Category: আন্তর্জাতিক

  • ইসরাইলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের বিল অনুমোদন

    ইসরাইলি পার্লামেন্টে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ডের বিল অনুমোদন

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:     ইসরাইলি পার্লামেন্ট (নেসেট) ফার্স্ট রিডিংয়ে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের অনুমতি সংক্রান্ত একটি বিল অনুমোদন করেছে। ইসরাইলি সম্প্রচার কর্তৃপক্ষ (কেএএন) এ তথ্য জানিয়েছে।

    কেএএন আরও জনিয়েছে,সোমবার রাতে অনুষ্ঠিত ওই ভোটে ১২০ সদস্যের মধ্যে ৩৯ জন পক্ষে এবং ১৬ জন বিপক্ষে ভোট দেন।অধিবেশনের সময় আরব আইনপ্রণেতা আয়মান ওদেহ ও কট্টর-ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের মধ্যে তীব্র বাক-বিতণ্ডা হয়, যা প্রায় হাতাহাতিতে রূপ নিতে নিতে থেমে যায়। বেন-গভিরের নেতৃত্বাধীন কট্টর-ডানপন্থি ‘জিউইশ পাওয়ার” পার্টি এই আইনটি প্রস্তাব করে। ভোটে আনার আগে বিলটি নেসেটের বিভিন্ন কমিটিতে পাঠানো হয় দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের প্রস্তুতির জন্য।

    খসড়া আইনে বলা হয়েছে, ‘যে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বা বেপরোয়া আচরণের মাধ্যমে ইসরাইলি নাগরিককে হত্যা করে— যদি তা বর্ণবিদ্বেষ, ঘৃণা বা ইসরাইলকে ক্ষতি করার উদ্দেশ্য থেকে হয়ে থাকে— তাহলে তার শাস্তি হবে মৃত্যুদণ্ড।’  আর একবার শাস্তি ঘোষিত হলে তা হ্রাস করার কোনো সুযোগ থাকবে না।বেন-গভির ভোটের পর মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আনন্দ প্রকাশ করে লেখেন, ‘জিউইশ পাওয়ার ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং তা পূরণ করেছি। সন্ত্রাসীদের মৃত্যুদণ্ডের আইন ফার্স্ট রিডিংয়ে পাশ হয়েছে।’

    মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বেন-গভিরের এই উদ্যোগের নিন্দা জানিয়ে আসছে। তাদের মতে, এই আইনটি মূলত ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্য করে তৈরি এবং এটি ইসরাইলি শাসনব্যবস্থার বৈষম্যকে আরও গভীর করবে।

    ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে নারী ও শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি ইসরাইলি কারাগারে বন্দী আছেন। বন্দিরা সেখানে নির্যাতন, অনাহার ও চিকিৎসা-অবহেলার শিকার হচ্ছেন, যার ফলে অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন।

  • রাশিয়া থেকে বিনামূল্যের ৩০ হাজার টন পটাশ সার দেশে আসছে

    রাশিয়া থেকে বিনামূল্যের ৩০ হাজার টন পটাশ সার দেশে আসছে

    অনলাইন ডেস্ক:     রাশিয়া থেকে বিনামূল্যের ৩০ হাজার টন পটাশ সার দেশে আসতে যাচ্ছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় বন্ধুত্ব ও গভীর আন্তরিকতার নিদর্শন হিসেবে এ সার দিচ্ছে দেশটি। গত ৬ নভেম্বর দেশটির সবচেয়ে বড় সার উৎপাদনকারী কোম্পানিটি উরাচেম গ্রুপের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত ঘোষণা দেওয়া হয়। কোম্পানিটি রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যকার সম্পর্ক আরও বাড়াতে এর আগে বিনামূল্যের এ সার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল।

    বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) আহমেদ হাসান আল মাহমুদ সার আসার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিষয়টি মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবে বলেও তিনি জানান।এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী দিমিত্রি কনিয়েভ কৃষি মন্ত্রণালয়কে এ সার দেওয়ার আগ্রহ জানিয়ে চিঠি দেন। যা পরবর্তীতে কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে নিশ্চিত করা হয়।

    পরবর্তীতে বিনামূল্যের এ সার সরবরাহ নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ান ফেডারেশনের রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি এবং রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটি-বাংলাদেশের চেয়ারম্যান জনাব মিয়া সাত্তার বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র ও কৃষি বিষয়ক উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    রাশিয়ার এ উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে সার সরবরাহ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানান উপদেষ্টা।এক বার্তায় বাংলাদেশ-রাশিয়া ফ্রেন্ডশিপ সোসাইটির চেয়ারম্যান মিয়া সাত্তার বলেন, রাশিয়া বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু। দীর্ঘ বছরের পথচলাতে তা আরও শক্ত হয়েছে। আশা করি, এ সার পেয়ে দেশের কৃষক উপকৃত হবে।

    দ্রুততম সময়ে রাশিয়ার প্রতিশ্রুত এ সার সরবরাহ নিয়ে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।গত বছরের ২৯ আগস্ট কৃষি উপদেষ্টার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার মান্টিটস্কি প্রথম সার দেওয়ার আগ্রহের কথা জানিয়েছিলেন।

    উল্লেখ্য, উরাচেম গ্রুপ বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। গ্রুপের অন্যতম প্রতিষ্ঠান পিজেএসসি ইউরালকালি বিশ্বের মধ্যে অন্যতম পটাশ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। ২০১৩ সাল থেকে পিজেএসসি ইউরালকালি জিটুজি ভিত্তিতে জেএসসি বৈদেশিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশে এক মিলিয়ন টনের বেশি এমওপি সার সরবরাহ করেছে।

  • ডলারের মন্দায় বাড়ল স্বর্ণের দাম

    ডলারের মন্দায় বাড়ল স্বর্ণের দাম

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:           মার্কিন অর্থনীতিতে ক্রমশ প্রকট হচ্ছে দুর্বলতা। বিশ্ব বাজারেও এর প্রভাব বাড়ছে। ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা জেনে বিনিয়োগকারীরা আবারও স্বর্ণে মুনাফা ঢালছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স সোমবার (১০ নভেম্বর) জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ওই কারণে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

    সোমাবর ভারতের শীর্ষস্থানীয় পণ্য এক্সচেঞ্জ বা বাণিজ্যিক বাজার এমসিএক্স জানায়, স্বর্ণের দাম ১ শতাংশের বেশি এবং রুপার দাম ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে গেছে। এই বৃদ্ধির কারণ হিসেবে ইতিবাচক বৈশ্বিক সংকেত ও আগামী মাসে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সম্ভাব্য সুদের হার কমানোর প্রত্যাশাকে দায়ী করা হচ্ছে।

    অক্টোবরে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর এ মাসের শুরুর দিকে তা কমছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন অর্থনীতির দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। একই সঙ্গে ডিসেম্বরে ফেডারেল রিজার্ভের আরও একটি সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়িয়েছে।

    সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজার এবং ভোক্তা আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। কারণ ফেডারেল সরকারের অচলাবস্থা রোববার ৪০ দিনে গিয়ে পৌঁছেছে। যা মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ।

    রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার ও খুচরা বিক্রয় খাতে চাকরি হ্রাসের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যয় কমাতে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি গ্রহণের ফলে ছাঁটাই বেড়েছে। নভেম্বরের শুরুতে মার্কিন ভোক্তা আস্থা প্রায় সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।

    সিএমই ফেডওয়াচ টুলের অনুসারে, মার্কিন চাকরির বাজারের অচলবস্থায় ব্যবসায়ীদের প্রায় ৬৭ শতাংশ জন বিশ্বাস করছেন, ডিসেম্বর মাসে ফেড সুদের হার কমাবে। মার্কিন সরকারের অচলাবস্থায় বিনিয়োগকারীরা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে আবারও সোনার দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে ডলার সূচক দুর্বল হয়েছে, যা বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।

    সোমবার মার্কিন স্থানীয় বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের স্বর্ণের দাম ১ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৫৩ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। যার প্রভাব অবশ্য এখনও বাংলাদেশে পড়েনি। গত ১ নভেম্বর ১ হাজার ৬৮০ টাকা বাড়িয়ে ২ লাখ ১ হাজার ৭৭৬ টাকা স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। সমন্বিত ওই দামেই সোমবারও (১০ নভেম্বর) বিক্রি হয় স্বর্ণ। তবে এই ধাক্কা ভারতের বাজারে বড় প্রভাব ফেলছে। এমসিএক্স ডিসেম্বর ফিউচার মার্কেটে সোনার দাম প্রতি ১০ গ্রামে ১,২২,৭০০ রুপি পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে।

  • যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় চলছে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৭

    যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় চলছে ইসরাইলি হামলা, নিহত ৭

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় হামলা চালাচ্ছে ইসরাইল। গত ২৪ ঘণ্টায় উপত্যকাটিতে দখলদার বাহিনীর চালানো হামলায় আরও সাতজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যমের বরাতে সোমবার (১০ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা মেহের।

    গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনের লাশ গাজা বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।মন্ত্রণালয় আরও জানায়, এখনো বহু লাশ ধ্বংসস্তূপের নিচে ও রাস্তায় পড়ে আছে কিন্তু অব্যাহত বোমাবর্ষণ ও উদ্ধার সরঞ্জামের  অভাবে উদ্ধারকর্মীরা গুরুতর সমস্যার মুখে পড়ছেন।

    গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর একাধিকবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন এবং তার অস্বীকার করেছে ইসরাইল। যার ফলে এখন পর্যন্ত ২৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ৬১৯ জন আহত হয়েছেন।

    এদিকে, ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরাইলি বাহিনী গাজা উপত্যকার পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বিমান ও গোলাবর্ষণ চালিয়েছে। দখলদার সেনারা খান ইউনুসের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের  আল-জান্নাহ এলাকায়ও গোলাবর্ষণ করেছে।

    অন্যদিকে, অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে আল-মায়াদিন-এর এক সংবাদিক জানান, অধিকৃত আল-কুদসের উত্তরের আল-রাম শহরে ইসরাইলি বাহিনী ও ফিলিস্তিনি তরুণদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। সেখানে ইসরাইলি সেনারা ভিড় ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ করেছে।

  • পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    পাকিস্তানের সিনেটে বিতর্কিত সংশোধনী বিল তড়িঘড়ি পাসের উদ্যোগ, বিরোধীদের প্রতিবাদ

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:   পাকিস্তান সরকার গতকাল শনিবার বিতর্কিত ২৭তম সংবিধান সংশোধনী বিল সিনেটে উপস্থাপন করেছে। বিরোধীদলগুলো বলেছে, সরকার বিলটি খুব দ্রুত পাস করাতে চাইছে। এ ছাড়া প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলোর ব্যাপ্তি নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে তারা।এক  প্রতিবেদনে এ খবর দিয়েছে দ্য ডন।

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার ২৬ পৃষ্ঠার এ বিল উপস্থাপন করেন। পাস হলে এটি ‘সংবিধান (২৭তম সংশোধনী) আইন, ২০২৫’ নামে পরিচিত হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এটি সিনেটে তোলা হয়।

    প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আজারবাইজানের রাজধানী বাকু থেকে ভিডিও লিংকের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার বৈঠক পরিচালনা করেন। সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নিয়ে আজারবাইজানের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দেশটিতে গেছেন তিনি।

    সিনেটের চেয়ারম্যান ইউসুফ রাজা গিলানি বিলটিকে উচ্চকক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন, যেন তারা ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির সংশ্লিষ্ট কমিটির সঙ্গে যৌথ বৈঠক করে আলোচনা করে।

    বিলটিতে একটি কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক আদালত গঠন, উচ্চ আদালতের বিচারপতি নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সীমা বৃদ্ধি ও সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব কাঠামোয় পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করা হয়েছে।

    স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে গিয়ে গতকাল বেলা ১১টা ৩০ মিনিটে সিনেটের ওই অধিবেশন ডাকা হয়। তবে বিলে মন্ত্রিসভার অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বৈঠক প্রায় আধা ঘণ্টা বিলম্বিত হয়।সিনেট অধিবেশন চলাকালেই ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির উভয় কক্ষের আইন ও বিচারবিষয়ক কমিটি যৌথভাবে একটি গোপন বৈঠক করে বিলটি পর্যালোচনা করে। বৈঠক বর্জন করেন কমিটির জেইউআই-এফ ও পিটিআইয়ের সদস্যরা।

    এদিকে খুবই বিরলভাবে আজ রোববার বিকেলেও সিনেটের অধিবেশন বসছে। একমাত্র আলোচ্য বিষয় হলো এ সংশোধনী বিল। এতে বোঝা যাচ্ছে, সরকার বিলটি দ্রুত পাস করাতে ব্যস্ত।

    এ বিষয়ে পিটিআইয়ের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির নেতা আলী জাফর বলেছেন, বিরোধীদলীয় নেতার অনুপস্থিতিতে এ বিল নিয়ে বিতর্ক অনুচিত। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ও তার মিত্ররা সংশোধনীটি তাড়াহুড়া করে পাস করাতে চাইছে। তিনি প্রস্তাব দেন, বিলের খসড়াটি আলোচনার জন্য উন্মুক্ত করা হোক।

    বিলের মূল বৈশিষ্ট্য

    বিলের মূল বিষয়গুলো ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেছেন, ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত (এফসিসি) গঠনের ধারণা প্রথম আসে ২০০৬ সালের গণতন্ত্র সনদে। সনদটি পিপিপি ও পিএমএল–এন যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছিল। প্রস্তাবিত আদালতে দেশের সব প্রদেশের বিচারপতি থাকবেন। এটি শুধু সাংবিধানিক বিষয়ে রায় দেবেন, অন্যদিকে বর্তমান উচ্চ আদালতগুলো অন্যান্য মামলা দেখবেন।

    মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, সংবিধানের ২৬তম সংশোধনী নিয়ে আলাপ–আলোচনার সময় কিছু সদস্য প্রস্তাব দিয়েছিলেন, সাংবিধানিক বেঞ্চ গঠনের মাধ্যমে এ বিষয়ে পরীক্ষা করা হোক। কিন্তু এসব বেঞ্চ মামলার জট কমাতে পারেনি, কারণ, বিচারপতিরা নিয়মিত মামলায় ব্যস্ত ছিলেন। তিনি আরও বলেন, ‘বাস্তবে দেখা যায়, আদালতের মোট সময়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় হয় মাত্র ৫ থেকে ৬ শতাংশ মামলায়।’

    আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার বলেন, সংবিধানের ২৪৩ অনুচ্ছেদে বলা আছে ‘সশস্ত্র বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব থাকবে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে’। সেখানে কিছু নতুন ধারা যোগ করা হচ্ছে। তিনি নিশ্চিত করেন যে সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে ফিল্ড মার্শাল উপাধি দেওয়া হয়েছে। ‘এটি একটি উপাধি, কোনো নতুন পদ বা নিয়োগ নয়। সেনাপ্রধানের পদ পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারিত’, বলেন তিনি।

    এ ছাড়া ২৭ নভেম্বর বর্তমান চেয়ারম্যান অবসর নেওয়ার পর ‘চেয়ারম্যান জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটি (সিজেসিএসসি)’ পদটি বিলুপ্ত হবে। এরপর কোনো নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে না। সেনাপ্রধানই প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    নতুন বিল অনুযায়ী, সেনাপ্রধানের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রী ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের প্রধান নিয়োগ করবেন।

    বিল থেকে পড়ে শোনাতে গিয়ে আজম নাজির তারার বলেন, ‘যদি কেন্দ্রীয় সরকার কোনো সামরিক কর্মকর্তাকে ফিল্ড মার্শাল, এয়ার মার্শাল অব দ্য এয়ার ফোর্স বা অ্যাডমিরাল অব দ্য ফ্লিট (পাঁচ তারকা পদ) পদে উন্নীত করে, তবে ওই কর্মকর্তা আজীবন এ পদ ও সুবিধা পাবেন এবং ইউনিফর্ম পরিধান করবেন।’

    মেয়াদ শেষে রাষ্ট্রের স্বার্থে এমন কর্মকর্তাদের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব সরকার নির্ধারণ করবে।

    বিলটিতে আরও প্রস্তাব করা হয়েছে, ২৪৮ অনুচ্ছেদে সংশোধন এনে প্রেসিডেন্টকে আজীবন ফৌজদারি মামলা বা গ্রেপ্তার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। তবে গভর্নরদের ক্ষেত্রে এ সুরক্ষা থাকবে শুধু তাঁদের দায়িত্ব পালনকালে। বর্তমানে প্রেসিডেন্ট ও গভর্নর দুজনই শুধু মেয়াদকালে এমন সুরক্ষা পান।

    নাজির তারার আরও জানান, প্রাদেশিক মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যার সাংবিধানিক সীমা সংশ্লিষ্ট প্রাদেশিক পরিষদের মোট সদস্যসংখ্যার ১১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৩ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

    ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’

    মজলিস-ই-ওয়াহদাত–ই–মুসলিমিনের সিনেটর ও পিটিআই–মনোনীত বিরোধীদলীয় নেতা আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস প্রশ্ন তোলেন, জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া এত বড় সংশোধনী এত তাড়াহুড়া করে আনা হচ্ছে কেন?

    আব্বাস বিলটিকে ‘সংবিধানের ওপর আক্রমণ’ বলে নিন্দা জানান। তাঁর দাবি, বর্তমান আইনসভা জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধি নয়, বরং ‘ফর্ম ৪৭–এর ফসল’। অর্থাৎ ২০২৪ সালের নির্বাচনে কারচুপির ইঙ্গিত দেন তিনি। আরও বলেন, এ সংশোধনীগুলো বিচারব্যবস্থাকে ‘নিষ্ক্রিয় করার’ জন্য আনা হয়েছে।

    আল্লামা রাজা নাসির আব্বাস বলেন, ‘ক্ষমতাবানদের ইচ্ছায় করা এ সংশোধনীর নাটক আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। কিন্তু যাঁরা চরম দারিদ্র্যে বাস করছেন, তাঁদের জীবনের উন্নতির জন্য কোনো সংশোধনী আনা হয়েছে কি?’

    জেইউআই-এফ নেতা সিনেটর কামরান মুরতাজা বলেন, ‘মাত্র ১৩ মাস আগে পাস হওয়া ২৬তম সংশোধনী কার্যত এখন বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে।’

    পিপিপি নেতা সিনেটর শেরি রেহমান বলেন, ‘যদি কেন্দ্র এখন ব্যয়ভার সামলাতে না পারে, তবে আমরা সবাই বসে দেখি, কোথায় অপচয় হচ্ছে; কিন্তু প্রদেশগুলোর বাজেট কেটে নয়।’

    এদিকে, আওয়ামী ন্যাশনাল পার্টির প্রধান সিনেটর আইমাল ওয়ালি খান বলেন, তার দল জনগণের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবে।

    ওয়ালি খান বলেন, আইন প্রণয়ন করা সরকারের এখতিয়ার এবং বিরোধীদলগুলোকে আইনসভার কমিটিতে যোগ দিয়ে বিলের বিষয়ে ‘গঠনমূলক মতামত’ দেওয়ার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন তিনি।

  • ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘে খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র

    আন্তর্জাতিক ডেস্ক:    প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র বুধবার অংশীদার দেশগুলোর কাছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে।

    যার মধ্যে গাজায় একটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ওয়াশিংটনের মিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

    যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদের ১০ জন নির্বাচিত সদস্য ও কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদার দেশের সঙ্গে একটি খসড়ার কপি দিয়েছেন ।

    যুক্তরাষ্ট্র মিশনের এক মুখপাত্র এক বিবৃতিতে জানান, এই খসড়া প্রস্তাবটি নিয়ে মিসর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্কের প্রতিনিধিদেরকেও খসড়ার কপি দেওয়া হয়েছে।

    প্রস্তাবের বিষয়বস্তু সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো না হলেও, কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, এটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও নিরাপত্তা পরিষদের চলমান আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

    খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

    এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক মহলে এক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাকে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সমঝোতা বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।

    মার্কিন মিশনের একজন মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেছেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ নিরাপত্তা পরিষদের নির্বাচিত ১০ সদস্যকে খসড়াটির কপি দিয়েছেন। এদের মধ্যে বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক অংশীদারও রয়েছে, যেমন— মিশর, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও তুরস্ক।

    খসড়াটিতে ভোটের জন্য কোনও তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

    মার্কিন বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে প্রস্তাবটি ‘শান্তি বোর্ডকে স্বাগত জানায়।’

    এটি শান্তি পরিকল্পনায় বর্ণিত ‘আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ)-কেও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

    কূটনৈতিক সূত্র অনুসারে, বেশ ক’টি দেশ আইএসএফ-এ অংশগ্রহণের জন্য তাদের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সেনা মোতায়েনের আগে নিরাপত্তা পরিষদের আদেশের ওপর জোর দিয়েছে।

    মার্কিন মুখপাত্র বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাহসী নেতৃত্বে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আবারও জাতিসংঘে ফলাফল প্রদান করবে এবং আলোচনা দীর্ঘায়িত হবে না।

    আন্তর্জাতিক বাহিনী তৈরি করা চুক্তির একটি অংশ ছিল যা ৭ অক্টোবরের হামলার ফলে সৃষ্ট দুই বছরের ভয়াবহ সহিংসতার পর ১০ অক্টোবর ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।