Category: আন্তর্জাতিক

  • গর্ভপাতের পক্ষে ভোট আইরিশদের

    গর্ভপাতের পক্ষে ভোট আইরিশদের

    আয়ারল্যান্ডের প্রায় ৬৫ শতাংশ নাগরিক গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন। শনিবার দেশটিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের পর এই তথ্য উঠে এসেছে।

    গর্ভপাতের কঠোর আইনের পক্ষে-বিপক্ষে দেয়া গণভোটে মোট ৬৬.৪০ শতাংশ আইরিশ ভোট দেয়। এর মধ্যে গর্ভপাতকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার পক্ষে ভোট দেন ৬৪.৫১ শতাংশ ভোটার। খবর আনাদুলু এজেন্সির।

    দেশটির প্রধানমন্ত্রী লিও ভারাদকার বলেন, ‘গত ২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় এক ‘নীরব বিপ্লব’ দেখছে আয়ারল্যান্ড। নারীদের প্রতি বিশ্বাস ও সম্মান দেখিয়ে তাদের স্বাধীনতা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা বেছে নেয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন জনগণ।

    দেশটির সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটারই সংবিধানের অষ্টম সংশোধনী বাতিলের পক্ষে। কারণ এই সংশোধনীতে গর্ভপাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে আইন করা হয়।

    ১৯৯২ সালে ধর্ষণের শিকার হওয়া এক তরুণী গর্ভবতী হয়ে পড়লেও তাকে গর্ভপাতের অনুমতি দেয়া হয়নি, পরে তিনি আত্মহত্যা করেন। ২০১৪ সালে মস্তিস্ক অকার্যকর হলে আরেক গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল, যাতে তার গর্ভের সন্তানের মৃত্যু না হয়।

    বিভিন্ন সময় এমন বিতর্কিত ঘটনার পর দেশটিতে গর্ভপাত আইন সংশোধনের দাবি ওঠে। তারই প্রেক্ষিতে শুক্রবার গর্ভপাত আইন শিথিল হবে নাকি আগের মতোই কঠোর থাকবে সে বিষয়ে দেশব্যাপী গণভোট অনুষ্ঠিত হয়।

    গর্ভপাত আইনের শিথিলতায় বলা হয়- ধর্ষণের ফলে অবাঞ্ছিত গর্ভধারণ, গর্ভে থাকা শিশুর জন্মের পর মৃত্যুর আশঙ্কা ইত্যাদি কারণে গর্ভপাতকে বৈধতা দেয়া যায়।

    আয়ারল্যান্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখা করে বলেছেন, ‘প্রতিদিন নয় জন আইরিশ মহিলা যুক্তরাষ্ট্রে যান ভ্রূণের পরিসমাপ্তি ঘটাতে৷ অন্যদিকে কমপক্ষে তিনজন আইরিশ মহিলা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ খেয়ে গর্ভের ভ্রূণকে নষ্ট করার চেষ্টা করেন৷ এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনি রূপরেখা থাকা দরকার।’

    গর্ভপাত বিরোধী গোষ্ঠীর আইনজীবী ক্যারোলিন সিমন্স বলেন, ‘অষ্টম সংশোধনী একজন চিকিৎসককে গর্ভস্থ শিশুর প্রাণ কাড়তে বাধা দেয় এবং এই কারণেই আমরা এর পক্ষে ভোট দিয়েছি।’ তবে শেষ পর্যন্ত গর্ভপাত নিষিদ্ধের আইন বাতিলের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন সাধারণ আইরিশরা।

    উল্লেখ্য, ১৯৮৩ সালে গণভোটের মাধ্যমে আয়ারল্যান্ডে গর্ভপাতকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর অষ্টম সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হয়। আইনি জটিলতার ভয়ে হাসপাতালগুলো গর্ভপাত করাতে রাজি হয় না। এই আইনের কারণে মারাত্মক কারণেও গর্ভপাতের অনুমতি ছিল না দেশটিতে।  আর এর ফলে অনেকক্ষেত্রেই প্রাণহানি ঘটে অনেক মায়ের। এ কারণে গর্ভপাত সংক্রান্ত আইন বাতিলে দাবিতে সোচ্চার হয় নাগরিকদের একাংশ।

  • হাসিনার সঙ্গে কী কথা খোলাসা করলেন না মমতা

    হাসিনার সঙ্গে কী কথা খোলাসা করলেন না মমতা

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আধা ঘণ্টার একান্ত বৈঠক। বেরিয়ে এসে মিনিট চারেক গণমাধ্যম কর্মীদের সঙ্গে কথা বললেন মমতা। কিন্তু কথার ঢংয়ে রাখ রাখ গুরগুর। বললেন অনেক কিছুই, আবার বললেন না কিছুই।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিন শনিবার দেশে ফেরার আগে সন্ধ্যায় কলকাতার বেঙ্গল তাজ হোটেলে কথা হলো দুই নেতার মধ্যে।
    স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ৬টা ২৫ মিনিট থেকে শুরু করে এই বৈঠক চলে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত। বৈঠক শেষে গণমাধ্যম কর্মীদেরকে কিছু বলেননি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
    তবে স্বভাবসুলভ দ্রুতলয়ে হেঁটে বের হয়ে আসার সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মোট তিন মিনিট ৫৭ সেকেন্ড কথা বললেন মমতা। এখানেও তিনি তার স্বাভাবিক ঢংয়ে কথা বলেছেন দ্রুতলয়ে। আর বেশি প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে চলে গেলেন হঠাৎ কথা থামিয়ে।

    মমতার সঙ্গে শেখ হাসিনার এই বৈঠকে দুই দেশেরই দৃষ্টি ছিল তিস্তা নিয়ে মমতা কী বলেন। ২০১১ সালে যখন অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন নিয়ে চুক্তি কেবল সইয়ের অপেক্ষা, তখন মমতা হঠাৎ বেঁকে বসেন। জানিয়ে দেন, তিনি চুক্তি মানবেন না। আর তার অমতে কংগ্রেস সরকার এগিয়ে গেলে সরকারের ওপর থেকে সমর্থন তুলে নেবেন।
    বর্তমানের মোদি সরকারের আর মমতার সমর্থন দরকার নেই। তারপরও তার অমতে চুক্তির বিষয়টি আগাতে চায় না।

    ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কথা দিয়েছিলেন, বর্তমান সরকারের আমলেই এই চুক্তি হবে।
    যদিও প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের উদ্দেশ্য তিস্তা চুক্তি নয়, তারপরও এ নিয়েই দৃষ্টি ছিল দুই দেশেই। সফরের প্রথম দিন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করেন। আর দ্বিতীয় দিন চুরুলিয়ায় কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিয়ে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি নেন।

    শেখ হাসিনার এই সফরের উদ্দেশ্য এই দুটি বিষয়ের বাইরে তিস্তা নয়, সেটা আগেই জানিয়েছিল সরকার। তারপরও সফরের প্রথম তিন মোদির সঙ্গে শেখ হাসিনার একান্ত বৈঠকে এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারের সূত্রগুলো। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই চুক্তির বিষয়টিতে অগ্রগতি আছে।
    দুপুরে কাদের যখন এই বক্তব্য রাখেন, তখন তিনি সন্ধ্যায় মমতার সঙ্গে বৈঠকের বিষয়টি তুলেন। ইঙ্গিত দেন এখানে কিছু হতে পারে।
    তবে মোদির সঙ্গে এক ঘণ্টা এবং মমতার সঙ্গে আধা ঘণ্টা বৈঠকে তিস্তা নিয়ে কী কথা হলো, সেটা এখনও জানা যায়নি। মমতা এই প্রসঙ্গটা নিয়ে কিছুই বলেননি গণমাধ্যমকে।
    কী নিয়ে আলোচনা হয়েছে-জানতে চাইলে মমতা প্রথমে ইংরেজিতে বলেন, ‘তার বিস্তারিত আমি এখন এখানে বলতে চাই না। আমি বলছি না। গতকাল যা হয়েছে, সেটা আলাদা অধ্যায়, আজকেরটা আরেকটা অধ্যায়।’

    পরে মমতা বাংলাতেই বলতে থাকেন। বলেন, ‘আজকের মিটিংটা খুব ভালো হয়েছে। এপার বাংলা ইন্ডিয়ারই পার্ট। এপার বাংলার সাথে ওপার বাংলার মিটিং অলওয়েজ ভালো হয়। আমাদের রিলেশন অলওয়েজ সৌজন্যমূলক, বন্ধুত্বপূর্ণ, ভাতৃত্বের বন্ধনে সম্প্রীতির সৌজন্যে।’

    ‘দুই দেশের বিভিন্ন ব্যাপার নিয়ে আমরা সব সময় আলোচনা করি। আমাদের কৃষ্টি, আমাদের কালচার, আমাদের বিজনেস, দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক কীভাবে উন্নতি করা যায়, সবাই যেন ভালো থাকে দুই দেশের, এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’

    ‘শেখ হাসিনার সাথে আমার রিলেশন একটা পার্সনাল লেভেলের। এটা আজকের নয়, দীর্ঘ ২০-২৫ বছরের।… তিনি এখন প্রধানমন্ত্রী, যখন তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না, তখনও তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল।’

    ‘উনি সম্মানসূচক ডিলিট ডিগ্রি নিয়েছেন, এটা আমাদের সম্মান বাড়িয়েছে। আমরা খুশি যে বিশ্বভারতীতে উনি এসেছেন। বাংলাদেশ ভবনের উদ্বোধন হয়েছে। আমরা এখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরোরিয়াল মিউজিয়াম করতে চাই। সেটা দুটো দেশ রাজি হলে পারমিশন দিলেই আমরা এটা করব।’

    ‘আরেকটা মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে, মুক্তিযুদ্ধের সাথে একটা জায়গা অনেক রিলেটেড ছিল। সেটা ওনারা রিস্টোর করতে চান। এটা দুই দেশের আলাপ আলোচনার বিষয়। এ নিয়ে বিভিন্ন কথাবার্তা হয়েছে।’

    ‘আবার আসবার জন্য অনুরোধ জানিয়েছি, ওনারা বারবার আসুক এটা আমরা চাই। আমরাও বারবার যাব বাংলাদেশে, এটা ওনারাও চান। দুই দেশের সম্পর্ককে দুই দেশেরই মেইনটেইন করতে হবে।’

    বাংলাদেশ সফরে আসতে আমন্ত্রণ পেয়েছেন কি না- জানতে চাইলে মমতা বলেন, ‘সব সময়, এটা ওপেন ইনভিটেশন। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে বাউন্ডারি কোনো কিছু পলিটিক্যাল বাউন্ডারি কিছু আছে বলে আমার জানা নেই। ইটস অ্যা ওপেন বাউন্ডারি।’

    ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে খুব ভালোবাসেন, আমরাও খুব ভালোবাসি। আমাদের যখনই দেখা হয়, অনেক ব্যাপারে আমরা কথা বলি, আলোচনা হয়।’
    ‘ওখানে উনি যথেষ্ট ভালো আছে, ভালো করছেন, ভালো করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি। ওনাদের আমার কাছে চাইবার কিছু নেই। আর ভারতবর্ষের সঙ্গে ওনাদের যে সম্পর্ক, মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান থেকে শুরু করে ফ্রম দ্য বিগিনিং, এটা ছিল, আছে থাকবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’

    তিস্তা নিয়ে কথা হয়েছে কি না, হলে কী কথা হয়েছে, এই প্রশ্নটা করার আর সুযোগ দিলেন না মমতা। হঠাৎ কথা থামিয়ে ঘুরে হাঁটা শুরু করলেন তিনি।

  • রমজানে ‘স্থগিত’ বলেও কাশ্মিরে অভিযান, নিহত ৫

    রমজানে ‘স্থগিত’ বলেও কাশ্মিরে অভিযান, নিহত ৫

    পবিত্র রমজান মাসে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ার পরও সেখানে অভিযান চালিয়েছে ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী।

    শনিবার নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর ভারতের সেনাবাহিনীর গুলিতে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। ভারতীয় বাহিনীর দাবি তারা সকলেই সন্ত্রাসী। সীমান্তে অনুপ্রবেশের সময় অভিযানে তাদের মৃত্যু হয়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

    গত কয়েক মাসে নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানে কয়েক ডজন মানুষ নিহতের ঘটনায় কাশ্মির এক প্রকার উত্তপ্ত। এ অবস্থায় পবিত্র রমজানের শুরুতে সেখানে সব ধরনের সামরিক অভিযান বন্ধের ঘোষণা দেয় ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গত দুই দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো এমন পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হলেও শনিবার সেখানে আবারও অভিযান চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

    কাশ্মিরের রাজধানী শ্রীনগর থেকে ১২০ কিলোমিটার দূরের উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্ত টাংডার এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়।

    দেশিটর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, শনিবার ভোরে অনুপ্রবেশ চেষ্টার সময়ে পাঁচ সন্ত্রাসী নিহত হয়।

    ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর থেকেই কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের দ্বন্দ্ব চলে আসছে। কাশ্মিরের সাধারণ জনগণের একটি অংশ স্বাধীনতার পক্ষে। আরেকটি অংশ স্বায়ত্ত শাসন চায়। কেউ আবার পাকিস্তানের সঙ্গে অঙ্গীভূত হতে চায়। এদের মধ্যে থেকেই কিছু লোক দাবি আদায়ে সশস্ত্র আন্দোলনে নামে।

    তবে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ কাশ্মিরের জাতিমুক্তি আন্দোলনকে বিভিন্ন জঙ্গিবাদী তৎপরতার মতোই মনে করে। সন্দেহভাজন জঙ্গি নাম দিয়ে বহু বিদ্রোহীর পাশাপাশি বেসামরিকদের হত্যার অভিযোগ রয়েছে ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রাম ও অভিযানে গত পঞ্চাশ বছরে নব্বই হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে কাশ্মিরে। আর গত কয়েক মাসে কয়েক ডজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে বিভিন্ন অভিযানে।

  • ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট

    ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট

    গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি চালিয়ে শতাধিক ফিলিস্তিনিকে হত্যা করায় ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে পিটিশন দায়ের করেছিলো দুটি মানবাধিকার সংস্থা। বৃহস্পতিবার সেই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত। ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য করা পিটিশন খারিজ করার পাশাপাশি সরাসরি গুলি করার পক্ষে রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

    তিনজন বিচারকের ওই বেঞ্চ প্রকৃতপক্ষে ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ নেয়। পিটিশন খারিজের পর আদালতের দেয়া বিবৃতিতে ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদেরকে ইসরায়েলিদের জন্য ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক উল্লেখ করে তাদের রুখতে ইসরায়েলি বাহিনীকে সরাসরি গুলি করার বৈধতা দেয়া হয়। খবর আল জাজিরার।

    ইসরায়েল বলছে, সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক ও জাতীয় আইন মেনে সরাসরি গুলি করছে তাদের বাহিনীর সদস্যরা। সংঘাত সৃষ্টিকারী হামাসের বিক্ষোভ থেকে নিজেদের রক্ষা করতেই তারা সরাসরি গুলি করছে বলেও জানায় ইসরায়েল।

    পিটিশন খারিজ করে জারি করা রুলে ইসরায়েলি বাহিনীর সরাসরি গুলি করার পক্ষে মত দেয় ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট। গাজা সীমান্তে সরাসরি গুলি বন্ধের জন্য পিটিশন দায়ের করে ইসরায়েলে আরব সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করা মানবাধিকার সংগঠন `আদালত’ এবং ‘আল মিজান’।

    শুক্রবার দেয়া এক বিবৃতিতে দুই মানবাধিকার সংগঠন জানায়, পিটিশনে উপস্থাপিত বিস্তারিত প্রমাণ ও গাজায় নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদেরকে হত্যার নৃশংস ঘটনার বর্ণনা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার একাধিক রিপোর্ট সহ বিভিন্ন প্রমাণ সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষা করে ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালত।

    এছাড়া পিটিশনে প্রমাণ হিসেবে দেয়া ভিডিওগুলোও প্রত্যাখান করে আদালত। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর অভিযোগ, আদালত প্রকৃতপক্ষে মামলার তদন্তের পরিবর্তে রাষ্ট্রের সঙ্গে ঐক্যমত্য পোষণ করেছে।

    গত ৩০ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত আড়াই মাস ধরে গাজা সীমান্তে বিক্ষোভ করে সাধারণ ফিলিস্তিনিরা। এসময় কয়েক সপ্তাহে এসব নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলি করে শতাধিক ব্যক্তিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী। গত ১৪ মে জেরুজালেমে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস স্থানান্তরের প্রতিবাদে করা বিক্ষোভে গুলি করে ৬০ জনেও বেশি ফিলিস্তিনিকে হত্যা করে ইসরায়েলি বাহিনী।

    এঘটনায় উদ্বেগ ও নিন্দা প্রকাশ করে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশ ও সংগঠন। এছাড়া এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানায় অনেক দেশ। জাতিসংঘের জরুরী বৈঠকে গাজার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের প্রস্তাব উঠলে এর বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইসরায়েলের পক্ষ নিয়ে এ ঘটনায় হামাসকে দায়ী করে। সর্বশেষ ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টও নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিদের ওপর সরাসরি গুলির পক্ষে মত দিলো।

  • কিমের সঙ্গে বৈঠক, সুর পাল্টালেন ট্রাম্প

    কিমের সঙ্গে বৈঠক, সুর পাল্টালেন ট্রাম্প

    উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠক বাতিলের ঘোষণার একদিন পরই সুর পাল্টালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ‘এ খেলা সবাই খেলে’ এমন মন্তব্য করে ‘বৈঠক হতে পারে’ বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

    সিঙ্গাপুরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা দেখছি কি হয়, এমনকি জুনের ১২ তারিখেও এটা হতে পারে। আমরা এখন তাদের সাথে কথা বলছি। তারা খুব করে চাইছে এটা হোক, আমরাও এটা করতে চাই। খবর বিবিসির।

    ১২ জুন সিঙ্গাপুরে কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কয়েক দফা উত্তর কোরিয়া সফর করেন। এছাড়া কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক উপলক্ষে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ফলপ্রসু বৈঠকও করেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উন। এই দুই নেতার বৈঠকের ব্যাপারে আশার জাগলে গত বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। বৈঠক বাতিলের পেছনে তিনি উত্তর কোরিয়ার শত্রু মনোভাবকে দায়ী করেন।

    হঠাৎ করে ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলের ঘোষণা দেয়ায় এর তীব্র সমালোচনা করে উত্তর কোরিয়া। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো সময় বৈঠকে বসতে উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত বলে এক বিবৃতিতে জানায় দেশটি।

    বৈঠকের মধ্যস্ততাকারী দেশ দক্ষিণ কোরিয়া ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করে। মার্কিন মিত্র ফ্রান্স ও ব্রিটেন ট্রাম্পের বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্তকে পুনর্বিবেচনা করতে বলে।

    এরপর শুক্রবার ট্রাম্প সুর বদল করে কিম জংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হতে পারে বলে জানান। বৈঠক বাতিলের ঘোষণার পর উত্তর কোরিয়া যে বিবৃতি দিয়েছে সেটিকে ‘খুব সুন্দর বিবৃতি’ আখ্যায়িত করে ট্রাম্প বলেন, ‘এই খেলা সবাই খেলে’।

    বৈঠক বাতিলের পর উত্তর কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কিম কাই-গোয়ান বলেছিলেন, ট্রাম্পের ওই শীর্ষ বৈঠক বাতিল করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দু:খজনক।

    বৈঠকের ইতিবাচক খবরের ব্যাপারে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেন, ‘আমরা সম্ভবত কোরিয়া শীর্ষ বৈঠকের ব্যাপারে কিছু ভালো খবর পেয়েছি। আমাদের কূটনীতিকরা যদি ব্যাপারটা সম্ভব করতে পারে, তাহলে হয়তো সেটা হয়ে যেতেও পারে।’

    ট্রাম্প-কিম শীর্ষ বৈঠকে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সম্ভাব্য পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে রাজি আছেন- এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা।

    কিন্তু মার্কিন কর্মকর্তারা নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে লিবিয়ার দৃষ্টান্ত দিয়ে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার পর উত্তর কোরিয়া ক্ষিপ্ত হয়। উত্তর কোরিয়া জানায়, তারা একটি পূর্ণ পারমাণবিক শক্তিধর দেশ- লিবিয়া নয় এবং তাদের নেতৃত্ব বা রাষ্ট্র বিপন্ন হতে পারে এমন কোন শান্তি প্রক্রিয়ায় তারা জড়িত হবে না।

  • কঙ্গোয় নৌকাডুবে নিহত ৫০

    কঙ্গোয় নৌকাডুবে নিহত ৫০

    আফ্রিকার দেশ কঙ্গোতে নৌকাডুবে অন্তত ৫০ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন বেশ কয়েকজন যাত্রী। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার ৬০ জনেরও বেশি যাত্রী নিয়ে মনকোটো শহর থেকে মাবানডাকার উদ্দেশ্যে যাওয়ার সময় নৌকাটি ডুবে যায়।

    দেশটির উত্তরের টিশুয়াপা প্রদেশের উপ-গভর্নর ৫০ জনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করলেও ঘটনার কারণ জানাতে পারেননি।

    ধারণা করা হচ্ছে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাস থেকে বাঁচতে মনকোটো শহর থেকে মাবাডাকায় যাচ্ছিলেন যাত্রীরা। মনকোটোতে ইবোলার কারণে অনেকের মৃত্যু হয়েছে। আর আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে ইবোলার আক্রমণ থেকে বাঁচতে বিভিন্ন শহরে পাড়ি দিচ্ছেন ওই এলাকার মানুষ। সম্প্রতি দেশটিতে নৌকাডুবির ঘটনায় ৪০ জন নিহত হয়।

    মনকোটো অঞ্চলে ইবোলার আক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন সংস্থা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিলও কার্যত তেমন কোনও ফল পাওয়া যাচ্ছে না।