দিনে মাত্র একবার ধূমপানেও হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের প্রায় অর্ধেক ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। গতকাল বৃহস্পতিবার চিকিৎসা সাময়িকী ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে (বিএমজে) প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন এর অধ্যাপক অ্যালান হ্যাকশো বলেন, যদি কেউ প্রতিদিন ২০টির পরিবর্তে একবার ধূমপান করে তবে আমরা মনে করি যে ঝুঁকি ১/২০, বা পাঁচ শতাংশের নিচে নেমে আসবে। তিনি বলেন, ফুসফুসের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য হলেও হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের জন্য সত্য নয়। যেখানে প্রতিদিন এক প্যাকেট ধূমপানে শরীরে ক্ষতি তো হয়ই আর দিনে একবার একটা সিগারেট ধূমপানে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে ৫০ শতাংশ।তিনি বলেন, যদিও অনেক ধূমপায়ীরা মনে করে দিনে একবার বা কয়েকবার ধূমপান তেমন ক্ষতি করে না। কিন্তু এমনটা ভাবা তাদের বোকামী।তাদের উচিত ইতিবাচকভাবে কাজ করা অর্থাৎ ধূমপান ছেড়ে দেওয়া।ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন অনুযায়ী প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী প্রায় সাত কোটি মানুষ ধূমপানের কারনে মৃত্যুবরন করে। এদের মধ্যে প্রায় দুই কোটি মানুষের মৃত্যু হয় কার্ডিওভাসকুলার রোগের কারণে, প্রধানত হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকে। সূত্র: এএফপি।
Category: লাইফস্টাইল
-

নিয়মিত চা পানে বুদ্ধি ও একাগ্রতা বাড়ে
জনপ্রিয় পানীয়র কোন তালিকা তৈরি হলে, তার সর্বাগ্রে থাকবে চায়ের নাম। কারও পছন্দ চিনি ছাড়া লাল চা, কারও আবার বেশি দুধ ও চিনি সহযোগে কড়া চা। চায়ের কতই না রূপভেদ। কিন্তু ধর্ম-বর্ণ ও লিঙ্গ নির্বিশেষে মানুষ একটা ব্যাপারে একমত হবেনই যে, চা ছাড়া দিন যে কাটে না।
সম্প্রতি চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে এক নতুন সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে। যেখানে বলা হচ্ছে, যারা নিয়মিত চা পান করেন, তাদের বুদ্ধি, একাগ্রতা ও সৃজনশীলতা যারা চা পান করেন না, তাদের চেয়ে বেশি হয়। গবেষকরা বলছেন, চায়ের মধ্যে ক্যাফিন ও থিয়ানিন থাকে। এই উপাদানগুলি আমাদের সদা সতর্ক থাকতে সাহায্য করে। একাগ্রতা বাড়ায়। মানুষের মস্তিষ্কে ‘ক্রিয়েটিভ জুস’-এর প্রবাহ বাড়িয়ে দেয় এক কাপ চা।
এই তত্ত্ব হাতেকলমে প্রমাণ করতে ২৩ বছর বয়সী ৫০ জন যুবককে দু’টি দলে ভাগ করা হয়। তাদের মধ্যে একদলকে শুধুমাত্র পানি দেওয়া হয়, ওপর দলটিকে পানি ছাড়াও নিয়মিত লিকার চা পান করতে দেওয়া হয়। দু’টি দলকেই নানা কাজের ভার দেওয়া হয়। তাদের কিছু অঙ্ক কষতে দেওয়া হয়, ইতিহাসের কয়েকটি প্রশ্ন জানতে চাওয়া হয়। দেখা যায়, নিয়মিত চা পান করেছেন যারা, তাদের স্কোর ৬.৫৪। আর যারা চা পান করেননি, তাঁদের গড় স্কোর ৬.০৩।
তাহলে বুঝতেই পারছেন, আপনার বারবার চা চাওয়ার (বদ) অভ্যাসে গিন্নি বিরক্ত হলেও, এই প্রবণতা কিন্তু মোটেও ক্ষতিকারক নয়। তবে ঘনঘন পান করার অভ্যাস থাকলে দুধ-চিনি ছাড়া লিকার চা বা গ্রিন টি পান করুন। এতে সুস্থও থাকবেন বেশিদিন, আর আপনার বুদ্ধি-একাগ্রতাও বাড়বে।
-

মুখের দুর্গন্ধ দূর করে এলাচ
সুগন্ধিযুক্ত এলাচকে মশলার রানি বলা হয়। খাবারে অতিরিক্ত স্বাদ বাড়াতে এ মশলার ভূমিকা অপরিসীম। রান্নার স্বাদ বাড়ানো ছাড়াও এর রয়েছে বিভিন্ন ধরনের উপকারী গুণ। বিশেষ করে, এলাচের ভেষজ গুণ শরীরের নানাবিধ রোগ প্রতিরোধ করে। এলাচে রয়েছে ভিটামিন সি, যা রক্তসঞ্চালন ও ত্বক সমস্যার সমাধান করে। অনেকে মনে করেন, সকালে খালি পেটে এলাচমিশ্রিত পানি পান করলে হজম সংক্রান্ত সমস্যা দূর হয়। এক চিমটি এলাচ গুঁড়ো রক্তস্বল্পতা দূর করে এবং দুর্বলতা কমিয়ে আপনার শক্তি বাড়াতে পারে।
আসুন, জেনে নিন এলাচের আর কী কী উপকারিতা রয়েছে-রক্তস্বল্পতা দূর করে- এক বা দুই চিমটি এলাচ গুঁড়ো এবং হলুদ গুঁড়ো এক গ্লাস গরম দুধের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর সঙ্গে অল্প পরিমাণে চিনি মিশিয়ে নিতে পারেন। প্রতি রাতে এটি পান করুন। রক্তস্বল্পতা দূর হবে, দুর্বলতা কমবে এবং শক্তি বাড়বে। এলাচে বিদ্যমান রিবোফ্লাবিন, ভিটামিন সি, নিয়াসিন, আয়রন এবং কপার রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
হজমশক্তি বৃদ্ধি করে : ২টি এলাচ, ১টি ছোটো আদার টুকরো, ২-৩টি লং এবং কয়েকটি ধনিয়া একসঙ্গে গুঁড়ো করে নিন। এটি গরম পানিতে মিশিয়ে পান করুন। হজমশক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি গ্যাস, বমিভাব দূর করবে।
মুখের দুর্গন্ধ দূর করে : খাবার পর এক টুকরো এলাচ কিছুক্ষণ চিবিয়ে নিন অথবা এলাচ চা পান করুন প্রতিদিন সকালে। এটি আপনার পাঁচনতন্ত্র শক্তিশালী করে। এর অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান মুখের দুর্গন্ধ দূর করে।
হেচঁকি কমায় : ঘনঘন হেঁচকির সমস্যা হলে এলাচ খাওয়া শুরু করুন। এটি আপনার পেশি রিল্যাক্স করে হেঁচকিকমাবে।
ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া দূর : এলাচ একটি ভেষজ উপাদান। এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ফাঙ্গাস, ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া দূর করে।
হার্ট সুস্থ রাখে : প্রতিদিনের খাবারে এলাচ যুক্ত করুন অথবা এলাচ চা পান করুন। এটি আপনার হার্ট সুস্থ রাখার পাশাপাশি হার্টবিট নিয়মিত রাখবে।
অ্যাসিডিটি কমায় : সমপরিমাণে এলাচ, জিরা, মৌরি একটি পাত্রে ভেজে গুঁড়ো করে নিন। এক কাপ গরম পানিতে আধ চা চামচ এই গুঁড়ো মিশিয়ে নিন এবং পান করুন। এটি অ্যাসিডিটি, পেটের গ্যাস এবং পেট ফাঁপা রোধ করবে
-

তেলেই দূর হবে চুলের সব সমস্যা
অনেকের চুল অকালে ঝরে যায়/পেকে যায়। কারও আবার খুশকির সমস্যা। কারও চুল বেশি রুক্ষ কারও বা তৈলাক্ত। এর সব সমাধানই তেলের মাধ্যমে সম্ভব। যেমন নারকেল তেল। এতে ফ্যাটি অ্যাসিড থাকার কারণে কন্ডিশনারের কাজও করে। একই সঙ্গে চুল থাকে নরম। সামান্য গরম করে মাথার তালুতে ভাল করে মাসাজ করে নিন। আধঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
ক্যাস্টর অয়েল কাজ করে চুলের গোড়া মজবুত করতে। অল্প নারকেল তেল বা জলপাইয়ের তেল সঙ্গে এর কয়েক ফোঁটা মিশিয়ে স্ক্যাল্পে ও চুলে লাগিয়ে সারা রাত রেখে দিন। পরের দিন সকালে শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে এক বার ১-২ টেব্ল চামচ জলপাইয়ের তেল চুলে ভাল করে লাগিয়ে আধ ঘণ্টা রেখে দিন। পরে ঠাণ্ডা পানিতে চুল ধুয়ে নিলেই হল।
সরিষার তেলের সঙ্গে জবা ফুল, মেথি আর আমলকী ফুটিয়ে নিয়ে ঠাণ্ডা করে নিন। তার পর এই তেল চুলে নিয়মিত লাগালে চুল পড়া, কম বয়সে পেকে যাওয়ার হাত থেকে রেহাই পেতে পারেন। কারি পাতা চুলের গোড়া মজবুত করে। নারকেল তেলের সঙ্গে কারি পাতা আঁচে বসান। ফুটতে শুরু করলে পেঁয়াজ দিয়ে দিন। এই তেল-কারি পাতা-পেঁয়াজের মিশ্রণ ৪০ মিনিট টগবগ করে ফুটলে নামিয়ে ঠাণ্ডা করে ব্যবহার করুন।
খুশকির জন্য লেবুর রস এবং জল একসঙ্গে মিশিয়ে মাথার তালুতে লাগিয়ে রাখুন বেশ খানিকক্ষণ। তার পর গরম তেল দিয়ে মাসাজ করে শ্যাম্পু করে নিন। এতে খুশকিও উধাও হবে। নারিকেল তেলের সঙ্গে আমলকী, মেথি ভাল করে ফুটিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। এর পর বেশ খানিকক্ষণ গরম জলে ভেজানো তোয়ালে নিংড়ে চুল মুড়ে রাখুন। এ ভাবে ১৫-২০ মিনিট অন্তর দু’-তিন বার করলে চুল পড়া থেকে রেহাই পাবেন।
নারকেল তেল, একটা গোটা ডিম আর কয়েক ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে ভাল করে ফেটিয়ে চুলে লাগিয়ে রাখুন। ৩০-৪৫ মিনিট পর চুল শ্যাম্পু দিয়ে ভাল করে ধুয়ে নিন। এতে চুল নরম হবে।তিলের তেল এবং সরিষার খোল একসঙ্গে ফুটিয়ে নিন। উষ্ণ অবস্থায় তেল চুলে লাগান। নিয়মিত এই তেল ব্যবহার করলে চুলের সৌন্দর্য বাড়বে।
-

ঘুম থেকে ওঠার পর যা করবেন না
সকালটা ভালোভাবে শুরু হলে গোটা দিনটাই ভালো কাটে। তাই ঘুম ভাঙার পরের সময়টুকুকে বলা যেতে পারে দিনের সবচে’ গুরুত্বপূর্ণ সময়। ঘুম থেকে ওঠার পরে কী কী করা যেতে পারে এটা কম-বেশি সবারই জানা। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠার পরে কী কী করা উচিত নয় তা হয়তো আমাদের কারো কারো জানা নেই। স্বাস্থ্যসম্মত জীবন নিশ্চিত করতে জেনে নিন ঘুম থেকে উঠে কি কি করবেন না।
অ্যালার্ম বন্ধ করে ফের ঘুমিয়ে পড়বেন না : আমরা অনেকেই এই কাজটা করি। সকালে অ্যালার্ম বেজে উঠলে সেটা বন্ধ করে ঘুম ঘুম চোখে সময়টা আরও ১০/১৫ মিনিট এগিয়ে দিয়ে পুনরায় ঘুমিয়ে পড়ি। এটা করা উচিত না। কারণ এতে শরীর আবার গভীর ঘুমের দিকে যাত্রা করে। কিন্তু কাজের তাড়া থাকা যেহেতু উঠে যেতে হবে, তাই ঘুম থেকে উঠেও ঘুম-ঘুম ভাব আর যেতে চায় না।
ঘুম ভাঙার পর মোবাইল দূরে রাখুন : ঘুম থেকে উঠেই নিজের মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন, মেইল, ফেসবুক ইত্যাদি ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করবেন না। যদি কোন সমস্যা বা মন খারাপ করে দেবার মতো কিছু থাকে তাহলে তার জের সারাদিন ধরে বয়ে বেড়াতে হবে।
বিছানা অগোছালো রেখে উঠে যাবেন না : সকালে বিছানা ছাড়ার আগে চাদর টেনে, বালিশ ঠিকঠাক করে অর্থাৎ বিছানা গুছিয়ে তারপর অন্য কাজে হাত দেবেন। এর ফলে সারাদিনের সব কাজ গুছিয়ে করার আগ্রহ বাড়বে।
কফি খাবেন না : ঘুম থেকে উঠেই কফির কাপ হাতে নেবেন না। আমাদের শরীরে সাধারণভাবে সকাল ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে করিস্টোল নামের একটি হরমোন উৎপন্ন হয়। এই হরমোন উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফিন (যা কফিতে থাকে) এই হরমোনের উৎপাদনে বাধা দেয়। তাই কফি খেতে চাইলে সকাল সাড়ে ৯টার পরে খান।
-

হাতে পেঁয়াজের গন্ধ দূর করবেন যেভাবে
পেঁয়াজ কাটতে গেলে কত কাণ্ডই না হয়৷ চোখ থেকে পানি পড়া আটকাতে হাজার পন্থা অবলম্বন করে থাকে অনেকেই৷ কিন্তু আরও এক সমস্যা হল, পেঁয়াজ কাটার পর হাতে তার গন্ধ৷ সাবান দিয়ে হাত ধোওয়ার পরেও থেকে যায় সেই গন্ধ৷ কেউ কেউ এরপরেও হাতে ক্রিম মাখা থেকে শুরু করে আরও বহু কিছু কসরৎ করেন সেই গন্ধ দূর করার জন্য৷
কিন্তু জানেন কি খুব সহজেই হাতের এই গন্ধ দূর হয়ে যেতে পারে৷
১) পেঁয়াজ কাটার পর হাতে একটু লবন দিয়ে ভালো করে ঘষে নিন৷ তারপর পরিষ্কার পানিতে হাত ধুয়ে নিন৷ গন্ধ চলে যাবে নিমেষে৷
২) আবার হাতে কফি পাউডার নিয়ে পানি দিয়ে তা ঘষে নিতে পারেন৷ পেঁয়াজের গন্ধ চলে যাবে হাত থেকে৷
৩) কেউ কেউ এই গন্ধ দূর করতে বেকিং সোডা ব্যবহার করে থাকেন৷
