Category: আন্তর্জাতিক

  • জলে চীন, ডাঙায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কই?

    জলে চীন, ডাঙায় রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র কই?

    দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পুঁজিবাদী ও সমাজতন্ত্রী—এই দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছিল বিশ্ব। এখন আর তা নেই। ভেঙে গেছে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন। নতুন রাশিয়ায় সমষ্টির চেয়ে ব্যক্তির হম্বিতম্বি বেশি। একই অবস্থা চীনে। সমাজতন্ত্রের অনুসারী দাবি করলেও চীনে পুঁজির দাপট চলছে ভালোই। এবার একটি ক্ষেত্রে এক মঞ্চে দুই দেশ। যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে রাশিয়া-চীন। এতে বৈশ্বিক দৃশ্যপটে ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিত্যনতুন কার্যকলাপে জেরবার যুক্তরাষ্ট্র। তিনি আজ হুমকি-ধমকি দিচ্ছেন, কাল নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন, পরশু আবার সুর নরম করছেন। ট্রাম্পের উদ্ভট কথায় ভরসা করার মতো ব্যক্তি খোদ মার্কিন মুলুকে পাওয়া দুষ্কর। তাঁর সম্পর্কে একটি শব্দ বেশ জুতসই, ‘আনপ্রেডিক্টেবল’! বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই সুযোগেই সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের রিলে রেসে এগিয়ে গেছে রাশিয়া ও চীন। এই দুই দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক সুবিধের নয় যুক্তরাষ্ট্রের। কারণ একই—প্রতিযোগিতা ও আঞ্চলিক স্বার্থ।

    নিন্দুকেরা বলছেন, বিশ্ব মোড়লের মুকুট যুক্তরাষ্ট্রের হাতছাড়া হলো বলে! এত দিন মনে করা হচ্ছিল, চীন ও রাশিয়া হয়তো মুকুট অধিকারের লড়াইয়ে একে-অন্যের মুখোমুখি হবে। এই দুটি দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মতভিন্নতা সেই আভাস দিচ্ছিল। কিন্তু হুট করেই দুই দেশের এক অভাবিত সিদ্ধান্তে গণেশ উল্টে গেছে। গত মঙ্গলবার রাশিয়া জানিয়েছে, এই সেপ্টেম্বরে বিশাল এক সামরিক মহড়া করবে দেশটি। আর তাতে যোগ দেবে চীন।

    মস্কোর রেড স্কয়ারে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সামরিক মহড়া। ছবিটি ২০১৫ সালে তোলা। ছবি: এএফপি

    রুশ সংবাদমাধ্যম দ্য মস্কো টাইমস বলছে, গত তিন দশকের মধ্যে রাশিয়ার সবচেয়ে বড় সামরিক মহড়া হবে এটি। নাম দেওয়া হয়েছে ভস্তক-২০১৮। স্নায়ুযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে রাশিয়া সর্বপ্রথম এভাবে বিশাল মহড়া করে সামরিক শক্তির বড়াই করছে। প্রায় তিন লাখ রুশ সেনা অংশ নেবেন এতে। হবে নিত্যনতুন সামরিক প্রযুক্তির পরীক্ষা। আকাশে উড়বে এক হাজার রুশ সামরিক উড়োজাহাজ। থাকবে দুটো নেভাল ফ্লিটও। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

    অন্যদিকে এই মহড়ায় বেইজিংয়ের অংশগ্রহণ সংখ্যাগত দিক থেকে তুলনামূলকভাবে কম। বিজনেস ইনসাইডারের প্রতিবেদনে প্রকাশ, ৩ হাজার ২০০ সেনা ও ৩০টি হেলিকপ্টার পাঠাবে চীন। সঙ্গে থাকবে প্রায় ৯০০টি সামরিক যন্ত্রপাতি। তবে ঠিক কী ধরনের যন্ত্রপাতি, তা স্পষ্ট করেনি চীনারা। সামরিক বিষয়ে এই গোপনীয়তা অবশ্য অস্বাভাবিক কিছু নয়।

    চীন-রাশিয়ার এমন যৌথ সামরিক মহড়ায় এরই মধ্যে নড়েচড়ে বসেছে পশ্চিমা দেশগুলো। ন্যাটো বলছে, উরাল পার্বত্য এলাকায় অনুষ্ঠেয় এই সামরিক মহড়া সম্পর্কে ইউরোপ বা পশ্চিমা বিশ্বকে জানাতে বাধ্য নয় রাশিয়া। তবে এটি হওয়া উচিত স্বচ্ছ ও কাঙ্ক্ষিত আচরণ মেনে। ইউরোপের দেশগুলো বা কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে মহড়ায় আমন্ত্রণও জানানো হয়নি। ন্যাটোর মুখপাত্র ডিলান হোয়াইটের মতে, এই পরিকল্পিত মহড়ার মাধ্যমে আরও আত্মবিশ্বাসীরূপে আবির্ভূত হবে মস্কো। দেশটি কেন প্রতিরক্ষা বাজেট ও সমরাস্ত্র উন্নয়নে দেদার খরচ করছে, সেটির যথোপযুক্ত প্রমাণ দেবে এই মহড়া।

    আবার চীন এই মহড়ায় অংশ নেওয়ায় কপালের ভাঁজ বেড়েছে জাপানের। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে মহড়া চলাকালে রাশিয়া সফর করার কথা জানিয়েছেন। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চীন-রাশিয়ার সামরিক সম্পর্কের ওঠাপড়া পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    চীন ও রাশিয়ার সেনাদের যৌথ মহড়ার দৃশ্য। ২০১৬ সালে চীনে এই মহড়া হয়েছিল। ছবি: রয়টার্স

    ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক সংকটে আছে মস্কো। তবে রাশিয়া স্পষ্টতই জানিয়েছে, বড় ধরনের যুদ্ধের প্রস্তুতি হিসেবেই এই মহড়ার আয়োজন। যুদ্ধ সন্নিকটে ধরে নিয়েই দুই দেশ যৌথ পদক্ষেপ নিয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, এ কারণেই সামরিক খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পথে হাঁটাই রুশ সরকারের একমাত্র বিকল্প।

    কেন যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে রাশিয়া-চীন?
    সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্রের লাল পতাকা ছড়িয়ে দিয়েছিল পূর্ব ইউরোপের দেশগুলোতে। সোভিয়েতে ভাঙনের কারণে ওই দেশগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণও ধরে রাখা যায়নি। বিশ্লেষকেরা বলছেন, রাশিয়ার মূল পরিকল্পনা পূর্ব দিকের এলাকা ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে। এ জন্য স্থলবাহিনীকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বেশি। অন্যদিকে চীন এগোচ্ছে সমুদ্রপথে। কারণ দক্ষিণ চীন সাগর ও আশপাশের এলাকাতে প্রভাব বাড়াতে এর বিকল্প নেই।

    রয়টার্সের এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, রাশিয়ার আয়োজনে এই যৌথ মহড়ার নাম রাখা হয়েছে ভস্তক। এই রুশ শব্দটির বাংলা তরজমা হলো ‘পূর্ব দিক’। প্রকৃত উদ্দেশ্যের একেবারে আক্ষরিক নামই দিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন। এর সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে দাবিয়ে রাখার বিষয়টিও যুক্ত। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের পর জর্জিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে তিক্ততা ভুলে যায়নি ক্রেমলিন। ওই সময় স্থলবাহিনীর জোরেই যুক্তরাষ্ট্রকে ঠেকাতে পেরেছিল রাশিয়া। তাই এবারের বিশাল মহড়ায় তিন লাখ সেনার অংশগ্রহণে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

    সমুদ্রে চীন-রাশিয়ার যৌথ মহড়ার দৃশ্য। ২০১৬ সালে চীনে হয়েছিল এই মহড়া। ছবি: রয়টার্স

    আবার দক্ষিণ চীন সাগর বা তাইওয়ানে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে সামরিকভাবে শক্তিশালী হওয়া প্রয়োজন চীনের। এ জন্যই দেশটির রণনীতি অনেকাংশে সাগরমুখী। দেশটির প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং নিজের ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয়তাবাদের সামরিকায়ন শুরু করেছেন। কারণ, ওই এলাকায় প্রভাব ধরে রাখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। দক্ষিণ চীন সাগরের বিতর্কিত অঞ্চলে চীনের আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় বাধা তৈরি করছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলোর নৌবাহিনী। তাই আঞ্চলিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সামরিক বিকল্পকে গুরুত্ব দিচ্ছে চীন। রাশিয়ার সঙ্গে মহড়ায় অংশ নিয়ে তারই জানান দিচ্ছে দেশটি।

    ‘সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট’-এর বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ১৯৭০-এর দশকে ভিয়েতনামের সঙ্গে যুদ্ধের পর থেকে দীর্ঘদিন যুদ্ধের সরাসরি অভিজ্ঞতা নেই চীনের। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ মহড়াটি হবে চীনের জন্য শিক্ষামূলক। কেননা রুশদের আছে সিরিয়া-যুদ্ধের টাটকা অভিজ্ঞতা।

    সম্প্রতি চীনের পুলিশ কর্মকর্তা ও রাশিয়ার ন্যাশনাল গার্ডের সদস্যরাও যৌথ মহড়ায় অংশ নেন। ছবি: রয়টার্স

    বেইজিংভিত্তিক সামরিক পর্যবেক্ষক ঝৌ চেনমিং বলছেন, রুশ প্রেসিডেন্ট এই মুহূর্তে নানা দিক থেকে কূটনৈতিক চাপে আছেন। এই মহড়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক শক্তি দেখাতে চাইছেন তিনি। এই যৌথ মহড়ায় অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের প্রতি এক ধরনের রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছে চীন। কারণ, ট্রাম্প প্রশাসন চীন-রাশিয়াকে কৌশলগত শত্রুর তালিকাতেই রেখেছে।

    চীনের সঙ্গে জোট বেঁধে কাজ করতে রাশিয়া অনন্যোপায় বলে মনে করেন ফ্রি ইউনিভার্সিটি অব ব্রাসেলসের আন্তর্জাতিক রাজনীতির অধ্যাপক জোনাথন হোলস্ল্যাগ। তিনি বলেন, পশ্চিমা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা সামলাতে চীনা ইউয়ান দরকার পুতিনের। তাই সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে হাত মেলাতে বাধ্য হচ্ছেন পুতিন-চিন পিং।

  • বিরুদ্ধ মত দমন করতেই ধরপাকড় মোদির?

    বিরুদ্ধ মত দমন করতেই ধরপাকড় মোদির?

    হুট করেই ভারতজুড়ে ‘মাওবাদী মাওবাদী’ রব উঠেছে। কোপ পড়েছে বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মী এবং ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও দলিতদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের ওপর। গড়বড় করলেই গায়ে পড়ছে মাওবাদী সিল, পোরা হচ্ছে জেলে। শুধু তা-ই নয়, গ্রেপ্তার করা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইনে, যাতে কারাবাস দীর্ঘায়িত করা যায়। কারণ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির এখন প্রয়োজন ‘জি হুজুর’ বলে মুখে ফেনা তোলা পোষা বিড়াল। কোনো বিরোধিতা সহ্য করবেন না তিনি।

    ভারতের পাঁচটি শহরে গত মঙ্গলবার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে। তাঁরা হলেন কবি ও লেখক ভারভারা রাও, সমাজকর্মী ভারনন গনজালভেজ, আইনজীবী সুধা ভরদ্বাজ, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী অরুণ ফেরেইরা এবং সাবেক সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী গৌতম নওয়ালাখা। পুলিশ অবশ্য খুঁজছিল ১০ জনকে। পুলিশের দাবি, এসব ব্যক্তি নাকি একটি ‘বিশাল ষড়যন্ত্রে’ যুক্ত। এর মধ্যে ভারভারা রাওয়ের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ। তবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা আদতে ষড়যন্ত্র করছিলেন কি না, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। শুধু বলছে, তাঁরা দোষী!

    এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ওপর সাত দিন নজরদারি করার পরই গ্রেপ্তার অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। পুনে সরকার জানিয়েছে, ‘নতুন প্রমাণ’ হাতে পাওয়ার পরই অ্যাকশনে পুলিশ। আর পুলিশ বলছে, ‘নতুন প্রমাণ’ বলতে কিছু নেই!

    ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস বলছে, এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন দায়ের করেন প্রখ্যাত ঐতিহাসিক রোমিলা থাপারসহ অন্যরা। গতকাল বুধবার শুনানি শেষে আদালত জানিয়েছেন, আগামী ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের গৃহবন্দী থাকতে হবে। একই সঙ্গে আদালত আরও বলেছেন, ‘বিরুদ্ধ মত গণতন্ত্রের সেফটি ভালভ। যদি সেফটি ভালভ না থাকে, তবে প্রেশার কুকারে বিস্ফোরণ হতে পারে।’

    বিশ্লেষকেরা বলছেন, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদির সরকার বিরুদ্ধ মত দমন করতে চাইছে। এ কারণেই বহুল চর্চিত ‘মাওবাদী’ ও ‘নকশাল’ শব্দ দুটি বেছে নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষমতার মসনদে বসা সব রাজনৈতিক শক্তিই দমন-পীড়নে এই শব্দ দুটি ব্যবহার করেছে। একসময় কংগ্রেসও ‘নকশাল’ ও ‘মাওবাদী’ সিল দিয়ে বিরোধীদের দমন করেছে বলে অভিযোগ আছে। এবার সেই পুরোনো অস্ত্রেই নতুন করে শাণ দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। লক্ষ্য হলো বিরোধী কণ্ঠ। তা তিনি শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, অধিকারকর্মী—যা-ই হন না কেন।

    ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সবাই বামপন্থী এবং নানা আন্দোলন-সংগ্রামে সোচ্চার। বিভিন্ন সময় আদিবাসী, দলিত, সর্বোপরি সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে তাঁর মুখ খুলেছেন। এখন মাওবাদী তকমা দিয়ে তাঁদের দমন করার চেষ্টা করছে সরকার।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কারা?
    ৭৮ বছর বয়সী ভারভারা রাও একজন বিখ্যাত কবি ও লেখক। বিপ্লবী মতাদর্শে উদ্বুদ্ধ লেখকদের নিয়ে সংঘ করেছিলেন তিনি। এর আগে জেলেও গেছেন কয়েকবার। মূলত, ক্ষদ্র জাতিসত্তার লোকজনের অধিকার নিয়ে উচ্চকণ্ঠ তিনি। ভারনন গনজালভেজ একজন লেখক ও সমাজকর্মী। ট্রেড ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত আছেন তিনি। এর আগে মুম্বাইয়ের একটি কলেজে অধ্যাপনা করতেন ভারনন।

    বিবিসি জানিয়েছে, একসময় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ছিলেন সুধা ভরদ্বাজ। মার্কিন পাসপোর্ট ত্যাগ করে দেশে এসে ভূমি অধিকার ও ক্ষুদ্র জাতিসত্তার লোকজনের অধিকার নিয়ে কাজ শুরু করেন সুধা। ৫৬ বছর বয়সী এই নারী ট্রেড ইউনিয়নেও সক্রিয়। দিল্লির ন্যাশনাল ল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপনাও করেন সুধা।

    অরুণ ফেরেইরা একজন মানবাধিকারকর্মী। আইনজীবী হিসেবেও তাঁর খ্যাতি আছে। আর গৌতম নওয়ালাখা একজন সাবেক সাংবাদিক। পিপলস ইউনিয়ন ফর ডেমোক্রেটিক রাইটস নামক একটি মানবাধিকার সংস্থার সদস্য গৌতম। মানবাধিকারকর্মী হিসেবে পরিচিত তিনি।

    বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, গত জুন মাসে আরও পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এবার কারাগারে ঢুকলেন আরও পাঁচজন। গত ১ জানুয়ারি ভীমা-কোরেগাঁওয়ে দলিত সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে উচ্চবর্ণের মারাঠাদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের তদন্ত করতে গিয়েই এই গ্রেপ্তার। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মাওবাদী-সংশ্লিষ্টতা কাজে লাগিয়ে নাশকতার চেষ্টা করেছিল। দুটি চিঠির সূত্র ধরে সেই পরিকল্পনা জানা গেছে।

    অথচ ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে প্রকাশ, ভীমা-কোরেগাঁওয়ে সংঘর্ষে সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত অনেক উচ্চবর্ণের ব্যক্তি ইতিমধ্যেই জামিনে মুক্ত।ভারভারা রাও, গৌতম নওয়ালাখা, সুধা ভরদ্বাজ, অরুণ ফেরেরা, ভারনন গনসালভেস। ছবি: সংগৃহীত

    নিন্দার ঝড়ে মোদি
    বুদ্ধিজীবী, মানবাধিকারকর্মীদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দার ঝড় উঠেছে ভারতে। অভিযোগের তির বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিকে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও অক্সফাম এক যৌথ বিবৃতিতে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছে। সমালোচনায় মুখর বুকার পুরস্কারজয়ী লেখিকা অরুন্ধতী রায়, ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ প্রমুখেরা। তোপ দেগেছে কংগ্রেস, সিপিএমসহ বিরোধী দলগুলোও।

    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডিয়ার নির্বাহী পরিচালক আকার প্যাটেল বলেছেন, রাষ্ট্রের সমালোচনা করায় দ্বিতীয়বারের মতো অধিকারকর্মী, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের ওপর দমন-নিপীড়ন নেমে এসেছে। তিনি বলেন, ‘গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভারতের সবচেয়ে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষের অধিকার রক্ষার বিষয়ে কাজ করার ইতিহাস আছে।’

    এএফপি বলছে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে অবনমন ঘটায় গত জুলাইয়ে রিপোর্টারস উইদাউট বর্ডারস ভারতকে সতর্ক করেছে। অন্যদিকে, ভারতের ভার্চুয়াল জগতে বিদ্বেষমূলক প্রচারও অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেশি হচ্ছে। যদিও গতকালই অনলাইন জগতে বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ না ছড়াতে প্রধানমন্ত্রী মোদি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তবে সেটিকে ‘মাছের মায়ের পুত্রশোক’ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, অভিযোগ আছে, বিদ্বেষ ছড়ানোর মূল ক্রীড়নক বিজেপি ও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)।

    কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী সুযোগ ছাড়েননি। প্রধানমন্ত্রীর ‘নয়া ইন্ডিয়া’ ধারণাকে কটাক্ষ করে টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘ভারতে একটি বাদে আর কোনো বেসরকারি সংস্থার স্থান নেই, সেটি হলো আরএসএস। বাকি সব বেসরকারি সংস্থা বন্ধ করে দিন। সব অধিকারকর্মীকে কারাগারে নিন এবং যারা অভিযোগ করবে, তাদের গুলি করুন। নতুন ভারতে স্বাগতম।’

    লেখিকা অরুন্ধতী রায় বলেছেন, আগামী বছরের লোকসভা নির্বাচন ঘিরেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এটি ঘটতে দিতে পারি না। আমাদের সবাইকে এক হতে হবে। তা না হলে যেসব স্বাধীনতা নিয়ে আমরা সন্তোষবোধ করি, তার সবই হারাতে হবে।’নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ছবিটি টুইটার থেকে নেওয়া।

    বিরুদ্ধ মত দমনই শেষ কথা?
    ভারতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত। যে কংগ্রেস আজ বিজেপির সরকারের গ্রেপ্তারের ব্যাপক সমালোচনা করছে, সেই দলই ১৯৭৫ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে নাগরিক অধিকার স্থগিত করেছিল। মজার বিষয় হলো, বিজেপি সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে নিন্দুকেরা সেই জরুরি অবস্থার সময়কেই টেনে আনছেন। বলা হচ্ছে, মোদির সরকার নাকি ওই অবস্থাতেই গেছে। অভিযোগ আছে, সেই সময়ে জরুরি অবস্থার ছুতোয় বিরোধী নেতা ও সমালোচকদের গারদে পোরা হয়েছিল। কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল গণমাধ্যমের।

    বিবিসির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভীমা-কোরেগাঁওয়ের সংঘর্ষে উসকানি ও আরও নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন পাঁচ বুদ্ধিজীবী ও অধিকারকর্মী। কিন্তু উসকানির অভিযোগ সবচেয়ে বেশি আছে মোদির বিজেপি ও আরএসএসের বিরুদ্ধেই। বিদ্বেষ ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগও আছে মোদির দলের বিরুদ্ধে। অথচ তারাই এখন শিক্ষক-বুদ্ধিজীবীদের ‘শহুরে নকশাল’ আখ্যা দিচ্ছে! ঠিক যেমন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে ‘জনগণের শত্রু’ বলে অভিহিত করেন।

    দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অপূর্বানন্দ দ্য কুইন্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তীব্র শ্লেষের সুরে লিখেছেন, ‘মানুষকে জোর করে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা হচ্ছে যে বিপজ্জনক খুনিরা শিক্ষক, লেখক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, আইনজীবী, অভিনেতা প্রভৃতি পরিচয়ে চারপাশে লুকিয়ে রয়েছে। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর অধিনায়কত্বে চলা উন্নয়নের দ্রুতগতির ট্রেনকে লক্ষ্যচ্যুত করতে চাইছে।’

    ‘মাওবাদী’ ইস্যুতে বিজেপি ও কংগ্রেসের আরও মিল আছে। কংগ্রেস-মনোনীত ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং একদা বলেছিলেন, মাওবাদীরা দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি। সুতরাং ‘মাওবাদী’ বা ‘নকশাল’ তকমা নতুন কিছু নয়। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আগের সব সরকারই এটি করেছে, বিজেপিও করছে।

    এদিকে মঙ্গলবারই প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত একটি বিশাল কেনাকাটায় সরাসরি চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বিরোধীরা বলছেন, ক্রয়সংক্রান্ত প্রচলিত প্রক্রিয়া এড়িয়ে এ ধরনের চুক্তি করে মোদি বোঝাতে চাইছেন, তিনিই রাষ্ট্র। আর এ ধরনের কাজ করতে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করেছেন মোদি। ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ ও কার্ভি ইনসাইটসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, বিজেপির জনসমর্থন কমলেও প্রধানমন্ত্রী পদে এখনো মোদিকেই দেখতে চান অধিকাংশ ভারতীয়। সমালোচকেরা বলছেন, জনপ্রিয়তাকে ঢাল বানিয়ে সরকারের ব্যর্থতাকে আড়াল করার চেষ্টা করছেন নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে চলছে বিরুদ্ধ মতকে দমনের চেষ্টা। সংবাদমাধ্যমে একবারও এটা বলা হচ্ছে না, বিজেপি পর্যাপ্ত আসন না পেলে জনপ্রিয় নরেন্দ্র মোদির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংসদীয় গণতন্ত্র সে সুযোগ রাখেনি।

    অবশ্য বিজেপির নেতৃত্বাধীন একটি উগ্র জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এমন আশঙ্কা করা হচ্ছিল। নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন গত বছরই বলেছিলেন, ব্যক্তিস্বাধীনতা লঙ্ঘনের ভয় সৃষ্টি এবং বিরুদ্ধ মতকে স্তব্ধ করে একটি সংলাপভিত্তিক সমাজ গড়ার পথ রুদ্ধ করা হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘অসহিষ্ণুতার মধ্যে থেকেও অতিমাত্রায় সহনশীল আমরা।’

    বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল গণতন্ত্রের দেশ ভারত এখন সেই সহ্যশক্তির পরীক্ষাতেই পড়েছে।

  • মোদিকে সরাসরি আক্রমণ রাহুলের

    মোদিকে সরাসরি আক্রমণ রাহুলের

    প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে সরাসরি আক্রমণ করে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী বলেন, নোট বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল দেশের পনেরো-কুড়ি জন বন্ধু শিল্পপতির কালোটাকা সাদা করার জন্য। সেই বন্ধু শিল্পপতিরা যাঁরা টাকা দিয়ে মোদিকে সাহায্য করেছেন।

    কংগ্রেস সভাপতি আজ বৃহস্পতিবার দলীয় দপ্তরে সংবাদ সম্মেলন করে নোট বাতিল ও রাফায়েল যুদ্ধবিমান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি আক্রমণ করেন। গতকাল বুধবারই রিজার্ভ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, মোট বাতিল নোটের ৯৯ দশমিক ৩০ শতাংশই সরকারের ঘরে ফিরে এসেছে। রাহুল বলেন, এটা এখন স্পষ্ট, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে মোদি তাঁর বিশেষ শিল্পপতি বন্ধুদের পকেট ভরেছেন। বন্ধু শিল্পপতিদের কালোটাকা সাদা করিয়েছেন।

    রাহুল বলেন, মোদির এই সিদ্ধান্ত মোটেই ভুল কিছু ছিল না। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়ার প্রশ্নও ওঠে না। তিনি যা করেছেন, তা ভাবনাচিন্তা করেই করেছেন। সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত। রাহুল এই প্রসঙ্গে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহর নাম করে বলেন, উনি গুজরাটের যে সমবায় ব্যাংকের কর্তা, সেই ব্যাংক নোট বাতিলের প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই ৭০০ কোটি টাকা জমা দিয়েছে। রাহুল বলেন, সাধারণ খেটে খাওয়া লোকজন, ছোট-মাঝারি দোকানদার এবং শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের ক্ষতি করে মোদি তাঁর বড়লোক শিল্প উদ্যোগী বন্ধুদের সাহায্য করেছেন। নোট বাতিলের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই।

    নোট বাতিলের যুক্তি হিসেবে মোদি বলেছিলেন—১. এতে কালোটাকা ধরা যাবে এবং ২. জাল নোটের রমরমা কমবে, যেহেতু নতুন নোট জাল করা কঠিনই নয়, অসম্ভব। ৩. ক্যাশলেস অর্থনীতির প্রবণতা বাড়বে। গত বুধবার ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের বার্ষিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, বাতিল হওয়া নোটের ৯৯ দশমিক ৩০ শতাংশই ফেরত এসেছে। এতে সরকারের খরচ হয়েছে ৮ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে প্রমাণিত, নোট বাতিলের যে যুক্তিগুলো মোদি দেখিয়েছিলেন, সেগুলোর একটাও সফল হয়নি। এর উল্লেখ করে রাহুল বৃহস্পতিবার বলেন, নোট বাতিল বিরাট মাপের দুর্নীতি ছাড়া অন্য কিছু নয়। তিনি বলেন, লোকে ভুল করলে তার জন্য ক্ষমা চায়। মোদি কোনো ভুল করেননি। অনেক ভেবেচিন্তে বড়লোক বন্ধুদের সুবিধা করে দিয়েছেন।

    নোট বাতিলের সঙ্গে রাহুল তুলে ধরেন রাফায়েল বিতর্কও। এ ক্ষেত্রেও তিনি মোদির শিল্পপতি বন্ধুদের প্রসঙ্গ তোলেন। শিল্পপতি অনিল আম্বানির নাম করে তিনি বলেন, বেশি দাম দিয়ে রাফায়েল কেনার উদ্দেশ্যও বন্ধু শিল্পপতিদের সাহায্য করা।

    কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অনিল আম্বানির করা মানহানির মামলা সম্পর্কে মন্তব্য করে রাহুল বলেন, যত খুশি মামলা তিনি করতে পারেন। কিন্তু তাতে সত্যের পরিবর্তন ঘটবে না। দেশ জানতে চায় মোদির সঙ্গে অনিল আম্বানিদের কী বোঝাপড়া বা চুক্তি হয়েছে।

  • মিয়ানমারে বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম প্লাবিত, নিরাপদ আশ্রয়ে ৬৩ হাজার অধিবাসীমিয়ানমারে একটি সেচ বাঁধ ভেঙে প্রায় ৮৫ গ্রাম ডুবে গেছে এবং ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।  এ বিপর্যয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মাসে লাওসে একটি পানি, বিদ্যুৎ ও বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। এতে প্রায় ২৭ জন নিহত হন।  বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সওয়ার খাঁড়ির ওই বাঁধটি ভেঙে যায়; এতে নেমে আসা পানির প্রবল ধারায় সামনের গ্রামগুলো ভেসে যায় এবং নিকটবর্তী সওয়ার ও ইয়েদাশি শহর ডুবে যায়।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই দিনই দেশটির দমকল বাহিনী, সেনারা ও কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেন।  বাঁধের কাছে বন্যার পানি কমেছে বলে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন দেশটির সেচ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাপরিচালক জাও লউয়িন তুন।  তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পানি বের হওয়ার পথটির কারণেই বাঁধটি ভেঙে পড়েছে। এমনিতে বাঁধটির অবস্থা ভালোই ছিল।  বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে এবং এতে ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের একটি অংশও ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।  দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ঠিক আছে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল।  বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ২,১৬,৩৫০ একর-ফুট বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বন্যার কারণে ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোকে সংযোগকারী মহাসড়কের একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথে মিয়ানমারে একটি সেচ বাঁধ ভেঙে প্রায় ৮৫ গ্রাম ডুবে গেছে এবং ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।  এ বিপর্যয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মাসে লাওসে একটি পানি, বিদ্যুৎ ও বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। এতে প্রায় ২৭ জন নিহত হন।  বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সওয়ার খাঁড়ির ওই বাঁধটি ভেঙে যায়; এতে নেমে আসা পানির প্রবল ধারায় সামনের গ্রামগুলো ভেসে যায় এবং নিকটবর্তী সওয়ার ও ইয়েদাশি শহর ডুবে যায়।  বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই দিনই দেশটির দমকল বাহিনী, সেনারা ও কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেন।  বাঁধের কাছে বন্যার পানি কমেছে বলে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন দেশটির সেচ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাপরিচালক জাও লউয়িন তুন।  তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পানি বের হওয়ার পথটির কারণেই বাঁধটি ভেঙে পড়েছে। এমনিতে বাঁধটির অবস্থা ভালোই ছিল।  বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে এবং এতে ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের একটি অংশও ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।  দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ঠিক আছে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল।  বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ২,১৬,৩৫০ একর-ফুট বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বন্যার কারণে ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোকে সংযোগকারী মহাসড়কের একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথে

    মিয়ানমারে বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম প্লাবিত, নিরাপদ আশ্রয়ে ৬৩ হাজার অধিবাসীমিয়ানমারে একটি সেচ বাঁধ ভেঙে প্রায় ৮৫ গ্রাম ডুবে গেছে এবং ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিপর্যয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মাসে লাওসে একটি পানি, বিদ্যুৎ ও বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। এতে প্রায় ২৭ জন নিহত হন। বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সওয়ার খাঁড়ির ওই বাঁধটি ভেঙে যায়; এতে নেমে আসা পানির প্রবল ধারায় সামনের গ্রামগুলো ভেসে যায় এবং নিকটবর্তী সওয়ার ও ইয়েদাশি শহর ডুবে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই দিনই দেশটির দমকল বাহিনী, সেনারা ও কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেন। বাঁধের কাছে বন্যার পানি কমেছে বলে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন দেশটির সেচ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাপরিচালক জাও লউয়িন তুন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পানি বের হওয়ার পথটির কারণেই বাঁধটি ভেঙে পড়েছে। এমনিতে বাঁধটির অবস্থা ভালোই ছিল। বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে এবং এতে ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের একটি অংশও ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ঠিক আছে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল। বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ২,১৬,৩৫০ একর-ফুট বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বন্যার কারণে ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোকে সংযোগকারী মহাসড়কের একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথে মিয়ানমারে একটি সেচ বাঁধ ভেঙে প্রায় ৮৫ গ্রাম ডুবে গেছে এবং ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এ বিপর্যয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মাসে লাওসে একটি পানি, বিদ্যুৎ ও বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। এতে প্রায় ২৭ জন নিহত হন। বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সওয়ার খাঁড়ির ওই বাঁধটি ভেঙে যায়; এতে নেমে আসা পানির প্রবল ধারায় সামনের গ্রামগুলো ভেসে যায় এবং নিকটবর্তী সওয়ার ও ইয়েদাশি শহর ডুবে যায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই দিনই দেশটির দমকল বাহিনী, সেনারা ও কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেন। বাঁধের কাছে বন্যার পানি কমেছে বলে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন দেশটির সেচ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাপরিচালক জাও লউয়িন তুন। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পানি বের হওয়ার পথটির কারণেই বাঁধটি ভেঙে পড়েছে। এমনিতে বাঁধটির অবস্থা ভালোই ছিল। বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে এবং এতে ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের একটি অংশও ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ঠিক আছে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল। বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ২,১৬,৩৫০ একর-ফুট বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বন্যার কারণে ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোকে সংযোগকারী মহাসড়কের একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথে

    মিয়ানমারে একটি সেচ বাঁধ ভেঙে প্রায় ৮৫ গ্রাম ডুবে গেছে এবং ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এতে দেশটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে

    এ বিপর্যয়ে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাঁধগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। গত মাসে লাওসে একটি পানি, বিদ্যুৎ ও বাঁধ ভেঙে হাজার হাজার লোক উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। এতে প্রায় ২৭ জন নিহত হন।

    বুধবার মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলীয় সওয়ার খাঁড়ির ওই বাঁধটি ভেঙে যায়; এতে নেমে আসা পানির প্রবল ধারায় সামনের গ্রামগুলো ভেসে যায় এবং নিকটবর্তী সওয়ার ও ইয়েদাশি শহর ডুবে যায়।

    বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই দিনই দেশটির দমকল বাহিনী, সেনারা ও কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে দেন।

    বাঁধের কাছে বন্যার পানি কমেছে বলে গ্লোবাল নিউলাইট অব মিয়ানমার সংবাদপত্রকে জানিয়েছেন দেশটির সেচ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপমহাপরিচালক জাও লউয়িন তুন।

    তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পানি বের হওয়ার পথটির কারণেই বাঁধটি ভেঙে পড়েছে। এমনিতে বাঁধটির অবস্থা ভালোই ছিল।

    বাঁধ ভেঙে ৮৫ গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে এবং এতে ৬৩ হাজারেরও বেশি লোক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাসড়কের একটি অংশও ডুবে গেছে বলে জানিয়েছে পত্রিকাটি।

    দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, কয়েক দিন আগে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে অতিরিক্ত পানি বের হওয়া শুরু হলে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে, কিন্তু কর্তৃপক্ষ বাঁধটি ঠিক আছে বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেছিল।

    বাঁধটির পানি ধারণক্ষমতা ২,১৬,৩৫০ একর-ফুট বলে জানিয়েছে রয়টার্স। বন্যার কারণে ইয়াঙ্গুন, মান্দালয় ও রাজধানী নেপিদোকে সংযোগকারী মহাসড়কের একটি ব্রিজ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ওই পথ

  • ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

    ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ

    ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক বেসামরিক লোক হতাহত হয়েছেন। এর মধ্যে কিছু হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেন, বাজার, বিয়েবাড়ি এমনকি ‍মাছ ধরার নৌকায়ও বোমা ফেলছে। ইয়েমেনে পশ্চিমা সমর্থিত প্রেসিডেন্ট আব্দু-রাব্বু মনসুর হাদি সরকারকে ক্ষমতায় পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে তাদের পক্ষে যুদ্ধ করছে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন জোট। ২০১৫ সালে হুতি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানার দখল নিয়ে হাদিকে গৃহবন্দি করেছিল। পরে হাদি গৃহবন্দিত্ব থেকে পালিয়ে যান এবং মিত্র দেশগুলোর সহায়তায় ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা নেন। মানবাধিকারবিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল বলছে, সৌদি জোট রেড সির বিভিন্ন বন্দর এবং সানা বিমানবন্দরে অত্যন্ত কড়াকড়ি ব্যবস্থা আরোপ করায় ইয়েমেন জুড়ে জরুরি ত্রাণ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। এটিও আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। মঙ্গলবার বিশেষজ্ঞরা জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে তাদের প্রথম প্রতিবেদন জমা দেন। এতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিক হতাহতের যেসব ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে, তার বেশিরভাগই জোটের বিমান হামলার কারণে হয়েছে। গত তিন বছরে আবাসিক এলাকা, বাজার, দাফন, বিয়ের অনুষ্ঠান, কারাগার, বেসামরিক নাগরিকদের বহনকারী নৌকা এমনকি হাসপাতালেও বিমান হামলা চালানো হয়েছে। ওই প্যানেল ১১টি অত্যন্ত গুরুতর এবং উদ্বেগজনক হামলার ঘটনা নিয়ে তদন্ত করেছে, যেগুলোর ক্ষেত্রে জোটের হামলার লক্ষ্যবস্তু ঠিক করার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, কখনও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী এবং কখনো সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ জোট বাহিনী থেকে এমন সব হামলা চালানো হয়েছে, যেখানে হামলার ক্ষেত্রে বেসামরিক মানুষদের অবস্থানের মধ্যে পার্থক্য, অনুপাতিক অবস্থা ও সতর্কতার মূলনীতির গুরুতর লঙ্ঘন দেখা গেছে, যা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি ইয়েমেন সরকারের কাছে পাঠানো হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিবেদনে হুতি বিদ্রোহীরাও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা করেছে বলে জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, হুতি বিদ্রোহীরাও সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমের নগরী তাইজে রসদ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে এবং কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ নগরীতে গোলাবর্ষণ করেছে। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের নির্যাতন করেছে, যা যুদ্ধাপরাধ বলে জানায় ওই কমিটি। ইয়েমেনে গৃহযু্দ্ধ ‍অবসানের পথ খুঁজতে আগামী ৬ সেপ্টেম্বর জেনেভায় সরকার ও হুতি বিদ্রোহী প্রতিনিধিদের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। তার আগে দিয়ে ৪১ পাতার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হল।

  • মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন আর নেই

    মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন আর নেই

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সিনেটর জন ম্যাককেইন স্থানীয় সময় শনিবার মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।২০১৭ সালে ম্যাককেইনের মস্তিষ্ক থেকে টিউমার অপসারণ করতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। এর ফলোআপ চিকিৎসা চলছিল তার। গত শুক্রবার তিনি আর চিকিৎসা নেবেন না বলে জানিয়ে দেন।ভিয়েতনাম যুদ্ধে মার্কিন নৌবাহিনীর বোমারু বিমানের পাইলট ছিলেন তিনি। যুদ্ধে তার বিমান ভূপাতিত হলে সেখানে তাকে ৫ বছর কারাভোগও করতে হয়েছিল। এ জন্য তাকে জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করা হয়।ছয় মেয়াদে সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ম্যাককেইন। ২০০৮ সালে রিপাবলিকান দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়েছিলেন তিনি। তার প্রতিপক্ষ ছিলেন ডেমোক্র্যাট দলের বারাক ওবামা।তার ছেলে ও নাতিরা নেভির অ্যাডমিরাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। মৃত্যুর ঘোষণা দেয়ার পর পরই শ্রদ্ধা জানাতে শুরু করেছেন অনেকেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, সিনেটর জন ম্যাককেইনের পরিবারের প্রতি আমার সমবেদনা ও শ্রদ্ধা রইল। আমাদের হৃদয় ও প্রার্থনা আপনাদের সঙ্গে আছে। ট্রাম্পের কট্টর সমালোচক ছিলেন প্রয়াত সিনেটর। বারাক ওবামা বলেন, জন যে ধরনের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে, সে রকম মানুষ আমাদের মধ্যে নেই। তার যে সাহস ছিল তা আর কারো ছিল না। সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, আমেরিকায় ম্যাককেইনের প্রভাব শেষ হয়নি।