঁত ওঠা শুরু হয়, সাধারণত ছয় মাস বয়স থেকে। বিজ্ঞানরা বলেছেন, এই সময় শিশুর দুধ দাঁত একটি পরিষ্কার ফ্লানেমের কাপড় বা নরম টুথব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করে দিতে হবে। দুই বছর বয়স থেকে শিশুকে নিজ হাতে দাঁত ব্রাশ করার জন্য উত্সাহিত করতে হবে, তবে সেই সাথে নজরদারিও রাখতে হবে।

    ২. ফিসার সিলেন্ট : মলারের স্থায়ী দাঁত চলে আসে সাধারণত ছয় বছর বয়সে। এ বয়সে ফিসার সিলেন্ট ফিলিং দিয়ে ঐ মলার স্থায়ী দাঁত ভরে দিতে হবে। যাতে করে দন্তক্ষয় না হতে পারে। গবেষণায় দেখা যায় এ ফিলিং দাঁতের ক্ষয় অনেকাংশই প্রতিরোধ করে।

    ৩. ফ্লুরাইড ব্যবহার : মুখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সবচেয়ে বড় যে আবিষ্কার তা হলো ফ্লুরাইড। এই ফ্লুরাইড ব্যবহারে দাঁতের এনামেল মজবুত হয় এবং ডেন্টাল ক্যারিজ থেকে রক্ষা করে। যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে এখন বেশির ভাগ মানুষ ফ্লুরাইড যুক্ত খাবার পানি গ্রহণ করে। তাছাড়া ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহারে দাঁতের ক্ষয় রোগ কমাতে বিশেষ ভূমিকা রেখে চলছে। অতএব ফ্লুরাইড টুথপেস্ট ব্যবহার করুন।

    ৪. প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ, ডেন্টাল ফ্লস ব্যবহার : মানবজীবনে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগ দুটি প্রধান সমস্যা। এই সমস্যা শুধু বয়স্কদের নয়, তরুণদের মধ্যে তিন চতুর্থাংশই মাড়ির রোগে ভোগে এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশনের পরামর্শ অনুযায়ী।

    lপ্রতি বছর অতন্ত তিন-চারবার টুথব্রাশ পরিবর্তন করা প্রয়োজন, বিশেষত টুথব্রাশ ফাইবারগুলো যখন বাঁকা হয়ে যায়

    lযেসব মানুষ আঁকাবাঁকা দাঁতের জন্য ব্রেসেসস ব্যবহার করেন বা যাদের নকল দাঁত বা ইমপ্ল্যান্ট আছে তারা বিশেষভাবে তৈরি টুথব্রাশ ব্যবহার করবেন।

    lবৃদ্ধ মানুষ যাদের আথ্রাইটিজ আছে বা শারীরিকভাবে অসুস্থ তাদের জন্য ইলেকট্রনিক টুথব্রাশ ব্যবহার করা প্রয়োজন।

    ৫. মুখ কুলকুচি করা : দাঁত ব্রাশ এবং ফ্লাশিং ছাড়াও আরো একটি বিশেষ করণীয় হচ্ছে জীবাণুনাশক মাউথ ওয়াশ দিয়ে মুখ কুলকুচি করা তাতে দাঁতের ক্ষয় রোগ ও মাড়ির রোগ বেশির ভাগই প্রতিরোধ করা যায়। খাবার পর সুগার ফ্রি চুইংগাম ব্যবহারেও অনেক ক্ষেত্রে মুখের লালা প্রবাহ বড়িয়ে এনামেলকে ক্ষয় থেকে প্রতিরোধ করে এবং ব্যাকটেরিয়া মুক্ত করে এবং অ্যাসিডিটির মাত্রাকে সমতায় নিয়ে আসে।

    ৬. মুখের ওপর যে কোনো আঘাত থেকে রক্ষা করা : বিভিন্ন খেলাধুলা আমাদের দেহ গঠনে সাহায্য করে, তবে অনেক ক্ষেত্রে অসাবধানতার জন্য বা দুর্ঘটনার কারণে দাঁতে আঘাত লাগতে পারে ফলে দাঁত ভেঙে যেতে পারে অথবা সম্পূর্ণ উপড়ে যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে মডিথ গার্ড ব্যবহার করতে পারলে যে কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব।

    ৭. ধূমপান ও তামাক জর্দা ব্যবহার : ধূমপান ও তামাক জর্দা যে শুধু দাঁতের স্বাভাবিক সুন্দর রঙকে বিবর্ণ বা কালো করে তাই নয়, এই ধূমপান তামাক ব্যবহার মানুষের ক্যানসারও হতে পারে। অতএব

    সুস্থ দাঁত ও মুখের নিশ্চয়তার জন্য তামাক বর্জন করা জরুরি। এ ব্যপারে একজন ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিস্ট বা কাউন্সিলারের

    সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন।

    ৮. দাঁত ও মাড়ির সুস্থতার জন্য পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ : যে কোনো বয়সে সুসম খাদ্য গ্রহণ অপরিহার্য। বিজ্ঞানীরা মনে করেন—কোনো কোনো খাদ্যের মধ্যে ওমেগা ও ফ্যাট আছে যা দাঁত ও মাড়ির প্রদাহ প্রতিরোধ করে। তবে প্রতিদিন কিছু শাক-সবজি যেমন : লালশাক, পালংশাক, পুঁইশাক, গাজর, টম্যাটো, শসা, লেবু এবং ফলের মধ্যে কমলালেবু, জাম্বুরা, কামরাঙ্গা, আমড়া, পেয়ারা, কলা ইত্যাদি জাতীয় খাবার দাঁত ও মাড়িকে শক্ত রাখে।

    ৯. শরকরা ও মিষ্টিজাতীয় খাবার পরিহার করা : মুখের বিভিন্ন ধরনের ব্যাক্টেরিয়া মিষ্টি বা শরকরাজাতীয় খাবারের সাথে মিশে গিয়ে অ্যাসিড তৈরি করে, ফলে দাঁতের এনামেল তাড়াতাড়ি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। সুতারাং মিষ্টিজাতীয় খাদ্য গ্রহণের পর দাঁত ব্রাশ করা বা কুলিকুচি করা জরুরি। বিশেষ করে শিশুরা রাতে শোবার আগে ফিডারে যদি দুধ খায় এবং তাতে চিনিমিশ্রিত থাকে অথবা চকলেট খায় তবে দাঁত অবশ্যই ব্রাশ করে নেয়া প্রয়োজন।

    ১০. ডেন্টিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ : গবেষকরা মনে করেন—প্রতি ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেক আপ করানো গেলে দাঁতের রুটিন ডেন্টাল স্কেলিংয়ের মাধ্যমে প্লাক পরিষ্কার করা হলে দাঁতের ক্যারিজ ও মাড়ির রোগ অনেক প্রতিরোধ করা সম্ভব; যা কিনা ব্রাশ বা ডেন্টাল ফ্লসের মাধ্যমে সম্ভব নয়। তাছাড়া নিয়মিত ছয় মাস অন্তর ডেন্টাল চেক আপের ফলে আরো যেসব উপকার হয় তা হলো—

    lমুখের ভেতরে ক্যানসারের পূর্বাবস্থায় কোনো লক্ষণ দেখা দিলে তা নির্ণয় করে দ্রুত রোধ করা সম্ভব। প্রতি ১০টি মুখের ক্যানসারের মধ্যে ৯টিকে আগে থেকে চিহ্নিত করতে পারলে সুস্থ করা সম্ভব।

    lদাঁতের বিভিন্ন ক্ষয় যথা (এনামেল ক্ষয়) মাড়ির ক্ষয় রোধ করা সম্ভব।

    * মাড়ি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ মাড়ি থেকে রক্ত পড়া শনাক্ত করতে পারলে অতি সহজেই চিকিত্সা করে সুস্থ করা সম্ভব।

    lদেহের অনান্য রোগ যেমন—ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হূদরোগ তাদের ওষুধ গ্রহণের কারণে মুখে প্রভাব পড়তে পারে। যেমন শুষ্ক মুখ সেটাও আগে থেকে নির্ণয় করা গেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা দেওয়া সম্ভব।