Category: আন্তর্জাতিক

  • জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    জঙ্গি দমনে ব্যর্থতা পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

    জঙ্গি দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে পাকিস্তানে ৩০ কোটি ডলার সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর পাকিস্তান সফরের আগে আগে এ ঘোষণা এল। এর আগে গত জানুয়ারি মাসে পাকিস্তানের জন্য প্রায় সব ধরনের নিরাপত্তা সহায়তা কাটছাঁট করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

    আজ রোববার বিবিসি অনলাইনের খবরে বলা হয়, মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল কন ফল্কনের বলেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী এই অর্থ অন্য ‘জরুরি অগ্রাধিকারমূলক’ কাজে ব্যবহার করতে চায়।

    এই সিদ্ধান্ত মার্কিন কংগ্রেসে অনুমোদিত হতে হবে। বিভিন্ন দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন সহায়তার বিষয়ে জানুয়ারি মাসে ঘোষিত বড়সড় কাটছাঁটের অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রকে পাকিস্তানের মৈত্রী রাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোয় নিজের ভূমিতে পাকিস্তান হাক্কানি নেটওয়ার্ক, আফগান তালেবানসহ জঙ্গি নেটওয়ার্কগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে অভিযোগ তুলে কড়া সমালোচনা করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

    গতকাল শনিবার কল ফল্কনের এক বিবৃতিতে বলেন, ‘কোনো বাছবিচার না করে জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোকে দমন করতে পাকিস্তানকে অব্যাহতভাবে বলে যাচ্ছি আমরা।’ তিনি জানান, এ ব্যাপারে ‘পাকিস্তানের সুনির্দিষ্ট কার্যকারিতার অভাবে’ ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সহায়তা বাতিল করে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে।

    যুক্তরাষ্ট্রসহ আরও অনেক দেশের অভিযোগ রয়েছে, জঙ্গি নেটওয়ার্কের জন্য পাকিস্তান তার ভূমিকে স্বর্গ বানিয়ে রেখেছে। সীমান্ত এলাকা দিয়ে আফগানিস্তানে হামলা চালাতে ওই জঙ্গি সংগঠনগুলোকে সুযোগ দিয়ে রেখেছে পাকিস্তান। বিশেষ করে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই দেশটিকে জঙ্গিদের নিরাপদ স্বর্গ বানিয়ে রেখেছে। তবে বরাবরই এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে পাকিস্তান।

    এর আগে গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জাতিসংঘ ত্রাণ ও কার্যক্রম সংস্থাকে (ইউএনআরডব্লিউএ) ‘অসংশোধনীয় ত্রুটিপূর্ণ’ উল্লেখ করে সংস্থাটির জন্য সব ধরনের অর্থ সহায়তা বন্ধ করতে যাচ্ছে তারা।

    জঙ্গি সংগঠন হাক্কানি নেটওয়ার্ক প্রতিবেশী রাষ্ট্র আফগানিস্তানকে লক্ষ্য করে তার জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করে। বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে চালানো এসব হামলার ব্যাপারে পাকিস্তান কখনো প্রতিহত করে না বলে অভিযোগ রয়েছে। এই জঙ্গিগোষ্ঠীর সঙ্গে আফগান সরকারবিরোধী চরমপন্থী ইসলামি সংগঠন আফগান তালেবানের সম্পৃক্ততা রয়েছে। আফগান তালেবানের সহযোগী পাকিস্তানি তালেবান সংগঠনগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরেও অনেক হামলা চালিয়ে থাকে। হাক্কানি নেটওয়ার্ক ও আফগান তালেবান দুই সংগঠনের একাধিক হামলায় আফগানিস্তানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্য ও মার্কিন কর্মকর্তা নিহত হয়েছে।

    দেশের পররাষ্ট্রনীতির স্বার্থে পাকিস্তান বহু বছর ধরে আফগান তালেবানকে ব্যবহার করে আসছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ১৯৭৯ সালে সোভিয়েত হামলার পর আইএসআই আফগান জঙ্গিদের অর্থ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে সহায়তা করা শুরু করে। আফগানিস্তান যুদ্ধের সময় ২০০১ সাল থেকে আন্তর্জাতিক সামরিক বাহিনীর জন্য নিজেদের ভূমি ব্যবহার করতে দেয় পাকিস্তান। পশ্চিমাঞ্চলে আল-কায়েদার মতো কিছু জঙ্গি সংগঠনের লড়াইয়েও পাকিস্তান সহায়তা করে থাকে। বিশ্লেষকদের মতে, আফগান বিদ্রোহীদের আশ্রয় ও সহায়তা দেওয়া অব্যাহত রেখেছে পাকিস্তান। এই অঞ্চলে প্রধান প্রতিপক্ষ ভারতের আফগানিস্তানের ওপর প্রভাব সীমিত রাখাই পাকিস্তানের লক্ষ্য।

  • মিয়ানমার উপকূলে রহস্যময় জাহাজ

    মিয়ানমার উপকূলে রহস্যময় জাহাজ

    মিয়ানমার উপকূলে একটি রহস্যময় ভুতুড়ে জাহাজ ভেসে এসেছে। দেশটির বাণিজ্যিক রাজধানী ইয়াঙ্গুনের কাছে গত সপ্তাহে প্রথম জেলেদের চোখে পড়ে জাহাজটি। পরে তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। খবর বিবিসির

    বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের নৌ বাহিনী জাহাজটিতে অনুসন্ধান চালায়। জাহাজটিতে কোনো নাবিক বা পণ্য নেই।

    ইয়াঙ্গুন পুলিশ জানায়, ৫৮০ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল এই জাহাজের নাম ‘স্যাম রাতুলাঙ্গি পিবি ১৬০০’। ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী জাহাজটি যে অনেক পুরনো তা এর গায়ে মরিচা পড়া দেখে বোঝা যায়।

    কীভাবে জাহাজটি ইয়াঙ্গুন উপকূলে ভেসে এলে, এর পিছনে কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    ইন্ডিপেনডেন্ট ফেডারেশন অব মিয়ানমার সিফারার্সের জেনারেল সেক্রেটারি আং কিউ লিন বলেন, জাহাজটি এখনও ব্যবহার উপযোগী। সম্প্রতি এটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর পিছনে কোনো কারণ থাকতে পারে।

    মেরিন ট্র্যাফিক ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, ২০১১ সালে জাহাজটি নির্মিত হয়েছিল।

  • পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি

    পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ণ রাখতে কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি

    পুলিশ বাহিনীর মনোবল অক্ষুণ্ন রাখতে জম্মু-কাশ্মীরের পুলিশকর্তারা সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি দিয়েছে। ঘটনাটা ঘটেছে দক্ষিণ কাশ্মীরে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে।

    দক্ষিণ কাশ্মীরে গত বুধবার এক ঘটনায় সন্ত্রাসবাদীরা পুলিশের চার কর্মীকে হত্যা করে। অপরাধীদের ধরতে দক্ষিণ কাশ্মীরের অনন্তনাগ, কুলগাম, সোপিয়ান ও পুলওয়ামা জেলায় তল্লাশি চালানো হয়। সে সময় কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগানো হয় এবং সন্ত্রাসীদের পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেপ্তারও করা হয়। ধৃতদের মধ্যে ছিলেন হিজবুল মুজাহিদ্দিন গোষ্ঠীর স্বঘোষিত কমান্ডার রিয়াজ নাইকুর বাবা আসাদুল্লাহ নাইকু। এর পাল্টা হিসেবে সন্ত্রাসবাদীরাও আটক করে পুলিশকর্মীদের পরিবারের কিছু সদস্যকে। বাহিনীর মনোবল অটুট রাখতে এবং পুলিশের কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের ছাড়াতে শেষ পর্যন্ত সন্ত্রাসীদের পরিবারের আটক ১১জন সদস্যকে মুক্তি দেওয়া হয়।

    জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের মহাপরিচালক শীষপল বৈদ গত বছর বলেছিলেন, পুলিশকর্মীদের পরিবারের লোকজনের ওপর অত্যাচার করলে সন্ত্রাসবাদীদের পরিবারও ছাড় পাবে না। ওই মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক সৃষ্টি হলেও সন্ত্রাসীদের ধরতে পরিবারের লোকজনকে আটক করা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এই প্রথম পাল্টা চাল চেলে সন্ত্রাসবাদীরাও পুলিশ কর্মীদের পরিবারের লোকজনকে আটক করে নিজেদের পরিবারের সদস্যদের মুক্তি আদায় করে নিল। এবং সেটা বলেকয়েই করা। হিজবুল কমান্ডার রিয়াজ নাইকু ‘চোখের বদলে চোখ’ নেওয়ার কথা বলেছিলেন। তার পরেই অপহরণ করা হয় পুলিশ কর্মীদের পরিবারের সদস্যদের।

    কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মের সূত্রপাতও ঘটেছিল এ ধরনের অপহরণের মধ্য দিয়ে। ১৯৮৯ সালে কেন্দ্রে বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছিলেন কাশ্মীরের সাবেক কংগ্রেস নেতা মুফতি মহম্মদ সঈদ। তাঁর কন্যা মেডিকেল ছাত্রী রুবাইয়াকে সন্ত্রাসবাদীরা অপহরণ করেছিল। তাদের দাবি ছিল, রাজ্যে আটক চার সন্ত্রাসবাদী নেতার মুক্তি। মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লাকে বাধ্য করা হয়েছিল সেই দাবি মানতে।

    কাশ্মীর ভারতের অঙ্গরাজ্য হলেও সংবিধান এই রাজ্যকে কিছু বিশেষ ক্ষমতা ও মর্যাদা দিয়েছে। সংবিধানের ৩৭০ ধারায় তা লিপিবদ্ধ। কাশ্মীরের স্থায়ী বাসিন্দা কারা, সংবিধানের ৩৫ (ক) ধারা তা নির্ধারণের ক্ষমতা দিয়েছে রাজ্যের বিধানসভাকে। একমাত্র স্থায়ী বাসিন্দারাই বিশেষ অধিকার পাওয়ার যোগ্য। ওই ধারাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেন দিল্লির বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায়। মামলাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। প্রতিরোধ সর্বত্র। মামলার শুনানি চলাকালীন বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তিরা উপত্যকায় বিভিন্ন সময় বনধও পালন করেছে।

    কেন্দ্রীয় সরকারের অনুরোধে গতকাল শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট ওই মামলার শুনানি আগামী বছরের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ভারত সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেনুগোপাল এক আবেদনে বলেন, ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত রাজ্যে পঞ্চায়েত ভোট চলবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে আগামী বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত শুনানি স্থগিত রাখা হোক। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রসহ তিন বিচারপতির বেঞ্চ কেন্দ্রীয় সরকারের আর্জি মেনে নেন।

  • ভারতে যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ল

    ভারতে যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ল

    যশোর রোডের গাছ কাটার ওপর ভারতের আদালত স্থগিতাদেশ আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছেন। গতকাল শুক্রবার এ-সংক্রান্ত মামলার শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি জ্যোতির্ময় ভট্টাচার্য ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ান।

    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। প্রস্তাবিত এশিয়ান হাইওয়ে চলে যাবে এই সড়ক ধরে। এশিয়ান হাইওয়ের দৈর্ঘ্য হবে ২০ হাজার ৫৫৭ কিলোমিটার। এ লক্ষ্যে সড়ক প্রশস্ত করার জন্য গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ও ভারত সরকার।

    গাছ কাটার বিরুদ্ধে আবেদনকারীদের আইনজীবী রঘুনাথ চক্রবর্তী গতকাল জানান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রের ডিভিশন বেঞ্চ এই গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে একটি কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
    নির্দেশে বলা হয়, যেসব গাছ কাটার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, সেগুলো প্রাচীন কি না এবং সেসব গাছ কোন এলাকায় অবস্থিত, তা বিস্তারিত জানাতে হবে ওই কমিশনকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, সব গাছই প্রাচীন। যদিও এদিন ডিভিশন বেঞ্চ প্রথমে জানিয়েছিলেন, যেসব গাছ কাটা হবে, সেখানে প্রতিটি গাছের জন্য পাঁচটি করে গাছ লাগাতে হবে। এরপর মামলার আবেদনকারীরা ফের এক আবেদনে জানান, ওই ৩৫৬টি গাছ কাটার ওপর দেওয়া হোক স্থগিতাদেশ। কারণ, ওই সব গাছও প্রাচীন। আইনজীবী এ কথাও জানান, এই নিয়ে তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যেতে চান। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চ আরও তিন সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দেন।

    বাংলাদেশ আর পশ্চিমবঙ্গের বুক চিরে চলে গেছে ঐতিহাসিক এই যশোর রোড। শুরু বাংলাদেশের যশোর জেলা থেকে। চলে এসেছে বাংলাদেশ-পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত বেনাপোল-পেট্রাপোল পেরিয়ে সোজা কলকাতায়। সেই যশোর রোড নিয়ে কত কথা, কত কাহিনি, কত ইতিহাস এখনো ঘুরে বেড়ায় এই উপমহাদেশে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই যশোর রোড হয়ে উঠেছিল এক জীবন্ত ইতিহাস। এই রোড দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাড়ি দিয়েছেন শত্রুর মোকাবিলায়। এই রোডের পাশে কত মুক্তিযোদ্ধা আর শরণার্থীর ক্যাম্প গড়ে উঠেছিল। এই রোড ঘুরেছেন সেদিন বিশ্বের তাবড় নেতা, কবি, সাহিত্যিকেরা। সেটার বিরাট ইতিহাস আজও জেগে রয়েছে।

    এখন সেই যশোর রোড চওড়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক সড়কের মর্যাদা পেয়েছে। আজও যশোর রোডের দুপাশের শতবর্ষী বৃক্ষ মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। সেই বৃক্ষরাজিই আজ যশোর রোডের গর্ব। যশোর রোডের ইতিহাস।

    গাছ কেটে যশোর রোড চার লেনে প্রশস্ত করার সিদ্ধান্তের পর তা নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন দুই দেশের পরিবেশবাদীরা। পেট্রাপোল (হরিদাসপুর) সীমান্ত থেকে কলকাতায় আসতে বারাসাত পর্যন্ত যশোর রোডের দীর্ঘ ৬১ কিলোমিটার পথে দাঁড়িয়ে থাকা এই শতবর্ষী বৃক্ষরাজিকে বাঁচাতে দুই দেশেই পৃথকভাবে আন্দোলন শুরু হয়।

    ভারত সরকার যশোর রোডকে চার লেনের সড়কে রূপান্তর করার জন্য এই রোডের ৪ হাজার ৩৬টি গাছ কাটার জন্য প্রস্তাব দেয়। এর মধ্যে পেট্রাপোল থেকে বারাসাত পর্যন্ত এই ৬১ কিলোমিটার সড়কের মাঝে থাকা রেললাইনের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণের জন্য ৩৫৬টি শতবর্ষী গাছ কাটার প্রস্তাব দেয়। যাতে করে ওই ৩৫৬টি গাছ কাটা হলে রেললাইনের ওপর ফ্লাইওভার নির্মাণ করা সহজ হয়।

    পরিবেশবাদীরা দাবি তোলেন, যশোর রোডের এক পাশের এই ঐতিহাসিক বৃক্ষকে সড়কের মাঝে রেখে দুদিকের রাস্তা চওড়া করতে হবে। যেমনটা হয়েছে পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে কলকাতায় আসতে প্রথম দুই কিলোমিটার পথ। কলকাতা ও ঢাকার উচ্চ আদালতে গাছ কাটার বিরুদ্ধে মামলা করেছে মানবাধিকার সংস্থা ও পরিবেশবাদীরা। দুই দেশের মামলায় গাছ কাটার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছেন আদালত।

    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত যশোর রোডের গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারত দুই দেশের পরিবেশবাদীরা আন্দোলন শুরু করেন। ছবি: প্রথম আলো

    গত ২৭ এপ্রিল কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নিশীথা মাত্রে এবং বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ আবেদনকারীদের দাবি মেনে নিয়ে শতবর্ষী ৩৫৬টি গাছ কাটার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ জারি করেছিলেন। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হয় গতকাল। শুনানি শেষে আরও তিন সপ্তাহ স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ানো হয়।

    যশোর রোডের আরও ইতিহাস
    ইতিহাস বলছে, মূলত যশোর থেকে বেনাপোল-পেট্রাপোল-বনগাঁ-হাওড়া-বারাসাত পার হয়ে কলকাতার শ্যামবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ১২৫ কিলোমিটারের যশোর রোড। বাংলাদেশের অংশটুকু যশোর-বেনাপোল সড়ক নামে পরিচিত হলেও পেট্রাপোল সীমান্ত থেকে একেবারে কলকাতা এয়ারপোর্ট ছাড়িয়ে নাগের বাজার হয়ে শ্যামবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এই সড়ককে যশোর রোড নামেই জানেন লোকজন। সাইনবোর্ডে কোথাও কোথাও লেখা চোখে পড়ে এই যশোর রোডের নাম। এই বিস্তৃত যশোর রোডের ৩৮ কিলোমিটার পড়েছে বাংলাদেশে। বাকিটা পশ্চিমবঙ্গে। যশোর রোডের আশপাশের চাঁদপাড়া, ঠাকুরনগর, গোবরডাঙ্গা, মছলন্দপুর, হাবড়া, বাণীপুর, গাইঘাটা আর অশোকনগরে একাত্তরে বাংলাদেশ থেকে জীবন নিয়ে পালিয়ে আসা লোকজনের ঠাঁই হয়েছিল বিভিন্ন রোডের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা শরণার্থীশিবিরে। মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ এই যশোর রোড দেখে ১৯৭১ সালে লিখেছিলেন কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর যশোরে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জনসভা অনুষ্ঠিত করতে যশোর রোড হয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন অস্থায়ী বাংলাদেশ প্রবাসী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ। তাই সেই যশোর রোড আজও ইতিহাসের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে স্বমহিমায়।

    যশোর রোডের আরও ইতিহাস জানতে একটু পেছনের দিনে ফেরা যাক। সম্রাট শের শাহ ১৫৪০ থেকে ১৫৪৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সোনারগাঁও থেকে আজকের পাকিস্তান পর্যন্ত তৈরি করেন গ্র্যান্ড ট্রাংক রোড। যশোর-বেনাপোল-বনগাঁ-কলকাতা ছুঁয়ে লাহোর-পেশোয়ার অবধি চলে গেছে এই রোড। আবার ইংরেজদের বাংলা দখলের আগে সংস্কারের অভাবে এই রোড মেঠো পথে পরিণত হয়। তখন দস্যু-তস্করের হামলার ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়েই চলাচল করতেন রাজকর্মচারী ও ব্যবসায়ীরা। তখন যশোর থেকে কলকাতায় যাওয়ার বিকল্প মাধ্যম ছিল নৌপথ। এরপর যশোর জেলা হওয়ার সুবাদে বেড়ে যায় যশোরের গুরুত্ব। প্রসার ঘটে ব্যবসা-বাণিজ্যের। তখন যশোরে গড়ে ওঠা উচ্চ ও মধ্য শ্রেণির প্রায় সবাই ছিলেন হিন্দু। হিন্দুদের কাছে তখনো গঙ্গাস্নান একটি পুণ্যের কাজ ছিল। সেই সময় যশোর থেকে বহু হিন্দু নারী গঙ্গাস্নানের জন্য নদীপথে কলকাতা যেতেন। আবার কেউ কেউ পালকিযোগেও যেতেন। তাঁরা যেতেন বনগাঁ হয়ে চাকদহের গঙ্গার ঘাটে। যশোর থেকে চাকদহের দূরত্ব ছিল ৮০ কিলোমিটার।

    সে সময় যশোর শহরের বকচরের জমিদার ছিলেন কালী প্রসাদ পোদ্দার। কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে তাঁর ব্যবসা-বাণিজ্য ছিল। নৌকার মাঝিদের অসহযোগিতার কারণে একবার জমিদারের মা গঙ্গাস্নানে যেতে না পারায় নিজেকে অপমানিত বোধ করে ঘরের দরজা বন্ধ করে অনশনে বসেন। উদ্বিগ্ন পুত্র দরজা খোলার অনুরোধ জানালে মা শর্ত দেন, গঙ্গাস্নানের জন্য যশোর থেকে চাকদা পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করে দিলেই তিনি অনশন প্রত্যাহার করবেন। পুত্র কালী প্রসাদ মায়ের দাবি মেনে রাস্তা নির্মাণ করেন। ফলে এই রাস্তাকে অনেকে কালীবাবুর সড়ক বলেও অভিহিত করেন। ১৮৪৫ সালের দিকে ভারতের তৎকালীন গভর্নর অকল্যান্ডের সহযোগিতায় এই সড়ক নির্মাণের কাজ শেষ হয়। আর সেদিন এই সড়কের পাশে বিশ্রাম নেওয়ার উদ্দেশ্যে লাগানো হয় প্রচুর শিশুগাছ। সেই গাছই আজ শতবর্ষী গাছের তকমা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে যশোর রোডজুড়ে

  • পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন হলিউড অভিনেত্রী মার্কেজ

    পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন হলিউড অভিনেত্রী মার্কেজ

    লস অ্যাঞ্জেলসের পাসাদেনায় নিজ বাসায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারালেন হলিউড অভিনেত্রী ভেনেসা মার্কেজের। গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ জানিয়েছে, বাড়ির মালিকের কাছ থেকে খবর পান এক মহিলা উন্মাদের মতো আচরণ করছেন। খবর ফক্স নিউজের।দ্রুত একটি মেডিক্যাল টিমও নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ মার্কেজের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করে। তারা মার্কেজের শারীরিক অবস্থা খতিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে মার্কেজকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা চালায় পুলিশ ও মেডিক্যাল টিমের সদস্যরা।

    পুলিশ কর্তকর্তা জো মেন্ডেজার দাবি, মার্কেজকে যখন শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছিল, সে সময় হঠাৎ করে তিনি একটা বন্দুক এনে পুলিশের দিকে তাক করেন।

    অবস্থা বেগতিক দেখে আত্মরক্ষার্থে পুলিশের এক কর্মকর্তা মার্কেজকে গুলি করেন। পুলিশের দাবি, মার্কেজের হাতে সেমি-অটোমেটিক হ্যান্ড গান ছিল।

    পুলিশ তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ দাবি করলেও, মার্কেজের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু টেরেন্স টোয়েল্স ক্যান্টো সাংবাদিকদের জানান, তার বন্ধুর শারীরিক ও আর্থিক সমস্যা থাকলেও মানসিক কোনও সমস্যা ছিল না।

    তিনি বার বারই বলতেন, অভিনয়ে ফিরবেন। অস্কার জেতার স্বপ্নও দেখতেন বলে জানিয়েছেন টেরেন্স।

  • ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সব মানবিক সাহায্য বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

    ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের সব মানবিক সাহায্য বন্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র

    ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য সব ধরনের মানবিক সাহায্য সহযোগিতা পুরোপুরি বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

    ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের নিয়ে কাজ করা জাতিসংঘের ত্রাণ বিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস রিলিফস অ্যান্ড ওয়ার্কস এজেন্সি (ইউএনআরডব্লিউএ) যুক্তরাষ্ট্রের এ অমানবিক সিদ্ধান্তকে ‘অসংশোধনীয় ভুল’ বলে বর্ণনা করেছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের মুখপাত্র হিদার নর্ট বলেছেন, মার্কিন প্রশাসন ‘সাবধানে পর্যালোচনা’ করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের আর কোনো সাহায্য করা হবে না।

    প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের এ পদক্ষেপকে ফিলিস্তিনের জনগণের ওপর একটি আঘাত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    তিনি আরও বলেন, এভাবে সাহায্য-সহযোগিতা বন্ধ করে মার্কিনিদের অন্যায় আবদার মেনে নিতে ফিলিস্তিনিদের বাধ্য করা যাবে না। এটাকে জাতিসংঘের নীতিবহির্ভূত কাজ বলেও উল্লেখ করেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট।

    এক সপ্তাহ আগে ফিলিস্তিনিদের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক সহায়তা কমিয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    এছাড়া ৫০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মধ্যে ৭০ বছর আগে যাদের বাড়িঘর দখল করেছিল ইসরাইল, কেবল ওই পাঁচ লাখ ফিলিস্তিনিকেই শরণার্থী হিসেবে সংজ্ঞায়িত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।১৯৪৮ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর থেকে ফিলিস্তিনি বাবা-মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া এবং এতিম শিশুদের সাহায্যার্থে জাতিসংঘের ইউএনআরডব্লিউএ ত্রাণ শাথা কাজ করে যাচ্ছে।

    কিন্তু হঠাৎ করে সব ধরনের মার্কিন সাহায্য সহযোগিতা বন্ধ করে দেয়ায় বিপাকে পড়েছে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী এ সংস্থাটি।