Category: আন্তর্জাতিক

  • দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে মোদি, চিন্তিত চীন

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে মোদি, চিন্তিত চীন

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরে গেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার রাতে তিনি পাঁচদিনের এ সফরে রওনা হয়েছেন। ইতোমধ্যে তিনি পৌঁছেছেন ইন্দোনেশিয়ায়। তারপর যাবেন মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে। এই সফরে বিভিন্ন রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে বৈঠক করবেন মোদি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর এ সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

    ক্ষমতার চার বছর পূর্ণ করল মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার। আর এরই মধ্যে মোদি বেরিয়েছেন বিভিন্ন দেশ সফরে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফরের সময় শিক্ষার্থীদের এবং শীর্ষ নামী সংস্থার সিইওদের সঙ্গে আলোচনায় বসাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন তিনি।

    ভারত সরকারের ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতিকে জোরদার করতেই মোদির এই সফরের মূল কারণ বলে ধারণা কূটনীতিক মহলের। বিশেষ করে মোদি ইন্দোনেশিয়ার সবং দ্বীপের বন্দরে বিনিয়োগের প্রস্তাব দেবেন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

    সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রী লুহুত পন্দজাইতান জানিয়েছিলেন, সবং বন্দরের গভীরতা ৪০ মিটার। ফলে সব ধরনের জাহাজ, এমনকী সাবমেরিনের জন্যও এটি কার্যকরী।’

    আর ইন্দোনেশীয় মন্ত্রীর এই মন্তব্যেই চিন্তিত চীন। মোদির দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর নিয়ে চীনের সরকারি সংবাদমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তারা বলছে, ভারত সবং-এ বানিজ্য ঘাঁটি গড়লে অসুবিধা নেই। তাতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বানিজ্য সম্ভাবনাই বাড়বে। কিন্তু যদি ভারত সেখানে সামরিক ঘাঁটি গড়তে চায় তাহলে সরাসরি চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে হবে ভারতকে। সেক্ষেত্রে ভারতের হাতই পুড়বে বলে দাবি করেছে চীনা গণমাধ্যম।

    তারা বলছে, শ্রীলঙ্কার হামবানতোতা বন্দরের কথা। ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ-বন্দরটি চীনের সরকারি এক সংস্থাকে শ্রীলঙ্কা ৯৯ বছরের জন্য লিজ দিয়েছে। এখনও পর্যন্ত ওই বন্দরটি চীন ভারত মহাসাগরে বানিজ্যের কাজে ব্যবহার করে। কিন্তু তারা হুমকি দিয়ে বলছে, ভারত যদি সবং বন্দরে সামরিক ঘাঁটি গড়ে চীনের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চায়, সেক্ষেত্রে চীন ছেড়ে কথা বলবে না। তারাও ভারত মহাসাগরে সামরিক কার্যক্রম চালু করবে।

    এসব কূটনৈতিক প্যাঁচের বাইরে বেশ কিছু সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও আছে প্রধানমন্ত্রী মোদির। দুদিনের ইন্দোনেশিয়া সফরে জাকার্তার কনভেনশন হলে মিলিত হবেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের সঙ্গে।

    দিল্লির সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, কৈলাস খেরের গানের মধ্য দিয়ে মোদিকে বরণ করে নেবেন প্রবাসী ভারতীয়রা। মোদির এই আগমন নিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের মধ্যে দারুন উৎসাহ দেখা দিয়েছে। শুধু জাকার্তা নয়, বালি, সুরাবায়া, সামারা থেকেও ভারতীয়রা আসছেন প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ শুনতে, তার সঙ্গে মিলিত হতে।

    এই অনুষ্ঠান ঘিরে সমগ্র ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী ভারতীয়দের এক হতে দেখা যাবে বলে দাবি উদ্যোক্তাদের। মোদিকে হাতের কাছে পাওয়ার সূযোগ প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে খুব একটা আসে না। তাই প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি আব্দারও করতে চান তারা।

    দেশটিতে বসবাসকারী ভারতীয়দের অভিযোগ, আগে ভারত-ইন্দোনেশিয়া সরাসরি বিমান যোগাযোগ ছিল। এখন তা বন্ধ হয়ে গেছে। তারা নতুন বিমান চালু করার দাবি রাখবেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তাতে, শিক্ষা থেকে স্বাস্থ্য সব প্রয়োজনেই দেশের সঙ্গে তারা সহজে যোগাযোগ রাখতে পারবেন।

    এছাড়া গত কয়েকবছরে ইন্দোনেশিয়ায় ভারতীয় পন্য পাওয়া ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেদিকেও নরেন্দ্র মোদীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইবেন তারা। এছাড়া দুদেশের মধ্যে বানিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ুক তাও চাইছেন ইন্দোনেশিয়ায় বসবাসকারী প্রবাসী ভারতীয়রা।

  • মঙ্গোলিয়ায় ভবিষ্যৎ খেয়ে ফেলছে ভেড়া-ছাগল

    মঙ্গোলিয়ায় ভবিষ্যৎ খেয়ে ফেলছে ভেড়া-ছাগল

    মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমিতে ছাগল ও ভেড়ার আধিক্য খাদ্য সঙ্কটের সৃষ্টি করছে৷ ফলে শীতকালে প্রচুর গবাদি পশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে৷ এ অবস্থা থেকে উত্তরণে জাতিসংঘ বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে।

    মরুভূমির দেশ মঙ্গোলিয়া। দেশটিতে তৃণভূমির পরিমাণ সামান্য। দেশটির স্বল্পপরিমাণ তৃণভূমিতে চারণ করে প্রায় পাঁচ কোটি ছাগল ও ভেড়া। আর এই ছাগল-ভেড়াগুলোই মঙ্গোলিয়ানদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    কারণ তৃণভূমিতে ঘাস বা তৃণলতা মূলসহ খেয়ে ফেলছে ছাগল ও ভেড়া। এর ফলে তৃণভূমিতে ঘাস ও লতাপাতা জন্মানোর পথ রোধ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ছাগল ভেড়া নিজেদের ভবিষ্যৎ যেমন সঙ্কটে ফেলছে ঠিক তেমনই খামারিদের ভবিষ্যৎও শঙ্কার মধ্যে ফেলছে। খবর ডয়চে ভেলের।

    দেশটিতে শীতের সময় হাজার হাজার ছাগল ও ভেড়ার মৃত্যু হয়। কারণ তীব্র শীত প্রতিরোধের জন্য তারা তাদের শরীরের খুব বেশি চর্বি জমাতে পারে না। এর ফলে পশুপালনকারীরাও হতাশ হয়ে পড়ছেন। একই সময়ে অনেকগুলো ছাগল ও ভেড়ার মৃত্যু তাদেরকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে।

    আর এমনভাবে চলতে থাকলে আগামী দশ বছরের মধ্যে মঙ্গোলিয়া থেকে ছাগল ভেড়া উধাও হয়ে যাবে। আর এটা হলে পশুপালনের সঙ্গে যুক্ত থাকা হাজার হাজার মানুষ বেকার হয়ে পড়বেন বা অর্থনৈতিক সঙ্কটে পড়বেন।

    এমন সমস্যা সমাধানে বিকল্প একটি চিন্তা বের করেছে জাতিসংঘ। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী যার যত বেশি পশু তার তত বেশি কর দিতে হবে। এতে ভেড়া বা ছাগলের সংখ্যা কমে আসবে এবং প্রত্যেক ছাগল ও ভেড়া যত্ন পাবে। আর খাদ্যের ওপর চাম কমার ফলে মঙ্গোলিয়ার তৃণভূমি রক্ষা পাবে।

  • দেড় লাখ গরু হত্যার পরিকল্পনা!

    দেড় লাখ গরু হত্যার পরিকল্পনা!

    দেড় লাখ গরু হত্যার পরিকল্পনা করছে নিউজিল্যান্ড। মাইকোপ্লাজমা বোভিস নামে ব্যাকটেরিয়া জনিত এই রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে দেশটিতে। রোগটি ক্রমেই বিস্তার লাভ করছে। সে কারণেই দেশটির সরকার দেড় লাখেরও বেশি গরু মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

    ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল সোমবার নিউজিল্যান্ড সরকার এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে মাইকোপ্লাজমা বোভিস নামের একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের বিস্তার রোধে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    নিউজিল্যান্ড সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই কাজে কোটি কোটি ডলার খরচ হবে। তবে পরিকল্পনা সফল হলে, প্রথমবারের মত নিউজিল্যান্ড সংক্রমিত মাইকোপ্লাজমা বোভিস নামের এই ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্তি পাবে।

    এ বিষয়ে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেকিনা আরদেম বলেছেন, ‘এই পরিকল্পনা অর্থনৈতিক দিক থেকে সমস্যায় ফেলবে।’ কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় এই পরিকল্পনা। তার আশা মাইকোপ্লাজমা বোভিস দেশ থেকে নির্মূল হবে।

    এদিকে নিউজিল্যান্ডের ফেডারেটেড কৃষক গ্রুপের প্রধান সভাপতি কেটি মিলানে বলেছেন, মাইকোপ্লাজমা বোভিস ব্যাকটেরিয়া থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি হলেও, কৃষকদের ক্ষতির দিকটিও দেখছে সরকার। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    এর আগে ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে গত বছর জুলাইতে প্রথম মাইকোপ্লাজমা বোভিসের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। চলতি বছর নিউজিল্যান্ডের ৩৮টি খামারে এই ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মেলে। এর আগেও প্রায় ২৪ হাজার গরু মেরে ফেলা হয়।

  • সিঙ্গাপুরে যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা

    সিঙ্গাপুরে যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার শীর্ষ কর্মকর্তারা

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং-উনের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের প্রস্তুতির জন্য দুই দেশের শীর্ষ কর্মকর্তারা বর্তমানে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করছেন। আজ মঙ্গলবার জাপানি ব্রডকাস্টার এনএইচকে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহে আগামী ১২ জুন বৈঠকের জন্য চূড়ান্ত দিন ঠিক করেন ট্রাম্প। সিঙ্গাপুরে নির্ধারিত সময়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান তিনি।    বৈঠকের জন্য গতকাল সোমবার মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি ‘প্রাক অগ্রবর্তী’ দল সিঙ্গাপুরে পৌঁছায়। এদিকে আজ মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের স্থানীয় একটি হোটেলে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ ফর অপারেশন্স জো হ্যাগিনকে দেখা গেছে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাত করবেন কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে হ্যাগিন বলেন, ‘এখানে অনেক মিটিং হবে।’ অন্যদিকে গতকাল সোমবার রাতে সিঙ্গাপুরে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন। সপ্তাহখানেক আগেও কূটনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সিঙ্গাপুর বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। আর এর আগে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত চাপ দিচ্ছে অভিযোগ তুলে কিমও সম্মেলন বাতিলের হুমকি দিয়েছিলেন। বহুল প্রতীক্ষিত এই সম্মেলনের আলোচ্য বিষয় কী হবে-এখনো সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, কোরীয় উপদ্বীপ পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করা এবং উত্তেজনা প্রশমণই আলোচনার মূল বিষয়বস্তু হতে পারে।

  • এক বছরে ধূমপান ছেড়েছে ১০ লাখ ফরাসি

    এক বছরে ধূমপান ছেড়েছে ১০ লাখ ফরাসি

    মাদকের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে বেশ সফলতা পেয়েছেন ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তে। এবার ধূমপানের বিরুদ্ধে নানা পদক্ষেপ নিয়ে সফলতা পেতে শুরু করেছে ফ্রান্স। কেবল এক বছরেই দেশটির ১০ লাখ ব্যক্তি ধূমপান ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটি।

    বিশ্বের প্রতি ১০টি মৃত্যুর একটি ধূমপানের কারণ বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছিল। ২০১৫ সালে চালানো ওই গবেষণায় বলা হয়েছিল, বিশ্বের ১০০ কোটি মানুষ রয়েছেন, যারা প্রতিদিনই ধূমপান করেন। ধূমপান প্রতিরোধে নানা ধরনের পদক্ষেপ নেয় বিভিন্ন দেশের সরকার।

    পাবলিক হেলথ ফ্রান্স ২০১৭ সালে জরিপ চালিয়ে দেখে, প্রতিদিন ধূমপান করেন এমন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের হার এখন ২৬ দশমিক ৯ শতাংশ, যা আগের বছর ছিল ২৯ দশমিক ৪ শতাংশ। এরপর তারা এমন পদক্ষেপ নেয় যে, এই এক বছরে দেশটিতে ধূমপায়ীর সংখ্যা ১ কোটি ৩২ লাখ থেকে ১ কোটি ২২ লাখে নেমে এসেছে।

    জরিপে বলা হয়েছিল, তরুণ এবং স্বল্প আয়ের মানুষের ধূমপান ছাড়ার প্রবণতা বেশি। ধূমপান ছাড়ার প্রবণতার ক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকেই কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে জরিপে। এই সময়ে ফরাসি সরকার তামাকের দাম বাড়ানোর পাশাপাশি তামাকমুক্ত মাস পালনসহ ধূমপানবিরোধী নানা কর্মসূচি চালায়। সূত্র: বিবিসি

  • বাস্তবের ‘স্পাইডারম্যান’ পেলেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব

    বাস্তবের ‘স্পাইডারম্যান’ পেলেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব

    এ যেন হলিউডের ছবি।  চারতলার বারান্দার রেলিং বেয়ে ঝুলছে এক শিশু। এমন সময় তরতরিয়ে দালান বেয়ে তার কাছে পৌঁছে গেলেন এক যুবক। কোনোমতে শিশুটিকে উদ্ধার করলেন তিনি। উদ্ধারকাজে তার সময় লাগে মাত্র ৩৫ সেকেন্ড!

    গত শনিবার সন্ধ্যায় ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঘটে যাওয়া এই ঘটনার নায়ক মামউদু গাসামা নামের এক তরুণ। বীরত্বপূর্ণ এই কাজের জন্য তাকে ‘১৮ সালের স্পাইডারম্যান’ খেতাব দিয়েছেন প্যারিসের মেয়র অ্যানি হিদলগো। আর দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরোঁ দিয়েছেন ফ্রান্সের নাগরিকত্ব।

    প্যারিসের ইলিজে প্যালেসে গাসামার সঙ্গে দেখা করার পর নাগরিকত্ব দেন ম্যাকরোঁ। সাহসিকতার জন্য তাকে একটি মেডেলও দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, গাসামাকে ফ্রান্সের ফায়ার সার্ভিসে কাজ করার সুযোগও করে দেন তিনি।

    সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান ও স্কাই নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়,ঘটনার সময় শিশুটির মা বাবা কেউই বাসায় ছিলেন না। আর একই সময় শিশুটিকে বাঁচানোর জন্য পাশের ফ্ল্যাটের এক ব্যক্তি চেষ্টা করছিলেন। তবে বারান্দার মাঝে দেয়াল থাকায় তিনি শিশুটিকে উদ্ধার করতে পারছিলেন না।

    ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর এ বিষয়ে মামোউডু বলেন,’কাজটি কোনো চিন্তা না করেই করেছি। দেখলাম, শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে সবাই শুধু চিৎকার করছে এবং গাড়িগুলো হর্ন বাজাচ্ছে। ঠিক তখনই আমি বিল্ডিংয়ের বারান্দা দিয়ে উপরে উঠি। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ,বাচ্চাটিকে রক্ষা করতে পেরেছি।’

    প্যারিসের মেয়র হিদলগো এক টুইট বার্তায় বলেন,‘আমাকে মামোউডু জানিয়েছে, সে মালি থেকে কয়েক মাস আগে শরণার্থী হিসেবে ফ্রান্সে এসেছে এবং এখানে সে স্থায়ী হতে চায়। ফ্রান্সে তাকে স্থায়ী হওয়ার জন্য সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে আশ্বস্ত করছি। তার এমন সাহসিকতার কাজ সকল নাগরিকের জন্য একটি দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ।’