Category: লাইফস্টাইল

  • এক গ্লাস দুধ কমাবে ওজন

    এক গ্লাস দুধ কমাবে ওজন

    যদি প্রশ্ন করা হয়, দুধ খেলে কী হয়? ছোট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক পর্যন্ত সবাই বলবেন, দুধ শরীরের রোগ প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়, হাড় মজবুত করে, ত্বকের পুষ্টি ও ভালো ঘুমের সহায়ক হিসেবেও কাজ করে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না নিয়মিত এক গ্লাস দুধ খেলে ওজন কমে। এমনকি স্বাভাবিক পদ্ধতিতে ওজন কমাতে দেশ-বিদেশে পুষ্টিবিদরাও দুধের ওপরেই ভরসা রাখছেন।

    কীভাবে কমবে ওজন?
    ১. সুস্থ শরীর চালাতে প্রোটিনের ভূমিকা আমাদের অজানা না। আর দুধ সেই প্রোটিনের সম্ভার। দুধে ক্যাফেইন, আলবুমিন ও গ্লোবিউলিন প্রোটিন উপস্থিত। যা ক্ষুধার জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীরে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের জন্য বেশ কিছু হরমোন রয়েছে যা নিঃসরণ করে দুধ খাবারের চাহিদা কমাতে সাহায্য করে।২. হাড় ও দাঁত মজবুত করা ছাড়াও ওজন কমাতে ভূমিকা রয়েছে ক্যালসিয়ামেরও। বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত, দুধে উপস্থিত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি পাচন ক্ষমতা বাড়িয়ে ক্যালোরি ক্ষয়ে সাহায্য করে।

    ৩. দুধে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি৩ (নিয়াসিন), যা শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করেই। এছাড়া বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় কাজের জন্য শক্তির যোগান দিতেও এর ভূমিকা অসীম।

    ৪. প্রোটিন হজম করতে শরীরে বেশ সময় লাগে। সুতরাং দুধের প্রোটিন হজম করতে গিয়ে অকারণে ক্ষিদে পাওয়াও কমে যায়। এতে পেট ভরা থাকায় অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খেতে প্রয়োজন হয় না।

    ৫. সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় দেখা গেছে দুধে থাকা লিনোলেনিক অ্যাসিড শরীরের চর্বি কমাতেও সাহায্য করে।

    ৬. যারা নিরামিশাষী তাদের খাদ্য তালিকায় দুধ অনিবার্য। গরুর দুধ ছাড়াও, ছাগলের দুধ, মোষের দুধেও সমান প্রোটিন বহন করে। দুধের তৈরি প্রোটিন শেক বা দুধ দিয়ে তৈরি ওটসও সাহায্য করবে সুস্থ শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে। তবে বাজারের বিভিন্ন ফ্লেভারের দুধ এড়িয়ে চলতেই পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা। এই সমস্ত কৃত্রিম দুধে শর্করার পরিমাণ এতটাই বেশি দেওয়া থাকে যে তা শরীরের ওজন বাড়াতে কাজ করে।

    অনেকের শরীরে দুধ খাওয়াতে অ্যালার্জি হতে পারে। ল্যাকটোজে যাদের শরীরে সমস্যা দেখা যায়, তাদের জন্য দুধ এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

    তবে, শুধু দুধেই যে ওজন কমে যাবে এমনটা ভাবলে কিন্তু হবে না। খাদ্য তালিকায় নিয়মিত এক থেকে দুই গ্লাস দুধের সঙ্গে শাকসবজি ও ফলও রাখতে হবে। এ ছাড়া প্রতিদিন কমপক্ষে এক ঘণ্টা ব্যায়ামের অভ্যাস থাকা একান্ত জরুরি।

  • বিয়ের আগের যে ভুলগুলো দাম্পত্য জীবনে অশান্তি কারণ

    বিয়ের আগের যে ভুলগুলো দাম্পত্য জীবনে অশান্তি কারণ

    লাইফস্টাইল ডেস্ক

    অনেকেরই হয়তো ভালোবাসার মানুষের সাথে বিয়ে হয় না! তাই বলে তো জীবন থেমে থাকে না। জীবন চলে জীবনের গতিতে।

    বিয়ের আগের প্রেমের সময় করা কিছু ভুল কেড়ে নিতে পারে আপনার সংসারের শান্তি। ছারখার করে দিতে পারে আপনার সুখের জীবন।

    জেনে রাখা ভালো, বিয়ের আগে করা কিছু ভুলের মাশুল আপনাকে দিতে হতে পারে সারাটা জীবন। তাই প্রেমের সময়ে করা কোন ভুলগুলো আপনার বিবাহিত জীবনে ডেকে আনতে পারে অশান্তি। তাই সাবধান থাকুন।

    আসুন জেনে নেই দাম্পত্য জীবনে যে ভুলগুলো হতে পারে অশান্তি কারণ।

    শারীরিক সম্পর্ক

    পৃথিবীর কোনো ধর্মই বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ককে সমর্থন করে না। সকল ধর্মেই এ বিষয়ে রয়েছে কড়া নিষেধ। ধর্মীয়মতে, বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ অনৈতিক। যখন বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্ক হয়, তা মনের ভেতর সূক্ষ্ম পাপবোধ প্রবেশ করিয়ে দেয়। ভালোবাসার মানুষটিকে বিয়ের পরও তা মনের ভেতর কাঁটার মতো বিঁধে থাকে। আর তাছাড়া এটা চরিত্রের ওপর একটা দাগও বটে! তাই আবেগের তোড়ে ভেসে গিয়ে বিয়ের আগে শারীরিক সম্পর্কে না জড়ানোই উচিত হবে।

    পরিবার বা বন্ধুদের

    ভালোবাসার সম্পর্কে টানাপোড়েন হতে পারে। হতে পারে মান-অভিমান, মনোমালিন্য, ঝগড়াও। যাই হোক না কেন, ভুলেও নিজের প্রেমিক বা প্রেমিকা সম্পর্কে কোনো কটু কথা আপনার পরিবারের কাউকে বা বন্ধুদের বলবেন না। এমনকি তাঁর কোনো দোষ বা দুর্বলতার কথাও বলবেন না। কারণ বিয়ের পর আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকার কানে এসব কথা কোনো না কোনোভাবে পৌঁছবেই। আর তখন তৈরি হবে সংসারে অশান্তি।

    অর্থনৈতিক আশ্বাস

    আপনার প্রেমিকাকে এমন কোনো অর্থনৈতিক আশ্বাস দেবেন না, যা আপনার পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। অনেক সময় আবেগের বশে বলে ফেলা কথা বা প্রতিশ্রুতি হয়তো পরবর্তীতে রাখার মতো অবস্থা থাকে না। ফলে বিয়ের পরে মেয়েদের আশা ভঙ্গ হয় এবং তাঁরা স্বামীদের ওপর থেকে আস্থা হারিয়ে ফেলে।

    সত্য গোপন করা

    আপনার প্রেমিক বা প্রেমিকাকে আপনার পরিবার সম্পর্কিত সব তথ্য জানান, কোনো কিছুই গোপন করবেন না। কারণ বিয়ের পর তিনি যদি গোপন কিছু জানতে পারেন, তাহলে তা সংসারে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। আপনি হয়ে উঠবেন তাঁর অবিশ্বাসের পাত্র। অনেকের পরিবারেই অনেক সমস্যা থাকতে পারে।

    প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে বন্ধুত্ব রক্ষা

    অনেকের জীবনে একের অধিক প্রেম আসে। আপনার বর্তমান প্রেমের সম্পর্কের আগেও হয়তো আরেকটি প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ ব্যাপারটি বর্তমান ভালোবাসার মানুষটির কাছে গোপন না করাই ভালো। অনেকেরই প্রেমের সম্পর্ক ভেঙে গেলেও প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকার সাথে যোগাযোগ থাকে বা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক থাকে। বিয়ের আগ পর্যন্ত ব্যাপারটি ঠিক আছে। কিন্তু বিয়ের পর ব্যাপারটি সংসারে আগুন লাগানোর জন্য যথেষ্ট।

    বন্ধুদের অতিরিক্ত সময়

    বন্ধু-বান্ধবদের সাথে আড্ডা দিতে কার না ভালো লাগে! তবে তা অভ্যাস বা আসক্তির পর্যায়ে যেন না চলে যায়। কারণ প্রেমের সম্পর্কের সময়েও আমরা বন্ধুদের পর্যাপ্ত সময় দিতে পারি, কিন্তু বিয়ের পর তা আর সম্ভব হয় না। কিন্তু আপনি যদি এই অভ্যাসটি ধরে রাখতে চান, তাহলে সাংসারিক জীবনে অশান্তি আসবেই আসবে।

  • ব্যথা সারাতে প্যারাসিটামলের চেয়েও বেশি কার্যকরী বিয়ার

    ব্যথা সারাতে প্যারাসিটামলের চেয়েও বেশি কার্যকরী বিয়ার

    বিয়ার ব্যথা সারাতে প্যারাসিটামলের চেয়ে কয়েকগুন বেশি কার্যকরী। বিয়ারের অনেক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। বিয়ার খাওয়ার ফলে যদিও ওজন বৃদ্ধি, কোলোনিক ফ্যাট, লিভারের নানাবিধ সমস্যা হয়। তবে সম্প্রতি ‘পেইন’ (ব্যথা) জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় সামনে এসেছে বিয়ারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গুণ।

    গবেষকরা বলছেন, পেইন (ব্যাথা কমানোর ওষুধ) কিলার হিসেবে প্যারাসিটামলের থেকে অনেক বেশি কার্যকরী ও কম ক্ষতিকারক হল বিয়ার। ব্রিটেনের গ্রিনউইচ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ট্রেভর টমসনের দাবি, অ্যালকোহল যে ব্যথা কমানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকরী তার জোরালো প্রমাণ তাঁরা তাঁদের গবেষণায় পেয়েছেন।

    টমসন আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা মোট ৪০০ জন অংশগ্রণকারীকে নিয়ে ১৮টি পরীক্ষা করে দেখেছেন। দেখা গিয়েছে, বিয়ার ব্যথা কমিয়ে দেয় ও যন্ত্রণা উপশমেও সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, বিয়ার মস্তিষ্কের রিসেপটরে ব্যথার বোধ এবং উত্কণ্ঠা কমিয়ে স্বস্তি এনে দেয়। টমসনের দাবি, ব্যথা-বেদনা কমাতে বিয়ার প্যারাসিটামলের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর।

  • ত্বক সমস্যা এবং পরিচর্যা

    ত্বক সমস্যা এবং পরিচর্যা

    ‘দেহপট সনে নট সকলি হারায়’ একটি কথা আছে। দেহের আবরণ ত্বক। ত্বকে কুঞ্চন রেখা পড়ন্ত বেলার লক্ষণ। কিন্তু একে আরো কিছুদিন মসৃণ ত্বক রাখার কৌশলও তো আছে। ত্বক সুরক্ষা দেয় শরীরকে, কিন্তু কেবল কি তাই? সুস্থ ত্বক সৌন্দর্যেরও চিহ্ন। প্রতিদিনের পছন্দ, আমরা যা খাই, আমাদের আসা যাওয়া, চলাচল, অনুভব সবই প্রভাব ফেলে ত্বকের উপর।
    চাই সন্দুর ত্বক:খাদ্যের দিকে নজর দিন। প্রচুর ভিটামিন সি, খুব কম চর্বি ও শর্করা খাবার বুড়িয়ে গেলেও সুন্দর রাখে ত্বক। এন্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার যেমন- মাছ, ফল, সবজি ত্বককে রক্ষা করে। চাই জটিল শর্করা (লালচাল, লাল আটা) এবং স্বাস্থ্যকর আমিষ।
    খাদ্যে থাকা চাই ভিটামিন :এন্টিএজিং ক্রিমে থাকতে পারে ভিটামিন সি ও ই। এসব ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও উচিত। সঙ্গে খণিজ সেলেনিয়াম। ফলে রোদ থেকে ত্বক রক্ষা পাবে। এমনকি ত্বকে ভাঁজ রেখা,বার্ধক্য রেখা দেখা দেবে দেরিতে। কমলালেবু, পেয়ারা, আমলকি, বাতাবিলেবু, লেবু এসব খাওয়া চাই বেশি বেশি। দৌঁড়ানো বুড়ো হওয়া ত্বক থেকে বাঁচায়। ব্যায়ামের হিতকরী ফল পড়ে সারা শরীরে। ব্যায়াম করলে রক্তচলাচল বাড়ে, ত্বক থেকে দূর হয়ে যায় বিষ বর্জ্য। রক্তচলাচল উন্নত হলে ত্বকের টিসুতে আসে বেশি বেশি আক্সিজেন ও পুষ্টিকনা যা ত্বককে কোলাজেন তৈরিতে সহায়তা করে।
    চাই ত্বক সৌন্দর্য বিশ্বাম:রাত জেগে দেখুন কয়েক রাত, ত্বকে পড়বে এর চিহ্ন। চোখের নিচে কালি, ফ্যাকাশে ত্বক, ফোলা চোখ। রাতে ৭-৮ ঘন্টা ঘুম শরীর ও ত্বককে রাখে তুঙ্গে।  চিত্ হয়ে ঘুমানো ভালো। একদিন মুখ বালিশে চেপে শুলে ত্বকে ভাঁজ পড়বে।
    মেলাস্মা এড়াতে :গর্ভের সময় বা গর্ভ নিরোধক পিল ব্যবহারের সময় কোন কোন নারীর মুখে পড়ে গাঢ় রেখা। ত্বক রঞ্জক মেলানিন অতিরিক্ত হলে এমন গাঢ় ছাপ ছাপ দাগ পড়ে মুখে। প্রসবের পর বা পিল ছাড়ার পর মেলাস্মা মিলিয়ে যায়। খররোদ এড়ালে এবং সানক্রিন লোশন ব্যবহার করলে একে এড়ানো যায়।
    ত্বকে যেন না পড়ে ক্ষতিকর রশ্মি
    রোদের বিশেষ করে খররোদে অনেক সময় থাকলে ত্বকে এর প্রভাব পড়ে, বিরূপ প্রভাব। ব্যবহার করুন ব্রড স্পেকট্রাম সানব্লক। জিংক অক্সাইড, টাইটানিয়াম অক্সাইড বা এভোরেনজোন প্রডাক্ট ব্যবহার করা যায় ডাক্তারের পরামর্শে। মাথায় ছাতা পরা, লম্বা হাত জামা পড়া। সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত রোদ এড়ানো ভালো। বুড়িয়ে যাওয়া ত্বকের খেয়াল:বুড়ো হতে থাকলে ত্বকেও আসে পরিবর্তন। ত্বকে বেশি কোলাজেন তৈরি হয় না এবং যে ইলাস্টিন ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখে তা দুর্বল হয়ে যায়। ত্বককোষ  দ্রুত তৈরি বা হানি কোনটিই হয়না সহজে।  শুকিয়ে যায় না এমন সাবান, ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। রেটিনয়েড বা ভিটামিন সি ক্রিমও ব্যবহার করতে পারেন।
    ধূমপান ত্বকের জন্য ভালো নয় : ধূমপান মোটেও ঠিক নয়, ত্বকের জন্য খুব খারাপ। অকালে ত্বকে ভাজ পড়ে, ত্বক যায় শুকিয়ে। ধূমপানে ত্বকে কমে রক্তচলাচল। ভাঙ্গে কোলাজেন। কম কোলাজেন তাই ত্বকে কুঞ্চণ। ঠোটের এই নড়াচড়া, ওঠানামা এসব ত্বকে ভাজ পড়তে সাহায্য করে। সিগারেটের শলাও ঠোটে লাগানো এর চর্চাতো হয়ই। তাই ধূমপান বর্জন ত্বকের জন্য জরুরীও বটে। প্রতিদিনই ত্বক দূষণের সংস্পর্শে আসে। সিগারেটের ধোঁয়া, মোটর গাড়ির ধূম, ধোয়াশা ত্বক পরিছন্ন রাখা চাই এসব থেকে। ত্বকের চাহিদা অনুযায়ী একে প্রতিদিন মৃদু সাবান বা ওয়াশ দিয়ে ধোবেন মুখ, মৃতত্বক কোষ সরাতে মুখ ঘষুণ।
    ভ্রমণে ত্বকের খেয়াল:উড়োজাহাজের ভেতরে শুষ্ক ও কট্কটে্ হয়ে যায় ত্বক কম আর্দ্র আবহাওয়ায়। উড়াল ভ্রমনে কফি ও মদ্যপান না করে শুধু পানি পান উত্তম। ভ্রমনের আগে, ভ্রমনের সময় ও পরে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। উড়ালের সময় মেকআপ না করা ভালো। ৩ আউন্স লোশন বরং রাখুন ব্যাগে।
    লেখক : পরিচালক, ল্যাবরেটরি সার্ভিসেস
    বারডেম, ঢাকা
  • নারীর মনের খবর কতটা জানেন?

    নারীর মনের খবর কতটা জানেন?

    একহাতে সামলানো। কথার কথা হলেও নারীকে তার দুই হাতে করতে হয় দশ রকমের কাজ। দশোভূজা নারী যখন সংসারে সব দেখাশোনা করেন, সন্তানের পড়াশোনা থেকে শুরু করে রান্নাঘরের তেল-নুনের খবরটিও নারীকে রাখতে হয় নখদর্পনে। সেই মা কিংবা স্ত্রীর কতটুকু খবর আমরা রাখি? মা কিংবা স্ত্রী শারীরিকভাবে অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে যেখানে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার সময়টুকু আমাদের হয় না সেখানে আবার মানসিক স্বাস্থ্য, সেটাতো অনেক পরের বিষয়।

    আমাদের সমাজে নারীরা শারীরিক অসুস্থতা, অপর্যাপ্ত ঘুম, সাংসারিক কাজ, যৌন নির্যাতন, ইভটিজিং, পারিবারিক নির্যাতনসহ নানা ধরনের মানসিক চাপে থাকেন। আবার মেনোপজ, গর্ভকালীন বিষন্নতা, বয়ঃসন্ধিক্ষণসহ কিছু প্রাকৃতিক নিয়মের কারণেও নারীরা বিষন্নতা, হতাশা, কাজে অনীহাসহ নানা ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। কিন্তু এটাকে অসুখ বলে গণ্য করার প্রবণতা এখনো তৈরি হয়নি আমাদের সমাজে।

    বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে দুই কোটির বেশি মানুষ কোনো না কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছে। প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর ১৮ শতাংশের বেশি বিষন্নতায় আক্রান্ত, যাদের অধিকাংশই নারী।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ফারাহ দীবা জানালেন, ‘পারিবারিক নির্যাতনের শিকার অবহেলিত এসব নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকে। এ থেকে নারীর মনের মধ্যে জন্ম দেয় গভীর হীনম্মন্যতাবোধ, হতাশা, আড়াল করার প্রবণতা, রাগ, ক্ষোভসহ নানা কিছু। নারীর এই মানসিক অবস্থা যে মানসিক অসুস্থতা তা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না বা বুঝতে চাইও না। ফলে মানসিক এই অবস্থা এক সময় নারীকে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত করে তোলে, যা নারীকে কখনো কখনো ঠেলে দেয় আত্মহত্যার পথে। কখনো বা তারা হত্যা করে বসে সন্তান, স্বজনকেও। কেউ আবার মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। কেউ বা নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।’

    ফারাহ দীবা আরো বলেন, ‘আমাদের সমাজে ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের শেখানো হয় তুমি মেয়ে। এটা তোমার করা উচিত, এটা করা উচিত নয়। এতে শৈশব থেকেই মেয়েশিশুরা মানসিক বিপর্যস্ততা নিয়ে বড় হতে থাকে। জীবনে প্রতিটি ধাপেই নারীকে দ্বিতীয় শ্রেণির ভাবা হয়। এতে নারীর ভেতর হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, যা নারীকে বিপথগামী করে তুলতে পারে। নারীর মানসিক সুস্থতার জন্য শৈশব থেকেই তাকে সুন্দর পরিবেশ দিতে হবে, এতে সে ছোটবেলা থেকেই মানসিকভাবে দৃঢ় হবে। নারীরা মন খুলে তার মানসিক অবস্থার বিষয়ে কথা বলতে পারে না। অথচ মন খুলে কথা বলতে পারলে আর কাউন্সেলিং নেওয়ার সুযোগ পেলে নারীদের অনেক মানসিক সমস্যাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।’

    ‘নারীর জীবনের মেনোপজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মেনোপজের সময়টাতে নারীদের মাঝে বিরক্তির উদ্রেক, দুশ্চিন্তা, ভালো না লাগা, রেগে যাওয়া, খাবারে অনীহাসহ অসংখ্য মানসিক পরিবর্তন শুরু হয়। এ রকম মানসিক পরিবর্তন দেখা যায় বয়ঃসন্ধিক্ষণের সময়টাতেও। এছাড়া গর্ভধারণে অক্ষমতা, গর্ভপাত, ছেলে সন্তান না হওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠা, গর্ভবতী অবস্থায় হীনম্মন্যতাবোধ, বিষন্নতা নারীর মানসিক চাপ অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়’Ñ জানান স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের গাইনী ও অবস বিভাগের অধ্যাপক ডা. ফারহাত হোসেন।

    কর্মজীবী নারীরা কর্মস্থলে পুরুষ আধিপত্যের কারণেও মানসিক চাপে থাকেন। পুরুষ আধিক্যে কাজ করতে গেলে নারীদের লিঙ্গ বৈষম্য, সমসুুযোগের অভাব, যৌন হয়রানি, কাজের চাপ ইত্যাদি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটির গবেষকরা জানান, পুরুষশাসিত কর্মক্ষেত্রে কাজ করতে গেলে নারীদের মানসিক চাপ বেড়ে যায়, যা বিভিন্ন অসুখের জন্ম দেয়।

    ফারাহ দীবা আরও বলেন, ‘অনেক সময় মানসিক রোগীর মেজাজ বা মুড পরিবর্তন চক্রের মধ্যে আবর্তিত হয়। কোনো সময় উত্তেজনা ও উন্মত্ততায় মন বিক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে, আবার কখনো অহেতুক দুঃখে মন অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এটা কয়েক ঘণ্টা বা মিনিটের ব্যবধানেও যেমন হতে পারে, তেমনি কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক মাসও চলতে পারে। এই ধরনের ভাব পরিবর্তন দৈনন্দিন জীবনের ঘাত-প্রতিঘাতের ফল বলে মনে হতে পারে। ফলে এটা যে মানসিক সমস্যা তা নিকটজনও বুঝে উঠতে পারেন না।’

    ভালো স্বাস্থ্য মানে মানসিক আর শারীরিক দুই দিক থেকেই সুস্থ বা ঠিক থাকা। অনেকের বেলায় দেখা যায়, শরীর ঠিক থাকলেও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে একেবারেই গুরুত্ব দেন না। আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন ঠিকমতো চালিয়ে নিতে মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গুরুত্ব দেওয়া কিন্তু অনেক গুরুত্বপূর্ণ। জীবনযাপনে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে সব মানসিক সমস্যা দূরে ঠেলে মনকে ফুরফুরে করে তুলতে পারেন। এ রকম সহজ কয়েকটি নিয়ম মেনে চলতে পারেন।

    নিয়মে চলুক জীবন
    দৈনিক কাজের একটি নিয়ম দাঁড় করান। সময়ের কাজ সময়ে করুন। নিয়ম মেনে খাওয়া, ঘুম থেকে জাগা বা বিছানায় যাওয়ার বিষয়টি মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য দরকারী। যারা নিয়ম মেনে চলেন, তাদের মানসিক ও শারীরিক দিক থেকে সুস্থ থাকার হার বেশি বলেই গবেষণায় দেখা গেছে।

    সুস্থ দেহ প্রশান্ত মন
    মানসিকভাবে ভালো থাকতে শারীরিকভাবে সুস্থ থাকাটাও জরুরি। শরীরকে সক্রিয় রাখতে সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যায়াম করুন। ব্যায়াম করলে সুখ হরমোন নিঃসৃত হয়। মানসিকভাবে হালকা বোধ করতে বা মন ভালো রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের চর্চা করে যান।

    খাবার-দাবার হবে পুষ্টিকর
    পুষ্টিমানসম্পন্ন ও সুষম খাবার খাবেন। খাবারের তালিকায় বেশি করে ফল আর সবজি রাখুন। মস্তিষ্ককে উদ্দীপিত রাখে এমন খাবার, বিশেষ করে বাদাম কিংবা পালংশাকের মতো খাবার খান।

    যন্ত্র থেকে দূরে
    এখনকার সময় মানুষের হাতে হাতে মোবাইল ফোন কিংবা মনোযোগ কেড়ে নেওয়া নানা যন্ত্র রয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে যতটা সম্ভব যন্ত্রের ব্যবহার সীমিত করুন। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোনসহ যন্ত্র ব্যবহার বাদ দিন। এমনকি দিনের বেলাতেও যন্ত্র যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।

    মস্তিষ্কের ব্যস্ততা
    সংবাদপত্র পড়ে, পাজল মেলানো, ক্রসওয়ার্ড সমাধান করার মতো নানা কাজে মস্তিষ্ককে ব্যস্ত রাখুন। মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকলে স্মৃতিশক্তি উন্নত হবে, এমনকি শেখার দক্ষতা বাড়বে।

  • ফেসবুক থেকে ৫ দিন দূরে থাকলে কী হয়?

    ফেসবুক থেকে ৫ দিন দূরে থাকলে কী হয়?

    সকালে ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল হাতে নিয়ে ফেসবুক ঘাঁটাঘাটি। শুধু সকাল নয়, দিনে কাজের ফাঁকে অসংখ্য বার আমরা ফেসবুকে ঢুঁ মারি। নিজের ভালোলাগা, দুঃখ, কষ্ট, প্রেম, ভয়, বিশ্বাস- এগুলো অন্যের সঙ্গে শেয়ার করতে না পারলে যেন আমরা কোনোমতেই শান্তি পাই না। বর্তমানে আমাদের জীবনের একটি অপরিহার্য অঙ্গই হয়ে দাঁড়িয়েছে এই ফেসবুক। তবে এটি সাময়িক শান্তি দিলেও এর থেকে দূরে থাকাই ভালো বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। সম্প্রতি ‘জার্নাল অব সোশ্যাল সাইকোলজি’-তে প্রকাশিত একটি রিপোর্ট বলছে, অন্তত পাঁচ দিন ফেসবুক থেকে নিজেকে দূরে রাখতে পারলে আপনার মানসিক চাপ কমে আসবে। সেই সঙ্গে কমবে উদ্বেগও।

    এ বিষয়ে মোট ১৩৮ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীকে নিয়ে গবেষণা চালানো হয়। কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এরিক ভ্যানম্যানের নেতৃত্বে একটি দল এই গবেষণা পরিচালনা করেন। গবেষণায় তারা দেখেছেন, এই ১৩৮ জনের প্রত্যেকেই দিনে অন্তত আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা ফেসবুকে সময় কাটান।