Category: আন্তর্জাতিক

  • কানাডার কুইবেকে নিষিদ্ধ হলো নিকাব

    ঢাকা: কানাডার কুইবেক প্রদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের জন্য নিকাব পরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে একটি আইন পাশ হয়েছে। কুইবেকে ধর্মীয় নিরপেক্ষতা আইনটি বহু সমালোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই আইনটিই পাশ করেছে কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি।

    সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নারীদের বোরকা ও নিকাব পরা নিষিদ্ধ করে তাদের মুখ দেখানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে এই আইনটি পাশের মাধ্যমে।

    কুইবেক ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে ‘বিল সিক্সটি-টু’ নামের এই আইনটি পাশ হয় ৬৬-৫১ ভোটে। ২০১৪ সাল থেকে ক্ষমতায় থাকা লিবারেলরা দুবছর আগেই এই বিলটি উত্থাপন করেছিল।

    আর এখন এটি পাশ হবার কারণে-প্রদেশের আমলা, পুলিশ কর্মকর্তা, বাস চালক, ডাক্তার, মিডওয়াইভ এবং দাঁতের ডাক্তারসহ সরকারি যে কোনো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের মুখ অনাবৃত থাকতে হবে।

    এছাড়া প্রদেশের যেসব শিশুকেন্দ্রে ধর্মীয় শিক্ষা দেয়া হতো সেই সেবাও বন্ধ হয়ে যাবে-এই আইনে এমনটাই বলা হচ্ছে।
    তবে কুইবেকের এই আইনটিতে কোথাও মুসলিমদের বিশ্বাসের কথা উল্লেখ নেই।

    সরকার বলছে, কোনো ধরনের আচ্ছাদন বা আবরণ মুখে থাকবেনা এমনটাই আইনে বলা হচ্ছে, তার অর্থ এই নয় যে মুসলিমদের টার্গেট করে এমনটা করা হয়েছে।

    তবে এই আইনের প্রভাব মুসলিম নারীদের ওপরেই সবচেয়ে বেশি পড়বে। সরকার বলছে, যোগাযোগ ও নিরাপত্তা ইস্যুকে মাথায় রেখে এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

    তবে সমালোচকেরা বলছেন, এটি মুসলিম নারীদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ। কুইবেকে কত নারী নিকাব পড়ে সেই বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। তবে ২০১৬ সালের এক জরিপের তথ্য অনুযায়ী- কানাডার ৩ শতাংশ মুসলিম নারী চাদর পরে এবং ৩ শতাংশ নারী নিকাব পরে। সূত্র: বিবিসি

  • কায়রো কেনও মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক শহর?

    কায়রো কেনও মেয়েদের জন্য বিপজ্জনক শহর?

    ঢাকা: মিশরের রাজধানী কায়রোকে বলা হচ্ছে মেয়েদের জন্য ‘সবচেয়ে বিপজ্জনক’ শহর। আর নারীদের জন্য খারাপ মহানগরীর মধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা রয়েছে সপ্তম স্থানে, তবে যৌন সহিংসতার দিক থেকে ঢাকার অবস্থান চতুর্থ।

    মেগাসিটি বা বড় শহরগুলোর ওপর টমসন রয়টার্স ফাউন্ডেশন পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক জরিপে এমন তথ্যই উঠে এসেছে।

    বিশ্বজুড়ে ১৯টি মেগাসিটিতে পরিচালিত এই জরিপে নারী ইস্যুতে বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিলো যে যৌন সহিংসতা থেকে মেয়েরা ঠিক কতোটা সুরক্ষিত।

    জরিপে দেখায় বড় শহরের মধ্যে লন্ডন সবচেয়ে বেশি নারী বান্ধব, এরপরেই রয়েছে টোকিও ও প্যারিস।

    আর কায়রোর নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, দেশটির পুরনো প্রচলিত প্রথাগুলোই নারীদের প্রতি বৈষম্যের জন্য বেশি দায়ী এবং নারীদের জন্য প্রগতিশীল কোনও পদক্ষেপ নেয়াও সেখানে কঠিন।

    তাদের মতে, ভালো স্বাস্থ্যসেবা, অর্থ ও শিক্ষার মতো বিষয়গুলোতেও নারীর জন্য সুযোগ কম।

    মিশরের সুপরিচিত সাংবাদিক শাহিরা আমিন বলছেন, শহরের সবকিছুই নারীর জন্য কঠিন। এমনকি রাস্তায় হাঁটতে গেলেও বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে পারে একজন নারী।

    নারীদের জন্য বিপজ্জনক মেগাসিটির তালিকায় কায়রোর পরেই আছে পাকিস্তানের করাচী এবং কঙ্গোর কিনসাসা।

    আর যৌন হয়রানি বা ধর্ষণের জন্য সবচেয়ে খারাপ শহর হলো ভারতের দিল্লী ও এরপরেই আছে ব্রাজিলের সাও পাওলো।

  • ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল আদালত

    ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আটকে দিল আদালত

    ছয়টি মুসলিম দেশসহ মোট আটটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণের ক্ষেত্রে যে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, তা আদালতের আদেশে আটকে গেছে।

    বিবিসির এক প্রতিবেদনে বুধবার এ তথ্য জানানো হয়েছে।

    সেখানে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাটি বুধবারই কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। তবে তার কয়েক ঘণ্টা আগেই হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে ডেরিক ওয়াটসন নামের একজন বিচারক ট্রাম্পের ওই আদেশ আটকে দিয়েছেন।

    এ আদেশ জারি করার সময় এখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় অভিবাসী আইনের আওতায় প্রেসিডেন্ট এমন কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।
    বিচারক ডেরিক ওয়াটসন এও বলেন, ১৫০ মিলিয়ন জাতীয়তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর হবে বলে যে কথা বলা হয়েছে কেবল এই ছয়টি নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকেরা তার পক্ষে যথেষ্ট প্রমাণাদি নেই।

    গত মাসে যে ঘোষণা দেওয়া এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল, এই ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকেরা। দেশগুলো হলো: সোমালিয়া, সিরিয়া, ইরান, লিবিয়া, ইয়েমেন, চাদ। এছাড়াও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ভেনেজুয়ালা এবং দক্ষিণ কোরিয়াও ছিল।

    তবে আদালতের নির্দেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই নিষেধাজ্ঞা বাতিল হওয়ায়। সংশিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে আর কোনো বাধা নেই।

    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আদালতের দেওয়া এই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবে।

  • রাখাইনে ২৮৮ রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে এইচআরডব্লিউ

    রাখাইনে ২৮৮ রোহিঙ্গা গ্রাম পোড়ানোর প্রমাণ পেয়েছে এইচআরডব্লিউ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর এক মাসেই ২৮৮টি রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ পেয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। এছাড়া হামলার জন্য রোহিঙ্গাদের দায়ী করে যে অভিযোগ উঠেছে, তারও কোনো সত্যতা খুঁজে পায়নি সংস্থাটি।
    স্যাটেলাইটে তোলা ছবি বিশ্লেষণ করে মঙ্গলবার সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ২৮৮টি গ্রামের হাজার হাজার বাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়েছে।
    এইচআরডব্লিউ’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে পাওয়া ছবি বিশ্লেষণ করে দুটি বিষয় তাদের কাছে স্পষ্ট হয়েছে।
    প্রথমত, সেনা অভিযানের মধ্যে এই জ্বালাও-পোড়াওয়ের মূল লক্ষ্য ছিল রোহিঙ্গাদের গ্রাম। স্যাটেলাইট ছবিতে এমন অনেক জায়গা দেখা গেছে, যেখানে রোহিঙ্গা গ্রামের ধ্বংসাবশেষের পাশেই রাখাইনের বৌদ্ধদের গ্রাম রয়েছে অক্ষত।

    দ্বিতীয়ত, মিয়ানমার সরকার সেনা অভিযান বন্ধ হয়েছে বলে দাবি করলেও তারপরও নতুন নতুন গ্রাম জ্বলতে দেখা গেছে স্যাটেলাইট ছবিতে।
    মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ১৮ আগস্ট প্রথমবারের মত রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে ভাষণ দিতে এসে দাবি করেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে আর কোনো দমন অভিযান চালানো হয়নি। কিন্তু এইচআরডব্লিউ বলছে, ৫ থেকে ২৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অন্তত ৬৬টি গ্রাম জ্বালিয়ে দেয়ার প্রমাণ তাদের হাতে থাকা স্যাটেলাইট ছবিতে রয়েছে।
    এইচআরডব্লিউ’র এশিয়া বিভাগের উপ পরিচালক ফিল রবার্টসন বিবৃতিতে বলেন, রাখাইনের সাড়ে পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কেন পালিয়ে বাংলাদেশে গেছে, ওই স্যাটেলাইট ছবিতেই তা স্পষ্ট।
    তিনি বলেন, ‘বার্মিজ মিলিটারি শয়ে শয়ে রোহিঙ্গা গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছে; হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গারা পালাতে বাধ্য হয়েছে।’
    এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে বলা হয়, রাখাইনের মংডু, রাথেডং ও বুচিডং এলাকার স্যাটেলাইট ছবি থেকে ৮৬৬টি গ্রামের তথ্য তারা বিশ্লেষণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মংডু এলাকা। ওই এলাকার ৬২ শতাংশ গ্রাম আংশিক বা পুরোপুরি ভষ্মীভূত হয়েছে অভিযানের এক মাসের মধ্যে। মংডুর দক্ষিণাঞ্চলে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ৯০ শতাংশ গ্রাম।
    কোনো কোনো স্যাটেলাইট ছবিতে বিভিন্ন এলাকায় একসঙ্গে আগুন জ্বলার চিহ্ন পাওয়া গেছে। কোনো কোনো এলাকা জ্বলতে দেখা গেছে বেশ কয়েক দিন ধরে।
    এইচআরডব্লিউ বলছে, মিয়ানমার সরকার গ্রামে গ্রামে এই নাশকতার জন্য বিদ্রোহীদের সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও স্থানীয় রোহিঙ্গাদের দায়ী করে এলেও ওই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ কখনও দেখায়নি। পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক রোহিঙ্গার সাক্ষাতকার নেওয়ার কথা জানিয়ে মানবাধিকার সংস্থাটি বলেছে, হামলা, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের পেছনে রোহিঙ্গাদের দায়ী করেননি ওই সাক্ষাৎকারদাতাদের কেউ।
    এইচআরডব্লিউর বিবৃতিতে বলা হয়, ‘রোহিঙ্গাদের গ্রামে গ্রামে যে মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটানো হয়েছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত মিয়ানমার সরকার করেনি, কাউকে বিচারের মুখোমুখিও করা হয়নি। এই অবস্থায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মিয়ানমারে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে হবে, যাতে তারা জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশনকে রাখাইনে তদন্ত করার সুযোগ দেয়। সেই সঙ্গে মিয়ানমারের ওপর অবিলম্বে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে। রাখাইনে মানবাধিকার লঙ্ঘনের পেছনে মিয়ানমারের যে সেনা কর্মকর্তারা রয়েছে, তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের পদক্ষেপ নিতে হবে। মিয়ানমারের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতাও বন্ধ করতে হবে জাতিসংঘের সদস্য সব রাষ্ট্রকে।’
    ফিল রবার্টসন বলেন, ‘বার্মায় ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের চিত্র এবং বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে লাখ লাখ মানুষের দুর্দশা একই মুদ্রার দুই পিঠ। রোহিঙ্গা নির্যাতন বন্ধের জন্য মিয়ানমারের ওপর চাপ বাড়াতে হবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে, সেই সঙ্গে সবার কাছে যেন জরুরি সহায়তা পৌঁছায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’
    গত ২৫ আগস্ট রাখাইনের ৩০টি পুলিশ পোস্ট ও একটি সেনা ক্যাম্পে কথিত হামলার পর থেকে নতুন করে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরু হয়। জাতিসংঘ এই দমন অভিযানকে ‘জাতিগত নির্মূল অভিযান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এই দমন অভিযান থেকে বাঁচতে প্রায় ছয় লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এর মধ্যে গত দুই দিনেই বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৪৫ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এছাড়া, অন্তত ১৫ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমান্তে আটকে রয়েছে বলে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে।

  • আবার কথার লড়াই ট্রাম্প-হিলারির

    আবার কথার লড়াই ট্রাম্প-হিলারির

    প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারা মুখোমুখি হয়েছিলেন। একজন আরেকজনকে ঘায়েল করেছেন সে সময়। তারপর প্রায় এক বছর কেটে যাচ্ছে। এ সময়ে অনেকটা নীরবতা রক্ষা করেন ডেমোক্রেট দল থেকে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতা নিয়ে পরাজিত হিলারি ক্লিনটন। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ও পরে অনেক বিষয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়ে নিজের বৃত্তে বন্দি ছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কিন্তু কয়েকদিন হলো আবার দু’জনকে একই রকম রাজনৈতিক আক্রমণের মঞ্চে দেখা যাচ্ছে। একজন আরেকজনকে আক্রমণ করে কথা বলছেন। নতুন করে শুরু হয়েছে তাদের বাকযুদ্ধ।

    রোববার লন্ডনের সাউথব্যাংক সেন্টারে লন্ডন সাহিত্য উৎসবে বক্তব্য রাখেন হিলারি ক্লিনটন। এ সময় তিনি ট্রাম্পকে নিয়ে নিজের উদ্বেগ তুলে ধরেন। বলেন, যেকোনো সময় পারমাণবিক হামলা শুরু করে দিতে পারেন ট্রাম্প। নিজের কৃতিত্ব বাড়ানোর জন্য তিনি উত্তর কোরিয়া ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বাধিয়ে বসতে পারেন।

    হিলারি আরো বলেছেন, এফবি আইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কমির কারণে তিনি গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরেছেন। তা না হলে এখন তিনিই থাকতেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

    এসব কথা গোপন থাকে নি। সব চলে গেছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কানে। তাই তিনি টুইট করেছেন। হিলারিকে তাই আবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি টুইটে লিখেছেন, সম্প্রতি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, আমি কি ২০২০ সালে ‘ক্রুকড’ হিলারি ক্লিনটনের সঙ্গে আবার নির্বাচনে যাচ্ছি কিনা? এ প্রশ্নে আমার জবাব হলো- আমি তো তাই আশা করি। ওদিকে গত সেপ্টেম্বরে সিবিএস টেলিভিশনকে একটি সাক্ষাতকার দেন হিলারি। তিনি তাতে বলেন, জাতীয় রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় থাকবেন। তিনি বিশ্বাস করেন দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যত স্থবির হয়ে আছে। এসব খবর দিয়েছে লন্ডনের অনলাইন দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট। এতে আরো বলা হয়, ২০১৬ সালে হোয়াইট হাউজের দৌড়ে অংশ নিয়ে পরাজিত হন হিলারি। ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন লড়াইয়ে হেরে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার কাছে। গত বছর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পরাজয়ের পর তিনি বেশির ভাগ সময়ই ছিলেন লোকচক্ষুর অন্তরালে। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি জনসমক্ষে আসা ধরেছেন। লিখেছেন নতুন একটি বই। নাম তার ‘হোয়াট হ্যাপেন্ড’। এতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময়ে ট্রাম্প ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তার চিন্তাভাবনা তুলে ধরেছেন। তার সাম্প্রতিক কর্মকাকা- ও বক্তব্য দেখে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন তিনি ২০২০ সালের নির্বাচনে আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।

    এদিকে এ বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উত্তর কোরিয়াকে হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছিলেন, এমন আগুনে জবাব দেয়া হবে যা বিশ্ব কোনোদিন দেখেনি। ওদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা সংস্থা উত্তর কোরিয়ার হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনও বর্তমানে এ ইস্যুতে দৃশ্যত অনড় অবস্থানে আছে। এ ছাড়া শুক্রবার তিনি ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করার ওপর জোর দেন। ইরানকে সার্টিফাই করতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। তিনি বলেন, চুক্তির সব শর্ত মেনে চলছে ইরান এমনটা বলা যাবে না। তাই তিনি এ চুক্তি বাতিল করার ওপর জোর দেন।

  • শুধু ঘরবাড়ি নয়, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ: সুচিকে রোহিঙ্গা যুবক

    শুধু ঘরবাড়ি নয়, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ: সুচিকে রোহিঙ্গা যুবক

    মিয়ানমারের নোবেলজয়ী নেত্রী অং সান সুচিকেই রাখাইনের সহিংসতার জন্য দায়ী করেছেন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া এক রোহিঙ্গা। খোলা চিঠিতে বাংলাদেশে ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া ওই রোহিঙ্গা সু চিকে দায়ী করেছেন।
    কাতারভিত্তিক আল জাজিরার মাধ্যমে এক খোলা চিঠি ওই রোহিঙ্গা তার একসময়ের প্রিয় নেত্রী অং সান সুচিকে দেন। এই রোহিঙ্গা নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছিলেন পাঠাগার। কিন্তু সেনা সদস্যদের আগুনে সব হারিয়েছেন। তিনি এখন আছেন কুতুপালংয়ের আশ্রয় ক্যাম্পে।
    চিঠির শুরুতে অং সান সুচিকে ওই রোহিঙ্গা বলেন, আপনি যে বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন, সে বছরেই আমার জন্ম। আপনার নোবেল প্রাপ্তি মিয়ানমারের মানুষের জন্য ছিল এক বিশাল গর্ব এবং সম্মানের ব্যাপার। রাখাইনের মংডু আমার এলাকা। ওই এলাকার প্রতিটি মানুষ আপনার নোবেল প্রাপ্তির আনন্দে ভেসে যায়। যেন এই আনন্দ শুধু আপনার একার নয়, এ বিজয় সমগ্র মিয়ানমারের। এ আনন্দের ঢেউ খেলে যায় আমাদের মাঝেও।
    সুচির উদ্দেশে লেখা চিঠিতে বলা হয়েছে, আপনে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার পরে আমরা রোহিঙ্গারা প্রথমবারের মতো গর্বের সঙ্গে অনুভব করি যে, আমরাও এ দেশের অংশ। কয়েক দশক ধরে সামরিক জান্তার হাতে অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হতে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আপনার নোবেল প্রাপ্তি বয়ে এনেছিল আশার আলোকবর্তিকা। আমি ছোটবেলা থেকেই দাদার মুখে আপনার প্রশংসা ও গুণগান শুনেছি। আপনার রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) প্রতি আমার দাদু শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এ জন্য তিনি আপনার দলের নেতারা কখনো আমাদের এলাকায় কাজে এলে তাদের আপ্যায়নে নিজের গোয়ালের সবচেয়ে বড় ছাগল এবং গরু জবাই করতেন। তিনি তাদের সাদরে আমন্ত্রণ জানাতেন। আমার বাবা এবং দাদা আপনার প্রতি এতই শ্রদ্ধাশীল ছিলেন যে, তারা চাইতেন আমি আপনার পথ অনুসরণ করি। আমার মাও আপনার বক্তব্য এবং জীবনবোধের অনুসারী।
    চিঠিতে একপর্যায়ে বলা হয়, ২০১০ সাল আপনি (সুচি) যখন গৃহবন্দীত্ব থেকে মুক্তি পেলেন, সেদিন ছিল আমাদের এক আনন্দঘন দিন। কিন্তু এর সাত বছর পর, এখন আমরা রোহিঙ্গারা নৃশংসতার শিকার। আমরা জাতিগত নিধনের মুখে দাঁড়িয়ে আছি। এবং এবার স্বয়ং আপনার ইন্ধনেই তা ঘটছে। ২০১৫ সালে মিয়ানমারের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভের পর আপনি এনএলডি দল থেকে মুসলমান প্রতিনিধিদের সরিয়ে দিলেন। এটা ছিল আপনার রাজনৈতিক ভীরু তার প্রথম পদক্ষেপ। এর কয়েক মাস পরেই আপনার প্রশাসন উত্তর রাখাইনে ‘নিধন অভিযান’ শুরু করল। এ সময়ে অসংখ্য রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হলো। হাজারো নারী গণধর্ষণের শিকার হলেন। আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার মুখে দাঁড়িয়ে আপনি সহিংসতার কথা অস্বীকার করলেন। আপনি আমাদের ঐতিহ্যবাহী রোহিঙ্গা পরিচয়কে অস্বীকার করলেন। শতকজুড়ে রাখাইনের থাকা রোহিঙ্গাদের আপনি বহিরাগত বললেন। গত ২৫ আগস্ট থেকে হত্যা, নির্যাতন, সহিংসতার শিকার হয়ে পাঁচ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে চলে গেছে। যারা এখনো মিয়ানমারে আটকে আছে, তারা মৃত্যুভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। ১ সেপ্টেম্বর আমি ও আমার পরিবার বাধ্য হই দেশত্যাগ করি। তিন দিন-দুই রাতের দীর্ঘ যাত্রায় আমরা ছোট্ট একটি নৌকায় করে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করি। পরবর্তীতে আমাদের ঠাঁই হয় কুতুপালং আশ্রয়শিবিরে। এখানে আসা মাত্রই জানলাম যে রাখাইনে আমাদের আবাসস্থল আগুনে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
    ওই রোহিঙ্গা চিঠিতে আরও বলেন, লোকে হয়তো বলবে, এ ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী সামরিক জান্তা কিংবা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। আমি বলব, এ দায় কেবল আপনার। আপনি শুধু আমার ঘরই জ্বালিয়ে দেননি, জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার বই। আপনি জ্বালিয়ে দিয়েছেন আমার স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ। আমার স্বপ্ন ছিল সিতউ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজিতে পড়ে একজন লেখক হওয়ার। কিন্তু সুচি, আপনি নিশ্চয়ই অবগত আছেন যে, ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে রোহিঙ্গাদের পড়াশোনা করা নিষিদ্ধ। তাই আমি বাধ্য হয়ে বইপত্র এবং প্রবন্ধ পড়ে জ্ঞানার্জনের চেষ্টা করেছি। আপনি শুধু রোহিঙ্গাদের হত্যা করেননি, আপনি হত্যা করেছেন নেলসন ম্যান্ডেলার আদর্শকে। আপনি হত্যা করেছেন মহাত্মা গান্ধীর দীক্ষাকে। আপনি হত্যা করেছেন মানবজাতির মূল অহংকার-মানবতাকে।

    সু চি একটি প্রশ্ন রেখে আপনার প্রতি আমার বাবার একটি প্রশ্ন আছে। সে প্রশ্নটি হলো, শান্তির নোবেল জয়ী, এত কিছু হয়ে যাওয়ার পরও একটি বারের জন্য আপনি আমাদের নিপীড়িত রাখাইনদের দেখতে রাখাইন রাজ্যে অথবা বাংলাদেশে এলেন না কেন? আপনার আদৌ এ ব্যাপারে কোনো মাথাব্যথা আছে? আপনি আপনার পথ বেছে নিয়েছেন। ইতিহাসের পাতায় লাখ লাখ রোহিঙ্গার রক্তের জন্য আপনার নাম পৃথিবীতে অবশ্যই অমর হয়ে থাকবে। তবে তা কি শান্তিতে নোবেলের জন্য, না কি আপনার নারকীয় নৃশংসতার জন্য এর ভবিষ্যতের কোনো এক সময় পাওয়া যাবে।