Category: লাইফস্টাইল

  • সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী নয়, ভরসা রাখুন দেশি খাবারে

    সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী নয়, ভরসা রাখুন দেশি খাবারে

    লাইফস্টাইল ডেস্ক:    সুন্দর ত্বকের জন্য বাজারের প্রসাধনী ব্যবহার না করে ভরসা রাখতে পারেন দেশি কিছু খাবার ও নিয়মে পালনের মাধ্যমে। সে জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, যা ত্বকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

    ডিহাইড্রেশন হলে ত্বকের মসৃণতা কমে যায়। ফলে ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে ওঠে। এ ছাড়া পানি খাবার থেকে পুষ্টি উপাদান শরীরে সরবরাহ করতে সহায়তা করে। সেই সঙ্গে অনেক বিষাক্ত উপাদান শরীর থেকে দূর করে এবং আমাদের শরীরে রক্ত সরবরাহ সচল রাখতে সহায়তা করে থাকে।

    ত্বকের দাগছোপ বা খুঁত এড়াতে অনেকে নানান ধরনের প্রসাধনীতে ভরসা রাখেন। এই ব্যস্ত জীবনে এটা-ওটা ত্বকে ব্যবহারেরই-বা সময় কোথায়। তবে রাসায়নিক উপাদানে ভরা এসব প্রসাধনী ব্যবহারে সাময়িক সুবিধা পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদি ফল পাওয়া প্রায় অসম্ভব। পাশাপাশি থাকতে পারে এগুলোর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি। যদি বাহ্যিক যত্নে সময় ব্যয় করতে না পারেন, তাহলে চেষ্টা করুন ত্বক যেন ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা ছড়ায়, সে ব্যবস্থা নেওয়ার। এ জন্য প্রয়োজন সঠিক খাবার। সুতরাং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রাখুন, যেসব ত্বক ভালো ও জেল্লাদার রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।

    চলুন জেনে নেওয়া যাক, প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কোন খাবার খেলে ত্বক ভালো থাকে—

    শসা

    শসা বলতে গেলে ৯৫ শতাংশের বেশি পানি রয়েছে। আর সত্বকের আর্দ্রতা অটুট রাখার জন্য প্রতিদিন শসার সালাদ কিংবা জুস খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। শসায় অনেক জৈব সক্রিয় যৌগ রয়েছে, যেগুলোর মধ্যে রয়েছে কিউকারবিটাসিন, ভিটেক্সিন, ওরিয়েন্টিন এবং এপিজেনিন, যা ত্বক আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে।

    লেবু

    ত্বক উজ্জ্বল করার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে লেবু। আর সালাদ, ডাল বা যে কোনো সবজির ওপর লেবুর রস দিয়ে খেতে পারেন। যাদের ত্বকে ব্রণ রয়েছে, তারা নিয়মিত সকালে লেবু-মধুর পানি পান করলে উপকার পাবেন।

    কাঁচাহলুদ

    ত্বকের ব্রণ ও দাগ দূর করে একে সুন্দর এবং উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে হলুদ। আবার প্রতিদিনের রান্নায় হলুদ ব্যবহার তো করেনই, চাইলে রোজ এক টুকরো কাঁচাহলুদ চিবিয়ে খেতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে দুধে অল্প কাঁচাহলুদের রস মিশিয়ে পান করলেও উপকার পাওয়া যায়।

    গ্রিন টি

    গ্রিন টি নিয়মিত পানে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল থাকে। চা পানের পর এর পরিত্যক্ত পাতা ঠান্ডা করে চোখের নিচের অংশে লাগাতে পারেন। এটি ত্বকের ফোলা ভাব ও কালো দাগ কমাতে পারে।

    পেঁপে

    পেঁপেতে পানির পরিমাণ বেশি। এতে ভিটামিন এ, সি, ফোলেট, ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম ভরপুর থাকে। নিস্তেজ ত্বক প্রাণবন্ত করতে এবং ত্বকের আর্দ্র ভাব বজায় রাখতেও নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন।

    বিভিন্ন ধরনের বাদাম ও বীজ

    আপনি বাদামের মধ্যে কাঠবাদাম, চীনাবাদাম ও কাজুবাদাম রান্না কিংবা সালাদ ছাড়াও হালকা নাশতা হিসেবে খেতে পারেন। এ ছাড়া বিভিন্ন ধরনের বীজ; যেমন চিয়া সিড, তিসি, কুমড়ার বীজ খাদ্যতালিকায় রাখলে ত্বক সুন্দর হয়। এগুলোতে রয়েছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও ভিটামিন ‘ই’। প্রতিদিনকার দূষণ ও ধুলোবালি থেকে যেসব ক্ষতি হয়, সেগুলোর মধ্যে ত্বকের অনুজ্জ্বল ভাব অন্যতম। ভিটামিন ‘ই’ এই ক্ষতি থেকে ত্বক রক্ষা করে।

    পালংশাক

    ভিটামিন ‘সি’সমৃদ্ধ পালংশাক, ত্বকের যত্নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ত্বকের প্রতিটি কোষে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। আর সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক সুরক্ষিত রাখে পালংশাক।

    ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার

    ত্বক জীবাণু ও ক্ষতিকর রাসায়নিকের হাত থেকে বাঁচায় ভিটামিন ‘ডি’। এর পাশাপাশি ত্বকের আর্দ্রতা রক্ষা করতেও এর ভূমিকা রয়েছে। প্রতিদিন তালিকায় কোনো না কোনো ভিটামিন ‘ডি’ সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। ভিটামিন ‘ডি’র অভাব পূরণে খেতে পারেন মাখন ও চিজের মতো দুগ্ধজাত খাবার। এ ছাড়া পাতে রাখুন মাছ, ডিম ও মাছের লিভারের তেল।

    ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল

    ভিটামিন ‘সি’ সমৃদ্ধ ফল ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য ভীষণ উপকারী। এসব ফল যেমন— কমলা, আপেল, তরমুজ ও স্ট্রবেরি শরীর আর্দ্র রাখতে সহায়তা করে। আর সেই সঙ্গে ত্বক কোমল ও সতেজ রাখতেও সাহায্য করে। এ ধরনের ফলের মধ্যে রয়েছে আঁশ ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা ক্ষতির হাত থেকে ত্বক রক্ষা করে। ত্বকের উজ্জ্বলতা ধরে রাখতে চাইলে এই ফলগুলো প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় যোগ করুন।

  • সুস্থতার জন্য হাঁটা: সপ্তাহে কত দিন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

    সুস্থতার জন্য হাঁটা: সপ্তাহে কত দিন ও কতক্ষণ হাঁটবেন?

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: সকালের বাতাসে বা পড়ন্ত বিকেলে কিছুক্ষণ হেঁটে নেওয়া মন ভালো করার পাশাপাশি শরীরের নানান উপকারে আসে। যারা ওজন কমাতে চান, তাদের প্রথম শরীরচর্চা হিসেবে চিকিৎসকরা তাই হাঁটতে পরামর্শ দেন। নিয়মিত হাঁটা হৃদযন্ত্র থেকে শুরু করে মানসিক স্বাস্থ্য-সব কিছুর জন্যই এক ধরনের প্রাকৃতিক ওষুধ। তবে অনেকের প্রশ্ন-প্রতিদিনই কি হাঁটতে হবে? সপ্তাহে ঠিক কতদিন হাঁটলে সবচেয়ে বেশি উপকার পাওয়া যায়? চলুন জেনে নেওয়া যা কীভাবে হাঁটার পরিকল্পনা করলে এর সর্বোচ্চ উপকার উপভোগ করতে পারবেন-

    ১. পাঁচ দিনের নিয়ম

    বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন সুপারিশ করেছে, প্রতি সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মানের শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে। অর্থাৎ সপ্তাহে পাঁচ দিন, প্রতিদিন আধা ঘণ্টা দ্রুত হাঁটা। এ নিয়ম মেনে চললে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে, শরীর থাকে হালকা আর মন থাকে প্রফুল্ল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাঁটা হলো এক ধরনের ‘প্রিভেন্টিভ মেডিসিন’, যা নানা রোগকে দূরে রাখে।

    ২. এক-দুই দিনও ফল দেয়

    এমন নয় যে, সপ্তাহে পাঁচ দিন হাঁটতে না পারলে আর কোনো লাভ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ক্যানসার ইনস্টিটিউট, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং এবং জাপানের কিয়োটো ইউনিভার্সিটির ২০২৩ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে মাত্র এক-দুই দিন যদি প্রায় আট হাজার পদক্ষেপ হাঁটা যায়, তবুও হৃদরোগের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে। যারা ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন সময় বের করতে পারেন না, তারাও সপ্তাহান্তে দীর্ঘ সময় হাঁটলে শরীর উপকার পায়।

    ৩. বয়সের ছাপ মুছে দেয়

    হাঁটার রয়েছে অ্যান্টি-এজিং বা বার্ধক্য ঠেকানোর এক বিশেষ ক্ষমতা। নিয়মিত হাঁটলে ডায়াবেটিস, ক্যানসার ও বয়সজনিত অন্যান্য রোগের ঝুঁকি কমে যায়। শুধু তাই নয়, হাঁটা মস্তিষ্ককে চাঙা রাখে, স্মৃতিশক্তি বাড়ায় এবং মানসিক চাপ কমায়।

    যেভাবে শুরু করবেন

    হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো-এটি শুরু করতে কোনো বিশেষ প্রস্তুতি লাগে না। দামি জুতা বা জিম মেম্বারশিপের দরকার নেই। সকালে বা সন্ধ্যায় ৩০ মিনিট সময় বের করুন। না পারলে অন্তত সপ্তাহে এক-দুদিন হলেও লম্বা সময় হাঁটুন। চাইলে বন্ধু বা পরিবারের কাউকে সঙ্গে নিতে পারেন-তাহলেই হাঁটার সময়টা হয়ে উঠবে আরও আনন্দময়। হাঁটা এমন এক অভ্যাস, যা শরীরকে রাখে ফিট আর মনকে রাখে হাসিখুশি। সপ্তাহে পাঁচ দিন নিয়ম মেনে হাঁটুন, না পারলে অন্তত এক-দুদিন দীর্ঘ হাঁটা চালিয়ে যান।

  • তীব্র গরম থেকে এসেই গোসল করা থেকে বিরত থাকুন

    তীব্র গরম থেকে এসেই গোসল করা থেকে বিরত থাকুন

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: গরমের দিনে বাইরে বের হওয়া মানেই ঘামে ভেজা শরীর নিয়ে ঘরে ফেরা। প্রচণ্ড রোদে হাঁটা বা বাসের ভিড় ঠেলে বাড়ি ফেরা শেষে অনেকেই সোজা বাথরুমে ঢ়ুকে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করে ফেলেন। মুহূর্তের মধ্যে সতেজ লাগলেও, এভাবে হঠাৎ গরম থেকে ঠান্ডা পানির সংস্পর্শে আসা শরীরের জন্য নিরাপদ নয়। বরং এই অভ্যাস ডেকে আনতে পারে বিপদ।

    ১. শরীরে হঠাৎ ধাক্কা

    গরম থেকে আসা অবস্থায় শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা বেড়ে থাকে। এই সময় সরাসরি ঠান্ডা পানির গোসল করলে শরীর এক ধরনের ‘থার্মাল শক’ বা তাপমাত্রার ধাক্কার সামনে পড়ে। হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের তথ্য অনুযায়ী, এভাবে হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনে রক্তনালীগুলো দ্রুত সঙ্কুচিত হয়। ফলে রক্তচাপ বেড়ে গিয়ে মাথা ঘোরা বা বুকে চাপ অনুভব হতে পারে।

    ২. হার্টের ঝুঁকি বাড়ায়

    আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন বলছে, যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা বা উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ধরনের আচমকা গোসল হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। শরীর তীব্র গরমে থাকার পর ঠান্ডা পানির ধাক্কা হার্টকে অতিরিক্ত চাপের মুখে ফেলে।

    ৩. মাংসপেশির খিঁচুনি

    অনেকেই লক্ষ্য করেন, গরম থেকে এসে হঠাৎ গোসল করলে শরীরে কাঁপুনি শুরু হয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মাংসপেশির প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া বলা হয়।

    ৪. মাথাব্যথা ও ক্লান্তি

    অনেকে বলেন, গরমে ঘামতে ঘামতে বাড়ি এসে গোসল করার পর হালকা মাথাব্যথা বা ক্লান্তি লাগে। এর কারণ হলো শরীর অতিরিক্ত তাপ হারাতে গিয়ে রক্তসঞ্চালনে সাময়িক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে।

    তাহলে কী করবেন?

    >> বাইরে থেকে এসে গোসল করার আগে শরীরকে কিছুটা সময় দিন।

    >> ঘরে এসে প্রথমে ফ্যানের নিচে বসুন বা পানি পান করুন।

    >> শরীর যখন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসতে শুরু করবে, তখন গোসল করতে পারেন।

    >> সরাসরি বরফঠান্ডা পানি নয়, ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করলে ঝুঁকি কমে যায়।

    গরম থেকে ফিরে ঠান্ডা পানির গোসল শরীরকে তাৎক্ষণিক আরাম দিলেও, এর ভেতরে লুকিয়ে থাকে নানা শারীরিক ঝুঁকি। তাই একটু ধৈর্য ধরে শরীর ঠান্ডা করে নিয়ে তারপর গোসল করা স্বাস্থ্যসম্মত।

  • চিয়া সিডের সঙ্গে এই খাবারগুলো খাওয়া হতে বিরত থাকুন

    চিয়া সিডের সঙ্গে এই খাবারগুলো খাওয়া হতে বিরত থাকুন

    অনলাইন ডেস্ক:    চিয়া সিড তার অনন্য পুষ্টিগুণের জন্য পরিচিত। যেহেতু এটি আমাদের খাদ্যতালিকায় প্রাধান্য পাচ্ছে, তাই কীভাবে খেলে স্বাস্থ্যের জন্য বেশি উপকারী হবে তা জানাও গুরুত্বপূর্ণ। সব ধরনের খাবার চিয়া সিডের সঙ্গে ভালোভাবে মেশে না। কিছু সংমিশ্রণ হজম এবং পুষ্টির শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক কোন খাবারগুলো চিয়া সিডের সঙ্গে মিশিয়ে খাবেন না-

    ১. মিল্কশেক এবং ফুল ফ্যাট ডেইরি প্রোডাক্ট

    চিয়া সিড তরল পদার্থের সঙ্গে মিশ্রিত হলে প্রসারিত হয় এবং জেলের মতো ঘনত্ব তৈরি করে। যদি আপনার অন্ত্র সংবেদনশীল হয়, তাহলে ফুল ফ্যাট ডেইরি প্রোডাক্টের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে পেট ফাঁপা হতে পারে। ২০১৩ সালের একটি গবেষণাপত্রে তুলে ধরা হয়েছে যে, উচ্চ-চর্বিযুক্ত খাবার হজমকে ধীর করে দেয়, যার ফলে শরীরের জন্য চিয়া সিডের ফাইবার প্রক্রিয়া করা কঠিন হয়ে পড়ে। পাচনতন্ত্রকে সুচারুভাবে কাজ করতে সাহায্য করার জন্য চিয়া সিড এবং ফুল ফ্যাট ডেইরি প্রোডাক্ট আলাদাভাবে খাওয়া ভাল।

    ২. ডুবো তেলে ভাজা খাবার

    পাকোড়া, সমুচা বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই চিয়া সিডের সঙ্গে খাবেন না। ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুসারে, চিয়া সিড হজমশক্তি বাড়ায়, ভাজা খাবার তা ধীর করে দিতে পারে। এই মিশ্রণটি অস্বস্তি, অ্যাসিডিটি বা বদহজমের কারণ হতে পারে। ফলের মতো হালকা খাবারের চিয়া সিডের মিশ্রণ স্বাস্থ্যকর হজমশক্তি বাড়ায় এবং এর পুষ্টিগুণ সর্বাধিক করে তোলে।

    ৩. সাদা ভাত

    চিয়া সিড ফাইবার সমৃদ্ধ, অন্যদিকে সাদা ভাত মূলত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট এবং খুব কম ফাইবারযুক্ত। এগুলো একসাথে খেলে হজমে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ পাবলিক হেলথ কর্তৃক প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চিয়া সিড হজমশক্তি কমিয়ে দিলেও সাদা ভাত দ্রুত হজম হয়, যা সিস্টেমকে বিভ্রান্ত করে। এই মিশ্রণটি বেশি পরিমাণে খেলে পেট ফাঁপা বা পেট খারাপ হতে পারে।

    ৪. কলা

    কলা একটি স্বাস্থ্যকর খাবার, তবে চিয়া সিডের সঙ্গে অতিরিক্ত মিশিয়ে খেলে তা ক্ষতিকারক হতে পারে। ২০২১ সালের একটি গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে যে, কলা দ্রবণীয় ফাইবার সমৃদ্ধ, চিয়া বীজেও দ্রবণীয় ফাইবার প্রচুর পরিমাণে থাকে। এই দুই খাবার একসঙ্গে খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে, যার ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ভারী ভাব দেখা দিতে পারে। মাঝে মাঝে কলা-চিয়া স্মুদি খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু যদি আপনার অন্ত্র সংবেদনশীল হলে প্রতিদিন খাওয়া এড়িয়ে চলুন।

    ৫. অতিরিক্ত চিনি

    হালুয়া, কেক বা মিষ্টি স্মুদির মতো চিনিযুক্ত মিষ্টিতে চিয়া সিড যোগ করলে এর উপকারিতা কমে যায়। অতিরিক্ত চিনি হঠাৎ করে রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং চিয়া সিডে থাকা ফাইবার এই প্রভাবের সঙ্গে সংঘর্ষ করতে পারে। যাদের অন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের জন্য এই মিশ্রণটি অস্বস্তিকর হতে পারে।

  • কেন নিয়মিত বদলাবেন বিছানার চাদর-বালিশের কভার

    কেন নিয়মিত বদলাবেন বিছানার চাদর-বালিশের কভার

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: বেশিরভাগ মানুষ প্রতিদিনের এক–তৃতীয়াংশ সময় কাটান বিছানায়। এই দীর্ঘ সময়ের সংস্পর্শে আমাদের বালিশ ও চাদর হয়ে ওঠে নানা জীবাণুর আখড়া।

    দিন শেষে নরম বালিশে মাথা রাখা আর কম্বলে জড়িয়ে ঘুমানোর অনুভূতি দারুণ। কিন্তু বিছানার ভেতরে লুকিয়ে থাকে অগণিত ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস, ভাইরাস ও ধূলিকণা মাইট। ঘামের আর্দ্রতা, লালা, মৃত ত্বক আর খাবারের কণা তাদের জন্য স্বর্গরাজ্য।

    ধূলিকণা মাইটের দাপট:
    আমরা প্রতিদিন গড়ে ৫০ কোটি মৃত ত্বক কোষ ঝরাই। এগুলো ধূলিকণা মাইটের কাছে যেন বিশাল ভোজসভা। যা থেকে অ্যালার্জি, হাঁপানি ও একজিমার মতো রোগ হতে পারে।

    ব্যাকটেরিয়ার আস্তানা:
    গবেষণায় দেখা গেছে, অপরিষ্কার চাদরে জন্ম নেয় স্ট্যাফিলোকক্কাস ব্যাকটেরিয়া। সাধারণত ক্ষতিকর না হলেও কিছু প্রজাতি ত্বকের সংক্রমণ, ব্রণ, নিউমোনিয়ার কারণ হয়। বিশেষ করে দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের জন্য তা ভয়ংকর।

    নাইজেরিয়ার একটি গবেষণায় অপরিষ্কার হাসপাতালের চাদরে পাওয়া গেছে ই. কোলাইসহ নানা রোগজীবাণু। এগুলো মূত্রনালি সংক্রমণ, ডায়রিয়া, মেনিনজাইটিস এমনকি সেপসিসের কারণ হতে পারে।

    ২০২২ সালে মাঙ্কিপক্স আক্রান্ত রোগীর ঘর থেকে নমুনা সংগ্রহে দেখা যায়, বিছানার চাদর পরিবর্তনের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ভাইরাস কণা। যুক্তরাজ্যে এক স্বাস্থ্যকর্মী এভাবে সংক্রমিত হয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়।

    বালিশে ফাঙ্গাসের বাস:
    ২০০৬ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যবহৃত পুরনো বালিশে থাকে কোটি কোটি ফাঙ্গাস। বিশেষ করে অ্যাসপারজিলাস ফুমিগাটাস প্রজাতি, যা সাধারণত মাটিতে পাওয়া যায়।

    ঘুমের সময় মাথা থেকে ঘাম ঝরে, ধূলিকণা মাইটের মল ফাঙ্গাসের খাদ্য সরবরাহ করে। বালিশে তাপ ও আর্দ্রতা থাকায় ফাঙ্গাস সহজেই বেড়ে ওঠে। ফলে বালিশে জমে থাকে বিলিয়ন ফাঙ্গাস কণা।

    যদিও সুস্থ মানুষ এগুলো সহ্য করতে পারে, তবে হাঁপানি, সাইনোসাইটিস বা দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন মানুষের জন্য তা মারাত্মক। গুরুতর ক্ষেত্রে ফুসফুস নষ্ট করে ফেলতে পারে এ ধরনের সংক্রমণ।

    কত ঘন ঘন ধোয়া উচিত?:
    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি সপ্তাহে চাদর ধোয়া উচিত। উচ্চ তাপে ধোয়া ও ইস্ত্রি করলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ আরও কমে।

    তবে বালিশের ক্ষেত্রে ধোয়া খুব একটা কার্যকর নয়। ফাঙ্গাস অনেক সময় ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপেও বেঁচে থাকে। তাই হাঁপানি বা শ্বাসকষ্ট আছে এমন রোগীদের প্রতি ৩–৬ মাস অন্তর বালিশ বদলানো জরুরি। আর সুস্থ মানুষের জন্য প্রতি দুই বছর পর নতুন বালিশ নেওয়া উত্তম।

    আরও কিছু পরামর্শ:
    শিশু বিছানায় প্রস্রাব করলে অবশ্যই চাদর দ্রুত ধোয়া প্রয়োজন। পোষা প্রাণী নিয়ে ঘুমালেও জীবাণুর ঝুঁকি বাড়ে। তাই ঘন ঘন পরিবর্তন করা উচিত চাদর বা বালিশ। অনেকে বিছানায় বসে খাওয়া-দাওয়া করেন। সেটাও পরিহার করা উচিত।

    (বিবিসি’র ফিচার অবলম্বনে)

  • এই গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন

    এই গরমে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি এড়াতে যা করবেন

    লাইফস্টাইল ডেস্ক: ঢাকার দুপুর মানেই ভ্যাপসা গরম আর আর্দ্রতার চাপা যন্ত্রণা। মাথার ওপরে সূর্যের খরতাপ, গলিতে বাতাস নেই বললেই চলে, চারপাশ ঘোলাটে হয়ে ওঠে উত্তাপে। এমন দিনে বাইরে বের হওয়া যেন প্রতিদিনের এক যুদ্ধ। অফিসযাত্রী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী মানুষ, কেউই রেহাই পান না এই গরমের দাপট থেকে। আর এই ভ্যাপসা গরম শুধু অস্বস্তি নয়, বরং শরীরের জন্য এক মারাত্মক ঝুঁকি। পানিশূন্যতা, হিট এক্সেশন কিংবা প্রাণঘাতী হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যা যে কারও হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ও অসুস্থ মানুষের জন্য এই সময়টা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকেরা বলছেন, গরমে শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঘাম ঝরায়। কিন্তু বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা বেশি হলে সেই ঘাম দ্রুত শুকায় না, ফলে শরীর ঠাণ্ডা হতে পারে না। এতে তাপ জমে শরীর ভেতর থেকে দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলেই দেখা দেয় হিট হিট এক্সেশনের লক্ষণ, অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, পেশিতে খিঁচুনি এবং দ্রুত শ্বাসপ্রশ্বাস। আর যদি তা দ্রুত সামলানো না যায়, তবে তা পরিণত হয় প্রাণঘাতী হিট স্ট্রোকে। এ সময় শরীরের তাপমাত্রা এত দ্রুত বাড়ে যে মস্তিষ্ক, কিডনি, লিভারসহ একে একে অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। বিভ্রান্তি, অজ্ঞান হয়ে পড়া, অস্বাভাবিক আচরণ কিংবা ত্বক শুকনো ও গরম হয়ে যাওয়া হলো হিট স্ট্রোকের প্রধান লক্ষণ। তাহলে কীভাবে রক্ষা পাওয়া যায়? বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় প্রতিরোধই সবচেয়ে বড় ওষুধ। এভারকেয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট (ইন্টারনাল মেডিসিন) ডা. নিখাত শাহলা আফসার গরমে সুস্থ থাকার বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি বলেন-

    ১. সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন।

    ২. তৃষ্ণা না পেলেও বারবার পানি পান করুন। যারা চিকিৎসকের পরামর্শে পানির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তারা নির্দেশ অনুযায়ী পানি পান করবেন।

    ৩. হালকা, ঢিলেঢালা, সুতি ও হালকা রঙের পোশাক পরুন। বাইরে গেলে সানগ্লাস, সানস্ক্রিন, ছাতা বা টুপি এবং আরামদায়ক জুতা ব্যবহার করুন।

    ৪. প্রচণ্ড গরমে ভারী কাজ বা ব্যায়াম করা থেকে বিরত থাকুন।

    ৫. বাইরে যাওয়া অনিবার্য হলে ছায়ায় থাকুন এবং সঙ্গে পানি রাখুন।

    ৬. অ্যালকোহল, চা, কফি এবং কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস এড়িয়ে চলুন।

    ৭. অতিরিক্ত প্রোটিনযুক্ত খাবার এবং বাসি খাবার এড়িয়ে চলুন।

    ৮. ঠাণ্ডা পানিতে গোসল করুন বা পা ভিজিয়ে রাখুন।

    ৯. শিশু বা পোষা প্রাণীকে কখনোই গরম গাড়িতে রেখে যাবেন না।

    ১০. অসুস্থ বোধ করলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।

    যদি হিট এক্সশনের উপসর্গ দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ছায়াযুক্ত স্থানে নিয়ে যেতে হবে। অপ্রয়োজনীয় পোশাক খুলে দিয়ে ঠাণ্ডা পানি বা রিহাইড্রেশন ড্রিঙ্ক খাওয়াতে হবে। ভিজে কাপড় দিয়ে শরীর মুছে দেওয়া বা বরফপ্যাক ব্যবহার করাও কার্যকর। কিন্তু অবস্থা খারাপ হলে, বিশেষ করে হিট স্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে, সময় নষ্ট না করে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়াই জরুরি। কারণ হিট স্ট্রোক একবার শুরু হলে তা সামলানো কঠিন, আর দেরি মানেই মারাত্মক ঝুঁকি। শিশু ও গর্ভবতী নারীদের জন্য এই গরমের ঝুঁকি আরও বেশি। সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ইউনিসেফের সহযোগিতায় শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের সুরক্ষায় জাতীয় নির্দেশিকা চালু করেছে। সেখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চার ধাপের সচেতনতায়। এগুলো হলো ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা, লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ সঙ্গে সঙ্গে নেওয়া এবং গুরুতর হলে চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া। এর মাধ্যমে শুধু শিশু বা মা নয়, পরিবারের সবাইকেই সুরক্ষার আওতায় আনা সম্ভব। এছাড়া গরমের দিনে কিছু বাড়তি সতর্কতাও জরুরি। যেমন রান্নাঘরের ভেতরের তাপমাত্রা অনেক সময় ঘরের অন্য কক্ষের চেয়ে বেশি থাকে, তাই রান্নার সময়ও শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারে। আবার শিশু বা পোষা প্রাণীকে কখনোই গরম গাড়ির ভেতরে রেখে যাওয়া উচিত নয়। ভ্যাপসা গরমকে আমরা থামাতে পারি না, কিন্তু একটু সচেতন হলেই এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে নিজেদের ও প্রিয়জনকে রক্ষা করা সম্ভব। তৃষ্ণা মেটানো, হালকা পোশাক, সঠিক সময়ে বাইরে যাওয়া আর প্রয়োজনে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হ‌ওয়া এই কয়েকটি নিয়ম মেনে চললেই, ভ্যাপসা গরমের দিনগুলো অনেকটা স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।